গুরুত্বপূর্ণ খবর


শেখ ফরিদ, প্রগতিশীল লেখক, বাংলাদেশ:

আচ্ছা, জেরুজালেমে যে যুদ্ধটা হচ্ছে, তা ইহুদি বনাম মুসলিম যুদ্ধ, নাকি ফিলিস্তিন বনাম ইসরায়েল? প্রশ্নটা অনেককেই করেছি, সাথে সাথেই উত্তরটা দিতে পারেনি অনেকেই। কেন পারেনি? তা লিখলেই একটি প্রবন্ধ হয়ে যাবে। 

ভিপি নুরু শিয়াদের মুসলমান মনে করে নাকি কাফের? তা সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরুর ফোন নম্বর যাদের কাছে আছে, তারা কেউ ফোন করে আমাকে একটু নিশ্চিত করলে, খুশি হতাম। কেন তা বললাম, তার ফেসবুক পোষ্ট পড়লেই বুঝতে পারবেন। এক মাস আগেও আমার এলাকার এক লোক ইসলামের ইতিহাস নিয়ে আলোচনার সময়, কথা প্রসঙ্গে আমাকে বলছিল, ফরিদ তোমার বক্তব্য দেখি "শিয়াদের মত" হয়ে গেল। শিয়ারা তো "কাফের!" শিয়াদের কাফের বলা সেই লোকটি গতকাল আমায় বললেন, "হামাস তো ইসরাইলকে রকেট মাইরা তছনস কইরা দিছে। এইডা ইসলামের বিজয়!" আমি তার কথায় হাসবো না কাঁদবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। কারন, হামাস শিয়া, আর শিয়ারা তারই ভাষায় "কাফের!" 

ফিলিস্তিনিদের নিয়ে নোয়াম চমেস্কির বয়ান পড়ে খুশি হওয়ার কিছু নাই। মার্কেট ধরে রাখার ধান্দা। নোয়াম চমেস্কি বিশাল মানবদরদি। অথচ বেলুচ মুসলিমদের নিয়ে একটি হরফও ডিলেভারি দেয়নি আজ পর্যন্ত। দেবেও না, কারন, পাঠক হারাবে। সাথে হয়তো পয়সাও। পত্রিকা ও সাংবাদিকেরা পাঠক ও চাকরি হারানোর ডরে কি করে, আর কি করে না। তা তো আজকাল কারও অজানা থাকার কথা নয়।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল ইরান ইরাকের এক দশক ব্যাপী যুদ্ধে কার পক্ষে ছিল? নিশ্চিত করেই বলা যায়, তিনি ইরাকের পক্ষে ছিলেন। কারন ইরানিরা শিয়া। আাসিফ নজরুলের মত পন্ডিতের তো অজানা নয় যে, হামাস একটি শিয়া গ্রুপ। আমার স্পষ্ট মনে আছে, ইরাক ইরান যুদ্ধে একজনকেও আমি ইরানের সাপোর্টার হতে দেখিনি। ধর্মীয় পরিচয়ে দিতে যে লোকটিকে নিজে ও তার সন্তানদের ধর্ম পরিচয়ে ইসলাম লিখে, পাশে "সুন্নি" শব্দটি ব্রাকেটে বন্দী রাখে। (এখনও অনেক মুসলমান ধর্ম পরিচয়ে ইসলাম লিখে, পাশেই লেখে সুন্নি।) মানে সে শিয়া নয়। তার ধারনা শিয়ারা "মুসলিম নয়"। সেই লোকটিও দেখি আজ হামাসের পক্ষে কথা বলে। অথচ হামাস শিয়া সম্প্রদায়ের। পত্রিকায় দেখলাম তুরস্কের নেতা এরদোগান শিয়া সুন্নি বিভেদ ভুলে যেতে বলেছেন। অথচ তার পাকিস্তানি ভক্তরাই কিছুদিন আগেও তো পাকিস্তানে লাখ লাখ সুন্নি একত্রিত হয়ে সড়কে মিছিল করে বলল, "শিয়া কাফের, শিয়া কাফের!" ইউটিউবে সার্চ দিন সেই ভিডিওটা পেয়ে যাবেন। পাকিস্তানে কাদিয়ানিদের মত শিয়াদের কেবল রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষনা করা বাকি।

হামাস কোথা থেকে হামলা করছে? মিশর সীমান্তবর্তী অঞ্চল গাজা থেকে। এই গাজা কিন্তু  আল আকসা থেকে দুরে। অথচ ওয়েষ্ট ব্যাংক কাছে, একেবারে আল আকসার কাছে। সেখানে রয়েছে আরব সমর্থিত ফিলিস্তিনি। তারা, তো হামাসের সাথে নেই। তারা সংখ্যায়ও হামাস থেকে বেশি। ফিলিস্তিনের মানচিত্র সামনে রেখে ভাবুন অনেক বিষয় পরিস্কার হয়ে যাবে। এছাড়া ১৯৪৭ ও ১৯৪৮ এর ভারত ও প্যালেস্টাইনের ইতিহাস পড়ে দেখতে হবে। বৃটিশরা ৪৭ পাকিস্তান ও ৪৮ ইসরায়েল রাষ্ট্র তৈরি করেছিল। কেন করেছিল তা আরেকদিন আলোচনা করা যাবে। এ  ফিলিস্তিনিদের মধ্যে স্পষ্ট দুটি ভাগ শিয়া ও সুন্নি। তারা নিজেরাই কখনও এক হতে পারবে না। ঢাকার শাহবাগ আর বায়তুল মোকররমের হুজুরগন আর বামেরা সম্পূর্ণ বিপরীত রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাসী হয়ে তারা উভয়ে বিষয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐক্যমত পোষন করলেও ফিলিস্তিনিরা হামাসের বিষয়ে এখনও ঐক্যমতে পৌঁছেনি। এমনকি আরবরা চাইবে না, হামাস বিজয়ী হোক। হামাস বিজয়ী হওয়া মানে, ইরানের বিজয়। আরবরা তা কখনওই তা চাইবে না। মজার বিষয় হলো, বাংলাদেশের যারা ইসরাইলে হামাসের রকেট হামলায় খুশি তারাও অধিকাংশ কিন্তু শিয়াদের কাফের মনে করে থাকে!

হামাসের রকেট হামলায় ইসরায়েলে একজন ভারতীয় নার্স নিহত হয়েছে। নার্সটি ভারতের কেরালা রাজ্যের অধিবাসী।বিস্ময়কর বিষয় হলো কেরালার বামপন্থী রাজ্য সরকারের কেউ নার্সটির শব দেহ গ্রহন করতে যায়নি। নার্সটি তো আর ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ করতে যায়নি। তবুও কেন, বামপন্থী কেরল রাজ্য সরকারের এই উদাসীনতা? নাকি বামপন্থীরা মুসলিম ভোট হারানোর ভয়ে ভীত ছিলেন! তবে আমরা কি ধরে নেব কেবল বিজেপি নয়, ভারতীয় বামেরাও সাম্প্রদায়িক রাজনীতে ডুবে আছে? কমিউনিস্টদের এত অধপতন! বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোর সেই নার্সের নিহতের খবর ছেপেছে। নিউজফিডে শব দেহ নিয়ে যে সকল জঘন্য ও বিশ্রী কমেন্টস্ করা হয়েছে তা তো আমরা মুখেই আনতে পারবো না।

এই যে যুদ্ধ হচ্ছে যদি বলি আসুন, রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করে দিই তাহলে যুদ্ধ থাকবে না। তখন কিন্তু আমাকে কমিউনিস্ট বলা হবে। যদিও আমি কমিউনিস্টই। বলবে, রাষ্ট্র ছাড়া পৃথিবী চলবে কি ভাবে? ঠিক যেমন, ভুমিহীনদের যদি বলি আসুন জমির মালিকানা বিলুপ্তির আন্দোলন করি তখন, ভূমির মালিকের আগে ভূমিহীন দৌড়ে পালাবে। বলবে, ভূমির মালিক না থাকলে কাজ করবো কোথায়! বেতন দেবে কে? খাবো কি? অথচ, রাষ্ট্র একসময় ছিল না। ছিল না ভূমির মালিকানাও। জমির মালিকানা থাকবে আর কোন্দল থাকবে না। রাষ্ট্র থাকবে যুদ্ধ থাকবে না। তা অসম্ভব। রাষ্ট্র থাকলে যুদ্ধও থাকবে।

আবারও এমন দিন আসবে যখন, রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিলুপ্ত হবে, থাকবে না ভুমির মালিকানাও। কোন্দল ও যুদ্ধ তখন এমনিতেই বাতিল হয়ে যাবে। 

(www.theoffnews.com - Filistin Israel war)

শেখ ফরিদ, প্রগতিশীল লেখক, বাংলাদেশ:

কেবল করোনার ভ্যাকসিন নয়, মানুষের জন্য এখন প্রয়োজন ক্ষুধার ভ্যাকসিন। ক্ষুধার ভ্যাকসিন বলতে বুঝাতে চেয়েছি,খাদ্যের শতভাগ নিশ্চয়তা। তা ধনী হোক বা দরিদ্র মানুষের বিনামূল্যে খাদ্যের নিশ্চয়তা দেওয়া। অথবা মানুষকে খাদ্যের ক্রয় ক্ষমতা উপযোগী করে গড়ে তোলা। কেন না, মানুষ মানুষকে শোষন, নিপীড়ন করছে ঐ ক্ষুধার ডর ভয় দেখিয়েই। স্বর্গের লোভ ও নরকের ডর ভয় দেখিয়ে যা না করা যায়, তা করা যায় খাদ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে। এমন কি মানুষ মানুষকে দাস বানিয়ে রেখেছিল। এখনও দাস বানিয়ে রাখে ভিন্ন নামে। পৃথিবীর দুর্ভিক্ষের ইতিহাস তাই-ই বলে।

মানুষ প্রথমে প্রকৃতপক্ষে অন্নের নিশ্চয়তার জন্যই অসংখ্য অপরাধে সম্পৃক্ত হয়। বা সম্পৃক্ত করানো হয়। সত্য এই যে, মানুষ যে শাসককে মেনে নেয়, শোষককে মেনে নেয় ঐ ক্ষুধার ডরেই। সকলেই নিজে ও তারপর তার পরিবারের অন্নের নিশ্চয়তা কামনা করে। এটা খুবই স্বাভাবিক। নাগরিকেরা শাসককে ও আমলাকে কেন ভয় পায়? গ্রামের কথিত মাতব্বর নামের ফ্যাসিস্ট আরেকটি শ্রেনীকেও আমজনতা খুব বেশি ভয় পায়। শাসক তথা সরকার, আমলা ও মাতাব্বর শ্রেণি কেবল তাকে নির্যাতন নিপীড়ন করবে সে ভয়ে ভীত নয়। আমজনতা জানে, তার আয় রোজগার বন্ধ করে দিতে পারে ঐ শ্রেণিগুলো। অর্থাৎ সেই ক্ষুধা! কেন না, আয় রোজগার বন্ধ হলে খাবে কি? কল্পনার  সেই সাম্যবাদী সমাজে তো আমরা বাস করছি না, যে সকলকেই খাদ্যের নিশ্চয়তা দেওয়া আছে। যে কোন অবস্থায়।

করোনা মহামারি থেকে একদিন মানুষের মুক্তি আসবে, তাতে কোন সন্দেহ নাই। পৃথিবীতে এমন  অনেক মহামারি অনেকবার এসেছে। মানুষ মরেছে, এমন কি পশুপাখিও উজাড় হয়েছে। মহামারি থেকে মানুষ আবার ঘুরে দাড়িয়েছে। মহামারি নিয়ে কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ব্যক্তিগোষ্ঠী যাই-ই শোনাক, ভাববাদীরা যাই-ই ভাবুক। যারা আবিস্কারক তারা বসে থাকবে না। এক সময় মহামারির চিকিৎসা খুঁজে বের করবেই। জ্বর, কালাজ্বর, কলেরা, বসন্তকে এই মানুষেরাই থামিয়ে দিয়েছে।ভবিষ্যতেও যে কোন ঘটনা ও পরিস্থিতিতে মানুষই মানুষকে রক্ষা করবে।

করোনা মহামারি নিয়ে বিশ্বের নেতারা যে ভাবে দৌড়াদৌড়ি করছেন, সেভাবে যদি মানুষের অন্নের নিশ্চয়তা নিয়ে ভাবতেন তাহলে, খাদ্যের বিকল্প এতদিন তৈরি হয়ে যেত বৈকি৷ মানুষ একসময় গাছে থাকতো। গাছ থেকে গুহায়। পাহাড়ে তারপর সমতলে এলো। যাপন করলো যাযাবর জীবন। আবিষ্কার করলো পাথরের অস্ত্র, আগুন, ভাষা, লেখার অক্ষর, তারপর চাকা। তারপর আরও কত না আবিস্কার। মানুষ একই সাথে ঝগড়া, লড়াই, যুদ্ধে লিপ্ত। আবার আবিস্কারেও পিছিয়ে নেই। জ্ঞানে বিজ্ঞানে প্রতিমুহূর্তে ঋদ্ধ হচ্ছে আজকের পৃথিবী। কোন সন্দেহ নেই, সম্পদে সভ্যতায় এগিয়ে চলছে দূর্বার গতিতে। এ গতি আর থামবার নয়। যদিও এই মানুষই আবার সাম্প্রদায়িক ও জাতীয়তায় বহুধা বিভক্ত। মানুষ যখন নিজেদের এক বিশ্বের বাসিন্দা ও এক জাতি ভাবতে শিখবে এবং সেভাবেই অগ্রসর হবে, তখন সম্পদ, সভ্যতা ও আবিষ্কারের গতি কল্পনাতীত ভাবে আরও এগিয়ে যাবে। পৃথিবীর এমন অনেক আবিস্কার রয়েছে যা মানুষের ভাবনার অতীত ছিলো। অনেক ব্যর্থতার পরও আজ ওসব বাস্তব। 

করোনা মহামারি মানুষকে স্থবির করে দিয়েছে। পৃথিবী প্রায় অচল। এই স্থবিরতা ও অচলাবস্থার মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, মানুষ রাষ্ট্রের মধ্যে থেকেও নিরাপদ নয়। তা সে রাষ্ট্র যতই আধুনিক ও ধনীই হোক না কেন। এই মহামারির সময়ে কেবল করোনা ভাইরাসের টিকা আবিস্কার করলেই চলবে না। সাথে প্রয়োজন ক্ষুধার টিকা আবিস্কারের। এই ক্ষুধাকে পৃথিবী থেকে বিদায় জানাতে পারলে, মানুষের অসংখ্য সমস্যা এমনিতেই সমাধান হয়ে যাবে। জানি না, পুঁজিবাদী শক্তিরা এখনই তা হতে দেবে কি না। তবে, আমি আশাবাদী পুঁজিবাদীরাই হয়তো এক সময় খাদ্যের বিকল্প আবিস্কারের গবেষনায় বিনিয়োগ করবে। এবং মানুষ একদিন ক্ষুধার ভ্যাকসিন আবিস্কার করবে। তথা পৃথিবী ক্ষুধা মুক্ত হবে। 

(www.theoffnews.com - corona hungry)

শেখ ফরিদ, প্রগতিশীল লেখক, বাংলাদেশ:

কত রথীমহারথী না এক সময় কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মরে গেছে। এক সময় কালাজ্বর হলে মৃত্যু নিশ্চিত ছিলো। কারন, এ রোগের কোন চিকিৎসা ছিল না তখন। কালাজ্বরের ওষুধ আবিষ্কার করেন একজন বাঙালি চিকিৎসক। তার নাম উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী। তার গবেষণা ও আবিস্কারে অসংখ্য মানুষ নিশ্চিত মৃত্যু থেকে রক্ষা পায়। তবে কেন তাকে নোবেল প্রাইজ দেওয়া হলো না তা আজও প্রশ্নবোধক। এবং  অবাক করার মত বিষয়। ম্যাক্সিম গোর্কির সাহিত্যে নোবেল না পাওয়া যেমন বিস্ময়কর। চিকিৎসায়ও তেমনি। উপেন্দ্রনাথের নোবেল না পাওয়াও বিস্ময়কর আমার দৃষ্টিতে।  তিনি অবশ্য ১৯২৯ সালে নোবেল প্রাইজের জন্য মনোনিত হয়েছিলেন। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন রক্ষাকারী একজন মানুষের প্রাপ্য কি কেবল নোবেল প্রাইজের "মনোনয়ন"! এ তো চরম অবিচার।

উপেন্দ্রনাথের জন্ম হয় বিহারের মুঙ্গের জেলার জামালপুরে। তার বাবা ভারতীয় রেলের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উপেন্দ্রনাথ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ ভারতে প্রাদেশিক স্বাস্থ্যসেবায় যোগ দেন। প্রথমে তিনি ঢাকা মেডিকেল স্কুলে কর্মজীবন শুরু করেন। এই মেডিকেল স্কুলই এখন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ। ১৯২০ সালে ইউরিয়া স্টিবাইন  তৈরি করেন তিনি। ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চে ১৯২২ সালে ৮ জন কালাজ্বর রোগীকে সুস্থ করার খবর প্রকাশ হয়। এতে সারা পৃথিবীতে হৈচৈ পরে যায়। কালাজ্বরের প্রতিষেধক প্রথমে খরগোশের উপর প্রয়োগ করেন। চিকিৎসা ও গবেষণায় তিনি বহুমাত্রিক প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। পৃথিবীর দ্বিতীয় ব্ল্যাড ব্যাংকেরও প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। "রায় বাহাদুর" ও "নাইট" উপাধিতেও ভূষিত হয়েছিলেন। প্রশ্ন থেকে যায় বাঙালি বলেই কি, উপেন্দ্রনাথকে নোবেল প্রাইজ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল? এর উত্তর হয়তো "হ্যাঁ" হয়তো "না"। যদি উত্তরটা "হ্যাঁ" হয় সে হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ভাগ্যবান বটে। নোবেল প্রাইজ না দিয়ে  বৃটিশরা হয়তো সেদিন অবিচারই করেছিলো বাঙালি জাতি ও বাঙালি চিকিৎসক উপেন্দ্রনাথের প্রতি। তবে ইতিহাস বলে, পৃথিবীর মানুষ কিংবদন্তি রুশ লেখক ম্যাক্সিম গোর্কীকে ভুলে যায়নি নোবেল প্রাইজ না পাওয়ার পরও। তেমনি  উপেন্দ্রনাথকেও মানুষ ভুলতে পারবে না, কালাজ্বরের ওষুধ আবিস্কারের জন্য। পুরস্কার মানুষকে খ্যাতিমান করে তুলে তাতে সন্দেহ নেই। কিন্ত কর্ম ও আবিষ্কার যে মানুষকে অমর করে রাখে তা প্রমানিত। উপেন্দ্রনাথ তাই মরেও অমর হয়ে থাকবেন চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবদানের জন্য। 

(www.theoffnews.com - Upendranath Bramhachari)

পলাশ মুখোপাধ্যায়, সিনিয়র জার্নালিস্ট, কলকাতা:

মানুষের কথা ভেবে এক মহান সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। বলা ভাল বিজেপির দুই নব নির্বাচিত বিধায়ক। সংবাদ মাধ্যমের দৌলতে সকলেই জেনে গিয়েছেন বিজেপির দিনহাটার বিধায়ক নিশীথ রঞ্জন প্রামাণিক এবং শান্তিপুরের বিধায়ক জগন্নাথ সরকার বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়েছেন। তারা ফের সাংসদ পদেই থেকে যেতে চান। সত্যিই তো একই ব্যক্তি দুটি পদে তো থাকতে পারেন না। মানুষের কথা ভেবেই ওরা সাংসদ থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন। এবারের সিদ্ধান্তও মানুষের কথা ভেবেই। বিধায়ক হলে সাংসদ পদে ফের নির্বাচন হত। তাতে ফের অনেক খরচ, অনেক সমস্যা। বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলে বিধানসভা নির্বাচনটা সংসদ ক্ষেত্রের তুলনায় কম হবে। তাই জনকল্যাণেই এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়াটাই মঙ্গল। 

সাধারণ মানুষের চোখ বুজে থাকা বা প্রকারান্তরে অসহায়তার সুযোগ বার বার নিয়েছেন শাসকেরা। বলা রাজনৈতিক শাসকেরা। শাসক না বলে শোষক বলাটাই ভাল বলে মনে হয়। এই শাসনের নামে শোষণের ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। তবে সেগুলি ছেড়ে হাল আমলে একটি পরোক্ষ শোষণের কথাই বলা যাক। সম্প্রতি বহু রক্ত, অর্থ, শক্তি এবং ধৈর্য ক্ষয়ের পর বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে। ফল প্রকাশের পর বিজয়ী তৃণমূল, সরকারও গড়ে ফেলেছে। কিন্তু শেষ হয়েও হয় না আমাদের নির্বাচন। আমরা আগেই জানি দুটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ভোট হয়নি, ভোট হয়েও প্রার্থীর মৃত্যুতে ফের নির্বাচনের মুখে খড়দা বিধানসভা। আরও একটি অবশ্যম্ভাবী নির্বাচন হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যও। তিনি নন্দীগ্রামে হেরে যাওয়ায় ফের তাকে জিতে আসতে হবে। সে ক্ষেত্রে তিনি খড়দাতে দাঁড়ালে অবশ্য একটি আসনে ভোট কমে। এগুলি কিন্তু অনিচ্ছাকৃত। অর্থাৎ এই কেন্দ্রগুলিতে আবার ভোট হওয়াটা কারোর ইচ্ছার উপরে নির্ভর করেনি, পরিস্থিতির শিকার।

কিন্তু বিজেপির দুই প্রার্থীর জন্য ফের নির্বাচন হওয়াটা কিন্তু মানুষের তৈরি করা সমস্যা। অতি লোভের ফল। তবু ভাল বিজেপির আরও তিন সাংসদ ভোটে জিততে পারেননি। তা হলে তো আরও দুটি আসনে ভোট হত আবার (একজন রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন)। বিজেপি নেতৃত্ব তো আগে থেকেই জানত এই পাঁচ সাংসদকে প্রার্থী করা হল মানে এরা জিতলেই ফের ওই আসনে ভোট হবে। সে লোকসভাই হোক, বা বিধানসভা। তাহলে? তারা জেনেই প্রার্থী করেছিলেন এই সাংসদদের। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে হয় তো এই সাংসদেরা মন্ত্রী হতেন এই ভেবেই বিজেপির এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু ক্রমাগত ভোটের জন্য যে খরচ তার দায় তো বহন করতে হয় সাধারণ নাগরিকদেরই। সেক্ষেত্রে বার বার নির্বাচন করানোর এই অসাধু সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একবারও ভেবেছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব? মনে হয় না।

এমনিতেই করোনার কারনে আমাদের অর্থনীতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। গরীব মানুষের হাতে টাকা নেই, চাকরি চলে গিয়েছে প্রায় এক কোটি মানুষের। সেই অবস্থায় ফের অহেতুক একটা নির্বাচনের জন্য খরচ কে যোগাবে? বিজেপি সরকার কি ওই নির্বাচনের সব খরচ দেবেন? এই দুই কেন্দ্রে নির্বাচন তো সম্পূর্ণ তাদের হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্যই, তাই তাদের দায় নেওয়াটা কি আবশ্যক নয়? তা তারা নেবেন না, কেউই নেয় না। শুধু মানুষকে কলুর বলদের মত মেনে নিতে হয় রাজনৈতিক দলগুলির চাপিয়ে দেওয়া এই অত্যাচার বা শোষণকে। এতগুলি বছরে বাংলায় মন্ত্রী করবার জন্য বিজেপি তেমন কাউকে তৈরি করে উঠতে পারেনি তার দায় কি জনগন নেবে? পাশাপাশি এটাও মনে করিয়ে দেওয়া দরকার এখন ভোট মানে শুধু অর্থের অপচয় নয়, অশান্তি, প্রাণহানিরও সমূহ সম্ভাবনা। সে ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষেরই ক্ষতি সব চাইতে বেশি। 

না না, শুধু বিজেপিকে দোষ দিলে কিন্তু চলবে না। তৃণমূলও এই উদাহরণ আগে রেখেছে। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে পরপর দু’বার শুভেন্দু অধিকারী তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হন। ২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে হয় শুভেন্দুকে মন্ত্রী করতে হবে। ব্যাস নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে তাঁকে টিকিট দেন তৃণমূল নেত্রী। তারপরই সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়ে নন্দীগ্রামের বিধায়ক হন শুভেন্দু এবং রাজ্যের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। শুভেন্দুর ছেড়ে যাওয়া লোকসভা কেন্দ্রে ফের ভোট হয়, সেখানে তার ভাই ভোটে জেতেন। তাহলেই বুঝুন কেউই ধোয়া তুলসী পাতা নয়।

আমাদের সংবিধান বা নিয়ম কানুনও বলিহারি। এ তো সেই লিয়েন নিয়ে গিয়ে অন্য চাকরি করে আসার মত ব্যাপার। সে ক্ষেত্রে সরাসরি অন্যের আর্থিক ক্ষতি হয় না। কিন্তু এক্ষেত্রে তো মানুষের ক্ষতি। বিধায়ক কেউ হতেই পারেন, কিন্তু সে জন্য কেন সাংসদ পদ থেকে তাকে পুরোপুরি ইস্তফা দিয়ে আসতে হবে না? বিধায়ক পদে হেরে গেলে কেন আবার তার সাংসদ পদে ফেরার রাস্তা রাখা হবে? কেন বার বার এই নির্বাচনের গেরো চাপিয়ে দেওয়া হবে? কেন এমন কোনও আইন থাকবে না, যেখানে বলা হবে কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ফের নির্বাচনে লড়বেন শুধুমাত্র তার দায়িত্বকাল শেষ হলে। না এসব কোনওদিন হবে না। আসলে আমাদের দেশে আইন তৈরি করেন আমাদেরই পাঠানো কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা। যারা নিজেদের সমস্যা হতে পারে এমন কোনও আইনই কোনওদিন তৈরি করবেন না। অন্তত এই দেশে। তাই নির্বাচন আর নির্বাচন, মেগা সিরিয়ালের মত আমাদের দেশে নির্বাচন চলতেই থাকবে, চলতেই থাকবে…

(www.theoffnews.com - re-election India West Bengal)

শাহনাজ পলি, সিনিয়র সাংবাদিক, বাংলাদেশ:

করোনাকালে ঈদ উৎসবে নেই যে সেই পরিচিত খুশির জোয়ার। সারা বিশ্বের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইনকে সঙ্গী করে এই এক পরিণতি যে আমাদের বাংলাদেশেও গ্রাস করেছে গতবারের মতো এবারেও।

বৈশ্বিক মহামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে শোচনীয় পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি সবখানেই নাজুক পরিস্থিতি।

আর এরই মধ্যে এসেছে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। অনিশ্চিত জীবন, বেকারত্ব, দারিদ্র্যতা চেপে বসেছে প্রায় ঘরে ঘরে। তারই মাঝে পর পর দুই বছর কোনওমতে উদযাপিত হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব ঈদ। 

এক বছর প্রতীক্ষার পর অনাবিল আনন্দ নিয়ে আসে ঈদ। পরিবার, আত্মীয়, বন্ধু সবাই একে অন্যের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে ঈদ উৎসবকে রঙিন করে তোলে। পাড়া প্রতিবেশী ও বন্ধুদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয় ভালোবাসা-প্রীতি। আত্মীয়দের প্রতি তৈরি করে সহানুভূতি। সর্বোপরি মানুষের অন্তরে দয়া-অনুকম্পার বার্তা নিয়ে আসে দিনটি। ধর্মীয় এ ঈদ উৎসব অর্থ খুশি ও আনন্দ অন্যদিকে ত্যাগের মহিমা নিয়ে আসে।

ঈদের সকালে নতুন পোষাক পরে মানুষ ঈদগাহে মায়া-মমতা নিয়ে সমবেত হয়। ভুলে যায় ভেদাভেদ ও হিংসা-বিদ্বেষ। একে অপরের সঙ্গে হাতে হাত মেলায়। কোলাকুলি করে। এক কাতারে দাঁড়ায়। সামাজিক এই বন্ধন সুদৃঢ় করাই ঈদের মূল বার্তা। কিন্তু এবারেও তাই পালিত হচ্ছে সীমিত পরিসরে ঈদ আনন্দ উদযাপন।

করোনা দুর্যোগে ঘরবন্দী শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে যখন কোনক্রমে জীবন যাপন করছে, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য একে অন্যের থেকে তৈরি হয়েছে দূরত্ব। ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরে ঘরে যে উৎসব আনন্দ বয়ে যায় তা থমকে গেছে অনেকটাই। কোভিডের আশঙ্কা আর আতঙ্কে মানুষ ভয়াবহ কষ্টে এক একটা দিন অতিবাহিত করছে। অসংখ্য পরিবারে কোভিডে আক্রান্ত ও মৃত্যু ঈদ আনন্দকে ছাপিয়ে দিয়েছে।

আত্মীয় প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শহর ছেড়ে মানুষ গ্রামে যায় এক বুক আশা নিয়ে। গ্রামে থাকা বাবা-মা বা আত্মীয়-স্বজন একটি বছর তার সন্তান বা প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষা করে। তাদের পদচারনায় মুখরিত হয় এক একটা বাড়ি, আঙিনা। পাড়া মহল্লায় উপচে পড়ে ঈদের খুশি। কিন্তু এ সময়ে তেমনটা আর নেই। করোনা সব লন্ডভন্ড করে দিয়েছে।

ঈদের সময় অসহায়-দরিদ্র পরিবারকে সহযোগিতার অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়। যাকাত, ফিৎরা অসহায় এতিম গরীবের মাঝে বিলি করা হয় আয়োজন করে কিন্তু এবারে আগের তুলনায় নিতান্ত কম। এমনকি প্রতিবেশীর খোঁজখবর রাখার সুযোগ হচ্ছে না।

সুখী-সমৃদ্ধ সমাজের চিত্র বদলে গেছে করোনার ভয়াল থাবায়। একজন মুসলিম ঈদের রাতে নিজের কথা ভাবার আগে পড়শির কথা ভাবে। নিজের সন্তানের পাশাপাশি অন্যের কথা ভাবে কিন্তু এবারে আর তার সুযোগ কই?

মহামারি নিয়ন্ত্রণ করতে সারা দেশে চলছে লকডাউন। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত বন্ধ। তবু বিপুলসংখ্যক মানুষ সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে। এ অবস্থায় বেড়ে গেছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের করোনার ছোবলে নাজেহাল অবস্থা। প্রতিদিনই ছাড়িয়ে যাচ্ছে আক্রান্ত ও মৃতের রেকর্ড। দেশটিতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ২ কোটি ৩৭ লাখের বেশি মানুষ। মারা গেছেন ২ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি। 

ভারতের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ভারতে করোনা ভাইরাসের নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ হলো বেশ কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশে সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি।

বাংলাদেশেও লকডাউন উপেক্ষা করে ঈদযাত্রা ও কিছু আয়োজন ভারতের মতো অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সারা দেশে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। মাঝে কয়েকমাস করোনা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও আবারও বেড়েছে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৭৬ জনের আর মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬৮৭ জনে পৌঁছেছে।

করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের থাকতে হবে ঘরে। সেই সঙ্গে সবার সুস্থতার জন্যও থাকতে হবে নিরাপদে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলে সুস্থ থাকার চেষ্টাই এখন বিশেষ প্রয়োজন। পবিত্র এই ঈদের আহ্বান হোক, দূরে থাকি কিন্তু মনের ঘরে সকলে থাকি সহ-অবস্থানে, সবাই সুস্থ থেকে। ঈদ মোবারক।

(www.theoffnews.com - Eid-ul-Fitr)

শেখ ফরিদ, প্রগতিশীল লেখক, বাংলাদেশ:

"রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ইদ" আজ ইদ। রমজানের এই ইদকে, ছোট ইদও বলে। কেবল বাংলাদেশে নয়, পাকিস্তানেও ছোটা ইদ বলে। ছোট বেলায় কোন কোন গ্রামে সেমাই ইদও বলতে শুনেছি। ইরান ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় ইদুল ফিতর বলে থাকে। সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, মালয়শিয়ার মুসলিমরা, হারি বায়া এদিল ফিতর বা হারি বায়া পাওসা বলে থাকে। রাশিয়ায় মুসলিমরা বলে উরাজা বায়রাম। যে দেশে যাই-ই বলুক, প্রকৃতপক্ষে এ ইদকে, ইদ উল ফিতর বলা হয়। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মাদ এই ইদ উল ফিতরের প্রচলন করেন, দশম হিজরি সনে তথা ৬২৪ খৃষ্টাব্দে। জঙ্গে বদরের পর প্রথম ইদ উল ফিতর উৎযাপন করা হয়েছিলো। হযরত মুহাম্মদ যখন মক্কা থেকে "ইয়াত্রিবে" হিজরত করেন। তখন, তিনি ইয়াত্রিবের বাসিন্দাদের প্রতিবছর দুটি উৎসব পালন করতে দেখেন। এক সময়, তিনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেন, মুসলমানদের জন্যও যেন দুটো উৎসবের অনুমতি দেওয়া হয়। আল্লাহ্ হযরত মুহাম্মদের দোয়া কবুল করেন। সেই দুই উৎসবের একটি, ইদ উল ফিতর। স্মরণীয় হলো এটাই, "ইয়াত্রীব" এর বর্তমান নাম মদীনা। 

ইদ উল ফিতরের ইদের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, ফিতরা (অল্পকিছু টাকা দান করা) তো দিতেই হয়। এছাড়া নামাজের আগেই যাকাত দেওয়া বাধ্যতামূলক। যাকাত হলো, আয়ের নির্দিষ্ট একটি অংশ (শতকরা আড়াই ভাগ) দরিদ্রদের দিয়ে দেওয়া। উল্লেখ্য যাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। ইসলামের পরিভাষায় যাকাত নামাযের মতই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মুসলমান সঠিক ভাবে যাকাত-টা দেয় না। দিলেও কম দেয় এবং যাকাত যাদের দিতে বলা হয়েছে, তাদেরকে দেওয়া হয় না। 

রমজানের রোজা  যেমন শেষ হয় তেমনি সাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার প্রথম দিন ইদ উল ফিতর পালিত হয়। সাধারনত সৌদী আরবে ইদ পালিত হওয়ার একদিন পর বাংলাদেশ ইদ পালন করা হয়। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, এইবার প্রথম সৌদী আরবের একদিন আগেই বাংলাদেশে কোথাও কোথাও ইদ পালন করার কথা শোনা গেল! এর আগে সৌদী আরবের সাথে মিল রেখে বাংলাদেশে একই দিনে ইদ পালন করতো কোথাও কোথাও। অবশ্য এটা ব্যাতিক্রম। 

আমাদের দেশে ইদের নামাজ শেষে একে অপরের বাড়িতে "দাওয়াত" খেতে যায়। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি আসা যাওয়া হয়ে থাকে। ইদে সবচেয়ে বেশি খুশি হয় শিশুরা। আরব রাষ্ট্রগুলোতে ইদে কেবল "দাওয়াত" খাওয়া হয় না। উমান, দুবাইয়ে ইদ উপলক্ষে বেলি ড্যান্সের আসরও বসে। তাছাড়া "তানোরা" নামে লোকউৎসবেও অংশ নেয়। তানোরাও এক ধরনের নাচ। যা তুরস্ক মিশরে আরব আমিরাতে জনপ্রিয়। ইদ সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের উৎসব। অবশ্য ইদের নামাজের পদ্ধতি একেক সমাজে ও উপসম্প্রদায়ে কিছুটা ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। প্রথম লাইনটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের " গজল" থেকে নেওয়া। আবার নজরুল তার কৃষকের ইদ নামের কবিতায় বলেছেন, 

"জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ /মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ইদ!" 

আজ ইদ, ইদ উল ফিতর। আজকের এই ইদ সকলের জন্য আনন্দের বার্ত বয়ে আনুক। 

(www.theoffnews.com - Eid-ul-Fitr)

সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

অতি সাম্প্রতিক কালের মানবতা বিরোধী দুটি ঘটনা ঘটে গেল। একটি আফগানিস্তানে। অপরটি ইজরায়েলের তালুবন্দি গাজায়। একটি স্থানে গাড়ি বোমার আঘাতের লক্ষ্য বিন্দু হল স্কুলের অজস্র কচিকাঁচা পড়ুয়ারার প্রাণ কেড়ে নেওয়ার আস্ফালন। অন্যটি কালো কুচকুচে ধোঁয়ায় ঢাকা আকাশ বোম্বিংয়ের অভিষ্টস্থল ফিনিস্তীনি জনবাসের প্রতিশোধী দাম্ভিকতা। সেখানেও তাই কাতারে কাতারে মৃত শিশুর কবর খনন। 

হায় বিধাতা একি করুণ অমানবিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকলাম আমরা। ভিডিওতে বিশ্ববাসীর সঙ্গে আমরাও দেখলাম আমাদের আধুনিকতম এক সভ্যতার নিদর্শনকে। যেখানে সদ্য সন্তান হারা একদল মায়েদের কি চরম হাহাকারের পরিণতি। মূহুর্তে আমার পায়ের তলার মাটিটা কেঁপে উঠল। নিজেকে একটাই প্রশ্ন করলাম, "এ আমরা কোন পৃথিবীতে বাস করছি? যেখানে মাতৃ দিবসের সদ্য আগে-পরের আবহে গণ-মাকে সন্তান হারানোর যন্ত্রণায় এভাবে চোখের জল ফেলতে হয়।"

আসল কথাটা হল এটাই, একাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের লালিত উগ্রবাদের জমানায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তিক দেশের মাটি অনবরত ভিজে চলেছে অগণিত মানুষের রক্তে। ধারাবাহিক পর্যায়ে। যে ক্ষয়িত রক্তে মিলেমিশে একাকার পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের গোবেচারা মানুষের সঙ্গে সাধারণ অজস্র মুসলিম ধর্মাবলম্বীর মিশ্র অসহায়ত্ব। আর ঠিক উল্টো পুরাণের অশ্রু ঝড়ে চলেছে ইজরায়েলের ইচ্ছে-তালুক গাঁজা ভূখণ্ড। সমগ্র পৃথিবী যেখানে মুসলিম টেররিজমের আঘাতে অনবরত দিশেহারা, ঠিক পাল্টা দৃশ্য তখন লাগাগার ঘটে চলেছে ইজরায়েল অধীকৃত ফিলিস্তিনি বসতিতে। দুনিয়ার এই একটি মাত্র জায়গা যেখানে একমাত্র আক্রমনের পিন পয়েন্ট হল ফিলিস্তিনি নামক মুসলিম ধর্মের মানুষ। একচেটিয়া ভাবে। সৌজন্যে বেঞ্জামিন নিতানিয়াহু সরকার। আর ইন্ধনের চাবিকাঠি ইহুদি মৌলবাদের নিরন্তর উস্কানি।

পৃথিবীর নানা প্রান্তে আজ শিখ, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু, ইহুদি সহ একাধিক ধর্মীয় মৌলবাদ মাথা চারা দিয়ে উঠেছে। একথা অনস্বীকার্য। পাশাপাশি, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, মুসলিম মৌলবাদ বর্তমান পৃথিবীর সবচাইতে বড় দুঃচিন্তার কারণে পরিগণিত হয়েছে। দুনিয়ার সর্ববৃহৎ মৌলবাদের আঁতুরঘর হল মুসলিম উগ্রবাদের লালিত নেটওয়ার্ক। অপরদিকে, কি নিদারুন ছবিই না অহরহ আমাদের সামনে ভেসে ওঠে খবরের দুনিয়ায়। কি খবর শুনি? এটাই খবর, মৌলবাদীদের আক্রান্তে পৃথিবী জুড়ে সবচেয়ে বেশি নিশানা হচ্ছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের একটা বিরাট অংশের নরনারী। ওপরওয়ালার কি অদ্ভুত হিসেব! এই দুনিয়ায় সবচাইতে বেশি সংখ্যক মৌলবাদী হলেন মুসলিম উগ্রবাদে বিশ্বাসী। অথচ তাঁদের আক্রমণের লালসার শিকারের সিংহভাগই যে বিশ্বের শান্তিকামী মুসলিম সমাজ। সত্যি এ এক অবাক পরিহাস।

আফগানিস্তানের তালিবানিদের কাছে ও বেঞ্জামিন নিতানিয়াহুর কাছে আমার একটিমাত্র সবিনয়ে নিবেদিত প্রশ্ন আছে, "আফগানিস্তানের মাটিতে দাঁড়িয়ে যে মা সন্তান হারানোর শোকে বিহ্বল আর গাজায় ফিলিস্তিনি কোনও অচেনা মা কপালে হাত দিয়ে নিজের শিশুর মৃত্যুতে মূর্ছা যাচ্ছেন, এই দুই মায়ের বুক ভরা যন্ত্রণার মধ্যে কোনও ফারাক কি আপনারা অনুভব করতে পারছেন? যদি ফারাকের চাবিকাঠি পেয়ে যান, তবে আপন মস্তিতে চালিয়ে যান সন্ত্রাসবাদ দুই বাহু উত্তোলিত করে। আর যদি, প্রভেদ খুঁজতে ব্যর্থ হন, তবে একটিবার নিজেদেরকে জানতে চান আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে, আপনাদের এই রক্তাক্ত কৃতকর্ম পৃথিবীর কোন সৎকর্মটিকে সার্থক করে তুলল সফলতার সঙ্গে ও মানবতার শর্তে? কেন আপনারা বুঝতে পারছেন না, বোমার সপ্লিন্টারের ভেদ করা কলিজার আর্তনাদ এবং বন্দুকের ছড়রায় ঝাঁঝড়া হওয়া হৃদপিন্ডের ধুকধুকানি একইরকমের মর্মান্তিক পরিণতি বয়ে আনে শান্তি প্রিয় সাধারণ মানুষের শরীরে? যা আপনাদের দ্বারা সংঘটিত ঘটলেও বা উনাদের পক্ষ থেকে পরিচালিত হলেও। রক্তপাতের অভিশপ্ত অভিঘাত আসলে যে একই। পরিজনদের স্বজন হারানো হাহুতাশের ব্যঞ্জনাও যে একমাত্রিক। তা আপনাদের বারান্দায় ঘটুক বা আপনার বিপক্ষের আঙিনায় প্রতিফলিত হোক। বিশ্ববাসীর এই আর্তনাদের ভাষা যে এক, এক, এক। সিরিয়া, কেনিয়া, ইরাক, ইরান, কাশ্মীর, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ঘানা, তুর্কি, ইয়েমেন, গাজা, মায়ানমার, উইঘুর, উগান্ডা আর কত জায়গার নাম বলি বলুন তো? শুধু নাম লিখতেই কিন্তু ক্লান্ত হয়ে পড়বো। কি মনে করেন আপনারা নিজেদের, যাঁরা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত এভাবে বিশ্বকে অশান্ত করে চলেছেন আপনাদের স্রেফ মৌলবাদী জিগিরে, ওইসব এলাকার মানুষের আপনাদের প্রতি ঘেন্নার ঘনঘটা কি খুব আলাদা? উত্তর একটাই। না, না, না।

আপনাদের এই আজকের পৈশাচিক উন্মাদনায় পরিপূর্ণ এই মৌলবাদী মহীরুহে আসলে কি জাতীয় ফল ধরবে জানেন অদূর ভবিষ্যতে? সিরিয়ায় আইএসআই ছড়রায় নিকেষ করবে চারজন স্থানীয় বাসিন্দাকে। ইজরায়েলও পাল্টা সপ্লিন্টারে উড়িয়ে দেবে ছয় ফিলিস্তিনি। আবার কাবুলে তালিবান দশ বিদেশি নাগরিকের গলার নলি হয়তো কেটে ফেলবে। অদ্ভুত ভাবে একটু পরেই হয়তো শুনবেন মায়ানমারে সেনার টোটায় ষোলজন রোহিঙ্গা খতম হয়ে গেছে। সারা পৃথিবীকে তো কাঁদাচ্ছেন আপনারাই। হরদম কাঁদিয়ে চলেছেন। আবার ফিরতি মুষলপর্বের হিমশীতল মরণকম্পনে যে আপনারাও কেঁদে চলেছেন অবিরাম।

সবপক্ষকে তাই একটা অনুরোধ করতে পারি কি হাতজোড় করে? অনুরোধটা হল, কালকের বাসি জেহাদি ঠোঁটে আজকের ভোরে সব হিংসা ভুলে একটু প্রাণ খুলে হাসুন না প্রত্যেকে। অচিরেই দেখবেন আপনি সবান্ধবে কি হাসিটাই না হাসছেন। খবরে নিশ্চয়ই শুনতে পাবেন, সারা পৃথিবীটাও আজ হাসছে আপনারই সঙ্গে। 

তাহলে হয়ে যাক একটা জোরসে হাসি, কি বলুন? বিশ্বশান্তির তাগিদে।

(www.theoffnews.com - world terrorism)

দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম:

"রাচায়ে যো আগর তুনে মেহেন্দী সে হাত আপনে/ ও মেহেন্দী নেহি মেরে দিল কা খুন হোগা"। মেহেন্দীর লাল টুকটুকে রঙ নিয়ে সায়রের অভাব নেই, আর মেহেন্দী প্রেমীদের আবেগেরও অন্ত নেই। বাঙালির অন‍্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব ঈদ। আর সেই উৎসবের রঙে  রঙিন হয়ে ওঠে আট থেকে আশি। অতিমারী জীবনের সব রঙ যতই নিঙড়ে নিক, মেহেন্দীর রঙিন নকশায় সেজে ওঠার জন্য কত কচি কাচাদের হাত নিশপিশ করে ওঠে। শিল্পের যাদুতে তা দৃষ্টি নন্দন ওঠে। মুঘলী আমলে ধর্মীয় আবেগে ছড়িয়ে পরা মেহেন্দী আজ তাই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় পেয়ে এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কেউ বলে হেনা, আবার কেউ বলে মেহেদী বা মেহেন্দী। 

গ্রাম বাংলায় নেই বিউটি পার্লার। তাই পাড়ার দিদি, মাসি ও পিসিদের কাছে কচিকাচাদের আব্দার! এটুকু ঝক্কি তো তাদের পোহাতেই হবে! 

ঈদের আগের দিন তাই ব‍্যস্ততার সীমা নেই মুরারইয়ের রাজগ্রাম হাসপাতাল রোডের শারমিন মমতার বাড়িতে। পাড়ার সুহানা খাতুন, সুমি খাতুন ও দিয়া খাতুনরা ভিড় জমিয়েছে শারমিন মমতার কাছে। এই প্রস্তুতির আনন্দই আলাদা। 

শারমিন মমতা অনেকের মতোই নিজের আম্মু ফেরদৌসী বেগমের কাছে মেহেন্দী পরানো শিখেছে। তাঁর কাছেই শোনা আগে সবুজ মেহেন্দী পাতার মিস্টি সুবাসিত টকটকে লাল নির্যাসে চারধার ম'ম করতো। এখন পাতা বাঁটতে হয় না। বড় বড় টিউব পাওয়া যায়। ক‍্যাটালগ দেখে পছন্দ সই বিভিন্ন ডিজাইনে বিনা পারিশ্রমিকে পাড়ার হাত সাজিয়ে দেয় মেহেদী দিদি শারমিন মমতা। মেহেদী লাগানোর পর টিপস দিয়ে বলছে, হাত ঘষাঘষি করবে না। শুকিয়ে গেলে আপনি ঝরে যাবে। কালকে ধুয়ে নেবে। বা হালকা তুলোর বলে চিনি মেশানো লেবুর রস বুলিয়ে দিলেই হবে। 

শারমিন নলহাটি সুফিয়া কলেজের বি এ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তার কাছেই পাড়ার কচিকাচা থেকে বড়োরা ভিড় করে। শারমিনরা তিন ভাই বোন। বড়দা রিয়াজউদ্দিন কলকাতা হাইকোর্টে চাকরি করে। তার যমজ ভাই তৌশিফ আহমেদ বিধান চন্দ্র কৃষি বিদ‍্যালয়ে পড়াশোনা করে। বাবা আব্দুস শুকুর সেখ রেডিও মেকানিক। মা ফেরদৌসী বেগম একজন আশা কর্মী। পড়াশোনা তার নেশা। পাশাপাশি অন‍্যের হাতে মেহেদীর নকশা আঁকতে তার খুব ভালো লাগে। সুহানারা জানায়, 'গতবার ঈদেও সেরকম আনন্দ হয়নি।' এবারও অবস্থার হেরফের হয়নি। তবে, বাচ্চারা আর কোনও প্রবোধ শুনতে চাইছে না। কোভিড বিধি মেনেই বাড়িতে থাকা। শুধু মেহেন্দী পরার আনন্দটুকু একেবারে বেরঙিন হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে তাদের।

(www.theoffnews.com - Eid mehendi)

(www.theoffnews.com - Benjamin Netanyahu Joe Biden America Israel)
 

দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম:

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তাঁর ‘তৈল’-প্রবন্ধের শেষ বাক্যে লেখেন: ‘মনে রাখা উচিত—এক তৈলে চাকা ঘোরে, আর-তৈলে মন ফেরে।’ উপাচার্য সম্ভবত কর্তাদের মন ফেরাতে চেয়েছেন। নইলে এরকম হয়? যে,'পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির হারের কারন' খুঁজতে অনলাইনে আলোচনা সভা করতে বসবেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।  আগামী ১৮ মে এই আলোচনা সভা হবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তবে রবীন্দ্রনাথ স্মৃতি বিজড়িত এরকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিভাবে রাজনৈতিক আলোচনা হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রবীন আশ্রমিক থেকে শিক্ষা মহল। অধ্যাপকদের একাংশের মতে, রাষ্ট্র বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক ইস‍্যু আসতে পারে। তাবলে কোন রাজনৈতিক দল বিধানসভা নির্বাচনে কেন ব‍্যর্থ হলো এর কারণ অনুসন্ধান তো রাজনৈতিক দল করবে। বিশ্বভারতী কেন? যদিও স্বয়ং উপাচার্য নিজেই নরেন্দ্র মোদির উত্থান নিয়ে বই লেখেন। এই লেকচার সিরিজের বিষয় বাছা নিয়ে উপাচার্যের নিজ বৃত্তের মধ‍্যে  থাকা অধ‍্যাপকরা উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, উনাকে বললে, কিছু শোনেন না।  রাজনীতি বিষয় হলে, একদলের জেতা অন্যদলের পরাজয়, উভয়ই আলোচনার বিষয় হতে পারতো। 

বিশ্বভারতীর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যাচ্ছে আগামী ১৮ মে বিশ্বভারতীর উদ্যোগে ৩৫ তম লেকচার সিরিজের আয়োজন করা হয়েছে। ওই দিন বিকাল চারটে নাগাদ জুম অ্যাপ এর মাধ্যমে লেকচার সিরিজে বক্তৃতা করবেন ভারত সরকারের নীতি আয়োগের জয়েন্ট অ্যাডভাইজার সঞ্জয় কুমার। তিনি এর আগে দিল্লির সেন্টার ফর স্টাডি অফ ডেভলপিং সোসাইটি তথা সিএসডিএ এর প্রাক্তন অধিকর্তা ছিলেন। জানা গেছে ওই লেকচার সিরিজে পৌরহিত্য করবেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী স্বয়ং।

এর আগেও একাধিক বিষয়ে বিশ্বভারতী লেকচার সিরিজ করে বিতর্কে জড়িয়েছে । সিএএ নিয়ে বক্তৃতার জন্য সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তকে আমন্ত্রণ জানাতেই বিপত্তি বাঁধে। ছাত্র আন্দোলনের জেরে দীর্ঘ পাঁচ ঘন্টা আটক থাকতে হয়। কিন্তু তাতেও শিক্ষা নেননি তিনি। কারন এবারও লেকচার সিরিজের বিষয় প্রকাশ্য আসতেই বিতর্ক চরম আকার নিয়েছে। কারন এবার বিশ্বভারতী জারি করা বিজ্ঞপ্তির বিষয় "পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির ব‍্যর্থ হলো কেন?" এই বিষয় প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। কারন হিসেবে সর্বস্তরের অভিমত একটি রাজনৈতিক বিষয় কেন বিশ্বভারতীর মত রবীন্দ্র প্রতিষ্ঠানে আলোচনার বিষয় হবে। এই ইস্যুতে বিশ্বভারতীর ঘরে বাইরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বিশ্বভারতীর সর্বোচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সমিতি - 'কর্ম সমিতি' আচার্য তথা দেশের প্রধানমন্ত্রীর মনোনিত সদস্য দুলাল চন্দ্র ঘোষ তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সংবাদ মাধ‍্যমকে বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় এটা জানি। তবে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের হারের কারন খোঁজার জন্য বিশ্বভারতীর মত প্রতিষ্ঠানের আলোচনার কি প্রয়োজন আছে? বিশ্বভারতী তো কোন পার্টি নয়।" তিনি এও প্রশ্ন তুলে দেন যে, একজন নীতি আয়োগ এর পরামর্শ দাতা এই বিষয়ে কি বা বলবেন? তা বলার বিষয়টি কি আদৌ কেন্দ্রীয় সরকার জানেন।" তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, "এমন রাজনৈতিক বিষয়ের উপর আলোচনা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অনুমতি দিয়েছে কিনা সন্দেহ আছে।" 

বিশ্বভারতীর অন্দরে এই নিয়ে তীব্র বিতর্কের মাঝেই শান্তিনিকেতনের প্রবীন আশ্রমিক সুপ্রিম ঠাকুর সংবাদ মাধ্যমকে বিশ্বভারতীতে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, "এটা খুবই অন্যায় কাজ। বিশ্বভারতীতে কোন দিনই রাজনীতি হতো না। গুরুদেব কোন দিনই বিশ্বভারতীর সঙ্গে রাজনীতিকে যুক্ত করেননি। কিন্তু এখন বিশ্বভারতীর রন্ধ্রে রন্ধ্রে রাজনীতি ঢুকেছে। রবীন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠানকে এভাবে নষ্ট করে দিলে খুবই কষ্ট হয়।" 

প্রসঙ্গত বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে কেন্দ্র করে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোট নজর কেড়েছিল। কারন শাসক দল, বিজেপি উভয়েইকে কত বেশি উপাচার্য ঘনিষ্ঠ তা মরিযা ভাবে প্রমান করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। বিজেপির প্রার্থী অনির্বাণ গাঙ্গুলী রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে তোপ দেগে দাবি করেছিল, বর্তমান উপাচার্য বিশ্বভারতীর যোগ্য নয়'। ওই সময়েই এদিকে উপাচার্যকে দিল্লি দুইবার তলব করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক। কারন তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ জমা পরেছে। শুধু তাই নয় খোদ বিজেপির একাংশ এই নিয়ে সরব হয। সূত্রের খবর ইতিমধ্যেই দিল্লিতে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অধুনা নির্বাচনে তার প্রভাব পরে। বিগত নির্বাচনে বোলপুর শহরে দশ হাজারের মতো ভোটে শাসক দল পিছিয়ে পড়ে। এবার সেই মার্জিন চার হাজার মতো কমে। বিশ্বভারতীর অধ্যাপকদের একাংশের মতে আসলে উপাচার্য লেকচার সিরিজে এমন বিষয় বেছে নিয়ে দিল্লির শাসক দলের কাছে প্রমাণ করতে চেয়েছেন, 'আমি তোমাদেরই লোক।' 

রবীন্দ্রনাথের নামের প্রতিষ্ঠানে এহেন বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে সোচ্চার জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, "ও একটা পাগল সেটা আবার প্রমানিত। পাগল বলেই এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা সভা করছে। ওর বিজেপি করা ঘুচিয়ে দিতাম যদি করোনা প্রকোপ এত না বাড়ত।"

তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, চরম বিতর্কের জেরে প্রস্তাবিত উক্ত লেকচার সিরিজ বাতিল করা হয়েছে অনিবার্য কারণে।

(www.theoffnews.com - Visva Bharati University)

সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

আমি রূপসী বাংলার সাংবাদিক হয়ে কুর্ণিশ জানাই সোনার বাংলার এক প্রতিবাদী চরিত্রকে। যিনি প্রকৃতই প্রতিবাদের এক অনন্য নাম "আয়েশা সিদ্দিকা"।

আসলে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে আজ বাংলাদেশ রীতিমতো ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতিবাদে সোচ্চার। হোক প্রতিবাদ দিকে দিকে এই মন্ত্রে প্রকৃতই মুখর উদারচেতা বাংলাদেশীরা। তারা যে অনেকটা সুসংবদ্ধ। এবং এককাট্টাও। তাই হয়তো এই ইস্যুতে খানিকটা ব্যাকফুটে স্থানীয় মৌলবাদী জেহাদিরা। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের গতিশীলতার পক্ষে এই মাইলফলক অবশ্যই এক শুভ সূচক।

আলোচনার গোড়ায় পৌঁছাতে গেলে গত মাতৃদিবসে মনোনিবেশ করতেই হয়। সেদিন বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন। ফেসবুকের। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি রয়েছেন তাঁর মায়ের সঙ্গে। আর উনার মায়ের সিঁথিতে রয়েছে সিঁদুর।

ব্যাস এই ছবিতে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়় যথারীতি একদল উগ্র মৌলবাদীদের অভ্যন্তরে। ওই পোস্ট ঘিরে শুরু হয় জেহাদি ভাষা। গালাগালি থেকে অভিনেতার ধর্ম নিয়ে কম টানাটানি হয়নি মৌলবাদীদের মন্তব্যে। এমনকি সিঁদুর কেন অভিনেতার মা পড়েছেন তা নিয়েও চলেছে চুড়ান্ত নোংরামি।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট করে জানতে চেয়ে আজ ফোনে কথা বলেছিলাম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস'এর বাংলাদেশীয় সাংবাদিক জুলফিকার আলি মানিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, "দাদা এটা কিন্তু পুরোটাই ফেসবুক পোস্ট কেন্দ্রিক ভার্চুয়াল বিতর্ক। আমি চঞ্চলবাবুকে চিনি। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা। উনার মায়ের সিঁথিতে সিঁদুর দেওয়া ফটো দেখে কেউ কেউ ধর্মীয় পর্যায়ে খারাপ মন্তব্য করেছেন। এমনকি গালমন্দও করেছেন শুনেছি। এটা সত্যি নিন্দনীয়। এসব মোটেও কাম্য নয়।"

কানাডা থেকে প্রকাশিত একটি ওয়েবনিউজের এডিটর তথা বাংলাদেশের লেখিকা, সাংবাদিক ও নাট্য পরিচালক ইরাণী বিশ্বাসও প্রায় একই কথা বলেন। ফোন সংলাপে তিনি জানান, "একজন বিখ্যাত অভিনেতা যদি এরকম মৌলবাদের স্বীকার হন তাহলে সাধারণ মানুষের পরিণতি খুব সহজেই অনুমেয় বাংলাদেশে। এসব অমানবিকতা মানা যায় না। আমরা আমাদের পরিধির মধ্যে এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছি। সিঁদুর কে পড়বেন আর কে পড়বেন না, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাই নিয়ে ধর্মীয় জিগিরবাজী করা অসভ্যতার নামান্তর।"

হ্যাঁ, দ্য অফনিউজ'এর বাংলাদেশ এডিসনের কাজকর্ম সচল রাখতে গিয়ে যেটুকু নিয়মিত খবর পাচ্ছি, তাতে কিন্তু চঞ্চলবাবুর ছবির সমর্থনে ও মৌলবাদীদের কুরুচিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একটা বৃহত্তর অংশের সাধারণ সুশীল সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। এখানে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু নির্বিশেষে সমস্ত উদারচেতা মানুষ তীব্র ভাবে গলা মিলিয়েছেন।

তবু গতকাল এহেন একটা প্রতিবাদী ফেসবুক পোস্ট আমার অন্তরাত্মাকে নাড়িয়ে দিয়েছে অবধারিত ভাবে। প্রতিবাদের ভাষা এত সুতীব্র হতে পারে ধর্মে গন্ডি ছাড়িয়ে তা আমার কল্পনার অতীত। আমার বাংলাদেশী বন্ধু আয়েশা সিদ্দিকা। তিনি বাস্তবিকই প্রতিবাদী। তিনি তিস্তা জলবন্টন প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধাচারণ করেন প্রকাশ্যে। আবার ধর্মনির্ভর রাজনৈতিকতার কারণে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও চরম সমালোচক। অন্যদিকে এই নরেন্দ মোদীর বাংলাদেশ সফরকালে সেখানকার মৌলবাদীদের বাধাদানের চেষ্টাকে তুমুল তুলোধুনা করেন এই প্রতিবাদী নারীই। আবার তিনি তাঁর দেশের সরকারের সাম্প্রতিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কি মুখরই না হয়েছেন। অথচ এই তিনিই ইন্দিরা গান্ধীর ভারত থেকে বর্তমান ভারতের নানা ক্ষেত্রের অকুণ্ঠ সমর্থক। তাঁর লেখনিতে বারবার ভেসে ওকে বঙ্গবন্ধুর জয়গান থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অকৃত্রিম সমর্থন। আমি যতটুকু চিনেছি, বাস্তবিকই আয়েশা সিদ্দিকা হল একজন অন্ধ ধর্ম ও কানাগলির রাজনীতির উর্ধ্বে একজন সাচ্চা মানবিক নারী।

গতকালের তাঁর ফেসবুক ওয়ালে নিজের একটা প্রতিবাদী ছবি পোস্ট করেছিলেন। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তিনি নিজের সিঁথিতে সিঁদুর লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। আর ছবির ওপরের ক্যাপসনে তিনি লিখেছেন, "মা দিবসে সিঁদুর পরা মায়ের সাথে ছবি দেওয়ার পর চঞ্চল চৌধুরীকে ও তার মাকে যেভাবে অপমান করল আমাদের দেশের মানুষের মত দেখতে ছাগুগুলি তার প্রতিবাদে এ ছবি। যা এবার কাঁঠালপাতা খা।"

মুসলিম সম্প্রদায়ের নারী হয়ে তিনি সিঁদুর নিজের সিঁথিতে লাগিয়ে ঠিক না বেঠিক করেছেন এসব বিতর্ক আজকের ডিজিটাল দুনিয়ায় অর্থহীন। মঙ্গলগ্রহ বিজয়কারী যুগের একজন মানুষ হয়ে এটা অবশ্যই বলবো, "তাঁর ব্যক্তি ভাবনার পছন্দকে ধর্মের উপরে উঠে আমি অকুণ্ঠ চিত্তে সমর্থন করি। উনার ব্যক্তি স্বাধীনতা এই পৃথিবীরই অধিকার।" কিন্তু মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আয়েশা সিদ্দিকার এহেন প্রকাশ্য প্রতিবাদ করতে যে কতখানি বুকের পাটা দরকার হয়েছে তা কিন্তু বিলক্ষণ অনুমেয়। উল্টে 'যা এবার কাঁঠালপাতা খা' বলতে 'ছাগু' বিশেষণকারী মৌলবাদীদেরকেই চ্যালেঞ্জ তিনি করে বসলেন। তাঁর পোস্ট করা ছবির শরীরি ভাষায় আসলে বলতে তিনি বলতে চেয়েছেন, "আমি আমার কাজ করে দেখালাম এই প্রতিবাদের মাধ্যমে। এবার তোরা যা পারিস করে নে যা ছাগলের দল।" ভাবা যায় বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে একজন মুসলিম মহিলির এমনতর চরমতম প্রতিবাদ! আমি তাই ওই পোস্টে তাঁকে উদ্দেশ্য করেই গতকালই একটি মন্তব্য করেছিলাম। লিখেছিলাম, "আপনার উদারতার যেন একটা গোটা আকাশ। সমস্ত ধর্মের মৌলবাদের বিরুদ্ধে আপনার এই প্রতিকী লড়াই হল একটা থাপ্পর। আপনার পায়ে আমার কুর্ণিশ রইল। বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে এহেন প্রতিবাদ যে ভয়ঙ্কর কঠিন তা আমি ভারতে থেকেও অনুমান করতে পারি। মানুষ যে ধর্মের উর্ধ্বে উঠে মানবতাকে আগে স্থান দিতে পারে সগর্বে, আপনি যে তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। সেলাম তুঝে সেলাম।"

তবে উনার পোস্টে ছোট্ট একটি বাক্যের মধ্যে দিয়ে সেরা মন্তব্যটি হয়তো করেছেন আমারই এক সোনার বাংলার বাসিন্দা বন্ধু মলিনা রায়়। তাঁর মন্তব্য, "এভাবেও প্রতিবাদ করা যায়।" শতকরা একশো ভাগ সঠিক বলেছেন মলিনা। প্রতিবাদ যে এমনই হওয়া উচিৎ। যেখানে ধর্মের গন্ডি থাকবে না। যেখানে প্রতিবাদী নিজেই হয়ে ওঠেন মৃত্যুঞ্জয়। যেখানে প্রতিবাদ মানে নিছক ফোকাস টানা কপিবুক বুলি নয়, সেখানে প্রতিবাদ মানে মৌলবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজের ব্যতিক্রমী অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করা। সত্যি তো, এভাবেও প্রতিবাদ করা যায়।

ফের বারবার বলে নিজেকে ধন্য করি, "আয়েশা সিদ্দিকা-সেলাম তুঝে সেলাম।"

(www.theoffnews.com - Bangladesh Chanchal Chowdhury film actor and mother sindur)

পলাশ মুখোপাধ্যায়, সিনিয়র জার্নালিস্ট, কলকাতা:

মন খুব খারাপ, রাজামশাই বসে আছেন বিষন্ন চিত্তে। আশেপাশে তাকে স্তোক দেওয়ার জন্য জীবনপণ করেছেন মন্ত্রী সান্ত্রী চাটুকারের দল। কাজ হচ্ছে না। রাজার তাতেও মন খারাপ। এত কিছু করা দেশের ভালর জন্য তাতেও প্রজাদের মন পাওয়া ভার। কি অকৃতজ্ঞ মানুষের দল তার দেশে! সেই ছোট থেকে শুধু মানুষের কথাই ভেবে এসেছেন, যা কিছু করেছেন মানুষের ভালর জন্যই করেছেন, তাতেও কিনা মানুষের মন ওঠে না! আর ওদিকে হয়েছে কিছু খুচরো বিরোধী দল, তারা শুধু নিন্দে করেই গেল। এত ভাল ভাল কাজ তাদের আমলে না হয়েছে, না হবে। আরে বাবা, এসব করা কাদের জন্য? দেশের মানুষের জন্যই তো। হুহ্ এসব ভাল ভাল ব্যাপার কেউ বুঝলে তো… রাজার তাই মন ভাল নেই, মন ভাল নেই, মন ভাল নেই। 

ছোট থেকে চা বিক্রি করা, পরে সন্ন্যাস নিয়ে নেওয়ার জন্য সেভাবে ঘোরা ফেরা হয়নি। রাজা আমাদের একটু বেড়াতে ভালইবাসেন। তাই ২০১৪ থেকে এখনও পর্যন্ত ৬০ বার বিদেশ যাত্রা করেছেন তিনি। না না বেড়াতে যাননি, আসলে গিয়েছিলেন বিদেশী লগ্নী আনতে, দেশের কল্যাণে নানা ব্যবস্থা করতে। কিন্তু ওই যে বললাম কিছু মূর্খ বিরোধী লোক, এসব ভাল কাজের মূল্য না দিয়ে বলছে তিনি নাকি শুধুই বিদেশ বেড়াতে যান। তাদের দাবি এতে নাকি ব্যাপক খরচ হয়েছে। কি এমন খরচ? বিমান মেনটেন্যান্সে খরচ হয়েছে সতেরোশো কোটি টাকা৷ চ্যাটার্ড ফ্লাইটের এয়ারক্রাফটের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ছশো কোটি টাকা৷ হটলাইনের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় দশ কোটি টাকা৷ শেষ গিয়েছেন ২০২১ এর মার্চে বাংলাদেশে। যদিও তার বিল এখনও প্রধানমন্ত্রী, থুড়ি রাজার দফতরে এসে পৌছয়নি।  তা এটা কি কোনও খরচ হল? সাকুল্যে তেইশশো থেকে চব্বিশশো কোটি টাকা। তাও তো করোনার জন্য গত বছর সেভাবে কোথাও যেতেই পারেননি, তাতে কত মন খারাপ। তা না… শুধু নিন্দে মন্দ। রাজার তাই মন ভাল নেই, মন ভাল নেই, মন ভাল নেই। 

আমেরিকার স্ট্যাচু অফ লিবার্টি আছে। নানান হলিউড সিনেমায় কত বড় করে দেখায়। আমেরিকার শান। আমাদের এমন কিছুই ছিল না এতদিন। রাজা ঠিক দেশবাসীর দুঃখ বুঝেছেন। তাই তো তার চেয়েও বড় স্ট্যাচু তৈরি করে চমকে দিয়েছেন বিশ্বকে। স্ট্যাচু অফ ইউনিটি এখন আমাদের শান। এতেও অবশ্য নিন্দুকদের শান্তি নেই, তারা বলে বেড়াচ্ছে এতে নাকি তিন হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আরে বাবা, ওই সামান্য টাকার বিনিময়ে দেশটা যে কোথায় উঠে গেল তা যদি বুঝত মূর্খের দলগুলি! রাজার তাই মন ভাল নেই, মন ভাল নেই, মন ভাল নেই।

আগের রাজাদের কোনও পছন্দই ছিল না। একটা ভাঙাচোরা বিচ্ছিরি প্লেনে চেপে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতো। দেশের নাম ডুবিয়ে ছেড়েছে। রাজার কিন্তু এদিকে খুব নজর, কোনও মতেই দেশের নাম ডোবানো চলবে না। তাই তো শুধুমাত্র দেশের ভালর কথা ভেবেই আমেরিকা থেকে এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান প্লেন কিনে আনা হয়েছে। দাম বেশি পড়েনি, মাত্র সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। ওই দ্যাখো, অর্বাচিনের দল এতেও ভ্রূ কোঁচকায়। আরে বাবা টাকা আগে, নাকি দেশের সম্মান, রাজার নিরাপত্তা আগে। এমন প্লেন আগে কেউ দেখেছে নাকি। হু হু বাবা, হলিউডের সিনেমায় দেখা যেত, এবার, দেশের মাটিতে দেখা যাবে। কেউ বোঝে না, রাজার তাই মন ভাল নেই, মন ভাল নেই, মন ভাল নেই। 

আগেই বললাম আগের রাজাদের পছন্দই ছিল না। একটা মলিন, গোল মত বিচ্ছিরি বাড়িতে বসেই দেশ চালাত তারা। এভাবে হয় নাকি? আমাদের রাজার কিন্তু এসব দিকে খুব নজর। তাই তো তিনি নতুন প্রাসাদ এবং প্রশাসন কক্ষ বানাতে দিয়েছেন। নামও দিয়েছেন গাল ভরা, সেন্ট্রাল ভিস্তা। আহা কি সুন্দর নামটা শুনেই মনে হয় সেন্ট্রালি ভেস্তে যাওয়া কোনও প্রকল্প বুঝি। তা এই প্রাসাদের খরচ মোটে কুড়ি হাজার কোটি টাকা। কিন্তু একদল লোকের তো শোনা ইস্তক শান্তি নেই। কেউ কেউ আবার এই টাকা করোনার টিকা দেওয়ার জন্য খরচ করতে বলছে। এ আবার কি কথা? এই সব ঐতিহাসিক কাজে এমন কেউ বলে নাকি। তাজমহলের টাকায় যদি হুপিং কাশির চিকিৎসা করা হত, তাহলে কি দেশবাসী সপ্তম আশ্চর্যের একটি পেত? বোঝে না সে বোঝে না… সেন্ট্রাল ভিস্তা হলে দেশটা যে কোথায় চলে যাবে এক লাফে তা বোঝার মুরোদটুকুই নেই এদের। রাজার তাই মন ভাল নেই, মন ভাল নেই, মন ভাল নেই। 

রাজা এমনিতে ফকির মানুষ। না না, রানি থাকলেও তিনি প্রথম থেকেই দুয়োরানি। তাই খরচ পাতি নেই বললেই চলে। কিন্তু তাতেও কি শান্তি আছে? রাজার পোষাক নিয়ে তো নানান রটনা। কত লোকে কত কিছু পরে, কিন্তু তিনি সামান্য দশ লক্ষ টাকার স্যুট পরলেই ব্যাস সকলের গাত্রদাহ শুরু। কলম নিয়ে রাজার একটু শৌখিনতা আছে বটে। তা সে সব শিক্ষিত মানুষদেরই থাকে। রাজা সাধারণত মন্টব্ল্যাঙ্ক পেন ব্যবহার করেন। রাজার কাছে ওই পেনের একটা সম্ভার আছে যার মধ্যে ষাট হাজার থেকে শুরু করে এক লক্ষ তিরিশ হাজার টাকা দামেরও কলম রয়েছে। কিন্তু এ নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়ে না ওরা… তাই তো রাজার মন ভাল নেই, মন ভাল নেই, মন ভাল নেই। 

 রাজার নিরাপত্তার খরচেও রয়েছে মজার হিসেব। এর আগে চার জনের এসপিজি নিরাপত্তার জন্য যা লাগত রাজার একার জন্যই লাগে তার থেকে বেশি। বছর খানেক আগেও রাজার সঙ্গেই এসপিজি নিরাপত্তা পেতেন আগের রাজবাড়ির সদস্যরা, সনিয়া গাঁধী এবং রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গাঁধী। এদের চার জনের জন্য এসপিজি নিরাপত্তা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছিল ৫৪০.১৬ কোটি টাকা। গত বছরই সংসদে আইন সংশোধন করে তুলে নেওয়া হয়েছে রাহুল সোনিয়া এবং প্রিয়াঙ্কার এসপিজি নিরাপত্তা। এখন এসপিজি নিরাপত্তা পান শুধুমাত্র রাজামশাই। এ বার এক জনের জন্যই সেই বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ৫৯২.৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ চার জনের জন্য যা বরাদ্দ ছিল, এক জনের জন্য তার চেয়ে বরাদ্দ বাড়িয়ে দেওয়া হল ১০ শতাংশ বেশি! ২০১৯ সালে বাজেটে বরাদ্দ ৫৪০ কোটির হিসেব ধরলে মাথাপিছু খরচ দাঁড়ায় ১৩৫ কোটি। সেটা মাথায় রাখলে শুধু রাজার জন্যই বাজেটে বরাদ্দ বেড়েছে ৩৪০ শতাংশ! কিন্তু যে দেশের জন্য নাওয়া খাওয়া ভুলে প্রাণপাত করছেন, সেই রাজার নিরাপত্তার মত জরুরী বিষয়েও মানুষের এই হিসেব চাওয়াটা খুব মর্মান্তিক। খুব স্বাভাবিক ভাবেই, রাজার তাই মন ভাল নেই, মন ভাল নেই, মন ভাল নেই। 

দেশ এমন একটা খাঁটি হিরে পেয়েও তার মর্ম বুঝল না। এই রাজ্যকে সোনার বাংলা করে দিতে চাইলেও মূর্খের দল তার গুরুত্বই দিল না। গতবার তো থালা বাজিয়ে, প্রদীপ জ্বালিয়ে করোনাকে দেশ থেকে তাড়িয়েই দিয়েছিলেন। বিরোধীরা চক্রান্ত করে ফের এদেশে করোনাকে ডেকে এনেছে। দেশ তো বটেই বিদেশের সংবাদমাধ্যমগুলিও তার এহেন কৃতিত্বকে অপদার্থতা বলে তোপ দাগছে। নাহ, আর ভাল্লাগে না। তাই তো রাজার, মন ভাল নেই, মন ভাল নেই মন ভাল নেই।

(www.theoffnews.com - Indian West Bengal politics Narendra Modi)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

বর্তমান সময়ে মুখরোচক সব খাবার সহজলভ্য হচ্ছে। যা সুস্বাদু হলেও মিলছে না সঠিক পুষ্টি। হাতের কাছে থাকা নানা প্যাকেটজাত খাবার ও নিয়ন্ত্রণহীন জীবনযাপন আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা দুর্বল করে তুলছে। আগে এই সমস্যা বেশিরভাগ বয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা দিলেও বর্তমানে অল্প বয়সেও এমন সমস্যা দেখা দিচ্ছে অনেকের ক্ষেত্রে।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে না চললে তা আমাদের মনে রাখার ক্ষমতাকে অনেকটা কমিয়ে দেয়। তাই সবার আগে সচেতন হওয়া জরুরি। চাইলেই সব খাবার খাওয়া যাবে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন খাবারগুলো খেলে তা আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাকে কমিয়ে স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে দিতে পারে-

অতিরিক্ত পনির খাওয়া

পনিরের অনেক উপকারিতা রয়েছে একথা সত্যি। তবে এই পনির প্রতিদিন না খেয়ে মাঝেমাঝে খাওয়া ভালো। কারণ পনিরে রয়েছে উচ্চ প্রোটিন। এটি যদি খুব বেশি খান তাহলে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সাদা রঙের কিছু খাবার

সাদা রঙের সব খাবার অপকারী নয়। তবে সাদা রঙের কিছু নির্দিষ্ট খাবার রয়েছে যেগুলো খেলে তা মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। সাদা পাউরুটি, চিনি, পাস্তা ইত্যাদি খাবারে থাকে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট। এসব খাবার আমাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ খুব দ্রুত বাড়িয়ে তোলে। ফলে দেখা দিতে পারে ভুলে যাওয়া বা আলঝাইমারের মতো অসুখ। তাই সুস্থ থাকতে এসব খাবার এড়িয়ে চলুন।

প্রসেসড মাংস

প্যাকেটবন্দি প্রসেসড মাংস আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এতে থাকে প্রচুর ট্রান্স ফ্যাট। আর এই ফ্যাট আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। তাই স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে চাইলে এ ধরনের মাংস খাবার তালিকা থেকে বাদ দিন।

কৃত্রিম মিষ্টিজাত খাবার

সব মিষ্টি কি উপকারী? না, কৃত্রিম মিষ্টিজাত খাবার মোটেও উপকারী নয়। খাবারের তালিকায় কৃত্রিম মিষ্টিজাত খাবার থাকলে তা মাথা যন্ত্রণা, অবসাদ, ওজন কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা ও স্মৃতিভ্রমের মতো সমস্যা ডেকে আনতে পারে। তাই এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলুন।

প্রসেসড চিজ

পিজ্জা বলুন কিংবা বার্গার- চিজ ছাড়া সুস্বাদু হয় না। কিন্তু যে চিজ এত মজা করে খাচ্ছেন তা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। এমনিতে চিজে থাকে প্রচুর ক্যালশিয়াম ও প্রোটিন। কিন্তু প্রসেসড চিজে থাকে অনেক বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এটি আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

(www.theoffnews.com - Bangladesh food brain effected)