গুরুত্বপূর্ণ খবর

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

ব্রাজিলিয়ান নারী ইলাইন ডেভিডসন নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা ভাবেন। তার চিন্তা ধারা অন্যদের থেকে আলাদা। এর প্রমাণ দিতে পাল্টে ফেললেন নিজের চেহারাটাই। শরীরে অসংখ্য ফুটো করেছেন এই নারী। যা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড।

ইলাইন নিজের শরীরে সর্বোচ্চ সংখ্যক পিয়ার্সিং করিয়েছেন। এজন্য রেকর্ডও দখল করে নিয়েছেন তিনি। ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে তিনি প্রথম শরীরে ছিদ্র করেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ হাজার তিনটিতে। এসব ছিদ্রে নানা ধরনের গয়না পরে থাকেন তিনি।
শুধু ছিদ্রই নয়, শরীরে অসংখ্যবার ট্যাটুও করেছেন এ নারী। এমনকি জিহ্বার মধ্যেও বড় একটি ছিদ্র করেছেন তিনি। এসব কারণেই তিনি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে নাম লিখিয়েছেন। তবে থেমে নেই শরীরে ছিদ্র করা। এখনও তা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তার বয়স ৫৬ বছর।
(www.theoffnews.com - Brazilian Elaine Davidson)

দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম:

শত বর্ষের প্রাচীন আলাপিনী মহিলা সমিতির বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হলো শান্তিনিকেতনের আনন্দ পাঠশালার গেটের সামনে। কারণ আনন্দ পাঠশালার জন্ম আলাপিনী সমিতির গর্ভ থেকেই। 

পথে এবার নামো সাথী, পথেই হবে পথ চেনা। বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাস চত্বরে সমিতির "নতুন বাড়ি" থেকে গৃহচ‍্যূত করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তারপর থেকেই পথই হলো আলাপিনী সমিতির ঘর। আগে মাটির তৈরি সেই গৃহেই তাদের সভা ও অনুষ্ঠান হতো। এই আলাপনী মহিলা সমিতির গঠন নিয়ে রবীন্দ্র পরিবারের বৌঠান দের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এমনকী নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ভ্রাতুষ্পুত্রী  এই সমিতির সদস্যা ছিলেন। এছাড়া নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেনের মাতা অমৃতা সেন ও এই সমিতির সদস্য ছিলেন। 

আলাপনী মহিলা সমিতি সদস্য অর্পনা দাস মহাপাত্র জানান, বিশ্বভারতীর তাদের নতুন বাড়ি নিয়ে নেওয়ার পর পথের ধারে বসে বিভিন্ন সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সভার কাজ অনুষ্ঠিত করতে হচ্ছে।

(www.theoffnews.com - Alapini Visva Bharati University)

(www.theoffnews.com - Professor Beauregard Tirebiter University Of Southern California)


দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম:

বেআইনিভাবে পদোন্নতিতে প্রশ্নের মুখে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনা প্রকাশ‍্যে এল এক ব‍্যক্তির 2020 আরটিআই করা জবাবী নথিতে। (যার আরটিআই নং- VB/Unline RTI/083/Z020-21 dated 18.09.2020, Registratien Na.VISBH/R/2019/50015 dated 23.04.2019)   

প্রমোশন সঙ্ক্রান্ত ইউজিসির ২০১০ সালে ১ জুলাইয়ের রেগুলেশনকে কার্যত: বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক এ‍্যাসোসিয়েট প্রফেশরের পদোন্নতি ঘটানো হয় ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি, বলে সূত্রের খবর। ঐতিহ্যবাহী বিশ্বভারতীতে বিভিন্ন ইস‍্যুতে এই ধরণে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। এখন প্রশ্ন উঠছে, বর্তমান উপাচার্যের বশংবদ হওয়ার কারণেই কি এই বেআইনী প্রমোশন প্রাপ্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না? অথচ একই যুক্তি খাড়া করে বর্তমান উপাচার্য অনেকের বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা নিয়েছেন। তাহলে এক যাত্রায় পৃথক ফল কেন?  

এব‍্যাপারে একজন প্রাক্তন উপাচার্যকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি জানি না তদানীন্তন ইন্টারন‍্যাল সিলেকশন কমিটি এই কাণ্ড ঘটিয়েছে কি না? একইভাবে স্বস্তিকা মুখোপাধ‍্যায়ের ক্ষেত্রে একই বিতর্ক ওঠে। যদিও আমার জানা নেই স্বপন কুমার ঘোষ সেই মেকদারের শিল্পী কিনা। তাঁর নাম সেরকমভাবে শুনিনি। 

স্বপন কুমার ঘোষকে এব‍্যাপারে জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন, ওইটা আমি বুঝতে পেরেছি, আপনি কি বলছেন। শুনেছি এই কথাটা। তবে ঠিক জানি না ওই ব‍্যাপারটা। ক‍্যাশের নিয়ম মেনেই কি আপনি প্রফেসর হয়েছেন? প্রশ্ন করতেই ফের কথা থামিয়ে তিনি বলেন, ওইগুলো ঠিক জানি না ব‍্যাপারটা। আমি সেই সময় প্রিন্সিপাল ছিলাম না। আমি জানি না। প্রতিবেদক তাঁকে বলেন, আপনার নামেই, সেজন্য  আপনার কাছে জানতে চাইছি। তখন তিনি বলেন, আমার নামে হলেও, আমি তো জানি না। আমি  ইউনিভার্সিটিকে দিয়ে দিয়েছি। ইউনিভার্সিটি বুঝবে। 

 ইউজিসির নিয়ম মোতাবেক পিএইচডি না থাকলে কোনো শিক্ষক শুধুমাত্র ক‍্যাশ বা কেরিয়ার এডভান্সমেন্ট স্কীমে পদোন্নতি হতে পারে না, অথচ  বিশ্বভারতীতে হয়েছে। এই ব‍্যাপারে জানতে চাওয়ায় তার উত্তরে বিশ্বভারতীর রেজিস্ট্রার অশোক মেহেতা বলেন, এটা আন্দাজে কি করে বলতে পারবো। তারপর তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ইউজিসির রেজ‍্যুলেশনটা কি? তার উত্তরে তিনি বলেন, না, বলতে পারবো না। এগুলো তো অফিসিয়াল ব‍্যাপার। এগুলো  আন্দাজে কি করে বলা যাবে। তখন প্রতিবেদক জানতে চান, এব‍্যাপারে তাঁর জানা আছে কিনা? তার উত্তরেও, তিনি বলেন, না, না। এখন আমার কাছে কাগজপত্র নেই। রবিবারে কি করে বলবো। তখন ফের তাঁকে  প্রশ্ন করে জানতে চাওয়া হয়, সোমবার অফিস খুললে, তিনি বলতে পারবেন কিনা? তখন তিনি বলেন, আপনি খবর নেবেন। যাঁরা কনসার্নড সেকশন তাঁরা বলতে পারবেন। এগুলো অফহ‍্যাণ্ড কিছু বলতে পারবো না।

অশোক মেহতার কাছে সদুত্তর না পেয়ে, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসচিবকে ক‍্যাশ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি উদাহরণ স্বরূপ ব‍্যাখ‍্যা করে বলেন, অগ্নিভ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, কলোমণ্ডলম ভিঙ্কিট বা অনেকের প্রমোশন হয়নি। তাঁরা এসোসিয়েট প্রফেসর হয়ে রয়েছেন। কারণ ২০১০ সালের ইউজিসির একটি রেজগুলেশন। যেখানে বলা আছে, এ‍্যাসোসিয়েট প্রফেসর থেকে তিন বছর বাদে প্রফেসর পদে উন্নীত হতে গেলে তাঁর পিএইচডি থাকতে হবে। ইউজিসির নিয়োগ ও প্রমোশন সংক্রান্ত আইন যেহেতু পার্লামেন্টে পাশ হয়, তা সারা ভারতবর্ষে বলবৎ হয়। রাজ‍্য ও কেন্দ্র সরকারের অধীন সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় তা হুবহু অনুসরণ করতে বাধ‍্য।

উল্লেখ্য, ইউজিসির নিয়ম অনুসারে ১লা জুলাই ২০১০  থেকে যাদের পিএইচডি নেই তাদের ক্যাশ (CAS Career Advancement Scheme ) এর মাধ্যমে প্রফেসর হিসাবে পদোন্নতি দেওয়া আইন বিরুদ্ধ। ১লা জুলাই ২০১০ থেকে সারা দেশে এই নিয়ম চালু হওয়ার পর কোনো রীড়ার বা  এস্যোসিয়েট প্রফেসরকে পিএইচ ডি ছাড়া  প্রফেসর হিসাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। সারা দেশে এই সংখ্যা কম নয়। একাধিক বিখ্যাত শিল্পী যাঁরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন তাঁরাও এই তালিকায় আছেন। অথচ একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তারা কি করে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনকে ভাঙ্গলো।   

৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২০ র এক RTI র উওর        থেকে জানা যাচ্ছে (Pg 4,chart no 15) স্বপন ঘোষ ১৯৭৭ সালে এ ৩৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে বি,কম পার্ট ওয়ান পাশ করেছেন। শ্রী ঘোষের প্রফেসর পদে পদোন্নতি কোন আইনে হল? আরটিআই এর এই প্রশ্নের উওরে ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন (RTIএর 1pg.3 no প্রশ্ন) "As per UGC Regulations 2010" যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিখে   ভারত সরকারের প্রকাশিত গেজেটের ৭৮৮৯ নং পৃষ্ঠায় বিশ্বভারতী উল্লিখিত ইউজিসির রেগুলেশেনর ৪.৬.৮ ধারায় পরিষ্কার লেখা রয়েছে,  প্রফেসর পদে পদোন্নতির আবেদনের জন্য ইউজিসি নির্ধারিত প্রয়োজনীয় অন্যান্য যোগ্যতাগুলি থাকলেও পিএইচডি না থাকলে কোনো শিক্ষককেই প্রফেসর পদে উন্নীত করা যাবে না। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষাবিদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বভারতীর এই দুর্নীতির সম্বন্ধে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো ফল হয়নি। অপর দিকে, বিশ্বভারতীর আইন অনুযায়ী প্রফেসর ছাড়া ভবনের অধ্যক্ষ হতে পারে না। স্বপন ঘোষকে বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যক্ষের পদে একাধিক বার বসানো হয়েছে, এমনকি কর্মসমিতির সদস্য পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রফেসর পদে থাকায় ভবনের অধ্যক্ষ হওয়া সম্ভব হয়েছে এবং কাউন্সিল সদস্য হতে পেরেছেন। বেআইনিভাবে প্রফেসর হয়ে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন। সম্প্রতি তিন ছাত্রকে বহিষ্কার করা মতো বেআইনি সিদ্ধান্ত সুপারিশ করার ক্ষেত্রে একজন নিয়ম বহির্ভূতভাবে উন্নীত প্রফেসর কিভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা পারেন, সেই প্রশ্নও উঠেছে। পরে মহামান্য হাইকোর্ট  অবশ‍্য সেই নোটিশ বাতিল করে দেয়।

(www.theoffnews.com - Visva Bharati University)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ওডিশা রাজ্যে সম্প্রতি একটি পোলট্রি খামারে ৬৩টি মুরগির মারা যায়। ওই সময় সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল। এ উপলক্ষে তারা উচ্চ শব্দে গান, আতশবাজি ও নৃত্যের সঙ্গে সঙ্গে ব্যান্ড পার্টির আয়োজন করে। আর এতেই মুরগিগুলো মারা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন খামারটির মালিক রণজিৎ কুমার পারিদা। পারিদাকে এক পশুচিকিৎসক বলেছেন, মুরগিগুলোর হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে মারা গেছে। 

রণজিৎ কুমার পারিদা মুরগিগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন বিয়ের আয়োজক পক্ষের কাছে। কিন্তু তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে পারিদা এ নিয়ে থানা-পুলিশে রীতিমতো অভিযোগও করেন।

পারিদা বলেন, ঘটনার সময় মুরগিগুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়ায় তিনি ব্যান্ড অপারেটরকে শব্দের মাত্রা কমানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা তাতে কান দেয়নি। উল্টো তাঁর সঙ্গে আয়োজক পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে কথা বলেন।

এ বিষয়ে প্রাণী গবেষক অধ্যাপক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, উচ্চ শব্দ পাখিদের হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি বলেন, মুরগির জীবন চলে ‘সার্কাডিয়ান’ ছন্দে। অর্থাৎ তাদের জীবন নিয়ন্ত্রিত হয় দিনের আলো ও রাতের আঁধারের চক্রকে কেন্দ্র করে। ফলে উচ্চ শব্দের গানে হঠাৎ উত্তেজনা বা চাপ তৈরি হয়ে তাদের জৈবিক ঘড়িকে ব্যাহত করতে পারে।

(www.theoffnews.com - Bangladesh hen death India)

পলাশ মুখোপাধ্যায়, সিনিয়র জার্নালিস্ট, কলকাতা:

“ইতিবাচক খবর করুন, অবশ্যই বিজ্ঞাপন পাবেন”। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহশীল এই বাক্যের মধ্যে কিন্তু স্নেহ ছাড়াও লুকিয়ে আছে খানিক দম্ভ, খানিক হুমকি এবং সমালোচনা সহ্য করতে না পারার এক চিরাচরিত সংমিশ্রণ। শাসকের অহং, দিনের আলোর মতই স্পষ্ট এই বাক্যে। সরকারি বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য এমন সরাসরি বিধি নির্দেশ এর আগে কোনও শাসকের গলায় আমি অন্তত শুনিনি। সমালোচনা কেউই পছন্দ করেন না। সাংবাদিকতার প্রথম দিকে বাম তথা সিপিএমের আমলেও তারা সমালোচনা সহ্য করতে পারতেন না। কোনও খবর বিপক্ষে গেলেই বাম নেতারা দেখা হলেই তা নিয়ে নানা কটুক্তি বা কটাক্ষ করতেন। প্রচ্ছন্ন হুমকিও যে পাইনি তা নয়, কিন্তু সরাসরি আমাদের পক্ষেই খবর করতে হবে, তার বিনিময়েই আমরা বিজ্ঞাপন দেব এটা অন্তত বামেরাও বলেনি। ঠারেঠোরে বোঝালেও প্রকাশ্য সভায় এমন কথা বলার মত দুর্মতি তাদের হয়নি। 

কিন্তু আমাদের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সোজা সরল। তিনি তাই সোজা কথা সোজা ভাবেই বলে থাকেন। তাই বলে নিজেদের পক্ষে খবর করলেই সরকারি বিজ্ঞাপন মিলবে, এটা বোধহয় সাম্প্রতিক কালে সব চেয়ে উদ্ধত উক্তির মধ্যে একটি। সংবাদ পত্রের অনেকটাই অর্থ আসে সরকারি বিজ্ঞাপন বা বিজ্ঞপ্তি থেকে। ছোট পত্রিকা তো বটেই সরকারি বিজ্ঞাপনের দিকে তাকিয়ে থাকে বড় বড় সংবাদপত্রও। বহু সংবাদ মাধ্যমই তাই সরকারের বিরুদ্ধাচারণ করতে কার্যত ভয়ই পায়, পাছে সরকারি বিজ্ঞাপন হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই অনেক ক্ষেত্রেই পাঠকরা সরকারের বিপক্ষে তেমন খবর অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যম থেকেই পান না। এরই মাঝে কেউ কেউ একটু আধটু সাহস দেখাতো, মুখ্যমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর তারাও আর সেই সৎসাহস দেখাবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ। 

উত্তর ২৪ পরগনার প্রশাসনিক সভায় স্থানীয় এক সংবাদ পত্রের প্রতিনিধি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরকারি বিজ্ঞাপন না পাওয়ার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তারই উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন সরকারের পক্ষে খবর করলেই মিলবে বিজ্ঞাপন। “যে গ্রামীণ পত্রিকাগুলো সরকারের ডেভলপমেন্ট কাজ পজিটিভলি, পজিটিভ ভাবে করবেন, আমি ডিএমকে বলব, তাদের যেন আমরা বিজ্ঞাপনটা দিই।“ শুধু তাই নয়, পাশাপাশি তার মন্তব্য “ইতিবাচক কাজ নিয়ে খবর করে প্রতিদিন একটা করে কপি ডিএম অফিসে পাঠাবেন। ডিআইসিওকে পাঠাবেন। পুলিশের এসপি এবং পুলিশ কমিশনারেটকে পাঠাবেন। কারণ, তারাও দেখে নেবে যে ইতিবাচক খবর হচ্ছে। একটা নেতিবাচক জিনিসকে ইতিবাচক করা যায়। যত ইতিবাতক খবর, তত বিজ্ঞাপন। কারণ আমি চাই, তারা ভালো জিনিসগুলি তুলে ধরুক। বাংলায় সারা দিন নেতিবাচকই লক্ষ্য করি। ইতিবাচক খবরটা কেউ আর করে না। ইতিবাচক খবর করুন, বিজ্ঞাপন নিশ্চয় পাবেন।' অর্থাৎ এখন খবর করে সেই খবরটি সরকারের পক্ষে হয়েছে কিনা, তা সরকারি আধিকারিকদের দিয়ে তা পাশ করিয়ে নিতে হবে। তবেই বুঝুন সরকারের বিপক্ষে আর কোনও খবর আপনি পড়তে পারবেন কিনা তা এখন থেকে যথেষ্ট প্রশ্নের মুখে। 

আমাদের প্রধানমন্ত্রীর এই সমস্যা নেই। কারন তিনি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন না। সাংবাদিক সম্মেলনও করেন না। মাঝে মধ্যে তার মন কি বাত তিনি প্রকাশ করেন, সাংবাদিকেরা সেটাই কুড়িয়ে নিয়ে প্রচার করে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর সেই সমস্যা নেই। তিনি এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উল্টো মেরুতে, যথেষ্ট সময় দেন সাংবাদিকদের। প্রচুর সাংবাদিক সম্মেলন করেন। কিন্তু সমালোচনা একেবারেই নিতে পারেন না। পছন্দ করেন না বিরুদ্ধাচারণও। তাই তো তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু লিখলেই সেই সাংবাদিককে প্রকাশ্যেই অপমান করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে কথাই বলতে দেন না তার মনে হওয়া বিরোধী সাংবাদিকদের। 

এ পর্যন্তও চলছিল এক রকম। কিন্তু সংবাদপত্র কি খবর করবে? অথবা কি খবর করলে পরেই সরকারি বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে এই নির্দেশ এমন প্রকাশ্যে সরাসরি তিনি না দিলেই বোধহয় ভাল হত। জেলার ছোট কাগজগুলির সরকারি বিজ্ঞাপন প্রয়োজন, অনেক কাগজই পয়সার অভাবে ধুঁকছে, কিছু বন্ধও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার জন্য এমনিতেই তিনি জেলা প্রশাসনকে কোনও সুস্থ নির্দেশ দিতেই পারতেন। তার স্নেহশীল দিদিময়ী ভাব যথেষ্টই প্রকাশিত হত সে ক্ষেত্রে। কিন্তু শুধুমাত্র সরকারের জন্য ইতিবাচক খবর করলেই বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে, এটা বলাটা মুখ্যমন্ত্রীর মুখে মানায় কিনা তা নিয়ে বিতর্ক থাকবেই। সংবাদপত্রই সরকারের বিভিন্ন ভুল ধরিয়ে দিত, সমালোচনা করত সাধারণ মানুষের হয়ে। কিন্তু এখন সে কাজও বন্ধ করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি। আগে সরকারি কর্মী বা আধিকারিকরা সাংবাদিকদের একটা আলাদা মর্যাদা দিতেন। এখন তাদের কাছ থেকেই খবর ইতিবাচক কিনা তা পাশ করাতে হবে। তারা কি আর সংবাদকর্মীদের সেই মর্যাদা দেবেন? এমনিতেই সাংবাদিকদের সম্মান এখন যথেষ্ট কমে গিয়েছে নানা কারনে। তার উপরে এখন মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পর সাধারণ মানুষও কি সাংবাদিক তথা সংবাদ মাধ্যমের আর ভরসা রাখতে পারবে?

(www.theoffnews.com - government advertisement news Mamata Banerjee)

সুকন্যা পাল, ম্যানেজিং এডিটর, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

কবিতার মতোই কবির জীবন।

নাম তাঁর কবি ঘোষ। আসলে কবিবাবুর আটপৌড়ে জীবন উপন্যাস কখন যে সামাজিক বিবর্তণের কবিতায় পরিণত হয়েছে তা জনান্তিকই জানেন।

একদা যে যুবকটি তাঁর অপরিণত বয়সে স্বপ্ন দেখতেন রক্তদান আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেবেন সার্বিক জনমানসে, আজকে সেই প্রৌঢ় পরিণত প্রজ্ঞায় রাজ্য রক্তদান আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে আসীন সর্বজন শ্রদ্ধায়। এই সামাজিক সরণী বিচরণে নীরবে রয়ে গেছে দীর্ঘ দুই দশকের জীবন-কবিতার ছত্রে ছত্রে গাঁথা অক্লান্ত পরিশ্রম, নিরন্তর জনসংযোগ ও অনিঃশেষ লক্ষ্যের অর্জুনের পাখির চোখ। আর থেকেছে একরাশ ছন্দময় সততা ও মাধুর্যময় ব্যবহার। তাই নিঃসংকোচে উচ্চকন্ঠে প্রকাশ্যে বলা যেতেই পারে, এই রাজ্যের বর্তমান রক্তদান আন্দোলনের এক অনন্য ব্যক্তি-ব্রান্ডের নাম 'কবি ঘোষ'।

দুর্গাপুর মহকুমা ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরাম সম্প্রতি একটি রাজ্য সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে। সেই উদ্যোগের নেতৃত্বের একেবারে সামনের সারিতে কে? সেই কবি ঘোষ। হ্যাঁ এই কবি ঘোষ জীবনের সিংহভাগ সময়টাই থেকেছেন শিল্পশহর দুর্গাপুরে। তবে কলেজ জীবনে কলকাতায় ছিলেন বছর কয়েক। ছাত্র রাজনীতিটা ছিল তাঁর রন্ধ্রে। তখন থেকেই তিনি রক্তদান জীবনদান প্রচারের শরিক ছিলেন ওতোপ্রোতভাবে। আর তাঁর যুব রাজনীতির সময় এই প্রচারের ধার ও ভাড়ের ব্যপ্তি ঘটে রাজ্যের নানা প্রান্তে।

এভাবেই এসে যায় ২০০১ সাল। দুর্গাপুরের বুকে ঘটে এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনাগ্রস্থ বহু মানুষের রক্তের প্রয়োজনে দিশেহারা সংশ্লিষ্ট মহল। এই ভয়াবহতার কথা ভেবেই দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের ব্ল্যাডব্যাঙ্কের সেদিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক মিহির নন্দী ও কবি ঘোষ সহ কিছু সহৃদয় ব্যক্তি তদানীন্তন সময়ে গড়ে তোলেন দুর্গাপুর মহকুমা ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরাম। রক্তদান আন্দোলনকে সামনে রেখে সংগঠিত ভাবে কবি ঘোষের নিয়মিত কর্মকাণ্ড সেই শুরু। এই মুহূর্তে তিনি ৫৯ বছরের এক জীবনমুখী প্রানবন্ত যুবক। আজ তাঁর অভিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা হল এক বছরের মধ্যে তিনশোটা রক্তদান শিবির করতেই হবে। সঙ্গে সাড়ে আট হাজার রক্তদাতাকেও এই শিবিরগুলিতে যুক্ত করতে হবে। শুধু পরিকল্পনা করেই ক্ষান্ত নন তিনি। পরিকল্পনার বাস্তব রূপায়নে ফেডারেশন অফ ব্ল্যাড ডোনার্স অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গ শাখার সম্পাদক কবিবাবু তাই নিয়মিত দৌড়ে বেড়ান রাজ্যের নানা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। প্রায় প্রতিদিনই এক বা একাধিক রক্তদান শিবির আয়োজিত হয় তাঁরই তত্ত্বাবধানে।

শুধুই কি রক্তদান আন্দোলনে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন নিজেকে, এটা ভাবলে তাঁকে অর্ধেক পর্যালোচনা করা হবে। করোনাকালে আর পাঁচজনের মতো তাঁরও ব্যক্তি আয়-সংস্থানে ভাঁটা পড়েছিল যথেষ্টই। তবু ব্যক্তি যন্ত্রণাকে শিকেয় তুলে ঝাঁপিয়ে পড়েন করোনা রোগীদের সেবায়। অধিকাংশ দুর্গাপুরবাসী করোনা রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে অকাতরে ওষুধ বিতরণ করেন ৮৬জন সমাজসেবীর সহায়তায়। মাসখানেক ধরে ২৮৪টি করোনা সংক্রমণগ্রস্থ পরিবারকে বিনামূল্যে দুই বেলা খাবারও পরিবেশন করা হয়েছে কবিবাবু ও ওই সমাজসেবীদের অনলস প্রচেষ্টায়।

দুর্গাপুরের প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী আয়ুব আনসারী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক রাজেশ পালিত বলেন, "রাজ্যের রক্তদান আন্দোলনের সাম্প্রতিক অগ্রদূত হলেন কবি ঘোষ। তাঁর সামাজিক নেতৃত্ব আমাদের কাছে একটা দৃষ্টান্তহীন উদাহরণ।" আর কবি ঘোষ নিজে কি মন্তব্য করেন? তাঁর বক্তব্য, "সেই ছাত্র যুব রাজনীতির সময় থেকে রক্তদান কর্মসূচি নিয়ে ভাবতাম। আজকে আমার রাজনৈতিক সংযোগ অনেক পিছনে পড়ে গেছে। তবে আমার শহর দুর্গাপুর সহ সারা রাজ্যে রক্তদান আন্দোলনকে একটা সার্বিক সমবেত রূপ দিতে চেষ্টা করছি মাত্র। এখনও সচেতনার কাজ করার অনেক বাকি। তবে পরিবারের ও কিছু শুভানুধ্যায়ী মানুষের সহযোগিতা না পেলে আমি এক কদম এগোতে পারতাম না। যেটুকু কাজ করি তা মিলিত ভাবে সম্পন্ন করি।"

তাই তো সবাই কহে, কবিবাবু মিলাবে মিলিবে যাবে না ফিরে আমৃত্যু রক্তদান আন্দোলন থেকে।

(www.theoffnews.com - blood donation)

(www.theoffnews.com - Siberia coal mine fire death Putin)
 

(www.theoffnews.com - Barbara Soper gave birth miracle dates)


(www.theoffnews.com - Guam deflowered girl marriage)