Articles by "অপু দুর্গার কতকথা"
Showing posts with label অপু দুর্গার কতকথা. Show all posts

দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

ভোটে জয়ী প্রধান মন্ত্রী সুস্মিত গড়াই। শনিবারই ঠিক করা হলো পাঁচ ক‍্যাবিনেট মন্ত্রী। নির্বাচনে নিকটতম দুজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে অনেকটাই পিছনে ফেলে জয় লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী পদ প্রার্থী সুস্মিত গড়াই। প্রধানমন্ত্রী শীঘ্রই ক‍্যাবিনেট গঠন করেন। শিক্ষা মন্ত্রী, খাদ‍্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রী, পরিবেশ মন্ত্রী এবং ক্রীড়া মন্ত্রীরা শপথ বাক‍্য পাঠ করে তাঁদের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন। প্রার্থীদের মধ‍্যে খাদ্য মন্ত্রী কিতাবুল সেখ, স্বাস্থ্য মন্ত্রী জিনাতুন খাতুন,  পরিবেশ মন্ত্রী আরশি চক্রবর্তী এবং ক্রীড়া মন্ত্রী অঙ্কিত বীরবংশী। 

এতক্ষণ যা পড়লেন মনে হতে পারে দেশের সাধারণ লোকসভা নির্বাচন তো দেরী আছে। তাহলে এতক্ষণ কী পড়লাম! 

শনিবার বোলপুরে জাতীয় ভোটার দিবসে শিশু সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হলো বোলপুর বই মেলার মাঠ ডাকবাংলো ময়দানে বোলপুর নিবিড় চক্রের মুলুক নিম্নবুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ছায়া নির্বাচনের মাধ্যমে। এক কথায় নির্বাচন ছিল প্রধানমন্ত্রীর। সাধারণ নির্বাচনের আদলে ছিল এই ভোট গ্রহণ। প্রার্থীদের নামের ব্যালট ছাপানো হয়। ক্লাসের ভাল পড়ুয়াদের মনোনীত প্রার্থী করা হয়। স্কুলের এটেণ্ডেস খাতায় হলো ভোটার তালিকা।  নির্বাচনে সকল পড়ুয়ারা এদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। পড়ুয়াদের লম্বা লাইন। বইমেলার মাঠে বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সংসদের স্টলে প্রবেশ করতেই হাতে ব্যালট পেপার ধরিয়ে দেন পোলিং অফিসার। আঙুলে কালি নিয়ে নির্দ্বিধায় ভোট দিলেন পড়ুয়ারা। ভোটদানের কক্ষটিও ছিল সুরক্ষিত জায়গায়। মোতায়েন করা হয়েছিল কেন্দ্র বাহিনী অর্থাৎ বিদ্যালয়ের এক ছাত্র। ব‍্যালট পেপারে প্রার্থীদের নামের তালিকা সহ পছন্দের সীলমোহর - কোনও কিছুর ত্রুটি ছিল না। সামনে রাখা ব্যালট বক্সে নির্বিঘ্নে  ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন মুলুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে পড়ুয়ারা। তারা বড়োদের দেখালো কিভাবে শান্তিপূর্ণ অবাধ নির্বাচন করতে হয়। মূলতঃ দেশ গড়ার কাজে কিভাবে ভাবী নির্বাচক মণ্ডলী অংশগ্রহণ করতে পারে, এদিন তার হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়ার কাজ হয় বীরভূমের ২৪০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নির্বাচনে দুটি রাজনৈতিক দল-- বই ও কলম গঠন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আয়োজন করা হয়। নিজ দলের ইস্তাহার ঘোষণা, প্রচার পর্ব চলে। তারপর শুরু হয় ভোটদান পর্ব। প্রিসাইডিং অফিসার, ফার্স্ট, সেকেণ্ড পোলিং অফিসার, গার্ড, ব্যালট পেপার কিছুই বাদ যায়নি। বই দলের ২৩ জন এবং কলম দলের ১২ জন প্রার্থী জয়ী হন। উপস্থিত ছিলেন বীরভুম প্রাথমিক সংসদ চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক, বোলপুর শ্রীনিকেতন ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক  সত্যজিৎ বিশ্বাস এবং স্থানীয় স্কুল পরিদর্শক প্রণয় গঙ্গোপাধ্যায়।

(www.theoffnews.com school shadow parliament election)


মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিচার রাইটার ও লেকচারার, আহমেদাবাদ:

আমার কাজের মেয়েটি আজ ঘর মুছতে মুছতে বলল "আজ ছেলেটাকে নিয়ে মা গাঁয়ে গেছে।" এখান থেকে বেশ খানিক দূরে মেহেসানাতে ওর আদি বাড়ি। ছোট তিন বছরের দুষ্টু ছেলে নিয়ে ওর কাজ করা ভারী মুশকিল হয়, তাই ওর মা সামাল দেন। তাঁর ও তো বয়স হয়েছে,নাকানি চোবানি খেয়ে প্রায়ই অনুযোগ করে বড় দুষ্টু তোর ছেলে। সারাদিনের খাটুনির পরে, বাড়ি ফিরে ছেলের নামে নালিশ শুনে একটি কাজই করে, সেটা হল পিঠে ঘা কতক বসিয়ে দেওয়া। দিদিমা তখন নাতিকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করলেও মেয়েটি শোনে না। 

আজ ছেলেকে নিয়ে দু'দিনের জন্য দিদিমা চলে যাওয়ায় একদিকে নিশ্চিন্তে কাজ করছে কিন্তু বোধহয় ছেলের জন্য মনটা কেমন যেন করছিল।

হঠাৎ বলে বসে, "কি করি বলো তো ভাবী, এত মার খায় তবু কথা শোনে না, স্কুলে পাঠালে কি হবে কে জানে, মারপিট করবে, টিচাররা নালিশ করবে।ভাবলেই মাথা খারাপ লাগছে।"

আস্তে আস্তে বলি, "ওর ভয়টাই তো ভেঙে গেছে মার খেতে খেতে, ওকে এখন শত মারলেও ফল পাবি না। ভালোবেসে, গল্প করে বোঝাতে হবে, ধৈর্য্য হারালে চলবে না। পারলে কিছু কাদা মাটি দিয়ে বানাতে দে, আঁকতে দে, শান্ত থাকবে।"

বলতে বলতেই নিজের ছানার কথা মনে এলো, খুব ডানপিটে না হলেও একেবারে ভীষণ শান্ত শিষ্ট ছেলেও তিনি ছিলেন না। তবে যুক্তি দিয়ে বোঝালে খানিক থমকে যেত, সবচেয়ে জ্বালিয়েছে স্কুলে যাবে না বলে। অবশ্য এ ব্যাপারে তিনি নরানাং মাতুলঃ ক্রম।

তার মাতুল খাতায় বইতে টিফিনের চিড়ে মাখা  লাগিয়ে বলত, "দিদি, বাড়ী চল।" একই স্কুলে পড়ি দুই ভাই বোন, তাই শান্ত দিদিকে ডেকে পাঠানো হতো আড়াই বছরের ছোট ভাইকে সামলাতে। অনেক বুঝিয়ে টিফিনে শান্ত  করা গেলেও একদিন তো মামা এসেছে দেখতে পেয়ে কেঁদে কেটে স্কুল ছেড়ে চলে গেল, বছরটা নষ্ট হল। দিদান তাকে চক্ দিয়ে মাটিতে আঁকতে বসিয়ে দিত, অসম্ভব ভালো আঁকত ছোট থেকেই।

তাই তার ভাগ্নের বেলায় আমি ছেলেকে স্কুলে ঢুকিয়ে বাইরে পায়চারী করতাম, সেও তেমনি কেঁদে, কেটে পটিতে গিয়ে বসে থেকে ক্লাস করবেই না।

ক্লাস টিচার ভদ্রমহিলা নাস্তানাবুদ হয়ে যেতেন, প্রি স্কুল ছিল সেটা।

তখন তাকে একদিন একটা কালো জীপ দেখিয়ে বললাম, ওরা বেবি ক্যাচার, স্কুলের সামনে ঘোরে, ক্রাইং বেবীদের তুলে নিয়ে চলে যায় আর তাদের সপাং কনভেন্টে ভর্তি করে। একটা ছোট অন্ধকার মাটির পোড়ো স্কুল দেখিয়ে বলেছিলাম ওখানে ওই অন্ধকার কালো বেঞ্চে বসতে হবে, ওরা আদর করে না, বেত দিয়ে সপাং সপাং করে পেটায়। এমন সুন্দর গল্প লিখেছিলাম থুড়ি বলেছিলাম ছেলে একটু জেদ কমিয়ে স্কুলে যেত তবে বেশিক্ষণ থাকবে না।

অসম্ভব স্বাধীনতা প্রিয়, টিচারও বুঝলেন এক জায়গায় বসবে না, তাই কখনও সে মনিটর তো সরস্বতী পুজোর পুরুত সব ভূমিকায় রাখা হতো তাকে তাই  তিনি ভারী খুশি। সাথে চলত আমার তার এনার্জি কমানোর জন্য সাঁতারে না হলে মাঠে নিয়ে যাওয়া। 

এনার প্রিয় কাজ ছিল খেলনা ভাঙা, সব সময় খেলনা নিয়ে ঠুকে তাকে ভেঙে তার ভিতরটা দেখা চাই। তবে বড় হয়ে সেটা উল্টে গেল, অসম্ভব বিষয় ফিজিক্সটাই ভালো বোঝে। হয়ত আমরা বুঝতাম না কৌতূহলী বাচ্চারা এরকম বিহেভ কেন করে!

সে যাক, সেসময় তাই দামী খেলনা বক্সখাটে ঢুকিয়ে বলতাম "ওসামা বিন লাদেন নিয়ে গেছে, ওদের দেশের বাচ্চাদের খেলনা নেই তো।"

ওমা! ছেলে দোলনা স্কুলের ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে শুনলাম ওদের লাদেন কিভাবে ওর  ভালো খেলনা নিয়ে নেয়, ও আর খুঁজে পায় না, ওদের বাচ্চাদের খেলনা নেই কেন, সেসব গল্প করে এসেছে। হাসতে হাসতে প্রিন্সিপাল বললেন।

কি ভাগ্য তাও ওরা সিলেক্ট করেছিলেন কিন্তু শুনেছিলাম খুব কড়া স্কুল, ডিসিপ্লিনড তাই আর ভর্তি করিনি। জানতাম ছেলে যা, দুদিন পরেই স্কুলে পাঠানো মুশকিল হবে। তবে ছেলে মানুষ করতে গিয়ে একটা জিনিস বুঝেছিলাম, মারাটা শেষ অস্ত্র, ভয় ভেঙে গেলে বেপরোয়া হতে বাধ্য। অনেক বেশি কাজ হয় ইমোশনাল ব্ল্যাক মেইল করলে। মাঝে মাঝে ছেলেকে বলতাম "মাঠের ওপারে আমার আর একটা ছেলে আছে, ভাবছি তার কাছেই চলে যাই।" প্রথম প্রথম শুনেই চোখে জল আসত, কাঁদো কাঁদো হয়ে বেশ কথা শুনত কিন্তু এই মায়েরই ছেলে কিনা!

কয়েক মাস পরেই গম্ভীর হয়ে বলতে শুরু করল, "ওকে ডেকে আনো, আমার বন্ধু চাই, ওর সঙ্গে খেলব।" 

বাধ্য হয়ে অন্য রাস্তা ধরতে হল, তখন ছুটির দিনে বন্ধুদের বাড়িতে এনে সারা দিন রেখে দিত। আমিও খুশি ছেলেও খুশি।

এখনও আমাদের মা বেটায় সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি চলে। একটু আগে মুখ ফসকে বলে ফেলেছি, "শীত পড়েছে কিন্তু জল খাওয়া কম করো না, লিকুইড ডায়েটে রেখো বেশি করে।"

অমনি ছেলে হাসতে হাসতে বলল, "বাবা, তুমি সাক্ষী মা কিন্তু আমায় লিকুইড খেতে বলেছে, ফেস্ট চলছে, চারিদিকে নানান লিকুইডয়ের ফোয়ারা চলছে, তাই মামমামের কথা রাখার চেষ্টা করতে হবে।"

আমার তখন কুন্তীর হাল, চিৎকার করছি জল, ফলের রস, ওআরএস বলতে চেয়েছি। 

তাই আপ্ত বাক্যটা এরকম, ছোট বেলাতে কথা দিয়েই ভয় যদিও বা দেখানো যায়, বড় বেলায় বেফাঁস কিছু বলেছ কি মরেছ!

(www.theoffnews.com childhood caring)


দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম:

পুজোতেও দাদা বাড়ি আসতে পারেনি। ভাইফোঁটাতে পারলো না। ছোট্ট আরাধ‍্যার মনটা তাই ভার হয়েছিল সকাল থেকেই। 

আর তখনই মুশকিল আসান। দাদার ফোন এলো ব‍্যাঙ্গালুরু থেকে। দাদারও মনটা কেমন করছিল। বছরের এই একটা দিন দাদা ও বোন কাছাকাছি না থাকতে পারলে মনটা হুহু করে কেঁদে ওঠে।

প্রযুক্তির কল‍্যাণে ভাই ও বোনের মধ‍্যে পথের দূরত্ব কমলো। মোবাইলে ভিডিও কলেই হলো ফোঁটা। অনামিকায় চন্দনের ফোঁটা নিয়ে বোন বললো,  "ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা। যমের দুয়ারে পড়লো কাঁটা। " 

আয়োজনের কোনও ত্রুটি ছিল না। পুষ্প পাত্রে ছিল ফুল, রেকাবিতে ছিল ধান ও দূর্বা। ডিসে ছিলো সাজানো মিস্টি। মাঙ্গলিক উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি কোনটাই বাদ পড়েনি। এমন শুভদিনে নলহাটি ডাকবাংলো পাড়ায় বাড়িতে ছিল চরম ব‍্যস্ততা। পেশায় পরিবহন ব‍্যবসায়ী বাবা সুজিত কুমার দত্ত জানান, ছেলে শঙ্খ শুভ্রের কলেজে পুজোয় ছুটি থাকে না। দশেরাতে শুধু ছুটি থাকে। ভাই ফোঁটায় ছুটি থাকে না। ছেলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ে। সামনে থার্ড সেমিস্টারের পরীক্ষা। সকাল থেকে মন খারাপ করা মেয়েটি ভিডিও কলে দাদাকে ফোঁটা দিতে পেরে খুবই খুশি। 

ফোনে সিএমআর আইটি কলেজের সফটঅয়‍্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শঙ্খশুভ্র দত্ত জানান, কোনও চিন্তা করিস না। ভিডিও কলেই হবে বোনের ভাই ফোঁটা। আর তখনই খুশিতে ফেটে পড়ে কেজি টু'র সাত বছরের ছাত্রী আরাধ‍্যা দত্ত।

মা কাকলী দত্ত জানান, দুধের সাধ ঘোলে মেটার মতো হলেও, বাচ্চা মেয়ে তো। মনটা খারাপ থাকতো এটুকু না হলে। দাদা ভিডিও কল করেছিল। বোন মোবাইলে দাদার কপালে চন্দনের ফোঁটা দিল। সামনে মিস্টির থালা সাজিয়ে দিল। মোবাইলে প্রণাম করলো বোন। দাদাও আশীর্বাদ করলো। দাদার মিস্টি ও বোনের উপহার পাওনা রইলো। সাক্ষাতে দুইজনের পাওনা মিটবে। তবে বেশ ভালো লাগলো ওদের ভাই বোনের এবং আমাদের।

(www.theoffnews.com digital video calling bhaiphonta)


সোমনাথ রায়, প্রত্নগবেষক, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক, দুর্গাপুর:

তুমি এই মুহূর্তে কোন গিফ্‌ট পেলে সবচেয়ে খুশি হবে? অবশ্যই স্মার্ট ফোন বা ভিডিও গেমস কিংবা ইলেকট্রনিক কোন খেলনা, তাই না? আমি কিন্তু তোমাদের বয়সে সবচেয়ে খুশি হতাম যদি আমাকে কেউ আমাকে একটা স্ট্যাম্প বা ডাকটিকিট দিত। এখনও কেউ দেশী বা বিদেশী স্ট্যাম্প বা কয়েন বা দেশলাই বাক্স দিলে বাঁধনছাড়া আনন্দ পাই। 

শুধু ভারতের নয় বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় শখ ডাকটিকিট/ টিকিট/ পোস্টেজ স্ট্যাম্প/ স্ট্যাম্প জমানো বা সংগ্রহ করা। এইজন্য একে শখের রাজা বলা হয়। দুষ্প্রাপ্য টিকিটের এত দাম হয় যে একে রাজার শখও বলা হয়। এগুলো যারা জমান তাদের বলা হয় ‘ফিলাটেলিস্ট’ আর ডাকটিকিট জমানো বা ডাকটিকিট নিয়ে পড়াশোনাকে বলে ‘ফিলাটেলি’। ফ্রান্সের জর্জেস হার্পিন ১৮৬৪ সালে ফিলাটেলি [philatélie] শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। গ্রীক ভাষায় ‘ফিলো’ মানে ‘কিছুর প্রতি আকর্ষণ’ আর ‘আটেলিয়া’ মানে ‘ট্যাক্স ও শুল্ক থেকে ছাড় পাওয়া’। 

আধুনিক ডাক ব্যবস্থার জনক গ্রেট ব্রিটেনের স্যার রোল্যান্ড হিল হলেও ডাকটিকিটের আদি ধারণা লুকিয়ে আছে ভারতের সিন্ধু-সরস্বতী-ঘগ্গর-হাকরা সভ্যতায় প্রাপ্ত এখনও অপঠিত টেরাকোটা বা চীনামাটির সিলমোহরগুলিতে। অনুমান করা হয় এইগুলি হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো প্রভৃতি শহরগুলিতে উৎপাদিত পণ্যের ‘ট্যাগ’ বা সিলমোহর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মেসোপটেমীয় সভ্যতাতেও এই ধরণের সিলমোহর মিলেছে, হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোর সিলও ওখানে প্রচুর পাওয়া গেছে। 

১৮৪০ সালের ১মে স্যার রোল্যান্ড হিল ইউনাইটেড কিংডাম বা গ্রেট ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডে সর্বপ্রথম ডাকটিকিটের প্রবর্তন করেন। আগে ‘চিঠি’র বিষয়টা খুব ব্যয় সাপেক্ষ ছিল। পত্র প্রাপককে অনেকটা অর্থ দিতে হতো পত্রবাহককে। গরীব লোকেদের পক্ষে চিঠি আদানপ্রদান করা একেবারেই অসম্ভব ছিল। সবচেয়ে মুস্কিলে পড়ত যুদ্ধক্ষেত্রের সৈনিক ও তাদের বাড়ির লোকেরা। কুশল সংবাদ জানাবার জন্য তারা একটা বুদ্ধি করেছিল। খামের ওপর সৈনিকরা একটা সংকেত দিয়ে দিত। বাড়ির লোকেরা ওইটা দেখে বুঝে যেত সে কেমন আছে। তারপর খামটা পিয়নের হাতে ফেরত দিয়ে দিত। সাধারণ মানুষের এই কষ্ট দূর করার জন্য স্যার রোল্যান্ড হিল এক পেনির ডাকটিকিট (যা পেনি ব্ল্যাক নামে বিখ্যাত) চালু করেন যা চিঠির প্রেরক আগে কিনে খামের ওপর লাগিয়ে দেবেন, চিঠি যিনি পাবেন তাঁকে আর কিছু খরচ করতে হবে না।

ভারতের ডাকব্যবস্থা 

ভারতের ডাকব্যবস্থার ইতিহাস কিন্তু অনেক শতাব্দী প্রাচীন। বহু প্রাচীন কাল থেকেই ভারতে পদাতিক ও ঘোড়সওয়ার ডাকহরকরা আর পায়রার মাধ্যমে চিঠি পাঠাবার বন্দোবস্ত ছিল। চতুর্দশ শতাব্দীতেই ভারতে সুগঠিত ডাকব্যবস্থা ছিল। অবিভক্ত ভারতের সর্বত্র পত্রবাহকদের ঘাঁটি তৈরি হয়েছিল। ‘রানার’রা চিঠি আর ছোটখাটো জিনিস নিয়ে এক ঘাঁটি থেকে আর এক ঘাঁটি পৌঁছে দিত। প্রত্যেক রানারের হাতে ঘুঙুর লাগানো একটা লাঠি থাকত। ঘুঙুরের আওয়াজ শুনে পরের ঘাঁটির রানার প্রস্তুত হয়ে যেত। ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুম্বাই, কলকাতা ও চেন্নাই শহরে পোস্ট অফিস স্থাপন করে। তখনও রানাররা চিঠি নিয়ে যেত। এই ব্যবস্থা আরও এক শতাব্দী ধরে চলেছিল। সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় তাঁরা অমর হয়ে আছেন – 

রানার

রানার ছুটেছে তাই ঝুম্‌ঝুম্ ঘণ্টা বাজছে রাতে

রানার চলেছে, খবরের বোঝা হাতে,

রানার চলেছে, রানার!

রাত্রির পথে পথে চলে কোনও নিষেধ জানে না মানার।

দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার—

কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার।

রানার! রানার!

জানা-অজানার

বোঝা আজ তার কাঁধে,

বোঝাই জাহাজ রানার চলেছে চিঠি আর সংবাদে;

রানার চলেছে, বুঝি ভোর হয় হয়,

আরও জোরে, আরও জোরে, এ রানার দুর্বার দুর্জয়।

১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে ভারতের ডাকব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। স্যার রোল্যান্ড হিল প্রস্তাবিত প্রিপেইড ডাকব্যবস্থা চালু করা হয়। কয়েক বছর পর ভারতেই এশিয়ার মধ্যে প্রথম ডাকটিকিট ইস্যু করা হয়। রানারের বদলে ঘোড়ার ডাকের প্রচলন হয়। ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে প্রথমে বেসরকারী আধা-পোস্টাল ‘সিন্দ ডক’ [Scinde Dawk] ডেফিনিটিভ স্ট্যাম্প [সাধারণ ভাবে যে স্ট্যাম্প প্রচুর পরিমাণে ছাপা হয়] চালু করা হয়।

ডাকটিকিট জমাবে কেন?

ডাকটিকিট জমালে একদিকে যেমন মজা আর আনন্দ পাওয়া যায় তেমনি আবার বহু বিষয়ে যেমন ইতিহাস, ভূগোল, ফুলফল, পশুপাখি, মাছ, কীটপতঙ্গ,  সমাজ সংস্কৃতি, মহামানবের জীবনী আর শিল্পকলা সম্বন্ধে বিশাল ধারণা পাওয়া যায়। ডাকটিকিট একটা ছোট্ট ক্যানভাস যেখানে অনেক রকম ছবির সন্ধান মেলে। ডাকটিকিট একটা ছোট্ট জানালা যার মধ্যে দিয়ে অনেক অজানা পৃথিবীর সন্ধান পাওয়া যায়। বাবা-মায়ের জানা উচিত ডাকটিকিট সংগ্রহের শখ ছোটদের ধৈর্য আর মনোযোগ বাড়ায়। বর্তমানে মোবাইল, টিভি-র কার্টুন, ভিডিও গেমসের নেশা ছাড়াতে এই শখ খুব কার্যকরী। এই শখ ছোটদের হাতেকলমে কাজে দক্ষতা বাড়ায় – দেশ বা বিষয় অনুযায়ী ডাকটিকিট আলাদা করা আর টিকিট সম্বন্ধে খুঁটিনাটি বিষয় মনে রাখতে ছোটদের জুড়ি নেই। প্রত্যেকটি ডাকটিকিটের নিজস্ব একটি গল্প আছে – কোন্‌ দেশ এটা বের করেছে? সেই দেশ এখনও আছে? পৃথিবীর ম্যাপে সে দেশটা কোথায়? এইভাবে ডাকটিকিট থেকে কোন দেশের ইতিহাস, ভাষা, মুদ্রা আর ঐতিহাসিক চরিত্র সম্বন্ধে জানতে পারবে। 

এক সময় ডাকটিকিট খুব জরুরি আর সুন্দর ছিল, তাই তার কদরও ছিল বিশাল। বর্তমানে ইমেইল আর ইন্টারনেটের দৌরাত্মে টিকিটের গুরুত্ব অনেক কমে গেছে। তাহলেও এখনও অনেক সুন্দর ডাকটিকিট ইস্যু হয়। এগুলি থেকে ছোটরা বিখ্যাত ছবি আর গ্রাফিক ডিজাইন সম্বন্ধে দারুণ ভাবে জানতে পারবে। 

ছোটরা অনেকে অনলাইনে স্ট্যাম্পের সন্ধান করে কিন্তু সত্যিকারের ডাকটিকিট হাতে নেওয়ার মজাই আলাদা। তোমরা সুন্দর করে এ্যালবাম সাজিয়ে আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবকে দেখাতে পার। ডাকটিকিটের প্রদর্শনী বা ‘ফিলাটেলিক এগজিবিশানে’ অংশগ্রহণ করতে পার আর পুরস্কারও পেতে পার। 

তোমার হাতেও দুষ্প্রাপ্য টিকিট বা ‘রেয়ার স্ট্যাম্প’ চলে আসতে পারে যেমন এসেছিল ১৯৬৭ সালে ইংল্যান্ডের একজন ভাগ্যবান সংগ্রাহকের হাতে যিনি ১০ সেন্টেরও কম পয়সায় [এখনকার টাকার মূল্যে ৬ টাকা ৪০ পয়সা, তখন আরও অনেক কম ছিল] টেলিভিশনের  আবিষ্কারকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য (রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মাথার শিল্যুয়েট ছবি সম্বলিত) ইস্যু করা স্ট্যাম্প কেনেন একজোড়া কিন্তু অনেক পরে লক্ষ্য করেন একটি টিকিটে রাণীর মাথার শিল্যুয়েট ছবিটি নেই। এটা একটা ব্যতিক্রমী ঘটনা। ২০১৪তে নীলামে তিনি ওই টিকিটটি (SG 755b নামে পরিচিত) বিক্রি করেন ২৩,৬০০ পাউন্ডে যা ভারতীয় টাকায় ২১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা।

ডাকটিকিট সংগ্রহের জন্য বিশাল কিছু খরচের প্রয়োজন নেই। দরকার শুধু ছোট্ট কয়েকটা সহজ কথা মনে রাখা।

কোন ডাকটিকিট জমাবে?

এখনও পর্যন্ত কয়েক কোটি স্ট্যাম্প ইস্যু হয়েছে। সব ধরণের সব স্ট্যাম্প কালেক্ট করা অসম্ভব তাই সে চেষ্টা করাই বৃথা। প্রথমেই তোমাদেরকে পছন্দমত এক একটা বিষয় বেছে নিতে হবে, যেমন – ফল বা ফুল বা জীবজন্তু, গাড়ী বা রেল ইঞ্জিন, জাতীয় পতাকা কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপত্য ইত্যাদি। প্রথমে সব দেশের বিশেষ বিষয়ের স্ট্যাম্প কালেক্ট করলেও পরে আরও স্পেসিফিক হওয়া যায় – কোন বিশেষ দেশের বিশেষ ধরণের ডাকটিকিট।

সবথেকে আগে দেখতে হবে একটা টিকিট ভাল না মন্দ অবস্থায় আছে। ছেঁড়া নোংরা ডাকটিকিট দেখতেই শুধু খারাপ নয় ফিলাটেলির জগতে এর দাম কানাকড়িও নয়। ঝাঁ চকচকে অবস্থার ডাকটিকিট কালেক্ট করার চেষ্টা করতে হবে। টিকিটের অবস্থা অনুযায়ী এগুলিকে সুপার্ব বা চমৎকার, ফাইন বা সুন্দর, গুড বা ভালো আর পুওর বা খারাপ – এই চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। সবথেকে ভাল অবস্থার ডাকটিকিটকে ‘চমৎকার’ বলা যায় যার মানে – কাগজের ঠিক মাঝখানে ছাপা, ঝকঝকে রং আর পিছনে নিখুঁত আঠা দেওয়া। ব্যবহৃত ডাকটিকিটও ‘চমৎকার’ হতে পারে যদি মধ্যিখানে মার্জিন সমান রেখে ছাপা হয়, নতুনের মত দেখতে হয়, ডাকঘরের হালকা ছাপ দেওয়া থাকে আর এতটুকুও যেন ছেঁড়া না থাকে।

‘সুন্দর’ ডাকটিকিট মানে নির্ভুল, মোটামুটি মধ্যিখানে ছাপা, পেছনের দিকে ‘হিঞ্জ’-এর হালকা দাগ। ব্যবহৃত ‘সুন্দর’ ডাকটিকিট খুব ঝকঝকে নয়, ডাকঘরের ধ্যাবড়া কালির ছাপ আর মোটামুটি মধ্যিখানে ছাপা। 

‘ভাল’ ডাকটিকিট একদিকে বেশি হেলে ছাপা কিন্তু দেখতে সুন্দর। ছোটখাট খুঁত থাকতে পারে যেমন আঠার গণ্ডগোল, অসমান মার্জিন, এ্যালবামে চেটানোর মোটা দাগ। এর থেকে খারাপ অবস্থার ডাকটিকিট বাতিল করা উচিত এবং সিরিয়াস কালেক্টররা এগুলো সংগ্রহ করেন না। তবে তোমরা প্রথম দিকে এগুলো জমাতে পার – এগুলোকে ‘জায়গা ভরান ডাকটিকিট’ বলা হয়।

একটি ডাকটিকিটের বাহ্যিক অবস্থা যখন এত গুরুত্বপূর্ণ আর ডাকটিকিট একটি কাগজ মাত্র তখন ডাকটিকিট নাড়াচাড়া খুব সাবধানে করতে হয়। আমাদের হাত খুব ভাল করে ধুলেও তাতে তেল থাকে যেটা ডাকটিকিটের পক্ষে খুব ক্ষতিকর – তাই ফিলাটেলিস্টদের জন্য নির্দিষ্ট চিমটে ব্যবহার করাই শ্রেয়। 

ডাকটিকিট যেহেতু খুব ছোট তাই একটি ডাকটিকিটের সব বৈশিষ্ট খালি চোখে ভাল ধরা পড়ে না – তাই একটি ভাল আতস কাঁচ বা ম্যাগনিফাইং গ্লাস ব্যবহার করার খুব দরকার। দু’টি ডাকটিকিট একই রকম দেখতে কিন্তু এক নয়, খুব সূক্ষ্ম তফাৎ থাকে। সত্যজিতের “কৈলাস চৌধুরীর পাথর” গল্পে ফেলুদার রহস্য সমাধানে স্ট্যাম্প কালেক্টিং যেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল যমজ স্ট্যাম্পের রহস্য সমাধানই সংগ্রাহকদের ফেলুদার মত গোয়েন্দা করে তোলে। এই গোয়েন্দাগিরি মজার আর তোমার জ্ঞান আর দক্ষতার পরীক্ষা।

খাম থেকে ডাকটিকিট তোলা

বাড়িতে আসা চিঠিতে বা পরিচিতদের কাছ থেকে পাওয়া খামে অনেক ডাকটিকিট পাবে যেগুলো কিন্তু ১৫-২০ মিনিট ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে খাম থেকে তুলতে হবে; যদিও কাগজের কোয়ালিটি আর কোন্‌ রকমের আঠা ব্যবহৃত হয়েছে তার ওপর সময় নির্ভর করে। প্লাস্টিকের ট্রে বা কানা উঁচু থালা সবচেয়ে ভাল। 

যখন খাম থেকে ছেড়ে স্ট্যাম্পগুলো জলে ভাসবে তখন সেগুলো নিয়ে কাজ করা যাবে। কিছু কিছু স্ট্যাম্পের গায়ে ডাকঘরের এমন ছাপ থাকে বা বেগুনী রং থাকে যেগুলো আলাদা করে ভেজাতে হয় নাহলে অন্য স্ট্যাম্পের গায়ে রং লেগে যাবে। স্ট্যাম্পকে চিমটে দিয়ে ধরে তুলি দিয়ে ঘষে পিছনের আঠা আস্তে আস্তে পরিস্কার করতে হবে। তারপর শুকনো কাপড় বা ব্লটিং পেপারের মধ্যে রেখে শুকোতে হবে।

প্রয়োজনীয় সামগ্রী 

ভাল সংগ্রাহক হতে গেলে উপযুক্ত চিমটে, ট্রে, আতস কাঁচ, স্ট্যাম্পের ফুটো মাপবার ‘পারফোরেশান গজ’, জলছাপ দেখবার জন্য ‘ওয়াটারমার্ক ডিটেকটার’ [যদিও সাধারণত আলোর সামনে ধরলে স্ট্যাম্পের কাগজে ছাপা হালকা জলছাপ দেখা যায়], স্ট্যাম্পের পত্রিকা, রেফারেন্স বই আর ক্যাটালগ দরকার হবে – এগুলো থেকে স্ট্যাম্প শনাক্ত করা যায় আর ওই স্ট্যাম্প সংক্রান্ত সব তথ্যাদি পাবে। গ্রেট ব্রিটেনের স্ট্যাম্পের জন্য গিবন্স ক্যাটালগ, ইভার্ট অ্যান্ড টেলিয়ার ফ্রান্সের জন্য আর জার্মানীর জন্য মিশেল ক্যাটালগ, ভারতের জন্য গিবন্স ক্যাটালগ, India and States Stamp Catalogue; Phila India Guide Book Catalog 2017-18; Philacent India Catalog 2016-17; Freestampcatalogue (online); India Stamp Details (online)।

পুরোপুরি তথ্য না থাকলেও খুব নিশ্চিত হয়েই বলা যায় ভারতে এক লক্ষেরও বেশি সক্রিয় স্ট্যাম্প কালেক্টার আছেন। রাজেশ মিত্তাল মাত্র দু’ বছর আগে স্ট্যাম্প নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করলেও এর মধ্যেই ফিলাটেলি এতটাই ভালবাসেন যে তিনি তাঁর শরীরে ভারতের প্রথম পোস্টমার্কের ছবির ট্যাটু করিয়েছেন। 

অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ব্রিটিশ উপনিবেশায়নের শিখরে পৌঁছাতে শুরু করে। ১৮৫২তে প্রথম ভারতীয় ডাকটিকিট ইস্যু করা হয়, ‘সিন্দ ডক’, আধ আনার একটি লাল, বৃত্তাকার আধা ডাক, বেসরকারী স্ট্যাম্প। দু’বছর পর ‘সিন্দ ডক’ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই টিকিটগুলোর বর্তমানে দাম হ’ল – ব্যবহৃত হ’লে ৪৭,৬০০ টাকা থেকে ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা আর নতুন হলে ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। 

১৮৫৪ সালে ৪ আনার দু’রং-এর কুইন ভিক্টোরিয়া স্ট্যাম্প মুদ্রিত হয়, পৃথিবীতে দ্বিতীয়, অন্যটি সুইটজারল্যান্ডের ব্যাসেল ডাভ স্ট্যাম্প। এছাড়াও আধ আনা, এক আনা, দু’আনা দামের বিভিন্ন রং-এর কুইন ভিক্টোরিয়া স্ট্যাম্পের সিরিজ বের করা হয়।

স্বাধীন ভারতের ডাকটিকিট

দুশো বছরের ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ অবশেষে স্বাধীনতা পেল। India Postage লেখা তিন রকমের ডাকটিকিট মুদ্রিত হয় – ১। আন্তর্জাতিক ডাকের জন্য ভারতের জাতীয় পতাকার ছবি সম্বলিত ডাকটিকিট; ২। অন্তর্দেশীয় ডাকের জন্য ভারতের জাতীয় প্রতীকের ছবি সম্বলিত ডাকটিকিট; ৩।| এয়ারমেলের জন্য ডগলাস সিডি-৪ এয়ারপ্লেনের ছবি সম্বলিত ডাকটিকিট।

ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার ‘প্রিন্সলি স্টেটস’

১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার আগে ৫৬৫টি প্রিন্সলি স্টেটস বা রাজকীয় রাজ্য ও করদ রাজ্য ছিল। এদের মধ্যে অন্তত ৫০টি রাজ্যের নিজস্ব ডাকটিকিট এবং রেভেনিউ স্ট্যাম্প ছিল। সংগ্রাহকদের কাছে এগুলোর প্রচুর কদর।

ভারতের স্মারক ডাকটিকিট

ভারতের স্মারক ডাকটিকিটের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪৮ সালের মহাত্মা গান্ধী স্মারক ডাকটিকিট; ১৯৪৯ সালে ‘ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন’-এর ৭৫ বছর পূর্তি ডাকটিকিট; ১৯৫০ সালে ভারতের প্রজাতন্ত্র দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের স্মারক ডাকটিকিট ইত্যাদি প্রকাশের মাধ্যমে।

ভারতের ব্যতিক্রমী ডাকটিকিট

ভারতের টিকিট সংগ্রহ শুধুমাত্র পুরনো ডাকটিকিটেই থেমে নেই। বহু ফিলাটেলিস্ট মনে করেন যে আধুনিক ভারতের স্ট্যাম্প সংগ্রহ করা অনেক বেশি মজার আর চ্যালেঞ্জিং কারণ ভারতের মত এত বৈচিত্রময় এত অসংখ্য স্ট্যাম্প আর কোনও দেশে প্রকাশিত হয় না, যেমন ২০০৯ সালে প্রকাশিত ল্যুই ব্রেইল স্ট্যাম্পস যা ব্রেইল পদ্ধতিতে ছাপা হয়েছিল; বিভিন্ন ফুলের ও চন্দনের সুগন্ধি মেশানো স্ট্যাম্প ইত্যাদি।

ইন্ডিয়ান ফিলাটেলিক ব্যুরো

সব ধরণের সংগ্রাহকদের সাহায্য করার জন্য ভারতের বড় বড় শহরে ফিলাটেলিক ব্যুরো রয়েছে। এগুলো থেকে তুমি ফিলাটেলিক স্ট্যাম্পস, মিনিয়েচার শীটস, ফার্স্ট ডে কভার, স্ট্যাম্প ব্রোশর, স্ট্যাম্প হ্যান্ডবুক ইত্যাদি সংগ্রহ করতে পারবে। কলকাতার ঠিকানাঃ জিপিও, বিবাদী বাগ, কলকাতা, ফোন: 033 2210 5022 – এখানে ফিলাটেলিক একাউন্ট চালু করলেই ঘরে বসে প্রতি মাসে প্রকাশিত স্ট্যাম্প ইত্যাদি হাতে পেয়ে যাবে।

ব্যবহার করা স্ট্যাম্পের জন্য তোমাকে ‘ফিলাটেলিক কংগ্রেস অভ ইন্ডিয়া’-র সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে যারা তোমাকে ভাল ভাল ডিলারেরই শুধু সন্ধান দেবে না, তোমাকে সব রকম প্রয়োজনীয় উপদেশ দেবে।

ব্যস, আর চিন্তা কী? ‘জয় ডাকটিকিট’ বলে আজই শুরু করে দাও তোমার অনুসন্ধান, সংগ্রহ আর এ্যালবাম আর এনজয় কর স্ট্যাম্প জমানোর অপার আনন্দ।

(সৌজন্যে – ছোটদের রূপকথা)

(www.theoffnews.com sramp collection)


সোমনাথ রায়, প্রত্নগবেষক, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক, দুর্গাপুর:

পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় শখ ‘কয়েন জমানো’। 

তুমি এই মুহূর্তে কোন গিফ্‌ট পেলে সবচেয়ে খুশি হবে? অবশ্যই স্মার্ট ফোন বা ভিডিও গেমস কিংবা ইলেকট্রনিক কোন খেলনা, তাই না? আমি কিন্তু সবচেয়ে খুশি হতাম যদি আমাকে কেউ আমাকে একটা স্ট্যাম্প বা ডাকটিকিট দিত। এখনও কেউ দেশী বা বিদেশী স্ট্যাম্প বা কয়েন বা দেশলাই বাক্স দিলে বাঁধনছাড়া আনন্দ পাই। 

শুধু ভারতের নয় বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় শখ পয়সা বা কয়েনঔ জমানো। অবশ্য এখানে কয়েন বলতে মুদ্রা, কারেন্সি নোট এবং বিনিময়ের যে কোন বস্তুকে বোঝান হয়। এগুলো যারা জমান সাধারণত তাদের কয়েন কালেকটার বা মুদ্রা বিশেষজ্ঞ বলা হলেও তাঁদের একটা ভারী নাম আছে – সেটা হল ন্যুমিসম্যাটিস্ট আর কয়েন জমানো বা কয়েন নিয়ে পড়াশুনাকে পোশাকী ভাষায় বলা হয় ‘ন্যুমিসম্যাটিক্‌স’। আসলে গ্রীক ‘নমিজেইন’ (যার মানে ‘এখন ব্যবহৃত’) থেকে ‘নমিসমা’ বা ‘নমিসম্যাট’ (‘এখনকার মুদ্রা’) কথাটা এসেছে, সেখান থেকে ল্যাটিন ভাষায় ‘ন্যুমিসম্যাটিস’ ঘুরে ফ্রেঞ্চ ‘ন্যুমিসম্যাটিকস্‌’ থেকে ১৭৯২ সালে ইংরিজীতে কথাটি আসে।

এখন প্রশ্ন হলো, কয়েন জমাবে কেন?

পৃথিবীতে যত জিনিষ জমানো হয় কয়েন জমানো তার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয়। স্ট্যাম্প বা ডাকটিকিট–ও অনেকে সংগ্রহ করে কিন্তু মুদ্রা অনেক বেশি টেঁকসই কারণ মুদ্রা ধাতু দিয়ে তৈরি।  মুদ্রা যত পুরনো হয় তত সেটি দুর্লভ হয় আর তত তার দাম বাড়ে।

সবথেকে পুরনো সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য সবচেয়ে ভারী সবার থেকে বড় আর ছোট মুদ্রা এশিয়া মাইনরের গ্রীক শহর এফিসুস-এ (বর্তমানে তুরস্কে) এখনও পর্যন্ত সব থেকে প্রাচীন মুদ্রা পাওয়া গেছে। পাঞ্চ-চিহ্নিত মুদ্রাগুলি ভারতের প্রথম দিকের মুদ্রা যা খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ থেকে ২য় শতাব্দীর মধ্যে তৈরি হয়েছিল – মগধ রাজত্ব (৪৩০-৩২০ খ্রি.পূ.), মৌর্য রাজত্ব (৩২২-১৮৫ খ্রি.পূ.)। আগ্নেয়গিরির লাভার টুকরোও মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হত। ৭ম শতাব্দীতে চীন দেশে প্রথম কারেন্সি নোট ছাপা হয়। পৃথিবীর সবথেকে ভারী মুদ্রার ওজন ১৫০ কেজি। ১৩৬৮ সালে সবথেকে বড় ব্যাঙ্ক নোট ছাপা হয় যেটির মাপ ছিল ২৩x৩৩ সেমি আর রোমানিয়ায় ১৯১৭ সালে সবথেকে ছোট – ২.২x৩.৮ সেমি – ব্যাঙ্ক নোট ছাপা হয়।

মুদ্রা সংগ্রহের শুরু:

Charity begins at home অনুসারে বাড়ি থেকেই শুরু করতে পারো। প্রত্যেকের বাড়িতেই নিজের দেশের পুরনো কিছু পয়সা পাবে। পুরনো [এখন অচল] ২, ৫, ১০ বা ২০ পয়সা যদি পাও তাহলেই কেল্লা ফতে – পুরনো ২ পয়সার বাজারমূল্য এখন (২০১৮) ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা। এখনকার ১ টাকা, ২ টাকা বা ৫ টাকাই ধর – কত রকমফের! প্রত্যেকটা পয়সা যদি খুঁটিয়ে দেখো, দেখবে কতরকমের তফাৎ চোখে পড়ছে। এগুলো জানার জন্য বই পাওয়া যায়। কয়েন সাধারণত প্রদর্শনীতে বা নীলামে বিক্রি হয় কিন্তু ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই কয়েন বেচাকেনা করা যায়। যেই তুমি কয়েন বিক্রি করে নিজে রোজগার করবে, ব্যাস তখন তুমি নিজেই কয়েন কিনে তোমার কালেকশান বাড়াতে পারবে।

কয়েন জমানো কিন্তু আখেরে দারুণ লাভজনক। তাই এখন আমি তোমাদেরকে বলব কি ভাবে এই শখ শুরু করা যায়, কয়েনের যত্ন কিভাবে নিতে হয় আর এই শখকে কাজে লাগান যায়। নানা রকমের কয়েন আর কালেক্টারদের সম্বন্ধেও জানতে পারবে।

 মুদ্রাসংগ্রহের হাল হকিকত

ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা সবাই কিছু না কিছু অর্থ সঞ্চয় করি। আমরা ছোটবেলায় অনেকেই ‘পিগিব্যাংকে’ রোজ একটা করে কয়েন ফেলেছি। বড়রা টাকাপয়সাকে সব থেকে গুরুত্ব দিলেও ছোটদের কাছে এটা একটা শুধুমাত্র চক্‌চকে ধাতুর চাকতি। তাই ছোটরা ভবিষ্যতে অভাব অনটনের কথা ভেবে পয়সা জমায় না, ঝনঝন আওয়াজ করা অনেকগুলো দামী চক্‌চকে জিনিস জমানোর আনন্দে জমায়। কিন্তু তুমি যখন বড় হবে তখনও কি এই শখটা চালিয়ে যাবে? ঘটনা হলো সারা পৃথিবীতে এই রকম মানুষ অনেক আছেন যাঁরা অবসর সময়ে এই শখটা সানন্দে চালিয়ে যান আবার অনেকে এটাকেই সম্মানজনক পেশা হিসেবে নিয়েছেন। খুব কম খরচে এই শখ শুরু করা যায়। তাই ফাঁকা সময়ে তুমি কয়েন নিয়ে স্টাডি করতে পার আর এটা থেকে রোজগারও করতে পারো।

কয়েন জমানো শুরু করবে কি ভাবে?

কয়েন জমানো শুরু করার আগে তোমাকে কালেক্টারের ‘চোখ’ তৈরি করতে হবে। যত রকমের কয়েন হাতে পাবে সেগুলোকে ভাল করে দেখো। সব কয়েন জমানোর দরকার নেই। সাধারণ কয়েন থেকে দুষ্প্রাপ্য এবং দামী কয়েন আলাদা করবার মত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। 

বাড়ির সব কয়েন ভাল করে দেখলে দেখবে যে কয়েকটি অন্যদের থেকে একেবারেই আলাদা। এগুলির ডিজাইন অন্য রকম, কোন বিশেষ ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এই কয়েনগুলি খুব কম পরিমাণে টাঁকশালে তৈরি হয়। 

বাড়িতে বা পাড়ায় বড়দের পুরনো দিনের কয়েনের জন্য বলে দেখ। অনেকের কাছে এখনও কিছু কয়েন আছে যা এখন আর চলে না। যত পুরনো কয়েন, তার দাম কিন্তু তত বেশি।

তোমার পরিচিতদের মধ্যে কেউ বিদেশ থেকে ফিরছেন? তোমার জন্য যদি বিদেশি কয়েন নিয়ে আসেন তার থেকে ভাল গিফট আর কী হতে পারে?

কিছু টাকা থাকলে হবি শপ বা ইন্টারনেট থেকে কয়েন কিনে তোমার সংগ্রহ বাড়াতে পারো। 

এই শখ তোমার ভাল লেগে গেলে দেখবে যে তুমি সম্ভাব্য সব জায়গায় – হোটেল, দোকান ইত্যাদির ক্যাশ কাউন্টারে - কয়েন খুঁজে বেড়াচ্ছ আর কে বলতে পারে যে তুমি দুষ্প্রাপ্য কয়েন আবিষ্কার করবে না? সত্যিই যদি তাই হয় তাহলে সঠিক দাম দিয়ে তুমি ওই মুদ্রাটি সংগ্রহ করতে পার। এইভাবেই মাটি না খুঁড়েও তুমি অনেক দামী কয়েন পেয়ে যেতে পার।

কত ধরণের কয়েন কালেক্টর হয়

কয়েন জমানো শুরু করার পর তোমাকে ঠিক করতে হবে কি ধরণের কালেক্টর তুমি হতে চাও। কত রকমের কালেক্টর হয় তার একটা আভাস দেওয়া যাক –

১। ক্যাজুয়াল কয়েন কালেক্টর: যারা নতুন চক্‌চকে কয়েন পেয়ে আলাদা করে রাখে, খরচা করতে চায় না তারা ক্যাজুয়াল বা নন-সিরিয়াস কয়েন কালেক্টর।

২। নভিস কয়েন কালেক্টর: ক্যাজুয়াল কয়েন কালেক্টর থেকে নভিস কয়েন কালেক্টর হবে যখন শুধুমাত্র নতুন কয়েন জমিয়ে আর তোমার মন ভরবে না। তুমি যতরকমে সম্ভব কয়েন সংগ্রহ করতে শুরু করবে। প্রতিটি নতুন সংগ্রহ তোমার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

৩। জেনেরালিস্টস্‌ কয়েন কালেক্টর: যদি তুমি সব আমলের বা সব দেশের কয়েন জমাতে থাকো তাহলে তুমি জেনেরালিস্টস্‌ বা সাধারণ কয়েন কালেক্টর।

৪। স্পেশালিস্ট কয়েন কালেক্টর: যদি তুমি দেখ যে তোমার সংগ্রহে মুঘল যুগের কয়েন বেশি বা তুমি শুধু ভারতের মুদ্রা সংগ্রহ করতে আগ্রহী তাহলে তুমি স্পেশালিস্ট কালেক্টর হতে চলেছ। স্পেশালিস্ট কালেক্টররা শুধু এক ধরণেরই মুদ্রা সংগ্রহ করে। টাঁকশালে মুদ্রা তৈরি করার সময় কিছু মুদ্রায় ভুল থেকে যায়। অনেক স্পেশালিস্ট কালেক্টর শুধুমাত্র সেইগুলি সংগ্রহ করেন। 

৫। কমপ্লিটিস্ট কয়েন কালেক্টর: স্পেশালিস্ট কালেক্টরের পরের ধাপ হলো বিশেষ ধরণের মুদ্রার প্রতিটি কালেক্ট করা। ওই ধরণের যা যা মুদ্রা তৈরি হয়েছে তার প্রতিটি তোমাকে সংগ্রহ করতে হবে। সেটা যদি করতে পারো তাহলে তুমি কালেক্টরদের সব থেকে উঁচু ধাপে পৌঁছে যাবে যেখানে তোমার সঙ্গী হবে হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র।

কয়েনের মাধ্যমে তুমি কোন দেশের পুরাতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব, ভূগোল, ইতিহাস, স্মরণীয় ঘটনা, মনীষী, খাদ্যাভ্যাস প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারবে।

কী কী ধরণের মুদ্রা সংগ্রহযোগ্য

তুমি যখন মুদ্রা সংগ্রহে সত্যিকারের আগ্রহী হবে তখন তোমাকে ঠিক করতে হবে তুমি ঠিক কী ধরণের মুদ্রা সংগ্রহ করার ওপরে জোর দেবে। যে যে ধরণের মুদ্রা সংগ্রহ করতে পারো তার একটা ছোট্ট তালিকা এখানে দেওয়া হ’ল – 

ক) বছরভিত্তিক মুদ্রা সংগ্রহ: কিছু নামজাদা সংগ্রাহক বিশেষ কোন ঐতিহাসিক সময়ের মুদ্রা সংগ্রহ করেন – সে আধুনিক বা প্রাচীন যুগ যাই হোক না কেন। প্রাচীন মুদ্রা সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য। তুমি দুই বছরের পুরনো সব ধরণের মুদ্রা সংগ্রহ করতে পার যেটা অনেক বেশি সোজা। সময়ের সাথে সাথে এই সব মুদ্রার দাম বাড়তে থাকবে আর তোমার মুদ্রা সংগ্রহও দামী হয়ে উঠবে।

 রাজা অনন্তমাণিক্যের অর্ধনারীশ্বর মুদ্রা

খ) দেশভিত্তিক মুদ্রা সংগ্রহ: দেশভিত্তিক মুদ্রা সংগ্রহের দুটি প্রধান ভাগ আছে – নিজের দেশের বা অন্য দেশের মুদ্রা সংগ্রহ করা।

গ) আকৃতিভিত্তিক মুদ্রা সংগ্রহ: কিছু সংগ্রাহক বিশেষ আকারের মুদ্রার জন্য পাগল। কেউ হয়ত অবৃত্তাকার মুদ্রা সংগ্রহ করেন, কেউ বা ফুটো পয়সা জমান। এই ধরণের মুদ্রা সংগ্রহে প্রচুর ধৈর্য দরকার।

আসামের রূদ্র সিংহ-র  অষ্টভুজা মুদ্রা

ঘ) মিন্ট মার্ক কালেকশন: সাধারণত মুদ্রাতে মিন্ট বা টাঁকশালের চিহ্ন দেওয়া থাকে যাতে কোন সমস্যা হলে সেই টাঁকশালকে চিহ্নিত করা যায়। কিছু সংগ্রাহক শুধু টাঁকশাল চিহ্ন সম্বলিত মুদ্রা সংগ্রহ করেন।

ঙ) চিহ্ন বা ছবিওয়ালা মুদ্রা সংগ্রহ: কিছু সংগ্রাহক বিশেষ ধরণের চিহ্নওয়ালা মুদ্রা, যেমন জাতীয় পতাকা বা অশোক স্তম্ভের চিহ্ন দেওয়া কয়েন জমান। কিছু সংগ্রাহক আবার ফুল, ফল, জীবজন্তু প্রভৃতির ছবি দেওয়া পয়সা জমান।

কয়েনের যত্ন

কয়েন শুধু জমালেই হবে না, তার থেকেও কঠিন কাজ কয়েনগুলিকে সযত্নে সুরক্ষার সঙ্গে রাখা। বেশীর ভাগ কয়েন যে ধাতুতে গড়া সেগুলো খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। দায়ী – বাতাসের আর্দ্রতা, আশেপাশের গরম, বায়ু দূষণ, অ্যাসিড বা ক্লোরিন মেশানো জল দিয়ে কয়েন পরিষ্কার অথবা কয়েনকে ভুল ভাবে নাড়াচাড়া করা। এইসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার উপায়ঃ

অ) কয়েন এ্যালবাম সংগ্রহ করা: বাঘ পোষার আগে যেমন বাঘের খাঁচা জোগাড় করতে হবে তেমনি কয়েন জমানোর আগে কয়েনের হোল্ডার বা এ্যালবাম জোগাড় করতে হবে। কারণ একটা জারে বা কৌটোতে রাখলে ঘষাঘষি করে সব থেকে বেশি কয়েন নষ্ট হয়। সব রকম দামের ও মানের ক্যাটালগ বা এ্যালবাম পাওয়া যায়। সেগুলি সংগ্রহ করতে হবে।

আ) বেসমেন্টে, রান্নাঘরে, ওয়াশ রুমে কয়েন রাখা যাবে না। শোবার ঘরে বা লিভিং রুমে রাখা ভালো কারণ সেখানে তাপমাত্রা, ধুলো, জল চুঁইয়ে পড়া, এই সব সমস্যা কম।

ই) কাঠের কোন বাক্সে বা ক্যাবিনেটে কয়েন রাখা একেবারেই যাবে না কারণ এগুলোতে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় যেগুলো কয়েনকে নষ্ট করে দেবে।

সংগৃহীত মুদ্রার পরিষ্কারের পদ্ধতি

যে ধাতুগুলিতে মুদ্রা তৈরি হয় সেগুলির উপযুক্ত রাসায়নিক ব্যবহার না করে পরিষ্কার করলে মুদ্রা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিভিন্ন ধাতুর তৈরি মুদ্রার পরিষ্কার পদ্ধতিঃ

১) তামা ও ব্রোঞ্জের মুদ্রা: এগুলি তেঁতুল বা লেবু জলের হালকা মিশ্রণে চুবিয়ে নিয়ে টুথব্রাশ দিয়ে আলতো ঘষে পরিষ্কার করা হয়। অন্য পদ্ধতি হলো যে কোন ভোজ্য তেলে চুবিয়ে হালকা ঘষে পরিষ্কার করা। তারপর শুকনো করার জন্য নরম কাপড় দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে মুছতে হবে।

২) অন্যান্য ধাতুর মুদ্রা: এগুলিকে হালকা গরম সাবান জলে ধোয়া যায়। একটি করে মুদ্রা ঈষদুষ্ণ জলে ডুবিয়ে পরিষ্কার আঙুলে ঘষতে হবে। তারপর আগের মতই নরম কাপড় দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে মুছতে হবে। না হলে ভিজে মুদ্রা বাতাসের সংস্পর্শে এলে মুদ্রা নষ্ট হয়ে যাবে।

৩) রৌপ্য মুদ্রা:  রুপোর মুদ্রাও একই ভাবে সাবান জল দিয়ে টুথব্রাশ দিয়ে হালকা ঘষে পরিষ্কার করে নরম কাপড় দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে মুছতে হবে।

মুদ্রা সংগ্রহের শখ থেকে অর্থোপার্জন

মুদ্রা সংগ্রহের শখ থেকে সহজেই তুমি রোজগার করতে পার। ইন্টারনেটের সাহায্যে কয়েন ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তোমার মূল্যবান সংগ্রহ বিক্রি করতে পারো। অযথা অন্য শখের পিছনে সময় নষ্ট না করে ঘরে বসেই তুমি ইন্টারনেট, স্পীড পোস্ট আর ক্যুরিয়ারের মাধ্যমে কয়েন সংগ্রহ আর বিক্রি দুটোই করতে পার।

রোম সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট অগাস্টাস (৬৩ খ্রিস্টপূর্ব – ১৪ খ্রিস্টাব্দ) যে শখ শুরু করেছিলেন সময়ের সাথে সাথে সেটাতো লুপ্ত হয়ইনি, বরং দিন দিন এই শখ বেড়েই চলেছে। তুমিও তার শরিক হয়ে নতুন একটা জগৎ আবিষ্কারে মেতে ওঠো।

(সৌজন্যে – ক্ষীরের পুতুল। সম্পাদক – মুনমুন দাশগুপ্ত)

(www.theoffnews.com coin collection)


সুকন্যা পাল, ম্যানেজিং এডিটর, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

আর পাঁচটা শিশু মেলার থেকে এই মেলা  একেবারেই আলাদা। অন্য শিশু মেলায়, বড়দের হাত ধরে শিশুরা মেলায় যায়। কিন্তু এখানে শিশুরাই বিক্রেতা। তারাই তাদের হাতে তৈরি নানান খাবার বা অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করছে। বড়রা সেখানে শুধুই ক্রেতা বা দর্শক। ১৪ নভেম্বর, শিশুদিবস উপলক্ষে, অবেক্ষণ নাট্য সংস্থা এবং অবেক্ষণ পত্রিকার উদ্যোগে সম্প্রতি একটু অন্য রকমের এই শিশু মেলা অনুষ্ঠিত হল উত্তর চব্বিশ পরগনার গোবরডাঙ্গায়। শিশু মেলা উপলক্ষে স্থানীয় বাবুপাড়া সম্মিলনী ক্লাবের মাঠ ছিল জমজমাট। কচি হাতের তৈরি ফুচকা, ঝালমুড়ি, ঘুগনি, আলু কাবলির মত সনাতনী খাবার যেমন ছিল, তেমনই ছিল চিজ বার্গার, কাপ কেক এর মত বিলিতি খাবার দাবার। বাদ ছিল না ইডলি, দই বড়া, চা বা কফিও। মাত্র ১০ টাকায় এক প্লেট চিকেন পকোড়া, চিলি চিকেন বা পাটিসাপটা। ২০ টাকায় এক প্লেট পোলাও অথবা চিংড়ির বিরিয়ানি, ভাবা যায়? তাই তো দিয়ে কুল করতে পারছিল না ক্ষুদে বিক্রেতারা। এখানেই শেষ নয়, নানা ধরনের হাতের কাজ নিয়েও মেলায় বসেছিল কচিকাঁচারা। অসাধারণ সেই শিল্পকর্মও প্রশংসা কুড়িয়েছে সকলের। সেগুলির বিক্রিও মন্দ হয়নি। 

মেলা চত্বরে আয়োজন করা হয়েছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। ছোটরা সেখানে নানা রকম সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকা মাতিয়ে রেখেছিল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিচালনায় ছিলেন সৌমী মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণেই বসেছিলেন দন্ত চিকিৎসক ডাঃ শুভজয় রক্ষিত, তিনি বিনা মূল্যে এদিন মেলায় আগত শিশুদের দাঁত পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

অবেক্ষণের সম্পাদক পলাশ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যান্ত্রিক জীবন থেকে সামান্য দূরে সরিয়ে ছোটদের নির্মল আনন্দ দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ। পাশাপাশি এই মেলা শিশুদের স্বনির্ভরতা এবং সামাজিক চেতনার পাঠও দেবে। মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা বিজয় মুখোপাধ্যায়, রাজিত কর্মকার বা বিশ্বনাথ দাস, সৌমী মুখোপাধ্যায়  সকলের গলাতেই একই সুর, ছোটদের মুখের নির্মল হাসিই এই উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব প্রমাণ করে দিয়েছে। ছোটদের উৎসাহ দিতে হাজির ছিলেন বড়রাও। কাঁচা হাতে তৈরি চা অথবা কচি হাতে তৈরি ঝালমুড়ি, ঘুগনি, বড়রা কিন্তু ছাড়েননি কোনটাই। সকলেই জানিয়েছেন এমন মেলার ক্রেতা হিসেবে যথেষ্ট খুশি তারা। মেলা শেষ হলেও আসছে বছর আবার হবে এই অঙ্গিকার নিয়েই মাঠ ছাড়েন সকলে।

(www.theoffnews.com - Abeskhon Children fair)