Articles by "নিশান্তিকার সিংহকন্যা"
Showing posts with label নিশান্তিকার সিংহকন্যা. Show all posts

সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

সংখ্যাতত্ত্ব, বাস্তুশাস্ত্র ও জ্যোতিষবিদ্যা। অত্যাধুনিক বিজ্ঞান সম্মত অ্যাস্ট্রোলজির এ যেন মেলবন্ধনের ত্রিধারা চর্চার ত্রিবেণী সঙ্গম। শুধুই কি পারস্পরিক সমঝোতা? মোটেও না। বিতর্কের ধারালো ত্রিফলা ত্রিশূলও এখানে যথেষ্ট বিদ্যমান। এবং জোড়ালো ভাবে।

আসলে বিতর্কের বারুদটা ধিকিধিকি করে নিবু নিবু আঁচে জ্বলছিল বেশ কিছুক্ষণ যাবৎ। সেই বারুদ আঁচেই দেশলাইটা ঘষে দিলেন রেনুকা শাহ। ভারত চেম্বার লেডিস ফোরামের পদাধিকার বলে তিনি চেয়ারপার্সন। তাঁর জিজ্ঞাসা, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা প্রভাব ফেলে অ্যাস্ট্রোলজির উপর? প্রশ্নটা শুনেই তৎক্ষণাৎ উত্তর দিলেন স্বাতী মোহাত্তা। তিনি অবশ্য খ্যাতনামা সংখ্যাতত্ত্ববিদ। অকপটে বললেন, সংখ্যাতত্ত্বের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কোনও স্থান নেই। মানুষের ভবিষ্যৎ গণনায় সংখ্যার এক অদ্ভুত রসায়ণ আছে। সেক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স হলো এক্ষেত্রে অনাহূত অতিথির মতো। আর সেখানেই আপত্তি জানিয়ে বসলেন জ্যোতিষী অনুরাগ শর্মা। তিনি জানান, আগে একটা কুন্ডলী তৈরি করতে আনুমানিক আড়াই ঘণ্টা লাগতো। আর আজ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সহায়তায় ওই কুন্ডলী রেডিমেট পাওয়া যায় কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে। সুতরাং যুগ পাল্টানোর পাশাপাশি অ্যাস্ট্রোলজিতেও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রভাব এই মুহূর্তে কখনই অস্বীকার করা যায় না। 

বিতর্ক কিন্তু এখানেই থেমে থাকেনি। আলোচনা প্রসঙ্গে স্বাতীদেবী বলেন, আজকাল একটা নতুন ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জীবনযাত্রার সঙ্গে সহায়ক সংখ্যার সুফল গ্রহণ করতে গিয়ে একাংশ দম্পতিরা তাঁদের আগত সন্তানের জন্মের তারিখ ও সময় আগাম নির্ধারণ করে ফেলছেন চিকিৎসকের সহায়তায়। তখনই এই কথার তীব্র প্রতিবাদ করেন অনুরাগবাবু। অনেকটা উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, সংখ্যাতত্ত্বের ফায়দা গ্রহণ করতে একটা নবজাতকের জন্মগ্রহণ করানো হচ্ছে প্রকৃতিগত অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে। এটাতো মানবতা বিরোধী। সঙ্গে প্রকৃতির বিরুদ্ধাচারণ করা। জ্যোতিষবিদ্যায় এমন অমানবীয় বিধাতা বিরোধী পদ্ধতি মান্যতা দেয় না।

প্রথম শীতানুভূতির ঠান্ডা মাখা বিকেলে এমনই এক উত্তপ্ত আলোচনায় যখন বাদানুবাদের কোমল উত্তাপে উপস্থিত শ্রোতারা জড়তা কাটিয়ে বেশ চাঙা হয়ে উঠেছেন ঠিক তখনই ত্রিধারার সদ্য বিভাজনের মোড় ঘুরিয়ে ঐক্যমতের স্টিয়ারিং ধরলেন বাস্তুশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ অক্ষয় বিঞ্জরাজকা। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, কোনও যুগলকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানের মধ্যে তাঁদের বিয়ে হবে কিনা তা নিয়ে অবশ্যই ভবিষ্যৎ বাণী করতে পারে জ্যোতিষবিদ্যা। বিয়ে হলে তাঁদের বিবাহিত জীবন সুখের না অশান্তির হবে, তা নির্ণয় করতে সক্ষম সংখ্যাতত্ত্ব। আর তাঁদের সংসারের গৃহকোন কতটা দাম্পত্যে প্রভাব ফেলবে তার সুলুক সন্ধান পাওয়া যাবে প্রকৃত বাস্তুশাস্ত্রের সাহায্যে। তাই অ্যাস্ট্রোলজিতে এই ত্রিনেত্র সর্বদাই জাগ্রত জীবনের নানা প্রেক্ষাপটের অবিচ্ছেদ্য মেলবন্ধনে।

গত সোমবার কলকাতার ভারত চেম্বার অফ কমার্স'এর ভবণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক মনোগ্রাহী আলোচনা চক্র। এর আয়োজক ছিল ভারত চেম্বার লেডিস ফোরাম। 'দ্য সায়েন্স অফ বাস্তু এন্ড অ্যাস্ট্রোলজি' বিষয়ক আলোচনায় অতিথি বক্তা হিসেবে স্ব স্ব বক্তব্যে অংশ নেন অনুরাগবাবু, স্বাতীদেবী ও অক্ষয়বাবু।

অনুরাগবাবু বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্তব্য করেন, কুন্ডলী করতে গিয়ে বারোটা ঘরের অবস্থান পাওয়া যায়। নটি গ্রহ ও সাতাশটি নক্ষত্রের প্রভাব পর্যায়ক্রমে যাচাই করতে হয়। বৃহস্পতিবার পারতপক্ষে টাকা কাউকে দেওয়া উচিৎ নয়। এতে মা লক্ষ্মী রুষ্ট হন। তবে অর্থ গ্রহণে অসুবিধা নেই। তেমনি বুধবার ও শনিবার চুল কাটা জ্যোতিষ মতে অলুক্ষণে।

অনুরাগবাবুর কথার প্রাসঙ্গিক সঙ্গে সহমত পোষণ করে অক্ষয়বাবুর বক্তব্য, মানুষ কতটা লম্বা হবে তা নিজে ঠিক করতে পারে না। কিন্তু চওড়ার পরিমাপ অনেকটাই নির্ভর করে নিজস্ব জীবনযাপনের ইচ্ছার উপর। অনুরূপভাবে আমরা আমাদের ভাগ্য লিখন তৈরি করতে পারি না ঠিকই। কিন্তু নিজেদের কর্মফলের দ্বারা আমরা আমাদের ভাগ্যের প্রভাব অনেকটাই পাল্টাতে পারি বৈকি। তিনিও পরামর্শ দেন, পূর্ব বা দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে ঘুমানোটা স্রেয়। অন্যথায় সূর্যদেব অভিসম্পাত দেন। আসলে আমরা সাধারণ ভাবে জানি চারটে দিকের কথা। পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর এবং দক্ষিণ। বাস্তুমতে এটা ভুল। প্রকৃতপক্ষে ষোলটা দিক রয়েছে। ঘরের দক্ষিণ পূর্ব মুখী দেওয়ালে নীল রং ঘোর অমঙ্গলের সংকেত বহণ করে। এতে অগ্নিদেব অপমানিত বোধ করেন।

উপরিউক্ত নানান অ্যাস্ট্রোলজিক্যাল টিপসের পাশাপাশি স্বাতীদেবী জানালেন, সংখ্যার মধ্যে শুন্যর কোনও ভূমিকা নেই সংখ্যাতত্ত্বের বিচার্যে। এক থেকে নয় এগুলোই অপরিহার্য। এর বিশ্লেষণ ও বিচার নিরুপম করা সম্ভব জাতকের ব্যক্তিগত নানান ভিত্তির উপরে। প্রতিটি সংখ্যার পৃথক পৃথক ভাইব্রেশন রয়েছে। যা জাতকের জন্ম তারিখ ও সময় পর্যালোচনা করে প্রয়োজন মাফিক সংখ্যার ভাইব্রেশন ব্যবহার করার উপদেশ দিই আমরা। সংখ্যাতত্ত্ব আদতে চীন ও ইজিপ্টের প্রাচীন ঘরানার জ্যোতিষ পদ্ধতি, বলে তিনি উল্লেখ করেন।

(www.theoffnews.com Astrology Vastu Numerology)


সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

চলতি বছরে দুটি সূর্যগ্রহণ দেখবে বিশ্ববাসী। তার একটি এ মাসেই, অন্যটি হবে অক্টোবরে। চলতি বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণটি ঘটতে চলেছে ৩০ এপ্রিলে। যদিও এটি পূর্ণগ্রাস নয়, আংশিক সূর্যগ্রহণ। 

সূর্যগ্রহণ সব সময়ই খুব বিরল এক মহাজাগতিক ঘটনা। তবে এবারই প্রথম এই গ্রহণের সঙ্গে ঘটছে আরও এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। সেটি হল ‘ব্ল্যাক মুন’। নাসা বলেছে, এ ব্ল্যাক মুনই এবারে সূর্যকে ঢাকবে।

‘ব্ল্যাক মুন’ খুব বিরল এক মহাজাগতিক ঘটনা। ২০২১ সালে এ ঘটনার মুখোমুখি আমরা হইনি। এর নানা ব্যাখ্যা দিয়েছেন মহাকাশবিদেরা। কেউ একে বলেন, নিউ মুন, কেউ বলেন কোনও এক অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সিজনের থার্ড মুন, একই ক্যালেন্ডার মান্থে এটিকে সেকেন্ড নিউ মুনও কেউ কেউ বলেন।

৩০ এপ্রিল রাত ১২টা ১৫ মিনিটে গ্রহণ শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলতে থাকবে। এবারের এ সূর্যগ্রহণ এশিয়া থেকে দেখা যাবে না। গ্রহণ দেখা যাবে আর্জেন্টিনা, পেরু, বলিভিয়া, উরুগুয়ে, ব্রাজিলের একাংশ, আন্টার্কটিকা, ফকল্যান্ড থেকে।

(www.theoffnews.com - sun eclipse black moon)

সাজিয়া আক্তার, জয়ে়ন্ট এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

পৃথিবীতে সবাই প্রায় ধনী হতে চায়। সচ্ছলতা ও বিলাসিতার জীবন কাটাতে মানুষ অক্লান্ত পরিশ্রমও করে। তবে কেউ কেউ সফল হন, আর অনেকেই রয়ে যায় ব্যর্থ। তবে মানুষের ভবিষ্যৎ কতটা ভালো হবে তা নির্ভর করে তার কর্মের উপর। আর বাকিটা হলো ভাগ্য। যা আগে থেকেই নির্ধারণ করা থাকে। তবে ভাগ্য বদলের ক্ষেত্রেও কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।

সমুদ্রশাস্ত্র মতে, ভাগ্য বা ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার মতো কিছু বিষয় মানুষ জন্মগতভাবে নিজের মধ্যে পেয়ে থাকে। যার একটি মাধ্যম হলো তিল। শরীরে বিভিন্ন জায়গায় তিলের অবস্থান ভবিষ্যৎ সস্পর্কে শুভ-অশুভ অনেক কিছুই ইঙ্গিত দিয়ে থাকে।

তিলতত্ত্বের মতে, শরীরের বিভিন্ন স্থানের তিল বলে দিতে পারে ভবিষ্যতে কী আছে আপনার ভাগ্যে। কিংবা শরীরের কোথায় তিল থাকলে কী হয় তা তিল দেখে আগাম জানা যায়। শুধু তার সঠিক অর্থ বুঝে নিতে হবে। শরীরে কিছু কিছু জায়গা আছে যেখানে তিল থাকা মানেই ধনী হওয়ার লক্ষণ।

 তবে জেনে নেয়া যাক কোথায় কোথায় তিল থাকলে সম্পত্তি লাভ বা অর্থলাভের পথ সুগম হয়-

১. ঠোঁটের ঠিক ওপরেই তিল : এমন স্থানে তিল থাকলে বুঝতে হবে খুব অল্প বয়স থেকেই সেই নারী বা পুরুষ প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী হয়ে উঠবেন। এই স্থানে থাকা তিলের ব্যক্তিরা একটু জেদি স্বভাবের হইয়ে থাকেন।

২. নাকের ডানদিকে তিল থাকা মানুষটির ধনী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। ৩০ বছর বয়স থেকেই এরা সাফল্যের সিঁড়ি চড়তে থাকেন।

৩. যাদের কোমরে তিল থাকে তাদের ধনী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। দিন দিন তাদের সম্পত্তি সমৃদ্ধি হতে থাকে।

৪. বিয়ের পর অনেকেই প্রচুর সম্পদের মালিক হন। এক্ষেত্রে যাদের শরীরে যে কোনো স্থানে গাঢ় রঙের ও ছোট্ট আকারের তিল থাকে, তাহলে বুঝে নিন সেই নারী কিংবা পুরুষ বিয়ের পর ধনী হতে চলেছেন। 

৫. যদি কারো ডান হাতের চেটোতে তিল থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি খুব অল্প বয়স থেকেই সম্পত্তি পেতে থাকেন। ফলে সহজেই তাদের ধনী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৬. নাভির আশেপাশে বা চিবুকে তিল থাকা মানেও ধনী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

৭. বুকে তিল থাকলে সেই নারী বা পুরুষ সহজে ধনী হন। পাশাপাশি এরা খুবই শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করেন।

৮. এছাড়া কানের আশেপাশে তিল থাকলেও তার ধনী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

রিয়া ভট্টাচার্য, লেখিকা, খড়্গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর:

মনুষ্যজন্ম..... এক অন্তহীন খোঁজের ঠিকানা। রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে, সকল বিপদ তুচ্ছ করে মানুষ খুঁজে চলে, নব আবিষ্কার - স্বচ্ছল জীবন কিছুই তাকে বাঁধতে পারেনা পুরোপুরি।

একটি শিশু জন্মিয়ে আগে বাতাস খোঁজে, খোঁজে আলো। নিরন্তর অন্ধকারের সঙ্গে জীবনধারণের যুদ্ধ শেষে যখন পৃথিবীতে তার প্রথম পদচিহ্ন আঁকে সে, নতুন দুনিয়ার বর্ণ - শব্দে বিভ্রান্ত হয়ে কঁকিয়ে কেঁদে ওঠে৷ এরপরেই শুরু হয় তার নিরন্তর খোঁজের পালা, নতুন নতুন আশ্চর্য আবিষ্কার করতে করতে ধীরে ধীরে পরিনত হয়ে ওঠার পালা।

ভাগ্য কখনই ঈশ্বরদত্ত নয়। যদি তা হত, তবে চারিদিকে এত ব্যর্থতা - অনুযোগ - অসন্তোষ বা আত্মহননের পালা চলত না৷ বরং সবকটাকেই ঈশ্বরের দান হিসাবে মেনে নিয়ে মানুষ সুখে শান্তিতে বাস করত, এত দ্বেষ - হিংসার মেঘে ঢেকে যেত না পৃথিবী।

প্রতিটি মানুষ সুখী হতে চায়। নিজের প্রিয় মানুষের চোখে দেখতে চায় স্বীয় প্রতিচ্ছবি৷ তাই সে নিরন্তর খুঁজে বেড়ায় সেই একটি মানুষ যার সামনে আপন হতে নুয়ে আসে মাথা, যার চোখে চোখ পড়লে থমকে যায় সময়৷ প্রকৃত আত্মার আত্মীয় খুঁজে পাওয়া বড়ই কষ্টসাধ্য, একজীবনে অনেকেই খুঁজে পায়না তার প্রকৃত মনের মানুষটিকে৷ কারণ সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বদলায় তার চাহিদা, ভালোবাসার সংজ্ঞা। তাই সে খুঁজে চলে মানুষের মিছিলে, প্রকৃত ভালোবাসার সন্ধানে পাড়ি দেয় যোজন পথ৷ কখনো ঠকে, আহত হয়, বুক চেপে গুঙিয়ে ওঠে মনভাঙানিয়া যন্ত্রণায়.... তারপর আবার খুঁজে ফেরে, যতদিন না তার মন শান্ত হয়ে যায়, হতোদ্যম হয়ে পড়ে।

বিধাতা আমাদের ভাগ্য লেখেন কথাটা বড়োই আপেক্ষিক। আদপে দুর্বল মানুষ অলৌকিক শক্তির হাতে অদেখা ভবিষ্যৎ সঁপে শান্তি পায়। যদি বিধাতাই আমাদের ভাগ্য লিখতেন তবে কোনো মায়ের কোল অকালে শূন্য হত না।
হা রে মনুষ্য জনম!


কাজল ভট্টাচার্য, সিনিয়র জার্নালিস্ট, কলকাতা:

মামন হয়ে চাঁদে হাত বাড়ানো!

অ্যাকুয়ামেরিন, মুক্তো আর নীলা। হাতে জ্যোতিষসম্রাটের প্রেসক্রিপশন নিয়ে নিশ্চিন্তে ভদ্রাসনে ফিরলেন মাবাবা। এবার আর মামনের ডাক্তার হওয়া আটকায় কে? একবার আড়চোখে আকাশের দিকে তাকালেন বাবা। চোখাচোখি হয়ে গেলো চাঁদের সঙ্গে। "কেমন টাইট খাবি এবার দেখ !" মনে মনে বললেন বাবা।

মা বাবা মামনকে ডাক্তার বানিয়েই ছাড়বে।

আর সেই মেয়ে কিনা মোবাইল ঘেঁটেই কূল পায় না। বকাবকি ঝকাঝকি করেও বইয়ের পাতায় মন ফেরানো যায়নি মেয়ের। অগত্যা, শহরের এক দামী জ্যোতিষির শরণাপন্ন। গিরীশ পার্কের চেম্বারে বসে কয়েক আলোকবর্ষ দূরের গ্রহের গেরোমিকে গুঁড়িয়ে শায়েস্তা করার বিধান দিলেন জ্যোতিষ মহারাজ। অ্যাকুয়ামেরিন, মানসিক অস্থিরতার মোক্ষম দাওয়াই। চন্দ্রের অশুভ দৃষ্টিকে টাইট দিতে, ডানহাতের কনিষ্ঠাতে মুক্তা। সঙ্গে নীলা। শান্ত করবে অশুভ শনি মহারাজকে। পৃথিবী থেকে একশো কুড়ি কোটি কিলোমিটার দূরে শনিদেবের অবস্থান। কলকাতায় বসেই জ্যোতিষবাবাজি দিলেন শনিদেবকে শায়েস্তা করে। চাঁদতো কোন ছার! ওই তো, মাত্র তিন লক্ষ চুরাশি হাজার চারশো কিলোমিটার দূরে ঝুলছে। জ্যোতিষসম্রাটের ক্ষমতার বহরখানা বুঝুন ! আর মামনের মাবাবার কল্পনার দৌড়ও ! দুইয়ে মিলে দক্ষিণাও সেরকম। প্রায় হাজার তিরিশের ধাক্কা।

"তবে ডাক্তারি পড়ার যোগ দুর্বল।" বাস্তব সম্মত নিদানটা অবশ্য দিয়ে রেখেছেন জ্যোতিষসম্রাট। তবে বাবার যখন টেঁকের জোর আছে, সরকারি না হলেও বেসরকারি কলেজে মামনের ডাক্তারি পড়া হতেই পারে। মোট কথা বাঘ মারুক না মারুক, জ্যোতিষি মামুনের ভাগ্যে শেয়াল শিকারের সম্ভাবনাটা জিইয়ে রাখলেন। এটাই মজা জ্যোতিষের। অপশনটা হাতে রেখেই ভবিষ্যদ্বাণী। আর মক্কেলের হাল, আশায় মরে চাষার মতো।

কিন্তু ওসব চাঁদ, তারা, গ্রহ, নক্ষত্রের ধার পারতো না ভারতের ভূমিপুত্ররা। দ্রাবিড় সভ্যতার এই মানুষরা দিব্য চাষবাস করতো। খেতো-দেতো, ঘর সংসার করতো। আর আকাশ, তারা, গ্রহ, নক্ষত্র নিয়ে মাথা ঘামাতো আর্যরা। যাযাবরের জীবন। আজ এখানে তো কাল সেখানে। ওই তারা দেখেই অন্ধকার রাতে দিক ঠাহর করতো তারা। পারি দিতো অভীষ্টের দিকে। তারাই দেখাতো চলার পথ। এই নির্ভরতা থেকেই তাদের দৈনিক জীবনের নানা ঘটনাকে আর্যরা জড়িয়ে ফেলেছিলো তারার সঙ্গে। ওই ঘটনাতেই কি লুকানো ছিলো জ্যোতিষবিদ্যার ভ্রূন? ভারতে জ্যোতিষচর্চা কিন্তু ঢুকে পড়েছিল এই আর্যদের হাত ধরেই।

তবে জ্যোতিষবিদ্যার আতুরঘর ব্যাবিলন। সেখান থেকে ছড়িয়ে গ্রিকে। তখন জ্যোতির্বিজ্ঞান আর জ্যোতিষবিদ্যাকে খুব একটা আলাদা করে দেখা হতো না। কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়। জ্যোতিষচর্চায় যে ব্যাপারটা সবচেয়ে গুরুত্ব পায়, তা হলো সময়। ওই সময় ধরেই গ্রহের অবস্থান বুঝে ফেলেন জ্যোতিষিরা। আর ওই গ্রহদের কারসাজিতেই নাকি ঠিক হয়ে যায় জাতকের ভবিষ্যত। সময় যতো নির্ভুল, জাতকের ভবিষ্যত গণনা, ঠিকুজি- কোষ্ঠিও তত নিখুঁত।

মজার জায়গা এটাই।

ইতিহাসবিদদের মত,  প্রায় দু'হাজার বছর আগেই ব্যাবিলনে শুরু হয়ে গেছিলো জ্যোতিষ গণনার কাজ। কিন্তু কিভাবে? ঘড়ির বয়স তো সবে তিনশো তেষট্টি বছর। ১৬৫৬ সালে পেন্ডুলাম ক্লকের আবির্ভাব। তাহলে সেই দু'হাজার বছর আগে সময়ের চুলচেরা হিসেব-নিকেশ করতেন কিভাবে আদি জ্যোতিষিরা?

তার আগেও ঘড়ি ছিলো বটে। জলঘড়ি, ছায়াঘড়ি। দিল্লির যন্তর-মন্তরে ঠিক যেমনটা দেখা যায়। কিন্তু তাতে একটা গোটা দিনরাতকে সমান চব্বিশটা ভাগে ভাগ করা যেত কি ? তারপর তো আছে মিনিট, সেকেন্ডের চুলচেরা হিসেব, গণৎকাররা ঠিক যেমনটি চান। ঠিকুজি-কোষ্ঠির কোথাও কিছু ভুলভাল হলেই দোষ পড়ে সময়ের ঘাড়ে।

তাহলে ঘড়ি আবিষ্কারের আগেই জ্যোতিষবিদ্যার চল হলো কিভাবে ?

এতো আগে মুরগি, নাকি আগে মুরগির ডিম?

আর্যর আকাশ, অনার্যের মাটি। দুই ভিন্নমুখী সভ্যতা।

দুই বিপরীতমুখী স্রোত জীবনচর্চার। একটা হলো, অনুমান নিয়তি ভবিষ্যদ্বাণীর ওপর ভরসা করে বেঁচে থাকা। অন্যটা, বাস্তবের শক্ত উর্বর জমির ওপর দাঁড়িয়ে বাঁচা। আধুনিক দুনিয়াতেও ওই দুই স্রোতে ভেসে চলেছি আমরা। তবে অনেকেই আছে যারা মাটিতে দাঁড়িয়ে আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সাধ্য থাকলেও সাধ্যে কুলায় না। পরিশ্রমেও বিমুখ। শর্টকাট মারার গ্রহশান্তি। অগত্যা ভরসা মাদুলি, কবচ, পাথরের। ঠিক যেমনভাবে মামনকে যেতে হলো অ্যাকুয়ামেরিন, মুক্তো আর নীলার ভরসায়।

সারাক্ষণ নাকি মামনের মুখগোঁজা মোবাইলে। কেন?

সোশ্যাল মেডিয়াতেই হয়তো নিজের একটা ছোট্ট দুনিয়া বানিয়ে ফেলেছে সে। উঠতি বয়স। মাথায় কিলবিল করছে অজস্র প্রশ্ন। সেসব মাবাবার সঙ্গে শেয়ার করা যায় না। কারণ মাবাবার কাছে ক্লাস টুয়েলভের মামন আজও কামগন্ধহীন এক দেবশিশু। তাই মামন আজ নিঃসঙ্গ।

ব্যাপারটা মানসিক। কিন্তু তা পাত্তা দেয় কে ? তাই সব দোষ বর্তালো ওই চাঁদ, তারা, গ্রহ, নক্ষত্রের ওপর।মনোবিদের বদলে মুশকির আসান হলো জ্যোতিষ।

শনি মহারাজের কলকাঠি নাড়া না। আসল চক্রান্ত হয়ত করে চলেছে মামনের লিম্বিক সিসটেম। এই সিস্টেমের জন্যই আবেগে সাড়া দেয় আমাদের শরীর। উঠতি বয়সের ছেলেমেয়ে মাত্রই আবেগপ্রবণ। কেউ কম কেউ বেশি। এই আবেগই মারাত্মক সব ভুলভাল কাজ করিয়ে নেয় মামনদের দিয়ে।

পড়াশোনায় মন না বসার এই ঘটনা হতে পারে 'অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি)'। বাচ্চার থেকে নিয়ে বড়রাও এই সমস্যায় ভুগছে এখন। তাল কেটে যায় ব্রেনের। সমস্যা দেখা দেয় আবেগ নিয়েও। এন্ডোক্রিনোলোজিক ডিসটার্বেন্সের খেসারত দিতে দুর্বল হয়ে যায় পড়াশোনা বা জ্ঞান বাড়ানোর স্বাভাবিক প্রবণতা। সবমিলিয়ে চেপে বসে দারুণ অমনোযোগ।

এই যাবতীয় সমস্যার দাওয়াইয়ের সন্ধান নিয়ে বসে আছেন ডাক্তার বৈদ্যরা। তাদের আয়োজনও রাজকীয়। আছে কাউন্সেলিং। তাঁরা যে কাজটা অনায়াসেই করে দিতে পারতেন, তা হলো মামনের নিজের দুনিয়ায় পুনর্বাসন। ফিরিয়ে দিতে পারতেন মামনের মনসংযোগ। কিন্তু কোনও মতেই মামুনকে ডাক্তারি পড়ানোর ব্যবস্থা করে দিতে পারতেন না বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররাও।

কিন্তু মেয়ের অসুস্থতা চোখেই পড়লো না মাবাবার। তাদের দুচোখ ঢাকা গলায় স্টেথো ঝোলানো মামনের স্বপ্নকল্পে। মেয়ের স্বপ্নপূরণে না, আসলে নিজেদের স্বপ্নপূরণেই ব্যস্ত মাবাবা। কেউ জানতেও চাইলো না মামনের মনের কথা। তার স্বপ্নের কথা। অতএব, জ্যোতিষের প্রেসক্রিপশনেই মতলব হাসিলের চালাকি। তার ঘটকালিতেই মিতালি গ্রহ, নক্ষত্রের সঙ্গে। তারপর স্বপ্নপূরণের রাস্তায় এগিয়ে যাওয়া। নির্ঝঞ্ঝাট। মসৃণ যাত্রাপথে পারি। ওলা উবেরে ঠ্যাং নাচাতে নাচাতে অফিস টাইমের ভিড়ভাট্টার রাস্তায়, দমদম থেকে গড়িয়ে যাওয়ার নিশ্চিন্তি। তাতে পঁচিশ ত্রিশ হাজার যায় তো যাক না!

বিজ্ঞানের এই শত সহস্র যুক্তি, বিশ্লেষণের মধ্যে গিয়ে হবেটা কী? বড্ড জটিল। ডাক্তার বৈদ্যর যুক্তিগুলিও কেমন যেন খটমটে। নীরস। তারচেয়ে অনেক বেশি মজার জ্যোতিষির ডায়াগনসিস। সুন্দর সুন্দর সব পাথর নিয়ে কারবার। দারুণ এক রহস্যে ঘেরা গ্রহ, তারা, নক্ষত্র, নীহারিকার ওই সংসার। সেই ঘন কালো আদি অন্তহীন অন্ধকারে বাস শনি, মঙ্গল, রাহু, কেতুর। তাদের হাতেই মামনদের জীয়নকাঠি, মরণকাঠি। দারুণ রোমান্টিক ব্যাপার- স্যাপার। আঙুলের ডগায় দু'রতি, পাঁচরতির নীলা, পোখরাজ ঝুলিয়ে সরাসরি সেই অজানা দুনিয়ায় ঢুকে পড়া। গা ছমছমে রোমাঞ্চ!

অজানার ওপর আমাদের টান তো জন্মগত।

"বিস্ময়ে তাই জাগে, জাগে আমার গান আকাশ ভরা সূর্য তারা।"

এই সূর্যই একমাত্র তারা। যার ভ্রূকুটিতেই নিমেষে উধাও হয়ে যেতে পারে পৃথিবীর প্রাণের অস্তিত্ব। আমাদের ওপর খানিকটা দাদাগিরি চালায় চাঁদও। আর সব ফেকলু। দিনের শেষে, আমরাই আমাদের নিয়ন্ত্রণকর্তা। কিন্তু মামনের মাবাবা ভালভাবেই জানেন, মেয়ে তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই বাঁকা রাস্তায় হাঁটা ছাড়া উপায় কি ?

আমরাই সূর্যকে নিয়ে গান বাঁধি। কাব্য করি চাঁদকে নিয়ে। কারণ আমরাই 'অমৃতস্য পুত্রা'।  সবার ওপরে মানুষ সত্য তাহার ওপরে নাই।

মামন এবার চাঁদ ছোঁবেই ছোঁবে।

(তথ্যসূত্র ডাক্তার সোহিনী মুখার্জি চক্রবর্তী)


গৌতম দাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার, রাজ্য আবগারি দফতর ও লেখক, কলকাতা:

"মঙ্গলে ঊষা বুধে পা
যথা ইচ্ছা তথা যা"।                                          "যে না শোনে খনার বচন
সংসারে তার চির পচন"৷                                    এ সব ই খনার বচন, আজও ভিশন ভাবে প্রাসঙ্গিক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু জনহিতকর সঙ্কেত লুকিয়ে আছে খনার  প্রতিটি ছড়ার মধ্যে।
সত্যিই এক কিংবদন্তী বিদুষী নারীর নাম 'খনা', তাকে নিয়ে অজস্র প্রচলিত কাহিনী ছড়িয়ে আছে আছে সারা বাংলা জুড়ে। খনার জন্ম বা বাসস্থান সম্পর্কে কিন্তু সঠিকভাবে তেমন কিছু তথ্য পাওয়া যায় না, তবে যেটুকু জানা যায়, 800 থেকে 1200 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এই বাংলাদেশেই তার আবির্ভাব ঘটেছিল। ধারণা করা হয় তাঁর বসবাস ছিল এই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাতের দেউলি গ্রামে। শোনা যায় তাঁর পিতার নাম ছিল অটনাচার্য। অটনাচার্যই যে খনার বাবা ছিলেন, এর ঐতিহাসিক ভাবে কোনো ভিত্তি নেই, শুধু খনার একটি বচনে 'অটনাচার্য' নামটির উল্লেখ আছে বলে, তাকেই খনার বাবা বলে অনুমান করা হয়। বচনটি অনেকটা এরকম:- “আমি অটনাচার্যের বেটি, গণতে গাঁথতে কারে বা আঁটি”                                                                এই ধারণা অনুসারেই মনে করা হয় খনা বেড়ে উঠেছিলেন রাজা ধর্মকেতুর আমলে, এই দেউলি এলাকার মাটি খনন করে বেশ কিছু প্রাচীন নিদর্শনও পাওয়া গেছে, তাই ধারণা করা হয় এই সব ধ্বংসাবশেষই রাজা ধর্মকেতুর রাজ্য, চন্দ্রকেতুর রাজত্বের   হারিয়ে যাওয়া কিছু নিদর্শন। স্থানীয় লোকেরা এখানে বেশ কিছু পাকা সমাধি বা ঢিবির মতো অংশ খুঁজে পান। এই ধ্বংসপ্রাপ্ত ঢিবির মধ্যে একটিকে খনার সমাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। স্থানীয় মানুষরা একে 'চন্দ্রকেতু গড়' এবং ‘খনা-মিহিরের ঢিবি’ বলেও জানে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তত্ত্বাবধানে এখানে দীর্ঘ দিন ধরে খননের কাজ হয়েছে, বহু প্রাচীন পোড়া মাটির সামগ্রী, মূর্তি এবং নিত্যব্যবহার্য জিনিস উঠে এসেছে মাটির তলা থেকে, বহু জিনিস স্থানীয় এক সহৃদয় ব্যক্তির ব্যাক্তিগত সংগ্রহে রাখা আছে।
খনার বচন কেন এতদিন ধরে মানুষ মনে রেখেছে, খনার বচনে অসাধারণ এবং অতি সহজ ভাবে উঠে এসেছে সমাজের জন্য হিতোপদেশ, কোন কাজ কখন করলে ভালো হবে, কখন করলে খারাপ হবে, কোন পরিস্থিতিতে বা কি লক্ষণগুলো দেখলে বোঝা যাবে ঝড়, তুফান বা বন্যা হতে পারে, বিশেষ করে চাষবাস সংক্রান্ত নানান বিধিনিষেধ, যেমন কোন মাসে কোন ফসল ভালো হবে, কি ভাবে কোন ফসলের বীজ বপন করলে উত্তম ফসল হবে, কি ভাবে গাছ লাগালে ভালো ফল হবে ইত্যাদি নানান বিষয়ে অদ্ভুত সব প্রয়োজনীয় উপদেশ দিয়ে গেছিলেন খনা সেই প্রাচীনকালে, তার সহজ বচন বা ছড়ার মাধ্যমে।
কথিত আছে খনা ছিলেন সে যুগের একজন বিদুষী নারী, তার নামে এখনও বহু ছড়া বা বচন মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত আছে গ্রামে-গঞ্জে এমনকি শহরেও।কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে এই খনার নাকি জিভটাই কেটে নেওয়া হয়েছিল তার বাগ্মিতার জন্য! তার স্বামী ও শ্বশুর মিলেই নাকি খনার জিভ কেটে নিয়েছিলেন। কিন্তু কেনোই বা খনার এমন পরিণতি হয়েছিল, যদিও এই বিষয়ে অনেক বিতর্ক আছে, অনেকেই এই ঘটনাকে ভুল বা অতিরঞ্জিত গল্প মনে করে। তবু বিদুষী খনার জিব কেটে নেওয়ার প্রচলিত গল্পটা একটু শুনে নেওয়া যাক, খনার শ্বশুর বরাহ কাজ করতেন রাজা বিক্রমাদিত্যের রাজসভায়, খনার স্বামী মিহিরও একসময় পিতার সাথে যোগ দেন রাজসভায় কাজে এবং এরা দুজনেই জ্যোতিষবিদ্যায় যথেষ্ট  বুৎপত্তি ও খ্যাতি লাভ করেন। একদিন হঠাৎ তাদের গণনায় একটি সমস্যা দেখা দেয়, কোনোভাবেই সেই সমস্যার সমাধান করতে পারছিলেন না জ্যোতিষবিদ্যায় পারদর্শী পিতা-পুত্র। এমন অবস্থায় অতি সহজেই সেই সমস্যার সমাধান করে দেন লীলাবতী অর্থাৎ খনা। এই ঘটনায় রাজা বিক্রমাদিত্যের প্রশস্তি লাভ করে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেলেছিলেন বিদুষী খনা। এতেই প্রমোদ গুনলেন তার স্বামী ও শ্বশুর, ভাবলেন এবার বোধহয় তাদের সভাসদের পদ চলে যাবে, তাদের জায়গা অধিকার করে নিতে পারে সামান্য এক নারী, তাদের আত্মসম্মান বোধে সাংঘাতিক আঘাত লাগলো, এরপর এই বিষয়ে খনার সাথে তাদের অনেক তর্কও হয়, কিন্তু একজন নারীর সঙ্গে তর্কে এঁটে উঠতে না পেরে এবং রাজার সভাসদের পদ হারানোর ভয়ে বরাহ অর্থাৎ খনার শ্বশুর তার পুত্র মিহির অর্থাৎ খনার স্বামীকে আদেশ দেন খনার  জিভ কেটে নেওয়ার জন্য, যাতে চিরকালের মতো খনার কথা বন্ধ হয়ে যায় আর বরাহ-মিহিরের আধিপত্য রাজসভায় বজায় থাকে! তারপরই স্বামী আর শ্বশুর মিলে খনার জিভটাই কেটে দেন, যেটুকু গল্প জানা যায়, ওই ক্ষতস্থান থেকেই প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে, আর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই নাকি খনার মৃত্যু হয়। কথিত আছে, জিভ কেটে নেওয়ার আগে তিনি আবেদন জানিয়েছিলেন, যেন তাকে শেষবারের মত কিছু কথা বলতে দেওয়া হয়, কারণ জিভ কেটে নিলে সেই কথা গুলো আর কোনোদিন তার পক্ষে বলা সম্ভব হবে না। খনাকে সেই অনুমতি দেওয়াও হয়েছিল, যতদূর জানা যায়, তখন কোনো একজন সেই সব কথাগুলো লিখে রেখেছিলেন বা কেউ শ্রুতিতে ধরে রেখেছিলেন, পরবর্তী কালে সেই কথা গুলোই 'খনার বচন' হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করে। খনা সম্পর্কে টিকটিকি নিয়ে একটি ধারণা প্রচলিত আছে, খনার জিভ যখন কাটা হয়, ঘটনাক্রমে সেই জিভের কর্তিত অংশ নাকি খেয়ে ফেলেছিল একটি টিকটিকি, ফলে সেই টিকটিকিও খনার জ্ঞান লাভ করে। সত্য-মিথ্যা যাইহোক বা অতিরঞ্জিত গল্পও মনে হতে পারে তবু আজও মনে করা হয়, মানুষের কোনো কথায় সত্যতা পেলে তাকে সমর্থন করে দেওয়াল থেকে 'টিক-টিক টিক-টিক' শব্দে ডেকে ওঠে  টিকটিকি অর্থাৎ ঠিক-ঠিক ঠিক-ঠিক...


Rasifol
চন্দ্রাবলী বন্দ্যোপাধ্যায়, ম্যানেজিং এডিটর  দ্য অফনিউজ,সপ্তাহের ষষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এই দিনের অধিপতি দেবী হল মা লক্ষী এবং অধিপতি গ্রহ হল শুক্র গ্রহ। এই বারে জন্মালে জাতক-জাতিকার শুক্রের প্রভাব একটু বেশি থাকে। এইবারে জন্মানো জাতক-জাতিকাদের ঘরের সাজসজ্জা শপিং এসবের দিকে একটু বেশি ঝোঁক থাকে। এদের মন স্বচ্ছ হয়, এরা সহনশীল বুদ্ধিমান, মিষ্টি স্বভাব, বুদ্ধিমান ও ভাবুক প্রকৃতির হয়ে থাকে। এরা যেকোন সমস্যার সঙ্গে ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারে। এরা জীবনের সমস্ত রকমের সুখ ভোগ করে থাকে। এরা সব সময় অপরকে সাহায্য করার জন্য নিজেকে তৈরী রাখে। এরা খুব রোমান্টিক, চতুর ও খুব ধনী হয়। শিল্পকলা, সংগীত এদের খুব প্রিয় হয়। বিশেষ করে এরা সংগীত খুবই ভালবাসে। এরা দেখতে ফর্সা ও খুব সুন্দর হয়ে থাকে।এরা সাজসজ্জা বা শৃঙ্গার করতে খুব ভালবাসে। এরা যখন কোথাও যায় নিজেকে খুব পরিপাটি করে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে যেতে ভালোবাসে। এরা খুব পরিচ্ছন্ন হয় এবং পরিপাটি হয়ে থাকতে ভালোবাসে। এরা মিষ্টি কথায় অপরের পেট থেকে কথা বার করে নেয় কিন্তু নিজের কথা কাউকে জানতে দেয় না। এরা খুব চঞ্চল প্রকৃতির হয়। এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারে না। এরা একা একা থাকতে পারে না, এরা প্রচুর বন্ধুর সঙ্গ পছন্দ করে, এদের একাধিক বন্ধু হয়। এদের সুগার, গলার সমস্যা, জন্ডিস, চোখের সমস্যা ও জ্বর ইত্যাদির সম্ভাবনা থাকে। এরা প্রশংসা পেতে খুব ভালবাসে তাই যেকোনো কাজ খুব নিষ্ঠার সাথে করে। এদের একাগ্রতা খুব ভালো হয় তাই এরা অনেক ক্ষেত্রে সমস্ত রকম কাজে সাফল্য পায়। এদের একাধিক প্রেম হয় কিন্তু নিজের প্রেমের প্রতি খুব নিষ্ঠাবান হয়। এদের দাম্পত্য জীবন খুব সুখের হয়। এদের শুভবার বুধবার, শুক্রবার। শুভ সংখ্যা 7, শুভ রঙ গোলাপি, কমলা, লাল।


Rasifol
চন্দ্রাবলী বন্দ্যোপাধ্যায়, ম্যানেজিং এডিটর, দ্য অফ নিউজঃ বৃহস্পতিবার জন্ম হলে কিছু বিশেষ প্রশংসনীয় কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থাকে। এটি সপ্তাহের পঞ্চম দিন। এই দিনের পতি পতি দেবতা হল বৃহস্পতি। এই বারে জন্মালে জাতক-জাতিকারা বিচক্ষণ ও সাহসী হয়ে থাকে।এরা খুব দয়ালু সাহসী হয়ে থাকে এবং খুব আবেগপূর্ণ হয়ে থাকে আবেগের বশবর্তী হয়ে এরা যে কোন কাজ সহজে করে ফেলতে পারে। এটা লম্বা ফর্সা ও সুন্দর হয়ে থাকে। এদের 7, 12, 13, 16 ও 30 বছর বয়সে কিছু সমস্যা আসে এবং নিজেরাই সে সমস্যা অতিক্রম করে বেরিয়ে আসতে পারে। এরা খুব উৎসাহের সঙ্গে জীবনটাকে উপভোগ করে ভবিষ্যতের কথা খুব কম ভাবে। বর্তমানকে নিয়ে বেশি মাথা ঘামায়। বৃহস্পতিবার জন্মানো মেয়েরা ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি হয়ে থাকে এবং পূজা-অর্চনা থেকেও এরা খুব মনোযোগী হয়ে থাকে। এটা খুব দয়ালু হয়ে থাকে এবং অনেক মানুষকে অনেক সাহায্য করে, উপকার করে। পরবর্তীকালে হীরা লোভের বশবর্তী হয়ে পড়ে। লিভার, আর্ট জনিত অসুখে ভুগতে পারে এবং হঠাৎ চেহারা স্থূল হয়ে যেতে পারে। তাই শরীরের প্রতি প্রতি বিশেষভাবে যত্ন নেওয়া উচিত। এটা খুব চিন্তাশীল ও বুদ্ধিমান হয়ে থাকে। এরা সাধারনত ধার্মিক, দার্শনিক, পত্রকার রাজনীতিবিদ, লেখক প্রভৃতিতে সাফল্য লাভ করে থাকে। এরা যাকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে নির্বাচন করে সর্বদাই তার সঙ্গ দিয়ে থাকে। তাই বিবাহিত জীবন সুখের হয়। এদের শুভ সংখ্যা 4 ও শুভ রঙ হলুদ এবং শুভবার বৃহস্পতিবার, মঙ্গলবার।


চন্দ্রাবলী বন্দ্যোপাধ্যায়,
Rasi fol
ম্যানেজিং এডিটর,দ্য অফ নিউজঃ কেমন হতে পারে বুধবারের জাতক জাতিকার স্বভাব চরিত্র এবং ভাগ্য? সেই নিয়ে আজ আলোচনা করব। সপ্তাহের চতুর্থ দিন হলো বুধবার, বুধবার মানেই গণেশ ঠাকুরের দিন, অর্থাৎ বুধবারের অধিপতি দেবতা হল গণেশ ঠাকুর। আর অধিপতি গ্রহ হল বুধ। বুধবারের জাতক জাতিকারা ধর্ম ও কর্মের উপর আস্থা রাখে। এরা খুব বেশি মোটা হয় না মাঝারি হয়ে থাকে। গায়ের রং শ্যামলা হয়ে থাকে আর হাইট মাঝারি হয়। মাথার চুল হালকা কোঁচকানো হয়। এদের মন হয় দোটানা এবং বুদ্ধি খুব তীক্ষ্ণ হয়। অন্যের মন জয় করতে খুব পটু হয়ে থাকে। অন্যের চোখে খুব আকর্ষণীয় হয়ে থাকে, এরা খুব মিষ্টভাষী হয়ে থাকে। এটা লোকজন খুব পছন্দ করে মানুষের সাথে মিশতে ভালোবাসে । 8 বছর এবং 22 বছরে একটু সমস্যা হয়ে থাকে। কিন্তু নিজেরাই বুদ্ধি তারা সে সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। এরা বন-জঙ্গল নিরিবিলি জায়গা এবং শ্মশান খুব পছন্দ করে।বুধবারের জন্মগ্রহণকারী মহিলারা খুব রাগী হয়ে থাকে ।এরা রাগে হাতের জিনিসপত্র ছুঁড়ে ফেলতে শুরু করে এবং খুব চেঁচামেচি করে। এরা খুব স্পষ্টবাদী হয়। আমার খুব মিষ্টি করে কথা বলতে পারে। বুধবারে জন্মায় যে সমস্ত পুরুষরা তারা অত্যন্ত পিতৃভক্ত হয়ে থাকে, আর মামাদের সাথে খুব সৎভাব থাকে। এরা ব্যবসায় খুব নিপুণ ও দক্ষ হয়, এমনকি শিল্পকলাতেও খুব নিপুণ ও দক্ষ হয়। এদের খুব পেটের সমস্যা হয়, পিত্ত জনিত রোগে ভোগে। ঋতু পরিবর্তনের সময় মেয়েদের সমস্যা হয়। এরা খুব কল্পনাবিলাসী হয়ে থাকে। জানানো রকম বক্তৃতা ও কথাবার্তার মাধ্যমে মানুষের মন জয় করে থাকে। খুব অল্প পরিশ্রমেই এরা অনেক সাফল্য লাভ করে।এদের ব্রেনটাকে এরা যেভাবে খুশি খাটাতে পারে। এরা যদি ভালো হয়, খুব ভালো হয়, আর যদি খারাপ হয় তেমনি খুব খারাপ হয়। ভালোর দিকে গেলে এরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার খুব বড় শিল্পী হতে পারে। আর খারাপ দিকে গেলে পরে এরা ক্রিমিনাল হতে পারে।এদের জীবনে একাধিক প্রেম আসে, কিন্তু এরা যাকে ভালবাসে তাকে অন্তর থেকে ভালোবাসে তাকে কখনোই ধোকা দেয় না। ঈদের বন্ধু ভাগ্য খুব ভালো হয়, বন্ধুও হয় প্রচুর। এদের শুভ সংখ্যা 3 ও 6 শুভ রঙ সবুজ, নীল, বেগুনি।


rasi fol
চন্দ্রাবলী বন্ধ্যোপাধ্যায়, ম্যানেজিং এডিটর,দ্য  অফনিউজ): অনেকেই মনে করেন মঙ্গলবারের জাতক
 জাতিকা বেশিরভাগ মাঙ্গলিক হয়। কিন্তু এ ধারনা অমূলক। কিন্তু একটা কথা, যে মঙ্গলবারকে কোনো শুভ বারের মধ্যে ধরা হয়না। এই বারের অধিপতি দেবতা হলো হনুমানজী। আর অধিপতি গ্রহ হলো মঙ্গল। মঙ্গলবারের জাতক জাতিকারা শ্যামলা বর্ণের বা মাঝারি বর্ণের হয়ে থাকে। এদের কিছু সুবিধা থাকে আবার কিছু কিছু অপগুণ থাকে। এদের প্রচুর ধৈর্য্য, স্থিতি লক্ষ্য করা যায়, এরা যে কোনো কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার ক্ষমতা রাখে। এরা খুব সংঘর্ষ প্রিয় ও চঞ্চল হয়। মঙ্গলবারের জাতক জাতিকার প্রেফেসান গুলো দুঃসাহসিক হয়। যেমন পাহাড়ে ওঠা, সার্জারি এ সব কাজে তাদের ঝোঁক থাকে। মঙ্গলবার জন্মালে যদি পঞ্চম স্থান ভালো থাকে তবে তার উচ্চশিক্ষার যোগ থাকে বা জীবনে প্রভূত উন্নতি করে। এরা খুব সরাসরি কথা বলা পছন্দ করে এবং অসহায় মানুষের পাশে সব সময় থাকে। নেতৃত্ব করার ক্ষমতা রাখে। নারীরা মঙ্গলবারের জাতকদের খুব পছন্দ করে। কিন্তু মঙ্গলের জাতক জাতিকা যদি অন্য কোনো গ্রহের দ্বারা দুষ্ট হয় তবে এরা দুঃসাহসিক কাজ বা কথা বলে থাকে। এদের বড় সমস্যা হলো, এদের প্রচুর গোপন শত্রু থাকে। এবং যাকে বিশ্বাস করে তার থেকে বিশ্বাসঘাতকতা পায়। কারণ এরা এতটাই বোল্ট হয় যে এদের সামনে কেউ কথা বলার সাহস রাখেনা। এদের প্রেমে বিশ্বাসঘাতকতা আসে। এরা খুব জনপ্রিয় হয়। কর্ম ক্ষেত্রে প্রতারিত বা বিশ্বাসঘাতকতার যোগ থাকে। মঙ্গলবার জন্মালেই যে জাতক জাতিকা মাঙ্গলিক হবে এমন ধারনা ভুল। এটি সব ভালো গ্রহের মধ্যে একটি গ্রহ।

rasichakra
চন্দ্রাবলীবন্দোপাধ্যায় ম্যানেজিং এডিটর দ্য অফনিউজঃ আমরা নানারকম জ্যোতিষশাস্ত্রের বিভিন্ন দিক আলোচনা করি। আজ বলবো সপ্তাহের বার অনুযায়ী জাতক জাতিকারা কেমন হয়ে থাকেন বা তাদের ভাগ্য,ব্যক্তিত্ব, স্বভাবচরিত্র কেমন হয়ে থাকে। সোমবারের জাতক জাতিকা :- সোমবার হলো শিব ঠাকুরের দিন। আর সোমবারের জাতক জাতিকার উপর চন্দ্রের প্রাধান্য থাকে। এদের মধ্যে একটি জিনিস লক্ষ্য করা যায়, এরা বেশিরভাগ সময় হাসিখুশি থাকে এবং খুব মিষ্টভাষী হয়ে থাকে, সেই জন্য জীবনের সব রকম পরিস্থিতির জন্য সর্বদাই প্রস্তুত থাকেন। তাই যে কোনো রকম সমস্যার সহজেই সমাধান করে থাকেন। এরা সাধারনত খুব বেশি লম্বা না হয় একটু বেঁটে মত হয়ে থাকেন। এরা খুব বুদ্ধিমান, কলাকুশলী, সাহসী ও সৎ হয়ে থাকেন। এবং সবচেয়ে মজার বিষয় এরা দিনের থেকে রাতেরবেলা কে বেশি পছন্দ করে থাকে। এদের একটু ঠান্ডা লাগার ধাত থাকে তাই এরা প্রায় সর্দিকাশিতে ভোগে। এদের জীবনে নয়, বারো, সাতাশ বছর বয়সে একটু সমস্যা আসে। কিন্তু বাকি জীবন প্রেম ও আরামে কাটে। সোমবার জন্মগ্রহণকারি পুরুষরা, মহিলাদের প্রতি শালীন, শান্ত ও ভদ্র হয়ে থাকে। সোমবারের জাতক জাতিকার প্রেমের প্রভাব খুব প্রবল হয় এবং প্রেমের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকে। এরা একবার যাকে ভালোবাসে তার প্রতি সর্বদা বিশ্বাসী রূপে প্রকাশ পায়। এরা প্রেম বিবাহে তৎপর হয় কিন্তু যদি প্রেম বিবাহ না হয় তবে প্রথম প্রেমের নিয়ে সারাজীবন ভাবতে থাকে, তবে পরে নিজেকে সামলে নেয়। এরা চট করে সবাইকে খুব বিশ্বাস করে তাই ঠকে যায় পলে পলে। এরা খুব আবেগ পূর্ণ হয়ে থাকে। কেউ বিপদে পড়লে তাকে যথাসাধ্য সাহায্য করে থাকে। এরা খুব অভিমানী হয়ে থাকে। আর খুব সহজেই মানুষের সাথে মিশতে পারে। এই বারের জাতক জাতিকারা শিল্পী, সাহিত্যিক ও জননেতা হয়ে থাকে। এরা কাপড়ের ও পাথরের ব্যবসায় প্রভূত উন্নতি সাধন করে।এদের শুভ রঙ সাদা, শুভ নম্বর দুই ও শুভ বার সোম, রবি ও শুক্র।