Articles by "বিকিকিনির লক্ষ্মীঝাঁপি"
Showing posts with label বিকিকিনির লক্ষ্মীঝাঁপি. Show all posts

সুকন্যা পাল, ম্যানেজিং এডিটর, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

'ধারা ১২৮এ (Section 128A) হলো গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST) আইন এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এটি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ক্ষমতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি সম্পর্কিত।

ধারা ১২৮এ অনুযায়ী, উপভোক্তা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যদি কোনো গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST) বা সম্পর্কিত বিধি লঙ্ঘন করে, তবে তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা যেতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা সংস্থা সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স সম্পর্কিত সমস্ত আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে এবং কোনও ধরনের দুর্নীতি বা অপরাধ হতে পারবে না।' এমন কথাই বললেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে ডাইরেক্টোরেট অফ কমার্শিয়াল ট্যাক্সের অ্যাডিশনাল কমিশনার অফ রেভিনিউ এন্ড পাবলিক রিলেশনস অফিসার জয়জিৎ বণিক।ভারত চেম্বার অফ কমার্সের কলকাতা দফতরে আয়োজিত এক সেমিনারে জয়জিৎবাবু বক্তব্য রাখছিলেন। গত ২১ জানুয়ারিতে আয়োজিত ওই আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল 'জিএসটি অ্যামনেস্টি স্কিম আন্ডার সেকশন ১২৮এ'।

ওই আলোচনা সভায় তিনি বলেন, "এই ধারায় মূলত অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। এটি সাধারণত ট্যাক্স বা সার্ভিস ট্যাক্স লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত হয়।''

জয়জিৎবাবু আরও জানান, জিএসটি আওতায় ধারা ১২৮ উপভোক্তা স্কিম সম্পর্কিত একটি বিধান যা মূলত ফ্রড, দুর্নীতি বা অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এটি সরকারকে পরবর্তীতে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে একজন উপভোক্তার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার দেয়, যদি কোনো ক্ষতি বা দুর্নীতির শিকার হন তারা।

এই ধারায় মূলত পণ্যের সঠিক মূল্য এবং ট্যাক্সের বিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে উপভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে এবং অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রতিরোধ করা যায়।

ধারা ১২৮এ এর মূল উদ্দেশ্য হলো যদি কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জিএসটি আইন বা তার বিধি লঙ্ঘন করে, তবে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদন গ্রহণ করতে পারে এবং অভিযোগটি নির্দিষ্ট তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া, যা নিশ্চিত করে যে আইন ঠিকভাবে পালন হচ্ছে এবং কোনও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।কী ধরনের বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে: কোনও অবৈধ ট্যাক্স ক্রেডিট গ্রহণ যেমন, ভুয়া ইনভয়েসের মাধ্যমে ট্যাক্স ক্রেডিট নেওয়া।অব্যাহত বা অসম্পূর্ণ ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া।অথবা গুজব, মিথ্যা তথ্য বা প্রতারণার মাধ্যমে পণ্যের বা সেবার উপর জিএসটি প্রদান না করা

প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা সংস্থা কর্তৃক কার্যক্রম হলো যথাক্রমে অভিযোগের তদন্ত: অভিযোগ পাওয়ার পর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা তদন্ত করতে পারেন, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় অভিযোগটি সঠিক কিনা। শাস্তি বা জরিমানা: যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা বা শাস্তি আরোপ করা হতে পারে। বিচারিক ব্যবস্থা: কিছু ক্ষেত্রে, এটি বিচারিক ব্যবস্থা নিতে বা আদালতে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এটি প্রয়োগের প্রক্রিয়াগুলো বলতে

১. অভিযোগ পাওয়া: যদি কোনও পক্ষ জিএসটি লঙ্ঘন বা অপরাধ ঘটায়, তা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করা হতে পারে।

২. তদন্ত শুরু: অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে।

৩. সাজা বা জরিমানা: যদি তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তি আরোপ করা হয়।

(www.theoffnews.com GST)


সুকন্যা পাল, ম্যানেজিং এডিটর, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

সময়ের সঙ্গে সবকিছুই তো বদলায়। প্রত্যাশিত নিয়মে। অতএব ভারতের কোম্পানি আইন বা খোমাকা যুগের সঙ্গে নিত্যনতুন প্রয়োজন মাফিক তাল মিলিয়ে পাল্টাবে না কেন? সেটারও পট পরিবর্তন ঘটেছে নানা আঙ্গিকে। কিন্তু কি কি পাল্টে গেল কোম্পানি আইনের প্রেক্ষাপটে? তারই সুলুক সন্ধানে এক মনোজ্ঞ আলোচনার আয়োজন করেছিল মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি। মঙ্গলবার এই বণিকসভা অনুষ্ঠিত হয় কলকাতা স্থিত নিজস্ব দফতরে।

আলোচনার মুখ্য বিষয়বস্তু ছিল, 'ভারতের পরিবর্তিত কোম্পানি আইন।' সেই আলোচনায় মুখ্য বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি সাবিত্রী পারেখ। আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, '১৯৫৬ সালে ভারতে প্রথম কোম্পানি আইন লাগু হয়। দেশের মধ্যে কোম্পানিগুলো কিভাবে কোন বিধি ও নিয়মাবলী মেনে চলবে তারই বিস্তারিত উল্লেখ ছিল তাতে। ক্রমেই মানুষের জীবনধারা পাল্টাতে থাকে। দেশীয় কোম্পানিগুলোতেও নিজস্ব পৃথক চাহিদার সৃষ্টি হয়। ফলস্বরূপ দেশ আবার তা সংস্কারের উপর জোর দেয়। প্রত্যাশিত ভাবেই ২০১৩ সালে এই কোম্পানি আইনে বেশকিছু রদবদল ঘটানো হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ফের এটিকে সংশোধন করা হয়।'

বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, 'পূর্বের আইন অনুসারে অডিটে স্বচ্ছতার পাশাপাশি শেয়ার হোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার, কোম্পানির নিবন্ধীকরণের উপর আইন যথেষ্ট পর্যায়ে কার্যকর থাকতো। বর্তমানে সংশোধিত আইনে পূর্বের উল্লেখিত এসবের পাশাপাশি কোম্পানি ব্যবস্থাপনার উপরে যথেষ্ট জোর দেওয়া হয়েছে।' তাঁর আরও মন্তব্য, ২০১৩ সালে কোম্পানি আইন কিছুটা পাল্টানোর ফলে, বর্তমানে কোম্পানির একক শেয়ার হোল্ডারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আগের নিয়মে প্রাইভেট কোম্পানিতে নূন্যতম দুইজন ও পাবলিক কোম্পানিতে কমপক্ষে সাতজন শেয়ার হোল্ডার থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। সেখানে ব্যাপক শিথিলতা আনা হয়েছে নয়া আইনের আওতায়। কোম্পানি নিবন্ধনীকরণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ফর্ম পূরণের সুযোগ রয়েছে যা অতি সরলীকরণের এক অন্যতম মাধ্যম। পাবলিক কোম্পানিতে অডিট কমিটি গঠনের বাধ্যতামূলক সংস্থান রয়েছে। যাতে স্বচ্ছতা আরও বেশি মাত্রায় বজায় রাখা যায়। আর্থিক প্রতিবেদনে কঠোর মানদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এমনকি কোম্পানি আইন লঙ্ঘনকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আরও কঠিন ধারা বলবৎ করা হয়েছে নতুন আইনের মধ্য দিয়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

(www.theoffnews.com Indian Company Act)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

প্রথম দৃশ্য (যদি এমনটা হতো): ইডেন উদ্যান থেকে বলছি অজয় বসু। আপাতত সারা খেলাটা কেমন যেন খুবই প্রথাগত। নতুনত্ব কোথায়? একেবারে অন্তিমলগ্ন চলছে ভারত পাকিস্তানের টেস্ট ম্যাচ। খেলার শেষে একদম শেষ ওভারের শেষ বল। বল করতে আসছেন ইমরান খান। হাইকোর্ট প্রান্ত থেকে দৌড় শুরু করেছেন। অপর দিকে ব্যাট হাতে তৈরি কপিল দেব। একি? একি ঘটলো। সপাটে ব্যাট ঘুরিয়েছেন। ওভার বাউন্ডারি। বল যে স্টেডিয়ামের বাইরে।

দ্বিতীয় দৃশ্য (এমনটা যে ঘটলো): সংসদের ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বলছি নির্মলা সীতারমন। আপাতত পূর্ণাঙ্গ বাজেট পরিবেশনের মধ্যে চমক কোথায়? সবই যেন বিগত বাজেটগুলোর কপিবুক। বিরোধীরা তো মোছে তা দিতে শুরু করেছেন, বাজেট পর্ব শেষ হলেই মোদীর মুন্ডুপাত করবে, এই বাসনায়। এপর্যন্ত তো সবই চলছিল একদম একঘেয়েমির ঘরাণায়। কিন্তু একি? বাজেট শেষ হতে মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি। আরে একি ঘোষণা করলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী? দেশবাসীকে চমকে দিয়ে বারো লক্ষ টাকা (আসলে বারো লক্ষ পঁচাত্তর হাজার টাকা) পর্যন্ত বার্ষিক আয়ের উপর সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট রেটের নতুন কাঠামোতে আয়কর মুক্তের প্রস্তাব রেখে বসলেন। এতো সেই শেষ বলে ছক্কা হাঁকানো কান্ড। বিরোধীরা দেখলো মাথার উপর দিয়ে সমালোচনার সমস্ত অস্ত্র সংসদ ভবণ ছাড়িয়ে আপাতত আছড়ে পরলো পার্শ্ববর্তী যমুনার জলে।

উপরোক্ত দুটি দৃশ্য কেমন যেন একই নাটকীয়তায় ভরপুর। একদম শেষ প্রান্তে এসে চুড়ান্ত ক্লাইমেক্সের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী থ্রিল। গতকাল ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ মোদী সরকারের তরফে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন। ইতিমধ্যেই সারা দেশ জুড়ে মধ্যবিত্তের মধ্যে একটা আচমকা খুশির জোয়ার দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা নিজস্ব রাজনৈতিক অস্তিত্বের তাগিদে সমালোচনা করতে হবে বলেই তাই ক্রিটিসিজিমের ট্রিগার টিপছেন বটে। কিন্তু সেই কার্তুজ বুমেরাং হয়ে যাচ্ছে ক্রমেই তাও তাঁরা বুঝতে পারছেন। কারণ সমগ্র দেশের বড় বড় অর্থনীতিবিদরাও ঘুণাক্ষরে অনুমান করতে পারেননি যে মধ্যবিত্তরা এতো বৃহৎ পরিসরে কর ছাড় পেতে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বাজেট নির্ভর মাস্টার স্ট্রোকে কার্যত এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন। খুশ আমআদমি সঙ্গে বিরোধীরা কার্যত দিশেহারা।

আর এই বাজেটের নয়া নার্ভটা ততক্ষণে বুঝে গেছে ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স। শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার হোটেল হিন্দুস্থান ইন্টারন্যাশনালে আয়োজিত হয়েছিল এই বাজেট সংক্রান্ত আলোচনা সভা। উল্লেখ্য এটাই, উপস্থিত সব বক্তারাই এই ইস্যুটাকে অতি গুরুত্ব সহকারে তাঁদের বক্তব্যের মধ্যে তুলে ধরেন। সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেন, এমন কর ছাড় বেতনভুক্ত কর্মীদের অতিরিক্ত ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। ফলে খোলা বাজারে টাকার সূচক এতে তেজি হতে বাধ্য। এমনকি উদার অর্থনীতির পথও এতে অনেকাংশে মসৃণ হলো। এছাড়া এক কোটি নাগরিককে এবার থেকে আর আয়কর দিতে হবে না এই বাজেটের ফলে। এই আলোচনায় বক্তব্য রাখেন অর্থনীতির অধ্যাপিকা সাহানা রায়চৌধুরী, ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের আয়কর বিশারদ পল্লভ গুপ্ত সহ ধ্রুব অ্যাডভাইসরসের তরফে আদিত্য হান্স, বৈভব জাজু, বসন্ত গোধ্যান, বিশাল জৈন প্রমূখ।

মধ্যবিত্তের আয়করে বৈপ্লবিক ছাড়ের পাশাপাশি অনগ্রসর জাতি ও অনগ্রসর উপজাতির মহিলারা নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুই কোটি টাকা টাকা পর্যন্ত বিনা সুদে ঋণ পেতে পারেন। এতে উপকৃত হবেন দেড় লক্ষ মহিলা। এই ইস্যুতেও বক্তারা আলোকপাত করেন। তাঁদের বক্তব্য, দেশে অনগ্রসর শ্রেণির মহিলারা এর ফলে নয়া উদ্যোগ গঠনে উৎসাহিত হবেন।

আলোচকরা আরও বলেন, 'এই বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে উৎসাহিত করার একটা প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে। এমএসএমই নথিভুক্ত শিল্পের ক্ষেত্রে রপ্তানিতেও বিশেষ ছাড় অবশ্যই ভারতের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে এআই প্রসঙ্গে বাজেটের কিছুটা সমালোচনা করেন আদিত্য হান্স। তিনি বলেন, 'এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়ে বাজেটে যে বরাদ্দ করা হয়েছে তা নগন্য।' অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাজেটের মাধ্যমে পাঁচশো কোটি টাকা ব্যয় করে এআই সেন্টার ফর এক্সিলেন্স গড়ে তোলা হবে। এখানেই আদিত্যবাবুর মন্তব্য, 'উচিৎ ছিল এই খাতে নূন্যতম পাঁচ হাজার কোটি টাকার সংস্থান রাখা। দিনে দিনে এই দেশে এআইয়ের চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে। এই ক্ষেত্রে কর্ম সংস্থানের ব্যাপক সুযোগ ঘটছে। তাই কেন্দ্রীয় সরকার এবিষয়ে আরও মনোযোগী হলে দেশের পক্ষে খুবই মঙ্গলকর হবে।' এছাড়াও বাণিজ্যিক ও কর্পোরেট ট্যাক্সের হার অপরিবর্তিত না রেখে কিছুটা হলেও বাড়তি ছাড় দিলে বণিকমহলও কিছুটা স্বস্তি বোধ করতেন বলে তিনি মনে করেন।

তবে বক্তারাও এও একবাক্যে মেনে নিয়েছেন সারা বিশ্বে যেখানে অর্থনৈতিক অস্থিরতা চলছে সেখানে ভারতের বুনিয়াদ বর্তমানে যথেষ্ট উৎসাহব্যঞ্জক। ভারতের মুদ্রাস্ফীতি ক্রমশঃ নিম্নগামী। আর দেশের জিডিপি গ্রোথ হলো উর্ধ্বমুখী। এখন আমাদের দেশে জিডিপি হার ৬.৩ শতাংশ। তা অচিরেই বৃদ্ধি পেয়ে ৬.৭ শতাংশ হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এই বাজেটকে ঘিরে। যা বিশ্ব অর্থনীতির পরিসরে ভারতের অবস্থান অনান্য অনেক দেশের কাছে ঈর্ষণীয় বলে তাঁরা অভিমত প্রকাশ করেন।

(www.theoffnews.com Indian Union Budget 2025-26)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

একেই বলে, নিজের বলবৎ করা আইন নিজেই অমান্য করে।

হ্যাঁ শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। অনেকটা বাঘের ঘরে ঘোগের বাসার মতো অবস্থা যাকে বলে। এ'প্রসঙ্গে জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচনার আতস কাঁচের নিচে অবশ্যই টেনে আনা যায় সিজিএসটি বা 'সেন্ট্রাল গুডস এন্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স'কে।

দেশের আইন অনুসারে ২৬৯ এসটি ধারা অনুযায়ী একদিনে ভারতীয় মুদ্রায় নগদে দুই লক্ষ টাকার বেশি লেনদেন করা যায় না। অন্যথায় সেটা সম্পূর্ণ বেআইনি লেনদেন হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে। অনন্ত কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয় সুপারিশেই এমনতর আইন দেশব্যাপী লাগু করা হয়েছে। অথচ জিএসটি (গুডস এন্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স)'র রেভিনিউ আদায়ের একটি অতি বিশেষ ক্ষেত্রে এই নিয়মকে মানেই না কেন্দ্রীয় অর্থ দফতরের সরাসরি নিয়ন্ত্রিত সিজিএসটি। প্রয়োজন পড়লে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে ২৬৯ এসটি ধারা উপেক্ষা করে একদিনে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করা হয়।

বিষয়টা এরকম, জিএসটি সংক্রান্ত রেভিনিউ সঠিক মাত্রায় আদায়ের জন্য সদা জাগ্রত সারা দেশের সিজিএসটি'র সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা। যাতে কেউ বা কোনও সংস্থা জিএসটি ফাঁকি না দিতে পারে তার জন্য নানা সময়ে বিভিন্ন জায়গায় সিজিএসটি আধিকারিকেরা নিয়মিত অভিযানও চালিয়ে থাকেন। এমনকি ক্ষমাযোগ্য রকমারি আকর্ষণীয় নিয়মানুযায়ী স্কীমও লাগু করা হয়েছে রেভিনিউ আদায়পর্ব সম্পূর্ন পর্যায়ে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে। তবু এতো কিছু প্রচেষ্টার পড়েও জিএসটি ফাঁকি দেবার প্রবণতা সারা দেশেও এখনও উল্লেখযোগ্য হারে বিদ্যমান থেকে গেছে।

এ'বিষয়ে কলকাতা জোনের চিফ কমিশনার (সিজিএসটি) শ্রাবণ কুমার বলেন, "জিএসটি ফাঁকি রুখতে আমাদের হামেশাই বিভিন্ন গোপন সোর্সের উপর নির্ভর করতে হয়। আমরা শেষ তিন মাসের মধ্যে আটশো কোটি টাকার ফাঁকি দেওয়া জিএসটির রেভিনিউ আদায় করেছি। এই কান্ডে এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।" সোর্সদের কি কোনও উপহার দেওয়া হয়? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, না আমরা কখনই প্রকাশ্যে কোনও সফল সোর্সকে প্রকাশ্যে উপহার প্রদান করি না। এ'ব্যাপারে সোর্সের ব্যক্তি সুরক্ষার কথা পর্যালোচনা করে পুরো বিষয়ে চুড়ান্ত গোপনীয়তা আমরা মেনে চলি। বিনিময়ে আমরা সোর্সকে নগদ টাকা হাতে হাতে প্রদান করি পুরস্কার হিসেবে। সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক লেনদেন ও ডিজিটাল পেমেন্ট আমরা এড়িয়ে চলি। সোর্সের সুরক্ষার স্বার্থে। এমনও উদাহরণ আছে একদিনে একত্রে নগদে আমরা কোটি টাকার উপরে পুরস্কৃত করেছি কোনও কোনও সোর্সকে। মোট আদায়কৃত রেভেনিউয়ের দশ শতাংশ থেকে কুড়ি শতাংশ অর্থ আমরা নগদে পুরস্কার হিসেবে ধার্য করি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একইসঙ্গে তিনি এও বলেন, "কেউ গোপনে অভিযোগ করলেই আমরা নগদ পুরস্কার দিই না। অভিযোগটা যথার্থ ও প্রমাণ সাপেক্ষ কিনা সেটা যাচাই করতে হয়। আবার এমনও দেখা গেছে কেউ জিএসটি রেভিনিউ প্রদান করার আগে নগদে কমিশন পুরস্কার প্রাপ্তির লোভে ড্যামি সোর্স দাঁড় করিয়ে দেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে। সেক্ষেত্রে আমরা ড্যামি সোর্স পুরোপুরি এড়িয়ে চলি। তাছাড়া কোনও প্রতিষ্ঠানকে আমরা সোর্স হিসেবে নগদ পুরস্কার দিই না। সোর্স আমাদের কাছে পুরোটাই ব্যক্তি কেন্দ্রিক হয়।"

প্রায় একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেল কলকাতা নর্থের অ্যাডিশনাল কমিশনার (সিজিএসটি) প্রকাশ বোরগোহেনের কন্ঠে। তাঁর বক্তব্য, "যথার্থ সোর্সকে আমরা নূন্যতম দশ শতাংশ নগদ অর্থ পুরস্কার দিয়ে থাকি। সর্বোচ্চ কুড়ি শতাংশ দেওয়া হয়। নালিশের মান, প্রামাণ্য নথি ও রেভিনিউ আদায়ের আর্থিক সংখ্যার ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদানের শতাংশের পরিমাণ নির্ভর করে। আবার আগের থেকে চলমান কোনও তদন্তের উপর পুরস্কার কাউকে দেওয়া হয় না। জিএসটি ফাঁকি সংক্রান্ত সম্পূর্ণ নতুন অভিযোগকেই স্রেফ পুরস্কারের আওতায় আনা হয়।" গোপনীয়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কোনও সোর্স আমাদের দফতরের আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট আধিকারিকই সোর্স সম্পর্কে সংযোগ রক্ষা করেন। এখানে অন্য কোনও আধিকারিকের ভূমিকা একদম থাকে না। সোর্সের নাম ও ঠিকানা রেকর্ড করারও রীতি নেই দফতরে। দু'টি বিশেষ ফর্মে নালিশের বিস্তারিত নথিভুক্ত করা থাকে। আর সোর্সের একমাত্র ফিঙ্গার প্রিন্ট ওই ফর্মে নেওয়া হয়। একটি ফর্ম গচ্ছিত রাখা হয় সোর্সের সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী আধিকারিকের কাছে। অন্যটা পাঠিয়ে দেওয়া হয় নয়াদিল্লির সদর দফতরের সিজিএসটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েটের কাছে। আসলে সোর্সের পরিচয় সম্পর্কে আমরা সর্বোচ্চ স্তরে গোপনীয়তা বজায় রাখি।"

গত বৃহস্পতিবার একটি আলোচনা চক্রে এহেন গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ আলোচিত হয়। মারচেন্টস চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি'র কলকাতা স্থিত নিজস্ব ভবণে '২০২৪ সালে জিএসটির ক্ষমাযোগ্য আইন' শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(www.theoffnews.com GST CGST Chember Of Commerce)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

কথায় আছে, ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার।

কেন, কেন, কেন? আচমকা এমন প্রসঙ্গ কেন আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠলো?

ধীরে বস্ ধীরে। সবুরে মেওয়া ফলে বুঝলেন।

তা যাক, আসলে কি হয়েছে খোলাসা করে একটু বলুন না প্লিজ।

ঠিকই আছে, তবে শুনুন। বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না। তবে যা বলতে যাচ্ছি তা জানলে, অবিশ্বাসটাই জন্মাবে তাৎক্ষণিক পর্যায়ে, উল্টে অবধারিতভাবে পরামর্শ দেবেন, 'যা বলছেন তা আরও একবার নিশ্চিত হয়ে বলুন।'

আসলে ভারতের আয়কর দফতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো টিডিএস বা ট্যাক্স ডিডাক্টেড অ্যাট সোর্স। আর এখানেই একটি চমকে যাওয়ার মতো তথ্য উঠে এসেছে। এই টিডিএস সংক্রান্ত দফতরের নিজস্ব রেকর্ডে ভারতীয় নাগরিকদের প্যান কার্ড সংক্রান্ত কোনও তথ্যই আক্ষরিক অর্থে নথিভুক্ত নেই। এই দফতর নিজের থেকে টিডিএস প্রদানকারী কোনও উপভোক্তার প্যান কার্ডের কোনও অর্থনৈতিক লেনদেন আদতে নিজস্ব উপায়ে ট্র্যাকিং করতে পারে না। এরকম পরিস্থিতিতে টিডিএস সংক্রান্ত দফতরকে পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় ভারতীয় আয়কর ভবণের উপর। নিজস্ব হেফাজতে প্যান কার্ড সংক্রান্ত কোনও নথি সরাসরি না থাকার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যাবতীয় আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে খোঁজ নিতে বহু সময়েরও অপচয় ঘটে।

এই অবাক করা সমস্যার কথা প্রকারান্তে মেনে নিলেন কলকাতায় অবস্থিত ইনকাম ট্যাক্স (টিডিএস) কমিশনার রঘুবীর মদনাপ্পা। তিনি বলেন, "এটাই সত্যি যে টিডিএস দফতরে সরাসরি ভারতীয় নাগরিকদের প্যান কার্ডের কোনরকমের কোনও তথ্য নথিভুক্ত করা নেই। কারও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে ট্র্যাকিং করার থাকলে তা আমরা সরাসরি করতে পারি না। এ'বিষয়ে কিছু জানার থাকলে আমাদেরকে আয়কর ভবণের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হতে হয়। আমাদের প্রয়োজনটা তাদের জানানোর পর পরবর্তী ক্ষেত্রে তারা আমাদের তা জানায়, দুই তরফের লিখিত আদান প্রদানের মাধ্যমে। যা আক্ষরিক অর্থে ডিজিটাল যুগের প্রকৃত পরিপন্থী।" এ'প্রসঙ্গে তাঁর আরও বক্তব্য, "কেন্দ্রীয় আর্থিক মন্ত্রণালয় থেকে প্যান কার্ডের বিষয়বস্তু নিয়ে সরাসরি আয়কর দফতরের বাইরে এখনও পর্যন্ত বিকেন্দ্রীকরণ ঘটানো হয়নি। সুতরাং আমাদেরও অনেক ক্ষেত্রে হাত পা বাঁধা থাকে। ইচ্ছে থাকলেও বহু ক্ষেত্রে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে তাই বিলম্ব হয়। আমরাও যাতে প্যান কার্ডের যাবতীয় তথ্য নিজেদের অফিসের হেফাজতে রেখে প্রয়োজন মাফিক ট্র্যাকিং করতে পারি তার উদ্দেশ্যে আমাদের উপর মহলে দরবার করেছি। এটুকুই বলতে পারি আমরা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের সবুজ সংকেত প্রাপ্তির আশায় এখন প্রহর গুনছি।"

উল্লেখ্য, কর্মীদের বেতন, ব্যাঙ্কের সুদ, পেশাদার সেবা, ভাড়া সহ বিভিন্ন পন্য ও সেবার উপর সাধারণতঃ টিডিএস লাগু করা হয়। এটি একটি আয়কর সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। একে ভারতে প্রচলিত কর কর্তন পদ্ধতিও বলা যায়। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয় দ্বারা এটি প্রতিনিয়ত সংশোধিত হতে থাকে নানান নিত্যনতুন পরিস্থিতি মোকাবেলায়। টিডিএস কেটে নেওয়ার হার কিভাবে নির্ধারিত হবে তা বিভিন্ন আয়ের রকমারি উৎসের মাত্রার নির্ভর করে। যেমন বেতনের ক্ষেত্রে আয় ও শর্তের উপর নির্ভর করে ১০% থেকে ৩০% অব্দি কেটে নেওয়া হয়। সাধারণ পর্যায়ে ব্যাঙ্কের সুদ ১০% কাটা হয় টিডিএস'এর জন্য। নির্দিষ্ট সীমার উপর ভাড়ার উপর ৫% থেকে ২০% কর্তন করাই সর্বশেষ দস্তুর। আমাদের দেশে আয়কর থেকে যা আয় রাজস্ব কোষাগারে সংগ্রহ করা হয় তার একটা অন্যতম বড় অংশ আসে টিডিএস পদ্ধতির হাত ধরে। 

আয়কর ভবণের একটি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৩-২৪ আর্থিক বর্ষে প্রায় ১০ কোটি ভারতীয় এই টিডিএস পদ্ধতির আওতায় নথিভুক্ত হয়ে রয়েছেন। যার মধ্যে আনুমানিক ৫ কোটি কর্মচারী তাঁদের বেতন থেকে টিডিএস কাটিয়েছেন। ৩ কোটির উপর ব্যবসায়ী ও পেশাদারও এই কর্তনের ছত্রছায়ায় এসেছেন। বিগত আর্থিক বছরে শুধুমাত্র টিডিএস খাতে ৭ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলেও ভারতীয় আয়কর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

যেখানে টিডিএস নিয়ে সারা বছর জুড়ে সমগ্র ভারতে এমন রাজসূয় যজ্ঞ চলমান এজেন্ডা, সেখানে সংশ্লিষ্ট দফতর সম্পর্কে পিছিয়ে চলার অচলায়তন নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও তুঙ্গস্পর্শী। অনেকেরই অভিযোগ, টিডিএস কেটে নেবার পরও বহু করদাতাকেই আয়কর রিটার্ন ফাইল জমা দিতে হয়। নির্দিষ্ট ফর্মের ভিত্তিতে। টিডিএস কর্তনের পরিমানের সঙ্গে সঠিক আয়কর দেওয়ার পরিসংখ্যান মিলিয়ে দেখার উদ্দেশ্যে। অথচ ওই নির্দিষ্ট ফর্ম অনেকটাই একমুখী ও পুরানো ধাঁচের। স্রেফ হ্যাঁ বা না উল্লেখের অবস্থান রয়েছে। উপভোক্তার তরফে কোনও সংশ্লিষ্ট মন্তব্য ওই ফরম্যাটে উল্লেখ করার সংস্থান নেই। এই অভিযোগও যে যথার্থ তাও স্বীকার করেছেন রঘুবীর মদনাপ্পা। তিনি এ'বিষয়ে বলেন, "একদম যথার্থ অভিযোগ। বহু করদাতাকেই এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় হামেশা। বিভিন্ন তথ্য হ্যাঁ বা না'এর উপর দিতে বাধ্য হোন তাঁরা সুনির্দিষ্ট ফর্মের জন্য। তাঁরা যেমন মন্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন বহু পরিস্থিতিতে, তেমন আমরাও তথ্য পূর্ণ ফর্ম ঘেঁটে অনেক সময় আরও বেশি মন্তব্য জানার তাগিদ বুঝতে পারি তার থেকে। সেক্ষেত্রে আমরা আবার ওই করদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধ্য হই লিখিত নানা স্তর পেড়িয়ে। এই জ্বলন্ত সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে।"

টিডিএস নিয়ে তাই একাংশ করদাতারা প্রকাশ্য ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন, "করদাতাদের টিডিএস সংক্রান্ত কোনও বিচ্যুতি ঘটলে তো আইনানুসারে শাস্তির বিধান তো সুস্পষ্ট। অথচ সংশ্লিষ্ট দফতরের নিয়ম তো ব্রিটিশ বিধির পুরাতনী অস্তিত্বকেও হার মানায়। আসলে টিডিএস'এর অবস্থা হলো, বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো, অবস্থা।"

গত মঙ্গলবার কলকাতার মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি'র নিজস্ব ভবণে আয়োজিত হয়েছিল একটি আলোচনা চক্র। 'টিডিএস এবং সংশ্লিষ্ট প্রসঙ্গ' শীর্ষক এই আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন রঘুবীর মদনাপ্পা। এই আলোচনা সভায় তিনি ছিলেন প্রধান বক্তা।

(www.theoffnews.com Merchant Chamber Of Commerce & Industry TDS Seminar)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

অগুনতি নগদ অর্থ ঘরে গচ্ছিত রাখতে পারলেও স্বর্ণালঙ্কারের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। সোনার গয়না মজুত করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আপনাকে মানতেই হবে। তবে গৃহে রূপোর গহনা ও হিরে মজুতের বিষয়েও নির্দিষ্ট কোনও নির্দেশনামা এখনও পর্যন্ত জারি হয়নি। অনন্ত দেশের আইন মোতাবেক তো এটাই বর্তমান দস্তুর।

সাম্প্রতিক কালে আমাদের রাজ্যে সহ সারা দেশের বিভিন্ন প্রদেশে হামেশাই আয়কর দফতর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টর (ইডি) হানা দেয় নানাবিধ ব্যক্তিবর্গের বাড়িতে। এমনকি হানাদারেরা অধিকাংশ আবাস থেকে বাজেয়াপ্ত করে থাকেন বিশাল অঙ্কের বেআইনি নগদ অর্থ ও লুকিয়ে রাখা অবৈধ স্বর্ণালঙ্কার। আর এই ছাপা মারার প্রচেষ্টা যত বেশি তরান্বিত হয়েছে তত বেশি করে উৎসুক ছাপোষা নাগরিকদের মনে এখন একটাই জিজ্ঞাসা, কত পরিমাণ সর্বাধিক নগদ অর্থ ও সোনার গয়না তাঁরা নিজেদের ঘরে জমা রাখতে পারবেন আইন সম্মত ভাবে?

এই প্রশ্নের উত্তরে কলকাতার বিশিষ্ট আইনজীবী রমেশ কুমার পাটোদিয়া দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, "একজন ভারতীয় নাগরিক তাঁর নিজস্ব ঘরে যে কোনও বড় অঙ্কের নগদ অর্থ মজুত করে অবশ্যই রাখতে পারেন। তবে নিজের দায়িত্বে তা তাঁকে রাখতে হবে। এটা তো তাঁর নাগরিকত্বের অধিকার। তবে এখানে একটা শর্ত মানতেই হবে। তা হলো আয়ের সঙ্গে ঘরে গচ্ছিত অর্থের সঙ্গতি থাকা অত্যন্ত আবশ্যক। অন্যথায় গৃহে থাকা উক্ত অর্থ বাজেয়াপ্ত হওয়াটাই ভারতীয় আইন।" রমেশবাবু আরও উল্লেখ করেন, আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নগদ অর্থ যেমন যত খুশি গৃহে জমা রাখা সম্ভব, তেমনই সোনার গয়নার ক্ষেত্রে যত মন চাইবে সেই পরিমাণে আবাসে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। ভারত সরকারের এখানে একটা পরিমাণ বেঁধে দিয়েছেন। তা লঙ্ঘন করলে অতিরিক্ত পরিমাণ সোনার গহনা বাজেয়াপ্ত করতে পারে আয়কর দফতর। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য এ'প্রসঙ্গে, একজন বিবাহিত ভারতীয় মহিলা সর্বাধিক পাঁচশো গ্রাম ওজনের সোনার গয়না নিজের ঘরে সঞ্চয় করে রাখতেই পারেন। অবিবাহিত নারী আড়াইশো গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণালঙ্কার ঘরে নিজের হেফাজতে অনায়াসেই রাখতে পারবেন। জনপ্রতি পুরুষ নিজের ব্যবহারের জন্য একশো পঁচিশ গ্রাম পর্যন্ত সোনার অলঙ্কার বাড়িতে রাখতে সক্ষম। এই পরিমাণের বেশি ঘরে রাখতে গেলে আয়কর দফতরকে আগাম নির্দিষ্ট কারণ দর্শাতে হবে নিজের থেকে। অন্যদিকে রূপোর ভূষণ ও হিরে ঘরে সর্বাধিক কত পরিমাণ মজুত করা যাবে বিনা বাধায় তা নিয়ে দেশের আইনে আক্ষরিক ভাবে কোনও নিষেধাজ্ঞা এযাবৎ জারি হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কলকাতার অপর নামজাদা আইনজীবী এস এম সুরানা বাণিজ্যে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে দেন, ব্যবসায়িক ঠিকানা যেন কোনও ভাবেই নিজের আবাসস্থল না হয়। এতে জটিলতা বাড়বে বইকি কিন্তু তা কমবে না। অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক সংকোচনের কথা ভেবে বা যাতায়াতের সহজলভ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে পেশাগত দফতর নিজস্ব বাড়ির ঠিকানাতেই স্থাপন করেন। এটা একটা মস্তবড় ভুল পদক্ষেপ। তিনি বলেন, "ব্যবসার লেনদেন জাত অসঙ্গতি কোনও ভাবে ধরা পড়লে এবং ব্যবসার দফতর বাসস্থান ব্যতিরেকে অন্যত্র থাকলে আয়কর ভবণ থেকে সরাসরি অভিযান চালানো হতে পারে সংশ্লিষ্ট অফিসে। সেক্ষেত্রে ব্যবসায়ীর ঘরে হানা দেবার সুযোগ কম থাকে। কিন্তু অফিস বাড়ির ঠিকানায় দেখানো থাকলে আয়কর দফতর অফিস ও বাড়ি একযোগে সরাসরি ঢুকে তদন্ত শুরু করতে পারে।"

'আর্থিক বিষয়ক ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থা কর্তৃক হানাদারী ও বাজেয়াপ্তকরণ এবং তার আইনি সীমাবদ্ধতা' প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে রমেশবাবু আরও জানান, ব্রিটেন ও আমেরিকার থেকে আমাদের দেশে এই সংক্রান্ত আইন অনেক বেশিমাত্রায় সরলীকরণ করা হয়েছে। ইউরোপের ওই দুই দেশের আইনানুসারে, একশো বছরের পুরনো কোনও অবৈধ আর্থিক লেনদেন নিয়েও যে কোনও অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে আইনের আতস কাঁচের তলায় টেনে আনতে সক্ষম তদন্তকারী সংস্থা। সেক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া ভারতে মোটামুটি ভাবে বিগত ছয় বছরের হিসেবের খতিয়ান খতিয়ে দেখার দৃষ্টান্তই বেশি মাত্রায় প্রতিষ্ঠিত। তিনি জানান, সকল ব্যবসায়ীকে সঠিক নিয়ম মেনে আইটি রিটার্ন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া উচিৎ। সেই পরিস্থিতিতে এধরণের ঝামেলা সহজেই এড়ানো সম্ভব। আজকাল ডিজিটাল যুগ। প্যান কার্ড ও আধার নম্বর সকল লেনদেনের সঙ্গে প্রায় সংপৃক্ত। ফলে আয়কর ফাঁকি দেওয়া প্রকৃতই দূরূহ। এছাড়াও আয়কর দফতরের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও অনুসন্ধান বিভাগ এখন অত্যন্ত আধুনিক। সুতরাং ওঁদের চোখ এড়ানোর প্রয়াস আর জেগে দিবাস্বপ্ন দেখা সমার্থক ব্যপার। এছাড়া কারোর দ্বারা লুকানো নিয়ম বহির্ভূত অর্থের অধিকার হলো একমাত্র দেশেরই। আর দেশের অর্থ কারও অন্যায় ভাবে ব্যবহার করার এক্তিয়ার নেই এই ভারতে বলে রমেশবাবু মনে করেন।

অন্যদিকে আর্থিক নিয়মের কথা স্মরণ করিয়ে এস এম সুরানা মন্তব্য করেন, "যদি কোনও ভাবে হিসাব বহির্ভূত অর্থ আকস্মিক পর্যায়ে কারও হস্তগত হয়, সেক্ষেত্রে আয়কর দফতর বা ইডি'র হাত থেকে বাঁচার অন্তরায়ও রয়েছে। সেক্ষেত্রে মোট নিয়ম বহির্ভূত গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ আয়কর দফতরকে জানাতে হবে। আর সামগ্রিক অর্থের ২৫% নিজের হেফাজতে রেখে বাকি ৭৫% আয়কর দফতরে জমা দেওয়াটা বাধ্যতামূলক।"

গত শুক্রবার কলকাতার ভারত চেম্বার অফ কমার্স ও প্রতিষ্ঠানের লেডিস ফোরামের যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয় উক্ত বণিকসভার ভবণে। সেখানেই বক্তব্য রাখেন উপরিউক্ত দুই আইনজীবী সহ উদ্যোক্তাদের তরফে এন জি খৈতান, রেনুকা শাহ, সুজাতা শেঠ প্রমূখ।

(www.theoffnews.com Bharat Chamber Of Commerce Kolkata)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

ক্রিপ্টো কারেন্সি নিয়ে ভারতের শেয়ার বাজারের কোনও ছুঁৎমার্গ নেই। ভারত সরকার অনুমতি দিলে ক্রিপ্টো কারেন্সির লেনদেন দেশীয় শেয়ার বাজারে তা অবশ্যই স্বাগত। এমনটাই মত পোষণ করলেন বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই লিমিটেড) ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাম চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সুন্দরমন রামমুর্তি। তিনি বলেন, "এখনও পর্যন্ত ভারতের শেয়ার বাজারের লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে দেশের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সবুজ সঙ্কেত দেয়নি। তাই আমরাও এই বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেওয়ার জায়গায় নেই। যেদিন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুমোদন মিলবে সেদিনই দেশের শেয়ার বাজারে ক্রিপ্টো কারেন্সি চালু করা হবে। সবটাই নির্ভর করছে ভারত সরকার এ'বিষয়ে কি, কখন ও কিভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপর।"

ইতিমধ্যেই ক্রিপ্টো কারেন্সির মূল্যমান নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বৈধতা দিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় ক্রিপ্টো কারেন্সির কেনা ও বেচার উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। ফলে ভারতে ক্রিপ্টো কারেন্সি ক্রয় ও বিক্রয় অনায়াসেই আগ্রহী যে কেউ করতে পারবেন। তবে ব্যবহৃত জীবনের দেশীয় উন্মুক্ত বাজারে দৈনন্দিন লেনদেনের ক্ষেত্রে তা এখনও ব্যবহার যোগ্য নয়। উল্লেখ্য, দেশীয় বাজারে লেনদেনের মাধ্যমে এখনও ভারতীয় ভৌত মুদ্রাই (ভারতীয় রুপি) একমাত্র গ্রহণযোগ্য। সেক্ষেত্রে ক্রিপ্টো কারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রা ভারতে লেনদেনের সূচকের স্বীকৃতি এখনও অর্জন করতে পারেনি।

গত সোমবার বিকেলে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি'র উদ্যোগে। উদ্যোক্তাদের নিজস্ব ভবণে আয়োজিত এই আলোচনায় অংশ নেন বিএসই লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাম চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সুন্দরমন রামমুর্তি। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল 'ভারতীয় ইক্যুইটি বাজারে আসন্ন স্বর্ণযুগ।' সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, "১৯৯১ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাওয়ের ও তদানীন্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের যৌথ যুগলবন্দীতে ভারতে রচিত হয়েছিল অর্থনৈতিক আঙ্গিকে এক নতুন অধ্যায়। জওহরলাল নেহরুর প্রচলিত মিশ্র অর্থনীতির পথ পরিহার করে সেদিন ভারত হাঁটতে শুরু করেছিল উদার অর্থনীতির নয়া স্বনির্ভরতার সরণিতে। আর ১৯৯২ সালে একটা স্ক্যামের মাধ্যমে দেশের জনগণের কাছে প্রথমবারের মতো ভারতের শেয়ার বাজার সম্পর্কে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছিল আকাশ ছোঁয়া। স্ক্যামে অভিযুক্ত হর্ষদ মেহেতার সৌজন্যে। এরপর নানা উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে দেশের শেয়ার বাজার কিন্তু ক্রমেই লোভনীয় তেজি ষাঁড়ে রূপান্তরিত হয়েছে বলে তাঁর অভিমত। সুন্দরমন রামমুর্তি আরও বলেন, "আজ বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের শেয়ার বাজার অত্যন্ত বলিষ্ঠ স্তম্ভের ভূমিকা পালন করছে। তাই দেশীয় শেয়ার বাজারের অদূর ভবিষ্যৎ কিন্তু অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। আগে শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরা সীমাবদ্ধ ছিলেন স্রেফ হাতে গোনা কয়েকটি মহানগরীতে। আজ দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও শেয়ার বেচাকেনায় উৎসাহ দেখান স্থানীয় অধিবাসীরা। ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দৈনন্দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিজিটাল লেনদেনে সহজলভ্যতা এসেছে। বিএসই, সেবি, এনএসসি'র মতো নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগকারীদের বিনামূল্যে বিনিয়োগের পরামর্শ ও সতর্কতা প্রদান করে চলেছে নিরলস ভাবে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে।"

বিএসই'র উক্ত পদস্থ আধিকারিক ছাড়াও ওই সভায় মনোজ্ঞ বক্তব্য পেশ করেন আয়োজক সংস্থার দুই কর্মকর্তা মুনীশ ঝাঝারিয়া ও মমতা বিমানি।

(www.theoffnews.com Merchants' Chamber Of Commerce & Industry BSE Limited)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

কথায় বলে, অতি লোভে তাঁতি মরে।

এই বাংলা প্রবাদ যে কতখানি ধ্রুব সত্য তা কিন্তু আমাদের সমাজে আজও প্রমাণ পাওয়া যায় ভুঁড়ি ভুঁড়ি। কত শত মানুষ জীবনের সমস্ত সঞ্চয় খুইয়ে বসেন হামেশাই এক লহমায়। প্রতারিত ফিনান্সিয়াল সংস্থার দৌলতে। কারণ সংস্থাগুলো অস্বাভাবিক হারে সুদ সমেত আসল ফেরত দেবে আমানতকারীদের, এমন প্রচার করে থাকে জনমানসে। ব্যাস্ রাতারাতি বড়লোক হবার স্বপ্ন দেখা শুরু। আর অচিরেই ফকির হওয়া শেষ পর্যায়ে। এই অতি লোভে তাঁতি মরে ট্র্যাডিশন তাই আজও অব্যাহত আমাদের সমাজের আনাচে কানাচে। বিনিয়োগের মায়াবী পাতা ফাঁদে। তাহলে মুক্তির উপায়?

হ্যাঁ এহেন সমস্যার থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে মহানগরের গত সোমবার সন্ধ্যায় এক অর্থনৈতিক আলোচনার আসর বসেছিল ক্যালকাটা ক্লাব লিমিটেডে। সচেতনতা মূলক এই আলোচনা চক্রের আয়োজন করে ছিল যৌথ উদ্যোগে রোটারী অফ ক্যালকাটা ইনার সিটি ও রোটারী অফ ক্যালকাটা মেট্রো সিটি। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল, হাও টু ইনভেস্ট সেফলি।

গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায় উঠে আসে কি বিপুল পরিমাণ আমানতকারীদের সঞ্চয় এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন ভুয়া সংস্থার কাছে গচ্ছিত রয়েছে। একটা পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে, সত্যম কম্পিউটার সার্ভিসেস ৭,০০০ কোটি টাকা, পঞ্জাব এন্ড মহারাষ্ট্র কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্ক ৪,৩৫৫ কোটি টাকা, ন্যাশনাল স্পট এক্সচেঞ্জ লিমিটেড ৫,৬০০ কোটি টাকা সহ পঞ্জি স্কিমের অন্তর্ভুক্ত সারদা গ্রুপ ২,৫০০ কোটি টাকা ও রোজ ভ্যালি গ্রুপ ১৭,০০০ কোটি টাকা সঞ্চয়কারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধাপে। অথচ এই কোম্পানিগুলো পুরোপুরি জাল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

সচেতনতা মূলক এই আলোচনায় অংশ নিতে গিয়ে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই)' এর কলকাতা চ্যাপ্টারের অন্যতম ম্যানেজার সৌমী সাহা বলেন, "সম্প্রতি স্যোশাল মিডিয়া তথা, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে বহু গ্রুপে বিপুল সংখ্যক লোভনীয় প্রচার দেখানো হয়। বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করার জন্য অস্বাভাবিক হারে রিটার্ণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এক ঝলক দেখলে মনে হবে এরা হয়তো প্রকৃতই নিরাপদ সংস্থা। এমনকি এরা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি)'র জাল নথিও পেশ করে সঞ্চয়কারীদের আস্থা অর্জনের উদ্দেশ্যে। তাই এইসব ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকি সম্পন্ন।" তিনি উল্লেখ করেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেও এই সমস্ত ভুয়ো সংস্থার বিরুদ্ধে সেবির আদতে কিছুই করার থাকে না। কারণ ওই সংস্থাগুলো প্রকৃতপক্ষে সেবির নথিভুক্ত রেজিস্ট্রিকৃত সংস্থাই নয়। এখানে প্রতারিত হলে শুধুমাত্র পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে নালিশ জানানো ছাড়া আরও কোনও বিকল্প থাকে না আমানতকারীদের সামনে।

কলকাতা বিভাগের এনএসই'র অপর ম্যানেজার চিন্ময় চিরসুন্দর মল্লিক আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিসংখ্যান সহযোগে জানান, ২০২৩ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে আনুপাতিক হারে সেই বিনিয়োগের মাত্রা উর্দ্ধমুখী হয়নি। তাঁর মন্তব্য, ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ ডিপোজিটোরি লিমিটেড ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটোরি সার্ভিসেস লিমিটেডের তরফে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে যেখানে ২০২৩ সালে সারা দেশের নিরিখে শেয়ার বাজারে মোট বিনিয়োগকারীর ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি, সেখানে এই রাজ্যে ডিম্যাট অ্যাকাউন্টধারী শেয়ার ক্রেতার সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ লক্ষ। অন্য একটি তথ্যানুসারে জানা গিয়েছে, সমগ্র ভারতে শেয়ার বাজারের মোট রেজিস্ট্রিকৃত শেয়ার ব্রোকারের সংখ্যা ১৫,৯৫০ হলেও এরাজ্যে তা মাত্র ১০০'তে সীমাবদ্ধ। চিন্ময়বাবুর বলেন, "বর্তমানে ভারতের শেয়ার বাজার আক্ষরিক অর্থে প্রকৃতই তেজী বুলে পরিণত হয়েছে। দেশীয় শেয়ার বাজারে ভারতীয় মুদ্রায় সম্প্রতি মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৩০০ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে এই বিনিয়োগের পরিসংখ্যান স্রেফ ৩ লক্ষ কোটি টাকা।"

এই আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এনএসই'র হায়দ্রাবাদ শাখার কর্মরত ম্যানেজার মোহিনী মুখোপাধ্যায় শ্রোতাদের সতর্ক করে জানান, যে কোনও বিনিয়োগের আগে তা কতটা ঝুঁকি পূর্ণ তা আগে যাচাই করা উচিৎ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে। অতিরিক্ত হারে ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিলেই সরাসরি বিনিয়োগ করতে যাবেন না। লগ্নিকারী সংস্থার নির্ভরযোগ্যতা সর্বাগ্রে খতিয়ে দেখা উচিৎ। সেই সংস্থা আদৌ দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলো সহ সেবি এবং এনএসই'র রেজিস্ট্রিকৃত কিনা তাও পরখ করে দেখা প্রয়োজন। সেবি, এনএসই সহ শেয়ার বাজারে লগ্নিকারী সংস্থার রেজিস্ট্রেশন নম্বর পরীক্ষা করা অবশ্যই প্রয়োজন ওই সমস্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে। এমনকি এক্ষেত্রে ক্রশ ভেরিফিকেশন খুব জরুরি। এক্ষেত্রে নিশ্চিত না হলে, ওই সংস্থায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা বর্জন করা আবশ্যক। সুতরাং বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও লোভে পাপ পাপে মৃত্যু আপ্তবাক্যটি সব সময়ে স্মরণে রাখবেন।

(www.theoffnews.com Rotary Club Calcutta Club Limited stock market invest)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ: 

মুম্বাই ও দিল্লির সঙ্গে মস্কোর বাণিজ্যিক লেনদেনের উষ্ণতা যতটা জমাটবদ্ধ, ঠিক ততটাই পুঁজি নিবেশের শৈত্যতা অতি গভীরের, অন্তত কলকাতার সঙ্গে ক্রেমলিনের। এই আপ্তবাক্যটি কিন্তু এক আন্তর্জাতিক কূটনীতিকের। কোনও রকম জড়তা নয়। ঢাক ঢাক গুরগুরের তো প্রশ্ন একদমই নয়। কলকাতার বুকের উপর বসে একথা সরাসরি বললেন ম্যাক্সিম কোজলভ। তাও আবার নির্ভুল বাংলা ভাষায়। পদাধিকার বলে তিনি বর্তমানে কলকাতায় অবস্থিত রাশিয়ান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত। তিনি খানিকটা আক্ষেপের সুরেই জানান, পশ্চিমবঙ্গে কয়লা খনি আছে। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মতো বৃহৎ শিল্প আছে। চা নিলামের বৃহৎ বাজার রয়েছে। শিল্প পরিকাঠামোর প্রাচুর্য আছে। পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়ন এই রাজ্যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে আগ্রহী ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কালের রাশিয়া এ'রাজ্যে পুঁজিনিবেশ নিয়ে একেবারে চুপচাপ। তিনি আরও বলেন, "আমি বিশ্বাস করি রাশিয়ার কাছে ভারত বলতে স্রেফ দিল্লি বা মুম্বাই নয়। কলকাতার অস্তিত্বকেও আমাদের গুরুত্ব দিয়ে ভাববার সময় এসে গেছে।" আশার কথা শুনিয়ে তিনি উল্লেখ, "কলকাতাতেও বিশ্ববাংলা বাণিজ্যিক সম্মেলন আয়োজিত হয় সাফল্যের সঙ্গে। আমি আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করবো যাতে রাশিয়ার পুঁজিপতিদের একটা বিশেষ দল অদূর ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গে আসে বিনিয়োগ করার লক্ষ্য নিয়ে।"

গত বুধবার ভারত চেম্বার অফ কমার্স'এর উদ্যোগে কলকাতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সভা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। 'ইন্দো রুশ বাণিজ্য ও পুঁজিনিবেশের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ' শীর্ষক এই সভায় বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্ট বণিকসভার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নরেশ পাচিসিয়া ও রুশ রাষ্ট্রদূত ম্যাক্সিম কোজলভ। সভায় বণিকসভার সদস্যরা সহ সেখানে বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করেন রাশিয়ার উপ রাষ্ট্রদূত এক্যাটরিনা তিউরিনা।

আয়োজক বণিক সভার পক্ষে নরেশ পাচিশিয়া আলোচনা সভার প্রারম্ভিক ভাষণ উল্লেখ করেন, ইন্দো রুশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্রেফ আচমকা স্থাপন হয়নি। ভারত স্বাধীনতা প্রাপ্তির সময়কাল থেকে তদানীন্তন সোভিয়েত আমাদের দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক মৈত্রী স্থাপন করেছিল। সেই ধারাবাহিকতা আজ আরও মজবুত হয়েছে অধুনা রাশিয়ার সঙ্গে। ১৯৭০ সাল থেকে এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের বুনিয়াদ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। মস্কোর প্রশাসক ও দিল্লির শাসক উভয়েই এই বানিজ্যিক সম্পর্ককে এক অবিচ্ছেদ্য অকৃত্রিম পারস্পরিক বন্ধুত্বতে পরিণত করে এসেছেন বরাবর। এতকাল পরেও তা একবারের জন্য চিড় ধরেনি দ্বিস্তরীয় কূটনৈতিক তরফে, বলে তিনি জানান।

কলকাতায় অবস্থিত রুশ দূতাবাসের দায়িত্ব প্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ম্যাক্সিম কোজলভ আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, "দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে প্রতি বছর ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্যিক লেনদেন হয়। আমরা ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মুগ্ধ। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক ক্ষেত্র প্রসারে ভীষণ রকমের তৎপর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তো রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ বন্ধু। এই দুই রাষ্ট্রনেতা এক যোগে দুটো দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় একে অপরের অভিন্ন পরিপূরক হয়ে উঠেছে। এর ফলে বিশ্বের নিরিখে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে এক উন্মুক্ত বাজার সৃষ্টি হয়েছে।"

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ ইউরোপের বিভিন্ন শক্তিশালী দেশ রাশিয়ার উপর একাধিক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারের ভারসাম্য রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে ভ্লাদিমির পুতিন প্রশাসন। প্রোটোকল মেনে একথা মুখে না স্বীকার করলেও রুশ রাষ্ট্রদূত একথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়ে দেন যে, বাণিজ্যিক দৃষ্টি কোন থেকে মস্কো এখন আর ইউরোপীয় বাজার নিয়ে ততটা উৎসাহী নয়, যতটা দক্ষিণ এশিয়ার ভারতীয় উদার বাজারের সম্পর্কে আগ্রহী। তিনি আরও মন্তব্য করেন, জ্বালানির গ্যাস ও তেল তো এখন রাশিয়ার কাছে ভারত এক হেভিওয়েট খদ্দের। সমরাস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম বিক্রিতেও ভারত এখন রাশিয়ার কাছে ভালো ক্রেতা। উল্টোদিকে ভারত চা, গম, ওষুধ, কম্পিউটারের সফটওয়্যার নাগারে রপ্তানি করে চলেছে ক্রেমলিনকে।

ম্যাক্সিম কোজলভ বক্তব্য রাখতে গিয়ে উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রতিরক্ষা সহ বাণিজ্যের পুঁজিবাজারের মতো বিষয়গুলো রাশিয়ার অন্তরাত্মার সঙ্গে মিশে গেছে। আমরা গর্বিত যে ভারত এখন মেক ইন ইন্ডিয়া শুধু স্লোগান তুলি থেমে থাকেনি। যতদিন যাচ্ছে ভারতের স্বভিমানের প্রতীক হয়ে মেক ইন ইন্ডিয়া কনসেপ্টটা ততই যেন বাস্তবতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

(www.theoffnews.com Indian Russian Trade)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

পলকা শীতের নম্র ছোঁয়া যেন আসন্ন শৈত্য ঘনঘটার জানান দিচ্ছে বঙ্গ প্রকৃতির ক্যানভাসে। তাই এই নব্য ঠান্ডা জনিত আবহে শারীরিক সুরক্ষায় আগাম প্রস্তুতিও বংবাসীর বডি ল্যাঙ্গুয়েজে এখন যথেষ্ট বিদ্যমান। নিশ্চিত সুরক্ষা কে না চায়। আসলে আমাদের জীবন যাত্রা ঘিরে সুরক্ষার বিকেন্দ্রিক নানান কাম্য বলয় এই সমাজ ব্যবস্থার এক বাস্তব মেক ইন ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছে। তাই এই সুরক্ষা প্রসঙ্গে কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) কেনই বা মুখ ফিরিয়ে থাকবে বা থাকতে পারে।

তাই এই প্রাসঙ্গিকতাকে অভিনব উপায়ে বাস্তব রূপরেখায় পরিণত করার প্রয়াসে সিআইআইয়ের উদ্যোগে আয়োজিত হয়ে গেল 'টেন্থ ইনসিওরইন্ড' শীর্ষক এক মনোজ্ঞ আলোচনা সভা। অনুভবের হেমন্ত শিশিরের গন্ধ মাখা আদুরে সকাল রৌদ্দুরে আয়োজিত এই সভা যে তাই সুরক্ষার শীলমোহরে দেশীয় ইন্স্যুরেন্সকেই মান্যতা দিল একশো শতাংশ। গত বৃহস্পতিবারের ভাবগম্ভীর আলোচনায় সার্বিক সাগর মন্থনের তাই নিটফল হলো, জীবনের অঙ্ক খাতায় ভারতীয় শিল্পের পাটিগণিতে ইন্স্যুরেন্সের প্রভাব ও ২০৪৭ সালে শক্তিশালী সুরক্ষিত ভারত গড়ার সংকল্প। আসলে ইন্স্যুরেন্সের যজ্ঞ পীঠে সুরক্ষার মন্ত্র উচ্চারণে মেরা ভারত মহান যে সিআইআইয়ের মন্দ্রিত চিরস্বপ্ন।

এই সুরক্ষা মঞ্চে সশরিরী হাজির না হতে পারলেও ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন মন্দাকিনী বালোধি। দিল্লীবাসী এই ললনা যে কর্মসূত্রে যুক্ত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিকর্তা হিসেবে।

বিরাটাকার লাইভ স্ক্রিনের মাধ্যমে আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্দাকিনীদেবী বলেন, "পূর্বের থেকে আমাদের জীবনযাত্রা জেড গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। পরিবর্তনের হাওয়ার নৌকার পালে স্বনির্ভর শিল্পেও ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম অগ্রজ দেশ। সুতরাং সার্বিক পর্যায়ে সুরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ভারতীয় ইন্স্যুরেন্সের ভূমিকা আজকের দিনে চুড়ান্ত অপ্রতিরোধ্য। কেন্দ্রীয় সরকার তাই নমনীয়তার মোড়কে দেশীয় ইন্স্যুরেন্সকে ব্যবস্থাকে সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে অবিচল।" তিনি আরও জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী কালের ভারত আর ২০২৪ ভারতের মধ্যে তারতম্য অনেক। আমরা সনাতন ভারতের ভিত্তি বজায় রেখেও ডিজিটাল যুগ অতিক্রম করে বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কালে বিবর্তিত হয়েছি। এই সত্যটা আমাদের সবাইকে মানতেই হবে। কি জীবনে কি শিল্পে। ফলে ইন্স্যুরেন্সকে উপেক্ষা করা আর সভ্যতার চাকা পিছনে ঘোরানোর প্রয়াস সমার্থক বিষয়। আজ আমরা আর্থিক দিক থেকে বিশ্বের পঞ্চম শক্তিশালী দেশ। সমরক্ষেত্রে পৃথিবীতে আমরা চতুর্থ স্থানে। শিল্পেও ভারত আজ প্রথম দশের বিশ্ব ক্লাবের সদস্য। ২০৪৭ সালে ভারতের অর্জূনের পাখির চোখ হলো প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের ফার্স্ট বয় হওয়া। তাই ইন্স্যুরেন্স হলো আমাদের ভিত্তি, আমাদের সুরক্ষা, আমাদের ভরসা।

সিআইআইয়ের এই আলোচনায় অংশ নেন দেশের একাধিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বেশ কয়েকজন রথী মহারথীরা। বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এলআইসির পিজিএসএম সেক্রেটারি অনুরাধা মান্না। তাঁর মন্তব্য, দেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তি থেকে একশো বছরের যাত্রাপথের হিসেব কষতে বসলে ২০৪৭ সাল অবধারিত ভাবেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠবে। সেই স্বপ্নিল মুহূর্ত যেন এখন থেকেই আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। সুতরাং স্বভিমান রক্ষার প্রশ্নে ভারতবাসীর আর অপেক্ষা করার সময় নেই। এই সময়কালে ভারতবাসীর জীবনকে সৌন্দর্যে চলমান করার জন্য লাইফ ইন্স্যুরেন্স যেমন সমাজের অকৃত্রিম বন্ধু তেমন দেশের অনবদ্য শিল্প পরিকাঠামো ও বিপুল উৎপাদনে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্স্যুরেন্সের ভূমিকাও যে সর্বময় সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি স্বরূপ।

আইসিআইসিআই লোম্বার্ড জিআইসি লিমিটেডের কর্পোরেট সল্যুসন্স গ্রুপের ন্যাশনাল হেড রমণজিৎ ভাল্লা এই মঞ্চে মন্তব্য করতে গিয়ে উল্লেখ করেন, ভারতে প্রথম ইন্স্যুরেন্স ১৮১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এলআইসির হাত ধরে। যা ১৯৫৬ সালে জাতীয়করণ হয়েছিল। ২০০০ সালে দেশে প্রথম বেসরকারী বীমাকরণের অনুপ্রবেশ ঘটে। ফলে দেশের বীমা ক্ষেত্রে তুমুল প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়। প্রত্যাশিত ভাবেই এই প্রতিযোগিতায় বীমা বিপ্লবের সুচনা সংঘটিত হয় ভারতের নানা আঙ্গিকে।

সিআইআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় শাখার আর্থিক বিষয়ক চেয়ারম্যান কৌশিক মুখোপাধ্যায় অবশ্য সতর্ক করে বলেন, বীমাকরণ এমন একটা অধ্যায় যেখানে স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর অভাবে দেশের আর্থিক বুনিয়াদের উপরেই বুলডোজার চলবে। সুতরাং এটা প্রতিষ্ঠা করার সময় এসে গেছে যে ইন্স্যুরেন্স ও স্বচ্ছতা হলো পারস্পরিক সমার্থক শব্দ। ডিজিটাল ইন্সুরেন্সে আমরা অনেক সময় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অভিযোগ শুনতে পাই। যা মোটেই প্রত্যাশিত নয়। ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি দেশের বীমা ক্ষেত্রকে ঢেলে সাজাতে চলেছে সম্প্রতি। সিআইআইয়ের তরফে আমরা অনুরোধ করবো, কেন্দ্রীয় সরকার যেন আসন্ন এই উদ্যোগের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ইন্স্যুরেন্সের স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে কঠোরতম নীতি গ্রহণ করে।

(www.theoffnews.com Insurance India)


দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম:

মূল বইয়ের নাম: রিচ ড‍্যাড পুওর ড‍্যাড, লেখক রবার্ট টি কিওসাকি

"A fool and his money are soon parted."

টাকার জন‍্য সবাই কাজ করে। সবাই এমপ্লয়ি হতে চান, এমপ্লয়‍্যার নন। কেউ সরকারি অফিসে স‍্যালারি পান, কেউ পান বেসরকারি অফিসে। স্বাভাবিকভাবেই, তারা হয় সরকারের, না হয় বেসরকারি সংস্থার লাভালাভের সঙ্গে সংপৃক্ত।  কিন্তু এই টাকা সবার জন‍্য কাজ করে না। তারজন‍্য ফিনান্সিয়াল লিটারেসি বা অর্থ বিষয়ে সাক্ষরতা দরকার। ধরুন, আপনি কিছু সঞ্চয় করার সামর্থ্য পেলেন। কী করবেন? বাড়ি কিনবেন? তারপর বাড়ি সারাই করতে ব‍্যায় করবেন? না সেই টাকা প্রসপেক্টিভ বন্ড কিনবেন? না, ভালো জায়গা কিনে ফেলে রেখে দেবেন? দেখবেন, এগুলোও আপনার কাজের জায়গা। সেখানে আপনি না গেলেও, অর্থ বা টাকা আপনার জন‍্য কাজ করে যাবে। অর্থ মাল্টিপ্লাই হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, নো রিস্ক, নো গেইন।  আমেরিকান লেখক রবার্ট টি কিওসাকির "রিচ ড‍্যাড, পুওর ড‍্যাড" পুস্তক কেন বেস্ট সেলারের তালিকাভুক্ত, বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। লক্ষাধিক পুস্তক হট্ কেকের মতো বিক্রি হয়েছে মাত্র কয়েক বছর আগে। সচিত্র নকশার মাধ‍্যমে ইনকাম স্টেটমেন্ট, ব‍্যালেন্স সিটের মাধ‍্যমে তিনি বুঝিয়েছেন, প্রথাগত এ‍্যাসেট এবং লায়াবিলিটি বলতে আমরা যা জানি, তার গলদ কোথায়? 

তিনি দক্ষতা বা প্রশিক্ষণের কথা বলতে গিয়ে বেশ কিছু মূল‍্যবান কথা বলেছেন। দুই বালক রবার্ট ও মাইকের মাধ‍্যমে এক অনবদ্য কাহিনি। রবার্টের বাবা "গরিব পিতা", মাইকের বাবা "ধনী পিতা"। কিন্তু দুইজনের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বিপরীত। রবার্টের বাবা চায় সিকিউরড জব। মাইকের বাবা চায় 'ফিনান্সিয়াল লিটারেসি'। সেই জানে ধনী হওয়ার আসল মন্ত্র। 'ফিনান্সিয়াল লিটারেসি' সেই সব মানুষের প্রয়োজন যারা ধনী হতে চান, দারিদ্র্য দূর করতে চান।

পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে, লেখক বলেন, ধনী ব‍্যক্তির আয় বৃদ্ধি হলে তারা সম্ভাবনাময় সম্পদ ক্রয় করে। আর মধ‍্যবিত্ত গাড়ি ক্রয় করে। বিলাসবহুল দ্রব‍্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে এগিয়ে নিম্ন ও উচ্চ মধ‍্যবিত্ত। তাঁর কথায়- "রিচ পিপল্ বাই লাক্সারিজ লাস্ট, হোয়াইল দ‍্য পুওর এ‍্যাণ্ড মিডল ক্লাস টেণ্ড ট‍্যু বাই লাক্সারিজ ফার্স্ট।" 

শিক্ষক, অধ‍্যাপক, কেরানীর মতো নিশ্চিত মাস মাইনের চাকুরিজীবী হওয়ার জন‍্য আমাদের পড়াশোনা। তারপর হন‍্যে হয়ে ঘোরাঘুরি। না হলে, অদক্ষ শ্রমিক। ভাতা আর কষ্টের জীবন। অনাকাঙ্ক্ষিত দারিদ্র্য জীবন সঙ্গী। যদি নিশ্চিত চাকুরি, পেনশন জোটে, ট‍্যাক্স, ইনসুরেন্স, রোগ বালাই, ইএমআই, ক্রেডিট কার্ড, ছেলেপুলের পড়াশোনা, বিয়ে, দায় দৈব সামলাতে গিয়ে লভ‍্যাংশ শেষ। এই তো একজন 'পুওর ড‍্যাডে'র ভাগ‍্য। নিরন্তর নিশ্চিত জীবনের খোঁজ। হয়েছে একটি বৃহৎ বাড়ি। হাতে দু'পয়সা তো একটা শখের গাড়ি। কিন্তু যাকে এ‍্যাসেট ভাবলাম, দেখলাম সেটা আসলে লায়াবিলিটি অর্থাৎ দায়। মধ‍্যবিত্ত বৃহৎ বাড়িকে এ‍্যাসেট মনে করে, ধনী তাকে লায়াবিলিটি মনে করে। এখানেই পার্থক্য। গাড়িও তাই, ড্রাইভার থেকে ট‍্যাক্স, ব‍্যায়ের বহর বৃদ্ধির গোঁড়া। অথচ, স‍্যালারির একটা  অংশ বিলাসিতার পিছনে না ঢেলে, স্টক, মিউচুয়াল বণ্ড বা বেশি হলে রিয়াল এস্টেটে ঢেলে উপার্জিত অর্থকে কাজে লাগাতে পারিনি, এই বোধগম্যতা আসে অনেক দেরিতে। যখন আর কিছু করার থাকে না। তাই অর্থের সঠিক লগ্নি সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান বা বোধ জরুরি। এই বোধের অভাব হলে, তাকে বলে- "ফিনান্সিয়াল ইললিটারেসি"।

সর্বক্ষেত্রে এই দক্ষতার প্রয়োজন। না হলে সেই প্রবাদ ধ্রুব সত‍্যে পরিণত হয়-- বাঁদরের চুল হলে বাঁদর চুল বাঁধতে জানে না।  

সমগ্র বিশ্বে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে অদক্ষ মানুষের মূল‍্য কমেছে। তাই সরকারি চাকুরিজীবীদের ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকতে হবে। শিক্ষকদেরও স্মার্ট ক্লাস পরিচালনা করতে হবে। 

একটি সহজলভ্য দৃশ‍্যের বর্ণনা করি। হরিয়ানার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ‍্যম স্কুলে নার্সারির একটি বাচ্চা ভেণ্ডর কিয়স্কের সামনে এলো। স্কিন টাচ ডিসপ্লে বোর্ডে আঙুল ছুঁইয়ে ট্রে চ‍্যুজ করে, "কিউ আর কোড" স্ক‍্যান করে পেমেন্ট করে কিছু খাবার নিয়ে চলে গেল।  

এই দৃশ্যটা কষ্ট কল্পনা নয়, বাস্তব ঘটনা। কোথাও কোনও দোকানদার নেই। এমন দৃশ্য অনেক রেলওয়ে স্টেশনে সচরাচর দেখা যায়। 

এর থেকে একটা বিষয় পরিস্কার, অদক্ষ শ্রমিক বা আনস্কিল্ড লেবারের শ্রমের জায়গা ক্রমশ ছোট হচ্ছে। কৃষিকাজেও দিনমজুরদের কাজের পরিসর একইভাবে ক্রমশ ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে চলেছে। 

স্কিল্ড লেবারার বা শ্রমজীবীদের জন‍্য তৈরী হচ্ছে নিত‍্য নতুন কাজের পরিসর। রাজনৈতিক সচেতনতা দরকার। তবে, অমূলক রাজনৈতিক কচকচানির জ্ঞানের দরকার নেই। দরকার, দক্ষতামূলক কর্মক্ষেত্রের খবর। সমাজমাধ‍্যমে শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ এ‍্যাণ্ড হসপিটালের বহুল প্রচারিত "পজিটিভ বার্তা" নামে একটি চ‍্যানেলের 'বিকাশ টক শো'তে, কারিগরি শিক্ষা বিশেষত আইটিআই কোর্সের পর self-employment বা এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্টের সুযোগ-সুবিধা বিষয়ক আলোচনা শুনছিলাম, নয়াগ্রাম সরকারি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ইনস্ট্রাক্টার দেবব্রত পালের মুখে।  

তাতে একটা দিক পরিস্কার, কাজে দক্ষতার প্রশিক্ষণ জরুরি। প্রশিক্ষক  দেবব্রত পাল জানান, ফিটার, প্লাম্বারের মতো কতো কাজে সুযোগ রয়েছে। কারিগরি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিয়ে কন্ট্রাক্টরের লাইসেন্স নিয়ে জল কমিশনের বিভিন্ন প্রকল্পে কিভাবে কাজ পাওয়া যায়, সে কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। সারা রাজ‍্যে সরকার পোষিত বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রগুলি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভিন রাজ‍্যে চাকরি কিম্বা নিজস্ব মালিকানায় অনেকেই স্বপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন, এমন প্রচুর উদাহরণ রয়েছে। একটি বিষয়ে কোনও দ্বিমত নেই যে, দক্ষ বা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মানুষের বিকল্প নেই। বেশি বেকারত্ব কোন সেক্টরে বুঝতে হবে। জেনারেল স্ট্রিমে পড়াশোনা করে নিশ্চিত জীবনের হাতছানি যত কমে তত দেশের মঙ্গল। প্রযুক্তির প্রয়োগে, দেখুন ডাক্তারের সংখ‍্যা বৃদ্ধি পেলেও, অর্থাগমের অভাব হয় না। এই জন‍্যই বলা-  মাইণ্ড ইওর ওন বিজনেস। এর অর্থ নিজের চরকায় তেল দেওয়া নয়। বিজনেস মনস্ক হওয়া। প্রফেশনালিজম খারাপ কিছু না। মানুষকে পরিশ্রমী গড়ে তোলে। এই যুগ বৈশ‍্যের যুগ। একমাত্র বিজনেস সচেতনতা, ম‍্যানেজমেন্ট অর্থাৎ সুষ্ঠু পরিচালনা, প্রচার মাধ‍্যম এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যিনি দক্ষ, গোটা বিশ্ব তাঁর হাতের মুঠোয়।

(www.theoffnews.com Rich dad poor dad financial literacy)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ: 

মনুষ্য সমাজে ক্যাবের ব্যবহার, অনলাইন শপিং এক ধাক্কায় আমাদের জীবনধারাকে কতই না পাল্টে দিয়েছে। কিন্তু ভালোবাসা, হিংসা, সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো একই ভাবে চিরন্তনী এখনও অনেকাংশে থেকে গেছে। তবু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রভাব এহেন চিরন্তনী অধ্যায়ের উপরেও প্রবল ভাবে আধিপত্য জাঁকিয়ে বসেছে। তা না হলেও ডেটিংয়ের জমজমাট তারল্যে এখন তো ভালোবাসার ভূবনটাই আমূল পাল্টে যাবার জোগাড় হয়েছে। আসলে এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের জোয়ারে সারা বিশ্ব এখন তথ্য সমৃদ্ধ পরিবর্তিত মহাসমুদ্রের আকার ধারণ করেছে। এটাই হলো সাম্প্রতিকতম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের নব্য যুগ। এমন ভাবেই বক্তব্যের শুরুটা করেছিলেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিশেষজ্ঞ শুভেন্দু মুখোপাধ্যায় এক মনোজ্ঞ আলোচনা চক্রে।

এমনই আলোচনা চক্র আয়োজিত হয় কলকাতার ভারত চেম্বার অফ কমার্স'এর দফতরে। গত ২৩ অক্টোবর আয়োজিত ওই আলোচনা চক্রে বিষয় নির্ধারিত ছিল 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যুগের প্রস্তুতি। ওই বণিকসভার দুই কর্মকর্তা এন জি খৈতান ও নরেশ পাচিসিয়া। 

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আর্থিক উপদেষ্টা কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য তথা ইংরেজি লেখক সঞ্জীব সান্যাল। তিনিও এই প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, আজকের বিশ্বে কোনটাই আর দীর্ঘস্থায়ী নয়। ভীষণ রকম পরিবর্তনশীল হয়ে উঠেছে আমাদের সামগ্রিক জীবন। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এই পরিবর্তিত অগ্রগতিকে আরও বেশি উষ্কে দিয়েছে। আমাদের জীবনযাত্রাটাই এখন এই নব্য সূচক নির্ভর হয়ে উঠতে শুরু করেছে ক্রমেই। তথ্যই এখন আমাদের বেঁচে থাকার একান্ত হাতিয়ার। আর সেখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স হলো আমাদের কাছে স্রেফ একটা ফিঙ্গারিং ক্লিক। পড়াশোনার ক্ষেত্রে চ্যাট জিটিপি তো জ্ঞানার্জনের মাধ্যমের সংজ্ঞাটাই পাল্টে দিয়েছে। একটা চিপ ও একটা অ্যাপ মানুষের জীবনে তথ্য সংগ্রহের অপার ভান্ডার রূপে হাজির হচ্ছে এক লহমায়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স হলো নূন্যতম কর্মদক্ষতা প্রয়োগ করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মদক্ষতা প্রতিস্থাপন করার এক অদ্ভুত প্রকৌশল। তাঁর মন্তব্য, সারা পৃথিবীতে এর নিয়ন্ত্রণ কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে অনেকটাই আলাদা। যেমন উত্তর কোরিয়া ও চীনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের নিয়ন্ত্রক হলো পরিপূর্ণ কেন্দ্রীয় স্তরে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার। উল্টোদিকে আমেরিকা, বৃটেন সর্বোপরি ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশগুলিতে এর প্রয়োগ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের বিকেন্দ্রীকরণ আবার যথেষ্ট লক্ষণীয়।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে অপর বক্তা শুভেন্দুবাবু জানান, বর্তমান দুনিয়ায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের দাপটে নগদ অর্থনীতি ক্রমশঃ ডিজিটাল অর্থনীতিতে পরিবর্তিত হতে চলেছে। বিটকয়েন এর সর্বশেষ উদাহরণ। ঘরে বসেই আমরা আজ শপিং করতে পারি অ্যামাজন'এর তরফে। শুধু তাই নয়, ক্রয় করার জন্য যে কোনও দ্রব্যের বিষয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ভাবে রেটিং ও রিভিউ জেনে নিতে পারি। গুগল তো আমাদের কাছে ডিজিটাল বিশ্বকোষে পরিণত হয়েছে। আজকের প্রজন্মের কাছে ইউটিউব পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভিডিও গ্রন্থাগার। এসবই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সুফল। তবে পরিশেষে এও তিনি সংযোজন করেন, একজন অজ্ঞ মানুষের কাছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কিন্তু এক অসার মৃত মাধ্যম। এই মাধ্যমকে সুচারু রূপে কার্যকর করতে হলে ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন বিষয়ে বা কোনও একটি সাবজেক্টে সম্যক জ্ঞান থাকা অতি আবশ্যক। তাহলেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আমাদের কাছে এক তথ্য জ্ঞানের তাৎক্ষণিক নতুন পৃথিবী হয়ে উঠবে।

(www.theoffnews.com Artificial Intelligence Bharat Chamber Of Commerce)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ সারা দেশের লোকসভার ১৮তম সাধারণ নির্বাচনের দামামা ইতিমধ্যেই বাজতে শুরু করেছে। এমনই প্রাক মুহূর্তে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মুকুটে সংযোজিত হল এক নতুন পালক। দেশে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয়ের পরিমাণ ৬৪,২৬৩ কোটি টাকা বা ৬৪২.৬৩ বিলিয়ন ডলার। যা এক সর্বকালীন রেকর্ড। বিশ্বের বাণিজ্যিক মানচিত্রে ভারত যে সাম্প্রতিক পৃথিবীর পুঁজিপতিদের পছন্দের মক্কা মদিনা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই কারণেই ভারত সম্পর্কে অতি উৎসুক মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কও অনেকটা ছুটেই আসছেন এই ভোট মরশুমের আবহের মধ্যেই। তিনি নিজেই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, 'এদেশে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে আমি খুবই উৎসুক।' খুব কিছু এদিক ওদিক না ঘটলে সম্ভবত চলতি মাসের শেষ সপ্তাহেই আমেরিকার বাসিন্দা তথা টেসলার কর্ণধার এদেশের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ফলঃপ্রসূ হলে আমাদের দেশে ঘটবে এক আকাশচুম্বী বিনিয়োগ। অর্থাৎ টেসলার গাড়ি ভারতেই তৈরি করার ব্লুপ্রিন্ট রচনা হবে ৪,১৫০ টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে। সুতরাং বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে ভারত যে আজ অন্যান্য দেশের কাছে অনেকটাই হট লিপ সম। উপরিউক্ত এহেন ভারতের সাম্প্রতিক আর্থিক জয়জয়কার সম্পর্কে সুদূর পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়াও কিন্তু যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। আর তারই আভাস পাওয়া গেল হিজ এক্সিলেন্সি অ্যাম্ব পিটার মুনিইরির আন্তরিক আবেদনে। ভারতে অবস্থিত কেনিয়া নিয়োজিত এই রাষ্ট্রদূত তাই কালক্ষেপ না করে তাঁর দেশে এদেশের সঙ্গে এরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের পুঁজিনিবেশের আমন্ত্রণ জানালেন দৃঢ়তার সঙ্গে। গত ৮ এপ্রিল বিকেলে কলকাতায় আয়োজিত হয়েছিল এক বণিকসভার আলোচনাচক্র। মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের স্থানীয় দফতরে। আর সেই বণিকসভায় সেদিনের মধ্যমনি ছিলেন রিপাবলিক অফ কেনিয়ার এই রাষ্ট্র প্রতিনিধি। এই বণিকসভার আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁর দেশের আর্থিক হালহকিকতের কথা উল্লেখ করেন হিজ এক্সিলেন্সি অ্যাম্ব পিটার মুনিইরি। তিনি বলেন, "কেনিয়াতে বর্তমানে বসবাস করেন ৫২.৪ মিলিয়ন মানুষ। দেশের ৮৫% আয় তথ্যপ্রযুক্তি ও সংযোগ টেকনোলজির মাধ্যমে সংগঠিত হচ্ছে অতি সম্প্রতি। ২০২২ সালে দেশের এফডিআই স্টক ছিল ১০.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা কেনিয়ার জিডিপির ৯.৫ % সুচকতূল্য। তবে দেশের ৭৫% মানুষ এখনও শ্রমদান করেন কৃষিক্ষেত্রে। অন্যদিকে চলতি দশকে নাইরোবির মোট জিডিপির ৬২% দাবিদার টেলিকম ও ফিনান্সিয়াল কার্যক্রম থেকে।" তিনি আরও বলেন, ভারত সহ পশ্চিমবঙ্গের পুঁজিপতিরা আমাদের দেশে আসুন। ব্যবসায়িক পর্যায়ে বিনিয়োগ করুন। নাইরোবির সরকার সর্বতো ভাবে আপনাদের স্বার্থ সুরক্ষিত করবে। সহজলভ্য এখানকার শ্রম। এই দেশের সঙ্গে রপ্তানি ও আমদানি করতে চাইলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়। আমরা ভারতের ব্যবসায়ীদের জন্য অপেক্ষায় আছি। পরিশেষে এটা বলতেই হয় ভারত ও কেনিয়ার দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক সুযোগ এবং অবস্থানে পশ্চিমবঙ্গের পটভূমি শীর্ষক আলোচনায় নাইরোবির এই কূটনৈতিক কর্তার শরীরী ভাষা কিন্তু দীপ্ত ভঙ্গিতেই বারবার একটা আমন্ত্রণ জানান দিচ্ছিল, হে বঙ্গবাসী তথা ভারতবাসী বণিকগণ, আমার হাত ধরে নিয়ে চলো সখা। উপস্থিত ব্যবসায়ীরাও তখন হাততালি দিচ্ছিলেন মুহুর্মুহু। এই হাততালির অনুররণ কেনিয়ামুখী যে কতটা পৌঁছাবে তার পারদ-মিটার জানান ভবিষ্যতই দেবে। কারণ ব্যবসায়ীরাও বিলক্ষণ জানেন, বাণিজ্যে বসতেঃ লক্ষ্মীর আসল নির্যাসটা কি! (www.theoffnews.com - Kenya)
সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ: যাবো যাবো বসন্তের পড়ন্ত বিকেলের সূর্যাস্ত উপভোগ করছিলেন। বলতে গেলে একাকীই।ক্ষণিকের আবেগে মোবাইলে ক্যামেরা বন্দীও করলেন সেই অনিন্দ্য প্রাকৃতিক দৃশ্য। কলকাতার এক বহুতলের ঝাঁ চকচকে বহুতলের ব্যালকনি থেকে। চোস্ত হিন্দি বলতে পারেন। বাংলাও অল্পস্বল্প বোঝেন না এমনটা নয়। রবিকবির ভাষায় উনার পরিচয় জানতে গেলে অবশ্যই বলতে হয়, তুমি বিদেশিনী গো সুমন্দ ভাষিণী দূর দ্বীপবাসিনী। তাঁর নাম হার এক্সিলেন্সি ডানিয়েলা মারিয়ানা সেজোনভ তানে। তিনি ভারত সহ বাংলাদেশ ও নেপালে অবস্থিত রোমানিয়া দূতাবাসের বর্তমান রাষ্ট্রদূত। ভারতে অবস্থান কালে এই দেশের রাষ্ট্রভাষা হিন্দি যখন আত্মস্থ করেছেন তখনই তিনি নিশ্চয়ই উপলব্ধি করেছেন, ভারতবর্ষ সূর্যের এক নাম। হয়তো তাই তীব্র ব্যস্ততার এক চিলতে অবসরে ভারত আকাশের সূর্যকে এভাবেই তাড়িয়ে তাড়িয়ে হৃদয় তন্ত্রীতে গেঁথে রাখছিলেন। এই রোমানিয়ান নন্দিনী বিলক্ষণ জানেন, বিশ্ব জুড়ে যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ঘোড়দৌড় চলছে ডিজিটাল ফরম্যাটে তাতে ভারত নামক এই সূর্যের দেশ হলো হালফিল বাজির কালো অশ্ব। এহেন মুহূর্তে ভারতীয় তেজি বুলের অবস্থান যে পৃথিবীতে পঞ্চম। চতুর্থ স্থান কব্জাগত করার জন্য ইতিমধ্যেই জাপানের ঘাড়ে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে বিশ্বের এই সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশটি। আজকের ভারত যে আর্থিক বুনিয়াদে এক অতি শক্তিশালী বাণিজ্যিক পীঠস্থান তা উপলদ্ধি করেই বুখারেস্টের থিং ট্যাঙ্কের কর্তারা হয়তো এই দেশকে একটু বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে বসেছেন দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রের নিরিখে। হয়তো তাই গত বুধবার রোমানিয়ার এই রাষ্ট্রদূত ভারত সূর্যকে লেন্সে সেফ করার ঠিক প্রাক মুহূর্তে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় পুঁজিপতিদের সঙ্গে। মহানগরের ভারত চেম্বার অফ কমার্সের নিজস্ব ভবণে। ওই বৈঠকের উপলক্ষ্য ছিল একটা আলোচনাচক্র। 'আর্থিক সহযোগিতা প্রেক্ষাপটে ভারত ও রোমানিয়ার বর্তমান এবং ভবিষ্যতের অবস্থান' শীর্ষকে। তবে আলোচনার উপলক্ষ্যের মঞ্চে অর্জুনের পাখির চোখের লক্ষ্য ছিল অমৃত মন্থন সম 'ভারতীয় বাণিজ্য'। যা অবশ্য খুল্লামখুল্লা স্বীকার করে নিয়েছেন ডানিয়েলা মারিয়ানা সেজোনভ তানে। বৈঠকে উপস্থিত ভারতীয় পুঁজিপতিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "ভারতের সঙ্গে রোমানিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মজবুত করতে আন্তরিক ভাবে আমরা স্বচেষ্ট। আপনাদের আমাদের দেশে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভু্ক্ত এই দেশে আপনারা বিনিয়োগ করুন স্বচ্ছন্দে। আমরা আপনাদের সবরকমের সহায়তা করতে প্রস্তুত। রোমানিয়াতে অত্যাধুনিক বাণিজ্য সহায়ক পরিকাঠামো রয়েছে। বিভিন্ন খাতে সরকারি শুল্ক হ্রাসের ব্যবস্থাও আছে। আপনারা রোমানিয়াতে আসুন। আপনাদের পুঁজি আমাদের দেশে নিবেশ করুন শিল্প গঠনের জন্য। আপনাদের উৎপাদিত পন্য বিপননের জন্য বিরাট বাজার রয়েছে গোটা রোমানিয়া সহ সমগ্র ইউরোপ জুড়ে। বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে ইউরো নির্বিশেষে সবাই আয় করুন। এছাড়া ভারতের সঙ্গে রোমানিয়ার আমদানি ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দুই দেশ একযোগে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস রাখি।" এই বক্তব্যকে সমর্থন করে ভারতের রোমানিয়া দূতাবাসের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক মন্ত্রকের দায়িত্ব প্রাপ্ত সেই দেশের মন্ত্রী ইয়োনুত ভিজিরু ওই আলোচনাচক্রে মন্তব্য করেন, "ভারতের সঙ্গে রোমানিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক ৭৫ বছরের। ২০০৪ সালে নর্থ অ্যাটলান্টিক ট্রিটি অর্জানাইজেনের (ন্যাটো) অন্তর্ভুক্ত হলেও এবং ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়েও রোমানিয়া ভারতের বন্ধুত্বকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়ে এসেছে বরাবর। রোমানিয়া আজ আবহাওয়া হাব হিসেবে বিশ্বে সুপরিচিত। এখানকার গড় তাপমাত্রা ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ইউরোপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাইসাইকেল উৎপাদন করেছে আমাদের দেশ ২০২২ সালে সংখ্যার নিরিখে ২.৬ মিলিয়ন তৈরি করে। ১৯ মিলিয়ন নাগরিকের এই ইউরোপীয় দেশে ২০২০ সালে কোভিডের মন্দায় আমাদের জিডিপির পতন ঘটেছিল ৩.৭%। ঠিক সেখান থেকে আমরা ২০২১ সালেই উল্লেখযোগ্য ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম ৫.৮% জিডিপির উচ্চমাত্রায়। রোমানিয়াতে ৮,৭০,০০০ টি কোম্পানি রয়েছে বর্তমানে যার মধ্যে বৈদেশিক কোম্পানির সংখ্যাই ২,৪৪,০০০ টি। আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আওতাভুক্ত দেশগুলোর বাইরে বহির্বিশ্বের সঙ্গে ২০২৩ সালে রপ্তানি ব্যবসা করেছিলাম ১৪,৯৮৪.৫ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের। একই বছরে আমদানি ব্যবসা করেছি ১৮,৬৭৬.৬ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে। সুতরাং রোমানিয়ায় মাটিতেও ভারতীয় পুঁজিবাজার যে অত্যন্ত সুরক্ষিত তা হলফ করেই বলা যায়। ভারতীয়রা আমাদের দেশে বাণিজ্যিক লক্ষ্যে এগিয়ে আসুন। রোমানিয়া আপনাদের স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে।" (www.theoffnews.com - Romania)
সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ: এ যেন মরা গাঙে ভরা জোয়ার। আসলে অবাক হতে হয় একটি চমকে যাওয়া তথ্য দেখে। এটাই যেন একটা মিথ। আমাদের রাজ্য যেন শিল্পের মরুভূমি। তবুও সরকারি নথি বলছে, বাংলায় মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের সংখ্যাটা নাকি ৯০ লক্ষ। আরও অবাক হতে হয়, যখন এহেন ৯০ লক্ষ শিল্পের পরিসংখ্যান জানান দেয়, উত্তরপ্রদেশের পর মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের নিরিখে সারা দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের স্থান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এখানেই শেষ নয়। অবাক হওয়ার পালা আরও রয়েছে। কলকাতা চ্যাপ্টারের মিনিস্ট্রি অফ মাইক্রো, স্মল এন্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস (এমএসএমই) এর জয়েন্ট ডিরেক্টর প্রদীপ কুমার দাস ব্যক্ত করলেন এক বিস্ফোরক শিল্প-আদমসুমারি। তিনি বলেন, "রাজ্যের দেওয়া তথ্য অনুসারে এই ৯০ লক্ষ শিল্পের মধ্যে এমএসএমই'র নথিভুক্তের সংখ্যা মাত্র ১০ লক্ষ। অর্থাৎ বাকি ৮০ লক্ষ রাজ্যের শিল্পের কোনও তথ্য বা হদিশ কেন্দ্রীয় সরকারের এমএসএমই দফতরের কাছে নেই।" এই অদ্ভুতুরে ৮০ লক্ষ বাংলার শিল্পের শিল্পকর্তাদের প্রতি তাঁর আহ্বান, এগিয়ে আসুন আপনারা। সরলীকৃত নিয়ম মেনে আপনারা এমএসএমই'এর নথিভুক্ত হোন। এমএসএমই'এর তরফে কেন্দ্রীয় সরকারের বহু সহায়ক স্কিমের উপযোগী হন। আমরা আপনাদের সহায়তায় প্রস্তুত।" এই অবাক করার সুলুক সন্ধান পাওয়া গেল একটি মনোজ্ঞ আলোচনা চক্রে। মহানগরের হোটেল হিন্দুস্তান ইন্টারন্যাশানালে। গত ৪ এপ্রিল ২৪ তারিখের এই পরতে পরতে বিস্ময় খচিত আলোচনাচক্রের আয়োজক ছিল কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি বা সিআইআই। সেখানেই বক্তব্যের মাঝে প্রদীপ কুমার দাস আরও বলেন, "উদ্যোগপতিদের আবেদন করবো, এখনও যারা উদ্যোম রেজিস্ট্রেশন করাননি তাঁরা উদ্যোম রেজিস্ট্রেশন শীঘ্রই করিয়ে নিন। দেখবেন আশাতীত সরকারি সহায়তা ও প্রচুর পরিমাণে আর্থিক ছাড়ের সুযোগ পাবেন। এর ফলে আপনাদের উৎপাদিত পন্যে জন্য ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। ফলে প্রতিযোগিতার বাজারে আপনার বিক্রয়মূল্য সুবিধাজনক অবস্থান লাভ করবে অচিরেই। এছাড়া আমাদের কলকাতার দফতরে এক অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি গঠন করা হয়েছে। যেখানে পানীয় জল ও ফলজাত দ্রব্য ছাড়া সমস্ত রকমের পণ্যের মান অত্যন্ত সুচারু রূপে নির্ধারণ করা হয়। আর এখানকার শংসাপত্র দেশে ও বিদেশের যাবতীয় রপ্তানি ও আমদানি ব্যবসায় এক শক্তিশালী মান্যতার ভূমিকা পালন করে।" আয়োজক সংস্থার এমএসএমই কাউন্সিলের সর্বভারতীয় কো-চেয়ারম্যান এম পন্নুস্বামী আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, "এই রাজ্য এরকম অনেক শিল্পোদ্যোগীই আছে যাঁরা তাঁদের মাঝারি বা ক্ষুদ্র শিল্প গঠন করে বা করতে গিয়ে বহুবিধ জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। আমার অনুরোধ আপনারা যোগাযোগ করুন সিআইআইয়ের এমএসএমই সাবকমিটির পূর্বাঞ্চলীয় চেয়ারম্যান রবি টোডির সঙ্গে। আশা করবো আপনাদের সমস্যা দূরীকরণের সঠিক দিশা উনি দেখাবেন।" এই বক্তব্যের সঙ্গে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে রবি টোডি উল্লেখ করেন, "দেশের পূর্বাঞ্চলের মাঝারি ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বলবো, শিল্প গঠন বা পরিচালনা করতে গিয়ে আপনারা একাধিক লাল ফিতের ফাঁদে পড়েন হামেশাই। আমাদের কাছে আসুন। সিআইআই আপনাদের সমস্যা নিরসনে পাশে আছে ও থাকবে।" কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ সামাজিক প্রভাব ও অন্তর্নিহিত বিক্রেতা বিকাশ বিভাগের চিফ ম্যানেজার অনুরাগ অগস্তি সিআইআই আয়োজিত এই ফোরামে এসে এক উল্লেখযোগ্য অ্যাপসের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। জেম অ্যাপস (GeM)। এর ওয়েবসাইটটি হল https://gem.gov.in/ । জেম কথাটির অর্থ হলো গভর্নমেন্ট ই- মার্কেটপ্লেস (Government e-Marketplace)। তাঁর মন্তব্য, এই অ্যাপস বা ওয়েবসাইটটি হলো বিনিয়োগকারীদের কাছে এক মনিমানিক্যের ভান্ডারের মতো অফুরন্ত খাজানা। দেশের সরকার নিয়ন্ত্রিত এটা একটা উন্মুক্ত বাজার। যা ই-পরিষেবার সহজতম আধুনিক বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম। সরকারি যাবতীয় উৎপাদনের বিস্তারিত হাল হকিকত এখান থেকে জানা যেতে পারে। এখান থেকে বাণিজ্য বাস্তবায়িত করতে গেলে উৎপাদকের দফতরে দৌড়ানোর প্রয়োজনের দিন শেষ। নূন্যতম নথিতে ও একদম কম মূল্যে এর নবীকরণ সম্ভব। সবচেয়ে উৎসাহিত করার বিষয় হলো এই অ্যাপসের মাধ্যমে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ খুব সহজেই মিলবে ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলো থেকে যদি অর্ডার কপি আপনার সঙ্গে থাকে। এমনকি এর সাহায্যে প্রতিটি রাজ্যের সমস্ত জেলা স্তরে প্রত্যেকটা সরকারি নথিভুক্ত উৎপাদিত পণ্যের পুংখানুপুংখ জানতে পারা যাবে এই অ্যাপস থেকে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এমএসএমই'র ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড ট্রাস্টের সিইও সন্দীপ ভার্মা এবার শোনালেন এবার এক করুণ বিস্ময়কর তথ্য। "যেখানে বিশ্বব্যাঙ্ক ভারতের কাছে অনুরোধ করেছে দেশীয় শিল্প বাণিজ্য প্রসারের ক্ষেত্রে ৪৫ লক্ষ কোটি টাকা ঋণপ্রদান করতে, সেখানে একই ক্ষেত্রে আমাদের দেশে এযাবৎ ঋণদান করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ২৯ হাজার কোটি টাকা। সুতরাং বাণিজীকরণের খাতে ভারতের ঋণদানের পরিসংখ্যান প্রকৃতই প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট পিছিয়ে।" এমন নিরাশার উদ্বেগ শোনা গেল সন্দীপ ভার্মার কন্ঠে। তিনি অবশ্য বলেন, "এই নেতিবাচক পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা বহু স্থানে বহুবার ক্রেডিট ক্যাম্পের আয়োজন করে চলেছি ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের অধীনে। আমি মনে করি ঋণ গ্রহণের জন্য স্বচ্ছতা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। এছাড়া ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও স্বক্ষমতার মান উর্ত্তীণ হলে শিল্পোদ্যোগীদের ঋণ পেতে অসুবিধা হবার কথা নয়। (www.theoffnews.com - CII)
সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ: কলকাতার হায়াত রিজেন্সি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক মনোজ্ঞ বাণিজ্যিক সভা। বুধবারের এই সভার আয়োজন করে কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)। আয়োজক বণিকসভার সর্বভারতীয় সভাপতি সঞ্জীব পুরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সদস্য সদস্যাদের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ। সারা দেশের সঙ্গে বিদেশেও বিশেষতর শিল্পপতি হিসেবে সঞ্জীব পুরীর পরিচয় অবিসংবাদিত। একাধারে তিনি আইটিসি কোম্পানির চেয়ারম্যানও। আলোচনাচক্রে প্রধান বক্তা হিসেবে সঞ্জীব পুরী বলেন, "ভারত বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল আগুয়ান অধ্যায়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোর যৌথ সমন্বয়ে দেশের আভ্যন্তরীণ পুঁজি বিনিয়োগেও বিপ্লব ঘটেছে। আর সিআইআই এহেন অগ্রগতির অনুঘটকের কাজ করে চলেছে নিরন্তর পর্যায়ে। আজকে ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক বুনিয়াদের এক অন্যতম মাইলফলক হলো আমাদের বণিকসভা সিআইআই।" বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিআইআইয়ের সর্বভারতীয় সভাপতি আরও মন্তব্য করেন, "দেশের সার্বিক উন্নতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিআইআইও এগিয়ে চলেছে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে। এটা একটা ক্রমবর্ধমান নিরলস প্রক্রিয়া। আমরা শুধু পুঁজি নিবেশকে উৎসাহিত করি না। এমনকি বিনিয়োগকারীদের হিত কামনায় স্রেফ নিজেদের নিয়োজিত করি না। দেশের মেধাকেও উপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রয়োগ ঘটিয়ে দেশীয় বাণিজীকরণকেও উন্নততর করার চেষ্টায় মনোনিবেশ করেছি। শ্রমকেও যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে সিআইআই অঙ্গীকারবদ্ধ।" সঞ্জীব পুরীর বক্তব্যের শেষে শুরু হয় প্রশ্নত্তোর পর্ব। সিআইআইয়ের সদস্য সদস্যাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্য প্রসারের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করাটাই উন্নতির একমাত্র শর্ত হতে পারে না। দক্ষ পরিচালন ব্যবস্থার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, সুদূরপ্রসারী সদর্থক ব্যবসায়ীক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকের সুষ্ঠু মেলবন্ধনেই একটা বাণিজ্যে সাফল্য তরান্বিত হয়। সিআইআই বর্তমান বণিক দুনিয়ায় পুঁজিনিবেশের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের উর্ধ্বমুখী প্রসার ঘটাতেও বেশি মনোনিবেশ করেছে। কারণ সিআইআই বিশ্বাস করে, উন্নত সমাজে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের সার্বিক রসায়ণই হলো আধুনিক বাণিজ্যের এক উল্লেখযোগ্য জ্বালানি।" (www.theoffnews.com - CII Sanjiv Puri Hyatt Regency)
সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ: কথায় আছে বুধে পা। সেই বুধেই পা রাখতে হলো মহানগরের দি পার্ক হোটেলে। সেখানে যে আন্তঃদেশীয় বানিজ্যিক পদ্ধতি সরলীকরণ সম্পর্কিত সভার আয়োজন করেছিল ফিকি। সহযোগী উদ্যোগী ছিল দি ওরিয়েন্টাল চেম্বার অফ কমার্স। আলোচনার শিরোনাম ছিল "ওয়ার্কশপ অন এটিএ কার্নেট এন্ড ইউএন টিআইআর সিস্টেম"। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে আসে এটিএ কার্নেট আবার কি? অন্যদিকে ইউএন টিআইআর সিস্টেম বলতেই বা কি বোঝায়? তবে অচিরেই সবকিছুই জলবৎ তরলং হয়ে গেল আলোচনাচক্রে অংশগ্রহণকারী বক্তাদের নাতিদীর্ঘ মতামতে। ফিকির ডিরেক্টর এস বিজয়লক্ষ্মী স্লাইড শো সহযোগে জানান, এটিএ কার্নেট হলো ফ্রেঞ্চ ও ইংরেজি শব্দের মিশ্রিত কথন 'অ্যাডমিশন টেম্পোরেয়ার/টেম্পোরারি অ্যাডমিশন'। ভারতের আভ্যন্তরিন এই এটিএ কার্নেটের ব্যবস্থার যাবতীয় তদারকি কাজ করে থাকে একমাত্র ফিকি। এটাকে মার্চেন্ডাইস পাসপোর্টও বলা হয়। এর ওয়েবসাইট হলো, www.atacarnet.in আর ইমেইল আইডি হলো, atacarnet@ficci.com । এটি এমন একটি আন্তর্জাতিক শুল্ক নথি যার সাহায্যে অস্থায়ী ভাবে বহির্বিশ্বের সঙ্গে রফতানি করা সম্ভব কোনও রকমের কর প্রদান ছাড়াই। যাঁরা বিদেশে বাণিজ্যিক প্রদর্শনী আয়োজন করেন এবং টেলিভিশন হাউস ও সিনেমা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এর সরাসরি উপকার গ্রহণ করতে পারেন। এমনকি ম্যানুফেকচারেরাও এর ফায়দা তুলতে পারবেন ট্রান্সপোর্টের ক্ষেত্রে। জুয়েলারি ও চর্মজাত পন্যও এর পরিষেবার আওতায় অন্তর্ভুক্ত। এটিএ কার্নেটের সহযোগে মূল পুঁজির লগ্নি হ্রাস পাবে। এছাড়া পেপার ওয়ার্কেও অনেক সরলীকরণ ঘটবে স্বল্প সময়ের মধ্যে। এই পরিষেবার মেয়াদ হলো এক বছরের। সারা পৃথিবীর ৭৫টি দেশের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত এটিএ কার্নেট পরিষেবা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। আপাতত এই পরিষেবার শুল্ক বন্দর ভারতের মধ্যে স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, কলকাতা, কোচিন, আহমেদাবাদ, হায়দ্রাবাদ, ব্যাঙালুরু, নয়ডা, জয়পুর ও গোয়ায়। তিনি আরও জানান, এই এটিএ কার্নেটের মাধ্যমে খুব সহজেই বিভিন্ন পেশাদারী যন্ত্রাংশও আমাদের দেশে আমদানি করা সম্ভব ফিকির সহযোগিতায়। ওরিয়েন্টাল চেম্বার অফ কমার্সের কলকাতা চ্যাপ্টারের পূর্বতন সভাপতি সোইব আহমেদ ফইসাল তাঁর বক্তব্যের মধ্যে ইউএন টিআইআর কার্নেট প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। কথাপ্রসঙ্গে তিনি ব্যক্ত করেছেন, টিআইআর কার্নেটের পূর্ণাঙ্গ ইংরেজি হলো 'ট্রান্সপোর্টস ইন্টার্ন্যাশানাক্স রয়টার্স' বা সহজ অর্থে ইন্টার্ন্যাশানাল রোড ট্রান্সপোর্ট। এটি একটি বিশেষ পরিষেবা যার মাধ্যমে রাষ্ট্রপুঞ্জের বৈশ্বিক মাল্টিমডাল সীমান্ত পারাপার জনিত শুল্ক সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। এই সিস্টেমের মধ্যে শুল্ক কর সরলীকরণ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আন্তঃদেশীয় সীমান্তের জটিল বিধিগুলোও লঘু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের শুল্ক ও কর মন্ত্রকের তরফে ফিকি এই পরিষেবার গ্যারেন্টারের ভূমিকা পালন করে চলেছে। তিনি এও জানান, এই পরিষেবার ওয়েবসাইট হলো www.atacarnet.in/tir/tir.html এবং ইমেইল আইডি হলো tircarnet@ficci.com । এর মাধ্যমে আমদানী ও রপ্তানীর ক্ষেত্রে পন্য সরবরাহের ব্যাপক পরিমাণের ঝক্কি লাঘব করা সম্ভব হয়েছে। শুল্ক বিভাগের গুরুগম্ভীর বিধিতেও আমূল সহজীকরণ ঘটেছে। কার্গোর প্রসঙ্গেও আন্তর্জাতিক স্তরে উত্তরাংশ ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক উল্লেখযোগ্য করিডোর স্থাপন হয়েছে বলে সোইব আহমেদ ফইসাল মন্তব্য করেন। (www.theoffnews.com - FICCI ATA Cornet UN TIR Cornet)

সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

এখন সারা দেশ যেখানে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে বর্তমানের পাখির চোখ হিসেবে পরিগণিত করেছে, ঠিক সেখানেই উল্টো স্রোতে সাঁতার কেটে ভবিষ্যৎকে ভবিষ্যতের আর্থিক বুনিয়াদী দূরদৃষ্টির মান্যতা দিল কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)'র পূর্বাঞ্চলীয় শাখা।

হ্যাঁ এমনটাই ঘটলো কলকাতার আইটিসি সোনার হোটেলে শনিবার সকাল থেকে সারাটা দুপুর। এক জমকালো আলোচনাচক্রের শীর্ষকের সাক্ষ্য থাকলো "ভবিষ্যতের প্রামান্যতায় ভবিষ্যতের প্রস্তুতি"। আয়োজনের শীলমোহরে জ্বলজ্বল করছিল ধারে ভারে ভারত শ্রেষ্ঠ একটিমাত্রই বণিকসভার নাম- সিআইআই।

"ভবিষ্যতের প্রামান্যতায় ভবিষ্যতের প্রস্তুতি"কে শুধুমাত্র নিয়মরক্ষার একটি আলোচনার পটভূমি হিসেবে বিশ্লেষণ করলে সিআইআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় শাখার এহেন সুদূরপ্রসারী উদ্যোগকে অবশ্যই খাটো করা হবে। আসলে এই চিন্তনযজ্ঞ হয়ে উঠেছিল স্বনির্ভর উন্নত ভারতের এক আর্থিক বিশ্বমার্গের চুড়ান্ত সাধন বেদী।

সিআইআই পূর্বাঞ্চলীয় শাখা যে বিকেন্দ্রীকরণের বরাবরই মসিহা তা অনুষ্ঠানের শুরুতেই বুঝিয়ে দিল। প্রারম্ভিক পর্যায়ের বিজনেস সেশনে প্রকাশিত হলো নিজস্ব ঘরাণার বার্ষিক রিপোর্ট। চলতি আর্থিক বছরের জন্য আভ্যন্তরিন নির্বাচন থেকে উঠে আসা নির্বাচিতদের নামও ঘোষণা হলো ডায়াস থেকে যথারীতি।

এরইমধ্যে আয়োজকের পক্ষে পূর্বাঞ্চলীয় সভাপতি শিব সিদ্ধান্ত নারায়ণ কল বলেন, "ভবিষ্যতে ভারতের আর্থিক ভিত্তি আরও মজবুত করার উদ্দেশ্যে সীমান্তবর্তী দেশের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্যকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতেই হবে। একইসঙ্গে পরিবেশ রক্ষাকে মান্যতা দিয়ে শিল্পজাত কার্বণের নির্গমন মাত্রাকে পরিপূর্ণ নিম্নগামী করতে হবে উৎপাদনের নিরিখে। উৎপন্ন দ্রব্যের মান বজায় রাখতে হবে সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে।"

অন্যদিকে সিআইআইয়ের সভাপতি আর দীনেশ জানান, ভারত আজ ক্রমেই উন্নতশীল দেশের তকমা বর্জন করে এক উন্নত দেশের প্রবেশ দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। একইসঙ্গে বিশ্বের অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধির সূচকের ভিক্ট্রি পয়েন্টে পঞ্চম স্থান থেকে উঠে এসে জাপানকে সরিয়ে ভারতের চতুর্থ স্থান দখল করা শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তিনি বলেন, "আমাদের দেশ অদূর ভবিষ্যতের পৃথিবীকে আর্থিক দিক থেকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। এমন মাহেন্দ্র মুহূর্তে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের ময়দানে সিআইআই সার্বিক ডিজিটালাইজেশনকে বাজির কালো ঘোড়া হিসেবে বিবেচনা করতে আরম্ভ করেছে।"

মূল উদ্যোগের একাধিক সেশনের আলোচনাচক্রের একটিতে মধ্যমনি হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি নারায়ণ স্বরূপ নিগম। ভবিষ্যৎ উপলক্ষে তাঁর ইঙ্গিতবাহী বক্তব্য, "আজ আমাদের স্বপ্ন দেখার দিন। আমরা অগ্রগতির স্বপ্নে বিভোর থাকবো নাকি অগ্রগতির পশ্চাদপদের স্বপ্নে নেতিবাচক হবো, তা আমাদেরই উপর নির্ভর করছে ও করবেও। কিন্তু একটা কথা ধ্রুবতারার মতো সত্য। যে সত্যটা হলো কারিগরি, নির্মল পরিবেশ, তথ্যব্যাঙ্ক, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, সামাজিক শ্রীবৃদ্ধি, দক্ষতা, মেধা, ভরসা, ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ জেট গতিতে এগিয়ে চলেছে সারা বিশ্ব জুড়ে। আগামীর অভিমুখে। ভারতও একই পথের শরিক। এখনই আমাদের তাই অবশ্যই ভাবতে হবে কোন ধরণের স্বপ্ন আমরা দেখবো?

সিআইআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় শাখা আয়োজিত "ভবিষ্যতের প্রামান্যতায় ভবিষ্যতের প্রস্তুতি" শীর্ষক অনুষ্ঠানে নারায়ণ স্বরূপ নিগমের এই উষ্কে দেওয়া 'কোন স্বপ্ন আমরা দেখবো' প্রশ্নটি উপস্থিত শ্রোতামন্ডলীর শ্রবনেন্দ্রীয়ে প্রবেশতো করলো, এটা ঠিকই। কারণ প্রেক্ষাগৃহে তখন পিন পতনের একাগ্র নিস্তব্ধতা। কিন্তু বোধগম্য হলো কি শ্রোতাদের? আগামীর ভারত নিশ্চিতভাবেই তা জানান দেবে। অপেক্ষা শুধু নিজস্বতার! অপেক্ষা স্রেফ আগত সময়ের!

(www.theoffnews.com - CII)

সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

খনার বচন বলে কথা 'মঙ্গলে ঊষা বুধে পা, যথা ইচ্ছা তথা যা'। সেই শুভ বুধবারেই সকাল গড়িয়ে দুপুর পর্যন্ত কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)'র পশ্চিমবঙ্গ শাখা স্বইচ্ছায় পা রাখলো কলকাতার আভিজাত্য পূর্ণ হোটেল 'দি পার্ক'এ। উদ্দেশ্য যে এক  মনোজ্ঞ আলোচনাচক্র। তবে আলোচনার অভিমুখ ভিন্ন শীর্ষকে গাঁথা। কখনও আলোচনা চলছে সদ্য ঘটে যাওয়া সংস্থার রাজ্য কাউন্সিলের নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে। প্রাতিষ্ঠানিক নানা শিল্পের নিরিখে কৃতিমান একাধিক বাণিজ্য সংস্থাকে দীর্ঘ সময় ধরে পুরস্কার প্রদান পর্বও চললো আয়োজকের তরফে। উপরি পাওনা হিসেবে তিন পর্যায়ে বাণিজ্য বসতে লক্ষ্মী ইস্যুতে মনোমুগ্ধকর প্যানেল ডিসকাসন বেশ নজর কাড়ে। কখনও আবার রাজ্যে শিল্পের সম্ভাবনা ও পুঁজি নিবেশের পরিবেশ নিয়েও আলোচনা করেন উপস্থিত একাধিক বক্তারা। যদিও একাধিক নির্ধারিত বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আলোচনাচক্রটি ছিল "রাজ্যের উন্নয়ন ভিত্তিক সুনাম, সম্ভবনা, উদ্ভাবন, পরিকাঠামো, পুঁজিনিবেশ ও ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্যের অগ্রগতি ও তার মানচিত্র রূপায়ন।"

এমনই এক আয়োজন বহুল প্ল্যাটফর্মে আয়োজক সংস্থার উল্লেখযোগ্য কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও তত্ত্ব পূর্ণ বক্তব্য রাখেন সুচরিতা বসু, শিব সিদ্ধান্ত নারায়ণ কল, সন্দীপ কুমার প্রমূখ। তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে বলেন, "সমগ্র ভারতের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গও আজ আর্থিক ভাবে এগিয়ে চলেছে জেট গতিতে। সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের শোকেস হল এই রাজ্য। জাতীয় অর্থনীতির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা এখন যথেষ্টই সদর্থক। পরিকাঠামোগত নির্মাণেও এই রাজ্য বর্তমানে একটা পৃথক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এমনই এক মনোজ্ঞ আলোচনায় অংশ নেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য সহ শিশু এবং নারী উন্নয়ন মন্ত্রী শশী পাঁজা। পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতির প্রশ্নে পরোক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "এবারের বাজেটে কেন্দ্রীয় সরকার সারা দেশের নিরিখে সামাজিক উন্নয়নের খাতে ২৬,০০০ কোটি টাকা ধার্য করেছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের নতুন বাজেটে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক উন্নয়নের বিষয়ে ব্যয় করা হবে ২৬,০০০ কোটি টাকা। সুতরাং এটা সবাইকে মেনে নেওয়ার সময় এসে গেছে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তদারকিতে আমাদের রাজ্যে সামাজিক উন্নয়নের পটভূমিতে একটা নতুনতর সদর্থক বিপ্লব শুরু হয়েছে।" শশী পাঁজা আরও যোগ করেন, "এই রাজ্যে এখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক, শিশু ও নারী, শিল্প বাণিজ্য এবং সামাজিক উন্নয়নে যথেষ্ট জোর দেওয়া হয়েছে।" তাঁর বক্তব্য, আর্থিক বিকাশের ক্ষেত্রে সমগ্র দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ এখন চতুর্থতম আগুয়ান মাইলস্টোন হয়ে উঠেছে। পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে নতুন করে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে জঙ্গলনগরীর। সঙ্গে সেই অঞ্চলে একটি ইস্পাত কারখানা তৈরি করার রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে। সবুজ সাথী প্রকল্পে উদ্দেশ্যে দিদির গ্যারান্টি হিসেবে পশ্চিম মেদিনীপুরে শীঘ্রই নির্মাণ হতে চলেছে সাইকেল প্রস্তুতকারক ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ উৎপাদন ভিত্তিক কারখানা। এছাড়াও তিনি সংযোজন করেন, "লজিস্টিক ক্ষেত্রে রাজ্য এক বিরাট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই খাতে বিশ্বব্যাঙ্ক থেকে আমরা দেড়শো মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিতে চলেছি। একইসঙ্গে রাজ্যে সবুজ বাণিজ্য করিডরের সহায়ক হিসেবে সড়ক, আকাশ ও রেল যোগাযোগ আরও উন্নতমানের করার কর্মযজ্ঞ ইতিমধ্যেই চলছে। এমনকি নিরবিচ্ছিন্ন জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করার বিষয়ে আমরা বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত করেছি।"

সিআইআইয়ের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের শিল্প উন্নয়ণ নিগমের চেয়ারপার্সন কাম ম্যানেজিং ডিরেক্টর রশনী সেন বলেন, "রাজ্যে বিনিয়োগ তরান্বিত করতে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন তেমনি দরকার পুঁজিপতিদের জন্য উপযুক্ত সামাজিক পরিবেশ। যেখানে ভয়হীন ও স্বজনপোষণহীন আবহ থাকবে। স্বল্প সময়সীমার মধ্যে নূন্যতম নথির মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের ছাড়পত্র মঞ্জুর করতে হবে। লজিস্টিক ও এক্সপোর্টের ক্ষেত্রে অযথা কাঠিন্যের শিথিলতা আবশ্যক।" তিনি জানান যে পশ্চিমবঙ্গে এখন বিনিয়োগ বান্ধব ও শিল্প বান্ধব অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি ঘটেছে। বর্তমানে সারা রাজ্যে দুশোটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে উঠেছে। একুশটা স্পেশাল ইকোনমিক জোন তৈরি হয়েছে।

(www.theoffnews.com - seminar)