গুরুত্বপূর্ণ খবর

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

চীনের চাংসা শহরে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ব্রড গ্রুপ মাত্র ২৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। 

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগে থেকেই বাড়িটির কাঠামো তৈরি করেছিল তারা। এজন্য অনেকটা সময়ই বেঁচেছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এই নির্মাণ কাজে। 

তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এত অল্প সময়ে বাড়ি বানানো হলেও এটি অনেক মজবুত এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এছাড়াও বাড়িটির প্রতিটি অংশ খুলে ফেলাও সম্ভব অর্থাৎ পোর্টেবল।

এর আগে ২০১১ সালে চাংসায় মাত্র ৪৬.৫ ঘণ্টায় ১৫ তলা বিশিষ্ট আর্ক হোটেল নির্মাণ করে রেকর্ড করেছিল ব্রড গ্রুপ।

(www.theoffnews.com - China Broad group building construction)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

রটিফার নামক এই প্রাণীর বসবাসর পানিতে। যাকে খালি চোখে দেখা যায় না। সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় আবারও আলোচনায় এসেছে প্রাণীটি। ২৪ হাজার বছর ঘুমিয়ে থাকার পর প্রাণীটি জেগে ওঠায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। এত দিন জীবন-মৃত্যুর মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিল জীবটির।

সম্প্রতি সুদূর উত্তর সাইবেরিয়ার আলাজেয়া নদীর তীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এই প্রাণীটি খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা। এই জীবটি রটিফার প্রজাতির। এক ধরনের আণুবীক্ষণিক জীব। বহুকোষী এই জীবটির ব্যতিক্রমী ক্ষমতা রয়েছে।

রটিফার প্রজাতির এই প্রাণীটি ১৬৯৬ সালে প্রথমে খুঁজে পান বিজ্ঞানী জন হ্যারিস। জীবটি সর্বোচ্চ আধ মিলিমিটার দীর্ঘ হতে পারে। এদের মুখের কাছে চাকার মতো অংশ থাকায় হুইল জীবও বলা হয়।

প্রতিকূল পরিবেশে এরা নিজেদের সমস্ত জৈবিক ক্রিয়া স্বেচ্ছায় বন্ধ করে দিতে পারে। এভাবে তারা মৃতের মতো থেকে যেতে পারে। এই জীবটির হাজার বছর ঘুমিয়ে থাকার প্রমাণ এই প্রথম নয়। এর আগেও এর প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এবার বিষয়টি তারা নিজ চোখে দেখার সুযোগ পেল।

প্রাণীটি হিমাঙ্কের ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচের তাপমাত্রাতেও এক দশক ঘুমিয়ে কাটাতে পারে। কিন্তু এ বার নিজের ঘুমের যাবতীয় সব রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে।

এমনকি গবেষণাগারে নমুনাটি আনার পর বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অনুকূল পরিবেশে সেটি আবার অযৌন জনন পদ্ধতিতে বংশবিস্তারও করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা ‘কারেন্ট বায়োলজি’ নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

(www.theoffnews.com - rotifar)

দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম:

"আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম। আমরা আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম। গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান। মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম"। লোক সঙ্গীতের আবহে তালে তালে অনিন্দ‍্য সুন্দর মূদ্রায় মুখে মাস্ক পরে নৃত্য পরিবেশন করলেন শিল্পী। আর একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে তা উপভোগ করলেন কোভিড সংক্রমিত রোগীরা। ওই সময়টুকু যেন তারা ভুলে থাকলেন সব কিছুই। 

এটা একটি কোয়ারিন্টাইন সেন্টার বা কোভিড রোগীদের নিভৃতাবাসের অন্দর মহলের দৃশ‍্য। কবির আশ্রমের অনতিদূরে। আরেক পুরাতন  মহামারীর কথা। আজ মানুষের জন্য মানুষের যেন হয়েছে সময়। ঠিক তাই। বোলপুর শান্তি নিকেতন শ্রীনিকেতন এলাকার সুরুলে নৃত্য চিকিৎসার মাধ‍্যমে নিভৃতাবাসে থাকা কোভিড অতিমারী সংক্রমিত রোগীদের জন্য নৃত্যের মাধ‍্যমে মনোরঞ্জন করলেন দেশ বন্দিত নৃত্য শিল্পী অভিষেক বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়। অনুষ্ঠান শেষে কৃতজ্ঞতা জানান কোভিড রোগীরা। তাঁদের আশা এমন অনুষ্ঠান তাদের দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করবে। 

করোনা আক্রান্ত রোগীরা নিজেদের নিঃসঙ্গ ও অসহায় মনে না করেন, তার জন্য সম্প্রতি এক অভিনব ড্যান্স থেরাপির আয়োজন করা হয়। সুরুল স্বাস্থ্য সমিতির কোয়ারান্টাইন হাউস এ করোনা আক্রান্ত রোগীদের সামনে নৃত্য প্রদর্শন করেন ভারত সরকারের সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম শ্রেণির নৃত্য শিল্পী অভিষেক ব্যানাজ্জী (পিকু)। বাংলা লোকসঙ্গীত নৃত্য প্রদর্শন করেন তিনি। তত্ত্বাবধানে ছিলেন  ভারত সরকারের লোকসংস্কৃতি গবেষক সংস্কৃতি বিভাগের থিয়েটার ইন এডুকেশন এর মাধ্যমে সমীর মিত্র। তিনি এই থেরাপির পথ প্রদর্শক হিসেবে যৌনকর্মী ও তাদের শিশু সন্তানদের মধ‍্যেও কাজ করেছেন। সুরুল স্বাস্থ্য সমিতির সম্পাদক সিদ্ধার্থ মিত্র শিল্পীদের সাহায্য করেন এমন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শুধু একযোগে সবার পাশে থাকতে। সমীর মিত্র বলেন, আগে দূরারোগ‍্য ছিল বসন্ত। এখন কোভিড। কিন্তু  নিরাময় পদ্ধতি এক। স্নেহ মায়া মমতার স্পর্শ কেমনভাবে দেহ মন নিরাময় করে তোলে তার প্রমাণ রবীন্দ্রনাথ তাঁর কথা কাব‍্য গ্রন্থের অভিসার কবিতায় দেখিয়েছেন। যখন কবির বয়স আটত্রিশ। সন‍্যাসী উপগুপ্ত সারিয়ে তুললেন বসন্ত রোগে আক্রান্ত বারবধূ বাসবদত্তাকে। তিনি বললেন, 'আজি রজনীতে হয়েছে সময়, এসেছি বাসবদত্তা!'

(www.theoffnews.com - Birbhum culture)

তপন সান্যাল, কবি, গীতিকার ও গবেষক, পাইকপাড়া, কলকাতা:

ব্যক্তিগত তথা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ইতিহাসের পেছনে ঐতিহাসিক সত্যটা কি? লোভ আর নির্লোভ এর মধ্যে পার্থক্য কি? কবি শ্রীজাত বন্দোপাধ্যায় বললেন, নির্লোভ হতে চাওয়ার চেয়ে বড় লোভ আর কিছু হয় না। আমি সহমত। আসুন এই দৃষ্টি ভঙ্গির একটু বিশ্লেষণ করা যাক, বা আমি আমার মত করে আলোকপাত করার চেষ্টা করি আমি কেন সহমত তা বলা দরকার। কেবল ওইটুকু বললে লাইনটা অস্পষ্ট থেকে যায়। আসলে মানুষ লোভী হয়ে উঠে সমাজের মধ্যে দিয়ে। আবার কেউ কেউ এর মধ্যে লোভহীন হয়ে উঠে অর্থাৎ নির্লোভ। কিন্তু নির্লোভ হতে চাওয়াটা সব চেয়ে বড় প্রচার।

নির্লোভ হল আত্মমগ্নতা, প্রচার নয়। মানব সভ্যতার একদম গোড়ার দিকে মানুষ খাদ্য সংগ্রহ ও বাসস্থানের জন্য বেড়িয়ে পরে। দুইবেলা দুমুঠো খাবার চাওয়াটা লোভ নয়। এটা জৈবিক ও প্রাকৃতিক চাহিদা। যখনই চাওয়া পাওয়াটা ক্ষমতার অঙ্গনে প্রবেশ করে তখনই লোভের জন্ম হয় বা মূর্ত হয়ে উঠে। প্রচুর মানুষ আছেন যারা অল্পতে খুশি, শান্তিতে থাকেন, চাওয়া পাওয়ার পেছনে দৌড়ায় না, অর্থাৎ নির্মোহ থাকে তারাই নির্লোভ। যদি এরকম না হতো তাহলে জ্ঞানী গুণীরা এই কথা বলতেন না যে লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু। এইগুলি সাধারণ মানুষ থেকে শেখা। আজকের চাওয়া পাওয়া হল বাজার কেন্দ্রিক ফলে লোভ এক সাধারণ ঘটনা। এই লোভের বিভিন্ন রূপ, প্রথম এসেছিলো ধর্মের রূপ ধরে, জ্ঞানের মধ্যে দিয়ে।কারণ স্কিল মানে পাওয়ার। আমি আপনার ওপর কর্তৃত্ব করতে পারি আমার শিক্ষা ও জ্ঞান দিয়ে।

অর্থাৎ জ্ঞান হল একপ্রকার ক্ষমতার পুঁজি। এখন লোভ বিজ্ঞানের রূপ নিয়ে আসছে আরও ভয়ঙ্কর। লোভের দানবীয় মূর্ত রূপ হল রাষ্ট্র ও সরকার। তাই প্রতি যুগেই এর বিরুদ্ধে মানুষ বিদ্রোহ করেছে। লোভ হল অন্তহীন, সীমিত নয়।

রাষ্ট্র যন্ত্রের এই ক্ষমতার পেছনে ঐতিহাসিক সত্য হল লোভ, অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন, কেন্দ্রীয়করণ জনগণকে বঞ্চিত করে কর্তৃত্ব কায়েম করা। এই অতিরিক্ত উৎপাদন করেছে সাধারণ মানুষ আর ক্ষমতা ভোগ করছে মুষ্টিমেয় কিছু কোম্পানি। আদিপ্রাণ থেকে মানুষের ইতিহাস পর্যন্ত আমরা দেখতে পাই শক্তিশালী সত্ত্বাই পরিবেশ এবং প্রতিবেশের উপর প্রভাব বিস্তার করে। তারপর মানুষের প্রাথমিক ইতিহাস থেকে সর্বশেষ ইতিহাস পর্যন্তও আমরা দেখতে পাই শক্তিমানের একনায়কত্ব। মানব ইতিহাসের প্রথম দিকে শক্তির উৎস ছিল গায়ের জোর বা পেশি শক্তি।

ধীরে ধীরে শক্তির উৎস হিসেবে হাতিয়ার, প্রজ্ঞা এবং স্বপক্ষের জনবল যোগ হতে থাকলো। জনবল এবং শক্তিসংঘ যে গোত্রের যতবেশি বড় হতে থাকলো সে গোত্র ততবেশি ভূখন্ডের উপর আদিপত্য বিস্তার করতে থাকলো। ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে থাকলো প্রতিষ্ঠান। মানব ইতিহাসের সর্বোচ্চ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হলো রাষ্ট্র। আর আধুনিক রাষ্ট্রের সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হলো রাজনৈতিক দল।

প্রথম দিকে গ্রিক সাম্রাজ্য ভাবত আমরাই শ্রেষ্ঠ, পৃথিবী আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কিন্তু হলো না, এরপর রোমান সাম্রাজ্য ভাবলো পৃথিবীকে আমরা কর্তৃত্ব করবো, সেও টিকল না, এলো জার্মানরা, হিটলার ভাবতে শুরু করলো পৃথিবী আমার অধীনে থাকবে, তাও হলো না। তারপর, সোভিয়েত, পরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আরও বৃহৎ শক্তির আধিপত্য শুরু হলো, অর্থাৎ একচেটিয়া বাজার কেন্দ্রিক সভ্যতা। এখন গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট, apple, আম্যাজন প্রভৃতি আধিপত্যগামী শক্তিগুলি আমাদের নিয়ন্ত্রক শক্তি।এরা সবাই মানুষকে ভোগবাদী করে তুলছে। মানুষ যদি ভোগবাদে অভ্যস্ত হয়ে পরে মানুষ লোভ তথা ক্ষমতা ও পুঁজির লড়তে ব্যর্থ হবে। এবং সেটাই এরা খুব সফলতার সাথে, সচেতন ভাবে করে চলেছেন। ক্ষমতার কেন্দ্রের এই যে বিবর্তন কি করে তৈরি হলো।

যখনই মানুষ প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হলো, ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরী হলো, কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায়, সমাজপতি তথা শাসকরা ঠিক করে দিল। তখনই লোভের রাষ্ট্রীয়করণ হলো। মানুষ যখন প্রবৃত্তির দাসে পরিণত হল, মনের ওপর বা চাওয়া পাওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারালো তখনই লোভ সিলমোহর পেল। নির্লোভ আছে বলেই লোভের অস্তিত্য আছে। ক্ষমতার প্রতি লোভ, অর্থের প্রতি লোভ হল, নামের প্রতি লোভ আজ সর্বগ্রাসী রূপে পরিণত হয়েছে

যা মানুষকে পদদলিত ও শোষণ করতে ছাড়া আর কিছু শেখায় না। আর আধুনিক শিক্ষা ও বিজ্ঞান হল এরই বাহন। ছোট ছোট লোভ থেকে বড় লোভের জন্ম হয়। বড় লোভ ছোট লোভকে গ্রাস করে ফেলে, এটা একটা নিরন্তন প্রক্রিয়া। তাই গৌতম বুদ্ধ সঠিক ভাবে বলেছেন,  Desire is the root of human suffering। Endless desire মানে endless suffering। তাই আত্মজ্ঞানী বা আত্মমগ্ন মানুষ নির্লোভ হয়। প্রকৃতি এবং এই কসমস নির্মোহ ও অনন্ত। আপনার দুইটি শত্রু। এক শত্রু বাইরে থেকে আপনার ওপর অত্যাচার করছে, বাজারের মধ্যে দিয়ে, দলের মধ্যে দিয়ে, প্রচারের মধ্যে এবং সর্বপরি রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে।

আর একটি শত্রু বাস করে আপনার ভিতরে। তাই আপনি সকলকে শত্রু মনে করেন। আসলে আপনি আপনার শত্রু, শুধু বাইরের শত্রু নয়। ভিতরেও শত্রু আছে। সেই কারণেই নিজেকে জানা দরকার, আমি কে? তা চেনা দরকার, আমি এই পৃথিবীর, প্রকৃতির প্রায় কিছুই জানি না এই বোধ খুব গুরুত্বপূর্ণ আর সেটাকেই বলে আত্মজ্ঞান। তাই মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ যত বাড়বে, নিজেকে জানা যত বাড়বে নিয়ন্ত্রণহীন শাসক ও শোষক ও অবলুপ্তির পথে হাটবে। আবার  নতুন শাসক আসবে লোভ দেখাবে নতুন রূপে, আবার বিদ্রোহ বিপ্লব হবে, করোনার মতো শাসক ও রূপ বদলাবে।

এটাই নিরন্তন প্রক্রিয়া, এই ভাবেই ইতিহাস এগোয়, মানুষের অগ্রগতি হয়। তাই যত নির্মোহ থাকবেন তত শান্তিতে থাকবেন, নিজেকে চিনবেন। নিজের হোক আর রাষ্ট্রের হোক লোভের স্বরূপ বুঝতে পারবেন। লোভের স্বরূপ যদি বুঝতে না পারেন তাহলে লড়াইটা করবেন  কার বিরুদ্ধে এবং কিভাবে।

বিকল্প পথে সর্বাঙ্গীন মুক্তি আনতে গেলে শুধু নিজের সর্বাঙ্গীন স্বরূপ বুঝতে হবে, শুধু শাসক নয় তাহলে বিশ্ব ব্রহ্মান্ডকেও উপলব্ধি করতে পারবেন। গবেষক কল্যাণ ঘোষ সঠিক ভাবে বলেছেন যে পরিমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ হয়েছে সেই পরিমানে আত্মিক বিকাশ খুব কমই হয়েছে। আজকের বিজ্ঞান প্রযুক্তির মালিকদের স্বার্থে কাজ  করছে। আবার বহু সময়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মালিক একই কোম্পানি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ বিশেষ করে ১৭৭০ খৃষ্টাব্দের শিল্প বিপ্লবের পর থেকে কৃষি ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। একই সাথে চিকিৎসা বিদ্যার জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অভাবনীয় সব উদ্ভাবনের ফলে মানুষের গড় আয়ু ও মানবজাতির জনসংখ্যা হু হু করে বৃদ্ধি পায়। সব মিলিয়ে প্রকৃতির উপর মানুষের দানব সুলভ কর্তৃত্ব পড় পড় করে বেড়ে যায়। আজকে আমরা এইসবেরই একটা মোটামুটি চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছি বলে মনে হয়। এটা মূলতঃ পশ্চিমী একটা সর্বব্যাপী সর্বগ্ৰাসী ধ্বংসাত্মক মানসিকতা, যেটা গত ৩০০ /৪০০ বছরে আজ বিশ্বব্যাপী বিরাজমান।

এর সঙ্গে তাল রেখে আমাদের আত্মিক বিকাশ কোনও ভাবেই হয়নি, বরং আত্মিক অবনতি অনেক হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতি সীমাহীন লোভ, অপ্রয়োজনীয় ক্ষমতার প্রতি নেশা, যুদ্ধ বাসনা, প্রকৃতির প্রতি চরম অসংবেদনশীলতা - সবই আত্মিক বিকাশ ও চৈতন্যের উন্মোদন সমান তালে না হওয়ার কারণে।আদিবাসীরা সভ‍্যতার এই ফাঁদে পা ফেলেনি। মধ্য ও পূর্ব ভারতে থাকা সাঁওতাল, মুন্ডা, হো সমুদায় গোষ্ঠীরা বা উওর পূর্ব ভারতের নাগা, মিজো, মণীপুরি ও অন্যান্য সমুদায় গোষ্ঠীদের সমাজ ব্যবস্থা, বয়স্ক জ্ঞানী লোকদের দ্বারা পরিচালিত সামাজিক সংগঠন গুলো এ ব্যাপারে দৃষ্টান্ত মূলক।

আমাদের আজ প্রধানতঃ সংবেদনশীল, চিন্তা শীল, স্বার্থহীন হয়ে প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে ও নিজেদের আত্মিক বিকাশের উপর জোর দিয়ে একটা সাম্নজস‍্য পূর্ণ আর্থ- সামাজিক ব‍্যবস্থার ছবি ভাবতে হবে।

(www.theoffnews.com - civilization power)

দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম:

শুধুমাত্র একটা রাস্তা হলে রেলগেটের যানযট এড়িয়ে প্রাণভরে নিশ্বাস নেওয়া যাবে। কিন্তু কাকস‍্য পরিবেদনা!

মাথায় ছিল জামাই ষষ্ঠী। শুভদিন। জামাইরা শ্বশুর বাড়ি এসে হাতে হাত লাগিয়ে রাস্তা বানালো। ঠিক হয়েছিল পরের দিন হবে ষষ্ঠী। নইসুভা সংস্থা গ্রামের মানুষকে নিয়ে করলো সেই কাজ। তাতে যোগ দিল সেই জামাইরা! এমন কাজ করে থাকেন সংস্থার কর্ণধার সাধন সিংহ। আহ্ এ যেন বাদশাহী আংটি গল্পের ফেলুদা নিজেই আংটি সরালেন। রটলো আংটি চুরি গেছে! পুরোটাই আংটির স্বার্থে। এক্ষেত্রেও ধরে নিন রাস্তার স্বার্থে! আর কিছুটা আমাদের মতো সংবাদকর্মীর হাতযশ!

মূল ঘটনা রাস্তা খারাপ। এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজায় জড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি।

ঘটনাটি বীরভূম জেলার ময়ূরেশ্বরের ১ নং ব্লকের অন্তর্গত মল্লারপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোয়ালা গ্রামে। স্থানীয় সুত্রে খবর গোয়ালা গ্রামে রাস্তা বহু বছর ধরে খারাপ। গত দু-তিন বছরে সেটা আরও খারাপ হয়েছে। দীর্ঘদিন রাস্তার কোন সংস্কার না হওয়াতে একটু বৃষ্টি পড়লে আর গ্রামে ঢোকা যায় না। গ্রামের জামাইরা এটা বহু বছর ধরে দেখছেন। এবার জামাইষষ্ঠীতে তারাঁ ধনুক ভাঙা পণ রাস্তা সারাই করবেই করবে। গ্রামের ১৫-২০জন জামাই শ্বশুরবাড়ি যাবার রাস্তা ভালো করতে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিজেরাই হাতে ঝুড়ি কোদাল নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রম দিলেন।

স্বাভাবিক ভাবেই জামাইষষ্ঠীর দিনেই শ্বশুরবাড়ির আসার রাস্তা তৈরিতে জামাইদের হাত লাগানোর ঘটনা জানাজানি হতেই রাজনৈতিক তরজার সন্নিপাত জ্বর এলো।  বিজেপি পরিচালিত মল্লারপুর ১ পঞ্চায়েত ও তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বীরভূম জেলা পরিষদ।

গোয়ালা গ্রামের জামাইদের দাবি, “গ্রামে আসার পথে এই রাস্তাটা খুবই দরকার। রাস্তাটার অবস্থা খুবই খারাপ। তাই গ্রামের সব জামাইরা মিলে এই রাস্তাটা ঠিক করছি। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও রাস্তার কোনও উন্নতি হয়নি।” 

তারা আরও বলেন, “আমরা জামাই হয়ে যদি রাস্তা সারাইয়ের কাজে লেগে পড়ি তাহলে আরও মানুষ হয়তো বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে আসবেন।”

স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ, “রাস্তার অবস্থা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। “অনেকে রাস্তা দেখে গেলেও কোনো লাভ হয়নি। জামাইরা যে কাজে করছে এটা আমাদের লজ্জা। বাইরে থেকে এসে তারা কাজ করছে। আসলে রাস্তার অবস্থা দেখে বাধ্য হয়ে তারা করছে।”

বিজেপি পরিচালিত মল্লারপুর ১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সমীর লোহার বলেন, “রাস্তাটি জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে। দেড় কিলোমিটার লম্বা মাটির রাস্তা পঞ্চায়েত সংস্কার করতে পারে না।”

যদিও তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বীরভূম জেলা পরিষদের সদস্য ও কো-মেন্টর ধীরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় বলেন, “এই পঞ্চায়েত বিগত দু বছর উন্নয়নের বরাদ্দ অর্থের কিছুই খরচ করতে পারেনি। এই রাস্তা জেলা পরিষদের নয়, পঞ্চায়েতেরই নিয়ন্ত্রণাধীন। যারা কিছু জানে না তারাই মূর্খের মতো কথা বলে।”

রাজনৈতিক তরজা চলবেই। এই রাস্তা দীর্ঘদিন না হওয়ার দায় যারই হোক, জামাই ষষ্ঠী জানান দিল রাস্তা খারাপ। এনে দিল এক পর্যবেক্ষণের। মনে পড়ে যায়, পারসী লোকগাথার এক ছোট্ট গল্পের কথা। যেটি শুনলে মনে হবে বেঁচে থাক জামাইবাবারা! বেঁচে থাক এমন সুন্দর  পর্যবেক্ষণ। তাহলে শোনা যাক! 

এক রাজার উট হারিয়ে গেছে। রাজা তাঁর অশ্বারোহীদের সেটা খুঁজতে পাঠালেন। অশ্বারোহীরা এক মেষপালককে জিজ্ঞেস করল, উটটা দেখেছে কিনা।

মেষপালক জিজ্ঞেস করল, "উটটা কি ডানচোখে দেখতে পায় না?"

"হ্যাঁ, পায় না।"

"ওর সামনের বাঁ পাটা কি খোঁড়া?"

"ঠিক তাই।"

"আর সামনের দাঁতগুলির মধ্যে একটা কি নেই?"

"একদম ঠিক।"

"না, আমি ওটাকে দেখি নি", মেষপালক বলল।

"তবে রে মিথ্যুক!" রাজার অশ্বারোহীরা মেষপালককে বেঁধে রাজার কাছে নিয়ে গিয়ে বলল, "মহারাজ, লোকটা বলছে উটটাকে দেখে নি, কিন্তু উটের হুবহু বর্ণনা আমাদের দিয়েছে।"

"কী ব্যাপার!" রাজা অসন্তুষ্ট হয়ে মেষপালকের উদ্দেশ্যে বললেন।

মেষপালক বলল, "মহারাজ, আমি জানি যে উটটার বাঁ চোখটা খারাপ, তার কারণ দুদিকেই চমৎকার ঘাস, কিন্তু উটটা শুধু ডান দিকের ঘাস খেয়েছে। ওর সামনে বাঁ-পাটা খোঁড়া, সেটা আমি মাটিতে ওর পায়ের ছাপ দেখেই বুঝতে পেরেছি। আর ফোকলা দাঁতের ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছি ওর ঘাস খাওয়ার ধরণ দেখে। দুপাশে ঘাস ঘাস চিবানো হয়েছে, কিন্তু মাঝে একটুখানি জায়গায় কামড় পড়ে নি। আমি মহারাজ, আপনার লোকদের দেখাতে যাচ্ছিলাম কোন দিকে উটটা গিয়েছে, তার আগেই ওরা আমাকে ধরে নিয়ে এসেছে।"

(www.theoffnews.com - Birbhum road jamaishasthi)

দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম:

বাঙালি নিশ্চয়ই  ভুলতে পারবেন না তুলসী চক্রবর্তীকে। যাঁর সম্পর্কে সত‍্যজিৎ রায় বলেছিলেন আমেরিকায় জন্মালে উনার ঝুলিতে অস্কার শোভা পেত। অভাবের তাড়নায় তাঁর স্ত্রীকে ভিক্ষে করে দুমুঠো অন্ন যোগার করতে হয়েছে। সব শিল্পী ভোটে টিকিট পান না। তাই মহামারী অতিমারী এলে মনোরঞ্জন করার মানুষগুলো বাড়ির পুরাতন আসবাবের মতো এক কোনে পড়ে থাকেন! তবুও আশার আলো, করোনা অতিমারীতে শিল্পীদের পাশে থাকার ব্রত নিয়েছে সংস্কার ভারতী। 

করোনা অতিমারী কাকে ছোঁয়নি! এ প্রশ্নের অবকাশ আজ নেই।  প্রান্তিক শিল্পীদের অবস্থা করুণ। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে মঞ্চে সব অনুষ্ঠান বন্ধ। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন শিল্পীরা। এমনই শতাধিক শিল্পীদের পাশে দাঁড়ালো সাংস্কৃতিক সংস্থার সদস্যরা। তাদের কেউ গৃহবধূ, কেউ নৃত্য, কেউ সঙ্গীত, অনেকেই ছবি আঁকা শেখেন। গান বাজনাকে ভালোবেসে তারা তৈরি করছে সাংস্কৃতিক সংস্থাও। দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে তাঁরাই পৌঁছে দিচ্ছেন শিল্পীদের বাড়ি ।

গত প্রায় ১৬ মাস যাবৎ অতিমারীর কারণে মানুষ নানাভাবে বিপর্যস্ত। বিশেষতঃ শিল্পী মানুষেরা যারা পেশাগতভাবে গানবাজনার সাথে যুক্ত, এই মুহুর্তে তারা আর্থিকভাবে একটা সংকটময় অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। সিউড়ি শহরের একটি সাংস্কৃতিক দল সংস্কার ভারতী এইসব শিল্পীদের পাশে থাকার জন্য উদ্যোগী হয়েছে। সিউড়ি শহরের বাসিন্দা গৃহবধূ, স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা একজোট হয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার লক্ষ্য নিয়ে বছর ভর নানা অনুষ্ঠান করে থাকে। কিন্তু করোনা অতিমারীর কারনে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ সমস্ত অনুষ্ঠান। অনলাইনে সাংস্কৃতিক চর্চা হলেও সভা গৃহের দরজা সম্পূর্ন রূপে বন্ধ। ফলে বহু শিল্পীর রুজি রোজগারে টান পরেছে। বিশেষত যারা গান বাজনাকে অবলম্বন করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা আজ চরম অর্থ সংকটে। তাই সংস্কার ভারতী সাংস্কৃতিক সংস্থার সদস্যরা নিজেরাই অর্থ দিয়ে দৈনন্দিন জীবন ধারনের জন্য আবশ্যক সামগ্রী নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে শিল্পীদের বাড়ির দরজায়। 

এই উদ্যোগে নাম দেওয়া হয়েছে - "শিল্পীদের পাশে শিল্পীদের সাথে সংস্কার ভারতী পরিবার"। এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে গত ১৩ই জুন থেকে সদস্যরা দৈনন্দিন প্ৰয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে সিউড়ি  শহর, পঞ্চায়েত এবং ব্লক স্তরের শিল্পীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। সংস্থার সম্পাদিকা সঙ্ঘমিত্রা কবিরাজ জানালেন, "এই কর্মসূচীর মাধ্যমে আমরা প্রায় ১০০জন আর্থিকভাবে অসহয়তার মধ্যে থাকা শিল্পীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।" সিউড়ি সেহাডাপাডার বাসিন্দা পারক্যাশান শিল্পী বিষ্ণু হাজরা জানান, সংস্কার ভারতীর এই উদ্যোগে আমরা উপকৃত হলাম।"

ইতিমধ্যেই যে সকল শিল্পীদের কাছে সাহায্যের সামগ্রী পৌঁছে গেছে তারা সকলেই সংস্কার ভারতী সিউড়ি শাখার এই আর্থিক ও মানসিকভাবে পাশে  থাকার উদ্যোগে আবেগ মথিত। কালীপুর গ্রামের বাউল শিল্পী গোঁসাই দাস বাউল বলেন, "প্রত্যন্ত গ্রামে এসে সংস্কার ভারতী ছেলে মেয়েরা যে ভাবে আমাদের পাশে দাঁড়লো তাতে আমারা আপ্লুত।"

(www.theoffnews.com - corona Sanskar Varati Birbhum)

তপন সান্যাল, কবি, গীতিকার ও গবেষক, পাইকপাড়া, কলকাতা:

২৩ শে আগস্ট, ১৯৩৯ সালে মহাত্মা গান্ধি মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধায় তাঁর আশ্রম থেকে "প্রিয় বন্ধু" হিটলারের প্রতি লিখেছিলেন যে, "মানবতার জন্য" এই চিঠি লিখছেন তিনি। ... ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর, হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণ করেছিলেন, যার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল এবং ইতিহাসের গতিপথকে পরিবর্তন করেছিল।

রবীন্দ্রনাথের সাথে গান্ধীজির মতবিরোধ কম ছিল না। কিন্তু গান্ধীজির অহিংসা পদ্ধতিতে বিরোধীতাকে রবীন্দ্রনাথ সন্মান করতেন। ব্যক্তি গত আক্রমণ নয় ,ব্যক্তিগত সৌজন্যের পথিকৃৎ উনি।

ইতিহাস বিখ্যাত চিঠি ,গান্ধীজি লিখলেন হিটলারকে।

প্রিয় বন্ধু!

আমি আপনাকে সৌজন্যের খাতিরে বন্ধু সম্বোধন করছি না। আমি আপনার শত্রু নই। আমি আমার জীবনের ৩৩ বছর ব্যয় করেছি ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে সব মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টির প্রচেষ্টায়। আমি আশা করি, আপনার জানার সেই আগ্রহ আছে যে, সারা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষ আপনাকে কীভাবে মূল্যায়ন করে। আপনার মাতৃভূমির প্রতি যে ভালোবাসা ও মমত্ব তাতে আমাদের কোনো অবিশ্বাস নেই এবং আমরা এও বিশ্বাস করি না যে, আপনি একজন দানব, যা আপনার প্রতিপক্ষ আপনার বিরুদ্ধে রটিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু আপনার কিছু লেখা ও বক্তব্য এবং আপনার কাছের লোকেদের দেওয়া আপনার সম্পর্কে মন্তব্য আমার মতো যারা শান্তিতে বিশ্বাসী তাদের কাছে আপনাকে দানবরূপে উপস্থাপন করছে। যেমন- চেকস্লোভাকিয়ার ওপর আপনার চালানো নির্যাতন, পোল্যান্ডের নারীদের ধর্ষণ এবং ডেনমার্কের ওপর আগ্রাসন আপনার প্রতি এই ধারণারই জন্ম দিচ্ছে। আপনার নিষ্ঠুরতা দেখে মনে হচ্ছে, এই সমস্ত কাজকে আপনি ধর্ম বলে জ্ঞান করেন। কিন্তু আমি শৈশব থেকে শিখে এসেছি, যে কর্ম মানুষকে কষ্ট দেয় তা ধর্ম হতে পারে না। ফলে আমি এ ক্ষেত্রে আপনার সাফল্য কামনা করতে পারছি না।

ঠিক দুই মাস পরে ১৯৩৯ খ্রীস্টাব্দের জুলাই মাস নাগাদ (আষাঢ় ১৩৪৬) অমিয় চক্রবর্তীকে লেখা এক চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ মুসোলিনি এবং হিটলারকে ‘নরবলি সংগ্রহের কাপালিক’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। এই নরবলি সংগ্রহের কাপালিকরা তো স্বভাবতই কোনও গণতান্ত্রিকতা, নিয়মনীতি কিছু মানবেন না, যে মূল্যবোধ এবং নিয়মনীতি দ্বারা তাঁরা প্রাণিত এবং পরিচালিত হয়ে থাকেন তা তো ফ্যাসিস্ত দর্শন। সেখানে মানুষের ন্যায্য অধিকারের কোনও মূল্য নেই। অধিকার বিষয়টি একমাত্র নির্ধারিত হবে তাঁরা যা করছেন বা করছেন তার দ্বারাই। রবীন্দ্রনাথ তাঁর পূর্বোক্ত বক্তব্যের দু’বছর আগে ১৩৪৪ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসে ‘প্রচলিত দণ্ডনীতি’ শীর্ষক একটি লেখায় ‘দণ্ডপ্রয়োগের অতিকৃত রূপকে’ বর্বরতা আখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবেই জানিয়েছিলেন যে তিনি কোনও অপরাধীর ‘নির্জন কারাকক্ষবাস’-এর দণ্ড সমর্থন করেন না। শাসকেরা এধরনের অপকর্ম করলে তিনি একাজের প্রতিবাদ করবেন বলে জানিয়ে ছিলেন।

ফ্যাসিবাদের কর্মপদ্ধতি ও নীতি সমগ্র মানবজাতির উদ্বেগের বিষয়। যে আন্দোলন নিষ্ঠুরভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করে, বিবেকবিরোধী কাজ করতে মানুষকে বাধ্য করে এবং হিংস্র রক্তাক্ত পথে চলে বা গোপনে অপরাধ সংঘটিত করে-সে আন্দোলনকে আমি সমর্থন করতে পারি এমন উদ্ভট চিন্তা আসার কোনো কারণ নেই। আমি বারবারই বলেছি, পশ্চিমের রাষ্ট্রগুলো সযত্নে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও  সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব লালন করে সারা পৃথিবীর সামনে ভয়াবহ বিপদের সৃষ্টি করেছে।” (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সি এফ এন্ড্রুসকে লেখা চিঠি। ‘ম্যাঞ্চেস্টার গার্ডিয়ান’, লন্ডন, ৫ই আগস্ট ১৯২৬ ইং)

১৯৩০ সাল থেকে ১৯৪০ সাল, এই সময়কালের মধ্যে গোটা ভারত জুড়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিরাট আন্দোলন দেখা যায়। এইসব আন্দোলনে সরাসরি যোগদান না করলেও তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে তিনি ক্রমাগত সারা বিশ্বের বুকে গজিয়ে উঠা ফ্যাসিবাদের সমালোচনা করে গেছেন। ইতালির আবিসিনিয়া আক্রমণের প্রেক্ষিতে তিনি রচনা করেন ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি। এই কবিতার প্রায় প্রতিটি স্তবক ফ্যাসিবাদের হাতে নিপীড়িত মানবসভ্যতার হাহাকারের চিৎকার,

“আজ যখন পশ্চিম দিগন্তে

প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস,

যখন গুপ্ত গহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এল

অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করল দিনের অন্তিমকাল,

এসো যুগান্তের কবি,

আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে

দাঁড়াও, ওই মানহারা মানবীর দ্বারে;

বলো ‘ক্ষমা করো’

হিংস্র প্রলাপের মধ্যে

সেই হোক

তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।”

১৯৩৭ সালের ১৫ই ডিসেম্বর নানকিং-র পতনের পর ২৫শে ডিসেম্বর তিনি ‘যেদিন চৈতন্য মোর’ কবিতায় লিখছেন,

"… মহাকাল সিংহাসনে –

সমাসীন বিচারক, শক্তি দাও, শক্তি দাও মোরে,

কন্ঠে মোর আনো বজ্রবাণী, শিশুঘাতী নারীঘাতী

কুৎসিত বীভৎসা পরে ধিক্কার হানিতে পারি যেন

নিত্যকাল রবে যা স্পন্দিত লজ্জাতুর ঐতিহ্যের হৃৎস্পন্দনে,

রুদ্ধ কন্ঠ ভয়ার্ত এ শৃঙ্খলিত যুগ যবে

নিঃশব্দে প্রচ্ছন্ন হবে আপন চিতার ভস্মতলে।”

প্রসঙ্গ ক্রমেই উল্লেখ্য যে, কবি শুধুমাত্র আক্রমণকারী ফ্যাসিবাদের নিন্দা করেই ক্ষান্ত হননি, ধিক্কার জানিয়েছেন লীগ অব নেশনস তথা বিশ্বশান্তির বরকন্দাজের ভূমিকায় অবতীর্ণ শক্তির উদাসীনতা ও নির্বীর্যতাকেও। সচেতন পাঠক স্মরণ করতে পারেন কবির ‘ন্যায়দণ্ড’ কবিতাটি

‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে

তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।’

(www.theoffnews.com - Gandhiji Rabindranath Hitler)

পলাশ মুখোপাধ্যায়, সিনিয়র জার্নালিস্ট, কলকাতা:

আমার বাবা এক মফঃস্বল শহরের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। অন্য সকলের মত অল্প বয়সে বাবারও সিনেমা দেখার ঝোঁক ছিল, ভালবাসতেন ফুচকা খেতে, রেস্তোরাঁতে ভাল মন্দ খেতে। এ শখের অনেকটাই তিনি পূরণ করেছেন কলকাতায় গিয়ে, মাকে সঙ্গে নিয়েই। কিন্তু নিজের শহরে কোনওদিন তাকে কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা খেতে বা সিনেমা হলে ঢুকতে দেখেননি। একটু বড় হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম বাবাকে। কেন সিনেমা দেখা বা ফুচকা খাওয়া কি অপরাধ, অশ্লীল? তাহলে তুমি এটা এখানে করতে পারো না কেন? প্রায় বছর পয়ত্রিশ আগেকার কথা হলেও স্পষ্ট মনে আছে বাবার উত্তর। তিনি বলেছিলেন “পরিচয়ের একটা মান্যতা থাকে। তার মর্যাদা দিতে হয়। আমি এখানে শিক্ষক, আমাকে অনুসরণ করবে আমার ছাত্র ছাত্রীরা, তাই আমার প্রতিটা পদক্ষেপ হওয়া উচিৎ সতর্ক, শোভন এবং দিশাযুক্ত।“

তখন খুব ভাল করে বুঝিনি। আজ বুঝি, কথাটা কতটা দায়িত্ববোধ থেকে এসেছিল। শুধু আমার বাবা কেন, আমি অন্য শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও আমার শহরে এমন আত্মশাসনে থাকতেই দেখেছি। কিন্তু এই পরিচয়ের মান্যতার সংজ্ঞাটাই এখন কেমন যেন ধোঁয়াশাময় হয়ে যাচ্ছে। যেমন ধরা যাক একজন রাজনৈতিক নেতা এবং এক কলেজ শিক্ষিকার কথা। রাজনৈতিক নেতা হওয়ার সুবাদে তিনি সুপরিচিত। এছাড়াও তিনি মেয়র থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছেন। অর্থাৎ রাজনৈতিক জীবনের বহু অভিষ্টলাভই তার হয়েছে। প্রচুর গুণগ্রাহী, অনুগামী, অনুসারী। এমতাবস্থায় গোল বাঁধাল তার চিত্তচাঞ্চল্য। না সেটা সব বয়সেই, সব ক্ষেত্রেই হতে পারে, প্রেমে কোনও দোষ নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে সেই চিত্তচাঞ্চল্যের কারণ একজন বিবাহিতা, মধ্যবয়স্কা নারী। যিনি একজন কলেজ শিক্ষিকাও বটে। এ পর্যন্ত হয় তো ঠিকই ছিল। অনেকেই বলতে পারেন যে ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে যে কেউ যা খুশি করতে পারেন তা নিয়ে বলাটা অশোভন। আমিও মানি। কিন্তু মনে পড়ে বাবার কথাটা। পরিচয়ের মান্যতা, আত্মশাসন। এই কঠিন বাংলাগুলি ওই নেতা বা শিক্ষিকা জানেন না তা কিন্তু নয়, মানেন না। 

যে কোনও মানুষের একটা ব্যক্তিগত পরিসর থাকা উচিৎ নিশ্চয়। কিন্তু সেই মানুষটি বিখ্যাত বা সুপরিচিত হলে তার সেই পরিসর কিন্তু অনেকটাই কমে আসে। বিখ্যাত হওয়ার সেই মাশুলটুকু তাকে দিতেই হয়। যেমন ধরুন আপনি আমি করোনার টিকা নিয়েছি, সে খবর অনেকেই জানে না। কিন্তু অমিতাভ বচ্চন বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন টিকা নেন সেটা তখন খবর। কারণ টিকা নেওয়াটা ব্যক্তিগত লাভের জন্য হলেও তাদের খ্যাতি সেটাকে আরও মান্যতা দেয়, অন্যকে উদ্বুদ্ধ করে। তাই খ্যাতিলাভের আগেই এই সমস্যাগুলি সম্বন্ধে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। 

এখন তো সংবাদ মাধ্যম অতি সক্রিয়, তাই চাপও বেড়েছে প্রচুর। সম্প্রতি নেতা এবং শিক্ষিকার করা একটা ভিডিও সামনে এসেছে। তাতে তারা নেতার স্ত্রীর নামে অভিযোগ করেছেন ব্যভিচারের। কিন্তু সেই অভিযোগ করছেন যারা তারা গত কয়েক বছর ধরে ঘোষিত, প্রকাশ্য ব্যাভিচারে লিপ্ত। সংবাদ মাধ্যমে তাদের কীর্তি দেখে আমরা লজ্জা পাই, কিন্তু তাদের সে সবের বালাই আছে বলে তো মনে হয় না। আমাদের ছেলেমেয়েরা এই খবর তো নিশ্চয় পড়ে, জানে। এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একজন শিক্ষিকা বা রাজনৈতিক নেতার ভাবমুর্তিটা কি দাঁড়াচ্ছে ভাবুন তো। 

এ প্রসঙ্গে একজন অভিনেত্রীর নাম না করলে লেখাটি অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। বিদেশে গিয়ে অতি ঘটা করে বিয়ের পরে তার ঘোষণা সেটা নাকি লিভ ইন ছিল। সিঁদুর পরা, পুরুত ডেকে মন্ত্রোচ্চারণ, নিজের পদবীর সঙ্গে স্বামীর পদবী জুড়ে দেওয়া ইত্যাদি সবই নাকি নাটক ছিল। ভাবুন কি উচ্চ মানের অভিনেত্রী তিনি। আমাদের তো গর্ব হওয়া উচিৎ। কিন্তু এখানেও সেই এক সমস্যা, অভিনেত্রীর পাশাপাশি তিনি আবার সাংসদও। ব্যাস ব্যক্তিগত পরিসরের দফারফা। সন্তান সম্ভবা অভিনেত্রীর সেই সন্তানের পিতা কে, তাই নিয়ে চলছে নাচে গানে মনমাতানো এক ছবি। এখনকার সংবাদমাধ্যমগুলি তাতে আরও সস ঢেলে, মশলা ছড়িয়ে রগরগে করে পরিবেশনে ব্যস্ত। তা অভিনেত্রী কি নেত্রী হওয়ার আগে এটুকুও বোঝেননি, জননেত্রী হতে গেলে তার পরিচয়ের একটা মান্যতা থাকা দরকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসবই দেখছে বড় হওয়ার মাঝে।

অভিনেতারা স্বপ্নের জগতের মানুষ। তাদের নিয়ে নানান রঙিন কাহিনী ভাসে। কিছু সত্যি, কিছু মিথ্যা। কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা তো মাটির পৃথিবীতে থাকেন, থাকা উচিৎ। তাদের সরাসরি যোগাযোগ থাকে মানুষের সঙ্গে। তাদের কথা শোনার জন্য বসে থাকে লক্ষ লক্ষ মানুষ। তাদের যে কোনও আদেশ বা অনুরোধ পালনের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন অনুগামীরা। সেই তাদের ব্যক্তিগত পরিসর যদি এমন লজ্জাজনক বা অস্বস্তিকর হয় তবে তার প্রভাব জনমানসে পড়বে অনিবার্যভাবেই। সেটা বিলক্ষণ জানা আছে বলেই ওই নেতা ও শিক্ষিকাকে ধীরে ধীরে ছেঁটে ফেলেছে তাদের পুরনো দল। নতুন দলেও গিয়ে তারা সেভাবে পাত্তা পাননি, নিজেদের কীর্তির জন্যই। এবার অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে কি করবে তার বর্তমান দল, সেটাই এখন দেখার।  শুধু করোনা রোধেই নয় সামাজিক অবক্ষয় রোধেও তাই প্রয়োজন আত্মশাসন।

(www.theoffnews.com - Baishakhi Banerjee Sovan Chatterjee Nusrat)

(www.theoffnews.com - Seoul South Korea pet dog cat corona)
 

দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম:

একটু মজা করেই সোশ‍্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন এক স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক অধীর দাস। আর তাতেই অস্বস্তির শেষ নেই অধীরবাবুর! 

কি সেই পোস্ট! রবিবার টিভির সামনে বসে একটি খবরে দেখেন-- এক ব‍্যক্তির গায়ে ধাতব পদার্থ চিপকে যাচ্ছে। তিনিও খালি গায়ে ছিলেন। তারপর নিজের গায়ে নেহাতই কৌতূহল বশতঃ ট্রাই করেন। দেখেন কয়েন, কাঁচি, খুন্তি সব গায়ে লেগে যাচ্ছে। নিজে জীব বিজ্ঞানের শিক্ষক। তারপর আদুল গায়ে কয়েন, খুন্তি, কাঁচি সজ্জিত হয়ে সোশ‍্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি পোস্ট করেন। ব‍্যস! আর যায় কোথায়! এমনিতেই গুজব একটু বেশিই ছড়াই। এক্ষেত্রে  তার ব‍্যতিক্রম হয়নি। ফোনের পর ফোন। মিডিয়া থেকে পরিচিতজনের। বাড়িতে হাজির মিডিয়া কর্মীদের। কত কৌতূহলীর শতেক প্রশ্ন! আপনি কি ভ‍্যাকশিন নিয়েছিলেন? 

বেসামাল শিক্ষক বোঝাতে বোঝাতে ক্লান্ত যে, এর সাথে ভ‍্যাকসিনের কোন সম্পর্ক নেই। আপনার দেহে কি পেস মেকার আছে? স্পষ্ট ভাষায় সেই শিক্ষক জানান, তাঁর দেহে কোন পেস মেকার নেই। থাকলেও সেটা কারণ হতে পারে না। দেহের চটচটে পদার্থের জন‍্য এমনটাই হচ্ছে। কিন্তু গুজবের আশ্রয় তো বিজ্ঞানবোধ নয়। তাই রাতারাতি বিখ্যাত সেই শিক্ষক। আর বিড়ম্বনার পাহাড় বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে। 

এব‍্যাপারে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, আমিও দেখছি এধরণের খবর সোশ‍্যাল মিডিয়া বা গণমাধ্যমে ছড়াচ্ছে। প্রথমেই বলি এর সাথে ভ‍্যাকসিনের কোন সম্পর্ক নেই। দেখবেন আদুল গায়ে এই ঘটনা ঘটছে। চুম্বকের ব‍্যাপার হলে তো পোশাকের  উপরেও হতো।  বর্ষাকালে আদ্রতা বা স‍্যাঁতসেতে আবহাওয়ার কারণে এসব হয়ে থাকতে পারে। গুজব এতটাই  ছড়িয়েছে যে কেন্দ্রীয় সরকারের নোডাল এজেন্সি প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোও ট্যুইট করে জানিয়েছে, ভ্যাকসিন নিয়ে মানব চুম্বক হয়ে উঠছে বলে যে দাবি নেটমাধ্যমে ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

(www.theoffnews.com - fake viral vaccine)

তপন সান্যাল, কবি, গীতিকার ও গবেষক, পাইকপাড়া, কলকাতা:

মায়ের কাছে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের শেষ চিঠি,

মাগো,

তুমি আমায় ডাকছিলে? আমার যেন মনে হলো তুমি আমার শিয়রে বসে কেবলি আমার নাম ধরে ডাকছো, আর তোমার অশ্রু-জলে আমার বক্ষ ভেসে যাচ্ছে। মা, সত্যিই কি তুমি এত কাঁদছো? আমি তোমার ডাকে সাড়া দিতে পারলাম না—তুমি আমায় ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে চলে গেলে।

স্বপ্নে একবার তোমায় দেখতে চেয়েছিলাম—তুমি তোমার আদরের মেয়ের আবদার রক্ষা করতে এসেছিলে! কিন্তু মা, আমি তোমার সঙ্গে একটি কথাও বললাম না। দু'চোখ মেলে কেবল তোমার অশ্রুজলই দেখলাম। তোমার চোখের জল মোছাতে এতটুকু চেষ্টা করলাম না।

মা, আমায় তুমি ক্ষমা করো—তোমায় বড় ব্যথা দিয়ে গেলাম। তোমাকে এতটুকু ব্যথা দিতেও তো চিরদিন আমার বুকে বেজেছে। তোমাকে দুঃখ দেওয়া আমার ইচ্ছা নয়। আমি স্বদেশ-জননীর চোখের জল মোছাবার জন্য বুকের রক্ত দিতে এসেছি। তুমি আমায় আশীর্বাদ কর, নইলে আমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে না।

একটিবার তোমায় দেখে যেতে পারলাম না! সেজন্য আমার হৃদয়কে ভুল বুঝো না তুমি। তোমার কথা আমি এক মুহুর্তের জন্যও ভুলিনি মা। প্রতিনিয়তই তোমার আশির্বাদ প্রার্থনা করি। আমার অভাব যে তোমাকে পাগল করে তুলেছে, তা আমি জানি। মাগো, আমি শুনেছি, তুমি ঘরের দরজায় বসে সবাইকে ডেকে ডেকে বলছো—“ওগো তোমরা আমার রানিশূন্য রাজ্য দেখে যাও”। তোমার সেই ছবি আমার চোখের ওপর দিনরাত ভাসছে। তোমার এই কথাগুলো আমার হৃদয়ের প্রতি তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে কান্নার সুর তোলে। মাগো, তুমি অমন করে কেঁদো না!

আমি যে সত্যের জন্য-স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে এসেছি, তুমি কি তাতে আনন্দ পাও না? কি করবে মা? দেশ যে পরাধীন! দেশবাসী যে বিদেশীর অত্যাচারে জর্জরিত! দেশমাতৃকা যে শৃঙ্খলভারে অবনতা, লাঞ্ছিতা, অবমানিতা! তুমি কি সবই নীরবে সহ্য করবে মা? একটি সন্তানকেও কি তুমি মুক্তির জন্য উৎসর্গ করতে পারবে না? তুমি কি কেবলই কাঁদবে? আর কেঁদো না মা। যাবার আগে আর একবার তুমি আমায় স্বপ্নে দেখা দিও। আমি তোমার কাছে জানু পেতে ক্ষমা চাইবো।

আমি যে তোমায় বড় ব্যথা দিয়ে এসেছি মা। ইচ্ছা করে ছুটে গিয়ে তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে আসি। তুমি আদর করে আমাকে বুকে টেনে নিতে চাইছো, আমি তোমার হাত ছিনিয়ে চলে এসেছি। খাবারের থালা নিয়ে আমায় কত সাধাসাধিই না করেছো—আমি পিছন ফিরে চলে গেছি। না, আর পারছি না। ক্ষমা চাওয়া ভিন্ন আর আমার উপায় নেই। আমি তোমাকে দুদিন ধরে সমানে কাঁদিয়েছি। তোমার ক্রন্দন আমাকে এতটুকু টলাতে পারেনি। কি আশ্চর্য মা! তোমার রানি এত নিষ্ঠুর হতে পারলো কি করে? ক্ষমা করো মা; আমায় তুমি ক্ষমা করো!

(আত্মাহুতির আগের রাতে প্রীতিলতা মায়ের উদ্দেশে এই চিঠিটি লিখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুবরণের পর মাষ্টারদা এই পত্রটি প্রীতিলতার মায়ের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।)

পরাধীন স্বদেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ে আজও আমাদের বিবেক স্তব্ধ, লজ্জায় নির্বাক হয়ে আছি। এই কি আমাদের ঋণ শোধের লড়াই। শুধু অপেক্ষায় আছি, বিবেক আমাদের যেন বলছে আরে আপনারা কেমন বিচিত্র বলুন তো, কাদের জন্য দেশ স্বাধীন করলেন নিজেদের আত্মবলি দিয়ে? আমরা কি ঋণ শোধের যোগ্য? আমরা হয়তো আজ অনেকেই ভুলে গেছি এ তো আমাদেরই লজ্জা। (সমাপ্ত)

(www.theoffnews.com - revolutionist letters)

(www.theoffnews.com - Benjamin Netanyahu Naftali Bennett Israel)
 

তপন সান্যাল, কবি, গীতিকার ও গবেষক, পাইকপাড়া, কলকাতা:

মৃত্যুর প্রাক মূহুর্তে প্রিয়জনদের উদ্দেশ্য স্মরণীয় বিপ্লবীদের লেখা দীনেশ মজুমদারের সেই ঐতিহাসিক নানা চিঠির অংশ বিশেষ নিচে বর্ণিত হল। 

মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত এক তরুণ, জেলখানা থেকে দীর্ঘ একটি চিঠিতে মা-কে লিখেছেন, ‘মাগো, আমি যে আজ মরণের পথে আমার যাত্রা শুরু করেছি তার জন্য কোন শোক করো না।… আজ একটা আদর্শের জন্য প্রাণ বিসর্জন করছি, তাতে আনন্দ আমার মনের কানায় কানায় ভরে উঠেছে, মন খুশিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।...’ পরাধীন স্বদেশকে মুক্ত করার স্বপ্ন দু’চোখে নিয়ে উনিশ বছরের প্রদ্যোৎকুমার ভট্টাচার্য প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে পাশ করেও হাতে তুলে নিলেন আগ্নেয়াস্ত্র। মেদিনীপুরের কুখ্যাত জেলাশাসক রবার্ট ডগলাস ১৯৩২-এর ৩০ এপ্রিল জেলা বোর্ডের মিটিং করছিলেন। অতর্কিতে সেখানে ঢুকে গেলেন প্রদ্যোৎ ও প্রভাংশু পাল। ডগলাস হত্যা সফল। প্রভাংশু পালাতে সক্ষম হলেও ধরা পড়ে গেলেন প্রদ্যোৎ। আট মাসের বিচারপর্ব শেষে তাঁর ফাঁসি হয়। মা পঙ্কজিনী দেবীকে লেখা সেই চিঠি শেষ হচ্ছে এই ভাবে: ‘...মা, তোমার প্রদ্যোৎ কি কখনো মরতে পারে! আজ চারদিকে চেয়ে দেখ, লক্ষ লক্ষ প্রদ্যোৎ তোমার দিকে চেয়ে হাসছে। আমি বেঁচেই রইলাম মা অক্ষয় অমর হয়ে।’ মা-কে ছাড়াও ‘ফাঁসির আসামী’ প্রদ্যোৎ বড়দাদা প্রভাতচন্দ্র ভট্টাচার্য, বড়বৌদি বনকুসুম দেবীকে একাধিক চিঠি লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথের উজ্জ্বল ভক্ত এই মেধাবী তরুণ বৌদিকে লিখেছেন: ‘আমি আসি।… মায়ের প্রাণে আঘাতটা খুবই বেশি হয়ে বাজবে তা জানি, কিন্তু আপনারা সে-আঘাতটাকে লঘু করাবার চেষ্টা করবেন।… আসি, কেমন?’

মেদিনীপুরের আর এক বিপ্লবী ব্রজকিশোর চক্রবর্তীকে তাঁর মা-বাবা আদর করে ‘বেজা’ বলে ডাকতেন। জেলাশাসক বার্জ হত্যা-মামলায় অভিযুক্ত ব্রজকিশোর, নির্মলজীবন ঘোষ এবং রামকৃষ্ণ রায়ের ফাঁসি হয় ১৯৩৪-এর অক্টোবরে। ফাঁসির চার দিন আগে মরণ-নিস্পৃহ চিঠি লিখছেন একুশ বছরের অকুতোভয় ব্রজকিশোর: ‘বাবা, আপনি চার বছর আগে বলেছিলেন যে, যখন আমার চন্দ্রের দশা পড়বে তখন আমাকে বারো বছর প্রবাসে বাস করতে হবে। এমনকি আমার মৃত্যু হওয়াও অসম্ভব নয়! এই কথা আজ বর্ণে বর্ণে সত্য হচ্ছে।’ আর মা-কে লেখা চিঠিতে আদরের ‘বেজা’ ঠাকুরমা, দিদিমা, পিসিমা, কাকিমা এবং অন্য গুরুজনদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে ‘শেষ বিদায়’ চেয়েছেন: ‘আমার মা, মা আমার, প্রণাম নিন।… ভোরের বেলা শূন্য কোলে/ ডাকবি যখন ‘বেজা’ বলে/ বলবো আমি— নাই গো ‘বেজা’ নাই, মাগো যাই।’

ব্রজকিশোরের সঙ্গেই ফাঁসি হয়েছিল রামকৃষ্ণ রায়ের। মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে রামকৃষ্ণ মা-কে চিঠি লিখেছেন। এই চিঠির বয়ানেও মৃত্যুকে হাসিমুখে গ্রহণ করার অনাবিল আনন্দ, মৃত্যুকে যেন মনে হচ্ছে ‘আলো’, সেই আলোর আহ্বানেই আত্মহারা হয়ে ছুটে চলা, অনন্তের সঙ্গে মিশে যাওয়ার আকুতি: ‘মা, আজ আমার হৃদয়ে কী সুখ যে অনুভব করছি তা আমি নিজেই বুঝতে পারছি না।’ এই পৃথিবী ঠিক যেন একটি বাজারের মতো, বাজার করুক বা না-করুক, তাদের ফিরে যেতে হবে। চিঠি শেষ হচ্ছে চিরবিদায়ের কথা বলে: ‘আমি তবে এবারের মত আসি মা! আপনার কোল হতে চিরবিদায় নিয়ে চললাম। ‘গীতা’টি দিয়ে গেলাম।’

টেগার্টকে হত্যা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন বসিরহাটের দীনেশ মজুমদার। কিন্তু চন্দননগরের পুলিশ কমিশনারকে হত্যা করার সময় তাঁর গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, কলকাতায় ধরা পড়ে গেলেন। ১৯৩৪-এর ৯ জুন আলিপুর জেলে যখন তাঁর ফাঁসি হল, বয়স সাতাশ। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে দাদা সুরেন্দ্রনাথকে চিঠি লিখেছেন। ‘প্রিজ়নার্স লেটার’ ছাপ মারা জেলখানার বিশেষ চিঠি লেখার কাগজে ১৯৩৪-এর ১৪ এপ্রিল যে চিঠি লিখছেন, তাতে পয়লা বৈশাখের নববর্ষের স্পর্শ, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দিনকয়েক আগের নতুন বর্ষায় ধোয়া পৃথিবীর মায়া: ‘পয়লা বোশেক। শনিবার। নতুন বছর আসবে বোলেই বুঝি গত বুধবার রাত্রিতে প্রথম বৃষ্টি এসে সব কিছু ধুয়ে দিয়ে গেল। একদিনের বৃষ্টিতেই যেন পৃথিবীর রং, গন্ধ বদলে গেল।’ এই চিঠির দিন পনেরো পর বৌদি বিভাবতী দেবীকে লেখা চিঠিতে কিন্তু ফুটে ওঠে এক দৃঢ়চিত্ত বিপ্লবীর অসীম আশা: ‘তোমাদের ছেলেমেয়েদের আমার আন্তরিক স্নেহাশীষ জানিও। তারা যেন নিজেদের স্বার্থ ছাড়িয়ে উঠতে পারে। অত্যাচারিত, নিপীড়িত মানবসমাজের ব্যথা যেন মনে-প্রাণে অনুভব করতে পারে। নিজেদের যেন ফাঁকি না দেয়।’

চারুচন্দ্র বসু ভেবেছিলেন তাঁর ফাঁসি হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি। তাই ১৯০৯-এর ১৫ ফেব্রুয়ারি আলিপুর জেল থেকে চিঠিতে লিখছেন— ‘নয় দিন পরে আমার জীবনের সব খেলা ফুরাইবে’। এরই মধ্যে জেলখানায় এই উনিশ বছরের যুবকের ওপর অকথ্য অত্যাচার হয়েছে, তবু তাঁর মুখ খোলানো যায়নি। কেমন ছিল এই অত্যাচার? বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে ভগিনী নিবেদিতার একটি চিঠিতে। মিসেস এবং মিস্টার এস কে র‌্যাটক্লিফকে তিনি লিখছেন: ‘‘অশোক নন্দী এবং উল্লাসকর দত্ত কবুল করেছে, বিচারে ফাঁসির সাজা ঘোষণা হয়ে যাবার পরেও চারুকে রাতে ইলেকট্রিক শক দিয়ে অত্যাচার করা হত তথ্য পাবার জন্য। তাঁরা চারুর কান্না এবং চিৎকার শুনতে পেতেন।’’ জন্ম থেকেই চারুচন্দ্রের ডান হাত পঙ্গু ছিল। হাওড়ায় এক ছোট ছাপাখানার সামান্য কর্মীটি বাধ্য হয়ে থাকতেন মাসিক আট আনা ভাড়ায় একটি খোলার ঘরে। মাঝে মাঝে বগুলায় মেজদাদার বাড়ি যেতে হয়। সেখানে তেরো বছরের বালিকা স্ত্রী থাকেন যে! আলিপুর বোমা মামলার সরকারি আইনজীবী আশুতোষ সরকারকে আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে গুলি করেছেন চারু। ধরাও পড়েছেন। এই ঘটনার ৩৬ দিনের মধ্যে তাঁকে ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়ে দেয় ব্রিটিশ পুলিশ!

চারুচন্দ্র জানতেন তাঁর ফাঁসি আরও আগে, ২৪ তারিখেই হয়ে যাবে। মৃত্যুর আগে শ্যালক ছত্রধারী ঘোষকে স্ত্রীর প্রসঙ্গে বেদনাহত কলমে লিখছেন: ‘একটি অভাগিনী তের বৎসর বয়স্কা বালিকাকে দীনহীন অবস্থায় এই সংসার-সমুদ্রে ভাসাইলাম।... তাহাকে আপনাদের কাছে অর্পণ করিলাম।’ এই চিঠিতেই পুনশ্চ-সংযোগে লিখেছেন—‘আমার শেষ আশা আমার মৃত্যুর দিনে ২৪ ফেব্রুয়ারী তারিখে আপনি অবশ্যই আসিবেন।… বোধহয় ভগবান আমার এ আশা পূর্ণ করিবেন।’

আলিপুরের বিখ্যাত ‘ভবানী ভবন’ যাঁর নামে, তিনি বিপ্লবী ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্য। ডাকনাম টুনু। দার্জিলিঙে লেবং রেস কোর্সে ছোটলাট জন অ্যান্ডারসনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লেন ভবানী এবং রবি বন্দ্যোপাধ্যায়। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হল। দুজনেই ঘটনাস্থলে ধরা পড়ে গেলেন। ১৯৩৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী জেলে একুশ বছরের ভবানীপ্রসাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হল। মৃত্যুর তিন দিন আগে ছোটভাই দুর্গাপ্রসাদকে তিনি চিঠি লিখেছেন: ‘অমাবস্যার শ্মশানে ভীরু ভয় পায়— সাধক সেখানে সিদ্ধিলাভ করে।… আজ আমি বেশি কথা লিখব না, শুধু ভাবব। মৃত্যু কত সুন্দর! অনন্ত জীবনের বার্তা তার কাছে।’

ত্রিপুরার বিটঘর গ্রামের সত্যেন্দ্রচন্দ্র বর্ধন মালয়ে ডাকবিভাগের কর্মী ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন অগ্নিক্ষরা। সত্যেন্দ্র সরকারি চাকরি ছেড়ে দেশমুক্তির সাধনায় আত্মনিয়োগ করলেন। চার সঙ্গীকে নিয়ে তিনি মালয় থেকে গোপনে ভারত ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে যান। জলপথে। আরব সাগর পার হয়ে কাথিয়াবাড় উপকূলে যে দিন পৌঁছলেন, প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি। স্থানীয় লোকেরা ডাকাত সন্দেহে পুলিশে খবর দিল। ধরা পড়ে গেলেন তাঁরা। মাদ্রাজ দুর্গে ফাঁসি হয়েছিল সত্যেন্দ্রর। তারিখটা ১৯৪৩-এর ১০ সেপ্টেম্বর। ফাঁসির কয়েক দিন আগে ‘কানুদা’ সত্যেন্দ্রচন্দ্র ছোট ভাইকে গোপনে একটি চিরকুট পাঠাতে পেরেছিলেন: ‘তোমাকে আমার কিছু বলার বা লেখার নেই। ঈশ্বর আমার ভাগ্যে আমার মাতৃভূমির জন্য আত্মদান লিখে রেখেছেন। তার জন্য আমি সুখী ও গর্বিত। যদি কখনও সুযোগ পাও, প্রতিশোধ নিতে চেষ্টা করো। স্বাধীনতার জন্য আত্মদান বাঙালিদের কাছে নতুন কিছু নয়।’

মাদারিপুরের বিপ্লবী পূর্ণ দাসের কাছে অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা নিয়েছিলেন ফরিদপুরের মনোরঞ্জন সেনগুপ্ত। ডাক নাম কোকো। বেশ কিছু ডাকাতি, দুজন বাঙালি পুলিশ অফিসার হত্যা ইত্যাদি বিপ্লবী কার্যক্রমে হাত পাকিয়ে হয়ে ওঠেন বাঘা যতীনের ছায়াসঙ্গী। বুড়িবালাম নদীতীরে পুলিশের সঙ্গে বাঘা যতীনের দলের বিখ্যাত সেই লড়াইয়ের অন্যতম সৈনিক ছিলেন তিনি। ৮৪ দিনের দ্রুত বিচার-প্রহসন শেষে মামাতো-পিসতুতো দুই ভাই মনোরঞ্জন সেনগুপ্ত ও নীরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তের ফাঁসি হয় বালেশ্বর জেলে। মনোরঞ্জন এর আগে দিদিকে কখনও চিঠি লেখেননি, ‘এই জীবনের শেষে শেষপত্র’ লিখতে বসে স্বাভাবিক ভাবেই চিরবিদায় চেয়েছেন। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত দিদির প্রতি তাঁর সান্ত্বনাবাক্যে প্রকাশ পেয়েছে গভীর জীবনদর্শন: ‘এ মায়াময় নশ্বর পৃথিবীতে কেহই কাহারও নয়। সমস্তই অনিত্য।… সকলেই চলে যাবে। আমরা এ সংসারে জল-বুদবুদের মত এই আছি, এই নাই।’ স্নেহের ছোট ভাই চিত্তরঞ্জনকে তাঁর ‘নোয়াদা’ লিখেছেন: ‘আগামী পরশু আমার জীবনের বিজয়া দশমী।’ অশুভ এই বিজয়ার বিষণ্ণতা এক মুহূর্তে আবিষ্ট করলেও অগ্নিচিত্ত বিপ্লবীর তেজ আছড়ে পড়ে আবার: ‘মনে করিও না এই জীবনদান নিরর্থক… আমরা আমাদের লক্ষ্যে নিশ্চয়ই পৌঁছাব। …তোমাকে আমি বহুদিন বলেছি, আজও শেষ দিনে বলে যাচ্ছি— কেউ এক গালে চড় দিলে তাকে দুই গালে দুইটা চড় দিবে।’ আর মৃত্যুর মাত্র দু’দিন আগে বড়দাদাকে মনোরঞ্জন তাঁর শেষ চিঠিতে লিখছেন: ‘নলিনী এবং বিজয় আমার নিকট দুইটি টাকা পাইবে। উহা শোধ করিয়া দিবেন।’ (ক্রমশঃ)

(www.theoffnews.com - revolutionist letters)

সুখময় ঘোষ, লেখক, শ্রীরামপুর, হুগলি:

পরিষ্কার দিনে ফোর্ট উইলিয়াম থেকে চুনারে সংবাদ পাঠাতে সময় লাগত মাত্র ৫০ মিনিট। কলকাতা ও চুনারের মধ্যে টাওয়ারগুলি ছাড়াও ফোর্ট উইলিয়াম ও ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে যোগাযোগের কারনে ২৫ কিমি ব্যাপী কয়েকটি ‘টাওয়ার’ স্থাপন  করা  হয়েছিল। শ্যামবাজার যাওয়ার পথে লকগেট সেতুতে ওঠার মুখে B.T. রোডে এই ধরনের ৭৫ ফুট  উঁচু এক টাওয়ার দূর থেকে চোখে পড়ে। যেখানে উৎকীর্ণ করা আছে “THIS 75 FEET TALL MASONARY TOWER WAS BUILT IN 1831 FOR THE GREAT TRIGONOMETRICAL SURVEY CONDUCTED BY GEORGE EVEREST, THE THEN SUPERINTENDENT OF  THE GREAT TRIGONOMETRICAL SURVEY PROJECT & SURVEYOR GENERAL IN CHARGE OF ALL TOPOGRAPHICAL  AND  REVENUE  SURVEY CARRIED  OUT BY  SURVEY OF INDIA ”। সুখচরেও এই ধরনের  একটি ‘টাওয়ার’ বর্তমান।

১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে ১০০ ফুট উঁচু টাওয়ার ব্যবহৃত  হয়েছিল সিগন্যালের মাধ্যমে জাহাজের গতিবিধি  নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। কলকাতা ও মেদিনীপুরের খেজুরির মধ্যে সিমাফোর টেলিগ্রাফ পদ্ধতি চালু ছিল বলে জানা যায়। তখন খেজুরি ছিল চালু সামুদ্রিক বন্দর। ১৩টি টেলিগ্রাফ টাওয়ার তৈরি করা হয়েছিল কলকাতা ও খেজুরির মধ্যে জাহাজের গতিবিধি নজরে আনার জন্য। যার খরচ পড়েছিল সেই সময় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। ১৮৪৭ সালের হ্যারিকেন ঝড়ে টাওয়ারগুলি ধ্বংস হয়ে যায়। ১৮৮১-এ ফোর্ট  উইলিয়ামস্থিত কলকাতা  কমিশনার অফিস এক প্রকান্ড গোলক কলকাতা  ফোর্ট উইলিয়াম টাওয়ারের সর্ব্বোচ্চ স্থানে স্থাপন  করেছিল। যেটি সাধারণের কাছে ‘টাইম বল’ নামে  পরিচিত ছিল। সময়ের হিসাব রাখতে এই টাইম বল ঘড়ি হিসাবে সাহায্য করত। সময়ের সূ্চক হিসাবে বলটি রাত ১২.৫৫ মিনিটে ওঠানো হত এবং প্রতিদিন দুপুর ১.০০ টায় নামানো হত। সমুদ্রের নাবিকদের সময় দেখানোর জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

ক্লউডে চাপ্পে ছিলেন এই সিমাফোর পদ্ধতির  আবিষ্কারক। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৭৯২ সালে ফ্রান্সে প্রথম সিমাফোর টাওয়ারের মাধ্যমে সংবাদ প্রেরণের কর্ম পদ্ধতি চালু করা হয়। ১৭৯২ সালের ২২ মার্চ  ফ্রান্সের সংসদে চাপ্পে ও তার চার  ভাইয়ের আবিষ্কার তখন এই ব্যবস্থার নাম ছিল সিমাফোর টেলিগ্রাফ বা অপটিকাল টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা। ফ্রান্সের বিপ্লবের সময় সেখানকার  ‘রেভুউলুশনারী আর্মি’ এই পদ্ধতিতে যুদ্ধক্ষেত্রে  সংবাদ আদানপ্রদান করত। নেপোলিয়ন এই ব্যবস্থাকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছিলেন যে যখন  কোন ‘মিলিটারী ক্যাম্প’ তিনি পরিদর্শনে যেতেন  তখন সঙ্গে নিতেন একটি পোর্টেবল সিমাফোর যন্ত্র।

১৭৯৪ খ্রীষ্টাব্দে ব্রিটিশরা ফ্রান্সের পরেই যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সংকেত প্রেরণের জন্য সিমাফোর  পদ্ধতিকে গ্রহণ করেছিল। ১৮১৩ খ্রীষ্টাব্দে  ব্রিটিশরা তাদের কলোনিগুলিতে এই  সিমাফোর পদ্ধতি চালু করে। ঐ বছরেই ভারতবর্ষে চলে আসে সিমাফোর পদ্ধতির রূপরেখা। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠে সিমাফোর টাওয়ারগুলি। আন্দুল, জয়চন্ডী হিল, সিঙ্গুর ও নালিকুলের মধ্যবর্তী ভোলা, মোবারকপুর, বাঁকুড়ায় তাঁতিপুকুর জঙ্গল ও ছাতনা, গোঘাটের নবসান, ওন্দায় সলঘাটায় এখনও  অস্তিত্ব রক্ষা করে দাঁড়িয়াছে কয়েকটি সিমাফোর  টাওয়ার। পরিত্যক্ত ত্রিকোণমিতিক টাওয়ারগুলি পরবর্তীকালে জরিপের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। কৌতুহলোদ্দীপক পরিত্যক্ত  টাওয়ারগুলির স্মৃতিচিহ্ন একধরণের পুরাকীর্তি হিসাবে বলা যেতে পারে। অবহেলিত অবস্থায় ইতিহাসের সাক্ষী হিসাবে স্থাপত্যগুলি এখনও দণ্ডায়মান। বর্তমানে কয়েকটি টাওয়ার উন্নয়ণের কারন দেখিয়ে ধূলিস্যাৎ করা  হয়েছে। এগুলি সরকার হেরিটেজ হিসাবে কখনই  ঘোষিত করেনি। কয়েকটি শুধু P.W.D র  আওতার অধীনে । অথচ ফ্রান্স, জার্মানি, মাল্টা, ইংল্যান্ডে  এইসব টাওয়ারগুলিকে সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করা  আছে এবং কয়েকটিকে আবার নতুনভাবে সেখানে পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। টাওয়ারগুলিকে কেন্দ্র করে ঐ সব দেশগুলিতে এলাকাগুলি পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষামূলক হিসাবে সেখানকার বর্তমান প্রজন্মকে হাতে কলমে দেখানো হয় কিভাবে সিমাফোর টেলিগ্রাফ পদ্ধতিতে সংবাদ প্রেরণ করা হত। অন্যদিকে আমাদের দেশে  স্থাপত্যগুলির ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে  অজ্ঞাত থেকেই একদিন কালের গর্ভে নিমজ্জিত হবে টাওয়ারগুলি। অজানা ইতিহাসের ভুল তথ্য নিয়ে তার সাক্ষী থাকব আমরা। ঐতিহাসিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায় সত্যই আমরা ‘ইতিহাস বিস্মৃত জাতি’। (সমাপ্ত)

(www.theoffnews.com - simaphor tower)

পলাশ মুখোপাধ্যায়, সিনিয়র জার্নালিস্ট, কলকাতা:

আমাদের দেশে বছর দেড়েকের অতিথি করোনার সঙ্গে আমাদের সনাতনী রাজনীতি তথা রাজনৈতিক নেতাদের দারুণ একটা মিল লক্ষ্য করা যায়। প্রথমজন টিকে থাকার জন্য বার বার মিউট্যান্ট বদল করতে থাকে, দ্বিতীয়জন ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বারবার দল বদল করতে থাকে। বলাবাহুল্য দুটিই বেশ সংক্রামক এবং অতিশয় ক্ষতিকারক মানব জাতির পক্ষে। কি প্রেক্ষিতে এ কথা বলছি আশা করি এতক্ষণে তা বোধগম্য হয়েছে সকলেরই। ক্ষমতার লোভে দলবদল এ রাজ্যে তো বটেই দেশেও খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। বহু দেশ বরেণ্য নেতাও দলবদল করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যের দলবদলের চিত্রটা অন্যদের বেশ লজ্জায় ফেলে দিতে পারে। 

ভোটের টিকিট না পেয়ে যারা বিভিন্ন দল বদল করেছিলেন তারা তো প্রমাণ করেই দিয়েছেন যে তাদের রাজনীতির আসল উদ্দেশ্যই হল ক্ষমতার অলিন্দে থেকে সুখভোগ। এবার অন্যদলে গিয়ে যখন বুঝলেন যে সেখানে ক্ষমতালাভ হল না। ব্যাস তখনই সেখানে দমবন্ধ হতে লাগল। হ্যাঁ, এই দমবন্ধ কথাটি এবারেই নতুন চালু হয়েছে। এখনকার রাজনৈতিক নেতারা প্রায় সকলেই বোধহয় হাঁপানির রোগী, মাঝে মধ্যেই, যখন তখন দমবন্ধ হয়ে আসছে তাদের। একটাই ওষুধ, একটু চেঞ্জ। এপাড়া থেকে ওপাড়া গেলেই সাময়িক মুক্তি। কিন্তু কোনও ক্ষমতা না পেলেই ব্যস আবার  দমবন্ধ, আবার পুরনো অথবা নতুন কোনও পাড়ায়। 

সাংবাদিকতার পেশায় প্রথমদিকে বড়রা বলতেন একটা কথা “লজ্জা, ঘেন্না ভয়, তিন থাকতে নয়”। অর্থাৎ সাংবাদিক হতে গেলে ওই তিনটি জিনিস থাকা চলবে না। কিন্তু রাজনীতি করতে গেলে এই তিনটে জিনিসের নামও শোনা চলবে না সেটা তখনও এতটা স্পষ্ট করে বুঝিনি। বড়রা আরও একটা কথা বলতেন রাজনীতিতে কি না হয়? তখন বিশ্বাস করতে কষ্ট হত, আজ দেখতে পাচ্ছি সেই চরম সত্য।

বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন আলোচনায় দেখেছি সিংহ ভাগ মানুষই রাজনীতি নিয়ে বীতশ্রদ্ধ, রাজনৈতিক নেতাদের তারা বিশ্বাস করেন না, প্রকারান্তরে নিচু নজরেই দেখেন। কিন্তু তা স্বত্বেও রাজনীতির এই বাড়বাড়ন্ত কেন? শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভ এবং আবশ্যকতা। সাধারণ মানুষও ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিকেই পছন্দ করেন, তার চাটুকারিতা করেই কাজ হাসিল করতে ভালবাসেন। মুকুল রায়ের দল বদলে আমরা আলোচনা করি, সেটা বড় মাপের উদাহরণ বলে। কিন্তু ছোট ছোট এলাকায়, অতি ছোট নেতা বা রাজনৈতিক কর্মীরাও দলবদল করেন অহরহ। তাদের কথা উঠে আসে না। এই দলবদলেও থাকে ক্ষমতারই নেশা। প্রত্যন্ত এলাকার মজদুর সঙ্ঘ বা অটোচালকদের ইউনিয়ন। বাম আমলে এমন সব সংগঠনই ছিল তাদের দখলে। যে দিকে যে ইউনিয়ন নজরে পড়ে তার প্রায় সবটাই তখন লাল। সরকার পাল্টাতেই সেই সব সংগঠন রাতারাতি হয়ে যায় নতুন শাসকদলের। এর মধ্যে কি কোনও রাজনৈতিক আদর্শ নজরে পড়ে? পড়ে না। যেটা প্রকট হয় সেটা ক্ষমতার লোভ, ক্ষমতার আবশ্যকতা।  অর্থাৎ প্রান্তিক মানুষগুলিও রাজনীতি করেন ক্ষমতার লোভে পড়েই। তার চাওয়ার সঙ্গে রাজ্য বা জাতীয় স্তরের নেতাদের চাওয়ার পার্থক্য হয়তো থাকে। কিন্তু মূল জিনিস ক্ষমতা।

সদ্য হয়ে যাওয়া নির্বাচনের আগেকার কথা একটু ভাবুন তো। ফি দিন একের পর এক নেতা নেত্রী যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে। বাতাসে কেমন যেন পরিবর্তনের সুর, সেই সুরে গলা মিলিয়ে শাসক দলের নেতারা ক্রমেই যোগ দিচ্ছেন গেরুয়া শিবিরে। এতদিন মানুষের জন্য কাজ করতে না পারায় বেদনাহত তারা, আবার নতুন দলে যোগ দিয়ে সত্যিই মানুষের জন্য কিছু করতে পারবেন বলে চনমনে সকলে। রোজই চলছে এই নাটক। অংশ নিয়েছেন প্রকৃত অভিনেতারাও। ভোটের ফল বেরতেই বদলে গেল সব কিছু। যে শাসক দলে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে না পেরে বিজেপিতে গিয়েছিলেন নেতা, অভিনেতারা। তারাই আবার মানুষের কাজ করতে চেয়ে ঘরে ফিরতে চান। সাধারণ মানুষও এই সব নাটক, যাত্রা দেখে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু তাদের কাছে কোনও বিকল্প নেই। নির্লোভী রাজনৈতিক নেতা এখন সোনার পাথর বাটি। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকে ভাল ফল করা কোনও ছাত্রকে বলতে শুনেছেন ভবিষ্যতে সৎ রাজনৈতিক নেতা হতে চাই। সব বাবা মায়েরাই তার ছেলেমেয়েকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষক হওয়ার জন্য চাপ দেন। কোনওদিন কোনও বাবা মা কি সন্তানকে বলেছেন বড় হয়ে তোমাকে সৎ রাজনীতিবিদ হতে হবে? না। তাই তো এই পেশায় আজ বেনো জলের জোয়ার। তর্কের খাতিরে কেউ কেউ রাজনীতিতে আসা কিছু শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারের কথা বলতেই পারেন। দিতে পারেন বিধান চন্দ্র রায়ের উদাহরণ, কিন্তু তা ব্যতিক্রম, অতি স্বল্প। এখনও যে সব ছিটে ফোঁটা কৃতিরা রাজনীতিতে যোগ দেন তারাও এসেই মূল স্রোতে গা ভাসিয়ে দেন। কেউই দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারেন না। তাই ক্ষমতালোভীদের নাটক দেখে চায়ের কাপেই তুফান তুলব আমরা। সেই সুযোগে বার বার মিউট্যান্ট, থুড়ি দল বদলে কাজ হাসিল করবেন ওরা।

(www.theoffnews.com - party change leader Mukul Roy)