Articles by "দক্ষিণা বাতাস"
Showing posts with label দক্ষিণা বাতাস. Show all posts

দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম: 

প্রতি বছরের মতো এবারও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন থেকে শেষ বিদায় স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানটি পালিত হল শান্তিনিকেতনে। পায়ে পায়ে শান্তিনিকেতন থেকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ বিদায়ের ৮৪ বছর হলো অতিক্রান্ত। শান্তিনিকেতনের লিপিকা প্রেক্ষাগৃহে সেই আবেগ ঘন মুহূর্তের স্মরণে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করলো হুগলির কুশাঙ্কুর নামে এক সংস্থা। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবিগুরুর একান্ত সচিব সুধাকান্ত রায়ের পুত্র, প্রবীণ আশ্রমিক ও রবীন্দ্র স্নেহধন্য দ্বীপেশ রায় চৌধুরী। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ যাত্রার এক প্রত্যক্ষদর্শী। অনুষ্ঠানে তিনি শান্তিনিকেতন থেকে কবিগুরুর শেষ বিদায়ের মুহূর্তগুলি তুলে ধরেন এবং নিজের স্মৃতিচারণায় উপস্থিত দর্শকদের আবেগপ্রবণ করে তোলেন।

রবীন্দ্র গবেষক অধ্যাপক অমৃত্রসূদন ভট্টাচার্য কবিগুরুর অন্তিম সময় ও তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের জীবন ও কর্মের গভীর দিকগুলি তুলে ধরেন যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

অনুষ্ঠানের আয়োজনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন কুশাঙ্কুরের প্রতিষ্ঠাতা মৃণালকান্তি দাস। সারাদিনব্যাপী অনুষ্ঠানে কবিতা, সংগীত, নাটক ও নৃত্যের মাধ্যমে কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

প্রতি বছর আয়োজিত হয় এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। উদ্দেশ্য একটাই শান্তিনিকেতনের সঙ্গে কবিগুরুর শেষ বিদায়ের ইতিহাস ভিত্তিক স্মরণকে স্মৃতিতে ধরে রাখা।

(www.theoffnews.com Shantiniketan Rabindranath Tagore)





 



বেবি চক্রবর্তী, সাংবাদিক ও লেখিকা, কলকাতা: 

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমায় টানা বৃষ্টির জেরে তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বহু মানুষ গৃহহীন হয়েছেন, চাষবাসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই সঙ্কটময় মুহূর্তে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ। সংস্থার পক্ষ থেকে ঘাঁটালের বিভিন্ন বন্যা কবলিত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। চিড়ে, গুড়, বিস্কুট, মুড়ি সহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দুর্গত মানুষদের হাতে। শুধু খাবার নয়, অসুস্থ ও আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প। সেখান থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রধান সম্পাদক স্বামী বিশ্বাত্মানন্দ মহারাজ জানিয়েছেন, “এই দুর্যোগে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। আমাদের সন্ন্যাসী ও স্বেচ্ছাসেবকরা নৌকায় করে বন্যা প্লাবিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল থানার অন্তর্গত দৌলৎচক, ফতেপুর, রামচক, গঙ্গাপ্রসাদ, নিচ মনসুকার ৩০০ পরিবারকে শুকনো খাবার ও মেডিকেল ক্যাম্পের এর মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।

(www.theoffnews.com Ghatal Bharat Seva Shram)


দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

আজ বুধবার শান্তিনিকেতনে হেরিটেজ ওয়াকিং শুরু হল। কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক গনেরা আজকে টুরিস্টের ভূমিকা পালন করেন। গাইড এর ভূমিকা পালন করেন প্রশিক্ষিত ভলেন্টিয়ার্সরা। 

বিশ্বভারতীর কর্ম সচিব অমিত হাজরা সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, বুধবার হেরিটেজ ওয়াকিং এর ট্রায়াল শুরু হলো। চারজন ছেলে এবং চারজন মেয়েকে গাইডের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একজন ছেলে ও একজন মেয়ে মোট চারটি টিমে বিভাজিত হয়ে গাইডের কাজ করবেন। জানা গেছে হেরিটেজ ওয়াকিং এর জন্য ৩০০ টাকা টিকিট হবে। রবীন্দ্র ভবনের জন্য আড়াইশো টাকা টিকিট কাটতে হবে। সমস্ত টিকিট রবীন্দ্র ভবন থেকে কাটা যাবে। কলা ভবন, রবীন্দ্র ভবন এবং হেরিটেজ ওয়াকিং এই তিনটি ক্যাটেগরিতে টিকিট বুকিং করা যাবে। পড়ুয়াদের জন্য ব্যাচে ৫০ টাকা এবং ব্যক্তিগতভাবে ঘুরলে দেড়শ টাকা টিকিট কাটতে হবে। একটি ব্যাচে মোট ২৫ জন পর্যটক থাকতে পারবে। এছাড়াও সমস্ত কিছু ঘুরতে চাইলে কন্সেশন রেটে একটি কম্ব টিকিট এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক পর্যটক শনি রবিবার দুদিনই ঘুরতে চান। সেক্ষেত্রে তারা লাভবান হবেন। বিদেশি পর্যটকদের জন্য হাজার টাকা টিকিট ধার্য হয়েছে। বুধবার হেরিটেজ ওয়াকিং এর ট্রায়ালের শেষে প্রশিক্ষকরা প্রশিক্ষিত গাইডদের কোন ভুল থাকলে সংশোধন করে দেবেন। মোট তিনটি ভাষায় এই গাইড কথা বলবেন। সেগুলি হলো বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি। মার্চ মাস থেকে এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়। জুলাইয়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে এই হেরিটেজ ওয়াকিং এর কাজ বিলম্বিত হয় বলে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ সূত্রে বলা হয়েছে। নভেম্বর থেকে অনলাইন টিকিট বুকিং করা যাবে। কেউ গাড়ি ছাড়াও ঘুরতে পারে তার জন্য টিকিটের মূল্য আলাদা ধার্য আছে। এছাড়াও দেড় ঘন্টা ভ্রমণের পর এক্সিট পয়েন্টে বিশ্বভারতী পড়ুয়ারা তাদের নিজস্ব সৃষ্টিসম্ভার নিয়ে দু তিনটে স্টল নিয়ে হাজির থাকবে। ভবিষ্যতের জন্য এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্বভারতী তার নেতিবাচক প্রভাব থেকে বেরিয়ে হেরিটেজ সাইটকে সকলের জন্য উন্মোচিত করে এক ইতিবাচক সময়ের সূচনা করতে চলেছে। হেরিটেজ ওয়াকিং এর পর স্মৃতি হিসেবে সকলের হাতে স্মরণিকা তুলে দেওয়া হবে, বলে বিশ্বভারতী সুত্রে খবর। বুধবার এই স্মরণিকা এবং টিকিটের উদ্বোধন করা হয়। এই ঘটনায় শান্তিনিকেতনবাসী ও প্রবীণ আশ্রমিকরা খুবই খুশি। বিশ্বভারতীর এই সদর্থক পদক্ষেপ কে সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত প্রবীন আশ্রমিকরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। 

 আসুন এক ঝলকে জেনে নেওয়া যাক, সেই স্মরণিকায় কী কী আছে...

হাটিমাঙ্গলা

মহার্শি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ধ্যানের বেদি। আনুমানিক ১৮৬৮ সালের মার্চ মাসে শান্তিনিকেতন আশ্রমের প্রাঙ্গণে নির্মিত হয়। কিছুকাল পরেই সেখানে একটি পাকা মন্দির নির্মিত হয়।শান্তিনিকেতনের-গৃহ

শান্তিনিকেতনের প্রাচীনতম বাড়ি। ১৮৬৩ সালে এই বাড়িটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমে এটি মহর্ষির গ্রীষ্মকালীন বাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৮৭ সালে এই বাড়িতেই ‘যোগাযোগ’ উপন্যাস রচনা করেন। পরে এটি অতিথি-গৃহ হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। ১৯১৯ সালে গেস্ট হাউস রূপে ব্যবহৃত হওয়ার পর এখানে থাকার জন্য আসতেন দেশের ও বিদেশের বহু খ্যাতনামা ব্যক্তি। এই ঘরে এক সময় শান্তিনিকেতনের পুরনো জাদুঘরও ছিল। এখানকার বেশির ভাগ আসবাবপত্র কলকাতার সবরকার এসেছে।

দিনলিপিকা

শান্তিনিকেতন চাতুর্মাস্য মধ্যভাগে দিগন্তবিস্তৃত চত্বরে ‘উপাসনা’ নামে ১৯০১ সালে একটি প্রার্থনাগৃহ নির্মিত হয়। এই প্রার্থনাগৃহে মেঝেতে বসে উপাসনা হয়। কোন মূর্তি বা প্রতীক নেই। এখানে রবিবারে ব্রহ্মসঙ্গীত গাওয়া হয় এবং পবিত্র গ্রন্থ পাঠ করা হয়।

চীন ভবন

১৯৩৭ সালের চীন ভবনের প্রতিষ্ঠা হয়। চীন এবং ভারতীয় সংস্কৃতি-সভ্যতা চর্চা ও প্রসারের উদ্দেশ্যে এই ভবন নির্মাণ করা হয়। চীন ভবনে রয়েছে একটি সংগ্রহশালা, লাইব্রেরি, দালান ও হলঘর, যেখানে চিনা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা করা হয়। ভবনটি stucco শিল্পরীতিতে নির্মিত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বাক্ষর

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ হেরিটেজ সেবা কেন্দ্র প্রকাশিত।

স্বত্বাধিকারঃ হেরিটেজ সেবা কেন্দ্র।

উপাসনা-গৃহ

বিশ্বভারতীর এই উপাসনা-গৃহের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৭ ডিসেম্বর ১৮৯৮ সালে। এই স্থানে ব্রাহ্মসমাজের আদর্শে শান্তিনিকেতনের সকল আবাসিক ও অতিথিদের নিয়ে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হত। ১৯০১ সালে ২৩ ডিসেম্বর বিদ্যালয় স্থাপনের পর ‘উপাসনা’ শান্তিনিকেতনের একটি গুরত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে।

বিশ্বভারতীর উপাসনা গৃহটি চারদিকে খোলা, কোন দেয়াল নেই। এর মেঝেতে বসেই উপাসনা হয়। এখানে কোন প্রতিমা নেই, উপাসনা সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। রবিবার সকালে ও বিশেষ উৎসবে এখানে উপাসনার আয়োজন করা হয়।

নতুন বাড়ি

রবীন্দ্রনাথ সংসারের নবনির্মাণের জন্য ১৯০২ সালে এই বাড়ি নির্মাণ করেন। নির্মাণকালে তার মাতামহীর স্মৃতিমগ্নতা এবং স্বজন হারা রবীন্দ্রনাথের নিঃসঙ্গতা, বিশেষভাবে কাজ করেছিল।

এই বাড়িতেই রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। বিভিন্ন সভা, বৈঠক ও আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনার নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘নতুন বাড়ি’ ব্যবহৃত হয়েছে

তালদেহ

একটি তালগাছকে ঘিরে এই ঘর তৈরি, hence তালদেহ। এটি বর্তমানে শান্তিনিকেতন বিদ্যাভবনের অধ্যাপক শিক্ষকদের বাসগৃহ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি একতলা একটি ভবন, যার অভ্যন্তরে একসময় অধ্যাপক সেলিম মুরাদ বাস করতেন।

দেবেন্দ্রভবন

১৯০৪ সালে ‘দেবেন্দ্রভবন’ নির্মাণের কাজ শুরু। ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ এই বাড়িটিতে বসবাস করেন। বাড়ির নির্মাণের সময় কবির মতামত মেনে কাজ হয়েছে।

এই বাড়িতে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এসেছেন এবং বসবাস করেছেন।

এই বাড়িতেই প্রথম শান্তিনিকেতন পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল।

সত্যমঙ্গল

রবীন্দ্রনাথের জীবনের অন্যতম পর্যায়ে এই বাড়িটি নির্মিত হয়। সত্যমঙ্গল বাড়িটি তার স্ত্রীর স্মৃতিবিজড়িত। তার স্ত্রী মৃণালিনী দেবী ১৯০২ সালের ২৩ নভেম্বর এই বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯০৪ সালে এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সাধনা’, ‘শিক্ষা’, ‘আত্মশক্তি’ প্রভৃতি প্রবন্ধ রচনা করেন। বর্তমানে এটি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ঘণ্টাতলা

১৯০৫ সালে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের শাশুড়ি বেলি দেবীর উদ্যোগে এই বাড়িটি নির্মিত হয়।

ঘণ্টাতলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো - মূল প্রবেশপথের সামনে একটি ঘণ্টা ঝোলানো থাকে। বাড়িটি শিক্ষকদের আবাসিক ভবন হিসেবে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানসূচী ও স্মারক নির্দিষ্টকরণে ব্যবহৃত হয়।

পূর্ব-ভবন ও পশ্চিম-ভবন

বিদ্যালয়-এলাকার প্রথম ভবনগুলোর মধ্যে দুটি ভবন পূর্ব-ভবন ও পশ্চিম-ভবন হিসেবে পরিচিত। বাড়ি দুটি সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের শাশুড়ি বেলি দেবীর অনুদানে নির্মিত। বিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসন ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সিংহসদন

রায়বাহাদুর জীবনচন্দ্র সান্যালের অনুদানে এই ভবন নির্মিত হয়। ১৯৪২ সালে এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ১৯৪৫ সালে নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়।

এই ভবনটি নির্মিত হয় শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস হিসেবে। ভবনটি আজও বিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তিন তলা বিশিষ্ট ভবনটির সম্মুখে সিংহের মূর্তি থাকায় এর নামকরণ হয়েছে সিংহসদন।

পাঠভবন

শান্তিনিকেতনের প্রাচীনতম বাড়িগুলোর অন্যতম পাঠভবন বিদ্যালয় ভবন।

প্রথমে এটি শিক্ষকদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ১৯১৯ সালে পাঠভবন নামকরণ হয়।

শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম শিক্ষার্থী অন্নপূর্ণা তুরু ১৯০১ সালে ভর্তি হন। বিদ্যালয়ের স্থাপনার সময় পাঠভবন ছিল কেন্দ্রস্থলে।

১৯০৪ সালে কবিগুরু লিখেছেন –

“শিক্ষার প্রথম ক্রমে যেটি সবচেয়ে বড়ো সম্পদ তা হলো গৃহ। গৃহশিক্ষা আমাদের দেশের প্রাচীন আদর্শ। এই সময় পাঠভবন সেই আদর্শকে বাস্তব রূপ দিয়েছিল।”

(www.theoffnews.com Shantiniketan)


দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

শুধুই কি পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করতে বা স্কুলছুট রুখতে স্কুলে পড়ুয়াদের জন্মদিন পালনের উদ্যোগ  ব্রাহ্মণখণ্ড বাসাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে? এটাই শুধু ভাবলে বোধহয় ভুল হবে। আমরা যারা স্কুলে যাই বা গেছি। শুধুমাত্র পড়া মুখস্ত দেওয়া আর পড়া গলাধঃকরণের জন্য নয়। স্কুলে যাওয়া মানুষ হওয়ার জন্য। যে মানবিক মূল্যবোধ গুলো আজ তলানিতে, সেগুলির প্রসূতিগার এই স্কুল বা বিদ্যালয়। আজকের দিনে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ঘটা করে জন্মদিন পালন হয়। কিন্তু কে খোঁজ রাখে দু:স্থ পরিবারের ছেলে মেয়ের কথা? যারা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কেউ কথা রাখেনি কবিতা পড়েছেন, নিশ্চয়ই জানেন, লস্কর বাড়ির ছেলেমেয়েদের লাঠি লজেন্স চুষে চুষে খাওয়া দেখার বর্ণনা। তাই স্কুলে এই অভিনব উদ্যোগ। যাদের জন্মদিন বাড়িতে পালন করার সামর্থ্য নেই। স্কুল তাদের জন্মদিন পালন করবে। এর থেকে বড় পাওনা আর কি হতে পারে?

প্রতিমাসে যতজন পড়ুয়ার জন্মদিন আছে সকলের জন্মদিন মাসের একটি নির্দিষ্ট দিনে পালন করা হবে তিথি ভোজনের মাধ্যমে। তিথি ভোজন কী? বাংলা ক্যালেন্ডারের কোন একটা তিথিতে একসঙ্গে অনেক পড়ুয়ার জন্মদিন পালন। মিড ডে মিল স্কিমের সঙ্গেই ওই একটা দিন একটু ভাল খাবার খাবে পড়ুয়ারা। জুলাই মাসের এক তিথি ভোজনে মিড ডে মিলের ভাত, ডাল, তরকারির সঙ্গে এদিন জুড়ে গেল জন্মদিনের পায়েস, পাশাপাশি থাকল মাংস কষা, মিষ্টি, চাটনি।

ছেলেমেয়ে মিলিয়ে এই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ১২০০ জন। তবে নিত্যদিন অনুপস্থিতির সংখ্যাও আছে। এরই মাঝে কিভাবে পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করা যায় সেই উদ্যোগ নিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত প্রায় ২২ জন পড়ুয়ার জন্মদিন এই জুলাই মাসে। প্রত্যেককে পাশাপাশি বসিয়ে উপহার দেওয়া হল, পায়েস-মিষ্টি খাইয়ে জন্মদিন পালন হল স্কুলেই। ঠিক বাড়ির মতই। সহকারী শিক্ষিকা দীপান্বিতা গাঙ্গুলী জানালেন, মূলত স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মস্তিষ্কপ্রসূত এই উদ্যোগ। সঙ্গে আছেন তাঁরা সকলেই। শিক্ষিকা হওয়ার আগে তাঁরা তো মা। ছেলেমেয়েদের জন্মদিন স্কুলে পালন হলে এর থেকে আনন্দের আর কী হতে পারে।

ব্রাহ্মণখণ্ড বাসাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রামকৃষ্ণ রজক জানান, স্কুল থেকে যাতে পড়ুয়ারা মুখ ফিরিয়ে না নেয় এবং নতুন উৎসাহে যাতে স্কুলে আসে, পড়াশোনায় আগ্রহী হয় এটাও একটা ভাবনা। তবে সর্বোপরি সকলের সঙ্গে একাত্মীভূত হওয়া এই মানবিক ভাবনা তাঁর মাথায় আসে। শিক্ষকই তো মানুষ গড়ার কারিগর। স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি কামরুল হোদা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে আর্থিকভাবে সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

আর যাদের জন্য এই ভাবনা তারা কী বলছে? সব দেখে শুনে আজ ওদের মুখে চওড়া হাসি। কারও কোনওদিনই জন্মদিন পালন হয়নি, কারও হয়তো কখনও সখনও হয়েছে। তবে বন্ধুদের মাঝে স্কুলে বসে এমন হইহই করে আনন্দ তারা কখনই উপভোগ করেনি। তাইতো অনাবিল নির্মল আনন্দ আজ তাদের চোখে-মুখে উপচে পড়ছে। আবেগে উচ্ছ্বাসে চোখদুটি তাদের জ্বল  জ্বল করছে।  একমাত্র এই আনন্দের ভাগ হয়।

(www.theoffnews.com Birbhum school birthday students)



 

দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম: 

শুক্রবার বোলপুর রেলওয়ে ময়দানে বোলপুর বিধানসভার অন্তর্গত এলাকা থেকে সর্বমোট ২৫ টি রথ কমিটিকে সম্মান প্রদান করা হলো শ্রীনিকেতন শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের (এসএসডিএ) পক্ষ থেকে। রথ কমিটির হাতে একটি স্মারক, একটি মানপত্র ও ১০,০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়। 

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, রথের দিনই দুর্গা প্রতিমার কাঠামোয় মাটি পড়ে। তাই একটা গুরুত্ব আছে। তিনি বলেন, ছাত্র জীবন থেকেই বিভিন্ন পূজা পার্বণে বিশেষ করে রথযাত্রায় সঙ দেখেছেন। মূলত এই সঙের আকর্ষণে তারা রথের পেছনে ছুটতেন। কিছুটা আর্থিক অসংগতির কারণে সঙের মতো লোকশিল্প আজ গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। এসব কারণেই এবার রথযাত্রা কমিটিকে সম্মাননা প্রদানের কথা এসএসডিএ ভাবে। 

 উল্লেখ্য, বর্তমান প্রজন্ম এই সঙ কি তা জানে না। সঙে যেমন বিচিত্র সাজ থাকে, তেমনি তার গানও বিচিত্র ভাবে লেখা হতো। যা শুনে ও দেখে আট থেকে আশি সবাই হেসে মজা পেতেন। যেমন, "লেট মি গো গিরিধারী। আই ভিজিট টু বংশীধারী। আমি এসেছি ব্রজ হতে। আমি ব্রজনারী। কিম্বা, সাপ্লাই অফিস দেখুন, মশাই। এখানে যতসব যুধিষ্ঠিরের নাতি। ভক্তি ভরে শিন্নি দিলে, এরা ছুঁচে গলায় হাতি।" 

অনেকের ধারণা এই সম্মাননা প্রদর্শনের ফলে রথযাত্রায় আবার সঙ ফিরে আসবে। মন্ডল বাড়ি রথ কমিটির কর্ণধার জীবন মন্ডল সম্মাননা পেয়ে জানান, রথ তার নিয়মেই চলে। আমরা উপলক্ষ্য মাত্র। আর্থিক সাহায্য এখানে বড় কথা নয়। বড় কথা হলো সম্মাননা প্রদান। আজ ৪০  বছর ধরে জগন্নাথের রথ চলছে। এতদিন বাদে এই সম্মাননা পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই এসএসডিএকে। এদিন মন্ত্রী চন্দনাথ সিনহা আরও বলেন যে মুখ্যমন্ত্রী বরাবর বলে থাকেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। বাংলায় দুর্গাপূজায় যেমন সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একত্র হয়, তেমনি ঈদেও সকলে একসঙ্গে উৎসব পালন করে। এখানে কোন ভেদাভেদ নেই। বিজেপি ধর্মের নোংরা রাজনীতি করতে গিয়ে তারা ধর্মের ব্যবসা ফেঁদেছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই মেকি ধর্মের বিরুদ্ধে। আমরা তৃণমূল কংগ্রেস উন্নয়নকে মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিয়েছি।

(www.theoffnews.com Bolpur Rath)



 


দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

অপু দুর্গার বায়োস্কোপ দেখার দৃশ্য সবার মনে এনে দেয় এক পুরনো দিনের নস্টালজিক অনুভূতি। সেই হারিয়ে যাওয়া শৈশব। তার ছোঁয়া বা স্পর্শ পাবেন শান্তিনিকেতন। কলা ভবনের গেটের সামনে দেখতে পাবেন বায়োস্কোপ। এই যন্ত্রের গবাক্ষে চোখ রাখলে দেখতে পাবেন বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী ভবন, রামকিঙ্কর বেইজ, কে জি সুব্রামানিয়াম, সুরেন্দ্রনাথ কর প্রভৃতি বিশ্ববরেণ্য শিল্পীদের অনবদ্য সৃষ্টি। বিশ্বভারতীর নতুন নিয়মে পর্যটকদের ক্যাম্পাসে এখন প্রবেশ নিষিদ্ধ। তাই পর্যটকদের দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে এক অনবদ্য সাহচর্য এই বায়োস্কপের। কলা ভবনের ভাস্কর্য বিভাগের ছাত্র রোহিত সেন প্রায় একমাস ধরে নিজের চেষ্টায় তৈরি করেছেন এই বাইস্কোপ। বিশ্বভারতীতে পর্যটকদের মনের সাধের খোরাক জোটাতে বিপুল সম্ভার নিয়ে হাজির তার এই বায়োস্কোপ। রোহিত সেন বলেন, পর্যটকেরা ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারে না তাই তাদের সুবিধার জন্য এই বায়োস্কোপ বানিয়েছি এখানে চোখ রাখলেই কলা ভবন সহ পুরো ক্যাম্পাসটা দেখা যাবে। 

২০২৩ সালে ইউনেস্কোর কাছ থেকে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বভারতী থেকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা পায়। সেই অনন্য তকমা বা ট্যাগকে ধরে রাখতে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধের এক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সেদিক থেকে এই বায়োস্কোপ পর্যটকদের কাছে পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনার আনন্দ। ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারলেও বাইরে থেকে খুব সুন্দরভাবে বাইস্কোপের গবাক্ষে চোখ রেখে দেখা যাবে ভিতরের পুরোটাই। পর্যটকরা জানিয়েছেন, খুব সুন্দর এই বায়োস্কোপ। আমরা তো আগে দেখিনি, মা ঠাকুমার কাছে শুনেছি এই বায়োস্কোপের কথা। এখন চাক্ষুষ করে খুব ভালো লাগলো। আরেক পর্যটক বলেন, আমরা ছোটদের বায়োস্কোপের কথা বলেছি। তারা আজ চাক্ষুষ করতে পারলো। আমরা পড়েছি ১৫ দশকের অরুণোদয়ের জলের বায়োস্কোপ বই বা হালে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের বায়োস্কোপের সেই বিকেল বেলার গান। একটা নস্টালজিয়া ফিলিং বলতে পারেন। এই বায়োস্কোপও তো ধরে রেখেছে অনেক পুরনো স্মৃতি।

(www.theoffnews.com Bioscope Shantiniketan)




 দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

মুছে গেলো অবন ঠাকুরের বাড়ি। স্মৃতি হিসেবে শুধু থেকে গেলো এলাকার নাম "অবন পল্লী।" শান্তিনিকেতনে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হল প্রখ্যাত শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি। কে বা কারা ভেঙে ফেললো গোটাটাই রহস্য। বোলপুর পুরসভা বলতে পারছে না। একরকম নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বাড়িটি৷ বাড়িটি ভাঙা হতেই শুরু হয়েছিল হই-চই। তার পরেই বোলপুর পুরসভার তরফে কাজ বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ সেই তালা এখনও ঝুলছে বাইরের গেটে। অথচ ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি আর রইল না। এই নিয়ে ক্ষোভ, আক্ষেপ সকলের৷

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো অবনীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতীর দ্বিতীয় আচার্য ছিলেন৷ তাঁর ছেলে অলকেন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে একটি বাড়ি করেছিলেন৷ সেই বাড়িতে বেশ কিছুদিন ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর নামানুসারেই শান্তিনিকেতনের ওই জায়গার নাম হয় 'অবনপল্লী'। সেই ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিবিজড়িত 'আবাস' নামের বাড়িটি ভেঙে ফেলা হল। এই প্রসঙ্গে বোলপুর পুরসভার চেয়ারপার্সন পর্ণা ঘোষ বলেন, "আমরা তো সেই সময় কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম৷ তারপর ভাঙা হয়েছে শুনলাম৷ খোঁজ নিয়ে দেখব, কারা করছে।"

বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গেছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো অবনীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতীর দ্বিতীয় আচার্য ছিলেন৷ তাঁর ছেলে অলকেন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে বাড়ি করেছিলেন৷ সেই বাড়িতে বেশ কিছুদিন ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ। 

 বিশ্বভারতীর প্রথম আচার্য ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯৪১ সালে কবির প্রয়াণের পর ১৯৪২ সালে বিশ্বভারতীর দ্বিতীয় আচার্য হয়েছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।  

প্রবীণ আশ্রমিকরা ঘটনার নিন্দা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, এই ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক৷ জমি ব্যবসায়ীদের কাছে জমির দাম অনেক বেশি অবনীন্দ্রনাথের বাড়ির চেয়ে৷ নতুন কিছু নয়৷ বিশ্বভারতীতে আনন্দ পাঠশালার উল্টো দিকে ইন্দিরা দেবী চৌধুরানীর আবাসও ধূলিসাৎ করা হয়েছে একটা সময়৷

জানা গেছে, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেজো ভাই গিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর৷ তাঁর ছেলে গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও স্ত্রী সৌদামিনী ঠাকুরের ছোট ছেলে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শান্তিনিকেতনের সঙ্গে তাঁর যোগ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সান্নিধ্যে, কথোপকথন, শিল্পচর্চা প্রভৃতি নিয়ে বহু লেখনী, ইতিহাস রয়েছে। প্রখ্যাত চিত্রশিল্পীর পাশাপাশি অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখকও ছিলেন। চিত্রকলার মধ্য দিয়ে কাহিনী বর্ণিত শকুন্তলা, রাজকাহিনী, ক্ষীরের পুতুল, ভারত শিল্প, নালক প্রভৃতি কালজয়ী বইয়ের স্রষ্টা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

(www.theoffnews.com Abanindranath Tagore residence destroyed)

দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

এক টুকরো অবসর বিনোদন ও সেলফি জোন শান্তি নিকেতনে। শুধু তাই নয়, টিয়া পাখীদের খুব প্রিয় খাবার সূর্যমুখী ফুলের বীজ। সেই সূর্যমুখী ফুলের চাষের জন্য ভেবেছেন বোলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সুপ্রিয় কুমার সাধু। কাক ভোরে ঝাঁকে ঝাঁকে টিয়া পাখি আসে সেই বাগানে সূর্যমুখী ফুলের বীজের লোভে। 

সূর্যমুখীর বীজ এক অর্থকরী তৈল্য শষ্য। তা থেকে তৈরি হয় উচ্চমানের খাওয়ার তেল, যা বিশেষ করে হৃদরোগীদের জন্য উপকারী। ফলে বাজারে এর চাহিদাও বেশ ভালো। অথচ সে পথে পা মাড়াননি সুপ্রিয়বাবু। তিনি ভেবেছেন, টিয়া পাখীদের জন্য, মানুষকে দুদণ্ড স্বস্তি দেওয়ার জন্য। ওখানে বসে মনের খোরাক পেয়ে কেউ দু'কলি নজরুল গীতি গুনগুনিয়ে গাইতে পারেন, সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে/দলগুলি মোর রেঙে ওঠে তোমার হাসির কিরণ মেখে।'

সুপ্রিয়বাবু ১৪ কাঠা করে জায়গায় তিনটি পর্যায়ে এই সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। একটি প্লটের ফুল শুকোতে আরম্ভ করলে, পর পর অন্যগুলোতে ফুল ফুটতে শুরু করে। এর ফলে ফুল বন্ধ হয় না।  জানা গেছে, এই চাষে বিশেষ খরচ বা পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না, তবে মাটি প্রস্তুতিতে একটু যত্ন দরকার। জমি ভালো ভাবে চাষ করে আগাছামুক্ত করতে হয়, সারিতে বপন করতে হয় বীজ। প্রতি হেক্টরে লাগে ৮-১০ কেজি বীজ। কিন্তু সেদিকে আপাতত আগ্রহ নেই বীরভূমের বোলপুরের বাসিন্দা সুপ্রিয় কুমার সাধুর। তিনি অবসর প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। তিনি ব্যাবসা করার জন্য এই চাষ করেননি। বরং তাঁর তৃপ্তি তাঁর বাগানে টিয়া পাখি আসে। পর্যটকরা আসে। সেলফি জোন হিসাবে ব্যবহার করে। এটুকুই! তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কেন অর্থকরী ফসল হিসেবে তিনি এই বাগান কাজে লাগাচ্ছেন না। তিনি বলেন, সেটা করতে গেলে টিয়াদের আঁটকাতে বাগান নেট দিয়ে ঘিরতে হবে। প্রতিদিন ভোরে প্রচুর টিয়া আসে সূর্যমুখী বীজ খেতে। আপাতত আমি এসব নিয়ে ভাবছি না। তাছাড়া পাখি ও মানুষের ভালো লাগছে, মানুষ আনন্দ পাচ্ছে। এতেই আমার তৃপ্তি। তিনি জানান, এদের জন্য তিনি তৈরি করেছেন এই বাগানটি। শুধু পর্যটক নয় এর পাশাপাশি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রচুর ছাত্র ছাত্রীরা নিয়মিত এই বাগানে এসে ছবি ক্যামেরাবন্দি করছেন। সুপ্রিয়বাবু জানান,  তিনি তিনটি ভাগে এই সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। প্রত্যেকটি ভাগে প্রায় ১৪ কাঠা জমির উপর এই চাষ করা হয়েছে। প্রথম ভাগে যে চাষ করা হয়েছিল সেই ফুল বর্তমানে ঝরে গিয়েছে। এখন যে বাগানে ফুল ফুটে রয়েছে সেটি দ্বিতীয় ভাগ। অন্যদিকে এই বাগানের ফুল ঝরে পড়লে তৃতীয় ভাগের বাগানে ফুল ফুটে উঠবে।

মূলত সারা বছরই যেন পর্যটকেরা এখানে এসে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন এবং ছবি ক্যামেরাবন্দি করতে পারেন সেই কারণেই তিনটি ভাগে এই সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন।অন্যদিকে টিয়া পাখিদের খুব পছন্দের খাবার এটি তাই তাদের কথা চিন্তা করে এই চাষ সুপ্রিয় কুমার সাধু । কৃত্তিকা সরকার জানান, এখানে তিনি প্রায় আসেন। কত পাখি কীট পতঙ্গ আসে। মানুষ জন আসে। কেউ আবার বই হাতে নিয়ে আসে। প্রকৃতির কোলে বসে সৌন্দর্য উপভোগ করে। বই ও পড়ে।

(www.theoffnews.com sunflower parrot)


দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

অল ইণ্ডিয়া রাঙ্ক ওয়ান পেল ডিফেন্স একাডেমীতে বোলপুরের ইমন ঘোষ। নিজস্ব অফিসিয়াল ট্যুইটারে তার উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "ভীষণ খুশি এবং গর্বিত এটা জেনে যে আমাদের বীরভূম জেলার ছেলে ইমন ঘোষ ডিফেন্স একাডেমি ২০২৪ যেটা ইউপিএসসি কন্ডাক্ট করে এখানে সর্বোত্তম স্থান অর্জন করেছে। ফলাফল সদ্যই প্রকাশিত হয়েছে এবং এই কিশোর একজন বোলপুর নিবাসী ইন্ডিয়ান আর্মির অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদারের পুত্র, এই গৌরব আমাদের সকলের জন্য সে নিয়ে এসেছে।"

উল্লেখ্য, অতি সাম্প্রতিক কালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এই তালিকাতে কোনও পরীক্ষার্থী এই সর্বোচ্চ তালিকায় স্থান পায়নি। ইমন জানিয়েছে, সে প্রথম দশের মধ্যে রাঙ্ক করবে ভেবেছিলো। ভাবেনি, রাঙ্ক ওয়ান হবে। ইমনের মা গার্গী ঘোষ একজন গৃহবধূ। তিনি জানান, বদলির চাকরির কারণে বিভিন্ন জায়গায় তাকে পড়তে হয়েছে। বরাবর ডিফেন্স একাডেমীতে লক্ষ্য ছিল। এখন পুণেতে আছে। ওকে ছাড়া আমরা এই আনন্দ উপভোগ করতে পারছি না। 

দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র বোলপুর নিবাসী ইমন ঘোষ 'রাষ্ট্রীয় ইন্ডিয়ান মিলিটারি কলেজ' থেকে অল ইন্ডিয়া পরীক্ষায় প্রথম রাঙ্ক করেছে। এই পরীক্ষা নেয় ইউপিএসসি। আর আইএমসির মতো এক সুযোগ্য মিলিটারি প্রতিষ্ঠানের সফল ছাত্র ক্যাডেট ইমন ঘোষ।   

বীরভূমের বোলপুর নিবাসী ইমন ঘোষ আর্মি পরিবারের ছেলে। তার বাবা হাবিলদার উজ্জ্বল কুমার ইন্ডিয়ান আর্মি থেকে অবসরপ্রাপ্ত। মা গার্গী ঘোষ একজন গৃহবধূ। তার বাবার কর্মসূত্রে বদলির কারণে ইমন বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে, সবশেষে সাইনিক স্কুল কুঞ্জপুরা,হরিয়ানাতে ভর্তি হয় এবং পরবর্তীতে আর আইএমসি, দেরাদুনে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় অষ্টম শ্রেণীতে।

(www.theoffnews.com Birbhum)

 

সুকন্যা পাল, ম্যানেজিং এডিটর, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

খাটুরা শিল্পাঞ্জলি'র ব্যবস্থাপনায় প্রীতিলতা উচ্চ বিদ্যালয়ে (বালক বিভাগ ) অনুষ্ঠিত হলো পুতুল  নাট্য বিষয়ে সেমিনার ও পুতুল নাট্য কলার প্রদর্শন। সেমিনারের বিষয় ছিল 'শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে পুতুলনাট্য কলার ব্যবহার ও গুরুত্ব।' অতিথি  হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশীষ চক্রবর্তী প্রধান শিক্ষক প্রীতিলতা বয়েজ, অশোক পাল প্রধান শিক্ষক ইছাপুর হাই স্কুল, দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় প্রধান শিক্ষক খাটুরা বয়েজ স্কুল, অভিক ভট্টাচার্য শিক্ষক গবেষক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সুশান্ত পাল শিক্ষক খাটুরা বয়েজ স্কুল। শিল্পাঞ্জলির শিল্পী কণিকা দাস মঙ্গলগীতির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। সঙ্গতে ছিলেন মুকুল দাস। শিল্পাঞ্জলির পক্ষ থেকে সম্মানীয় অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়। মঙ্গলদীপ প্রজ্বলন  করেন অতিথিবৃন্দ। শিল্পাঞ্জলীর শিল্পী সোমা মজুমদারের সঞ্চালনায় মূল আলোচনা পর্ব শুরু হয়। প্রত্যেক বক্তার কথাতেই উঠে আসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যক্রমকে আরও আনন্দদায়ক ও আকর্ষণীয় করতে তুলতে পুতুল শিল্পকলার  ইতিবাচক ভূমিকার কথা। দৃশ্য শ্রাব্য ব্যবস্থাপনার সাথে পুতুলের মত আকর্ষণীয় বিষয় কঠিন, জটিল পাঠক্রমকে কত সহজভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তুলে ধরা সম্ভব পুতুল শিল্পকলার মাধ্যমে এই বিষয়ে সোমা মজুমদারের বক্তব্যকে সকলে স্বাগত জানান। আলোচনা পর্বে শেষে শিল্পাঞ্জলীর পুতুল শিল্পকলার শিল্পী সোমা মজুমদার, তানিয়া দাস, তাপস কর্মকার, শরণ্যা বিশ্বাস, রাহুল অধিকারী প্রমূখ বিভিন্ন পুতুলের প্রদর্শনী করে ছাত্র-ছাত্রীদের দেখান। শিল্পাঞ্জলির অভিভাবিকা দিপালী বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে সমস্ত বিষয়টি পরিচালিত হয়। শিল্পাঞ্জলি সম্পাদক মলয় বিশ্বাসের ভাষণে সমগ্র দিনের অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।

(www.theoffnews.com puppet show Shilpanjali)

 

দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

পথেই আলাপিনী সমিতির বসন্ত উৎসব উদযাপন।একদিকে বেদনা বিধুর। বেদনা বিধুর এই কারণে ২০২১ সাল থেকে তারা গৃহহীন। কবি পত্নী স্মৃতি বিজড়িত মৃনালিনীর নতুন ঘর থেকে নির্মম ও অন্যায় ভাবে তদানীন্তন বিশ্বভারতী প্রশাসনিক নির্দেশে বিতাড়িত হন। আরেক দিকে আশার কথা। ফুল, পাতা মনে জাগায় সেই আশা। ১৯১৬ সালে কবি জ্যেষ্ঠ দ্বীজেন্দ্রনাথ ঠাকুর এই আলাপিনী মহিলা সমিতির প্রতিষ্ঠা করেন। 

আলাপিনী মহিলা সমিতির সদস্যা শর্মিলা রায় জানান আলাপিনী মহিলা সমিতির পূর্বাপর ইতিহাস। কিভাবে মনোরমা দেবী, কিরণবালা সেন প্রমুখ মিসেস গ্ৰীনের কাছে ধাত্রীবিদ্যা শিক্ষা লাভ করে গ্ৰামে গ্ৰামে প্রসূতি মায়েদের সেবা শুশ্রুষা করতেন। ১৯৫৩ সালে আনন্দ পাঠশালার আবির্ভাব আলাপিনী সমিতির হাত ধরে বললে অতিশোয়ক্তি হবে না। তাদের দেখাশোনাও করতেন সদস্যারা। 

আগে শান্তিনিকেতনে  আনন্দপাঠশালার সামনে নাচ, গান ও পাঠের মধ‍্য দিয়ে আলাপিনী সমিতির বর্ষামঙ্গল, বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠানের মধ‍্য দিয়ে প্রকৃতিকে আহ্বান জানাতো। এখন সেই কাজ ধারাবাহিক ভাবে করে থাকে আলাপিনী সমিতি। 

এক সদস্যা বলেন, মূল বিষয় হলো, আমরা কোনও অধিবেশন বন্ধ করি না। প্রতিবারই এই আশা নিয়ে থাকি, এবার আমরা আমাদের ঘরটা ফিরে পাব। এবারও স্থায়ী উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ সদ্য দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর কাছেও আমাদের আশা থাকবে। আলাপিনী সমিতি কোনও দিন কারও কোনও ক্ষতি করেনি, করেও না। বরং অনেক সামাজিক দায়িত্ব পালন করে থাকে। 

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর আলাপিনী মহিলা সমিতির সভাগৃহ বন্ধ করে দেয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেরণা ও দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষ অধিক পুরাতন একটা প্রতিষ্ঠান, যার সাময়িক পত্রিকা ‘শ্রেয়সী’ প্রকাশের বয়স শতবর্ষ অধিক, তার প্রবীণ  সদস্যাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতে হচ্ছে বিশ্বভারতীর গেটের সামনে। ঐতিহ্যবাহী খড়ের ছাউনি দেওয়া মাটির ঘরেই চলতো তাঁদের মাসিক দুইবার অধিবেশনের কাজ। ১৯৫৬ সালে বিশ্বভারতীর উপাচার্য তথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী ছিলেন এই সমিতির সদস্যা। শুধু তাই নয়, কবিপত্নী মৃণালিনী ও নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেনের মা অমিতা সেনের মত বিশিষ্টজনেরা বিভিন্ন সময়ে এই সমিতির সদস্য পদ অলংকৃত করেছেন। ১৯১৬ সালে জন্মলাভ করা এই সমিতি বন্ধ করে দেওয়ায় খুব সমস্যায় পড়েছেন সমিতির বরিষ্ঠ সদস্যারা। আজ তাঁরা গৃহহীন।

(www.theoffnews.com Shantiniketan dol utsav Alapini Samiti)


দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

করোনাকাল থেকে রবীন্দ্র আশ্রম ছিল অবরুদ্ধ, অপ্রবেশ্য। এবার থেকে পর্যটকরা আশ্রম ক্যাম্পাসে ঘুরতে পারবেন। নতুন উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ শান্তিনিকেতনে কাজে যোগ দিয়ে এমন নির্দেশ দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চেয়েছিলেন অচলায়তনের বিরুদ্ধে। প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলে সেই অচলায়তন পরিপূর্ণতা পায়। কার্যত এক দূর্গের রূপ পায়। নতুন উপাচার্য এসে সেই অচলায়তন ভেঙে দিলেন বলে মনে করছেন প্রবীন আশ্রমিকরা। সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুপ্রিয় ঠাকুরের মত প্রবীন আশ্রমিকরা স্বাগত জানান। সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বর্তমান উপাচার্য এবং আমি একই এগ্রিকালচারাল কলেজের ছাত্র। তিনি আমার থেকে দশ বছরের জুনিয়র। খুব ভালো লাগছে, তিনি এই কথা বলেছেন। পর্যটনকে এই হেরিটেজ সাইটের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। পাঁচিল দিয়ে অবরুদ্ধ করা সহজ। কিন্তু রবীন্দ্র ভাবনার উন্মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন। ছাত্রদের যেমন এখানে রবীন্দ্র স্টাডিজ পড়তে হয়। কিন্তু যারা এখানে বাইরে থেকে পড়াতে আসেন, তাদেরকে পড়তে হয় না। একথা প্রাক্তন উপাচার্য সুজিত বসুকে বলেছিলাম। সব থেকে যেটা দরকার উপযুক্ত পরিকাঠামো। পর্যটকদের জন্য পার্কিং ব্যবস্থা, বাথরুম। কোথায় পার্কিং হবে, কোথায় হবে না তার নোটিশ দরকার। নোংরা হবে বলে, কাউকে ঢুকতে দেব না, তালা মেরে দেব, এটা সহজ কথা। হেরিটেজ সাইট মানুষকে দেখতে দিতে হবে। ৬ বছর পর পর্যটকদের জন্য খুলে গেল বিশ্বভারতীর সমস্ত এলাকা। তাতে বিভিন্ন মহলে খুশির হাওয়া। 

শুক্রবার শান্তিনিকেতনে ঘুরতে আসা পর্যটক পাপিয়া সাঁতরা এবং বৈশাখী সর্বজ্ঞ বলেন, খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। আরও আগে হলে ভালো হতো। আমরা সব কিছু ঘুরে দেখতে চাই। 

২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীকে 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। এই 'হেরিটেজ' তকমা রক্ষা করতে অতি সতর্ক বিশ্বভারতী এতদিন পর্যটক থেকে সংবাদ মাধ্যমের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছিল। এবার সবার জন্য আশ্রমের দরজা উন্মুক্ত হলো। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথ থাকবে।

শুক্রবার "শান্তিনিকেতন আ ইউনেসকো ওয়ার্লড হেরিটেজ সাইট, ট্যুরিজম" বিষয়ে বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাপানের ভারপ্রাপ্ত কনসুল জেনারেল আসিদা কাসশুনরি, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক মীর আব্দুল সফিক সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্টজন। এদিনও স্থায়ী উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, একটি পরিকল্পনা করে হেরিটেজ সাইটের সঙ্গে ট্যুরিজম লিংক আপ করা হবে। অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। তবে রবীন্দ্র ভাবনা তাঁর আদর্শ এবং স্থান ঐতিহ্যকে মানুষের কাছে আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে আশ্রম উন্মুক্ত করা হবে। গত পরশু জয়েন করে আমি জানিয়ে দিয়েছি। অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি বা অতীতের মতো যে তিনি চলবেন না, তাঁর প্রথম সিদ্ধান্তে তিনি তা বুঝিয়ে দিলেন। স্বাভাবিক ভাবে বিশ্বভারতী তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে চলেছে। 

উল্লেখ্য,  উত্তরায়ণ কমপ্লেক্স আশ্রমের হৃদয়ঘর। এখানে আছে শ্যামলী, কোনার্ক, পুনশ্চ, উদীচি এবং উদয়ন। এই কমপ্লেক্সে উদয়ন এবং কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ তৈরী গুহাগৃহ আছে। তিরিশের দশকে তৈরী এই বাড়িগুলির প্রতিটির আলাদা বিশেষত্ব আছে। পর্যটক দেখবে, জানবে কেমনভাবে প্রকৃতির কোলে উন্মুক্ত পরিবেশে শিক্ষা দান হতো।

(www.theoffnews.com Viswa Bharati University Shantiniketan)


দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

"নীল দিগন্তে ওই ফুলের আগুন লাগল, বসন্তে সৌরভের শিখা জাগল..." 

বুধবার সকালে সকলে যখন আবীরের রঙে মেতে উঠেছে, শান্তিনিকেতনের সোনাঝুড়ির জঙ্গলে তিল ধারণের ঠাঁই নাই, তখন, শান্তিনিকেতনের অদূরে প্রকৃতিকে ভালোবেসে "অন্যরকম" বসন্ত উৎসব ও বর্ষ বরণ পালনের সাক্ষী থাকলো মানুষ।

বসন্ত পূর্ণিমার এই দিনে, সকাল থেকেই রবীন্দ্রনাথের গান আর মাদলের তালে, বোলপুরের মুলুকে স্বাধীন ক্যাম্পাসে, নেচে উঠলো গোটা এলাকা। সামিল হলেন গ্রামীণ আদিবাসী থেকে কলকাতার নাগরিক জীবনে অভ্যস্থ সকলে।

সৌজন্যে, শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং Positive বার্তার যৌথ উদ্যোগে, স্বাধীন ট্রাস্ট, ওয়েস্ট বেঙ্গল মিডিয়া ফোরাম, অল বেঙ্গল প্রাইভেট নার্সিং হোমস এন্ড হসপিটালস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় আয়োজিত বাহা উৎসব (ফুলের উৎসব) ও বসন্ত বরণ এর মাধ্যমে তাদের বর্ষবরণ উৎসব।

ঋতুরাজ বসন্ত তার রূপের ডালি উজাড় করে প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে। রঙে, রসে, গন্ধে ভরে ওঠে - সেজে ওঠে এই প্রকৃতি। বসন্ত পূর্ণিমার অবকাশে সারা দেশ মেতে ওঠে বসন্ত বন্দনায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেখানে থাকে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান। যদিও শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসবে বসন্তকে স্বাগত জানানো হয়। সেভাবেই নিজেদের পরম্পরা মেনে বসন্ত বন্দনা করার রীতি রয়েছে আদিবাসী সমাজেও। যার নাম - বাহা পরব বা ফুলের উৎসব।

আদিবাসী পরম্পরা অনুসারে এই বাহা পরবে তারা শাল ফুল নতুন শালপাতায় রেখে নিবেদন করে তাদের দেবতার কাছে। প্রকৃতির কাছে ঋণ স্বীকার করে তারা। এই বাহা পরবের পরেই প্রকৃতির নতুন ফুল, ফল এবং পাতাকে নিজেদের জীবনে গ্রহণ করে থাকে আদিবাসী সমাজ।

এই উৎসব শুধু রঙের ও সৌন্দর্যের নয়; এটি প্রকৃতির সঙ্গে আদিবাসীদের নিবিড় যোগের প্রতীক। বাহা উৎসব উদযাপনের মাধ্যমে তারা যেমন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেভাবেই তারা আদিবাসী সমাজের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বাহা উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আদিবাসী সমাজ যেন তাদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত না হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী রথীন কিস্কু জানান, "নতুন শাল ফুল ও শাল পাতা এবং জল দিয়ে আমরা এই বাহা পরব উদযাপিত করি। এই উৎসবের পরেই আমরা প্রকৃতির নতুন ফুল ফল পাতা নিজের জীবনে গ্রহণ করি। এই উৎসবে আমরা প্রকৃতির কাছে আমাদের ঋণ স্বীকার করি। আমরা সেটাই সর্বজনীনভাবে উদযাপন করার উদ্যোগে সকলে এক সাথে আজ আনন্দে মেতে উঠেছি।”

বাহা উৎসব উপলক্ষ্যে আদিবাসী সমাজের ধর্মীয় প্রতিনিধি সহ বহু বিশিষ্টজনকে সম্মাননা জানানো হয়। এইদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা অধ্যাপক ডাঃ সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডিন ডাঃ অয়ন গোস্বামী, বিশ্ব বাংলা কেবল নেটওয়ার্কের সভাপতি তথা ওয়েস্ট বেঙ্গল মিডিয়া ফোরামের আহবায়ক শঙ্কর মণ্ডল, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ কানন হাঁসদা সহ আর অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সভাপতি মলয় পীট বলেন, "আমরা আদিবাসীদের এই বাহা উৎসবের মাধ্যমে সর্ব ধর্মের মেলবন্ধন করে সামাজিক উন্নয়নের বার্তা দিতে চাইছি। সেই সঙ্গে শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব ঘিড়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তার থেকে মানুষকে মুক্তি দিয়ে উৎসবের আমেজ ভাগ করে নিতে চাইছি।"

বাহা উৎসব (ফুলের উৎসব) ও বসন্ত বরণ এর মাধ্যমে বর্ষবরণ উৎসব উপলক্ষ্যে সারা দিন ধরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ করা হয়।

(www.theoffnews.com Baha utsav Shantiniketan)


দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

প্রকৃতির নিয়মই শূন্য স্থান পূরণ করা। প্রতি বছর শান্তিনিকেতনে বসন্ত বরণের মতো প্রকৃতির উৎসবের দিকে চেয়ে থাকে সর্বজনসাধারণ। এক,  বিশ্বভারতী এবং দুই,  সোনাঝুরি হাটে মানুষের দুর্নিবার আকর্ষণ থাকে। এবার নিয়মের বেড়াজালে দুটোতেই সাধারণ মানুষ বঞ্চিত। কিন্তু তা বলে প্রকৃতি রিক্ত থাকবে? বোধকরি প্রকৃতির এমন অভিরুচি নয়।

এই দুটো উৎসবকে এক আঙ্গিকে হৃদয়ে গ্ৰহণ করে, শান্তিনিকেতনের অদূরে শান্তিনিকেতন ইন্সটিটিউট অফ টেকনলোজি আয়োজন করতে চলেছে বসন্ত সমাগম। আহ্বান উন্মুক্ত সকলের জন্য। 

উল্লখ্য, আদিবাসীরা শালগাছকে বলে সারজম দারি। আর সেই গাছের ফুলকে বলে সারজম বাহা। শাল গাছে ফুল ধরলে শুরু হয় আদিবাসীদের বাহা পরব। দোলের মত রঙের খেলা নয়, জল দিয়ে আর শালফুল দিয়ে এই পরব। জল দিয়ে পা ধুয়ে দেওয়া ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে শালের ফুল দিয়ে শুরু এই বাহা উৎসব। এই সময় বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন দিনে শুরু হয় বাহা পরব। ঋতু বন্দনার মধ্য দিয়ে আদিবাসীদের বর্ষ বরণ। এই অনুষ্ঠানের আয়োজক পজেটিভ বার্তা। সহযোগিতায় ওয়েস্ট বেঙ্গল মিডিয়া ফোরাম ও অল বেঙ্গল নার্সিং হোম এ্যাণ্ড হসপিটাল ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন। আগামী ১৪ মার্চ ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হবে এই অনুষ্ঠান। অংশগ্রহণ করবে ১০টি আদিবাসী নৃত্য দল। ফুল, জল প্রকৃতির রঙ শুধু গায়ে নয়, মনকে রাঙিয়ে নেওয়া। শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়ারাও রঙের বসন্ত বরণে নৃত্য গীতে ভরিয়ে তুলবে-- "রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও যাও গো এবার যাবার আগে--

তোমার আপন রাগে, তোমার গোপন রাগে-।" আদিবাসী সম্প্রদায়, বাঙালি সকলের সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠবে তার পুরাতন ঐতিহ্যে, বলে জানান প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক মলয় পীট।

(www.theoffnews.com Baha festival Shantiniketan Birbhum)


দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

কোন পরীক্ষা বড়ো? ভাবার পরিস্থিতি ছিল না, এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সুস্মিতা সাহানির। সদ্য বাবাকে হারিয়ে, জীবনের খেইটা যেন হারিয়ে গিয়েছিল তার। বটবৃক্ষের মতো সুশীতল ছায়াঘন বাবার হাতটা যে তার মাথার উপরে নেই! 

চোখের জল মুছতে মুছতে বোলপুর শিক্ষা নিকেতন আশ্রম বিদ্যালয়ের ছাত্রী সুস্মিতা সাহানি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করে। বোলপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে তার পরীক্ষার সিট পড়ে। 

সুস্মিতার একটা আলাদা পরিচয় আছে। সে ভলিবলে রাজ্যস্তরের খেলোয়াড়। দুর্দান্ত ম্যাশার। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে তার জীবনটা যেন স্ম্যাশড হয়ে গেল মনে হয়েছিল সুস্মিতার। বাবার অকাল প্রয়াণের সংবাদ পেয়ে, আর পরীক্ষা দেবে না ভেবেছিল সে। সুস্মিতা কান্না ভেজা গলায় বলে, "খেলার জন্য আমাকে বিভিন্ন জায়গা যেতে হতো। তাই বাবা বলেছিলেন, তুই পাশ করতে পারবি না। আমি বাবাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছিলাম আমি ভালোভাবে পাশ করবোই। কিন্তু যার সঙ্গে আমার চ্যালেঞ্জ হয়েছিল, সেই বাবাই তো নেই।"

প্রতিবেশী চৈতালি দেবনাথ সাহা এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার দাস সুস্মিতাকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে আসেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, আমরা বুঝতে পারছিলাম না সুস্মিতাকে কী করে বাড়ি থেকে বের করবো। আমরা সবাই কাউন্সেলিং করে নিয়ে এসেছি। কালকে রাত্রে বাবার শেষকৃত্য হয়েছে। আজ বুধবার ইংরেজি পরীক্ষা। বাংলা পরীক্ষা ভালো দিয়েছিল সুস্মিতা। বুধবার ছিল ইংরেজি পরীক্ষা। এই অবস্থায় পরীক্ষা দেওয়া কঠিন। তবে ও ভালোভাবেই পাশ করে বাবার স্বপ্ন পূরণ করবে। আমরা সবাই ওর পাশে আছি। 

প্রতিবেশী চৈতালি দেবনাথ সাহা বলেন, সুস্মিতার বাড়ি থেকে কারও পক্ষে সুস্মিতার সঙ্গে আসা সম্ভব ছিল না। তাই আমি এসেছি। 

জানা গেছে, সুস্মিতার বাড়ি বোলপুরের মকরমপুরে। বাবা পেশায় গাড়ি চালক। মা মাছ বিক্রি করেন। বাংলা পরীক্ষার দিন তার বাবা মহাদেব সাহানি গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বোলপুরের মকরমপুরে ড্রেনে পড়ে যান। মাথায় আঘাত লাগার পর ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফেরেন। তারপর মস্তিস্ক রক্ত ক্ষরণে স্ট্রোক হয়। বোলপুর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

সুস্মিতার ইংরেজি পরীক্ষা ভালোই হয়েছে। সুস্মিতা বলে, "বাবা চেয়েছিলেন উচ্চ মাধ্যমিকটা যেন প্রথম বিভাগে পাস করি। তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতেই এসেছিলাম পরীক্ষা দিতে," এই বলে ফের কান্নায় ভেঙে পড়ে সুস্মিতা। বোলপুর শিক্ষা নিকেতন আশ্রম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার দাস জানান, এই ঘটনার খবর পেতেই তাঁরা পৌঁছে ছিলেন সুস্মিতার বাড়িতে। নানাভাবে বুঝিয়ে পরীক্ষা দিতে রাজি করিয়েছেন। এদিন প্রতিবেশী চৈতালি দেবনাথ সাহানী সুস্মিতাকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে আসেন। চৈতালিদেবী জানালেন, বাড়িতে কারও অবস্থা এমন নেই যে মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে আসবেন। সামান্য খাইয়ে তিনিই তাই সুস্মিতাকে নিয়ে এসেছেন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য।

(www.theoffnews.com examination)


দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসব হবে ১১ মার্চ মঙ্গলবার। এবারও গতবারের মতো সাবেকি প্রথায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বসন্ত উৎসব। বিশ্বভারতী আয়োজিত বসন্ত উৎসব নিয়ে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বিনয় কুমার সরেন,  বিশ্বভারতীর ফিনান্স অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) অমিত হাজরা, শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার, শান্তিনিকেতন কর্মী মন্ডলীর যুগ্ম সম্পাদক দেবাশিস রায়, সদস্য ভ্রমর ভাণ্ডারী সহ অন্যান্যরা।‌ এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বোলপুরের অ্যাডিশনাল এসপি রাণা মুখোপাধ্যায় ও বোলপুর দমকল বিভাগের ওসি সৌরভ মন্ডল। বসন্ত উৎসব যাতে সুষ্ঠু ও সফলভাবে আয়োজন করা যায় সেজন্যই এদিনের এই বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল বলে বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বিনয় কুমার সরেন জানান, বিশ্বভারতী নিজস্ব ঘরানায় বসন্ত উৎসব পালন করবে সেখানে যাতে করে কোনও বহিরাগতরা প্রবেশ না করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। সবাই ঐতিহ্য মতো পোশাক পরবে। বোলপুরের অ্যাডিশনাল এসপি রাণা মুখোপাধ্যায় জানান, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১০ ও ১১ মার্চ দুদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। রঙের ব্যবহার হবে না। ওয়াচ টাওয়ার, ক্যাম্প হবে। আমরা সচিত্র পরিচয় পত্রের জন্য ব্যবস্থা করতে বলেছি। গৌর প্রাঙ্গনের অনুষ্ঠানে সম্ভবত প্রাক্তনীদের প্রবেশ থাকছে না। 
জানা গেছে, একমাত্র বিশ্বভারতীর সঙ্গে সম্পর্ক যুক্তরাই অংশ গ্ৰহণ করতে পারবে। উল্লেখ্য, বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গেছে, গৌর প্রাঙ্গন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট, এখানে কয়েক ঘন্টার অনুষ্ঠানে পাঁচ লক্ষ জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব। পৌষ মেলা হয় মেলার মাঠে। সেখানে ৬ দিন ধরে মেলা হয়েছে। তাই জনসমাগমের সংখ্যা ভাগ হয়ে গেছে। 
উল্লেখ্য, বিশ্বভারতী সাধারণত দোলের দিন বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে না। আশ্রমে বসন্ত উৎসবের সাথে যুক্ত নয় কোনও ধর্মীয় অনুষঙ্গ। তাছাড়া 'হেরিটেজ' তকমা রক্ষার্থে এবারও  বিশ্বভারতী বেশি সতর্ক। ১১ মার্চ পড়ুয়া, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, আশ্রমিকদের নিয়ে বসন্তোৎসব করবে বিশ্বভারতী। সেখানে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ বহাল থাকছে। 
২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীকে 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। এই 'হেরিটেজ' তকমা রক্ষা করতে এবার সতর্ক বিশ্বভারতী। স্বাভাবিক ভাবে দোল পূর্ণিমার দিন হচ্ছে না বসন্তোৎসব। দোল পূর্ণিমা ১৪ মার্চ৷ তার কয়েক দিন আগে ১১ মার্চ বসন্তোৎসব পালন করবে বিশ্বভারতী। কারন একটাই, ১৪ মার্চ শান্তিনিকেতনে পর্যটকদের ভিড় থিক থিক করে৷ তাই ওই দিন বসন্তোৎসব করলে বহিরাগতরা আশ্রমে প্রবেশ করতে পারে৷ 
অতীতে বিশ্বভারতীতে বসন্তোৎসব হতো আশ্রম মাঠে৷ আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘন্টা লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হত৷ উৎসবের সূচনার পরেই বহিরাগতদের তাণ্ডবের সাক্ষ্মী বিশ্বভারতীর পড়ুয়া, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, আশ্রমিক, শান্তিনিকেতনবাসী সকলেই৷ এই আশ্রম মাঠ সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী চৈতি বাড়ি, গৌরপ্রাঙ্গণ, ঘন্টা তলা, কালো বাড়ি, রামকিঙ্কর বেইজের মূল্যবান ভাস্কর্য প্রভৃতি। তাতেও আবির ছুঁড়ে দেওয়া হতে পারে৷ এছাড়া অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে , বসন্তোৎসব শেষে বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসজুড়ে মিলত মদের রাশি রাশি বোতল, প্ল্যাস্টিক প্রভৃতি। এমনকি, বহিরাগতদের হেনস্থার শিকারও হতে হয়েছে বিশ্বভারতীর বহু ছাত্রীকে। এই বিশ্বভারতী বর্তমানে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ। এই হেরিটেজ তকমা রক্ষার্থে আর বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার দিয়ে বসন্তোৎসব করতে চায় না বিশ্বভারতী। তাই এবারও বিশ্বভারতীর বসন্তোৎসবে বহিরাগতরা প্রবেশ করতে পারবেন না৷ 
রবীন্দ্রসংগীত ও নৃত্যের মধ্যদিয়ে পড়ুয়ারা উদযাপন করবে বসন্তোৎসব। প্রসঙ্গত, শেষবার ২০১৯ সালে আশ্রম মাঠে হয়েছিল বসন্তোৎসব। ২০২০ সালে কোভিড পরিস্থিতির জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল উৎসব। ২০২১ সাল থেকে তৎকালীন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বসন্তোৎসবে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেন৷ এমনকি, ভিড় এড়াতে দোলপূর্ণিমার দিন বসন্তোৎসব না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন৷
(www.theoffnews Basanta Utsav Shantiniketan Visva Bharati)

দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

বাংলাদেশ ভবনে পালিত হবে না 'ভাষা দিবস।' তবে বিশ্বভারতীতে যথারীতি পালিত হবে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস। 

বিশ্বভারতী সূত্রে খবর, বাংলাদেশ ভবনের সংস্কার চলছে। তাই এবছর বাংলাদেশ ভবনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিত থাকছে। 

এদিকে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর, সে দেশে টালমাটাল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ ভবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অনেকেই। যদিও, এর প্রভাব বাংলাদেশ ভবনের উপর আদৌ পড়বে না বলে বাংলাদেশ ভবন আধিকারিক সূত্রে খবর। 

এ ব্যাপারে বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক (ভারপ্রাপ্ত) অতীগ ঘোষ এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবছরও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে ২১ ফেব্রুয়ারি  ইউনেস্কো-ঘোষিত  'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' পালন করবে বিশ্বভারতী। ওইদিন সকাল সাড়ে আটটায় আন্তর্জাতিক অতিথি নিবাসের সামনে থেকে ('পূরবী' গেট) একটি সাংগীতিক পরিক্রমা  পৌঁছোবে ইন্দিরা গান্ধী কেন্দ্রে। সেখানে ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। 

উল্লেখ্য, ইংরেজি ২০১৭ সালে শান্তিনিকেতনে পূর্বপল্লীর পিছনের মাঠে ১ লক্ষ ৪০ হাজার বর্গ ফুট জায়গা জুড়ে তৈরি হয়েছিল আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ ভবন৷ বাংলাদেশ সরকারের ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল এই ভবন ৷ দুই বাংলার সংহতির প্রতীক এই ভবনের নকশা নিজে হাতে তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৷ পরের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের ২৫ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন৷ সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

(www.theoffnews.com Bangladesh Bhavan Santiniketan)


দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

মৌলবাদের দৌলতে বাংলাদেশের লোকশিল্পী রাহুল আনন্দের প্রিয় জলের গানের বাড়িটি আর নেই। নেই রাহুল আনন্দের সন্তান-সম ত্রিশ হাজার বাদ্যযন্ত্র। এবার সেই মৌলবাদের ছায়া বীরভূমের নলহাটি ২ ব্লকের কুমার ষাণ্ডা গ্ৰামে। কুমার ষাণ্ডা গ্ৰামের একটি পৌরাণিক বিশিষ্টতা আছে। বহু পুস্তকে বর্ণিত আছে যে, এই কুমার ষাণ্ডা গ্ৰামে বনবাস পর্বে বারা গ্ৰামে মহাভারতের পঞ্চ পাণ্ডবরা আশ্রয় নেয়। আর এই কুমার ষাণ্ডার পথ ধরে তাদের নিষ্ক্রমন হয়। সেখানে আজও স্মৃতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এমন স্মৃতি বিজড়িত জায়গা থেকে উঠে এলো এমন মৌলবাদী ফতোয়া। বাদ্যযন্ত্রে ফতোয়া নিয়ে অবশ্য নেই কোনও স্পষ্টিকরণ। 

সেটা হতে পারে একতারা, হারমোনিয়াম বা ঢাক ঢোল ইত্যাদি। কুমার ষাণ্ডা গ্ৰামের এক মাদ্রাসায় বসে ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের বৈঠক। সেখানে স্থির হয় বিয়ে হোক কিংবা কোনও সামাজিক অনুষ্ঠান, গ্রামে কোনরকম বাদ্যযন্ত্র বাজানো যাবে না। নিষিদ্ধ মদ, গাঁজা সহ যে কোনও মাদক দ্রব্য। মদ, গাঁজা সহ যে কোনও মাদক দ্রব্যর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ভালো দৃষ্টান্ত। কিন্তু এর সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রে নিষেধাজ্ঞায় সবাই বাংলাদেশের মৌলবাদের ভূত দেখছেন। তাও যদি ডিজে বা মাইক্রোফোন জনিত শব্দ দূষণের কথা বলা হতো, তার একটা যুক্তি পাওয়া যেত। কিন্তু শনিবার এমনই অদ্ভুত ফতোয়া জারি করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ সীমান্তে বীরভূমের নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের কুমার ষান্ডা গ্রামে।

এদিন কুমার ষান্ডা গ্রামের মাদ্রাসায় বৈঠকে বসেন গ্রামের গণ্যমান্যরা। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গ্রামে বিয়ে, খতনা, কিংবা যে কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। কেউ বাজালে তার ১০ হাজার টাকা জরিমানা হবে। সেই সঙ্গে তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে। অর্থাৎ তাকে মসজিদে যেতে দেওয়া হবে না। তার জানাজায় কেউ যাবে না। সেই সঙ্গে গ্রামে মদ প্রবেশ করা যাবে না। গণ্যমান্যদের এই ফতোয়া অবশ্য মেনে নিয়েছেন গ্রামবাসীরা। গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, “গ্রামে বাদ্যযন্ত্র বাজানো যাবে না। মদ খেয়ে মাতলামি, জুয়া খেলা সব বন্ধ। গ্রামের মুরুব্বিদের এই সিদ্ধান্ত সকলে মেনে নিয়েছি।”

এনিয়ে নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের বিডিও রজত রঞ্জন দাস বলেন “আমার কাছে এরকম কোনও অভিযোগ জমা পরেনি। আমি পঞ্চায়েতের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।” রামপুরহাট মহকুমা শাসক সৌরভ পাণ্ডে বলেন, "এরকম ভাবে কেউ বাদ্যযন্ত্র বাজানো যাবে না বলে নির্দেশ দিতে পারে না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।" এদিকে বীরভূমে সমান্তরাল প্রশাসন চালানো নিয়ে অনেকেই মৌলবাদের সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে। 

ন-পাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রিপন শেখ বলেন, “আমার কাছে এরকম কোনও খবর নেই। ওই গ্রামে আমাদের সাংসদ শতাব্দী রায়ের কার্যক্রম রয়েছে। গ্রামবাসীরা যদি এরকম কোনও সিদ্ধান্ত নেন তাহলে আমাদের মেনে নিতে হবে।”

(www.theoffnews.com Kumarshanda village madrasah)


দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম: 

বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসবের শুরুটা ১১ মার্চ। এবারও গতবারের মতো সাবেকি প্রথায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বসন্ত উৎসব। সেখানে একমাত্র বিশ্বভারতীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্তরাই অংশ গ্ৰহণ করতে পারবে। এবারও সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধ থাকছে। শুক্রবার বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসন্ত উৎসব নিয়ে বিশ্বভারতীর কর্মীমণ্ডলীর বৈঠক বসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য বিনয় কুমার সোরেন, পাঠভবন, শিক্ষাসত্র সহ বিভিন্ন ভবণের অধ্যক্ষ এবং আধিকারিকরা। 

বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ আধিকারিক অতীগ ঘোষ জানান, যেহেতু গৌর প্রাঙ্গন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট, এখানে কয়েক ঘন্টার অনুষ্ঠানে পাঁচ লক্ষ জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব। পৌষ মেলা হয় মেলার মাঠে। সেখানে ৬ দিন ধরে মেলা হয়েছে। তাই জনসমাগমের সংখ্যা ভাগ হয়ে গেছে। 

উল্লেখ্য, বিশ্বভারতী সাধারণত দোলের দিন বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে না। আশ্রমে বসন্ত উৎসবের সাথে যুক্ত নয় কোনও ধর্মীয় অনুষঙ্গ। তাছাড়া 'হেরিটেজ' তকমা রক্ষার্থে এবারও  বিশ্বভারতী বেশি সতর্ক। ১১ মার্চ পড়ুয়া, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, আশ্রমিকদের নিয়ে বসন্তোৎসব করবে বিশ্বভারতী। সেখানে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ বহাল থাকছে। 

২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীকে 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। এই 'হেরিটেজ' তকমা রক্ষা করতে এবার সতর্ক বিশ্বভারতী। স্বাভাবিক ভাবে দোলপূর্ণিমার দিন হচ্ছে না বসন্তোৎসব। দোলপূর্ণিমা ১৪ মার্চ৷ তার কয়েক দিন আগে ১১ মার্চ বসন্তোৎসব পালন করবে বিশ্বভারতী। কারন একটাই, ১৪ মার্চ শান্তিনিকেতনে পর্যটকদের ভিড় থিক থিক করে৷ তাই ওই দিন বসন্তোৎসব করলে বহিরাগতরা আশ্রমে প্রবেশ করে যেতে পারে৷ এদিন, বসন্তোৎসব নিয়ে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মিমণ্ডলীর সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বিনয় কুমার সরেন। তাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ 

বিশ্বভারতীতে বসন্তোৎসব হতো আশ্রম মাঠে৷ আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘন্টা লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হত৷ উৎসবের সূচনার পরেই বহিরাগতদের তাণ্ডবের সাক্ষী বিশ্বভারতীর পড়ুয়া, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, আশ্রমিক, শান্তিনিকেতনবাসী সকলেই৷ এই আশ্রম মাঠ সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী চৈতি বাড়ি, গৌরপ্রাঙ্গণ, ঘন্টা তলা, কালো বাড়ি, রামকিঙ্কর বেইজের মূল্যবান ভাস্কর্য প্রভৃতি। তাতেও আবির ছুঁড়ে দেওয়া হতে পারে৷ এছাড়া অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে , বসন্তোৎসব শেষে বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাস জুড়ে মিলত মদের রাশি রাশি বোতল, প্ল্যাস্টিক প্রভৃতি। এমনকি, বহিরাগতদের হেনস্থার শিকারও হতে হয়েছে বিশ্বভারতীর বহু ছাত্রীকে। এই বিশ্বভারতী বর্তমানে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ। এই হেরিটেজ তকমা রক্ষার্থে আর বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার দিয়ে বসন্তোৎসব করতে চায় না বিশ্বভারতী। তাই এবারও বিশ্বভারতীর বসন্তোৎসবে বহিরাগতরা প্রবেশ করতে পারবেন না৷ রবীন্দ্রসংগীত ও নৃত্যের মধ্যদিয়ে পড়ুয়ারা উদযাপন করবে বসন্তোৎসব।

প্রসঙ্গত, শেষবার ২০১৯ সালে আশ্রম মাঠে হয়েছিল বসন্তোৎসব। ২০২০ সালে কোভিড পরিস্থিতির জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল উৎসব। ২০২১ সাল থেকে তৎকালীন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বসন্তোৎসবে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন৷ এমনকি, ভিড় এড়াতে দোলপূর্ণিমার দিন বসন্তোৎসব না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন৷

(www.theoffnews.com. Visva Bharati Basanta Utsav)


দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

৭৬ তম সাধারণতন্ত্র দিবসের শুভ উদ্বোধন অবসরে পজিটিভ বার্তা প্ল্যাটফর্ম থেকে কেবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা রাজ্যে সংবাদ পরিবেশন শুরু হলো রবিবার থেকেই। পাশাপাশি, কল ট্যু একশন বা সিটিএর উদ্বোধন হয় এই দিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অল ইণ্ডিয়া ইমাম এ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মহম্মদ বাকীবিল্লা মোল্ল্যা। 

এদিন বোলপুরের মুলুকের তাতারপুরের স্বাধীন ক্যাম্পাসে যথাযথ মর্যাদা সহকারে প্যারেড, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ৭৬ তম সাধারণতন্ত্র দিবস পালন হয়। ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। তারপর প্রদীপ প্রজ্বলন এবং পর্দা উন্মোচনের মাধ্যমে পজিটিভ বার্তা কেবল নেটওয়ার্কের সম্প্রচারের শুভ সূচনা হয়। উল্লেখ্য, স্বাধীন ক্যাম্পাস থেকে সরাসরি কেবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়।

(www.theoffnews.com Republic day celebration Birbhum)