গুরুত্বপূর্ণ খবর

সাজিয়া আক্তার, জয়ে়ন্ট এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া শীর্ষ দশ সরকারপ্রধানের তালিকায় দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের নামও নেই। অন্যদিকে বার্ষিক বেতন কম হওয়ার কারণে পদত্যাগ করার কথা ভাবছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

তালিকাটির বেশিরভাগ দেশই উন্নত অর্থনীতির হলেও, সরকার প্রধানের বেতন দেশগুলোর মাথাপিছু জিডিপির তুলনায় বহুগুণ বেশি। সর্বাধিক বেতনপ্রাপ্ত বিশ্বের শীর্ষ দশ রাষ্ট্রপ্রধানের তালিকা তুলে ধরা হলো। তালিকাটি তৈরি করেছে মার্কিন গণমাধ্যম ইউএসএ টুডে।

লি সিয়েন লুং

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের বার্ষিক বেতন ১৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা। তার বেতন সিঙ্গাপুরের মাথাপিছু জিডিপির চেয়ে ২০ গুণ বেশি। দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ৮৬,৮১০ ডলার। তার আয় রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চেয়েও ১২ গুণ বেশি।

ক্যারি লাম

হংকং সরকারের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামের বার্ষিক বেতন ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪ কোটি ৮০ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা)। হংকংয়ের মাথাপিছু জিডিপি ৫৭ হাজার ০৮১ ডলার।

সিমোনেত্তা সোমারুগা

সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সিমোনেত্তা সোমারুগার বার্ষিক বেতন ৪ লাখ ৮২ হাজার ৯৫৮ ডলার (প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ ৬২ হাজার টাকা)। দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ৫৬ হাজার ৪৭৩ ডলার।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্ষিক বেতন ৪ লাখ ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৩৮ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা)। তার বেতন দেশটির মাথাপিছু জিডিপির ৭ গুণ। যুক্তরাষ্ট্রের মাথাপিছু জিডিপি ৫৪ হাজার ৪৪০ ডলার।

স্কট মরিসন

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের বার্ষিক বেতন ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪১৫ ডলার (প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা)। তার বেতন দেশটির জনগণের গড় আয়ের ৭ গুণ। অস্ট্রেলিয়ার মাথাপিছু জিডিপি ৪৬ হাজার ৫৫৪ ডলার।

অ্যাঙ্গেলা মার্কেল

জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের বার্ষিক বেতন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৭ ডলার (প্রায় ৩ কোটি ১২ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা)। তার বেতন দেশটির জনগণের গড় আয়ের ৮ গুণ। জার্মানির মাথাপিছু জিডিপি ৪৬ হাজার ৭১৯ ডলার।

জেসিন্ডা আরডার্ন

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের বার্ষিক বেতন ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬২ ডলার (প্রায় ২ কোটি ৮৭ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা)। দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ৩৫,২৪৪ ডলার। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন জেসিন্ডা।

মোহাম্মদ ওলিদ আল গাজভা

আফ্রিকা মহাদেশের রাষ্ট্র মৌরিতানিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ওলিদ আল গাজভার বার্ষিক বেতন ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার (প্রায় ২ কোটি ৭৯ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা)। দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ৩ হাজার ৬৫৫ ডলার। চীনের জিডিপি মৌরিতানিয়ার চেয়ে ২৪০০ গুণ বেশি, তবে দেশটির প্রেসিডেন্টের এক মাসের বেতন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর এক বছরের বেতনের কাছাকাছি। 

সেবাস্তিয়ান কার্জ

অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কার্জের বার্ষিক বেতন ৩ লাখ ২৮ হাজার ৫৮৪ ডলার (প্রায় ২ কোটি ৭৮ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা)। ৩৪ বছর বয়সী সেবাস্তিয়ান বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ সরকার প্রধান। তার বার্ষিক আয় দেশটির জনগণের গড় আয়ের ৬ গুণ। দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ৪৫ হাজার ৪৭৮ ডলার।

জাভিয়ের বেটেল

লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জাভিয়ের বেটেলের বার্ষিক বেতন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫ ডলার (প্রায় ২ কোটি ৩৫ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা)। সরকার প্রধানের সর্বাধিক বেতনের দেশগুলোর মধ্যে লুক্সেমবার্গ সবচেয়ে ছোট দেশ। দেশটির জনসংখ্যা ৬ লক্ষেরও কম। দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ৯৩ হাজার ৮৯১ ডলার।

সাজিয়া আক্তার, জয়ে়ন্ট এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

অনেক জ্যোতিষীরা পর্যবেক্ষণ শক্তি আর গ্রহ নক্ষত্র বিচার করে অর্থ আসছে কি না বলে দিতে পারেন। তাছাড়া এই অর্থ প্রাপ্তি নিয়ে রয়েছে নানা রকম কুসংস্কার। তেমনই কিছু কুসংস্কার দেয়া হলো। এমনি কিছু লক্ষণ দেয়া হলো ...

১. স্বপ্নে যদি সবুজ মাঠ এবং জলাশয় দেখতে পান তবে বুঝতে হবে খুব শীঘ্রই ধনীর খাতায় নাম লেখাচ্ছেন।

২. আশপাশে যদি গরুকে ঘাস খেতে দেখেন তবে চোখ ফেরাবেন না, তাড়িয়েও দেবেন না। এটি নাকি শুভ লক্ষণ। কাজেই শুধুই তাকিয়ে তাকিয়ে গরুর ঘাস খাওয়া দেখুন।

৩. সকালে হাঁটতে গিয়ে যদি আখ দেখতে পান, তাহলে ধরে নিতে পারেন আপনি শীঘ্রই টাকা পেতে চলেছেন।

৪. রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে কাক কিংবা অন্য কোনো পাখি যদি আপনার উপরে ইয়ে করে দেয় তবে বিরক্ত হবেন না, কেননা এতে নাকি অর্থ প্রাপ্তি ঘটে।

৫. ভুল করে উল্টো পোশাক পরায় কেউ হাসি ঠাট্টা করলে কানেই নেবেন না। কেননা ভুল করে উল্টো পোশাক পরা নাকি উপহার লাভের লক্ষণ।

৬. স্বপ্নে যদি সাদা বা সোনালি সাপ দেখেন তবে বুঝবেন শীঘ্রই হাতে টাকা আসার সম্ভাবনা আছে।

৭. ঘুম থেকে উঠেই যদি আপনাকে দেওয়ার জন্য বৌয়ের হাতে চায়ের বদলে দুধ দেখেন তবে ঘ্যান ঘ্যান না করে চেপে যান। ঘুম থেকে উঠেই দই, দুধ বা দুধ জাতীয় খাবার দেখার অর্থ হচ্ছে অচিরেই টাকা আসতে চলেছে।

৮. ঘুম থেকে উঠেই যদি নারকেল কিংবা সাদা রাজহাঁস দেখেন তাহলে বুঝতে হবে খুব শীঘ্রই পকেটে টাকা ধরা দিতে চলেছে।

৯. বেড়াতে যাওয়ার সময় যদি গাড়ির ডানদিকে বাঁদর, সাপ কিংবা অন্য কোনো প্রাণী দেখতে পান তাহলে ভেবে নিতে পারেন খুব শীঘ্রই আপনি ধনী হচ্ছেন।

প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র, লেখক, কালনা, পূূর্ব বর্ধমান:

প্রত্যেক মানুষই তাঁর স্বভাবগত  নিজের পছন্দের কাজটিই করতে চায়। সেই কাজে সে যে সফল হবেই  তার কোন নিশ্চয়তা নেই জেনেও  সে সেই কাজটিই করতে চায় । তাই অনেক বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করেও  মানুষকে দেখি পাহাড়ের ডাকে সাড়া দিয়ে দুর্গমতাকে জয় করতে । পর্বতারোহী পাহাড়ের চূঁড়ায় ওঠার লক্ষে মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে ও  তারজন্য কঠিন কসরৎ করে। সমুদ্রে বিভিন্ন ভয়ঙ্কর মাংসাশী প্রাণী আছে জেনেও সাঁতার কাটে মানুষ। 

আর সেই পছন্দে বাধাপ্রাপ্ত হলে মানুষ ভাবে তার এ জীবন বৃথা হয়েছে। এ সমাজে তাঁর আর কোন  মূল্য নেই। আর এই জায়গা থেকেই জন্ম নেয় ডিপ্রেশন। যদিও এটি একটি কারণ মাত্র। ডিপ্রেশনের অন্যান্য অনেক কারণ ও আছে। ডিপ্রেশনের মত ভয়ঙ্কর ব্যাধি বোধহয় মনুষ্য জীবনে  আর কিছুই নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাব অনুযায়ী ৭.৫% ভারতীয় কোন না কোন কারনে ডিপ্রেশনের শিকার। সংখ্যার হিসাবে প্রায় ৫ কোটি ভারতীয় আজ এই অসুখে আক্রান্ত।

উপরের কারণটি ছাড়াও ডিপ্রেশন, আরো কয়েকটি  কারণে আসতে পারে। তবে অন্যতম কারণগুলির মধ্যে প্রধান কারণ হলো জেনেটিক । অর্থাৎ পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিজনের মধ্যে এ সমস্যা থাকলে এ রোগ হতে পারে।এছাড়াও  মস্তিস্কের সেরাটোনিন ও নরএড্রানালিন এর ঘাটতি এবং অনিয়ন্ত্রিত কর্টিসল হরমোন বৃদ্ধিকে ডিপ্রেশন সৃষ্টির রাসায়নিক ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।

তবে ডিপ্রেশনের অন্যতম আর একটি প্রধান কারণ হলো ব্যক্তির "ব্যক্তিত্ব"।  উদ্বেগপ্রবণ, দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ব্যক্তি, অল্পকিছুকে বড় করে দেখা ব্যক্তি , নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়া এমন স্বভাবের ব্যক্তিদের মনে ডিপ্রেশন আসার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি। এই কারনে জীবনের কোন না কোন সময়ে লক্ষণীয় প্রত্যেক মানুষই একবার অন্তত ডিপ্রেশনের শিকার হয়ে পড়েন।স্নেহবঞ্চিত ও অবহেলাজনিত কারণেও ডিপ্রেশনের শিকার হয়ে পড়েন পূর্ণবয়স্ক মানুষ এমনকি  শিশুও।

এছাড়াও অন্যান্য অনেক কারনেও ডিপ্রেশন আসতে পারে। 

ডিপ্রেশনের প্রধান লক্ষণ বিষন্ন মন, আগ্রহহীনতা, আনন্দহীনতা । তবে এর সঙ্গে, অপরাধবোধ, নৈরাশ্যবাদ, আত্মঘাতী চিন্তা, আত্মসম্মানবোধের অভাব, অরুচী, অনিদ্রা, ক্লান্তি, ওজনে পরিবর্তন, কাজে ধীরগতি ইত্যাদি। মনে অশান্তি, অযথা মনঃকষ্ট, দুশ্চিন্তাবোধ ও মন খালি খালি লাগা, নেতিবাচক মনোভাব, সবকিছুতে হতাশা, নিজের কোনো ভবিষ্যৎ নেই-এমনটি ভাবা। স্মরণশক্তির অভাব, শরীর ও মাথাব্যথা, যৌন বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।

এই  ডিপ্রেশন থেকে বাঁচতে অনেকে অ্যালকোহল পান ও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। তবে এরফলে ডিপ্রেশন বাড়ে বৈ কমে না। আজকাল শিশুরাও ডিপ্রেশনের শিকার হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে মন খারাপ থাকা, ক্রমাগত কান্না করা, স্কুলে কোনো সমস্যা হলে যেতে না চাওয়া, বন্ধু বা আত্নীয়পরিজনের থেকে দুরে থাকা, মৃত্যু চিন্তা, অনিদ্রা, পড়াশুনায় অমনোযোগী, রেজাল্ট খারাপ হওয়া, ক্ষুধার ধরণ বদলে যাওয়া, ওজনের পরিবর্তন ইত্যাদি।

উপরোক্ত সমস্যাগুলো যদি ২ সপ্তাহের অধিককাল স্থায়ী হয় তবে তাকে মেজর ডিপ্রেশন সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এদের মধ্যে যদি স্বল্প সংখ্যক লক্ষণ উপস্থিত থাকে, তবে তাকে মাইনর ডিপ্রেশন ধরা হয়। এই মাইনর ডিপ্রেশন পরবর্তীতে মেজরে পরিণত হয়। ডিপ্রেশন তুলনামুলক ১৮-৪৫ বছর বয়সী ব্যক্তি ও মহিলাদের মধ্যে বেশি পরিলক্ষিত হয়। তবে আত্নহত্যার প্রবণতা পুরুষ ও বয়স্কদের বেলায় বেশি পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে ডিপ্রেশন কত বড় সমস্যা। আগামী পৃথিবীতে এই সমস্যা প্রধান সমস্যার রূপ নিতে চলেছে বলা যায়। 

তাই ডিপ্রেশন দেখা দিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব  মনোচিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে এই ব্যাপারে রুগীর পরিবারকে মুখ্য ভূমিকা নিতে হবে। রোগীর পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের রোগীর প্রতি সহমর্মী হতে হবে।

রোগীকে উপহাস বা অবহেলা করা যাবে না।

ডিপ্রেশনের কোন লক্ষণ দেখা দিলে তাকে মানবিকভাবে বোঝাতে হবে। তার প্রতি মানবিক ভাব প্রকাশ করতে হবে।

ডিপ্রেশন থেকে রক্ষা পেতে আমাদের উচিত জীবনকে ভালোবাসতে শেখা। জীবনের সব পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে চলার মানসিকতা গড়ে তোলা। সর্বদা পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহন, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, হাসি, দুশ্চিন্তা মুক্ত জীবন, বেড়ানো ইত্যাদি ডিপ্রেশনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।

রাগ নিয়ন্ত্রণ করা, পরিবারে সময় দেওয়া, ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়া, সংস্কৃতি চর্চা ইত্যাদি ডিপ্রেশনকে দুরে রাখতে পারে। ডিপ্রেশন থেকে বাঁচতে নিয়মিত প্রাণায়াম ও মেডিটেশন করা অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকের  জীবনে চড়াই-উতরাই আছে, ঘাত প্রতিঘাত আছেই।  এগুলো জীবনেরই একটি অংশ। কোন দুঃখে কাতর না হয়ে আসল বাস্তবতা হিসাবে তাকে চিহ্নিত করে মনে শক্তিধারণ করতে হবে। স্বামী বিবেকানন্দের বাণীগুলিও  ডিপ্রেশন নিরোধনে ভালো কাজ করে। তিনি বারবার তাঁর বিভিন্ন ভাষণে মানুষের জীবনদর্শন কেমন হওয়া উচিত সে কথা বলে গেছেন। কুসংস্কারচ্ছন্ন না হয়ে এক মনে ধ্যান করলেও ডিপ্রেশন কমানো যায়। ঈশ্বর বিশ্বাসী বা নিরীশ্বরবাদী উভয়েই এই ধ্যান, যোগ থেকে মনের প্রশান্তি পেতে পারেন। স্বামীজি রচিত এই গানটি মনে সর্বদা স্মরণে রাখলে ডিপ্রেশন অবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। 

স্বামীজি রচিত গানটি- 

মন চলো নিজ নিকেতনে,

মন চলো নিজ নিকেতনে

সংসার বিদেশে বিদেশীর বেশে

ভ্রম কেন অকারণে

মন চলো নিজ নিকেতনে।

বিষয়-পঞ্চক আর ভূতগণ

সব তোর পর কেহ নয় আপন,

পরপ্রেমে কেন হয়ে অচেতন

ভুলিছ আপনজনে

মনো চলো নিজ নিকেতনে।

সত্যপথে মন কর আরোহণ

প্রেমের আলো জ্বালি চল অনুক্ষণ,

সঙ্গেতে সম্বল রাখো পূণ্যধন

গোপনে অতি যতনে।

লোভ-মোহা আদি পথে দস্যুগণ

পথিকের করে সর্বস্ব মোষণ,

পরম যতনে রাখোরে প্রহরী

শম,দম দুইজনে

মন চলো নিজ নিকেতনে।

সাধুসঙ্গ নামে আছে পান্থধাম

শ্রান্ত হলে তথায় করিবে বিশ্রাম,

পথভ্রান্ত হলে শুধাইবে পথ

সে পান্থনিবাসী জনে।

যদি দেখ পথে ভয়েরই আকার

প্রাণপণে দিও দোহাই রাজার,

সে পথে রাজার প্রবল প্রতাপ

শমণ ডরে যার শাসনে।

মন চলো নিজ নিকেতনে,

মন চলো নিজ নিকেতনে

সংসার বিদেশে বিদেশীর বেশে

ভ্রম কেন অকারণে,

মন চলো নিজ নিকেতনে..

সাজিয়া আক্তার, জয়ে়ন্ট এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

গ্রাম-বাংলার মাঠে-ঘাটে, পুকুরের পাড়ে, পথের ধারে অযত্নে জন্মায় এমন একটি শাক বথুয়া বা বেথো শাক। এ শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফসফরাস, জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বথুয়া বা বেথো শাকের আশ্চর্য কয়েকটি ওষধিগুণ আছে।

জেনে নিই বেথো শাকের গুনাগুণ- 

১. কিডনিতে পাথর হলে প্রতিদিন ১ কাপ বেথো শাকের রস খেতে পারলে উপকার পাওয়া যায়।

২. ত্বকে শ্বেতির মতো সমস্যা নিরাময়ে বেথো শাক অত্যন্ত কার্যকরী! পিত্ত, লিভারের সমস্যা বা মলাশয়ের সমস্যা দূর করতে বেথো শাক খুবই উপকারী।

৩. গরম পানিতে পড়ে ত্বকের কোনও অংশ পুড়ে গেলে বা ফোসকা পড়লে ওই অংশে বেথো শাক বেটে আলতো করে মাখিয়ে দিন। দেখবেন ত্বকের জ্বালা ভাব দ্রুত কমে যাবে।

৪. বেথো শাক চিবিয়ে খেতে পারলে বা হালকা করে রান্না করে খেলে মুখের ঘা চটজলদি সেরে যাবে।

৫. প্রস্রাবের জ্বালাযন্ত্রণা হলে বেথো শাক বেটে তার সঙ্গে ২ চামচ জিরার গুঁড়া, ২ চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে শরবত বানিয়ে খেয়ে দেখুন। দিনে অন্তত দু’বার এই শরবত খেতে পারলে এই সমস্যা কেটে যাবে।

সাজিয়া আক্তার, জয়ে়ন্ট এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

মশলা হিসেবে তেজপাতার যেমন খ্যাতি রয়েছে তেমনি রয়েছে প্রচুর গুণ। এছাড়াও ঔষধি গুণের জন্য খ্যাতি রয়েছে তেজপাতার। জেনে নিই তেজপাতার ঔষধি কিছু গুণের কথা- 

১. গরম পানিতে তেজপাতার গুঁড়া মিশিয়ে খেলে হজমশক্তি বাড়ে। পেট ফাঁপা, বুকজ্বালা, বদহজম এসব থেকেও মিলবে মুক্তি।

২. বাতের ব্যথা থেকে মাইগ্রেনের ব্যথা কিংবা পায়ে চোট লেগে ফুলে গেলে তেজপাতা দেওয়া তেল মালিশ করুন। মাথাব্যথা, মাইগ্রেনের ব্যথাতেও খুব উপকারী তেজপাতার তেল। যদি কারোর বুকে কফ জমার মতো সমস্যা থাকে তখন তুলসী পাতা, তেজপাতা, মধু একসঙ্গে গরম পানিতে দিয়ে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

৩. যাদের ব্রণের সমস্যা রয়েছে তারা চন্দন আর তেজপাতা একসঙ্গে বেটে মুখে লাগাতে পারেন। ফলে দাগ, ছোপ থেকেও যেমন রেহাই পাবেন তেমন ত্বক থাকবে উজ্জ্বল ও সতেজ। এছাড়াও গায়ের দুর্গন্ধ কমায় তেজপাতা।


সুব্রত দাম, ফিচার রাইটার, দুর্গাপুর:

অরোরা মেরুজ্যোতি বা মেরুপ্রভা বা অরোরা অস্ট্রালিস (অরোরা উষা) হলো আকাশে একধরনের প্রাকৃতিক আলোর প্রদর্শনী। যা প্রধানত উঁচু অক্ষাংশের এলাকাগুলোতেই দেখা মেলে। এই অরোরা দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। তবে অরোরাকে নিয়ে প্রাচীনকালে অনেক উপকথা চালু ছিল। যেমন নর্জ উপকথা অনুসারে অরোরা হলো ঈশ্বরের সৃষ্টি সেতু। আবার কিছু কিছু  কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ আছেন যারা মনে করেন তাদের পূর্বপুরুষেরা আকাশে নাচানাচি করে তাই নাকি আকাশের রঙ বদলে যায়।

আমরা সকলে জানি যে সূর্য আমাদের থেকে প্রায় ৯৩ মিলিয়ন মাইল বা প্রায় ১৫০ মিলিয়ন কি.মি. দূরে অবস্থিত। কিন্তু তার প্রভাব বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। সৌরমণ্ডলে সৌরঝড়ের সময় সূর্যের চার্জিত কণা (প্লাজমা) মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এই চার্জিত কণাগুলো যখন পৃথিবীতে পৌঁছায় তখন সেগুলো  পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র এবং বায়ুমন্ডলের সাথে তার প্রতিক্রিয়া ঘটায় এবং পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের অণু-পরমাণুকে আঘাত করে। ফলে  সেই চার্জিত কণাগুলো বায়ুমন্ডলের অণু-পরমাণুগুলোকে তখন আন্দোলিত করে উজ্জ্বল করে তোলে।পরমাণু আন্দোলিত হওয়ার অর্থ হল এই যে, যেহেতু পরমাণু নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসকে আবর্তনকৃত ইলেক্ট্রন দ্বারা গঠিত তাই যখন সূর্য থেকে আগত চার্জিত কণা বায়ুমন্ডলের পরমাণুকে আঘাত করে তখন ইলেক্ট্রনগুলো উচ্চ শক্তিস্তরে (নিউক্লিয়াস থেকে আপেক্ষিকভাবে অনেকদূরে) ঘুরতে শুরু করে। তারপর যখন আবার কোনো ইলেক্ট্রন নিম্ন শক্তিস্তরে চলে আসে তখন সেটি ফোটন বা আলোতে পরিণত হয়।

অরোরসগুলি কেবল পৃথিবীতেই নয়,আমাদের সৌরজগতে যেমন বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুনেও দেখা যায়। এদের প্রত্যেকের ঘন বায়ুমণ্ডল এবং শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্র রয়েছে এবং প্রত্যেকটির অরোর রয়েছে - যদিও এই অরোরগুলি পৃথক অবস্থার অধীনে গঠিত হয়, যদিও তারা পৃথিবীর থেকে কিছুটা আলাদা।

অরোরাতে যা ঘটে তেমনটি ঘটে নিয়নের বাতিতেও। নিয়ন টিউবের মধ্যে নিয়ন গ্যাসের পরমাণুগুলোকে আন্দোলিত করবার জন্য ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ। তাই নিয়নের বাতিগুলো এরকম উচ্চ মানের রঙ্গিন আলো দেয়। অরোরাও ঠিক এভাবে কাজ করে-তবে এটি আরো বড় মাত্রায় হয়। অরোরাগুলো মাঝে মাঝে আলোর পর্দার মতো দেখায়। তবে এরা গোলাকার অথবা সর্পিল বা বাঁকানোও হতে পারে। বেশিরভাগ অরোরাতে সবুজ রঙ এবং গোলাপী রঙ দেখা যায়। তবে অনেকসময় সেগুলি লাল রঙ বা বেগুনী রঙেরও হতে পারে।

এই অরোরা সাধারণত আমরা দেখতে পাই দক্ষিণ ও উত্তরের দেশগুলোতে যেমন কানাডা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, গ্রীনল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে অরোরার দেখা মেলে। মানব ইতিহাস জুড়ে অরোরার রঙ গুলো রহস্যময়। বিভিন্ন মাইথোলোজিতে বিভিন্ন কুসংস্কার 

উল্লেখ করা হয়েছে এই নিয়ে। তবে বিজ্ঞান বলে আমাদের বায়ুমন্ডলের গ্যাসগুলোই হলো অরোরার বিভিন্ন রঙের কারণ। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে অরোরার সবুজ রঙের কারণ হলো অক্সিজেন আবার অরোরার লাল এবং নীল রঙের জন্য দায়ী হলো নাইট্রোজেন গ্যাস।

১৬১৬ সালের প্রথমদিকে জ্যোতির্বিদ গ্যালিলিও গ্যালিলি পৌরাণিক রোমীয় দেবী অরোরার নাম ও উত্তর বায়ুর গ্রীক নাম বোরিয়াস নাম ধরে এগুলি বর্ণনা করার জন্য অরোরা বোরিয়ালিস নামটি ব্যবহার করেছিলেন।

সাজিয়া আক্তার, জয়ে়ন্ট এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

আপনি যদি যথেষ্ট পরিমাণ ডিম, মাছ, মাংস, বাদাম, দুধ এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার না খান তাহলে আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের উপর সেটা প্রভাব পড়বে। কয়েকটি লক্ষণ দেখে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আপনার শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি আছে।

জেনে নেয়া যাক কীভাবে বুঝবেন শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি আছে.......         

১. দুর্বল ও ক্ষুধার্ত বোধ করা

নিয়মিত প্রোটিন নিলে আপনার শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ শক্তি থাকবে এবং আপনি একটু পরপরই ক্ষুধার্ত বোধ করবেন না। প্রোটিন না নিলে এর উল্টোটা ঘটে।

২. ওজন না কমা
ওজন কমানো মানে খাবার কমিয়ে দেয়া না। আর প্রোটিন তো একদমই না। শরীরের চর্বি কমানোর জন্য নিয়মিত প্রোটিন গ্রহণের বিকল্প নেই। প্রোটিন যদি কম খান, তাহলে আপনি যতোই শরীরচর্চা অথবা ডায়েট করেন না কেন, ওজন কমাতে পারবেন না।
৩. চুল ঝড়া
সকাল বেলায় মাথায় হাত বুলাতে গিয়ে খেয়াল করছেন হাতের সাথে এক গোছা চুল বেরিয়ে আসছে। এরকম লক্ষণ দেখলে ধরেই নিন আপনি প্রোটিন স্বল্পতায় ভুগছেন।

৪. ঘনঘন অসুস্থ হওয়া
যদি আপনি পরিমিত খাবার গ্রহণ না করেন তাহলে আপনি অসুস্থ হবেনই। আর প্রোটিন হচ্ছে প্রতিদিনকার সুষম খাবারের অন্যতম একটি খাদ্য উপাদান। যদি ঘন ঘন শারীরিক অসুস্থতা লেগেই থাকে তাহলে প্রোটিন স্বল্পতায় ভুগছেন।

৫. পা ফেটে যায়
প্রোটিন আপনার রক্তকণিকাগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত লবণ এবং পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। যদি প্রোটিন স্বল্পতা থাকে তাহলে ফ্লুইড পার্শ্ববর্তী টিস্যুগুলোতে ঢুকে যায়। হার্ভার্ড হেলথ পাবলিকেশনের বরাতে জানা যায়, এ কারণেই প্রোটিন স্বল্পতার জন্য অনেকের পা ফেটে যায়।

৬. ত্বকের প্রদাহ
প্রোটিন স্বল্পতার জন্য মাঝেমাঝে ত্বকের প্রদাহসহ চুলকানি ও এলার্জি হতে পারে। বিশেষ করে ত্বকের এ সমস্যাটি হয়ে থাকে আপনার উরু ও পশ্চাৎদেশে।

সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিচার রাইটার ও শিক্ষিকা, শিবপুর, হাওড়া:

করোনা আবহে বিষাদের সংখ‍্যা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।মনখারাপ চারিদিকে। দুর্গোৎসব এসে গেল। সম্বৎসর অপেক্ষায় থাকি। আর মাত্র কদিন বাদেই ঢাকে কাঠি পড়বে। তবুও মনে কোনো তাপ উত্তাপ পাচ্ছি না।  অন‍্যবার এসময় পুজো হয়ে যায় বা কখনো কখনো আশ্বিন কার্তিক এই দুমাসে পুজো হয়েছে অর্থাৎ  আশ্বিনের সংক্রান্তিতে নবমী হয়েছে বা দশমী। এবার   আশ্বিন ছিল মল মাস। তাই পুজো বেশ দেরিতে। কিন্তু পুজো নিয়ে আলাদা কোনো উন্মাদনাকে মনে জায়গা দিই নি। কেন দেব? উৎসব, উদযাপন, উদ্দীপনা তখনই আসে যখন মনে আনন্দ আসে। কিন্তু চারিদিকে বিষণ্নতা, মৃত্যুর মিছিল। তাই এবছর কোনো কিছুতেই সামিল হলাম না। তবে বিষণ্নতার মাঝে পুরোনো কিছু ভালোবাসার স্মৃতি মনে কেমন যেন মৃদুমন্দ দক্ষিণা বাতাসের স্নিগ্ধতা এনে দেয়। সেই রকম একটা স্মৃতি হল নলসংক্রান্তি।

গ্রামীণ বাংলার এক বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য নলসংক্রান্তি বা আশ্বিনের সংক্রান্তি। এই উৎসবকে  অনেকে ডাকসংক্রান্তিও বলেন।

কিন্তু কি এই নলসংক্রান্তি? চলতি কথায় এ হল ধানগাছের সাধভক্ষণ। আসন্ন প্রসবাকে যেমন সাধ খাওয়ানো হয় ঠিক সে রকম সশীষ ধানকেও আসন্ন প্রসবা হিসেবে গণ‍্য করে তাকে ধূমধাম করে বিধি মেনে বিভিন্ন উপাচার দিয়ে সাধ খাওয়ানো হয়। 

আশ্বিন থেকে কার্তিক মাস এই দুমাসকে ধানের গর্ভ কাল বলে ধরা হয়। নলগাছ বহু প্রজনন ক্ষমতার অধিকারী। গাঁ গঞ্জের সরল মানুষ আশা করেন তাদের ধানগাছ গুলোও নল গাছের মত প্রজনন ক্ষমতার অধিকারি হয়ে সুজলা সুফলা হবে। স্বর্ণশস‍্যে যেন  ধানের গোলা যেন ভরে ওঠে। 

এখনো মনে পড়ে আশ্বিনের শেষদিনে বেশ গা শিরশির ঠাণ্ডা থাকত। কুয়াশা গাঢ় না হলেও থাকত। হলুদ মেখে স্নান করে ছোটা হত জমিতে নলগাছ পুঁততে। ওখানেই পুজো হত। তখন অবশ‍্য সাধ খাওয়ার ব‍্যাপার বুঝতাম না। তালের আঁটির ভেতর প্রসাদ খাওয়া হত।

নলগাছের সাথে বোড় গাছের পাতায় মোড়া হত নিম, হলুদ, আদা, কেতকী পাতা, কালোমেঘ, বেলপাতা, সিঁদুরের এক  মিশ্রণ। একেই বলা হত বরোজ। এই বরোজই নল গাছে বাঁধা হয়। (অঞ্চল ভেদে পার্থক্য থাকতে পারে) আজ কংক্রিটের জঙ্গলে বসে সবুজ ক্ষেত, আলপথ, মেঠোসুরের গান খুউব মিস করি।

এরপরের উপাচার ছিল "আলুই খাওয়া"। এই প্রথাটা বিশেষত বাঁকুড়া মেদিনীপুর ইত‍্যাদি জায়গায় প্রচলিত। আলুই হল বিভিন্ন গাছ গাছড়ার শেকড় বা পাতা বেটে তৈরি ভেষজ খাদ‍্য বিশেষ। যা অবশ্যই বিধি মেনে বানানো হত। এই সময়টা আসলে আবহওয়া  পরিবর্তনের সময। ফলে রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে প্রবলভাবে। তাই এসবের হাত থেকে বাঁচার উপায় হিসাবে কৃষিজীবী মানুষজন ধর্মীয় বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে সুস্থ থাকার চেষ্টা করত। আসলে নলসংক্রান্তি হল গ্রাম‍্য আচার উপাচারকে কাজে লাগিয়ে বাস্তব চিন্তাভাবনার একটা বহিঃপ্রকাশ।

এ হল প্রাচীন ভাবধারার অবৈজ্ঞানিক ভাবে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা ভাবনা। 

এই নলসংক্রান্তি কোচবিহার, জলপাইগুড়ি জেলার রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষজন “লক্ষ্মীর ডাক” বলে থাকেন। আবার আসামে আশ্বিনের সংক্রান্তিতে শুরু হয় কাতি বিহু। আবার আজ থেকেই পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে জ্বালাই আকাশপ্রদীপ। 

নলসংক্রান্তি বা ডাক সংক্রান্তি যাই বলা হোক না কেন শুভ উদ্দেশ্যে পালিত উৎসবের পুণ‍্যতিথিতে শুধু বলি এই পৃথিবী করোনা মুক্ত হোক। বিষাদ কেটে যাক।পৃথিবী সুজলা সুফলা হোক। মানুষের কল‍্যাণ হোক।


সাজিয়া আক্তার, জয়ে়ন্ট এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

পৃথিবীতে সবাই প্রায় ধনী হতে চায়। সচ্ছলতা ও বিলাসিতার জীবন কাটাতে মানুষ অক্লান্ত পরিশ্রমও করে। তবে কেউ কেউ সফল হন, আর অনেকেই রয়ে যায় ব্যর্থ। তবে মানুষের ভবিষ্যৎ কতটা ভালো হবে তা নির্ভর করে তার কর্মের উপর। আর বাকিটা হলো ভাগ্য। যা আগে থেকেই নির্ধারণ করা থাকে। তবে ভাগ্য বদলের ক্ষেত্রেও কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।

সমুদ্রশাস্ত্র মতে, ভাগ্য বা ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার মতো কিছু বিষয় মানুষ জন্মগতভাবে নিজের মধ্যে পেয়ে থাকে। যার একটি মাধ্যম হলো তিল। শরীরে বিভিন্ন জায়গায় তিলের অবস্থান ভবিষ্যৎ সস্পর্কে শুভ-অশুভ অনেক কিছুই ইঙ্গিত দিয়ে থাকে।

তিলতত্ত্বের মতে, শরীরের বিভিন্ন স্থানের তিল বলে দিতে পারে ভবিষ্যতে কী আছে আপনার ভাগ্যে। কিংবা শরীরের কোথায় তিল থাকলে কী হয় তা তিল দেখে আগাম জানা যায়। শুধু তার সঠিক অর্থ বুঝে নিতে হবে। শরীরে কিছু কিছু জায়গা আছে যেখানে তিল থাকা মানেই ধনী হওয়ার লক্ষণ।

 তবে জেনে নেয়া যাক কোথায় কোথায় তিল থাকলে সম্পত্তি লাভ বা অর্থলাভের পথ সুগম হয়-

১. ঠোঁটের ঠিক ওপরেই তিল : এমন স্থানে তিল থাকলে বুঝতে হবে খুব অল্প বয়স থেকেই সেই নারী বা পুরুষ প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী হয়ে উঠবেন। এই স্থানে থাকা তিলের ব্যক্তিরা একটু জেদি স্বভাবের হইয়ে থাকেন।

২. নাকের ডানদিকে তিল থাকা মানুষটির ধনী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। ৩০ বছর বয়স থেকেই এরা সাফল্যের সিঁড়ি চড়তে থাকেন।

৩. যাদের কোমরে তিল থাকে তাদের ধনী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। দিন দিন তাদের সম্পত্তি সমৃদ্ধি হতে থাকে।

৪. বিয়ের পর অনেকেই প্রচুর সম্পদের মালিক হন। এক্ষেত্রে যাদের শরীরে যে কোনো স্থানে গাঢ় রঙের ও ছোট্ট আকারের তিল থাকে, তাহলে বুঝে নিন সেই নারী কিংবা পুরুষ বিয়ের পর ধনী হতে চলেছেন। 

৫. যদি কারো ডান হাতের চেটোতে তিল থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি খুব অল্প বয়স থেকেই সম্পত্তি পেতে থাকেন। ফলে সহজেই তাদের ধনী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৬. নাভির আশেপাশে বা চিবুকে তিল থাকা মানেও ধনী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

৭. বুকে তিল থাকলে সেই নারী বা পুরুষ সহজে ধনী হন। পাশাপাশি এরা খুবই শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করেন।

৮. এছাড়া কানের আশেপাশে তিল থাকলেও তার ধনী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

সাজিয়া আক্তার, জয়ে়ন্ট এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

গত ২০ বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জন্য ‘বসবাস অযোগ্য’ নরকে পরিণত হয়ে উঠছে বলে পৃথিবী, বলে কড়া সতর্কতা উচ্চারণ করেছে জাতিসংঘ। জলবায়ু সংকটকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে জাতিসংঘ বলছে, বিশ্ব নেতারা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

গত ১২ অক্টোবর জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত অফিস ইউএনডিআরআরের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমনে ফলপ্রসূ ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের ব্যর্থতায় এই গ্রহ ধীরে ধীরে কোটি কোটি মানুষের জন্য বসবাস অযোগ্য নরকে পরিণত হচ্ছে।

সংস্থাটি বলছে, সঠিক সময়ে দুর্যোগ প্রশমনে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের অদূরদর্শিতার কারণে গেল ২০ বছরে পৃথিবীতে আবহাওয়া জনিত ঘটনাপ্রবাহ নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তাপ দাহ আর খরায় আগামী দশকে নরকে রূপ নেবে সুজলা-সুফলা সবুজ এই পৃথিবী।

১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনে দেয়া হয়েছে এই সর্তকতা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ যথাযথভাবে না মানার কারণে প্রতিবেদনটিতে করোনা ভাইরাসে সমগ্র বিশ্বে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য স্ব-স্ব দেশগুলোকে দায়ী করা হয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দশকে সবচেয়ে ভয়াবহ হুমকি হিসেবে দেখা দেবে তাপ প্রবাহ এবং খরা। আবহাওয়াকে উত্তপ্ত করে তোলা গ্যাসের ব্যবহার বাড়ার কারণেই তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে খরা, দাবানল, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি ও হ্যারিকেনসহ বিশ্বে সাত হাজার ৩৪৮টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে। এসব দুর্যোগে মারা গেছে প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪২০ কোটির বেশি মানুষ।’ দুই দশকের এসব দুর্যোগে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই লাখ ৯৭ হাজার কোটি ডলার।

তবে দুর্যোগের ব্যাপারে আগাম প্রস্তুতি এবং সতর্কবার্তা প্রদান ব্যবস্থার কারণে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ কিছু জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এর মধ্যে বাংলাদেশ এবং ভারতের মতো কিছু দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর বন্যা ও সাইক্লোন মোকাবিলার উন্নত প্রস্তুতির কারণে অনেক মানুষের জীবন বাঁচানো গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিচার রাইটার ও শিক্ষিকা, শিবপুর, হাওড়া:

আমার ছাত্রী কৌশিকীর মন খারাপ খুব।এতটাই খারাপ  সে পড়াশোনায় মন দিতেই  পারছে না। e-ক্লাসরুম ওর কাছে একেবারেই অসহ‍্য। একদিন ওকে জিজ্ঞাসা করলাম "কি হয়েছে তোর?

ওর উত্তর টা জানার আগে বলি যেএখন eEducation eTeaching e Learning খুব চেনা শব্দ। করোনা আবহে এই eমার্কা শিক্ষা ব‍্যবস্থার বাজারে কাটতি এখন খুব ঐ আগমার্কা জিনিস পত্রের মতো। করোনা আবহে যখন চারিদিকে দিশেহারা অবস্থা তখন এই eTeaching /eLearning নিয়ে কিছু বলতে ইচ্ছে করল। 

এই কিছু বছর আগেও একটা generation স্কুল কে ইস্কুল বলত। বলা উচিত  ইসকুল বলবে বলেই বলত কখনো স্কুল তারা বলত না।  অনেকে এখন ভালবেসেই ইস্কুল উচ্চারণ  করেন। অঞ্জন দত্তের গানটা"...চশমাটা পড়ে গেলে মুশকিলে পড়ি, দাদা আমি এখনো যে ইস্কুলে পড়ি।" 

কিন্তু কি আশ্চর্য সমাপতন ছাত্রছাত্রীরা এখন eস্কুলেই পড়ে আমরা পড়াই।  

এই যে একটা ভার্চুয়াল দুনিয়া আগে যান্ত্রিক দুনিয়া কথাটা বলতাম বা যান্ত্রিক জীবন। কিন্তু এখন ভার্চুয়াল জগত। এই ভার্চুয়াল জগত কতটা গ্রহণযোগ‍্য এইটাই প্রশ্ন? ভার্চুয়াল প্ল‍্যাটফর্ম হিসেবে  ফেসবুক অত্যন্ত জনপ্রিয়। 

ভার্চুয়াল মিটিং, ভার্চুয়াল অফিস তবু চলতে পারে কিন্তু ভার্চুয়াল টিচিং /লার্নিংয়ের মাধ‍্যমে  কি প্রকৃত পাঠদান হয় বিশেষ করে যারা স্কুলপড়ুয়া। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিণত পড়ুয়াদের কথা বলছি না। 

প্রতিদিন আমি সকালে ল‍্যাপটপে পাঠদান শুরু করি। নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাচ্চাগুলো online য়ে ঝুলে আছে। কেউ ঝোলার চেষ্টা করছে (trying to be connected) কেউ ঝুলতে পারেনি (for network issue) আবার কেউ ঝুলতে গিয়ে ছিটকে গেছে (disconnected ).

তারপর যারা সৌভাগ্যক্রমে বা দুর্ভাগ্যক্রমে ঝুলে আছে তাদের কেউ কেউ দেখি শুয়ে ক্লাস করছে, কেউ প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে। কোনো কোনো বাচ্চা ডিগবাজি খেয়ে নিল। কারোর ফোন খোলা কিন্তু সে ফোনের চার পাশে নেই। কেউ কেউ এটা সেটা নিয়ে খেলছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সরলমতি বাচ্চারা বাড়ির পরিবেশে বসে আছে। সেখানে ক্লাসরুম অনুভূতি আসতে পারে না। প্রতিদিন এইভাবে পড়া পড়া খেলা হচ্ছে।

আবার গ্রামের বাচ্চাদের কথা ভাবুন তাদের তো স্মার্টফোন নেই ল‍্যাপটপ তো দূরহস্ত। খবরের কাগজে পড়ি এমন গ্রামও আছে যেখানে এখনো বিদ‍্যুৎ নেই। সেখানে ফোনের চার্জ দিতে সাঁতরে অন‍্য গ্রামে যেতে হয়। এটাই আমাদের চেনা চিত্র অথচ আমরা নাকি ডিজিট‍্যাল হচ্ছি। সেই বিজ্ঞাপনটার কথা মনে হয় "দেখো আমি বাড়ছি মাম্মি"জোর করে বলতে হবে "Digital India"।

আবার কারোর কাছে নেট মানে সত‍্যিকারের জাল যা দিয়ে তারা মাছ ধরে। জীবিকার জন‍্য তারা সেই "জালে"আটকে। পেটের তাগিদে সেই জাল থেকে বেরিয়ে অর্ন্তজালে ঢোকার চেষ্টা করবে কি করে। 

প্রাক করোনাকাল কে এখন সেকাল (অতীত কাল) আর উত্তর করোনা কালকে ভবিষ্যৎ কাল বলি, তাহলে করোনাকালকে একাল (বর্তমান কাল) বলতে হয়। আর এখানেই দ্বন্দ্ব শুরু মানে শিক্ষার সেকাল আর একাল নিয়ে। 

সেকালে ছাত্ররা পরীক্ষা দিয়ে মাধ‍্যমিক উচ্চমাধ‍্যমিক পাশ করত। আর একালে পরীক্ষা না দিয়েও ফুলমার্কস পাওয়া যায়। (সরল ছাত্রছাত্রীদের ব‍্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে কেউ দেখবেন না) ফুলমার্কস পাওয়াটা কিন্তু একরকম বঞ্চনা। প্রকৃত মূল‍্যায়ন না হওয়ার একটা উপশমকারী মলম হল ফুলমার্কস। 

একজন শিক্ষিকা হয়ে বলতে পারি ভার্চুয়াল ক্লাস করে কেউ কেউ ভাবল "দুনিয়া মুঠোর মধ‍্যে"। ভার্চুয়াল দুনিয়াটা কারোর কারোর কাছে ভিনগ্রহের অচিন দুনিয়া হয়েই রয়ে গেল। ওদের কাছে স্কুলটা ইস্কুল হয়েই রইল "eস্কুল" আর হল কই?

আর্থসামাজিক ব‍্যবধান সবসময় ছিল কিন্তু করোনা আবহে এই ব‍্যাপারটা আরও প্রকট হল। শিক্ষা ব‍্যবস্থাটা এখন শুধু করোনা না অনেক দূরারোগ‍্য ব‍্যধিতে আক্রান্ত। 

উত্তরকরোনা শিক্ষাবর্ষের অপেক্ষায় রইলাম। 

ওহ‍্যাঁ, আপনারা কৌশিকী কি বলেছিল তা ভাবছেন তো! সে বলেছিল "ম‍্যাম eক্লাসে সবাই আছে অথচ কেউ নেই। একসাথে টিফিন খাওয়া নেই, খেলা নেই, আড়িভাব নেই, পেন পেনসিল নিয়ে ঝগড়া নেই। আর নাকি ম‍্যামের গায়ের গন্ধ নেই।"

আমি নিরুত্তর ছিলাম নিরুপায় বলে।

সাজিয়া আক্তার, জয়ে়ন্ট এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

প্রায় সব মানুষেই বেশিদিন বেঁচে থাকতে চান । তবে এমন অনেক কাজ আছে যেগুলো আমাদের অজান্তে আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে। জেনে নিই কাজগুলো কী কী-

১. একা থাকা 

অনেকে একা থাকতে পছন্দ করেন। মনে করেন এতে করে চাপ এড়ানো যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একা থাকা মানে জীবনের সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য থেকে বঞ্চিত হওয়া – যা আয়ু কমায়। দিনে ১৫টি সিগারেট খেলে স্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হয়, পর্যাপ্ত সামাজিক যোগাযোগ না করলেও সেরকম ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন মনোবিজ্ঞানী জুলিয়ান হোল্ট-লুনস্টাড।

২. টিভি দেখা

ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, ২৫ বছরের বেশি বয়সীরা এক ঘণ্টা টিভি, ডিভিডি বা ভিডিও দেখলে তাদের জীবনের আয়ু প্রায় ২২ মিনিট কমে যেতে পারে। দিনে গড়ে ছয় ঘণ্টা করে টিভি দেখলে তার জীবন থেকে পাঁচ বছর চলে যেতে পারে। 

৩. যৌন সম্পর্ক

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের একটি গবেষণায় জানা যায়, যেসব পুরুষ মাসে কমপক্ষে একবারও যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হননি তাদের মারা যাওয়ার সম্ভাবনা, যারা সপ্তাহে অন্তত একদিন যৌন সম্পর্ক করেছেন, তাদের চেয়ে দ্বিগুণ। ডিউক ইউনিভার্সিটির গবেষণা বলছে, যেসব নারীর আনন্দময় যৌন জীবন রয়েছেন তারা অন্যদের চেয়ে প্রায় আট বছর বেশি বাঁচেন।

৪. বসে থাকা

অ্যামেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’র জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, দিনে গড়ে ১১ ঘণ্টার বেশি সময় বসে থাকা মানে পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যাওয়া।

৫. অতিরিক্ত ব্যায়াম

ব্যায়াম করা শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু সেটা বেশি হয়ে গেলেই বিপদ। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ব্যায়াম করা উচিত।

৬. বেকারত্ব

ক্যানাডার গবেষকরা বলছেন, একজন মানুষ বেকার থাকা মানে তার অকালমৃত্যুর সম্ভাবনা ৬৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়া। ১৫টি দেশের প্রায় ২০ মিলিয়ন মানুষের ৪০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা৷

৭. ঘুমানো

দিনে আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ঘুমানো ঠিক নয় বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, ধারাবাহিকভাবে এত সময় ধরে ঘুমানো স্বাস্থ্যকর নয়। দিনে সর্বোচ্চ সাত ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেন তারা।


প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র, লেখক, কালনা:

ব্যান্ডেল থেকে রেলপথে  কাটোয়া লোকালে চরে মাত্র দেড় ঘন্টায়  পৌঁছে যাওয়া যায় নদীয়া জেলার এই প্রাচীন জনপদে। নবদ্বীপের নাম শোনেননি এমন মানুষ এদেশে নেই বললেই চলে। নবদ্বীপ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদিয়া জেলার একটি সুপ্রাচীন শহর । নবদ্বীপ চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান ও লীলাক্ষেত্র। বাংলায় সেন রাজাদের আমলে (১১৫৯ - ১২০৬) এই নবদ্বীপ ছিল বাংলার রাজধানী। ১২০২ সালে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সময় বখতিয়ার খলজি নবদ্বীপ জয় করেন ও   বাংলায় মুসলিম সাম্রাজ্যের পত্তন করেন। নবদ্বীপ ছিল সেই সময় থেকেই বিদ্যালাভের অন্যতম পীঠস্থান। তাই নবদ্বীপকে একসময়  বলা হতো বাংলার অক্সফোর্ড।

এই জনপদ ধন্য হয়েছে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু, রঘুনন্দন, কৃষ্ণচন্দ্র আগমবাগিস, ধোয়ী, উমাপতি, বিষ্ণুপ্রিয়া, প্রসন্ন চন্দ্র ন্যায়রত্ন ও প্রসন্ন চন্দ্র তর্ক রত্নের মত দিকপালদের জন্মগ্রহণের মধ্য দিয়ে। বরাবরই এই শহর শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশের অন্যতম পীঠস্থান। একসময় চৈতন্যের আবির্ভাবের পর কৃষ্ণ ভাবপ্রচারে এই শহর সারা দেশে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। অনেকে এই শহরকে বাংলার বৃন্দাবন বলেন। এই শহরকে কেন্দ্র করে অসংখ্য মঠ ও মন্দির গড়ে উঠেছে। এই কারনেই দেশবিদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ ভিড় করেন এই শহরে। গঙ্গা নদীর ওপর পারে মায়াপুরে ISKCON এর মন্দির এই শহরের আরো এক আকর্ষণ। 

নবদ্বীপের দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম দর্শনীয় স্থান  বুড়োশিব মন্দির।  এটি দ্বিশতাধিক কালের  প্রাচীন শিব মন্দির। বাংলার মন্দির স্থাপত্য রীতির নবরত্ন ধারায় মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে। মন্দিরটি দ্বিশতাধিক বর্ষ প্রাচীন হলেও শিব মূর্তিটি আরো বেশি প্রাচীনত্বের স্মৃতি বহন করছে। বুড়োশিবের আদি প্রাচীন মন্দিরটি কৃষ্ণকান্ত শিরোমণি ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে তারাপ্রসন্ন চূড়ামণির প্রচেষ্টায় বর্তমান "নবরত্ন' মন্দিরটি নির্মিত হয় ।  নবদ্বীপের জনৈক প্রবীণ নাগরিকের কাছ থেকে জানি মন্দিরের বারান্দা এবং চূড়াগুলির নির্মাণ ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে হলেও গর্ভগৃহটি প্রাচীন, পাতলা টালি ইটের নির্মিত। একসময় এই পোড়ামাতলায় হত শিবের বিয়ে। বাসন্তীপুজোর দশমীর ভোরে বুড়োশিব আর যোগনাথ শিবের জোড়া বিয়ে হত। বিয়েতে স্ত্রী আচার, জলসাধা থেকে কোঁচানো ধুতি পরে বরযাত্রী যাওয়া কিংবা মালাবদল, কোনও কিছুই বাদ যেত না। তারপর চলত ঢালাও ভুরিভোজ।

ভবতারণ শিব মন্দির নবদ্বীপ শহরের দ্বিশতাধিক প্রাচীন একটি শিব মন্দির। নবদ্বীপের পোড়ামাতলায় এই মন্দিরের পাশেই পোড়ামা কালী মন্দির ও মা ভবতারিণী মন্দির অবস্থিত। ভবতারণ মন্দিরটি বিরলরীতির অষ্টকোনাকৃতি শিখর মন্দির।

নবদ্বীপে গৌরীপট্ট সম্বলিত ব্রাহ্মণ্য-সংস্কৃতির প্রথম শিব মূর্তিটি ১৬৮৩ থেকে ১৬৯৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রাজা রুদ্র রায় স্থাপন করেছিলেন। রাজা রাঘব গণেশ মূর্তি স্থাপনের সঙ্গে একটি শিবলিঙ্গও সেই সময়েই স্থাপন করেন। তখন সেটি রাঘবেশ্বর শিব নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দের গঙ্গার ভাঙনে এই মন্দিরসহ মূর্তিটি গঙ্গাগর্ভে নিমজ্জিত হয়। তার প্রায় ৬৫ বছর পর রাজা গিরিশচন্দ্র ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দে পোড়ামাতলায় শিব মূর্তিটি ভবতারণ মানে পুন:স্থাপিত করেন, যা বর্তমানে ভবতারণ শিব মানে পরিচিত। নবদ্বীপ বাজারের অভ্যন্তরে এই পোড়া মা তলা ও তথায় বহুপ্রাচীন বটগাছটি দর্শনার্থীদের কাছে বিস্ময়ের। পোড়া মা এই বটগাছটির বহু শিকড়ের তলায় অধিষ্ঠিত। পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাসুদেব সার্বভৌম নামক এক পণ্ডিত নবদ্বীপ শহরের এক বটবৃক্ষতলে দক্ষিণাকালীর ঘট স্থাপন করেন। কোন এক সময়ে বটগাছটি অগ্নিদগ্ধ হলে এই কালী পোড়ামা নামে জনপ্রিয় হন।

অন্য মতে, বাসুদেব সার্বভৌম এর বহু পূর্বে জনৈক রামভদ্র সিদ্ধান্তবাগীশ (কুসুমাঞ্জলি গ্রন্থের 'রামভদ্রি' টীকাকার) দক্ষিণাকালীর সাধক ছিলেন। গোপাল মন্ত্রে সিদ্ধ অন্য এক পণ্ডিতের সঙ্গে তার শাস্ত্রীয় বিচার হয়। পরাজিত ব্যক্তি বিজয়ীর মন্ত্রশিষ্য হবেন, উভয়ে এই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। সিদ্ধান্তবাগীশ, পরাজিত হয়ে প্রতিজ্ঞামতো তার ইষ্টমন্ত্র ত্যাগ করতে উদ্যত হলে, ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডে তার ইটের বাড়ি ভস্মীভূত হতে থাকে এবং মন্দিরের মধ্যে দেবীর করালমূর্তি তার দর্শনগোচর হয়, দেবীর কোলে গোপাল উপবিষ্ট। মন্ত্রশোধিত জল ছড়িয়ে আগুন নিভলে সাধক নিজে বেঁচে যান এবং তার মন্দিরে দু'খানি মাত্র ইট অবশিষ্ট থাকে। এই ইট দুখানা আজও পোড়া-মার আধার হয়ে রয়েছে এবং তার উপরেই ঘটস্থাপন করে পূজা হয়।

নবদ্বীপে যাবেন আর সোনার গৌরাঙ্গ মন্দির দর্শন করবেন না এমন হয় না। অসংখ্য মন্দির নবদ্বীপে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। প্রায় দেড় শতাধিক মন্দির গড়ে উঠেছে নবদ্বীপ শহরে। তার মধ্যে সোনার গৌরাঙ্গ মন্দির অবশ্যই দেখুন।বছরের আর পাঁচটা দিন তিনি ধামেশ্বর মহাপ্রভু, ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য। তবে জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী অর্থাৎ জামাইষষ্ঠীর দিনে তিনি মহাপ্রভু মন্দিরের সেবাইতদের কাছে ‘জামাতা’। ঘরের মেয়ে বিষ্ণুপ্রিয়ার স্বামী। বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর ভাইয়ের বংশের উত্তরপুরুষেরা বংশ পরম্পরা মহাপ্রভু মন্দিরের সেবা পুজোর অধিকারী। সারা বছর ভোর থেকে রাত ঘড়ির কাঁটা ধরে হয় তাঁর ‘আত্মবৎ’ নিত্যসেবা। তখন তিনি ভক্তের ভগবান। জামাইষষ্ঠীর দিন সেই নিমাই  হয়ে ওঠেন নবদ্বীপের জামাই। নবদ্বীপের মহাপ্রভু মন্দিরে কয়েকশো বছর ধরে চলে আসছে এই রীতি রেওয়াজ।  ষষ্ঠীদাস গোস্বামীর আমল থেকে জামাইষষ্ঠী পালন শুরু হয়েছিল মহাপ্রভু মন্দিরে। ষষ্ঠীদাস ছিলেন বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর ভাই মাধবাচার্যের  তৃতীয় পুরুষ। অর্থাৎ প্রায় ৩৫০ বছর ধরে চলে আসছে এই প্রথা।” আর কোথাও মহাপ্রভুকে এ ভাবে সেবা করা হয় না। ওইদিন ভোর সাড়ে পাঁচটায় মঙ্গলারতি হয় কীর্তন সহযোগে। আর পাঁচ দিনের মতোই এই দিনও এই মন্দিরে গাওয়া হয়-

‘‘উঠো উঠো গোরাচাঁদ নিশি পোহাইলো,

 নদিয়ার লোক সবে জাগিয়া উঠিল...’’। 

আমাদের দেশে ভগবানকে  পিতা, মাতা, সন্তান বলে পুজোর রীতি দীর্ঘদিন যাবৎ চালু আছে । তবে জামাই বলে দেবতাকে আপন করে নেওয়ার রীতি নবদ্বীপ ছাড়া অন্য কোথাও বড় একটা দেখা যায় না। 

নিমাইয়ের জন্ম নিয়ে নবদ্বীপে এলে দুটি স্থানের নাম শোনা যায়। কেউ বলেন নিমাই জন্মেছেন প্রাচীন মায়াপুরে । এই প্রাচীন মায়াপুরে নিমাইয়ের জন্মস্থান দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের। আজ সে জায়গায় সুন্দর একটি মন্দির গড়ে উঠেছে। এই মন্দির থেকে পায়ে হেঁটে ৫ মিনিটের পথ গেলে শ্রীচৈতন্যের বড় আবক্ষ মুর্তিটিও বেশ সুন্দর। 

তবে, অনেকে মনে করেন নিমাই মায়াপুরে জন্মেছিলেন। নবদ্বীপ থেকে লঞ্চ পেরিয়ে মায়াপুরে গেলে নিমাইয়ের জন্মস্থানে সেই মন্দিরটিও দর্শন করতে পারেন।  ওই মন্দির ISKCON  মন্দিরের পরেই। ISKCON কথাটির বাংলা অর্থ 'আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সঙ্ঘ।' শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ ১৯৬৬ সালে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে এই ধর্মীয় সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। একে হরেকৃষ্ণ আন্দোলন (The Harekrishna Movement Organization) ও বলা হয়। ইসকনের উদ্দেশ্য বিশ্বব্যাপী বিশেষত ইংরাজী ভাষার মাধ্যমে ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবত অনুসারে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা কীর্তন করা, মানুষকে ঈশ্বর সম্পর্কে সচেতন করা ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। আধ্যাত্মিকতা ধর্মচর্চা ও ভগবৎতত্ত্ব প্রচার ছাড়াও মানব সমাজের উন্নতিতে যোগ, শিক্ষা ও নানান জনসেবা মূলক কাজকর্ম ইসকন করে থাকে। মহাপ্রভু চৈতন্যদেব আজ থেকে প্রায় ৫৫০বছর আগে তার ভক্তবৃন্দদের প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে কৃষ্ণনাম প্রচার করার কথা বলেছিলেন। তিনি আরো বলেছিলেন-

"পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম।

সর্বত্র প্রচার হবে মোর নাম।"

অর্থাৎ বিশ্বের প্রতিটি শহর ও গ্রামে তার নাম ও কর্ম প্রচারিত হবে। ইসকনের সকল সদস্যরাই শ্রীচৈতন্যদেবের অনুগামী তাই তারা মহাপ্রভু চৈতন্যদেবের কাজকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সেনাপতি বলে মনে করা হয়।  

ভারতীয় ধর্ম ও ইতিহাসের   অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত এ.এল ভাসান  শ্রীল প্রভুপাদ সম্পর্কে বলেছেন, তার বলিষ্ঠ পারমার্থিক দৃষ্টিভঙ্গির সাহায্যে তিনি যে গৃহ নির্মাণ করেছেন, সেখানে সারা পৃথিবীর মানুষ আশ্রয় পেতে পারে। শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ ১৮৯৬ সালের  ১লা সেপ্টেম্বর উত্তর কলকাতার হ্যারিসন রোডে জন্মাষ্টমীর দিন  জন্মগ্ৰহন করেছিলেন। তার প্রকৃত নাম অভয়চরন দে। বাবার নাম গৌরমোহন দে, মা রজনী দেবী। অভয়চরনের বাবা ছিলেন একজন বস্ত্র ব্যবসায়ী। তারা ছিলেন সুবর্ণ বনিক সম্প্রদায়ের। গৌরমোহন দে ছিলেন শুদ্ধ বৈষ্ণব, তাই তিনি তার পুত্র কে ছোট থেকেই কৃষ্ণভক্তরূপে মানুষ করে তুলেছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদ কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে শিক্ষা লাভ করেন।পরবর্তীকালে বৈদিক জ্ঞান বিতরণের জন্য প্রভুপাদ নিজেকে প্রস্তুত করেন ও বিদেশ যাত্রা করেন। সারা পৃথিবীব্যাপী শ্রীল প্রভুপাদের সুনাম ও সুখ্যাতি আছে ভক্তি আন্দোলনের জোয়ার রচনার জন্য। তিনি বৈদিক দর্শনের উপর ইংরাজীতে প্রচুর গ্ৰন্থাবলী রচনা করেন। প্রভুপাদের ওই সব ব‌ইগুলো ভীষণ ভাবে মানুষের কাছে সমাদৃত হয়।

ISKCON মন্দির প্রভুপাদ তাঁর জীবদশাতেই তৈরির কাজ শুরু করেন। বর্তমানে এখানে আরো একটি মন্দির তৈরি হচ্ছে, যা হবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ মন্দির।

নবদ্বীপ স্টেশন থেকে টোটো রিক্সা ভাড়া করে পৌঁছে যাওয়া যায় নবদ্বীপ খেয়াঘাটে। এখান থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে মায়াপুর-নবদ্বীপ জলপথে। লঞ্চে ভাড়া জনপ্রতি ৭ টাকা, নৌকায় ভাড়া জনপ্রতি ৩ টাকা। মায়াপুরে ইসকন মন্দির ছাড়াও  দেখে নিন  চৈতন্যভক্ত চাঁদ কাজীর সমাধি ও বল্লাল সেনের ঢিবি। ফিরে এসে ইসকন মন্দির দেখব। যদিও আমি ছাড়া অন্য কারুর এসব দেখার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল না। 

নিমাইয়ের জন্মস্থানের মন্দিরটির (দ্বিমতে) পরই নিমাইয়ের "মাসির বাড়ি"।  এই মন্দিরটি দর্শনার্থীদের বিশেষ নজর কারে। এরপর  পৌঁছে যান  "বল্লাল সেনের ঢিপি"। হুলোর ঘাট থেকে বল্লাল সেনের ঢিপির দূরত্ব প্রায় ৮ কিমি পথ। ঐতিহাসিকদের মনে হয়েছে এই ঢিপি প্রাচীন  মন্দিরের ধ্বংসবশেষ। বল্লাল সেনের রাজত্বকালে বাংলায় বিশেষত এই এলাকায় হিন্দু ধর্মের থেকেও বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব বেশি ছিল। এই মন্দিরটি আসলে হিন্দু মন্দির না হয়ে  বৌদ্ধ মন্দিরও হতে পারে বলে ইতিহাসবিদরা অনেকেই মনে করেন । তবে এমন তথ্যও প্রমাণিত হয়েছে, বল্লাল সেনের রাজত্বকালে এই অঞ্চলের প্রচুর বৌদ্ধ মন্দির ছিল যা পরবর্তীকালে  ধ্বংস করা হয়েছিল।

তবে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, বখতিয়ার খিলজি নবদ্বীপ আক্রমনের সময়েও এই মন্দির ধ্বংস হয়েছিল। তবে বন্যা, ভূমিকম্প সহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণেও এই অঞ্চলের  ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকেই  ।  বল্লাল ঢিপি নদিয়ার অন্যতম প্রাচীন প্রত্নস্থল । নবদ্বীপের নিকটবর্তী মায়াপুরে কাছে বামুনপুকুরে ভক্ত চাঁদ কাজীর সমাধিস্থল থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে বল্লাল ঢিপি। এই ঢিপির নীচে বল্লাল সেনের আমলে নির্মিত প্রাসাদ ছিল বলে অনুমান করা হয়। তবে বর্তমানে এটি পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন অনুসারে এই অঞ্চল সংরক্ষিত করা হয়েছে। বল্লাল ঢিপি প্রায় চারশো ফুট প্রশস্থ ও উচ্চতায় পঁচিশ থেকে ত্রিশ ফুট। ঢিপিটি সবুজ ঘাসে মোড়া, আর চারিদিক কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা রয়েছে। সেন বংশের রাজা বল্লাল সেনের নামানুসারে এই ঢিপিটির নামকরণ করা হয়েছিল। ইতিহাসবিদগণ মনে করেন ধ্বংসস্তুপটি তৎকালীন সমাজের ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর বিজাপুরের একটি অংশ। বিজাপুর ছিল সেই সময়ের একটি অত্যাধুনিক শহর ও সেন বংশের রাজধানী। বিজাপুর স্থাপন করেন বল্লাল সেনের পিতা রাজা বিজয় সেন।

এই বৃহদাকার ঢিপিটি ১৯৭০-এর শেষের দিকে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব দুটি পর্যায়ে খননকার্য সম্পূর্ন করেছিল। প্রথমটি ১৯৮২-১৯৮৩ সালে এবং দ্বিতীয়টি ১৯৮৮-১৯৮৯ সালে। খননে প্রাপ্ত বস্তুর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হল, পক্ষী মূর্তি, পোড়ামাটির মানুষ ও জীব-জন্তুর মূর্তি, তামা ও লোহার নানান জিনিসপত্র, পেরেক ও নানান প্রত্নসামগ্রী। এসবই কলকাতায় যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। খননের কারনে অঞ্চলটি বর্তমানে অনাবৃত রয়েছে। বিস্তৃত প্রাঙ্গনের মধ্যে অবস্থিত বৃহদায়তন ইটের ইমারত যার চারিদিকে ছিল উচ্চ প্রাচীর।  ইতিহাসবিদরা এই ইটের তৈরী ইমারত দেখে ইমারতটি কিসের তার সঠিক কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। ইতিহাসবিদ্ বা প্রত্নতাত্ত্বিকরা গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানতে পারেন যে নিচের অংশের অনেক পরে ইমারতের উপরের অংশটি নির্মাণ করা হয়। অষ্ঠম ও নবম শতকের ধ্বংসপ্রাপ্ত পুরাতন স্থাপত্যকীর্তির উপর পুনঃনির্মিত এই সৌধের উপরিভাগ আনুমানিক দ্বাদশ শতকের। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ের মেরামত,পরিবর্তন ও সংযোজন নিদর্শন পাওয়া গেছে।

বল্লাল সেন বাংলার সেন রাজবংশের দ্বিতীয় তথা শ্ৰেষ্ঠ নৃপতি ছিলেন। তিনি ১১৬০ থেকে ১১৭৯ সাল পর্যন্ত সেনবংশের রাজা ছিলেন। তিনি ছিলেন সেন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেনের পুত্র এবং তার যোগ্য উত্তরসূরী। রাজা বল্লাল সেন বাংলার সামাজিক সংস্কার, বিশেষ করে কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তনকারী হিসাবে পরিচিত। তিনি সুপণ্ডিত ও লেখক ছিলেন। ‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুদসাগর’ তার উল্লেখযোগ্য রচনা। বল্লাল সেন তার রাজত্বের সময় বহুদূর পর্যন্ত সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। বরেন্দ্রভূমি, রাঢ়, বঙ্গ, এবং উত্তরপ্রদেশের মিথিলা তার অধীনস্থ ছিল। শোনা যায় বল্লাল সেন দক্ষিণাত্যের কোন  বংশদ্ভূত ব্যক্তি ছিলেন। 

বল্লাল সেনের ঢিপির কাছেই  বামুনপুকুর বাজারের মধ্যে আছে "চাঁদ কাজীর" সমাধি মন্দিরে। চাঁদ কাজী ছিলেন ওই এলাকার একজন ছোট রাজা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি বৈষ্ণব আন্দোলনের ঘোর বিরোধী ছিলেন।  চাঁদ কাজী বিভিন্ন সময়ে সেসময়ে চৈতন্যদেবকে হেনস্থাও করেছিলেন তবে  পরবর্তী সময়ে শ্রী চৈতন্যের ভাবাদর্শ অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর কাছে দীক্ষা নিয়ে নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্য করেছিলেন । সেই চাঁদ কাজীর সমাধির উপর এক প্রকান্ড চাঁপা গাছ গজিয়ে উঠেছিল, যা আজও বর্তমান। জনশ্রুতি এই গাছটির আনুমানিক বয়স প্রায় ৫০০ বছর। চাঁদের সমাধি থেকে ফেরার পথে দেখে নিন "খোল ভাঙা মন্দিরে"। জনশ্রুতি এই জায়গাতেই নিমাই সন্ন্যাসীর হরিনাম সংকীর্তনের সময়  খোল বাদ্যটি ভেঙেছিলেন জগাই ও মাধাই। 

মায়াপুর নবদ্বীপ দর্শন করে মন চাইলে সেই রাত থেকে যান ইসকনের মন্দিরের গেষ্ট হাউসে অথবা নিকটবর্তী হোটেলে। মন্দিরের আশেপাশে অসংখ্য বিভিন্ন দামের হোটেল পাবেন। সন্ধ্যায় মন্দিরে সন্ধ্যা আরতি আপনার মনমোহিত করবে। আবার ইচ্ছা হলে নবদ্বীপেও কোন ধর্মশালা বা হোটেলে থাকতে পারেন। সন্ধ্যায় নবদ্বীপ ঘাট থেকে ইসকনের মন্দিরের দৃশ্য ও সুন্দর। (সমাপ্ত) 

তথ্য ঋণ -

১) তিন তীর্থে, শিবশঙ্কর ভারতী, সাহিত্যম্‌, ১৮বি, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট, কলকাতা-৭৩, প্রথম প্রকাশ- ১৮ই জানুয়ারী, ২০০১

২)গৌরাঙ্গ সুন্দর দত্ত

৩) গুগুল

৪)উইকিপিডিয়া