Articles by "অরণীর আত্মকথা"
Showing posts with label অরণীর আত্মকথা. Show all posts

দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম: 

প্রচার সর্বস্ব যুগে ভারত খ্যাত হওয়ার হাজার ফিকির ও ভঙ্গি। এমন রেকর্ড কিসে না হয়! কেউ দীর্ঘ কেশ রেখে দেশ বিখ্যাত, তো কেউ বা ঘুমিয়ে রেকর্ড করেন। তবে, আঙুল ফুটিয়ে দেশীয় রেকর্ড গড়া খুব একটা শোনা যায় না। আমরা সকলেই জীবনের কোনও না কোনও সময় আঙুল ফুটিয়েছি। রাত্রে আঙুল ফোটালে ঠাকুমারা বলতেন আঙুলে ফু দে। তারপর আর আঙুল ফোটাতে মানা করতেন।  

সেই আঙুল ফুটিয়ে এক ভার্সিটি গবেষিকা বিশ্ব রেকর্ড করায় তাজ্জব বনে গেছেন অনেকেই। ১ মিনিটে পায়ের বুড়ো আঙ্গুল ১১৬ বার ফোটাতে পারায় 'ইণ্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড' -এ নাম উঠল চৈতালী গড়াইয়ের৷ গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলায় গবেষিকা ছাত্রী সে। বাড়ি বীরভূমে৷ ছোট থেকেই তাঁর এই অভিনব বিষয়টি নজর কেড়েছিল সহপাঠী থেকে শুরু করে পরিজনের৷ তবে চৈতালী জানায়, সে কখনও ভাবেনি এটার জন্য কোনও রেকর্ড হতে পারে৷ মজার ছলে ভিডিও করে ইণ্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডের সাইটে পাঠিয়ে দেয় সে৷ আর সেটি মনোনীতও হয়ে যায়৷ ইতিমধ্যে চৈতালীকে একটি স্মারক, শংসাপত্র, কলম, আইকার্ড, মেডেল প্রভৃতি পাঠিয়েছে 'ইণ্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড'।

বীরভূমের সাঁইথিয়া থানার বাসাসপুরের বনগ্রামের বাসিন্দা চৈতালী গড়াই। বিশ্বভারতী থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হয়েছে সে৷ বর্তমানে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নিয়ে গবেষণা করছেন। বোলপুরে দিদি বর্ণালী গড়াইয়ের বাড়ি থেকেই পড়াশোনা করেন৷ চৈতালীর কাছ থেকে ও তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সে তাঁর বাম পায়ের বুড়ো আঙ্গুলটি নিজের ইচ্ছে মত ফুটাতে পারেন৷ মিনিটে বেশ কয়েকবার এই কাজ করায় রীতিমতো পারদর্শী চৈতালী। যা আর পাঁচজন মানুষ সচারাচর পারেন না৷ তাঁর এই বিষয়টি নিয়ে প্রায় সময় মজা, চর্চা, উপভোগ করত সহপাঠীরা ও পরিজন৷ হঠাৎ মজার ছলে চৈতালী ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সামনে স্টপ ওয়াচ রেখে একটি ভিডিও তৈরি করেন৷ এই ভিডিও তে দেখা যায় সে মাত্র ১ মিনিট ১১৬ বার নিজের বাম পায়ের বুড়ো আঙ্গুলটি ফুটাতে পারছেন৷ এই ভিডিও চৈতালী ইণ্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড এর সাইটে নিজের বিবরণ দিয়ে পাঠিয়ে দেন৷ কিন্তু, কেউ কল্পনাও করেননি যে এই বিষয়টি রেকর্ড হতে পারে৷ সমস্ত দিক বিবেচনা করে সদ্য, 'ইণ্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড' তাঁর এই বিষয়টি নথিভুক্ত করেছে। যা দেশের মধ্যে একটি অভিনব রেকর্ড৷ বাংলার ছাত্রীকে ১৬ জানুয়ারি 'ইণ্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড' -এর তরফ থেকে এই বিষয়ে স্বীকৃতি দেয়। অর্থাৎ, নিজের পায়ের বুড়ো আঙ্গুলটি নিজের ইচ্ছানুসারে ফুটিয়ে অনন্য রেকর্ড গড়লেন চৈতালী৷ 

চৈতালী বলেন, "আমি কল্পনাও করিনি এটা কোনও রেকর্ড হতে পারে৷ আমি ছোট থেকেই ইচ্ছামত পায়ের আঙ্গুলটি ফুটাতে পারি৷ সবাই মজা পেত এটি দেখে৷ তবে স্যোসাল সাইট ঘাটতে ঘাটতে আমি জানতে পারি বিভিন্ন অভিনব বিষয়ে রেকর্ড হয়৷ আমি মজার ছলেই একটা ভিডিও বানিয়ে ওদের সাইটে আপলোড করে দিই৷ তারপরেই দেখলাম বিষয়টি ইণ্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডে নথিভুক্ত হলো৷ আমাকে যাবতীয় মেডেল, সার্টিফিকেট পাঠিয়েছে। খুব আনন্দ হচ্ছে। বাড়ির সকলে, বন্ধুরাও খুব আনন্দিত।"

চৈতালীর দিদি বর্ণালী গড়াই বলেন, "বোনের এই বিষয় আমরা সবাই ওর ছোট অবস্থা থেকেই জানি৷ ও নিজের পড়তে পড়তে নিজের পায়ের আঙ্গুল ফুটাতে থাকতো৷ তারপর একদিন সেটাকে ভিডিও রেকর্ড করে পাঠায়৷ ওর এই বিষয়টি ইণ্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড হয়৷ আমরাও ভাবিনি এটি একটা রেকর্ড হতে পারে৷ তবে খুবই ভালো লাগছে। সবাই খুশি।"

(www.theoffnews.com Birbhum record)


দেবিকা ভট্টাচার্য, লেখিকা ও শিক্ষিকা, চন্দননগর, হুগলি:

আজি এ প্রভাতে রবির কর

কেমনে পশিল প্রাণের‘ পর,

কেমনে  পশিল গুহার আঁধারে প্রভাতপাখির গান!

না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।

জাগিয়া উঠেছে প্রাণ,

ওরে উথলি উঠেছে বারি,

ওরে প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি।"

প্রথমেই বন্ধুদের কাছে মাফ চেয়ে নিচ্ছি, 'হ্যাপী নিউ ইয়ার' জানানো হয়নি বলে। তাতে কী আছে! মোটে দিন কয়েক দেরী হয়েছে। যদি ফেবুতে আস্থা রাখতাম, নতুন বছরের প্রথম দিনেই প্রাণ জাগার আবেগ, হনুমানের বুকে রামসীতা দেখানোর মতো দেখিয়ে দিতাম। প্রায় পাঁচশো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ছিল। তার মধ্যে ক'শো তালা দেওয়া প্রোফাইল। যদিও জানি অঙ্গুলি হেলনে তালা খুলে যায়, তবু সে কাজ করি না। আজ একখানি নাম মনকে মোচড় দিল। বন্ধুরা জানো, কিছুদিন আগে ছবি দিয়েছিলাম, ফেবুতে। সেই নাম, সেই পদবী কিন্তু প্রোফাইলে তালা। আঙুল ছোঁয়ালাম। তালা খুলে দেখি, ও.. মা! সেই নাক! প্রথমে নাক, তারপর ঠোঁট, তারপর মুচকি হাসি, তারপর হাতের আঙুল, তারপর একে একে বসার কায়দা, পায়ের পাতা, কপালে চুলের আঁকিবুকি, চাহনি!

না! এ তো সে.... ই ! কিন্তু যে এতো ভালো গান গাইত, স্কুল প্রোগ্রাম, বেঞ্চ বাজানো বাদ দাও রেডিওতে পর্যন্ত গেয়েছে, নামজাদা শিল্পীর কাছে শিখেছে তার প্রোফাইলে তার নিজের গান নেই! বাংলা অআকখ নেই! কেবল এবিসিডি! মুখ্যু মেয়েমানুষ আমি, আমি তবে ভুল করছি! তার নামে যত লোককে গান গাইতে দেখেছি, কেবল মুখটা দেখতাম, যদি খুঁজে পাই! পাইনি, মুখ মেলেনি। আজ যদি মিলল, গান নেই। "ভাবছি, শুধু ভাবছি, আর ভাবছি, কোথায় পাব সোনার কাঠি ভাবছি!"

এমন সময় ইংরেজি ভাষায় মেসেজ! "হ্যালো...দেবিকা! ক্যান ইউ রেকোগনাইজ মি?" 

তারপর বাংলা, "আমি তোর খুব পুরনো বন্ধু।"

আরে! যত পুরনো হ'ভাই, তুই যে তুই! কেন রেকোগনাইজ করতে পারবো না? হিন্দু গার্লসের মেয়েদের এতো দুর্বল স্মৃতিশক্তি নয়। 

তারপর? তারপরই তো নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ! সেই কালনার বাড়ি, পিসিমণির কাছে খাওয়া। স্কুলে যাওয়ার আগে বা ফেরার পথে দাদু, পিসিমণি, ছোটোকাকিমা!

দাদু ঠাকুমাকে এতদিন রাখা যেত না। কিন্তু ছোটকাকিমা, সেই যে বলেছিলাম, 'আমাদের কিশোরী বেলার আনন্দ', তাকেও রাখা যায়নি। ২০২৪'এর ১লা জানুয়ারিতেও ফেবুতে 'উইস'  করেছিল। অদ্ভুত ছিল পোস্টটা। একটা দড়ি, উঠতে উঠতে ২০২৪'এ গিয়ে থামল। তখনও কি কাকিমা বুঝেছিল সেখানেই দড়িটা থেমে যাবে। ২০২৫ শে যাওয়ার অনেক আগেই ছিঁড়ে যাবে?

২০২৪'এ অনেককে —পরিবারের চার জন, আত্মীয়, বন্ধু সবমিলিয়ে অনেকজনকে হারিয়ে ফেলেছি। ২০২৫ খুব খুশির হাওয়া নিয়ে এল। শেষ অবধি যেন এই খুশি, আনন্দ ধরে রাখা যায় ঈশ্বরের কাছে এই প্রার্থনা।

হ্যাপী নিউ ইয়ার!

ফেসবুক জিন্দাবাদ।

এবার বল বন্ধুগণ! আমাদের প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া বন্ধুটির নাম কী?

(www.theoffnews.com friendship facebook song happy new year)


মোনালিসা মুখোপাধ্যায়, ফিচার রাইটার, হিন্দমোটর, হুগলি:

শীতকাল মানে ছিল কমলালেবু আর ব্যাডমিন্টন, গাঁদাফুল আর খড়িফোটা পায়ে সরষের তেল। এখন পাল্টে গেছে শীতকাল। এখন কমলালেবু সারাবছর। বডিওয়েলের রমরমাতে মুখ লুকিয়েছে সরষের তেলের শিশি। জাতে উঠতে গেলে অলিভ অয়েল বা দামী বডি অয়েল লাগবেই । 

ছোটবেলায় শীতের দিনে রোদ উঠতে দেখে ঠান্ডায় জমে যাওয়া শালিমার নারকেল তেলের সবুজ টিন সেটা দু'দিকেই ফুটো থাকত সেটা রোদে দেওয়া হতো। আমাদের পাশের বাড়িতে জেঠিমা কাঁচের শিশিতে টাটা নারকেলের তেল রোদে দিত। সেটাও জমে যেত। দাদু নাকে কানে নাভিতে সরষের তেল দিত রোদে বসে। তারপর চান। শীতকালে সাবান মানেই তখন চেসমী গ্লিসারিন। ফেনা হতো না হাত থেকে পিছলে যেত। একদিকে তুবড়ে যেত। এই সাবানটাতে কেমন শীত শীত গন্ধ ছিল পেতাম। আজও গ্লিসারিন সাবান মানেই আমার শীত শীত গন্ধ লাগে।

গুড়ের নাগড়ী বসানো থাকত রান্নাঘরে। খড়ের বিঁড়েতে। দেখতে বড় ভালো লাগতো আমার। বড় বেতের ঝুড়িতে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা আলু কড়াইশুঁটি, সিম, বেগুন, মুলো। তবে পিঁয়াজকলি আর পিঁয়াজের আলাদা ঝুড়ি রান্নাঘরের বাইরে এককোনায়। কারন আঁশ নিরামিষের খুব লড়াই তখন। আঁশবঁটি ছিল তাদের জন্য। ভুলেও মুরগীর মাংস ঢুকত না বাড়িতে। পোল্ট্রি কি জানতাম না, ডিম মানে হাঁসের ডিম।

কত মেনে চলত মা জেঠিমা কাকিমারা। ইতু পুজো অগ্রহায়ণ মাসে। ইতুর সরা ভাসানো গঙ্গাতে কাকিমা জেঠিমাদের সাথে। পৌষ মাসে সারাবছরের ধান পাল্টে লক্ষ্মীপুজো। পৌষকালি পুজো দিতে যাওয়া নিস্তারিণী কালিবাড়ি। ওখানে লাল নীল ফিতে, মাটির হাড়িকুঁড়ি, শীলনোড়া খেলনাবাটির সরঞ্জাম কিনে হইহট্টগোল ভাইবোনেরা মিলে। এতো পার্ক ছিল না ঘোরার জন্য রিসোর্ট ছিল না। মা বাবার হাত ধরে চিড়িয়াখানা, ভিক্টোরিয়া, যাদুঘর, নেহেরু মিউজিয়াম, অনাদির মোগলাই বা চাচার কেবিন এটা ছিল আমার শীত। পাড়ায় ফিস্ট হতো সবার বাড়ি থেকে চাল আর ডিম নিয়ে ডিমের ঝোল ভাত। 

বাড়ির সামনে বান্ধবমাঠে বি এস পার্কে যাত্রা হতো। রাশিয়ান সার্কাস আসত। তাঁবু পড়ত মাঠে। সকালে আমরা তাঁবুর আসেপাশে ঘুরতাম হাতি দেখব বলে। যাত্রা হত নট্ট কোম্পানির "রক্তপিপাসু চেঙ্গিস খাঁ।" বাবার পারমিশন মিলত না যাত্রা দেখার। অনেক কেঁদে কেটে একবার গেছিলাম। মাটিতে ত্রিপলে বসে বাদাম ভাজা সবুজ নুন দিয়ে খেতে খেতে কি দেখেছিলাম মনে নেই। তবে খুব আনন্দ হয়েছিল সেটা ভুলিনি। পুতুলনাচ আসত। বেহুলা লক্ষ্মীন্দর, সাবিত্রী সত্যবান। কেঁদে কেঁদে পুতুলনাচ দেখত রেনুপিসি। রেণুপিসির হাতে কত রঙের চুড়ি।কোনটা রংচটা তো কোনটা বাহারী। 

বেহুলা যত কাঁদে রেনুপিসি তত চোখ মোছে। সে এক অভিজ্ঞতা মজার আর অবাক হবার। পিসি কেন কাঁদছে জানার প্রচেষ্টা সবার চোখে আমাদের। তখন বুঝিনি আমরা সবাই পুতুল এক অদৃশ্য ভাগ্যের হাতে। সেই চালায় সব৷ যাক সে কথা।

সেই রেনু পিসি বাড়ির উঠোনে কাঁথা সেলাই করতে বসত। প্রতি শীতে কতরকম কাঁথা সবাই বুনতে দিত। তাঁতের শাড়ি জুড়ে জুড়ে তৈরী হত রঙবেরঙের কাঁথা গুলো। পিসির সেলাইয়ের ফোঁড়ের জাদু আমরা পাশে বসে দেখতাম। লেপ কাঁথার আর চল নেই তেমন তার জায়গা নিয়েছে  সুন্দর প্যাকেটে ব্ল্যাংকেট। শীতে লেপ কাঁথা রোদে দেওয়া আর এক কাজ ছিল। রোদে গরম লেপের গন্ধ ছিল একটা। কালো কুটকুটে কম্বল ছিল অনেকের বাড়ি। লাল সাদা হলুদ ডোরাকাটা শতরঞ্জি পেতে লুডো খেলতাম আবার খেঁজুর পাতার চাটাই বুনত রেনুপিসি। আমরা শুয়ে গড়াগড়ি দিয়ে দেখতাম। অবিবাহিতা পিসি আপন পর সব ভাইপো ভাইঝিদের খুব প্রিয় ছিল। তার একটা পোষা টিয়া ছিল আর ছিল এক ঝুমরি নামে গরু। দুধ দিয়ে যেত পিসি। ওই দুধে অনেকটা খেজুর গুড় দিয়ে একবাটি দিত মা আমায়৷ আজও ভুলিনি তার স্বাদ। কমলালেবু খেয়ে তার খোসাটা চিপে তার রস চোখে দিয়ে চোখের জল ফেলা আর বলা চোখ ভালো থাকবে, এটা খেলা ছিল আমাদের বন্ধুদের। খেলতে খেলতে পড়ে গিয়ে হাঁটু ছড়ে গেছে। গাঁদাপাতা হাতে রগড়ে নিয়ে চেপে ধরতাম কাটা জায়গায়। চিড়বিড় করে জ্বলত। ভালো হয়ে যেত। জীবাণু আর স্যাভলনের দাপট অত ছিল না। থাকলেও আমাদের কাছে হার মানত।

মায়ের  হাতে বোনা সোয়েটার পরেছি কত কলেজ পর্যন্ত। আজও আছে তারা আমার সাথে। উলকাঁটা ছিল সবার শীতের সঙ্গী। কত রকম কাঁটা কত রঙের নরম উলের গোলা। হাতে নিয়ে গালে ঘষতাম। হাত থেকে গড়িয়ে চলে যেত। হাসতে হাসতে তার পেছনে তাকে ধরব বলে। জীবনের সরলতা যেন পালাচ্ছে হাত ফসকে আজ সেই উলের গোলার মত। তাকে আর পারছি কই ধরতে?

রিঠে জলে কাচা হত সোয়েটার। তারপর এল জেন্টল নীল রঙের প্লাস্টিকের বোতলে। তারপর এখন ইজির যুগ। সত্যি খুব ইজি এখন সব। পাল্টে যাওয়া ইজি। সব হাতের মুঠোয় চাইলেই মেলে যদি পকেট সাথ দেয়। শুধু ইজি হলো না ওই ফেলে আসা শীতের গন্ধ মাখা দিনগুলো ভোলা। অন্যরূপে অন্যরঙে সেদিন গুলো আজও অনন্য। আমি বড় পিছিয়ে আছি পিছুটানগুলো সাথ ছাড়ে না। তাই আমার ভোলা হয় না ফেলে আসা দিন। তাই আমার লেখায় বারবার ফেরে পুরনো দিন।

"পৌষের কাছাকাছি রোদ মাখা সেই দিন ফিরে আর আসবে কি কখনও..."

(www.theoffnews.com winter myself)


মোনালিসা মুখোপাধ্যায়, ফিচার রাইটার, হিন্দমোটর, হুগলি:

কোভিড পিরিয়ডের কড়াকড়ি কমেছে তখন। বেরোতে শুরু করেছে সবাই নিয়মকানুন মেনেই। আমিও এভাবেই কোনও এক কাজে বেরিয়ে ফেরার পথে শ্রীরামপুর থেকে অটোতে উঠলাম। ওঠা মাত্র অটোচালক বললো আপনি? কতদিন পর। ভালো আছেন?

চমকে উঠলাম। কারণ আমি তাকে চিনতে পারিনি। তারপর চেনে হয়তো মনে করে,

-হ্যাঁ 

বলে হাসলাম। মুখে মাস্ক।

কিছুক্ষণ পর অটোওয়ালা বলল -

"দোকানটা বন্ধ করে দিলেন? "

সাতপাঁচ না ভেবে বলে দিলাম,

 -হ্যাঁ। 

"লকডাউনের আগে না পরে করলেন?"

-পরে।

ও আচ্ছা। তাই আপনায় দেখি না।

আবার খানিক্ষন চুপচাপ। অটো চলছে নিজের গতিতে। আমি ভাবছি আমার কিসের দোকান? কেনই বা বন্ধ করলাম ইত্যাদি। 

আবার অটোচালক-

" মার্কেট ভালো নয় বুঝলেন।"

-হ্যাঁ। "

 "এখন বিউটি পার্লারে লোক হচ্ছে?"

  -হ্যাঁ, হচ্ছে মোটামুটি। 

"তাহলে দোকান খুলে ফেলুন। ঠিক কাস্টমার আসবে।"

বুঝলাম এতক্ষনে যে আমার বিউটি পার্লার আছে। 

সত্যি এমন কত জিনিস আমাদের নিজের থাকে যা আমরা নিজেও জানি না। 

যাক খুশীই হলাম। নেই তো নেই। ভাবতে দোষ কি?

"টিংকুদা ভালো আছে?"

-হ্যাঁ। (যদিও তিনি কে আমি জানি না) 

আরও কিছু খবরাখবর নেওয়া দেওয়া হল যেমন-

রাস্তায় লোক অনেক, ভাড়া বেশী, পিঁয়াজের দাম, ট্রেনের প্যাসেঞ্জার কম, পুলিশ ধরছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। 

এবার নামার পালা--

বললাম,

-দাঁড় করাবেন, এবার নামব। 

"এখানে কেন? ওই বাড়িতে যাবেন না। "

-না। 

"কেন?"

-না অন্য একজনের বাড়ি যাব। দরকার আছে।

"ফিরবেন কখন?"

-রাত্তির হবে৷ 

"আচ্ছা।"

ঘ্যাঁচ করে অটো থামল। এবার বললেন, 

"সাবধানে যাবেন।"

-হ্যাঁ। আসি। ভালো থাকবেন।

আমি ফিরছি, তারপর বিউটি পার্লারের মালকিন হয়ে। ভাবছি, যাক না চিনে কত গল্প হলো। হয়তো সে আমাকে অন্য কেউ ভেবেই কত গল্প করল। এতে দুজনেরই কিছু ক্ষতি হল না। উপরন্তু মানুষটা এক অচেনা মানুষকে চেনা ভেবে নিয়ে অটোচালক বন্ধু মন খুলে তবেই তো দুটো কথা বলল। এক মস্ত অস্থির সময়ের (কোভিড পরবর্তী) ঢেউ পেরিয়ে আমাদের কথাই আমাদের বড় প্রিয় ছিল তখন। হয়তো তাকে ভুল ধরিয়ে দিলে সে অপ্রস্তুত হতো। খেই হারাত, থেমে যেত তার মনের কথাগুলো।

তার চেয়ে এই ভালো। কেউ না থেমে যাক তার স্বতঃস্ফূর্ততা ভুলে। চলুক চলতে থাকুক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। 

জীবনে তো কত নাটক করতে হয় আমাদের। সংসারে বা কর্মজীবনে বা বাঁচতে গিয়ে। কষ্ট চেপেও কেউ হাস্যকৌতুক করে। এতো একটা ছোট্ট সাইড রোল। 

মন্দ কি? আমার মন বলল ঠিক করেছি আমি। আরও বলল- 

"আমি পথ হারাই, পথ মাড়াই, আবারও পথ হারাই।"

আর পথের এই টুকরো মুহূর্তগুলো উপভোগ করে যাই প্রাণভরে। বাঁচি প্রাণভরে। 

"আদমি মুসাফির হ্যায় আতা হ্যায় যাতা হ্যায় 

আতে যাতে রাস্তে মে ইয়াদে ছোড় যাতে হ্যায়।"

(www.theoffnews.com friendship autorickshaw)


মোনালিসা মুখোপাধ্যায়, ফিচার রাইটার, হিন্দমোটর, হুগলি:

আজকাল এই অসৎ মানুষের ভীড়ে সেদিন হঠাৎই এক ভালো মানুষের সাথে যোগাযোগ হয়ে গেল। তোমরা খুব সামান্য ভাবতে পারো কিন্তু আমার কাছে অসামান্য। সে ভালোলাগাটুকু হারিয়ে না ফেলে তোমাদের সাথে ভাগ করে নিলাম।

ঘোর কলিযুগের সে এক মেয়ের গল্পকথা। নামটি তার  মৌ দেবনাথ। ফেসবুকের ট্রোল সূত্রে দিন চারেকের না-আলাপের আলাপ। মেয়েটি একটি হেল্প পোস্টে এক অসহায় বাচ্চা বিড়ালের ছবি দিয়েছে। দুধের বাচ্চা সে। বাচ্চাটিকে কোন মানুষ রূপী অমানুষ তার মায়ের কাছে থেকে তাকে কেড়ে নিয়ে  রাস্তায় ফেলে যায় মরার জন্য। মেয়েটি তার অসহায় কান্না শুনে তাকে উদ্ধার করে নিজের কাছে রাখে। 

কিন্তু সে যেহেতু আরও কয়েকটি পশুর সেবা করে তার পক্ষে ওর চিকিৎসা খরচ নেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। সে তাই সবার কাছে পাঁচ দশ টাকা সাহায্য চাইছিল। সত্যিই আমি নিজেও জানি ওদের ওষুধের ভীষণ দাম। বিড়াল বাচ্চাটির করুণ মুখ দেখে আমার ভীষণ মায়া লাগছিল। ভাবলাম নিজের কাছে যদি আনতে পারতাম। সে ইচ্ছে মনে চেপেই হেল্প পোস্টে দেওয়া জিপে নাম্বারে আমার সাধ্যমত অল্প কিছু টাকা পাঠাই। অবশ্য খোলামনে নয়। মনে সন্দেহ নিয়েই সেই টাকা আমি সাহায্য করি। কারণ আজকাল অনেকেই ওদের নাম করে টাকা তোলে আর সে টাকায় নিজেরা ফূর্তি করে। টাকা পাঠিয়ে আমি মেয়েটিকে ফোন করি এবং বলি সামান্য কিছু দিলাম আর লাগলে পরে দেব। সাথে এও বললাম আমি যদি পারতাম ওকে রাখতে খুশী হতাম।  কিন্তু যেহেতু আমি রাস্তার এবং বাড়ি মিলিয়ে রেস্কিউ করা বেশ কিছু কুকুর, বিড়ালের খাওয়া আর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি তাই পারলাম না। শরীর  এবং সামর্থ্য দুই আমার নেই। মেয়েটি ধন্যবাদ জানাল এবং বলল তবুও তো আপনি ভেবেছেন, দিয়েছেন। 

 সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরছি। ট্রেন থেকে নামতেই একটি মেসেজ আমার অ্যাকাউন্টে এল। আমার সাহায্য করা টাকা ফিরে এসেছে ওই মেয়েটি মানে মৌ দেবনাথের কাছ থেকে। সাথে একটা মেসেজ  তাতে লেখা -(নিচে দিলাম লেখার সে ছবি)।

একজন মহিলা তার পোস্ট দেখে যিনি পশু চিকিৎসক তিনি বাচ্চার আশ্রয় এবং চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন তাই আমরা যারা ওকে সাহায্য করেছি সে টাকা ও সসম্মানে সবাইকে ফেরত দিচ্ছে আর হেল্প পোস্ট তুলে নিচ্ছে।

মেসেজ পেয়ে অবাক আমি। এক অদ্ভুত সে অনুভূতি। পরম ভালোলাগা এই ভেবে যে অসহায় মা হারা বাচ্চাটি নিরাপদ আশ্রয় পেল, আর আমার দ্বিধা মিশ্রিত ভালোবাসার, তার মূল্য দ্বিগুণ করে এইভাবে ফিরিয়ে দিল মেয়েটি? অপরাধবোধ আমার মনে তখন। কারণ আমি তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করিনি।

থমকে গেল আমার দুটো পা। বসে পড়লাম স্টেশনের বেঞ্চে। প্রায় সবাই চলে গেছে। আমি একা আর কিছু লোকজন এদিক ওদিক। আকাশের দিকে তাকালাম। পূর্ণ চন্দ্র হবার আশায় উঠেছে চাঁদ। সেও হাসছে। আমার ভালোলাগা টের পেল মনে হয়। অনেক শঠতা দেখেছি, স্বার্থপরতা, প্রবঞ্চনা, হিংসা দেখেছি মানুষের। যারা অকৃতজ্ঞ তাদের খেলা দেখেছি। তার মাঝে এ ঘটনা আমার এক পরম প্রাপ্তি। কারণ আমি অনুভূতিতে বাঁচি।  

আবার বুঝলাম, সব কিছু ভালো নয়। আবার কিছু কিছু যে ভীষণ ভালো। এই ইন্টারনেট যুক্ত সোস্যাল সাইটের যুগেও।

হে দয়াময়, ভালো থাকুক এই ভালো মনগুলো। সে মনের অধিকারী মানুষগুলো। রবিঠাকুর মনে এলেন তক্ষুনি  -

"দিলেম যা রাজ-ভিখারীরে

স্বর্ণ হয়ে এল ফিরে,

তখন কাঁদি চোখের জলে

দুটি নয়ন ভরে--

তোমায় কেন দিইনি আমার

সকল শুন্য করে।"

(www.theoffnews.com honesty)


মোনালিসা মুখোপাধ্যায়, ফিচার রাইটার, হিন্দমোটর, হুগলি:

বাতাসে হাওয়ার দিকবদলের গন্ধ। ভোরে হালকা হিমেল পরশ। চারিপাশ একটু অন্যরকম। ড্রেসিংটেবিলে নতুন অতিথি কোল্ড ক্রিম, বডি লোশনকে জায়গা করে দিয়েছি। বডিঅয়েলের মিষ্টি সুবাস একটু মন আনচান। আলমারি খুলে ছুঁয়ে দেখা নরম আদুরে সোয়েটার। এরাই তো শীতের অতিথি, যারা গুটিগুটি পায়ে আসছে।

গাঁদা ফুলের টবের শান্ত স্নিগ্ধ প্রকাশের পাশেই রূপ গর্বে গরবিনী গোলাপ তার পাঁপড়ি মেলে তাকাবে তার চোখ ধাঁধানো রঙ নিয়ে। শিউলির বিদায় আসন্ন। ঝরা পথের ধুলোয় বিদায়ের বার্তায় একটু ম্রিয়মাণ সে। 

রবি ঠাকুরের ভাষায় - 

'কেন রে তুই উন্মনা, নয়নে তোর হিমকণা।

কোন ভাষায় চাস বিদায়, গন্ধ তোর কি জানায়'

এভাবেই তো কিছু ফুল ফুটে ঝরে গিয়ে আরেক ফুলের জায়গা করে দেয়। ক্ষণিকের অতিথি শিউলি বড় সংবেদনশীল। শীতের দাপট তার সইবে না। বিদায়ের প্রস্তুতি সারছে সে। যে যাওয়ার সে যাবেই সব আগল ভেঙে। 

"ফুল খিলতে হ্যায়, লোগ মিলতে হ্যায় মগর

পতঝড় মে জো ফুল মূরঝা যাতে হ্যায়,

ও বাহারো কে আনে সে খিলতে নেহি"

মনের আকুল ব্যাকুল ভাবনা উস্কে দিতেই বোধহয় গানটা ভেসে আসছে কোথাও থেকে। এ সবই স্বাভাবিক আসা যাওয়া। ঋতু বদলের খেলা। কিন্তু কখনও কখনও মন এই স্বাভাবিক চলা দিনগুলো থেকে অন্যরকম কিছু ব্যাকুলতা খুঁজে নেয়। 

স্থির জলের বুকে হঠাৎ হাওয়ায় কিছু মন কেমনের হালকা তিরতিরে ঢেউ ওঠে। উত্তুরে এলোমেলো হাওয়ায় বড় টানের আমেজ। শরীর ছুঁয়ে সে টান মনেও লাগে। প্রকৃতি ভালোবাসি তাই হয়তো এমনটা হয়। ভাবনার ঘোড়া বড় বেপরোয়া,  লাগামহীন। সামাল দেওয়া দায় তাকে।

ছোটবেলা মনে পড়ে। চেসমী গ্লিসারিন নিয়ে খেলা।ফেনা হত না। ফেনা করার চেষ্টায় হাত থেকে স্লিপ খেয়ে মাটিতে পড়ত। তুলে নিয়ে আবার চেষ্টা যতক্ষণ না মা বকে ধমকে টেনে নিয়ে যেত জল থেকে। জীবনটাও এরকমই মানুষের। কত কি করার চেষ্টায় কখন যে স্লিপ খেয়ে আমরা পালটে যাই একরূপ থেকে আরেক রূপে। নিজেকে চেনা তখন আরেক ঋতুর খেলা।

প্রকৃতির একার নয় মানুষের জীবনের ঋতু পরিবর্তনও হয়। কত কেউ আসে, কত কেউ যায়, কেউ নিয়ে যায় কিছু তো কেউ দিয়ে যায় হাসি আবার কেউ কান্না, কেউ  মুখোশ পরতে বলে তো কেউ আসল রূপের পক্ষে। কেউ হিসেব শেখায় তো কেউ পালটা ঘুরে বেহিসেবী হবার মন্ত্র দেয়, কেউ সামলে পথ চলতে বলে তো কেউ গেয়ে ওঠে-

"ম্যায় জিন্দেগী কা সাথ নিভাতা চলা গ্যয়া 

হর ফিকর কো ধুঁয়ে মে উড়াতা চলা গ্যয়া।"

সবাই কিছু না কিছু দিয়ে যায় আবার কিছু নিয়েও যায়। 

দেওয়া নেওয়ার পালাতেই আমার জীবন পাত্র ভরে উঠবে। অমৃত হোক বা বিষ, পান করতেই হবে, চলতেই হবে, যতদিন না পথ ফুরোয় অবশেষে।  ভাগফল আর ভাগশেষের খেলায় ক্লান্ত জীবনও বলে - 

ওঠানামার খেলা উপভোগ করাও একটা খেলা। নিজেকে খুঁজে নেওয়ার খেলা। চিরন্তন এ খেলা, খেলতে খেলতেই হালকা অনুযোগের সুরে মন বলছে মনে মনে-

"কেউ বলেছিল আগে কেউ বলেছিল পিছে

কেউ আগুপিছু বুঝতে না পেরে খুঁজে মরেছিল মিছে।"

(www.theoffnews.com changing seasons human)


প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র, লেখক, কালনা, পূর্ব বর্ধমান:

অভয়া বলুন আর তিলোত্তমা বলুন, ওর মায়ের বিবৃতি অনুযায়ী মেয়েটির আসল নাম বদলে গেছে যা দুর্ভাগ্যজনক। মেয়েটির মা, তিনিও এই নাম বদলে যাওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন। 

হতভাগী মেয়েটি জন্মালো, লেখাপড়া করল, লক্ষ্যে পৌঁছালো আবার সকলকে কাঁদিয়ে চলে গেল। একদম অকালে।

মায়ের একমাত্র মেয়ে। কত আদরের মেয়ে। 

এদেশে মৃন্ময়ী মায়ের পূজা হয়, চিন্ময়ী মা ধর্ষিতা হয়। অদ্ভুত।

মেয়েদের হত্যাকারীদের লুকোনোর জন্য সুনিপুণ চক্রান্ত হয়, সরকার আততায়ীকে লুকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করে, আজও করছে যা মনে পড়লে আজও গায়ে কাঁটা দেয়। 

আমি ভাবছি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে কতটা মেধাবী হতে হয়। কত পরিশ্রম করতে হয়। কত কত বই বিনিদ্র রজনী জেগে পাতার পর পাতা উল্টে পড়তে হয়। এককথায় যারা জয়েন্টে ভালো স্থান অর্জন করে তারাই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়। প্রফেসর হয়। রিসার্চ করে । বিজ্ঞানী হয়।

ধর্ষিতা ও খুন হলে মহামান্য আদালতের নির্দেশ তার আসল নাম পরিবর্তন করে অন্য নাম প্রকাশ্যে আনতে হবে, যা হবে মনগড়া একটা নাম।  

মহামান্য আদালতের মতে আসল নাম প্রকাশ্যে আসলে তা অপরাধের। ষআদালতের যুক্তি আসল নাম প্রকাশ্যে আনলে মেয়েটির পরিবারের সম্মানহানি হবে, মেয়েটির সম্মানহানি হবে। 

আচ্ছা, যে মেয়েটি অত্যাচারিত হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল তার এই পৃথিবীতে সম্মান থেকেই বা কি লাভ? তার বাবা-মায়ের লজ্জা হবার তো কোন কারণ আমি খুঁজে পাই  না। 

সম্মানহানি যদি হয়ই তা মেয়েটির পরিবার বা মেয়েটির কেন হবে? 

আমার মতে সম্মানহানি হয় সরকারের। সম্মানহানি হবে সমাজের। কারণ এই সমাজ একটি মেয়েকে বাঁচতে দেয়নি। সরকার একটি মেয়ের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। ইনস্টিটিউশন নজর রাখেনি। তাই লজ্জা ইনস্টিটিউশনের, সরকারের ও সমাজের হওয়া উচিত। 

তাই কি নির্যাতিতার নাম গোপনের নির্দেশ? একটা সময়ের পর মানুষ যেন ঘটনা ভুলে যায় সেই জন্যই কি নির্যাতিতার নাম গুলিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত?

সমাজ, সরকার মেয়েটিকে বাঁচতে দিল না। সমাজ পুরুষতান্ত্রিক আজও। আজও নারী ভোগ্য বস্তু মাত্র। এই সমাজের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে আমি দাবি জানাচ্ছি নির্যাতিতা যদি মৃত হয় তার আসল নাম, ধাম ব্যবহার করার জন্য আইনি সংশোধন হোক। সেই মেয়ের ধর্ষকদের জানা গেলে বিচার হোক গণ আদালতে। 

কারণ, আইনি জটিলতায় আসল অপরাধীকে যেমন সরকার লুকিয়ে ফেলে, তেমনি বিচার পেতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। 

ধর্ষকের ফাঁসির পক্ষে আমি নই। ফাঁসি হলে ধর্ষক মরে না, বেঁচে যায়। আমি এমন শাস্তি চাই, যে শাস্তির কথা ভেবে ধর্ষক ধর্ষণের ভাবনা ভাবতে একশো বার ভাববে। আমি দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির পক্ষে যেমন ধরুন এই ধরনের মানুষকে খাসি করে দিতে হবে ইত্যাদি।

সত্যিই বলছি, আরজি কর-এর ডাক্তার ম্যাডামের নাম আমার আজ স্মরণে নেই। তবে স্মরণ রেখেছি, ওর উপর নারকীয় অত্যাচারের বিচার আজও হয়নি। 

আমি আশাবাদী একদিন বিচার হবেই। 

মহামান্য আদালতের উপর, সরকারি তদন্তকারী সংস্থার উপর থেকে ভরসা হারালে এই দেশ-সমাজ আমায় আবার ভারত বিরোধী ভাববে। তাই বিচার ব্যবস্থার কিছু কিছু বিষয়ে ঘৃণা হলেও,আশাবাদী হয়েই বাঁচতে হবে। 

নয়ত ওরা দেশবিরোধী, সরকারবিরোধী ঘোষণা করবে।

মনে করি, এই সঞ্জয় একা ধর্ষণ করেনি।

(www.theoffnews.com Abhaya rape murder court government)