Articles by "ট্রফির কফি ঝড়"
Showing posts with label ট্রফির কফি ঝড়. Show all posts

দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম:

ফুটবল ফুটবল, বাঙালির সেরা খেলা ফুটবল। রূপালী পর্দার ধন‍্যি মেয়ের ফুটবলের জয়গান দেখা গেল ইক্ষু সাড়া সেভেন স্টার ক্লাবের ফুটবল প্রতিযোগিতায়। প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন অনুব্রত মণ্ডল। শুধু তাই নয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার সাথে উপস্থিত ছিলেন অনুব্রত। উপস্থিত ছিলেন ইলাম বাজার ব্লক সভাপতি ফজলুর রহমান, সুদীপ্ত ঘোষ সহ অন‍্যান‍্য নেতৃত্ব। 

মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ফুটবল খেলার পৃষ্ঠপোষক। একুশের বিধান সভা নির্বাচনে "খেলা হবে" শ্লোগান এক রাজনৈতিক মাত্রা রাখে। 

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে অনুব্রতবাবু বোলপুর জেলায় বাস্কেট বল খেলার কথা উল্লেখ করেন৷ তিনি বলেন, "আমরা বাস্কেট বল অনেক খেলেছি, বহু জায়গায় গিয়েছি৷ সব বোলপুরের ছেলেমেয়েদের নিয়ে৷ এখন বাঙালিদের মধ্যে খেলাধুলো কমে গিয়েছে৷ আদিবাসী ভাই-বোনেরা এই খেলাধুলোকে ধরে রেখেছে৷ এই জন্য তাঁদের আমি অশেষ ধন্যবাদ জানাই৷"

অনুব্রতবাবু আরও বলেন, "আমি চাইব, খেলাধুলোটা আবার জোর করে সবাই নামুক৷ আমাদের বাড়ির ছেলেমেয়েরা কেউ খেলতে চাইছে না৷ খেলা দরকার৷ বোলপুর-বীরভূমে আবার খেলাটা ফিরে আসুক।"

এদিন রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, "খেলার মাঠের লোক আমরা৷ খেলার মাঠে সব সময় ছিলাম, আবার এসেছি। আমরা চাই এভাবেই খেলাধুলো বীরভূমে ছড়িয়ে পড়ুক৷ মুখ্যমন্ত্রীও চান খেলাধুলোর প্রসার হোক৷"

(www.theoffnews.com football Birbhum)

সুকন্যা পাল, ম্যানেজিং এডিটর, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

না, এরা দুজনের কেউই সেই অর্থে সমাজের সম্ভ্রান্তের সম্প্রদায়ভুক্ত নয়। নয় এরা দুজনের কেউই উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া গোষ্ঠীর কেউ কেটা। আসলে তারা শুধু স্বপ্ন দেখতো। আর স্বপ্নকে সার্থক রূপায়ণের জন্য অর্জূনের পাখির চোখ করেছিল কঠিন মরণপন পরিশ্রমের সঙ্গে নিষ্ঠাকে। আজ সেই নিষ্ঠার একেকটা সিঁড়ি বেয়ে যুগলে যে ভারত বিখ্যাত ক্যারাটে ক্রীড়াবিদের শিরোপা দখল করে নিল এক আন্তর্জাতিক কোর্ট থেকে।

কর্ণাটক রাজ্য ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশন আয়োজন করেছিল এক আন্তর্জাতিক ক্যারাটে প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় শিমোগা নামক শহরে। দুই দিন ব্যাপী এই প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়েছিল চলতি বছরের ১৯ ও ২০ আগস্ট। এই আন্তর্জাতিক ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় নেপাল, জাপান, আমেরিকা, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মতো দেশগুলো। এহেন ক্রীড়া অনুষ্ঠানে মোট ২,৮০০ প্রতিযোগী অংশ নেন। এদের মধ্যে রৌপ্য পদক জয় করে নেয় সমাপ্তি কোলে এবং সৌম্যদীপ কাঁড়ার।

প্রথমজন সমাপ্তি কোলের বয়স ষোল। পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার উদয়নপুর ব্লকের অন্তর্গত পাঁচারুল অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রাম কাঁকরাইয়ের বাসিন্দ। আর বছর চোদ্দর সৌম্যদীপ কাঁড়ার থাকে হুগলি জেলার জাঙ্গিপাড়া ব্লকের রঞ্জেপুর গ্রামে। এই দুই ক্যারাটে কুশলীর কারণে আক্ষরিক অর্থেই গোটা রাজ্য আজ গর্বিত ক্যারাটের আঙিনায়।

সদ্য আয়োজিত আন্তর্জাতিক ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় দুই রৌপ্য পদকজয়ী সমাপ্তি কোলে ও সৌম্যদীপ কাঁড়ারের সাফল্যকে নিয়ে যখন রাজ্যবাসী যখন সন্তোষ প্রকাশ করছেন তখন তাঁদের প্রশিক্ষক রঞ্জিত ধাড়া বলেন, "এই দুইজন আমার কাছে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বিগত চার বছর যাবৎ। এরা ভীষণ প্রতিশ্রুতিবান। এদের সাফল্য ভবিষ্যতের জন্য আমার আরও দায়িত্ব বাড়িয়ে দিল।" অন্যদিকে সমাপ্তি কোলে ও সৌম্যদীপ কাঁড়ার একযোগে মন্তব্য করে, "আমরা হাওড়ার কাঁকরাই ক্যারাটে সোসাইটিতে নিয়মিত ক্যারাটে চর্চা করি। সেনসাই রঞ্জিত ধাড়ার উৎসাহেই আজ আমরা এই সাফল্য অর্জন করেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো ক্যারাটেকে সম্বল করে আন্তর্দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমাদের এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

(www.theoffnews.com - karate)

(www.theoffnews.com - Soudi Arabia women boxing competition)
 

(www.theoffnews.com - Euro football semifinal blood donation)
 

সুকন্যা পাল, ম্যানেজিং এডিটর, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

ফাগুন মরশুমে মেঘলা আকাশ। এমনই আদুরে আবহে একটা ক্রিকেট প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পুরুলিয়ার লাল মাটিতে। আর তারই সঙ্গে রচিত হয়ে গেল এই মালভূমির জেলায় এক অনন্য ইতিহাস। হ্যাঁ প্রকৃতই ইতিহাস। কারণ মাঠ জুড়ে ব্যাটে ও বলের লড়াইয়ের কুশীলব যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা। শুক্রবার এমনই অভিনব ক্রিকেট খেলাটি অনুষ্ঠিত হলো বাংলা একাদশ বনাম ঝাড়খণ্ড একাদশের মধ্যে।

পুরুলিয়ার একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল। কাঁটাডি রেলস্টেশনের অনতিদূরে বিবেকানন্দ গ্রাম। সেই মেঠো পথেই রয়েছে নরেন্দ্রদেব বিদ্যা নিকেতনের প্রশস্ত খেলার মাঠ। কলকাতার সমাজসেবী সংস্থা ভয়েস অফ ওয়ার্ল্ডের উদ্যোগে এদিন এখানে আয়োজিত হল দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের এক আমন্ত্রণী ক্রিকেট ম্যাচ। প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের উদ্বোধনী ভাষণে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা গার্গী গুপ্ত বলেন, "আমরা এই এলাকার প্রতিবন্ধী মানুষের আবাসিক পুঁথিগত শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তারই দৃষ্টান্তে এই ক্রিকেট খেলার আয়োজন।"

বিশেষ অতিথি হিসেবে কলকাতার বেহালা অঞ্চলের ভারত সেবাশ্রম সংঘের তরফে খোকন মহারাজ মন্তব্য করেন, "এমন একটা প্রান্তিক এলাকায় প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়ন কল্পে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে আমি অভিভূত। এইধরণের খেলা সত্যি সমাজে প্রেরণার দৃষ্টান্ত।" এছাড়া খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ খগেন গোস্বামী ও সমাজকর্মী বিবেক কাটারুকা, শৈবাল গুহ এবং ইন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।

এদিন সকাল এগারোটায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ক্রিকেট ম্যাচ শুরু হয়। বাংলা একাদশ ও ঝাড়খণ্ড একাদশের খেলোয়াড়দের মধ্যে কিশোর বয়স থেকে যুবকদের সামঞ্জস্য বেশ নজর কাড়ে। দুই দলেই চারজন করে পূর্ণ দৃষ্টিহীন খেলোয়াড় ছিলেন। বাকিরা আংশিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই ঝোড়ো ইনিংস শুরু করে ঝাড়খণ্ড একাদশের খেলোয়াড়রা। কুড়ি ওভারের এই খেলায় ঝাড়খণ্ড একাদশের পক্ষে শতরান করেন রাজীব রঞ্জন। ম্যাচে ১১৬ রান করে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে তিনি সবার নজর কাড়েন। ওই দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন অনীশ কুমার। তারা কুড়ি ওভারের শেষে ৬ উইকেটে ২৩৯ রান করেন।

এই স্কোর কার্ডের জবাবে বাংলা একাদশ মাঠে নেমে কার্যত তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়ে ঝাড়খণ্ড একাদশের বোলিং দাপটে। পনেরো ওভারে মাত্র ৭২ রান করে তারা অল আউট হয়ে যান। বাংলা একাদশের হয়ে সীতারাম মাজি সর্বাধিক রান করেন ১৬। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী সভার ব্যবস্থাপনা ছিল। স্থানীয় গ্রামবাসীরা এদিন এই অভিনব ক্রিকেট খেলা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

(www.theoffnews.com - blind cricket match Purulia)

(www.theoffnews.com - Cristiano Ronaldo McDonald's free food three lady employees) 
 

মৌসুমী প্রামাণিক, লেখিকা, কলকাতা:

পৃথিবী যখন অধর্মের কালো ছায়া দ্বারা আবৃত হয়ে পড়ে তখন ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে মহামানব আবিভূর্ত হন। সচেতন মনটাকে কাজে লাগিয়ে একটুখানি চেয়ে দেখলেই দেখতে পাবো যে সমগ্র পৃথিবী ধর্ম ও অধর্মতে আড়াআড়ি বিভক্ত। আমাদের ভারতবর্ষও তার বাইরে নয়। তাই বুঝি খেলার ময়দানে রাজনীতিবিদের মুর্তির উন্মোচনের এত ঘটা!

প্রয়াত অরুণ জেটলি কোন মহামানব যে ফিরোজ শাহ কোটলার মতো আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে তার মুর্তি স্থাপন করতে হচ্ছে? খেলা তথা ক্রিকেটের ক্ষেত্রে তার এমন কি অবদান আছে? 

নামটা মুসলিম নাম তাই বদল করতেই হবে। নইলে প্রমাণিত হবে কি করে যে এটা বিজেপি শাসিত, হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী সংস্থা আর.এস.এস দ্বারা পরিচালিত সরকার চলছে! খেলার জগতে প্রচুর জগৎ বিখ্যাত নাম আছে। দেশের ইতিহাসে মনীষীর তো অভাব নেই!

এরকম একটি নিম্নমানের কাজের অনুষ্ঠানে বাঙালি আইকন সৌরভ গাঙ্গুলির যোগদান অত্যন্ত আপত্তিকর। বাটারিং-এরও একটা লিমিট আছে।

উনি রাজনীতিতে আসলে বাংলার ভালো হবে না খারাপ সেটা সময় বলবে। ভোটারেরা ভাববেন। সেটা ওনার ব্যক্তিগত বিষয়ও বটে। কিন্তু খেলার জগৎটা সমস্ত স্পোর্টস লাভারদের জন্য। অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদী বা অন্য কারোর জমিদারী নয়। 

খেলার জগতের এহেন রাজনীতিকরণকে কায়মনোবাক্যে ধিক্কার জানাচ্ছি! ছি! ছি! ছি!

কোন মহামানব জন্ম নিয়েছেন বা নেবেন কিনা আমার জানা নেই; যিনি স্রোতের বিপক্ষে যাবেন তিনিই ইতিহাসের পাতায় মহান মানব রূপে পরিগণিত হয়েছেন। তবে আজ আর সেসব ভাবনার অবকাশ নেই। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। প্রতিবাদ করতেই হবে আর এখন এক একটি প্রতিবাদই আমাদের প্রত্যেককে মহান মানব হিসাবে রূপায়িত করবে। কারণ মান হুঁশ যুক্ত মানুষ আর তার মানুষের মতো যে কোন কাজই মহান; সে বিষয়ে কোন দ্বিমত নেই।

(www.theoffnews.com - Arun Jaitley statue Feroz Shah Kotla stadium)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের অভিষেক টেস্ট টুপিটি নিলামে উঠানো হয় কয়েক দিন আগে। তার ব্যাগি গ্রিনটি উচ্চ মূল্যেই বিকোবে, এমন ধারণা করেছিলেন অনেকে। শেষ পর্যন্ত ৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে এই টুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার বেশি!

এই ব্যাগি গ্রিন পরেই ১৯২৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ব্র্যাডম্যানের। টেস্টে যার ব্যাটিং গড়ের কাছে পৌঁছাতে পারেনি আর কেউ- ৯৯.০৪! অবশ্য ডন ব্র্যাডম্যানের এই টুপিটি নিলামে উঠার পেছনের কারণটা মোটেও স্বস্তিদায়ক কিছু নয়। ১৯৫৯ সালে নিজের প্রতিবেশী পিটার ডানহামকে এটি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন ব্র্যাডম্যান।

অবশ্য কারণ যাই থাকুক না কেনও, এর মাধ্যমে অন্যরকম এক নজির গড়েছে এই নিলাম! এখন পর্যন্ত যেসব ক্রিকেট স্মারক নিলামে বিক্রি হয়েছে, তার মধ্যে এটি বিক্রি হয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্যে! বিশ্ব রেকর্ড গড়ে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়েছিল শেন ওয়ার্নের ব্যাগি গ্রিন টুপি। এই বছরের শুরুতেই যেটি দাতব্য কাজে ব্যবহারের জন্য নিলামে তোলা হয়েছিল। যার মূল্য দাঁড়িয়েছিল ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।

ব্র্যাডম্যানের টুপিটি কিনেছেন অস্ট্রেলিয়ারই এক ব্যবসায়ী পিটার ফ্রিডম্যান। টুপিটি নিয়ে যার অনেক পরিকল্পনা!

(www.theoffnews.com - Don Bradman cap)

সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিচার রাইটার ও শিক্ষিকা, শিবপুর, হাওড়া:

বুয়েনস্ আয়েরস থেকে কলকাতা। পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন‍্যপ্রান্ত! কি ভাবছেন দূরত্ব কতটা? কাগজ কলম নিয়ে ম‍্যাপ খুলে হিসেবে কষতে গেলে অপনি ওখানেই শেষ, গণনা আপনি করে উঠতে পারবেন না। যদি ভাবেন কলকাতা আর বুয়েনস্ আয়েরস এই দুই রাজধানীর মাঝে আছে শুধু ফুটবল; একটা হাওয়া ভর্তি চামড়ার গোলক! তাহলেই গণনা শেষ। একেবারে বাজিমাত। দুটি শহর ফুটবলে পাগল। দুটি শহর ভালবাসে দিয়েগোকে। 

বাঙালির আবেগের আরেকনাম ফুটবল। 

সেই চর্ম গোলক ফুটবল! স্বপ্নাবিষ্ট বাঙালির পকেট গড়ের মাঠ আর সেই মাঠেই  আবেগ আনন্দের ভাগিদার ফুটবল। "গোওওওল...."  এই চিৎকার শুধু  চিৎকার নয় বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা শত কষ্টের এক উচ্ছ্বল আবেগ। 

চার বছর অন্তর হওয়া ফুটবলের উৎসব "ফিফা বিশ্বকাপ" চলাকালীন বাঙালি ভাগ হয়ে যায়  তাদের প্রিয় ক্লাব মোহনবাগান ইষ্টবেঙ্গলকে কিছু দিন বিরতি দিয়ে। কেউ তখন ব্রাজিল; কেউবা আর্জেন্টিনা।  

আসলে আমরা যারা উন্নয়নশীল দেশের মানুষ তাদের কাছে ফুটবল শুধু একটা খেলা নয়  ফুটবল একটা বিশাল প্রাপ্তি; ফুটবল সাময়িক চিন্তার বিরতি। সেই উন্নয়নের প্রশ্নে অর্থনৈতিক মাপকাঠিতে কোথায় যেন আর্জেন্টিনার মানুষের সাথে বাঙালির আবেগ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। তারাও গোটা বিশ্বের সাথে অবাক বিষ্ময়ে হাঁ হয়ে দেখে ছিয়াশির সেই গোল যা কিনা "হ‍্যান্ড অফ গড"। অথচ ফুটবল পায়ের খেলা। কিন্তু ঈশ্বরের হাতের গোল আর সেই গোলের নায়ক ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো মারাদোনা বিতর্ক যার সবসময়ের সাথী। 

সবুজ ময়দান দাপিয়ে বেরিয়েছেন, লালকার্ড, হলুদকার্ড কত দেখছেন, মেজাজ হারিয়েছেন রাজপুত্র। কিন্তু রেফারি কখন যেন খেলা শেষের বাঁশি বাজিয়ে দিলেন। গ‍্যালারি একেবারে শান্ত।  পিন পড়লে শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। সবাই গুণছেন এক, দুই,তিন....

"দিয়েগো"  "দিয়েগো" "দিয়েগো" আওয়াজ উঠছে কিন্তু না ফুটবল গালিচা শান্ত  একটু বেশীই শান্ত। দিয়েগো আজ শান্ত, চিরশান্তিতে শুয়ে আছেন কোনো মেজাজ হারানো নেই, কোনো উত্তেজনা নেই, কোনো বিতর্ক নেই।

খেলা শেষ, রেফারি জানিয়ে দিয়েছেন কোনো এক্সট্রা টাইম নেই। ট্রাইবেকার নেই। 

দিয়েগো মারাদোনা সারা বিশ্বে ফুটবল ময়দানের মাঝমাঠে ড্রিবলিং করতে করতে চলে গেলেন। বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্র বহু খ‍্যাতি বহু অখ‍্যাতির পালক নিজের মাথায় নিয়ে নিজস্ব "দিয়েগোচিত" মেজাজেই যেন ফুটবল মাঠ থেকে বিদায় নিলেন দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা। ৬০ বছর বয়সেই শেষ হয়ে গেল ফুটবল কিংবদন্তির অধ্যায়। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন যুদ্ধের ময়দান থেকে প্রস্থান নিলেন এল পিবে দে অরো (সোনালি বালক) ২৫শে নভেম্বর ২০২০। ৬৭৯ ম্যাচে ৩৪৬ গোল করা রাজপুত্রর ঘামে যে ময়দান ভিজে থাকত আজ চোখের  জলে ভিজে গেল সেই ফুটবল ময়দান। 

সেই পঁচিশে নভেম্বর! ফুটবল ময়দান শাসন করা মানুষটি যখন মাদকের নেশায় বুঁদ কেউ পাশে নেই তখন ছিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো। না না প্রসিডেন্ট হিসেবে নয়। একেবারেই বন্ধু হিসেবে। মার্কিন সাম্রাজ‍্যবাদ বিরোধী দিয়েগোর সাথে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল কম‍্যুনিষ্ট কাস্ত্রোর। একেবারেই নিখাদ এই বন্ধুত্ব। রাজপুত্র নিজেকে কম‍্যুনিষ্ট বলতেন না। বলতেন ফিদেলিস্তা। তাঁর হাতে ছিল চে গুয়েভারার উল্কি আবার পায়ে ছিল কাস্ত্রোর উল্কি। এই পঁচিশে নভেম্বর ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত‍্যুদিন। কি আশ্চর্য সমাপতন না!

এই দিনটি যেন রাজনীতির ময়দান ফুটবল ময়দান এক হয়ে গেল। জীবনের ওপারে দুই বন্ধু কি হাভানা চুরুট সেবন করতে করতে  সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গল্পে মেতে উঠবেন? না কি ভাবি প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে বার্ডেন ভেবে খোশ গল্পে মেতে উঠবেন? 

ফুটবলের মক্কা কলকাতায় তখন কমিউনিস্ট শাসন, রাজপুত্র  কলকাতায় এলেন মানুষের মন জয় করলেন। 

সে সময় তিনি সাক্ষাত করেছিলেন সেই সময়ের কিংবদন্তি কমিউনিস্ট নেতা তথা মুখ‍্যমন্ত্রী শ্রীজ‍্যোতি বসুর সাথে। কলকাতার মানুষকে মাতিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। দিয়েগো বলেছিলেন কলকাতার মানুষের স্থান তাঁর হৃদয়ে। এসব তার সমাজতন্ত্রিক মনভাবের প্রতিফলন। কলকাতাবাসীরাও কিন্তু চোখের জলে বলছেন "তোমায় হৃদ মাঝারে রাখব; ছেড়ে দেব না.." 

গোটা ফুটবল বিশ্ব আজ শোকে মূহ‍্যমান। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মারাদোনার মৃত্যু প্রসঙ্গে ব্রাজিলের লেজেন্ড ফুটবলার পেলে বলছেন ‘আকাশের উপরে আমরা দু’জন অবশ্যই একদিন ফুটবলে শট নেব।"

সব তর্কবিতর্ককে ছুটি দিয়ে ফুটবলের সোনার ছেলের প্রস্থান। বিদায় মারাদোনা!

মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায়, লেখিকা, খড়্গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর:

ছোটবেলা থেকেই বাড়ির সকলের ফুটবল নিয়ে পাগলামি আমারও জিনগত হয়ে পড়েছিল। তার ওপর আমার কাকু প্রয়াত শ্রী বরুন মিশ্র ছিলেন একসময়ের মোহনবাগানের ফুটবলার। বাড়ির ছেলেদের সাথেই আমাদের ফুটবলপ্রীতিও বাড়তে থাকে সময়ের সাথে। রেডিওতে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের খেলা শোনা সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে টিভিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখায় বদলে গিয়েছিল। বাবা কাকাদের মুখে পেলে, বেকেনবাওয়ার ইত্যাদি নাম শুনে শুনে বুঝতাম এনারা বড় মাপের খেলোয়াড়। নিজেদের বাড়িতে তো দূর পাড়াতেও তেমন টিভি ছিল না কারো ঘরে। তাই আমার কেবল ফুটবলারদের গুণাবলী শোনা হত। দেখার সুযোগ হত না খুব একটা।

তারপর এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ১৯৮৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ। একটা বেঁটে ছেলে নাকি ভেল্কি দেখাচ্ছে ফুটবল নিয়ে। বাবার মুখে শুনলাম। তখন ক্লাস এইট। বড় হয়েছি একটু। তাই অনেকটা পথ হেঁটে জেঠুর কোয়ার্টারে বাড়ির ছেলেদের সাথে ঐ ছেলেটার খেলা দেখতে যাওয়ার সুযোগ পেলাম। বাড়ির সকলের প্রবল সাপোর্টের ব্রাজিলের হলুদ রঙ সেই থেকে আমার কাছে নীল সাদা আর্জেন্টিনা হয়ে গেল। আমি শুধু দেখছিলাম একটা কোঁকড়া চুল ছেলে অসাধারণ ড্রিবলিং করে বিপক্ষের তাবড় তাবড় ফুটবলারদের নাস্তানাবুদ করছে। আমার সেই কিশোরী চোখে মায়াকাজল পরিয়ে দিল সেই ছেলেটি। তারপর থেকেই দিয়েগো আরমেন্দো মারাদোনা ফ্রাঙ্কো কেবল আমার নয় সমগ্ৰ ফুটবল পাগল বাঙালির এবং বিশ্বের কাছে ফুটবলের রাজপুত্র হয়ে প্রতিষ্ঠা পেল।

মারাদোনা, এক অদ্ভুদ আবেগের নাম। বর্ণময় বিতর্কিত চরিত্র, ততোধিক বিতর্কিত জীবনযাপন। তবুও তিনি ফুটবল প্রিয় মানুষের কাছে এক অন্যরকম ভালোবাসার মানুষ ছিলেন। ভগবানের হাত হোক বা মাদক কেলেঙ্কারি, তিনি সবসময় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। এত কিছু সত্ত্বেও তিনি  আমাদের মনের মানুষ হয়ে ছিলেন, আছেন, থাকবেন। 

ফুটবলার আসবে যাবে কালের নিয়মে। কিন্তু মারাদোনা তাঁর নিজস্বতা, রাজকীয় খামখেয়ালী জীবনযাপন, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে এক অন্য মাত্রার ফুটবলার ছিলেন। এখনো মনে পড়ে প্রথম ড্রাগ নেওয়ার অপরাধে তাঁকে যখন বিশ্বকাপের মাঝপথে টিম থেকে বাদ দেওয়া হোল, তখন হাউহাউ করে কেঁদেছিলাম। শুধু মারাদোনার জন্যই আজও আর্জেন্টিনার হয়ে গলা ফাটাই। নীল সাদা দশ নম্বর জার্সি মানেই ফুটবল পাগলদের কাছে মারাদোনা। যার পায়ের জাদুতে আচ্ছন্ন বিশ্ব ফুটবল। আচ্ছন্ন আমরা।

তাঁর অসাধারণ ফুটবল প্রতিভার সাথে সমস্ত কেলেঙ্কারি, উশৃঙ্খল জীবন যাপন, সব কিছু নিয়েই তিনি আমাদের কাছে ভালোবাসার দিয়েগো মারাদোনা। 

তাঁর পায়ে বল পড়লেই যেমন গোটা স্টেডিয়াম মা-রা-দো-না শব্দে ঝড় উঠত তেমনি এখনো তাঁর নামে বুকের মধ্যে ঝড় ওঠে। আসলে মারাদোনা এক আবেগের নাম।

তাই বোধহয় এই লেখাটা লিখতে লিখতে চোখের জল গাল ভিজিয়ে দিচ্ছে। ফুটবলের রাজপুত্র আর নেই ভাবতেই যন্ত্রণায় মুচড়ে উঠছে অন্তর। আমার মতই আজ ফুটবল প্রেমীদের মনে ঝড় বইছে।

২০২০ কেড়ে নিয়েছে অনেক প্রিয়জন। মারাদোনার চলে যাওয়াটাও প্রিয়জন  বিচ্ছেদের মতই। বড় কষ্টের। কালের নিয়মকে মেনে নিতেই হবে জানি। তিনি পার্থিব শরীর ত্যাগ করলেও আমাদের মনে আমাদের আবেগে মিশে থাকবেন চিরকাল। ভালোবাসি তোমায় মারাদোনা। ঈশ্বরের স্টেডিয়ামে ভালো থেকো মারাদোনা।

দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম:

টি টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে রামপুরহাটের সুমন্ত ওরফে বিট্টু গুপ্তা। তাঁর এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত গোটা রামপুরহাট। রামপুরহাটের কামারপট্টি মোড়ে তাঁর বাড়িতে গুণমুগ্ধ শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুভেচ্ছা জানিয়ে গেছেন এই কৃতী ভূমিপুত্রকে। বৃহস্পতিবার কোলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন তিনি।

জানা গেছে, ২৪ নভেম্বর মোট ৬টি ক্লাব খেলবে প্রিমিয়ার লিগে। সুমন্ত খেলবে কার্স্টন ক্লাবের হয়ে। মাত্র ৫ বছর বয়সে বাবা ব্যাঙ্ক আধিকারিক অনিল গুপ্তার হাত ধরে ক্রিকেটীয় পথ চলা। তারপর  ২০০০ সালে আণ্ডার ১৪ বাংলা দলে খেলা শুরু। তারপর ক্রমান্বয়ে ২০০৮-৯ সালে আণ্ডার ১৭, ২০০৯-১০ সালে আণ্ডার ১৯ এবং ২০১৭-১৮ সালে জাতীয় ক্রীড়ায় সিনিওর বাংলা টিমে যোগদান। এই সময় বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৫০ ওভারের ওয়ান ডে ম্যাচ খেলেন। পাশাপাশি, সৈয়দ মুস্তাক আলি টি টোয়েন্টি খেলেন। মাঝে ইস্টবেঙ্গলে ৪ বছর খেলেন। ও মোহন বাগান ক্লাবের হয়ে ১ বছর খেলেন। পাশাপাশি, কালিঘাট ও বরিষা স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ২ বছর খেলেন তিনি। রামপুরহাট ভাঁড়শালা মোড়ে দীঘির পাড়ে তাঁর কোচিং স্কুল ড্রিম স্কুল একাডেমী। সেখানেই নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরির পাশাপাশি এখনও প্রতিদিন সকাল ও বিকালে অভ্যাস করেন। তাঁর এই সাফল্যে বাবা অনিল গুপ্তা ও মা শোভা গুপ্তার পাশাপাশি বাংলার স্বনামধন্য খেলোয়াড় মনোজ তেওয়ারি ও বর্তমান অনুর্ধ উনিশের কোচ প্রণব নন্দী এবং সি এ বির ডাইরেক্টর জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের অবদান অনস্বীকার্য, বলে জানান তিনি।

সুকন্যা পাল, ম্যানেজিং এডিটর, কলকাতা:

রাজ্যের পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়ে একাধিক ক্যারাটে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। আর এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলির কোনও বৈধতা নেই। এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিম বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সমীর মন্ডল ও কোষাধ্যক্ষ সুনীল রাম। তাঁরা একযোগে উল্লেখ করেন, বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশন হল একমাত্র আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান যেটি পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ড ক্যারাটে ফেডারেশন, ক্যারাটে ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন ও ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের অনুমোদিত। এমনকি বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন অনুমোদন রয়েছে এই সংস্থার।

বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশনের তরফে বুধবার দুর্গাপুরে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দুর্গাপুর সাব ডিভিশনাল স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন দফতরে আয়োজিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে সমীর বাবু আরও বলেন, "আমাদের কমিটিতে চোদ্দজন বৈধ সদস্য আছেন। আর এই চোদ্দজনের তত্ত্বাবধানে সমগ্র পশ্চিম বর্ধমান জেলায় আটটি ক্যারাটে প্রশিক্ষণ সংস্থা বৈধভাবে শিক্ষার্থীদের ক্যারাটে শেখাচ্ছে।" 

অন্যদিকে সুনীলবাবুর মন্তব্য, "আমাদের জেলায় কেউ কেউ ব্যাঙের ছাতার মতো নানা ক্যারাটে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করেছেন। আর সেখানে সমাজের কিছু বাচ্চা ছেলে মেয়ে বিভ্রান্ত হয়ে ক্যারাটে শেখার স্বপ্ন নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা না থাকায় তাদের স্বপ্ন অচিরেই ভেঙে যাচ্ছে।"

বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশনের তরফে এই দুই কর্মকর্তা আবেদন জানান জেলার অভিভাবকদের প্রতি। তাঁদের বক্তব্য, আপনারা নিজেদের ছেলে মেয়েকে বৈধ প্রতিষ্ঠানে ক্যারাটে শিখতে উৎসাহিত করুন। প্রয়োজনে বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সংযোগ করুন। আর সম্ভবনাময় ক্যারাটে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্যেও আপনারা সঠিক পথে এগিয়ে আসুন বলেও তাঁরা আহ্বান জানান।

কাকলি সেনগুপ্ত, সিনিয়র জার্নালিস্ট, কলকাতা:

দিন দুয়েক আগেকার কথা।  খবরের কাগজ বিলি করে চলে গেছে, কলেজের ছাত্র অরিন্দম। নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে, বাড়তি কিছু  রোজগারের আশায় এই কাজটা করে।  কাগজ  তিনটে  দরজা দিয়ে ছূঁড়ে ফেলে দেয় ও।  আমি সময়মত কুড়িয়ে নিই। সেদিন কাগজ হাতে নিয়ে দেখলাম  প্রখ্যাত ফুটবলার তুলসিদাস বলরামের ছবি। চুণী, মানে চুণী গোস্বামী ও পি.কে. ব্যানার্জীর  কথা মনে করে  জন্মদিনে বিষণ্ণ তিনি। তুলসিদাস বলরামের ছবি দেখে  আমি একটানে পিছিয়ে গেলাম অনেকগুলো বছর। সেই ১৯৮৯ সাল। দশক ভেদে দর্শকের  মানসিকতা বদলায় কিনা তা জানতে বসে পড়া গেল, ওঁদের সামনে। ওঁরা বলতে সুশান্ত ঘোষ,  সনৎ শেঠ,  পি কে ব্যানার্জী,  তুলসিদাস বলরাম,  অরুণ ঘোষ,  পি বর্মণ,  সুশীল সিনহা ও শ্যাম থাপা।  তাঁদের সময়ে তাঁরা গ্যালারি দেখেছেন মাঠ থেকে। দর্শকের  সঙ্গে তখন ছিল, এক ধরণের সসম্ভ্রম  দূরত্ব। খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নেবার পর তাঁরা কেউ কোচ, কেউ নির্বাচক। আবার কেউ বা মাঠে যান এখনও, খেলাকে ভালোবেসে। কী চোখে দেখেন তাঁরা, দর্শকদের?  সময়ের সঙ্গে দর্শকেরও মন বা মান বদলেছে বা বদলায় কী? এই নিয়ে বাইশের আমি রীতিমতো বড়োদের সঙ্গে আড্ডায়  বসে যেতাম । অল্প বয়সে যা হয় আরকি। 

  ফুটবল নিয়ে এই আগ্রহ আমার সময়ে খুব সহজ কিছু ছিল না। বেঙ্গল পটারি সিক হতে শুরু করলে  বেলেঘাটার  বাসাবাড়ি  থেকে রহড়ায় ফিরে এলাম আমরা। বাবা বলতেন, কেউ ঠিকানা জানতে চাইলে বলবে, আমাদের বাড়ি রহড়ায়। বেলেঘাটায় বাসা। বাড়িতে, মানে পার্মানেন্ট অ্যাড্রেসে থিতু হবার পর, আমার জীবনে এল সেই চামড়ার গোলক। ফুটবল। বাবার সঙ্গে মাঠে যাওয়া শুরু হল আমার। যেখানে রহড়া সঙ্ঘের খেলা, সেখানেই বাবার পাশে আমার পুঁচকি ছায়া। তাই তুষার পণ্ডিত যখন ‘টপিক’ বলতে বললেন, আমি ধাঁ করে বলে দিলাম ‘ফুটবল’। তারপর,  ফুটবল এবং দর্শক এই নিয়ে  বসে গেলাম ওঁদের মুখোমুখি। 

কথায় কথায় উঠে আসা মণি মুক্তোর সবটা প্রাসঙ্গিক ছিল না সেই দর্শকের দর্শক প্রতিবেদনে। তার কিছু এখনও উজ্জ্বাল আমার স্মৃতির অলিন্দে, কিছু বা  বিস্মৃতির এখতিয়ারে। থেকে যাওয়া কথা থেকে বলতে গেলে প্রথমেই মনে পড়ে তুলসিদাস বলরামের এক আক্ষেপের কাহিনি। একবার এক সম্ভাবনা নিয়ে সরগরম কলকাতা ময়দান। সেরা খেলোয়াড়ের শিরোপা বোধহয় বলরামই পাবেন। উনিও সবার মতোই প্রতীক্ষায়। কিন্তু মরশুমের শেষে দেখা গেল যে, গুঞ্জনে জল ঢেলে সেরার সম্মান পেয়েছেন অন্য কেউ। নিজের ত্রুটি খুঁজতে গিয়ে জানলেন, তিনি একদিন দু-হাত ছড়িয়ে রেফারির দিকে তাকিয়েছিলেন। লজ্জিত হয়েছিলেন তিনি। বললেন, পরের বছর আর রেফারির দিকে তাকাই-ইনি বুঝলে? সেই সময়ে মাঠের সঙ্গে মাঠের বাইরের আচরণ নিয়েও ভাবতেন তাঁরা।  

 ফুটবলের কারণেই জাপানে যেতে হয়েছিল তাঁকে। কথায় কথায় বলছেন, আমি একটা জায়গায় এক ভদ্রলোকের জন্য অপেক্ষা করছি। একটা  সময়ে রাস্তা থেকে ছোটো ছোটো পাথরের টূকরো তুলে নিয়ে রাস্তাতেই আস্তে আস্তে ফেলতে শুরু করলাম। হঠাৎ একটা বাচ্চা ছেলে সামনের বাড়িটা থেকে বেরিয়ে এসে একবার রাস্তার আলোর দিকে দেখাল, একবার আমার হাতে ধরা পাথরের দিকে দেখাল। বলল, ব্রেক। আমি খুব লজ্জা পেয়েছিলাম। দুঃখ প্রকাশ করলাম। 

  সাম্প্রতিক সময়ে দাঁড়িয়ে এই সৌজন্যবোধ অল্প-শ্রুত গানের মতো। বলা যায় ওনারস প্রাইড। আহা এমন যদি হয়, আবারও ফিরে এল সেই সহিষ্ণুতা ও সৌজন্যের এমন মোহন  অনুশীলন। 


আসাদ মল্লিক, ফিচার রাইটার, চুঁচুড়া, হুগলি:

আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে তোলপাড় গোটা বিশ্ব। ইতিপূর্বে বিশ্বের নানা প্রান্তে বর্ণবৈষম্য-জাতিবৈষম্যের ঘটনায় সময়ে সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন মানুষ। খেলার জগতেও এমন বৈষম্যের ছায়া পড়েছে।

ক্রিকেট সহ অন্যান্য খেলার মাঠে ইতিপূর্বে দেখা গেছে বর্ণবৈষম্যের বর্বরতা। সম্প্রতি ব্রেসিয়া ও লেজিও ফুটবল ক্লাবের মধ্যে আয়োজিত একটি ম্যাচে ইতালিয়ান স্ট্রাইকার মারিও বালোতেলি বর্ণবৈষম্যের শিকার হন। তৎক্ষণাৎ লেজিও সমর্থকদের বিরুদ্ধে সরব হন বালোতেলি, প্রতিবাদে এগিয়ে আসেন লেজিওর কোচ সাইমন ইনজাঘি। লিখিত তথ্যানুযায়ী, সর্বপ্রথম বর্ণবৈষম্যের প্রতিবাদে দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে যেতে রাজি না হয়ে ইংল্যান্ডের জাতীয় দল থেকে বিরতি নেন বাসিল দে'অলিভিয়েরা। এই ঘটনা থেকেই 'অ্যাপার্টহেইড' শব্দটি জানতে পারেন সকলে। অ্যাপার্টহেইড বলতে মূলত দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে আসা বর্ণবৈষম্য নীতিকে বোঝানো হয়।

ক্রিকেটের ইতিহাসে এরপরও ঘটেছে এমন আরও চাঞ্চল্যকর ঘটনা।  ইতিহাস কলঙ্কিত হয়েছে বারংবার। ক্রিকেটের মাঠে এমনই আরও কিছু জঘন্য ও কুখ্যাত বর্ণবৈষম্যের ঘটনার কথা জেনে নেওয়া যাক।

টনি গ্রেইগ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, মে ১৯৭৬

ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের অধিনায়ক টনি গ্রেইগ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের সম্বন্ধে বলতে গিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে 'গ্ৰভেল' শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, "আপনাদের হয়তো মনে থাকবে যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মানুষেরা যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে তারা মাথা নিচু করে হামাগুড়ি দেয়, তারা পদপিষ্ট হয়। এই কারণেই আমি তাদের এটা অনুভব করিয়েছি যে তারা এমনতর আচরণেরই যোগ্য!" 'গ্ৰভেল' কথার শব্দ নিচু বা অবনত হওয়া অথবা পদপিষ্ট হওয়া। মূল কথা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের পদদলিত করার কথাই জানান টনি গ্রেইগ। কিন্তু যেহেতু ইতিপূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকায় 'অ্যাপার্টহেইড' ঘটে গেছে এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম হওয়ার কারণে তাঁর উপর বর্ণবৈষম্যের আরোপ আসে। কয়েক শতাব্দীর দাসত্ব সহ্য করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মানুষেরা, ফলত এমন উক্তি তাঁদের ভাবমূর্তিকে আঘাত করে।

ডিন জোন্সের হাসিম আমলাকে 'টেরোরিস্ট' বলা, আগস্ট ২০০৬

২০০৬-এর আগস্টে কলম্বোয় দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম শ্রীলঙ্কা টেস্টের চতুর্থ দিনে কুমার সাঙ্গাকারার ক্যাচ ধরেন দক্ষিণ আফ্রিকার হাসিম আমলা। তখনই ধারাভাষ্যকারদের বক্সে থাকা অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ব্যাটসম্যান ডিন জোন্স বলেন, "সন্ত্রাসবাদীটা আবার একটা উইকেট পেল!" হাসিম আমলা একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম, যিনি একজন প্রখ্যাত ব্যাটসম্যান ও টেস্ট/ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ব্যাটিং ওপেন করেন। ডিন জোন্সের এমন কটূক্তিতে ধারাভাষ্যকার তক্ষুনি তাঁর সমালোচনা করেন। এর পূর্বে বর্ণবৈষম্যের নজির ছিলই, তবে এইবারে যোগ হল জাতিবৈষম্যের মত কটু একটি বিষয়। ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবে খ্যাত হাসিম আমলার বিশেষত্ব তার লম্বা দাড়ি, এক্ষেত্রে 'টেরোরিস্ট' বকে 'জঙ্গি' বলার মাধ্যমে নাশকতা বা সন্ত্রাসের সাথে গোটা ইসলামের নাম জড়িয়ে জাতিবৈষম্যের কুখ্যাত নজির গড়েছেন ডিন জোন্স।
মাঙ্কিগেট, জানুয়ারি ২০০৮

আধুনিক ক্রিকেটের আধুনিকতম বৈষম্যের ঘটনা হল ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে ঘটা 'মাঙ্কিগেট' ঘটনা। ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার সিডনি টেস্টের তৃতীয় দিনে ভারতীয় অফস্পিনার হরভজন সিংয়ের বিরুদ্ধে তাঁকে 'মাঙ্কি' ওরফে 'হনুমান' নামে ডাকার অভিযোগ আনেন অস্ট্রেলিয়ার অল-রাউন্ডার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। ম্যাচ রেফারি মাইক প্রোকটার পরবর্তী তিন টেস্টের জন্য হরভজনের খেলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের আপিলের কারণে হরভজনের শাস্তি ম্যাচ ফি-র ৫০% কেটে নেওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে। পরবর্তীকালে ভারতীয় ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকারের আত্মজীবনীতে এই ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। সচিনের বক্তব্য, তিনি হরভজনকে উত্তর-ভারতীয় ভাষায় কিছু একটা বলতে শোনেন যা শুনে তাঁর 'হনুমান'-ই মনে হয়েছিল!

'ওসামা' মঈন, সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে হওয়া অ্যাশেসের উত্তেজনা হার মানাবে যেকোন আন্তর্জাতিক মানের টি-টোয়েন্টিকে। কিন্তু ২০১৮-এ ইংল্যান্ডের অল-রাউন্ডার মঈন আলির আত্মজীবনীতে উঠে এসেছে ২০১৫-এর অ্যাশেসের কলঙ্কময় মুহূর্ত। মঈনের মতে, অস্ট্রেলিয়ার ওই দলের এক অজানা সদস্য তাঁকে 'ওসামা মঈন' নামে ডাকেন। কুখ্যাত জঙ্গি ওসামা-বিন-লাদেনের সঙ্গে চেহারাগত সাদৃশ্য থাকায় এমন কটূক্তির সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। ২০১৫-এর অ্যাশেসে কার্ডিফে প্রথম ম্যাচে নামার পূর্বে এমন উক্তির সম্মুখীন হন মঈন। মঈন আলি তাঁর আত্মজীবনীতে লেখেন, "এক অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড় আমার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বলে ওঠে, "এটা নাও, ওসামা"। আমি এটা শুনে রীতিমত রেগে যাই। ২২ গজে এর আগে হয়তো এত রাগ কখনও হয়নি।"

সরফরাজ ও ফেহলুকোয়ায়ো, জানুয়ারি ২০১৯

ক্রিকেটের মাঠে সাম্প্রতিককালের কুখ্যাত বৈষম্যের ঘটনার উল্লেখ করতে গেলে পাকিস্তানের সরফরাজ আহমেদের নাম বলতেই হয়। সরফরাজ পাকিস্তানের জাতীয় দলের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। মহম্মদ হাফিজের পর তাঁকেই একদিবসীয় ম্যাচে অধিনায়কত্ব করতে দেখা যায়। ২০১৯-এর জানুয়ারিতে পাকিস্তান বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার একদিবসীয় ম্যাচে ব্যাট করছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যান্ডিল ফেহলুকোয়ায়ো। উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে ফেহলুকোয়ায়োর উদ্দেশ্যে সরফরাজ বলেন, "আব্বে কালে, তেরি আম্মি আজ কাহা ব্যয়ঠি হ্যায়? ক্যায়া পারওয়াকে আয়ে হ্যায় আজ?(এই যে কালো ছোকরা, তোর মা আজ কোথায় বসে আছে? আজ মাকে কি বুঝিয়ে-পড়িয়ে এনেছিস?)। উইকেটে লাগানো মাইকের মাধ্যমে সরফরাজের এহেন কটূক্তি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে ফেহলুকোয়ায়োর কাছে গিয়ে সরফরাজ ক্ষমা চেয়ে নিলেও সেই ম্যাচকে চিরকালের জন্য কলঙ্কিত করে রাখে এই বর্ণবৈষম্যের ঘটনা।