গুরুত্বপূর্ণ খবর

(www.theoffnews.com - Ukraine Russia thousand arrested agitation)
 

পলাশ মুখোপাধ্যায়, সিনিয়র জার্নালিস্ট, কলকাতা:

আমাদের এলাকায় যখন প্রথম টোটো এল তখন সেটা দেখে বেশ ভাল লেগেছিল। শব্দ নেই, বায়ু দূষণ নেই, খুব একটা উচু নয়, তাই উঠতেও তেমন কষ্ট নেই। সব মিলিয়ে ছিমছাম একটা যান। চেপে বসে বেশ একটা রথের মত ফিল হচ্ছিল। মনে মনে বেশ পছন্দই হয়েছিল এই যানটি। কিন্তু বছর তিনেক পরে এই টোটোই এখন আমাদের আতঙ্ক। কারন তার সংখ্যা বৃদ্ধি। সংক্রমণের সঙ্গে যদি সংখ্যাবৃদ্ধির অঙ্ককে জুড়ে দেওয়া যায় তাহলে দেখা যাবে টোটোর সংখ্যা বৃদ্ধি করোনার চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। কোনও জিনিস অতিরিক্ত বেশি হলে যা হয়, আমাদের এখন টোটোকে নিয়ে সেই দশাই হয়েছে, পথে নামলেই ঘাড়ের পড়ে দশখানা করে টোটো। শুধু আমাদের এলাকাই নয় এই সমস্যা প্রায় গোটা রাজ্যে তথা দেশেও। তাই মাঝে মাঝে মনে হয় কোনও কিছুর একটা সীমা থাকা অবশ্যই দরকার। দরকার প্রত্যেকটা বিষয়ে সঠিক অভিভাবকত্বেরও। না হলে বেশি মিষ্টির ফলে তিতো হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। 

একই কথা এখন বার বার ভাবাচ্ছে ইউটিউব। ইউটিউব আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী এখন। সে কোথাও বেড়াতে যাওয়াই হোক, বা নতুন রান্না শেখা, পড়াশোনাই হোক বা খেলাধুলা, সিনেমা নাটক গানই হোক বা প্রয়োজনীয় আলোচনা, সংবাদ সব সম্ভারই সাজানো তার দরবারে। আমাদের প্রয়োজনে এর গুরুত্বও অপরিসীম। দরকারি যেকোনও বিষয় চট করে জেনে নিতে, বলা ভাল দেখে নিতে গেলে ইউটিউব আমাদের বড় সহায়। এর ভূমিকা অস্বীকার করা অসম্ভব। কিন্তু গোল বেধেছে এখানেই, বিশ্বব্যাপী একটা ময়দান, সেখানে হাজির নানান মাপের, নানান মানের, নানান ধরনের খেলোয়াড়। ভাল মন্দ মাঝারি খারাপ সকলেই উপস্থিত এক ছাতার তলায়। সেখান থেকে আপনাকে বেছে নিতে হবে সেরা খেলা এবং তার খেলোয়াড়। কাজটা সাগরে মুক্তো খোঁজার মত। এই সুযোগটাই নিচ্ছে একাংশ। ক্রমশ ভরে যাচ্ছে অসাধু, অশালীন, অসত্য, অদ্ভুত, অকথ্য তথ্য ভাণ্ডারে। সাধারণ মানুষ নিজের অজান্তেই তা পাচ্ছেন হাতের মুঠোয়। ছড়িয়ে পড়ছে দাবানলের মত, মানুষের পর মানুষ সেই সব ভুলে ভরা তথ্যকে ধ্রুব সত্য মনে করে আরও ভুলের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। 

আগে যখন এমন সামাজিক মাধ্যমের বাড়াবাড়ি ছিল না, তখন যে মাধ্যমগুলি আমাদের সামনে ছিল সেগুলি কিন্তু একটা নির্দিষ্ট নিয়ম বা আইনের বেড়াজালের মধ্যে থেকেই তথ্যপ্রদান করত। ঠিক হোক ভুল হোক, একটা সীমা, একটা ভয়, একটা নজরদারীর সুবিধা তখন কাজ করত। আমি নিজে সাংবাদিক তাই সংবাদের কথাই বলা যাক। সংবাদ মাধ্যম বলতে টিভি, খবরের কাগজ এবং রেডিও, এই তিনটি মাধ্যমই মুখ্য ছিল। সংবাদ সংগ্রহের পর সেই সংবাদ কতটা যাবে, কিভাবে যাবে, আদৌ যাবে কিনা এসব দেখার জন্য একাধিক অভিজ্ঞজনেরা থাকতেন। এখনও থাকেন। সংস্থার নীতি অনুযায়ী কিছু কিছু ক্ষেত্রে এদিক ওদিক হয় ঠিকই, কিন্তু গোটাটাই মিথ্যা এমনটা সচরাচর হয় না। অশালীন, অভব্য, অনৈতিক, হিংসা বা অপরাধ প্রণোদিত কোনও খবরও প্রকাশ পায় না বললেই চলে। সাম্প্রদায়িক হিংসা, মূল্যবোধকে আঘাত করে এমন কোনও বিষয়ও এখানে অনেক ভেবেচিন্তেই প্রকাশ করা হয় বৃহত্তর স্বার্থে। এমন কিছু বিষয়ে কেউ ভুলবশত কিছু করলে তাকে বোঝাবার, বকার বা শাস্তি দেওয়ার নানাবিধ উপায় আছে। কিন্তু ইউটিউব চ্যানেলের অধিকারীর সেই দায় নেই। তাকে কাউকে জবাবদিহিও করতে হয় না। তাই তিনি যে কোনও বিষয়েই একটা ভিডিও বানিয়ে তা দিতেই পারেন, তা তিনি সেই বিষয়ে দক্ষ বা কুশলী না হলেও কারও কিছু বলার থাকে না। 

আমার আপত্তি এখানেই। ইউটিউবে মুড়ি মিছরির এক দর। সেখানে বাছার সুবিধা হয়তো আছে, কিন্তু একই বিষয়ে এত বেশি ভিডিও থাকে, যে না জানলে ভালটা বেছে ওঠাই কঠিন অনেক সময়। বহু বিষয়ে না গিয়ে ফের খবরেই ফিরে আসি। অনেকেই বলবেন একটা বিষয় খুব ভাল হয়েছে, যে সংবাদ মাধ্যমগুলি অধিকাংশই পক্ষপাতদুষ্ট। সঠিক খবর দিতে চায় না। সেখানে ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে নির্ভয়ে সঠিক খবর মিলছে। সরকার বা শাসকদলের বিপক্ষে খবর বা মত প্রকাশ দেখা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে অনেক গ্রাম গঞ্জের ছোটখাটো খবরও যেগুলি আমরা শহরে বসে জানতে পারতাম না। হ্যা, অবশ্যই এই সুবিধা আছে। কিন্তু পাশাপাশি এটাও ঠিক যে কিছু এমন ভাল তথ্য সমৃদ্ধ ইউটিউবার থাকলেও, অধিকাংশই এটাকে একটা গিমিক হিসেবে চালাতে চান। তারা সঠিক ভাবে খতিয়ে দেখে বা গবেষণা না করেই কোনও খবর নিয়ে আলোচনায় বসে পড়েন। তাদের অনেকেরই ভাষা চয়নের ক্ষেত্রে শিষ্টাচারের লেশ মাত্র থাকে না। তাদের অনেকেই শিরোনামে এক রকম লেখেন কিন্তু ভিতরের খবরে থাকে অন্য বিষয়। আবার কেউ শুধু মাত্র ভিউ বা লাইক পেতে ভুল খবরও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে শিরোনামে দিয়ে দেন, যাতে মানুষ সেই খবর দেখতে প্রলোভিত হন। আমি উদাহরণ দেওয়ার জন্য দুই একটি ছবি দিয়েছি, একটি ছবিতে শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতে শৌচাগার থেকে টাকা উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। এই সময়ে এই ধরনের খবর অত্যন্ত স্পর্শকাতর, আমিও উৎসাহী হয়ে খবরটি দেখতে গিয়ে দেখলাম সেখানে এমন কোনও খবরই নেই, রয়েছে কুনাল ঘোষের একটি সাংবাদিক সম্মেলন, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে তিনি কিছু কথা বলেছেন। আর একটি খবরের শিরোনামে দেওয়া রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেল ইডি। মমতা না কি কিছুই করতে পারলেন না। ভাবুন, অভিষেক ইডির ডাকে কয়েকবার হাজিরা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাকে বাড়ি থেকে ইডি তুলেছে বলে আমার অন্তত জানা নেই। তো এই ধরনের অসংখ্য চ্যানেলে ভরে গিয়েছে ইউটিউব। আর একটি খবরে কুনাল ঘোষ, ব্রাত্য বসুদের ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতারা এমন অশালীন, অভব্য উপমা দিতেই পারেন, মাঝে মধ্যে দিয়েও থাকেন।  কিন্তু সাংবাদিকেরা এই উপমা দিতে পারে? আরও একটা ছিল, বাড়িতে ঢুকে খুনের চেষ্টা মমতাকে। হ্যাঁ আমরা জানি একজন সন্দেহভাজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির চত্বরে ঘোরাফেরা করবার সময় ধরা পড়ে। পুলিশ তদন্তও করছে। কিন্তু সে যে মমতাকে খুন করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল সেটা নিশ্চিত ভাবে ওই ইউটিউবারই জানেন বোধহয়। আমার দু তিনটি উদাহরণ বিন্দুতে সিন্ধু মাত্র। 

এখানেই শেষ নয়। সেদিন আমার ছেলের স্কুলে রিবন দিয়ে একটা হাতের কাজ করে আনতে বলা হয়েছিল। সেই বিষয়ে ভিডিও খুঁজতে গিয়ে হাতে যা এল, তা দেখে আমি প্রায় অজ্ঞান। রিবন দিয়ে ফুল তৈরির একটি ভিডিও, সেখানে ফুল তৈরি শেখানো হলেও তার ভয়েজ ওভারটা গোটাটাই চরম অশ্লীল। বটতলার হলুদ চটি বইয়ের কথা কারও জানা থাকলে তিনি বুঝবেন, তেমনই এক রতিসুখের গল্প গোটা ভিডিওতে পড়ে শোনাচ্ছেন একজন মহিলা। ভাবুন তো, আমার ছেলের হাতে ওই ভিডিও পড়লে, এবং ওই ভয়েজ ওভার সে শুনলে কি হত সেটা অবশ্য আমি জানি না। পরে দেখলাম এমন কনটেন্টে  ভর্তি ইউটিউব।  

ইউটিউব নিজে এসব যে খুব প্রশ্রয় দেয়, এমনটা কিন্তু নয়। তাদের নিজস্ব কিছু পলিসিও আছে, যেখানে কপিরাইট থাকে, আগেকার কোনও কনটেন্টের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকলে তারা সতর্ক করে দেয়, নগ্ন বা অশ্লীল কিছু নজরে এলে তাও মুছে দেওয়া হয়। কিন্তু কথা হচ্ছে এগুলি মানুষের পক্ষে দেখা অসম্ভব। কোটি কোটি ভিডিও প্রতিদিন আপলোড হচ্ছে, এই বিষয় খতিয়ে দেখে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। তারা উপর থেকেই দেখে নেয়, আগেকার কনটেন্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে, দেখে ভিডিওতে কোনও অশ্লীলতা, হিংসা আছে কিনা। কিন্তু বাংলা চটি বইয়ের অডিও বোঝার ক্ষমতা বোধহয় ইউটিবের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেই। তাই তো নজরদারির ফোকর গলে সহজেই পার হয়ে যায় এমন ভুলের মিছিল। 

শুনছি কেন্দ্রীয় সরকার এই সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্টগুলির উপরে এবার নজরদারির কথা ভাবছে। এটা একটা ভাল উদ্যোগ, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের অবাঞ্ছিত বিষয়গুলি এক্ষেত্রে কমতে পারে। কিন্তু এর খারাপ দিকও আছে, এখানে কিছুটা হলেও যে স্বাধীন ভাবে মত প্রকাশের জায়গা থাকছে সেটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। এমনিতেই আমাদের দুই সরকারই পরমতসহিষ্ণুতায় বিশ্বাস করে না, তাদের বিপক্ষে কোনও কথা বলা বা সমালোচনা করা মানে তা সরাসরি দেশদ্রোহিতার সমান। তাই সরকার যদি দেখভালের দায়িত্ব নেয় তাহলে মত প্রকাশের সামান্য আশাটুকুও শেষ। তবে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার কি কোনও পথই নেই। আছে একটা, আপনি আমি আমরা। তবে সেটা যথেষ্ট সংশয়ের। আমরাই তো কাঁচা বাদাম বিক্রিকে গান বলে ভাইরাল করি। আমরাই তো রাস্তায় দুর্ঘটনা, হত্যা দেখে না বাঁচাতে গিয়ে ভিডিও করে ইউটিউবে দিই। তাই আমরা নিজেরা ভাল হয়ে গিয়ে এমন ভুলের ফাঁদে পা না দিয়ে শুধু সঠিক পথেই চলব এটা কল্পনাতেই ভাল লাগে। কার্যক্ষেত্রে…?

(www.theoffnews.com - fake news YouTube)

পলাশ মুখোপাধ্যায়, সিনিয়র জার্নালিস্ট, কলকাতা:

সেদিন আমার এক পরিচিত খুব গর্ব করেই বলছিলেন তার মেয়েকে তিনি ইডি বা সিবিআই অফিসারই বানাবেন। এতদিন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বানানোর স্বপ্ন দেখলেও এখন তার মনে হচ্ছে এটাই দারুণ ব্যাপার হবে। শুনে একটু মুচকি হাসলাম দেখে বেশ রেগেই গেলেন মনে হল। গলাটা একটু চড়িয়েই বললেন “এদের কি ক্ষমতা দেখছেন? বাঘা বাঘা লোকেদের কেমন ভয় পাইয়ে দিয়েছে। আর কোনও পেশায় এমন জবরদস্ত ব্যাপার স্যাপার আছে?“ হেসে না বলতেই আশ্বস্ত হলেন। আসলে রাশি রাশি টাকা উদ্ধার হচ্ছে, আর ইডি ক্রমশ সিবিআইকে পাশ কাটিয়ে বাঙালির আলোচনায় ঢুকে পড়ছে। জেগে ঘুমানো জনগণ ফের একটা নতুন দিবাস্বপ্নের আনন্দে মশগুল হচ্ছে।   

সিবিআই আমাদের পরিচিত। কিন্তু ইডি সম্পর্কে এতটা জ্ঞান আমাদের এতদিন ছিল না, যদিও ইডি বহু বছর ধরেই কাজ করছে। ইডি মূলত অর্থ মন্ত্রকের রাজস্ব বিভাগের অধীনে কাজ করে। এটি ১৯৫৭ সালে বৈদেশিক মুদ্রা-সম্পর্কিত লঙ্ঘনের মামলাগুলি দেখার জন্য গঠিত হয়েছিল। কিন্তু ২০০২ সালে, পিএমএলএ প্রবর্তনের পর, এটি আর্থিক জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের মামলাগুলি নিতে শুরু করে, যেগুলির অধিকাংশই অপরাধমূলক প্রকৃতির। কিন্তু ইডির বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, এই সংস্থা মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে বিরোধী দলগুলির নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যই সক্রিয়। গত কয়েক বছরে ইডির নিশানায় থাকা ব্যক্তিদের তালিকায় একটু নজর দিলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। পি. চিদাম্বরম হোক অথবা ডি.কে-শিবকুমারের মতো কংগ্রেস নেতা, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির শরদ পাওয়ার এবং প্রফুল প্যাটেল হোক বা সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হোক বা ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন, বহু বিরোধী নেতা গত কয়েক মাসে ইডি তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। 

উল্টো দিকে তাকালেই বোঝা যাবে শাসক দলের অভিযুক্ত নেতাদের প্রতি ইডির নরম মানসিকতা।  বিরোধীরা বার বার অভিযোগ করেছে যে, বিজেপির নেতাদের এবং অন্যান্য দল থেকে যারা এনডিএ-তে যোগ দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, সারদা চিট ফান্ড কেলেঙ্কারির অভিযুক্ত মুকুল রায় এবং হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি৷ মুকুল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে চলে যান, হিমন্তও কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেন। শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রেও কথাটি খাটে বৈকি। এটা অবশ্য নতুন নয়। ইউপিএ সরকারের আমলেও ইডি-র বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনীতিকদের হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। জগন মোহন রেড্ডির বিরুদ্ধে একটি মানি লন্ডারিং মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছিল, যখন তার ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি অন্ধ্র প্রদেশে কংগ্রেসের বিরোধী ছিল। সিবিআই এফআইআর-এর ভিত্তিতে ইডি তার তদন্তে বলেছিল যে ২০০৪ সালের মে থেকে, যখন তার বাবা ওয়াই.এস. রাজশেখর রেড্ডি কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, জগন বেশ কয়েকটি কোম্পানি চালু করেছিলেন যেখানে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের সুবিধাভোগীরা বিনিয়োগ করেছিলেন। পরে অবশ্য তা আর এগোয়নি। 

 গত ১৭ বছরের দিকে তাকালে দেখা যাবে, ফৌজদারি আইন প্রণীত হওয়ার পর থেকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ৫৪০০টিরও বেশি মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২৩জনের বিরুদ্ধে দোষ সাব্যস্ত হয়েছে। অভিযানের নাটকীয় বৃদ্ধির পরেও ইডির তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ০.৫% এর মতো। এ থেকেই বোঝা যায় ইডি অভিযান প্রচুর চালালেও অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের  সাফল্যের হার কতটা। 

ইডির থেকে অবশ্য অনেকটাই ভাল অবস্থা সিবিআইয়ের। সিবিআই ডিরেক্টরের দাবি অনুযায়ী তাদের সাফল্যের হার নাকি ৬৭% এর আশেপাশে। কিন্তু অঙ্কের মারপ্যাচ এড়িয়ে দেখা যাচ্ছে সিবিআইয়ের বিভিন্ন তদন্তে ব্যর্থতার তালিকাও বেশ লম্বা এবং  সাফল্যের হার বেশ হতাশা জনক। ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন থেকে চুরি যায় নোবেল পদক। সিবিআই ব্যর্থ হয় নোবেল চুরির কিনারা করতে।  হাইকোর্টে এক  জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রাকেশ তিওয়ারি সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, “নোবেল আমাদের জাতীয় সম্পদ। অথচ তা উদ্ধারের জন্য সে অর্থে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ এখনও নিতে পারেনি সিবিআই। কেন আপনারা কিনারা করতে পারলেন না এত বছরেও?”এছাড়াও বড় বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সিবিআইয়ের ব্যর্থতার কয়েকটা উদাহরণ দেওয়া যাক। প্রথমেই আসি ২জি কাণ্ডে। প্রায় ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকার ২জি কেলেঙ্কারি কাণ্ড থেকে বেকসুর খালাস হন প্রাক্তন টেলিকম মন্ত্রী এ রাজা ও ডিএমকে নেত্রী কানিমোঝি। কারণ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয় সিবিআই। আদালতে বিচারকের কাছে ফের তাদের অপদার্থতার জন্য ভর্ৎসিত হন সিবিআই আধিকারিকেরা। এখানেই শেষ নয় রয়েছে আরুষি হত্যা কাণ্ড, কয়লা কেলেঙ্কারি, কর্ণাটকের বেল্লারিতে অবৈধ খনি কেলেঙ্কারি সহ একাধিক তদন্তের ব্যর্থতা। সারদা, রোজভ্যালি বা অন্যান্য চিট ফান্ড তদন্তগুলির কথাই যদি ধরি তাহলে সেখানেও তো অগ্রগতির কোনও চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না, এতগুলি বছরের পরেও। 

এই যে হঠাৎ তৎপর ইডি, সিবিআই। কয়লা পাচার, গরু পাচার, শিক্ষা কেলেঙ্কারিতে ব্যপক ধরপাকড়। সারদা সহ নানা চিটফান্ড কাণ্ডে হঠাৎ ঢেউ উঠেছে, রাশি রাশি টাকা মিলছে, ডেকে পাঠানো হচ্ছে নেতা নেত্রী তাদের আত্মীয়দের। এই নাটক কিন্তু নিয়মিত নিরন্তর, আপনি আমি পুলকিত হচ্ছি, সংবাদ মাধ্যম উত্তেজিত হচ্ছে। বাস্তবে কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। আপনার সাময়িক জেগে ওঠা পুলকের মজা নিন, কিন্তু ইতিহাস বলছে এতে কোনও সাংঘাতিক পরিবর্তনের আশা না করাই ভাল। যে মামলায় কেন্দ্রের বিরোধী দলের নেতাদের ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তৎপর ইডি, সিবিআই, সেই একই মামলাতে শাসক দলের নেতারা বসে থাকেন নিশ্চিন্ত মনে। বড্ড চোখে লাগে। মাঝে মধ্যে কোনও কোনও তদন্ত কোনও একটা বিশেষ কারনে জেগে ওঠে আবার তা ঘুমিয়ে পড়ে বিশেষ কোনও কারনেই। ইডি, সিবিআই তাই সিনেমা, সিরিজেই ভাল লাগে, জোশ জাগায়। বাস্তবে নয়।

(www.theoffnews.com - ED CBI politics)

(www.theoffnews.com - China president Russia president meet)