গুরুত্বপূর্ণ খবর

সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

খনার বচন বলে কথা 'মঙ্গলে ঊষা বুধে পা, যথা ইচ্ছা তথা যা'। সেই শুভ বুধবারেই সকাল গড়িয়ে দুপুর পর্যন্ত কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)'র পশ্চিমবঙ্গ শাখা স্বইচ্ছায় পা রাখলো কলকাতার আভিজাত্য পূর্ণ হোটেল 'দি পার্ক'এ। উদ্দেশ্য যে এক  মনোজ্ঞ আলোচনাচক্র। তবে আলোচনার অভিমুখ ভিন্ন শীর্ষকে গাঁথা। কখনও আলোচনা চলছে সদ্য ঘটে যাওয়া সংস্থার রাজ্য কাউন্সিলের নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে। প্রাতিষ্ঠানিক নানা শিল্পের নিরিখে কৃতিমান একাধিক বাণিজ্য সংস্থাকে দীর্ঘ সময় ধরে পুরস্কার প্রদান পর্বও চললো আয়োজকের তরফে। উপরি পাওনা হিসেবে তিন পর্যায়ে বাণিজ্য বসতে লক্ষ্মী ইস্যুতে মনোমুগ্ধকর প্যানেল ডিসকাসন বেশ নজর কাড়ে। কখনও আবার রাজ্যে শিল্পের সম্ভাবনা ও পুঁজি নিবেশের পরিবেশ নিয়েও আলোচনা করেন উপস্থিত একাধিক বক্তারা। যদিও একাধিক নির্ধারিত বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আলোচনাচক্রটি ছিল "রাজ্যের উন্নয়ন ভিত্তিক সুনাম, সম্ভবনা, উদ্ভাবন, পরিকাঠামো, পুঁজিনিবেশ ও ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্যের অগ্রগতি ও তার মানচিত্র রূপায়ন।"

এমনই এক আয়োজন বহুল প্ল্যাটফর্মে আয়োজক সংস্থার উল্লেখযোগ্য কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও তত্ত্ব পূর্ণ বক্তব্য রাখেন সুচরিতা বসু, শিব সিদ্ধান্ত নারায়ণ কল, সন্দীপ কুমার প্রমূখ। তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে বলেন, "সমগ্র ভারতের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গও আজ আর্থিক ভাবে এগিয়ে চলেছে জেট গতিতে। সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের শোকেস হল এই রাজ্য। জাতীয় অর্থনীতির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা এখন যথেষ্টই সদর্থক। পরিকাঠামোগত নির্মাণেও এই রাজ্য বর্তমানে একটা পৃথক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এমনই এক মনোজ্ঞ আলোচনায় অংশ নেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য সহ শিশু এবং নারী উন্নয়ন মন্ত্রী শশী পাঁজা। পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতির প্রশ্নে পরোক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "এবারের বাজেটে কেন্দ্রীয় সরকার সারা দেশের নিরিখে সামাজিক উন্নয়নের খাতে ২৬,০০০ কোটি টাকা ধার্য করেছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের নতুন বাজেটে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক উন্নয়নের বিষয়ে ব্যয় করা হবে ২৬,০০০ কোটি টাকা। সুতরাং এটা সবাইকে মেনে নেওয়ার সময় এসে গেছে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তদারকিতে আমাদের রাজ্যে সামাজিক উন্নয়নের পটভূমিতে একটা নতুনতর সদর্থক বিপ্লব শুরু হয়েছে।" শশী পাঁজা আরও যোগ করেন, "এই রাজ্যে এখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক, শিশু ও নারী, শিল্প বাণিজ্য এবং সামাজিক উন্নয়নে যথেষ্ট জোর দেওয়া হয়েছে।" তাঁর বক্তব্য, আর্থিক বিকাশের ক্ষেত্রে সমগ্র দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ এখন চতুর্থতম আগুয়ান মাইলস্টোন হয়ে উঠেছে। পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে নতুন করে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে জঙ্গলনগরীর। সঙ্গে সেই অঞ্চলে একটি ইস্পাত কারখানা তৈরি করার রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে। সবুজ সাথী প্রকল্পে উদ্দেশ্যে দিদির গ্যারান্টি হিসেবে পশ্চিম মেদিনীপুরে শীঘ্রই নির্মাণ হতে চলেছে সাইকেল প্রস্তুতকারক ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ উৎপাদন ভিত্তিক কারখানা। এছাড়াও তিনি সংযোজন করেন, "লজিস্টিক ক্ষেত্রে রাজ্য এক বিরাট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই খাতে বিশ্বব্যাঙ্ক থেকে আমরা দেড়শো মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিতে চলেছি। একইসঙ্গে রাজ্যে সবুজ বাণিজ্য করিডরের সহায়ক হিসেবে সড়ক, আকাশ ও রেল যোগাযোগ আরও উন্নতমানের করার কর্মযজ্ঞ ইতিমধ্যেই চলছে। এমনকি নিরবিচ্ছিন্ন জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করার বিষয়ে আমরা বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত করেছি।"

সিআইআইয়ের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের শিল্প উন্নয়ণ নিগমের চেয়ারপার্সন কাম ম্যানেজিং ডিরেক্টর রশনী সেন বলেন, "রাজ্যে বিনিয়োগ তরান্বিত করতে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন তেমনি দরকার পুঁজিপতিদের জন্য উপযুক্ত সামাজিক পরিবেশ। যেখানে ভয়হীন ও স্বজনপোষণহীন আবহ থাকবে। স্বল্প সময়সীমার মধ্যে নূন্যতম নথির মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের ছাড়পত্র মঞ্জুর করতে হবে। লজিস্টিক ও এক্সপোর্টের ক্ষেত্রে অযথা কাঠিন্যের শিথিলতা আবশ্যক।" তিনি জানান যে পশ্চিমবঙ্গে এখন বিনিয়োগ বান্ধব ও শিল্প বান্ধব অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি ঘটেছে। বর্তমানে সারা রাজ্যে দুশোটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে উঠেছে। একুশটা স্পেশাল ইকোনমিক জোন তৈরি হয়েছে।

(www.theoffnews.com - seminar)

সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

রাজসূয় আলোচনার বিষয়বস্তু: "পশুসম্পদ পালন ও মৎস্য চাষ বিষয়ক কর্মসংস্থান এবং আয়বর্ধক আলোচনা" শীর্ষক সভা।

আয়োজকের ভূমিকায়: মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি নামক শতবর্ষ অতিক্রান্ত বণিকসভা।

সভাক্ষেত্র: কলকাতার ঐতিহ্যময় দ্য ললিত গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল।

ক্ষণকাল: মঙ্গলবারের বারবেলা বলতে অবশ্যই মধ্যাহ্ন লগ্ন।

আপাতত দৃষ্টিতে এই হলো আলোচনার আতসে সর্বাত্মক উঠে আসার নির্যাস। তাহলে বিবরণের বিস্তারিত ফর্দটাই বা কেমন তা নিয়ে কৌতুহল থাকতেই পারে। নির্ধারিত সময়ের কিছু পরেই ডায়াসে অলঙ্কিত করে বসলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী ও স্বপন দেবনাথ। প্রথমজন মৎস্য চাষ মন্ত্রকের মন্ত্রী। অপরজন মন্ত্রীত্ব সামলান প্রাণীসম্পদ দফতরের। যুগলের দুই পাশের আসনে বসলেন সংশ্লিষ্ট বণিকসভার কর্তাব্যক্তিরা। সঙ্গে আসীন ছিলেন এক মৎস্য রপ্তানীকারক।

যথারীতি বণিকসভার পক্ষে ভাষণ দেন নমিত বাজোরিয়া, অমিত কুমার সারাওগি ও মদনমোহন মাইতি। পর্যায়ক্রমে তাঁদের বক্তব্যের সারাংশ এটাই, প্রাণী সম্পদজাত উৎপাদনের হার বর্তমান ভারতের ধান উৎপাদনের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। দেশের খাদ্য স্বনির্ভরতা ও গ্রামীণ অর্থনীতির এক উল্লেখযোগ্য সূচক হলো প্রাণীসম্পদ প্রক্রিয়াকরণ। সম্প্রতি দুধ, ডিম, মাছ ও মাংস উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ অন্যান্য রাজ্য থেকে একেবারে প্রথম সারিতে উঠে এসেছে। তাঁরা জানান, চীনের পর ভারত হলো বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ যারা সর্বোচ্চ পরিমাণ মাছ সারা পৃথিবীতে সরবরাহ করে থাকে। দুনিয়ার ৮ শতাংশ মাছ ভারত রপ্তানি করে বিভিন্ন দেশে। আর এখানেই এই রাজ্যে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ২০.৪৫ লক্ষ মাছ উৎপাদিত হয়েছে। সঙ্গে মৎস্যচারা উৎপন্নের সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ কোটি। শুধু এই রাজ্য থেকেই ৫,০০০ কোটি টাকা মূল্যের ১.১৭ লক্ষ টন মাছ রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের আরও বক্তব্য, উত্তরপ্রদেশের পর ডিম উৎপাদনে এই রাজ্য সারা দেশের মধ্যে এখন দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে।

বণিকসভার তরফে এমনতর মন্তব্যকে সরাসরি সমর্থন করে রাজ্যের মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী বলেন, "যেখানে চাকরির সুযোগ ক্রমশঃ জটিল হচ্ছে সেখানে বিকল্প কর্মসংস্থানের পরিসর নিয়ে সবাইকেই এগোতে হবে। স্বনির্ভরতার প্রশ্নে আমাদের রাজ্য সরকার এই বিষয়ে যথেষ্ট সংবেদনশীল। আর এমন পরিস্থিতিতে মৎস্য চাষ হলো কর্মসংস্থানের এক নির্ভরযোগ্য ভিত্তি।" তাঁর সংযোজন, "রাজ্য সরকারের মৎস্য মন্ত্রক দার্জিলিং বাদে সমগ্র রাজ্যের ৩৩৫ টি ব্লকে ৪০,০০০ জনকে বিজ্ঞান সম্মত মৎস্য চাষের প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যেই দিয়েছে। মৎস্য উৎপাদন সহায়ক উন্নতমানের ল্যাবোরেটরি তৈরি হয়েছে জুনপুটে।"

মূলতঃ বিপ্লববাবু সহ বণিকসভার কুশীলবেরা যখন উচ্চগ্রামে রাজ্যের প্রাণীসম্পদ ও মৎস্য চাষের সাফল্যের একতরফা দামামা বাজিয়ে যাচ্ছিলেন তখন সেই আলোচনার ছন্দের আচমকাই তাল কেটে বসলেন রাজ্যেরই এক মৎস্য রপ্তানিকারক। বিপ্লববাবুর নিজস্ব জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা ওই মৎস্য রপ্তানিকারকের নাম মির মামরেজ আলী। রাজ্যের প্রাণী বিকাশের প্রসঙ্গে উপস্থিত সব বক্তারা ক্রমাগত সাফল্যের কাহারবা বাজালে কি হবে, তিনি তো হঠাৎই সবাইকে চমকে দিয়ে দাদরার বোল তুলে বসলেন। তিনি বলেন, "আমি শুরুতে খুব ছোট অবস্থায় মাছের খুচরো ব্যবসা করতাম। পরে ধীরে ধীরে ব্যবসা লাভজনক হতে থাকে। মাছের রপ্তানি শুরু করি একসময়ে। বিগত অর্থবছরে ৭০০ কোটি টাকা লেনদেন করেছি। ৩,০০০ জনের আয়ের সংস্থান করেছি। অথচ চলতি বছরে ব্যবসার হাল দুর্ভাগ্যজনক ভাবে নিম্নমুখী।" আক্ষেপের সুরে বলেন, "রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন হারে ধার্য করের অনুপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। তার উপর গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো রপ্তানিযোগ্য মাছের মূল্য থেকে সম্প্রতি স্থানীয় বাজারজাত সংগৃহীত মাছের মূল্য অস্বাভাবিক পর্যায়ে বেড়ে গিয়েছে। তাই আমার ব্যবসার লাভের ইমারত এখন ভেঙ্গে পরার মুখে। তবে আশা ছাড়িনি।"

আলোচনা সভায় রাজ্যের মৎস্য রপ্তানিতে এমন বিপরীতমুখী হালের ফিরিস্তি শুনে উপস্থিত শ্রোতারা যে স্তম্ভিত হয়েছেন তা কিন্তু বিলক্ষণ উপলব্ধি করেছিলেন রাজ্যের অপর পোড় খাওয়া মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তড়িঘড়ি পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি পোডিয়ামের সামনে এসে ওই মৎস্য রপ্তানিকারকের উদ্দেশ্যে বলেন, "ব্যবসায় তো একটু আধটু ওঠানামা থাকেই। এই ঝুঁকি তো নিতেই হয় সব ব্যবসায়ীকে। তবে আপনি চিন্তা করবেন না। রাজ্য সরকার আপনার পাশে রয়েছে। আমরা সর্বোতভাবে আপনাকে সাহায্য করবো।" এরপরেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি উৎসাহ ব্যঞ্জক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "যাঁরা পশুপালনের জন্য খামার বানিয়ে উদ্যোগী হতে চান তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার সহজ শর্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। সঙ্গে জমির মূল্যেও বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে।"

পরিশেষে এটা বলতেই হয় যে মন্ত্রীদের অজস্র সহস্র সদর্থক আশাব্যঞ্জক আর্থিক অগ্রগতির কথা শোনা গেলেও আলোচনাচক্রে কিন্তু সেই মৎস্য রপ্তানির অশনিসংকেত বিষয়ক দুধে চোনা পড়ার অধ্যায়টা শেষ অব্দি থেকেই গেল।

(www.theoffnews.com - seminar)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

মানুষ সবচেয়ে বেশি মারাত্মক প্রাণী হিসেবে সিংহ, সাপ বা কুমিরের মতো বৃহৎ প্রাণীকে দেখলেও এদের অধিকাংশই মানুষের আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম প্রাণঘাতী হয়ে থাকে। পৃথিবীতে আনুমানিক ১.২ মিলিয়ন প্রজাতির প্রাণীর বসবাস। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণীগুলোর অধিকাংশই খুব ছোট আকারের হয়ে থাকে। ক্ষুরধার দাঁতের পরিবর্তে জীবাণু, বিষ এবং অন্যান্য উপায়ে এদের হাতে মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেশি।

অবাক মনে হলেও এটা সত্যি, যে প্রাণীটি প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি মানুষকে হত্যা করে তা হলো মশা। প্রতিবছর গড়ে ৭ লাখ ২৫ হাজার মানুষকে হত্যা করে এই প্রাণী। আর মানুষের জন্যে দ্বিতীয় বিপজ্জনক প্রাণী হচ্ছে মানুষ নিজেই। 

আমাদের চারপাশে থাকা এই মশা নানা ধরনের রোগ ছড়ায় এটা আমরা প্রায় সবাই জানি। তবে আমরা যেটা কল্পনাও করতে পারি না, কোনও প্রাণী যদি আমাদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হয়, সেটি মশা। খুদে এই উড়ুক্কু প্রাণী বছরজুড়ে সাড়ে সাত লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। আর এই মৃত্যুগুলোর বড় একটি অংশ আসে ম্যালেরিয়ার কারণে। এটির প্রভাব সবচেয়ে বেশি আফ্রিকায়। পৃথিবীর মোট ম্যালেরিয়া সংক্রমণের ৯৫ শতাংশ ও মৃত্যুর ৯৬ শতাংশ আফ্রিকায়। আরও যেসব বড় রোগের বাহক ছোট্ট এই প্রাণী, এর মধ্যে আছে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, জিকা, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস ইত্যাদি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গু। এ বছর ইতিমধ্যে এডিস মশার কারণে সৃষ্টি হওয়া ডেঙ্গু জ্বরে বাংলাদেশে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা ১০০-তে পৌঁছেছে।

(www.theoffnews.com - Bangladesh mosquito)

সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

গত নভেম্বরে রাজ্য সরকার আয়োজন করেছিল বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট। আর ঠিক তিন মাসের মাথায় কেন্দ্রীয় সরকার অধীনস্থ মিনিস্ট্রি অফ ডেভেলপমেন্ট অফ নর্থ ইস্টার্ণ রিজিওন মন্ত্রক আয়োজন করল নর্থইস্ট ইনভেস্টরস সামিট। বণিকসভা ফিকির সহযোগে।

কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক দ্বৈরথ তুঙ্গে থাকলেও সামিটের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে উভয় সরকারের অর্জুনের পাখির চোখ যে এই তিলোত্তমা মহানগরী তা একবাক্যে মেনে নিয়েছেন স্থানীয় পুঁজিপতিরা।

সামনেই লোকসভা নির্বাচন। তাই কেন্দ্রীয় শাসক সরকারের কুশীলবেরা স্পষ্টতই অনুধাবন করেছেন, ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে জনপ্রিয়তা করায়ত্ব করতে গেলে শুধু রাজনৈতিক মেশিনারী ব্যবহার করলেই চলবে না। সঙ্গে চাই কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ ও বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট পরিবেশ। একইসঙ্গে প্রয়োজন এলাকাগত আর্থিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন। এই আপ্তবাক্যেটি বোধহয় বহু দেরিতে হলেও উপলব্ধি করেছে বর্তমানের নর্থব্লকের ক্ষমতাসীন সরকার। তাই শত বিতর্ককে কার্যত তুড়ি মেরেই উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক গ্রীণ করিডরের মক্কা মদিনা কলকাতাতেই সোমবার হয়ে গেল এহেন পুঁজি আমন্ত্রণের রাজসূয় যজ্ঞ। স্থানীয় তাজ বেঙ্গল হোটেলে।

পার্শ্ববর্তী বিদেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ, চীন, ভুটান, মায়ানমার ও নেপালের সীমান্ত ঘেঁষা রাজ্যগুলি হলো ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম, মনিপুর, অরুনাচল প্রদেশ, মিজোরাম ও সিকিম। মূলত এই বিস্তীর্ণ এলাকা দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল হিসেবে বহুল পরিচিত। আক্ষরিক অর্থেই এই অঞ্চল স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে উগ্রপন্থার আঁতুরঘরেই সুপরিচিত ছিল। দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল করুণ দুয়োরানির মতোই। উপেক্ষার অপর নাম ছিল আঞ্চলিক কর্মসংস্থান। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেক ইন ইন্ডিয়ার ছন্দে পা মিলিয়ে বিমান পরিষেবা, সড়ক যাতায়াত ও রেল যোগাযোগে প্রভূত উন্নতি ঘটেছে সম্প্রতি। এমনকি এখানে বন্দে ভারতও ছুটছে উন্নয়নের সাক্ষী হিসেবে।

এমনই পরিবর্তিত সহায়ক পরিস্থিতিকে মূলধন করে এদিনের সামিটে কেন্দ্রীয় উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বি এল ভার্মা কোনও রাখঢাক না করেই পুঁজি বিনিয়োগের সরাসরি আমন্ত্রণ জানালেন কলকাতা সহ দেশি ও বিদেশী পুঁজিপতিদের। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, "উন্নয়নের নিরিখে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তর পূর্বাঞ্চলকে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে একসুতোয় বাঁধতে চান। তাঁর স্বপ্নকে সার্থক করে তুলতে তাই আমরা এখানকার সাতটি রাজ্যের মানচিত্রে বিনিয়োগকেই সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দিতে চাই। তারজন্য যাবতীয় সহায়তার হাত আমরা বাড়িয়েই রেখেছি।" তাঁর আরও মন্তব্য, "আমরা এখানে বিনিয়োগের নিমন্ত্রণ করছি আপনাদের। কেন্দ্রীয় ও সংশ্লিষ্ট সরকার আপনাদের অপেক্ষায় আছে। আমরা সবরকমের সদর্থক পরিকাঠামো ও পরিষেবা প্রদান করবো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে।"

যথারীতি সাতটি রাজ্যের উচ্চপদস্থ সরকারি আমলারা এই মঞ্চে উপস্থিত থেকে নিজ নিজ ভৌগলিক এলাকার প্রাকৃতিক ও আঞ্চলিক সহ সাংস্কৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যতার বর্ণনা দিচ্ছিলেন আকর্ষণীয় স্লাইড শোয়ের মাধ্যমে। প্রায় একই সুরে উপস্থিত আয়োজক কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব অনুরাধা এস চাগতিও বক্তব্য রাখেন, "দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। তাই এখানে ট্যুরিজিম ব্যবসার উন্মুক্ত দুয়ার রয়েছে। এখানকার কৃষি ও হস্তশিল্পের উৎকর্ষ বিশ্বজোড়া। চা শিল্প দুনিয়ার নজর কাড়া। আইটি সেক্টরেও এখানকার দক্ষতা যথেষ্ট উর্দ্ধমুখী। পশুসম্পদ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে এই এলাকা আজ চুড়ান্ত পর্যায়ে প্রথম সারিতে। সৌরশক্তি ব্যবহার ও মাইক্রো হাইডেল প্রোজেক্টেও ক্রমশঃ আগুয়ান। বাঁশ, তাঁত ও হোটেল ব্যবসাতেও আজ অগ্রগন্যের ভূমিকা পালন করছে। সুতরাং বিনিয়োগের পীঠস্থান যে আজ ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল এ নিয়ে দ্বিমতের অবকাশ নেই।"

মন্ত্রী ও যুগ্ম সচিবের গলায় যখন উচ্চগ্রামে বাজছে দেশের বিনিয়োগের পটভূমিতে উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় ভূমিকার স্বরলিপি ঠিক তখনই যথার্থ সিম্ফনির সঙ্গত দিলেন সামিটে উপস্থিত আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পপতি খুরশেদ বক্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, "এটা বাস্তব বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল হলো এখন কমপ্লিট ভার্জিন সম। ব্যবসার সম্ভাবনার ক্ষেত্রেও এখানে উন্মুক্ত ময়দান রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সরকারের উদার হস্তের নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদান। তাই সবার আগে দরকার বহিরাগত বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস অর্জন প্রতিষ্ঠা করাটা। এই সামিটের পাশাপাশি বিশ্বাস প্রাপ্তির জন্য আমাদেরও অপেক্ষা করতেই হবে।"

(www.theoffnews.com - North Eastern region invest)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

বাসা কিংবা বাইরে, সব জায়গাতেই আমরা প্রায় প্লাস্টিকের বোতলে থাকা পানি কিনে পান করে থাকি। আবার অনেকেই ব্যবহৃত এসব খালি বোতলে পানি ভরে পুনরায় ব্যবহার করে এবং ফ্রিজেও রাখেন। কিন্তু প্রায় বেশির ভাগ মানুষই জানি না এই প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করায় ঠিক কতটা ভয়ংকর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি আমরা । প্লাস্টিকের বোতল সহজলভ্য এবং এর ব্যবহার সুবিধাজনক হলেও তা আমাদের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে আমাদের পান করা পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি থাকতে পারে, বিশেষ করে যখন প্লাস্টিকের বোতল থেকে সরাসরি পান করা হয়।

মাইক্রোপ্লাস্টিক ৫ মিলিমিটারেরও কম আকারের ক্ষুদ্র কণা পানির উৎসগুলোকে বিভিন্ন উপায়ে অনুপ্রবেশ করে, যার মধ্যে রয়েছে বড় প্লাস্টিকের ধ্বংসাবশেষ ভেঙে ফেলা, সিন্থেটিক টেক্সটাইল থেকে মাইক্রোফাইবার বের করে দেওয়া এবং প্লাস্টিকের বোতলের খণ্ডিতকরণ। গবেষণায় দেখা গেছে যে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলো বিস্তৃত। এগুলো কেবল আমাদের মহাসাগরই নয়, আমাদের মিঠা পানির উৎস এবং এমনকি আমরা যে বায়ু থেকে শ্বাস নিই তাও দূষিত করে।

আমরা যখন প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানিতে চুমুক দিই, তখন অজান্তেই এই মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং সতেজ তরলটি গ্রহণ করি। গবেষণাগুলোতে বিশ্বজুড়ে বোতলজাত পানির নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা সনাক্ত করেছে, এই ব্যাপক দূষণের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্লাস্টিকের বোতল এবং চর্মরোগ সংক্রান্ত পণ্যের মতো জিনিস থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক আমাদের দেহে প্রবেশ করার ক্ষমতা রাখে। ইনসুলিন প্রতিরোধ, ওজন বৃদ্ধি, প্রজনন স্বাস্থ্য হ্রাস এবং এমনকী ক্যান্সারের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা এই রাসায়নিকগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

যদিও মাইক্রোপ্লাস্টিক খাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে এখনও গবেষণা করা হচ্ছে, তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, এগুলো মানব স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্লাস্টিকের মধ্যে পাওয়া ক্ষতিকারক রাসায়নিক স্থানান্তর করার সম্ভাবনা।

(www.theoffnews.com - Bangladesh water plastic bottle)

দি ব্যুরো, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

প্রতিবছরের মতো এবছরও প্রদান করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাডেমি পুরস্কার। নাটকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানে কৃতিত্ব হিসেবে মোট বিশজনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। নাটকের আবহ, সঙ্গীত এবং অন্যান্য সামগ্রিক বিষয়ে মিউজিকে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার পেয়েছেন পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তী। ২০০৫ সালে ‘নীলমাটি লালকাঁকড়’ নাটকের মাধ্যমে নাটকের মিউজিকের সূচনা হয়। এই নাটকটি পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করে। এ পর্যন্ত তাঁর মিউজিক করা প্রায় চল্লিশটিরও বেশি নাটক এনএসডিতে নির্বাচিত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর নাটকের মিউজিকের সংখ্যা একশো ত্রিশটিরও বেশি। উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে নাসিকা পুরাণ, আধাঁরে একলা, তৃতীয় অঙ্ক অতএব, ক্যালিগুলা, অনুশোচনা, অদ্য শেষ রজনী ইত্যাদি।

ভারতের বাইরে আন্তর্জাতিক থিয়েটারে মিউজিক করারও নজির রয়েছে। তার মধ্যে ২০২০ সালে ইন্দো—ব্রিটিশ প্রযোজিত ফিনিক্স থিয়েটারের নাটক “ব্ল্যাক—গ্লাস অব ওয়াটার”। ২০১২ সালে ইন্দো—ফরাসি প্রযোজিত জ্যাজ একাডেমি অব ফ্রান্সের “সোয়ান লেক রিভিজিটেড”। ২০১৪ সালে ইন্দো—ফরাসি প্রযোজিত “বুদ্ধ কেন ভেতরে”। ২০১৫ সালে ইন্দো—চায়না প্রযোজিত নাটক “হোয়াইট লোটাস, ব্ল্যাক স্যান্ড”। ২০১৮ সালে ইন্দো—চাইনিজ প্রযোজিত নাটক “ইন দিস মুমেন্ট”।

পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তীর মুলত ধ্রুপদী শততন্ত্রী বীণা (সন্তুর) শিল্পী। পাশাপাশি সরোদ, তবলা, পাখোয়াজ, সেতার, এসরাজ, গিটারসহ আরও অনেক যন্ত্রে শিক্ষালাভ করেছেন এবং শিক্ষাদান করেন। এছাড়াও তিনি কলকাতার মিনিস্ট্রি অব ইনফরমেশন এন্ড ব্রডকাস্ট এর আন্ডারে “এসআরএফটিআই”—তে মিউজিক কম্পোজার, সাউন্ড ডিজাইনিং—এ আট বছর কাজ করেছেন।

১৯৯৩ সালে মাত্র বারো বছর বয়সে নরওয়ে থেকে আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। পরবতীর্তে ১৯৯৫ সালে ইউএনও—র ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। দশবছর বয়সে ১৯৯১ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দি ব্যুরো, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাডেমি পুরস্কারে ভূষিত পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তী

প্রতিবছরের মতো এবছরও প্রদান করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাডেমি পুরস্কার। নাটকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানে কৃতিত্ব হিসেবে মোট বিশজনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। নাটকের আবহ, সঙ্গীত এবং অন্যান্য সামগ্রিক বিষয়ে মিউজিকে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার পেয়েছেন পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তী। ২০০৫ সালে ‘নীলমাটি লালকাঁকড়’ নাটকের মাধ্যমে নাটকের মিউজিকের সূচনা হয়। এই নাটকটি পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করে। এ পর্যন্ত তাঁর মিউজিক করা প্রায় চল্লিশটিরও বেশি নাটক এনএসডিতে নির্বাচিত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর নাটকের মিউজিকের সংখ্যা একশো ত্রিশটিরও বেশি। উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে নাসিকা পুরাণ, আধাঁরে একলা, তৃতীয় অঙ্ক অতএব, ক্যালিগুলা, অনুশোচনা, অদ্য শেষ রজনী ইত্যাদি।

ভারতের বাইরে আন্তর্জাতিক থিয়েটারে মিউজিক করারও নজির রয়েছে। তার মধ্যে ২০২০ সালে ইন্দো—ব্রিটিশ প্রযোজিত ফিনিক্স থিয়েটারের নাটক “ব্ল্যাক—গ্লাস অব ওয়াটার”। ২০১২ সালে ইন্দো—ফরাসি প্রযোজিত জ্যাজ একাডেমি অব ফ্রান্সের “সোয়ান লেক রিভিজিটেড”। ২০১৪ সালে ইন্দো—ফরাসি প্রযোজিত “বুদ্ধ কেন ভেতরে”। ২০১৫ সালে ইন্দো—চায়না প্রযোজিত নাটক “হোয়াইট লোটাস, ব্ল্যাক স্যান্ড”। ২০১৮ সালে ইন্দো—চাইনিজ প্রযোজিত নাটক “ইন দিস মুমেন্ট”।

পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তীর মুলত ধ্রুপদী শততন্ত্রী বীণা (সন্তুর) শিল্পী। পাশাপাশি সরোদ, তবলা, পাখোয়াজ, সেতার, এসরাজ, গিটারসহ আরও অনেক যন্ত্রে শিক্ষালাভ করেছেন এবং শিক্ষাদান করেন। এছাড়াও তিনি কলকাতার মিনিস্ট্রি অব ইনফরমেশন এন্ড ব্রডকাস্ট এর আন্ডারে “এসআরএফটিআই”—তে মিউজিক কম্পোজার, সাউন্ড ডিজাইনিং—এ আট বছর কাজ করেছেন।

১৯৯৩ সালে মাত্র বারো বছর বয়সে নরওয়ে থেকে আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। পরবতীর্তে ১৯৯৫ সালে ইউএনও—র ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। দশবছর বয়সে ১৯৯১ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সিসিআরটি স্কলারশিপ লাভ করেন।


দি ব্যুরো, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় ৮ ফেব্রুয়ারি ওডিশার সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অফ ওডিশার ক্যাম্পাসে ST ছাত্রদের জন্য ফিল্ম ভিত্তিক স্কিল কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছিল৷ আজাদী কা অমৃত মহোৎসব কর্মসূচির অধীনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ দ্বারা আয়োজিত। CUO-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর চক্রধর ত্রিপাঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন যা ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। মঞ্চে বসা অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ছিলেন প্রফেসর নরসিং চরণ পান্ডা, ইনচার্জ রেজিস্ট্রার এবং সিইউওর ফিনান্স অফিসার, প্রফেসর ড. বিভাস চন্দ্র ঝা, পরামর্শদাতা, একাডেমিক অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, CUO, সঞ্জয় মোরে, জাতীয় খ্যাতিসম্পন্ন বিশিষ্ট অভিনেতা এবং এফটিআইআই, পুনের অধ্যাপক, ড. সৌরভ গুপ্ত, জে অ্যান্ড এমসি বিভাগের প্রধান আই/সি, এবং ড. নিখিল কুমার গৌড়, সহযোগী অধ্যাপক, জে অ্যান্ড এমসি বিভাগ।

আরও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন প্রফেসর ভারত পান্ডা, প্রফেসর হেমরাজ মীনা, ডক্টর রাকেশ লেনকা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, ডাঃ চক্রধর পাধন, ডাঃ নির্ঝরিণী ত্রিপাঠী, ডাঃ মিনাতি সাহু, ডাঃ প্রদোষ কে রথ, ডাঃ প্রসেনজিৎ সিনহা, ডাঃ ফাগুনাথ ভোই, পিআরও, ডাঃ সনি পারি, ডাঃ তালাত জাহান বেগম এবং তেলারাম মেহের।

কর্মশালাটি চলচ্চিত্র সম্পর্কিত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির চারটি মৌলিক কোর্সের উপর ভিত্তি করে। এই কোর্সগুলো হল বেসিক কোর্স ইন স্ক্রিন অ্যাক্টিং, বেসিক কোর্স ইন স্ক্রিনপ্লে রাইটিং, ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স এবং স্মার্ট ফোন ফিল্ম মেকিং-এর বেসিক কোর্স। এফটিআইআই-এর বিশিষ্ট অধ্যাপকরা, যারা উপরোক্ত কোর্সে বিশেষজ্ঞ তারা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন এবং 15 দিনের কর্মশালায় ST ছাত্রদের প্রশিক্ষণ দেবেন। কোর্সগুলো শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

(www.theoffnews.com - education film)


সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

শীত কিংবা গরম সারা বছর অনেকেই ভোগেন হাতের তালু ঘামার মতো এমন সমস্যায়। এটি যেমন অস্বস্তিকর তেমনি তৈরি করে কাজের সমস্যার।

হাতের তালু ঘামে কেন ও এর প্রতিকার সম্পর্কে জানিয়েছেন এএমজেড হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের পুষ্টি, ওবেসিটি, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক ডিজিজ কনসালটেন্ট ডা. মো. জয়নুল আবেদীন দীপু।

হাতের তালু ঘামে কেন

ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশ (সিমপেথেটিক) অতি সংবেদনশীল হয়ে ঘাম-গ্রন্থিকে অতিরিক্ত সক্রিয় করলে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়। তখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হাত ঘামে। বিভিন্ন রোগের কারণেও হাতের তালু অতিরিক্ত ঘামতে পারে। যেমন-

১. থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা (হাইপার-থাইরয়েডিজম) থাকলে

২. ডায়াবেটিস

৩. অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তা

৪. হৃদযন্ত্রের সমস্যা থাকলে

৫. গর্ভাবস্থায়

৬. পারকিনসন ডিজিজ

৭. কিছু ক্যানসার

আবার কোনও রোগ ছাড়া অজানা কারণেও হাত অতিরিক্ত ঘামতে পারে।

হাতের তালু ঘামলে কী করবেন

ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ায় বা ব্যায়াম করলে কারও হাত স্বাভাবিকভাবে ঘামে, এতে কোনও ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু যদি ওপরে উল্লেখ করা অন্য কোনও কারণে বা কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হাতের তালু ঘামে তবে তা অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আর কারও যদি অতিরিক্ত ঘামের পাশাপাশি মাথা ঘোরানো, বুকে ব্যথা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা দ্রুত হৃদস্পন্দন ইত্যাদির লক্ষণ থাকে তাহলে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে যেতে হবে। যদি কারও অতিরিক্ত হাত ঘামার ফলে দৈনন্দিন কাজে বিঘ্ন ঘটে, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন। এক্ষেত্রে একজন মেডিসিন, হরমোন অথবা নিউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

কোনও রোগের কারণে হাতের তালু ঘামার সমস্যা হলে ডাক্তার উপযুক্ত কারণ চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেবেন। আর নির্দিষ্ট কোনও রোগ ছাড়া অতিরিক্ত হাতের তালুর ঘামের জন্য ডাক্তার মেডিকেটেড লোশন/স্প্রে ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। সাধারণভাবে জীবনাচার পরিবর্তন করে হাতের তালু ঘামার সমস্যা রোধ করা যেতে পারে। যেমন ঢিলেঢালা ও হালকা রংয়ের পোশাক পরে এবং সবসময় রুমাল/ ছোট তোয়ালে ব্যবহার করে হাত শুষ্ক রাখা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও খাবারের বিধি-নিষেধ নেই। তবে তৈলাক্ত খাবার ও ফাস্টফুড পরিহার করলে এই সমস্যায় উপকার পাওয়া যাবে।

(www.theoffnews.com - Bangladesh hand sweat)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ :

প্রেমে পড়েনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে খুব কম। কেউ প্রকাশ করে, কারোরটা আবার থেকে যায় অজানাতেই। পৃথিবীর সৃষ্টি লগ্ন থেকেই নারী ও পুরুষের পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ থেকে আসে আসক্তি। আর সেই আসক্তি থেকেই অল্প অল্প করে প্রেমে পড়া।

কিন্তু মানুষ প্রেমে কেন পড়ে? প্রেমে পড়ার নিয়ামকই বা কি? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই উঁকি দেয়।

মানুষ তার রূপ, চেহারা এবং ব্যক্তিত্ব দেখে একজন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। কিন্তু এর পেছনের কারণ খুব কম সংখ্যক মানুষই জানে।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা বলছে, প্রেম সবই মস্তিষ্কের খেলা। আসুন আমরা কেন প্রেমে পড়ি তা জানার চেষ্টা করি।

অন্যদিকে সাইকোলজিস্টরা বলছেন, ভালোবাসা এমন একটি অনুভূতি যেখানে একজন ব্যক্তি হৃদয় থেকে চিন্তা করে এবং অনুভব করে। এতে একজন ব্যক্তির মনে অনেক আবেগ এবং বিভিন্ন চিন্তার বিকাশ ঘটে, যা সুখ, স্বস্তি ও শান্তি দেয়। এটি আকর্ষণের প্রভাবে ঘটতে পারে বা আকর্ষণ ছাড়াই বিকাশ লাভ করতে পারে।

ভারতের নারায়ণা হাসপাতালের চিকিৎসক রাহুল রাই কাক্কার বলেন, আমরা যদি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি, আমরা যখন বড় হই তখন আমাদের শরীরে টেরেস্টেরন, প্রোজেস্টেরন এবং ইস্ট্রোজেন নামক হরমোন তৈরি হয়। এর ফলে আমাদের শরীরে একটি প্রক্রিয়া ঘটে যার মধ্যে আমরা ভালোবাসা এবং উত্তেজনা অনুভব করি।

সুপরিচিত বিজ্ঞানী হেলেন ফিশার প্রেমকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন- লালসা, আকর্ষণ এবং সংযুক্তি। প্রেমের প্রথম অনুভূতি মস্তিষ্কে তিনটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ঘটে। নোরাড্রেনালাইন, ডোপামিন এবং ফেনাইলথিলামাইন। নোরাড্রেনালিন রাসায়নিক অ্যাড্রেনালিনকে উদ্দীপ্ত করে, যার ফলে হৃৎপিণ্ড দ্রুত স্পন্দিত হয় এবং হাত ঘামতে থাকে। ডোপামিন আপনাকে ভালো বোধ করায়। যখন আমরা আমাদের ক্রাশের কাছাকাছি থাকি, তখন ফেনাইলথাইলামাইন নিঃসৃত হয়, যা আমাদের পেটে প্রেমের প্রজাপতি উড়ছে, অনুভব করায়।

আসলে ভালোবাসা একটি সংযুক্তির অনুভূতি, যা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। এতে একজন মানুষ সবকিছু ভুলে এই সুখ উপভোগ করেন এবং এর ফলে তার শরীরে ডোপামিন, অক্সিটোসিন, সেরোটোনিন এবং এন্ডোরফিনের মতো অনেক ধরনের হরমোন বৃদ্ধি পায়, যা তাকে আনন্দ দেয়। একে আমরা বাস্তবে প্রেম বলে থাকি। উল্লেখ্য , গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রেম আসলে মস্তিষ্কের রাসায়নিক প্রক্রিয়াই।

(www.theoffnews.com - Bangladesh love)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

কর্মীদের কাজে সাহায্য করার জন্য তিনটি রোবট রাখা হয়ে ছিল ইলন মাস্কের প্রখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা টেসলার টেক্সাসের কারখানায়। কিন্তু সাহায্য করা দূরস্থান, একটি রোবট হঠাৎই সেখানকার এক কর্মীকে কৃত্রিম নখ বার করে আঁচড়ে দেয়। ভারতের একটি পত্রিকা জানায়, সম্প্রতি প্রকাশিত ওই সংস্থার একটি রিপোর্টে এমনটাই জানা গিয়েছে।

যদিও রিপোর্টে এও দাবি করা হয়েছে যে, ঘটনাটি তিন বছর আগেকার। তবে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা সম্প্রতি এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, টেক্সাসের ওই কারখানায় সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করতেন আক্রান্ত কর্মী। তাঁর কাজ ছিল নতুন অ্যালুমিনিয়াম পাত কেটে তা নতুন গাড়িতে ব্যবহার করা। ঘটনার দিন দু’টি রোবটকে নিশ্চল করে রাখা হলেও, একটি রোবট আংশিকভাবে কার্যকর ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, আক্রান্ত কর্মীকে কাজে বাধা দিচ্ছিল তৃতীয় রোবটটি। তার পরেও ওই কর্মী কাজ চালিয়ে যাওয়ায় নিজের কৃত্রিম নখ বার করে পিঠে এবং হাতে আঁচড় কেটে দেয় রোবটটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোবটটি আক্রমণ করার পরেই রক্তে ভেসে যায় দুর্ঘটনাস্থলটি। সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্তকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। যদিও মাস্কের সংস্থা এই বিষয়ে প্রকাশ্যে এখনও মুখ খুলতে চায়নি।

(www.theoffnews.com - Bangladesh Telsa)