Articles by "২১শে ফেব্রুয়ারীর সরণী"
Showing posts with label ২১শে ফেব্রুয়ারীর সরণী. Show all posts

সুকন্যা পাল, ম্যানেজিং এডিটর, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

একদা রাশিয়ার কমিউনিস্ট নেতা একটি কথা তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বলেছিলেন, 'ইউজফুল ইডিয়েটস' বা উপযোগী বোকা। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ তথা পদ্মশ্রী স্বপন দাশগুপ্ত সেই লেনিনকে স্মরণ করে বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনুসের উদ্দেশ্যে গতকাল উচ্চারণ করলেন, 'উনি হলেন ইয়ুজফুল ইডিয়েটস!'

গতকাল কলকাতার যাদুঘর লাগোয়া আশুতোষ বার্থ সেন্টিনারি প্রেক্ষাগৃহে একটি আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। 'বাংলাদেশের সংঙ্কট' শীর্ষক আলোচনাটির আয়োজক ছিল 'খোলা হাওয়া' নামক একটি সংগঠক। সভা পরিচালনা করেন বিজেপির যুব নেতা শঙ্কুদেব পন্ডা। বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বপনবাবু ছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত বীণা সিক্রি, রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের প্রিন্সিপাল পঙ্কজ রায় এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজের অধিকর্তা স্বরূপপ্রসাদ ঘোষ প্রমুখ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে তীক্ষ্ণ ভাষায় বীনা সিক্রি বলেন, 'বাংলাদেশে কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে পিছন থেকে ছুড়ি মেরেছে ওপার বাংলার তিনটি সমন্বয়ের গোষ্ঠী। ১৯৭১ সালের পাকিস্তানের দোসর রাজাকারেরা, মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন সহ মুসলিম লীগ এবং বিএনপি একযোগে এই ছাত্র আন্দোলনকে নিজেদের কব্জায় তালুবন্দি করে। পরিণতি হলো শেখ হাসিনা সরকারের পতন। বর্তমানে ইউনুস প্রশাসনের তো কোনও আইনি বৈধতাই নেই। ভারত সরকার চুপ করে বসে নেই। আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমাদের দেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রটির উপর তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে। তাছাড়া শেখ হাসিনাকে এদেশে আশ্রয় দিয়ে ভারত তার নিজস্ব অবস্থানের কথা সারা দুনিয়ার কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছে।'

বিজেপির প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ জানান, 'যুদ্ধ হাতের মোয়া নয় যে যখন চাইবে তখন প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে যাবে ভারত। বাংলাদেশ ভারতের চিকেন নেক সম্পর্কে অনেক উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। ভারত সামরিক শক্তিতে পৃথিবীর চতুর্থ স্থানে। তাই আমাদের দেশের সংযম দেখানোর দায়িত্বটা অনেক বেশি। তাছাড়া বাংলাদেশ আমাদের শত্রু দেশ নয়। এখানকার অতি সক্রিয় ভারত বিরোধী মৌলবাদীরা ভারতের চিহ্নিত শত্রু। মুজিবর রহমানের পরবর্তী সময়ের যে সমস্ত সরকার বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার মধ্যে একমাত্র শেখ হাসিনার প্রশাসন ভারত সীমান্তে উত্তেজনা অনেক বেশি পরিমাণে হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই ভারতের দুর্বলতা তো শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি স্বাভাবিক কারণেই বজায় থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। তবু আমরা চাইবো, বাংলাদেশে দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটা শান্তিপূর্ণ সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক।'

স্বপনবাবুর কথা প্রসঙ্গে স্বরূপপ্রসাদবাবু মন্তব্য করেন, আমরা যদি ১৯৭১ সালকে একটা সূচক ধরি তাহলে ২০২৫ সালে এসে দেখতে পাবো বাংলাদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের সংখ্যা তিন গুণ হ্রাস পেয়েছে। উল্টোদিকে ভারতে এই সময়কালের মধ্যে সংখ্যালঘুদের অবস্থান দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান বলে দেয় কোন দেশে সংখ্যালঘুরা অধিক সুরক্ষিত। বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু মৌলবাদীদের লাগাতার অত্যাচারে সেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান প্রায় শুন্য হওয়ার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানো তাগিদের সময় এসে গেছে। বাংলাদেশ যে ভাষায় কথা বলবে ভারতের উচিৎ সেই ভাষাতেই উত্তর দেবার।'

সবশেষের বক্তা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী আলোচনা প্রসঙ্গে কিউ আক্ষেপ করেন, শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সমগ্র বিশ্বের দরবারে এক নতুন দৃষ্টান্তের আইকনে পরিণত হয়েছিল। অথচ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনের আমলে সেই অর্থনৈতিক বিকাশ আজ শশ্মানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের জায়গায় বিশ্বাসটাই বিলুপ্তির পথে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের বহু ভারতবন্ধু মুসলিম প্রাণের ভয়ে এদেশে লুকিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। ভারত সরকারের কাছে আবেদন, যাঁরা ভারতবন্ধু অথচ প্রাণহানির আশঙ্কায় এদেশে আসছেন তাঁদের যেন আশ্রয় দেওয়া হয় মানবিক কারণে। সেখানে শুধু ধর্মটা বিবেচ্য হওয়া উচিৎ নয়। তবে একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের এখনই দেশছাড়া করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলেও শুভেন্দুবাবু মত প্রকাশ করেন।

(www.theoffnews.com seminar)


প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র, লেখক, কালনা, পূর্ব বর্ধমান:

চিন্ময় দাস প্রভু এখনো বিনা অপরাধে জেলবন্দি। 

আমি জানি না কতজন তাঁকে মুক্ত দেখার জন্য ব্যাকুল রয়েছেন। 

এই সেই বাংলাদেশের মানচিত্র। যে মানচিত্র তৈরিতে ভারতের অবদান আজ ভুলেছে বাংলাদেশ। 

আজ ওদের বন্ধু পাকিস্তান। এই পাকিস্তান এক সময় ওদের কত শোষণ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের আগে কত কত বাংলাদেশিকে খুন করেছিল। 

এই বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে ১৭,০০০ ভারতীয় ফৌজিকে আত্মবলিদান দিতে হয়েছিল। এই অতীতকে মনে রাখেনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসক।

বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আর কবে দেখব?

বাংলার মাটি লালন সাঁই, রবি, নজরুল, সত্যজিতের মাটি। এই মাটি ধর্ম নিরপেক্ষতার। কোথায় আজ সেই ঐতিহ্য? 

কেন আপনারা এখনও মাথা নত করে মৌলবাদীদের ফতোয়া সহ্য করছেন বুঝি না। 

আরাকান আর্মির খবর কি? 

ওরাই বোধহয় ঠিক করছে! 

ভারত যুদ্ধ উন্মাদ দেশ নয়। তবে আপনাদের দেশের হুমকি থামাতে ভারতের কয়েক সেকেন্ড লাগবে। বুঝি তাই ভালো হবে!

যুদ্ধ নয়, শান্তির পথে আসুন। 

এতেই মঙ্গল। দুই বাংলার অতীতের মেলবন্ধন পুনরায় গড়ে উঠুক। গড়ে উঠুক ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্পর্ক। 

নয়তো অচিরেই সব শেষ দেখতে হবে। আপনারা দেখুন ভারত কিন্তু এখনও ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছে।

(www.theoffnews.com India Bangladesh Pakistan Bengal)


পি আর প্ল্যাসিড, প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক, জাপান:

ডিসেম্বর মাস এলেই মাথায় ভর করে বছরের শেষ সময়ের যত হিসাব। সারা বছরে করা ভালো কাজগুলো পাশে রেখে ভুলগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষন করি। নিজেই নিজেকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিজেই বিচারকের ভূমিকা পালন করি। কারণ খুঁজি বিগত দিনে কেন ভুল হয়েছে। সেই সাথে আগামীতে ভুল না যেন হয় সে বিষয় পরিকল্পনা করি। কাজগুলো যখন করি তখনই মনে পড়ে একাত্তরের স্মৃতি কথা। বিশেষভাবে ডিসেম্বর মাস ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ডিসেম্বর মাস আমরা ছিলাম বাড়ি ছাড়া। যুদ্ধ ভয়াবহতার কারণে জীবন বাঁচাতে রিফিউজি হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি। যুদ্ধ তখন তুঙ্গে। রেডিওতে প্রতি সন্ধ্যায় বড়দের সাথে আশ্রয় নেওয়া বাড়ির আঙ্গিনায় পাটি বিছিয়ে সেখানে বসে রেডিওতে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুনি। নিজের চোখেও কয়েকবার বোম্বিং এর দৃশ্য দেখেছি। যে কারণে আতঙ্কে দিন কাটে। শুধু তাই নয়, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে সারাদিন বড়দের ভাবতে দেখি।

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পূর্ব দিকের ঢালুতে বসে রোদ পোহাচ্ছিলাম। এমন সময় মাথার উপর দিয়ে কালছা সবুজ রঙের একটা হেলিকপ্টার উড়ে যায়। দৌড়ে বাড়ি এসে বললাম হেলিকপ্টার উড়ে যাবার কথা। ভেবেছিলাম এটা পাকিস্তানের কোনও হেলিকপ্টার হবে হয়তো, তাই। বাড়ি এসে বলার পর বড়রা বললেন, এটা ভারতের হেলিকপ্টার। সামনে হয়তো ভালো কোনও সংবাদ অপেক্ষা করছে। তাদের কথায় সেদিন আমরা উল্লসিত হয়েছিলাম। এর কিছুদিন পর বাড়ির এক জ্যাঠাতো ভাই সিপ্রিয়ান তার এক সঙ্গীকে নিয়ে আমরা কেমন আছি জানার জন্য আমাদের খোঁজ নিতে আশ্রিত বাড়িতে দেখা করতে এলেন। অনেক রাত পর্যন্ত বাড়ির বাইরে বিলের ধারে বসে ভাই সিপ্রিয়ানের সাথে গল্প করেছি। বিভিন্ন এলাকায় তাদের যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা বলেন। তারাই প্রথম জানায়, কয়েকদিনের মধ্যেই দেশ স্বাধীন হবার কথা। আমরা যে আবার নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে পারবো, সে নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, বেশীদিন আর এখানে এভাবে কষ্ট করতে হবে না। বড়দিন যে বাড়িতে করা হবে সেই কথাও বলে বিদায় নেন।

দেশের ভিতর পাকিস্তানি সেনাদের সাথে বাঙালি রাজাকারেরা মিলে যখন তান্ডব শুরু করে। অর্থাৎ যুদ্ধ পুরো দৃশ্যমান তখন আমরা বাধ্য হয়ে জীবন রক্ষার্থে বাড়ী ছেড়ে উত্তর দিকে কৌচান এলাকায় আশ্রয় নিই। সেখানে আমাদের দিনগুলো কষ্টের মধ্যেও যেমন ছিল আনন্দের, তেমনই ভয়ের। সারাক্ষণ আমাদের অদৃশ্য এক ভয়ে দিন কেটেছে।

পুরো ডিসেম্বর মাসের প্রতিটি দিনের কথা আমার এখনও মনে আছে।

আমার স্মৃতি যদি বিট্রে না করে থাকে তাহলে বলতে পারি, ডিসেম্বর মাসের ১৫ তারিখ রাতে রেডিওর সংবাদ শুনে আনন্দে বাড়ির সকলকে লাফাতে দেখেছি। রেডিওতে পাকিস্তানি সৈনিকদের পরাজয়ের কথা বলা হয়। বলা হয় আত্মসমর্পণ করার কথা। একথা শোনার পর সবার মাঝে যে প্রতিক্রিয়া দেখেছি এখনও যেন আমার চোখে তা স্পষ্ট।

সেদিন আমাদের ঘুম যেন আসছিল না। তবুও ঘুমিয়েছি। পরেরদিন খুব সকালে সবার ঘুম ভেঙ্গে গেলে বাড়ি ফেরার আনন্দে সবাই নিজেদের কাপড় গোছাতে শুরু করে। কেউ কেউ আটা রুটি চা বানিয়ে খেতে দেয়। আনন্দ উত্তেজনা তখন এতোটাই ছিল যে কেউ আর খেতে পারছিল না। তারপরেও না খেলে সমস্যা হবে মনে করে খেয়ে নেয়।

এরপর সকাল দশটার দিকে বাড়ির কর্তা হিসাবে বাবা বিলের ধারে দাঁড়িয়ে আশেপাশে অন্য বাড়িতে থাকা অন্য পরিবারের লোকদের ডাকাডাকি করে জড়ো করলেন। সবাই জড়ো হলে একসাথে রওনা হয় বাড়ির উদ্দেশ্যে। সবার মাথায় নিজেদের কাপড়, হাড়ি পাতিল, কাঁথা কম্বল বাধা বোঝা। বাড়ি পৌঁছতে দুপুর গড়িয়ে যায়। কাছাকাছি যাবার পর দূর থেকে ভিটা বাড়ি দেখা গেলেও ভিটা ছিল ঘর শূন্য। সব পুড়ে ছাই। বাড়ির ভিটায় পা রেখে বাবা মা খুব কান্না কাটি করলেন। কিছু সময় পর পোড়া ঘরের ছাই সরিয়ে ধর্মীয় মূর্তি, কাপ পিরিচ পেয়ে সেসব আলাদা করে রাখা হয়। আমি আর ছোট বোন খেলার সামগ্রী খুঁজছিলাম। ছাইয়ের আড়ালে থাকা ভাঙা কাঁচের টুকরা দিয়ে পা কেটে যেতে পারে মনে করে বাবা আমাদের বিরত করলেন।

সেদিন ঘরের পোড়া টিন কোনভাবে একটার সাথে আরেকটা আড়াআড়ি দাঁড় করিয়ে সেখানেই রাত কাটাই। পরের দিন বাঁশ বাগান থেকে বাঁশ কেটে এনে পোড়া টিন দিয়ে ছাপড়া ঘড় বানানো হয়। তার নিচে ঢালাও বিছানা করে রাত যাপন করতে শুরু করি। বিছানা করা হয় খের (ধান গাছ) দিয়ে। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের আগের দিনগুলো ছিল এক রকম ভয় আর আতঙ্কের। পরবর্তী দিনগুলো ছিল আনন্দ আর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে। বয়সের কারণে সব মনে না থাকলেও যেটুকুই মনে আছে সবটাই এখনও স্পষ্ট।

কিছু দিন পরেই ২৫ শে ডিসেম্বর বড়দিন। ভালো কাপড় বলতে কিছু নেই। যা কিছু ছিল সবটাই মানুষের দেওয়া। তখনও কোনও রিলিফ পাইনি। কষ্টে আমাদের দিন কাটে। মা তার বাবার বাড়ি বোনের বাড়ি থেকে চেয়ে চেয়ে শীতের কাপড়, কাঁথা কম্বল, বালিশ নিয়ে আসে। সেসময় মাকে মামার বাড়ি, মাসির বাড়ি গিয়ে মুখ ছোট করে অসহায়ের মতো সাহায্য চাওয়ার দৃশ্য এখনও ভুলতে পারি না। এ যে ভোলার নয়। মামা মাসির ছেলে মেয়েদের মধ্যে কয়েকজন আমার সমবয়সীও। তাদের কাপড়ও নিয়ে ব্যবহার করেছি। তাদের কাছ থেকে কাপড়, বালিশ আর খেলার পুতুল পেয়ে কি যে খুশী হয়েছিলাম তা মনে করলে এখনও মনের ভিতর লাফায়। বালিশ আর পুতুল নিয়ে ছোট বোনের সাথে ঝগড়াও হতো মাঝে মধ্যে।

দেখতে দেখতে বড়দিন চলে এলো। মামার বাড়ি থেকে আনা আমার জন্য শার্ট প্যান্ট ধুয়ে শোকানো হলো। সেগুলো খুব যত্ন করে ভাজ করে বালিশের নীচে রেখে দিলাম আয়রনের মতো ভাজ হবার জন্য। বড়দিনের দিন সকালে সেই শার্ট প্যান্ট পড়ে গির্জায় যাই বড়দিনের প্রার্থনায় অংশ নিতে। তখন বড়দিনের অর্থ বা তাৎপর্য বুঝিনি। তবে ঘটনা সবই এখনও মনে আছে।

(www.theoffnews.com freedom Bangladesh Christmas festival)


দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

দেশে দেশে দশ দিশে 

ফেরে শত কত আর্তনাদ।

সনাতনী রহে গৃহহীন ত‍্যাজি আপন কুলায়,

তবুও ছাড়েনি পিছু

ধর্ম বিসংবাদ। 

পাণ্ডবের দ্বাদশ বর্ষ বনবাস ছিল, ছিল এক বৎসর অজ্ঞাতবাস।

এ পাণ্ডব বর্জিত দেশে 

স্থায়ী অজ্ঞাত বাস ভবিতব‍্য তার

বাঙালি সনাতনী জেনেছে সর্বনাশ।

ক্লান্ত শ্রান্ত প্রভূ পার্থ 

ধীর চূড়ামণি

বসিলেন ধ‍্যানে স্থির,

অস্তাচলে গেলা চলি

তপ্ত দিনমনি। 

যুদ্ধহীন হয়নি রাত্র

শান্ত শশ্মানের রূপ শাহবাগ,

রঙপুর, চট্টগ্রাম সর্বত্র। 

সনাতনী নিন্দা বিদ্বেষ অপবাদ ষড়যন্ত্রে

হবে ফের যুদ্ধ,

রৌরব কৌরব চারিধার রুধির মন্ত্রে। 

জাগিয়া সনাতনী রাজপথে কুরুক্ষেত্রময়।

আমি পার্থ, পরিজন দেখি দেহ অবসন্ন, বিশুষ্ক মুখ, কম্পিত দেহ হবার এ সময় নয়। 

বাজায়ে ভেরি রণতূর্য মাঝে পাঞ্চজন‍্য কয়- হে পার্থ! নপুংসকতা করো না আশ্রয়।

তোলো গাণ্ডীব ধনু টঙ্কারে অনিবার্য 

হোক তোমার প্রলয়।

পার্থ: হে অরিসূদন! আমি বিনা দোষে বন্দী। তাতে নাই ক্ষোভ। তোমার জন্ম এই কারাগারে। এ কারও থাকে ভাগ‍্যে, আর কতজন করে লোভ। অতি সাধারণ তারে ভাবে দূর্ভোগ।।

তবুও বলো, হে জগন্নাথ! কোন দোষে আজও সনাতনী ক্ষয়। সত‍্য, দ্বাপর, কলি, নব্বইয়ে কশ‍্যপ ধাম,

বঙ্গদেশে ছেচল্লিশ, একাত্তর- চব্বিশে বার বার হয়?

শ্রীকৃষ্ণ: মৃত্যু অবধারিত। শরীর অবিনাশী, নিত‍্য জন্মরহিত। মানুষ পুরাতন বস্ত্র পরিত‍্যাগ করে, নতুন বস্ত্র পরে। জীর্ণ শরীর ত‍্যাগ করে নতুন শরীর ধরে। তাই বলি মাভৈ:। শস্ত্র ধরো। ধারণ করো না ভয়। 

পার্থ: একা আমি। শত পার্থ পাথেয় আজি যুদ্ধ জিনিবারে। তবু হায়!  শতধা বহুধা বুদ্ধি নিরাশ্রয় স্বার্থান্বেষী, জাতপাতে ক্লিষ্ট জ্ঞানপাপী সনাতনী বাঙালি অর্থ চরাচরে। 

শ্রীকৃষ্ণ: চতুঃবর্ণ-র আমি স্রষ্টা গুণ কর্ম অনুসারে। কর্তা হলেও, আমি অকর্তা, তাই মানুষ নিজে ক্ষুদ্র খণ্ড করে। তুমি এক হও। একত্র করো আত্মজন যে জন স্বজন, অস্ত্র ধরো, তুমি দুর্বল নও।

পার্থ: কোন অস্ত্র? কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ পরে গাণ্ডীব ব‍্যর্থ, অব‍্যর্থ তবে কী বাষ্ণেয়? এ যুদ্ধ নিত‍্য সঙ্গী, আমারে জানিও। 

শ্রীকৃষ্ণ: যেখানে রাষ্ট্র সবলের পক্ষে, সংখ‍্যায় অতি স্বল্প তোমা সব। দেখ সম্মিলিত  নৃশংসতা হানে বাড় বৃদ্ধি স্তুপাকার শুধু যত মৃত শব;

সেখানে গাণ্ডীব নয়, অসি নয়, ঠিক বাঁশিও নয়। অহিংস অস্ত্রে হোউক ঘোষণা- মারিতে নয়, মরিতে দাও বিনা অধিকারে, ধর্ম বিষম কত তুলে ধরো জগৎ মাঝারে। কূটনীতি জেনো সর্ব শ্রেষ্ঠ অস্ত্র, তাই গাণ্ডীব নিস্প্রয়োজন, এ যুগে বিশ্ব জনমত গড়ো উপদ্রুত এলাকা তোমার, প্রতিবাদ হোক বিশ্ব দরবারে। জেনো, সব ক্রিয়ার থেকে প্রতিক্রিয়া দ্বিগুণ ভারে প্রতিষ্ঠিত হবে অধিকার তব সবাকার।

পার্থ: হে মধুসূদন! তুমিই বলেছো রণাঙ্গনে অবিনাশী শরীর হন্তক নহে কভু। শরীরও নিহত না হয়, এতো তোমারই বাণী প্রভূ। তবে হিংস্রকে হত‍্যা কেন নয়? আজও নিঃশঙ্ক নহি কভু, মহা সংশয়ে আমার হৃদয়।

শ্রীকৃষ্ণ: পার্থ! নিদ্রাজয়ী! এ কথা ধ্রুব সত‍্য। এখনও সময় হয়নি অনুকূল। রণাঙ্গনে প্রত‍্যক্ষ যুদ্ধ আর গৃহযুদ্ধ নহে এক। যুগভেদে প্রয়োগ যে না জানে ধর্ম তার কাছে শুধুই আবেগ। এ যুগে অস্ত্র নিয়ে যারা যুদ্ধ করে, তারা ক্ষণস্থায়ী, শুধু মৃত্যু নয়, সবংশে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। হয় আজ, নয় তো কাল। মহাকাল গ্রাসে তারা হারাবে সকাল। 

পার্থ: তবে মৃত্যু আসুক। ভয় মুক্ত হোক এ চলার পথ। আমি বধ‍্য হলেও, অরোধ‍্য রবে জয় রথ। শস্ত্র পারে না আমায় ছেদন করিতে, অগ্নি পারে না দহিতে। সিক্ত নাহি জল ধারে, বায়ু শুষ্ক নাহি পারে।

শ্রীকৃষ্ণ; রাষ্ট্রে গণতন্ত্রে নাহি পাই বিকল্প। তবুও শাসনের লোভে সে আজি মৃতকল্প। তাই রাজধর্ম জলাঞ্জলী দিয়ে দুরাচারী দুর্বিনীত তার প্রশ্রয়ে। তাই কূটনীতি বলে, এখন সময় বিশ্ব জাগাবার। যদি বাঁশি ধরো, ধরো জাগানিয়া, বারংবার। 

পার্থ: কেহ কি আসিবে না, ধর্মের গ্লানি এ ধরা তোমার তো নেই অজানা। সাধুদের পরিত্রাণ,  দুষ্কৃতীদের বিনাশ, হোক তব ধর্ম সংস্থাপনা। 

শ্রীকৃষ্ণ: জাগ্রত হবে যবে সেই বোধ সবার, স্বধর্মে নিধন শ্রেয়, পরধর্ম ভয়ংকর। তবে জেনো, ধর্ম নিয়ে অন্ধ বিশ্বাস যেন না হয় ত্রাস। এক ত্রাস ছাড়ি, অন‍্য যেন নাহি ধরে রাশ।

পার্থ: সনাতনী হিংসা নাহি চাহে। কত যে রক্ত বহে।  তারে বাধ‍্য করে হিংসক ধর্মান্ধ সকল। তাই তো নিপীড়নে আর্ত শুনি ধৈর্য্য হারায় জনার্দন।

শ্রীকৃষ্ণ: দুঃখে অনুদ্বিগ্নমনা হও, সুখে স্পৃহারহিত, সব আসক্তি থেকে মুক্ত হয়ে করো কর্মসাধন। 

হে পার্থ! ত্রিলোকে নেই কোনও কর্তব্য আমার, নেই কোনও অপ্রাপ্ত। তবুও তো কর্মরত, করে যাব শোক দুঃখ সুখ সকলই রপ্ত। এও সত‍্য। যে সকল আর্তে আমায় দেখে, আমি তারে দেখি। বিপন্ন জীবনে কারে বিপন্ন রাখি!

পার্থ: তাহলে কী কর্তব্য আমার? আরও নিঃশেষ হতে হতে শূন‍্য হওয়ার? গৃহ দহে, ভূমি লুঠ, সম্পদ লুঠ, নারীকেও লয়ে যায়, সনাতনী বঙ্গদেশ আজি ম্লেচ্ছ দেশ। 

শ্রীকৃষ্ণ: আমি সমগ্র লোকক্ষয়কারী প্রবৃদ্ধ কাল। আমি দুর্বৃত্ত সংহারকারী। আগেও বলেছি। আবারও এই কুরুক্ষেত্রে বলি, তুমি রণে ভঙ্গ দিলেও, এরা হবে মৃত শব। তাই কালজয়ী যুদ্ধ হবে। তবে তারও আগে হবে কূটনীতি। বুদ্ধি যার বল তার। একাদশ অক্ষৌহনী কৌরব সেনা পড়ে ছিল কম, তব পঞ্চ পাণ্ডবের কাছে। সংখ‍্যা বড়ো নয়। তার চেয়ে বড়ো কূটনীতি, চলে বিজয়ের পাছে। আমি আসিব, আবার আসিব নিশ্চয়। ধর্মের গ্লানি পাবে না পার। এ দুর্বৃত্ত, পাষণ্ড, ভ্রান্ত পথের পথিক, আমাতেই হবে লয়।

(www.theoffnews.com Bangladesh Mahabharat)


পি আর প্ল্যাসিড, প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক, জাপান:

জীবনের প্রথম কবে কবিতা লিখেছি সেই দিন তারিখ এখন সঠিক মনে করতে পারছি না। সম্ভবত তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া কালে আমার কবিতা লেখা শুরু। অর্থাৎ প্রথম কবিতা লেখা, তাও আবার একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবস উপলক্ষে। আমার লেখা সেই কবিতা শেষ পর্যন্ত কবিতা হিসেবে ধরা হয়নি। তারপরেও বলছি আমার জীবনে সেটাই ছিল প্রথম কবিতা লেখা। তবে সেই সময় লেখা কবিতার অনেক কিছুই এখন আর মনে করতে পারছি না। শুধু এটুকু মনে করতে পারছি যে, একুশে ফেব্রুয়ারি গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রভাতফেরী উদযাপন করা উপলক্ষে আমাদের কবিতা বা ছড়া লিখে নিয়ে যাবার কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানের দিন মঞ্চে স্বরচিত কবিতা বা ছড়া পাঠ করার সুযোগ থাকবে। তাই বুঝে না বুঝে লেখার সাহস দেখানোই ছিল বড় কথা। 

উল্লেখ্য, একুশে ফেব্রুয়ারী (১৯৭২) উপলক্ষে আমাদের গ্রাম রাঙামাটিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত প্রভাতফেরী উদযাপনের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেই পাঠ করেছিলাম স্বরচিত কবিতা। (সম্ভবত বড় বোন কিংবা ভাই সেটি সম্পাদনা করে দিয়েছিলেন)। এর আগে কবিতা নিয়ে আমার কোনও ধারণা বা ভাবনা ছিল না।

এরপর তো বাংলা পাঠ্য বইয়ে যে সকল কবিতা ছিল তা মুখস্থ করেছি, তার বাইরে মনে পরছে না ছোট বয়সে আর কোনও কবিতা পড়া বা লেখার কথা। 

এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে যখন কলেজে ভর্তি হতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আসি তখন থেকে প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা পড়তে শুরু করি। আর সেই পত্রিকার সাহিত্য পাতায় প্রকাশিত আধুনিক কবিতা পড়তে শুরু করি আমি কলেজ পড়ার সময় থেকে। এটা ঠিক ১৯৮০ সালের কথা। খুব মনে পড়ছে সেই সময় জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা বা সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হতো। বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হলে হকারকে ডেকে বলতাম, ভালো যে কয়টি কাগজ বা ম্যাগাজিন রয়েছে সবকটি বাসায় দিয়ে যেতে। বিশেষ সংখ্যাগুলো বাসায় দিয়ে গেলে আমি সকালে ঘুম থেকে জেগে নাস্তা করার আগেই সেগুলো নিজের রুমে নিয়ে খুঁজে খুঁজে প্রিয় লেখকদের কবিতাগুলো আগে পড়ে শেষ করতাম। আমার কবিতা পড়া শেষ হলে পর, বাসায় অন্যদের পড়ার জন্য পত্রিকাগুলো খাবার টেবিলে নিয়ে রাখতাম। এভাবেই আমার আধুনিক কবিতা পড়া হতো নিত্য। 

শুরুর দিকে কবিতা পড়ে যেটা বেশি ভালো লাগতো সেই কবিতার সাথে মিলিয়ে নিজে কবিতা লেখার চেষ্টা করেছি। কবিতা লেখার পর কখনও সেটা শব্দ করে আবৃত্তি করে পড়তাম। শব্দ করে পড়ার সময় লেখায় কোথাও ভুল থাকলে ভুলটা নিজের কানে ধরা পড়তো। কয়েকবার পড়ার পর নিজের কাছে যখন শুনতে ভালো শোনাতো তখন সেটা কবিতা হয়েছে মনে করে আলাদা খাতায় সুন্দর করে যত্নের সাথে লিখে রাখতাম। তবে থিম নিতাম পত্রিকায় প্রকাশিত কবিদের কবিতা থেকেই। 

১৯৮০ সালের পরের কথা বলছি। গ্রামের স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করার পর ঢাকায় এসে কলেজে ভর্তি হই। থাকি বড় ভাইয়ের বাসায়। বাসায় তখন প্রায়ই নতুন-পুরাতন (খ্যাতিমান) অনেক কবি সাহিত্যিকের আসা যাওয়া ছিল। বাসায় সুযোগ পেলে তাদের সাথে কবিতা নিয়ে কথা বলতাম। আমার কবিতার মূল বিষয় হতো তখন মেয়ে, মেয়েদের শরীর এমনকি বুঝে না বুঝে সেক্সচ্যুয়াল কথাও ব্যবহার করেছি বলে প্রথম প্রথম লজ্জায় কাউকে সেসব কবিতা দেখাতে পারিনি। দেখালেও তাদের কেউ কেউ আমার লেখা কবিতাকে কোনও কবিতাই হয়নি বলে ছুড়ে ফেলতেন দূরে।

আমি যে সময়ের কথা বলছি, সেই সময় আজকের মতো ঘরে ঘরে টেলিভিশন ছিল না। এলাকায় কয়েক বাসায় টেলিভিশন কেনার কথা জেনে ভাই ভাবীও টেলিভিশন কেনার কথা ভাবেন। একসময় বাসায় সাদা-কালো ২৪" টেলিভিশন কিনে আনার পর থেকেই আশে পাশের বাসার লোকজন বাসায় আসতে শুরু করে বিটিভিতে প্রচারিত বিশেষ সাপ্তাহিক এবং ধারাবাহিক নাটক দেখতে। সেই সময় টিভিতে সম্প্রচার করা নাটকের দর্শক ছিল প্রচুর। জনপ্রিয়তা তো আকাশ ছোয়া। তখন বিটিভি ছাড়া অন্য কোনও টিভি চ্যানেল ছিল না। তাই বিটিভির অনুষ্ঠান দেখার জন্যই আমরা পাগল ছিলাম তখন। 

টিভি দেখার নাম করে পাশের বাসার অন্যদের সাথে চম্পা নামের বাচ্চা বয়সের এক মেয়ে আমাদের ঘরে আসতে শুরু করে। টিভি দেখতে এসে প্রায়ই দেখি তাকে আমার রুমে ঢুকে টেবিলের উপর থাকা কোনও খাতার মাঝখানে কোথাও না কোথাও কবিতা আকারে কিছু ছন্দ লিখে রেখে যেত। কখনও আবার চিঠিও পেতাম বই বা খাতার ভিতর। বিষয়টিকে আমি কোনও গুরুত্বই দেইনি প্রথম। আমার থেকে চম্পা বয়সে অনেক ছোট ছিল, তাই সরাসরি একদিন সে তার নিজ মুখে বলতে শুরু করলো তা এসব চিঠির উত্তর দিতে, তখনই মনে হয় ওর চিঠির উত্তর দিতে শুরু করি। যার মাঝখানে আমার কবিতা বা ছন্দের মতো কিছু লেখা হতো।

যেই না একবার উত্তর লিখেছি এরপর থেকে মেয়েটি প্রায় প্রতিদিন আমার ঘরে এসে বই বা খাতার ভিতর চিঠি লিখে রেখে যেত। ওর বয়স আমার থেকে অনেক কম মনে করে পরে একদিন ধমক দিয়ে এসব করতে নিষেধ করলাম। সেদিনের পর আর কখনও চম্পাকে চিঠি লিখেছি বলে আমার মনে পড়ে না। তবে ওকে উদ্দেশ্য করে নিজের খাতার ভিতরই কবিতার আকারে চিঠি লিখতে শুরু করি যা পরবর্তীতে কখনও তাকে দেওয়া তো দূরের কথা দেখার সুযোগও হয়ে ওঠেনি। এসব আলাদা একটি খাতার মধ্যে লিখে, রেখে দিতাম। মেয়েটি আমার অবর্তমানে ঘরে এসে অনুমোদন ছাড়াই সেই খাতা খুলে লেখাগুলো পড়তো। বিষয়টি বুঝতে পেরে পর থেকে খাতাটি আমি কলেজে যাবার সময় অন্য বই-খাতার সাথে নিয়মিত নিয়ে যেতাম। কখনও ঘরে রেখে যেতাম না অন্য কারও হাতে পরতে পারে ভেবে।

আমি এইচএসসি পাশ করে যখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভর্তি হই তখন নিজের বিভাগের বাইরে অন্য বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের কয়েকজনের সাথে বেশ বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। ওদের সাথে মিশতে গিয়ে আমার নিজের বেশিরভাগ ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কলেজ বাউন্ডারির বিভিন্ন জায়গাতে আড্ডা দিতাম। একদিন বাংলা বিভাগের সেমিনার কক্ষে বসে সেই বিভাগের কয়েকজনের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এমন সময় বাংলার শিক্ষক ওবায়দুল আনন্দ আমার সাথে অন্যান্য দিনের মতো বসে আড্ডায় যোগ দিলেন (ওনাকে আমি ভাই সম্ভোধন করতাম)। সেখানে সবাই ছিলেন বয়সে আমার চেয়ে বড়। তাদের সামনে আনন্দ ভাই আমার সেই খাতাটি দেখার আগ্রহ দেখালে প্রথম আমি দেখাতে আপত্তি করি। এর কারণ জানতে চাইলে যখনই বললাম এতে আমার কবিতা লেখা রয়েছে কিছু। তখন অনেকটা জোর করেই খাতাটি তিনি নিয়ে তাতে লেখা কবিতার কিছু পড়লেন।

কবিতাগুলো থেকে কয়েকটি কবিতা পড়ে তার মধ্য থেকে একটি কবিতা দেখিয়ে সেটা কপি করে দিতে বললেন। আমি তার পছন্দেই একটি কবিতা খাতার অন্য পাতায় লিখে কপি করে দেখালে তিনি কবিতার সেই পাতাটি নিজেই টেনে ছিঁড়ে হাসি হাসি মুখ করে পড়লেন। পরে গোঁফের নীচ দিয়ে সাদা দাঁত বের করে খোলা মুখে হেসে উনি কাগজটি ভাঁজ করে তার শার্টের বুক পকেটে ভরে নিয়ে গেলেন। দুই সপ্তাহ পর আবার যখন সেই একই কক্ষে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম তখন একটি বড় পত্রিকা আমার হাতে দিয়ে বললেন, - নাও, দেখো। এতে তোমার কবিতা ছাপা হয়েছে। শোনার পর কবিতা দেখার আগেই আনন্দে আমার মন নাচতে শুরু করলো।

পত্রিকায় আমার কবিতা প্রকাশের কথা শুনে সেখানে সবাই আমার প্রকাশিত কবিতা দেখার জন্য জোর করছিল। আমি তাদের প্রকাশিত কবিতা দেখার অনুরোধ করা দেখে ও শুনে লজ্জায় লাল হয়ে উঠছিলাম। এ দেখে আনন্দ ভাই নিজেই সেটা খুলে দেখালেন সবাইকে। তাৎক্ষনিক সেখানে উপস্থিত একজন ডিপার্টমেন্টের বয়কে আনন্দ ভাই চা আনিয়ে আমাদের সবাইকে চা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলেন। চা খেতে খেতে একজন বলেছিল, আমার জীবনের প্রথম প্রকাশিত কবিতার জন্য সেলিব্রেট করছে। যে এই কথা বলছিল সে এখন আমেরিকা প্রবাসী, নাম রওশন। দেখতে বেশ সুন্দরী ছিল বৈকি। তবে আমরা খুব আন্তরিক ছিলাম একে অপরের, এতে ভুল নেই। রওশন অবশ্য বড় বোনের পরিচিত, তাই সম্পর্কটা বন্ধুর মতো হলে কি হবে ভিতরে বোনের মতোই সম্মান করতাম তাকে। 

আনন্দ ভাই আমাকে নিয়ে রসিকতা করতে আবার কিছুটা খিলখিল করে হেসে বলছিলেন - আরে তোমরা শোনো, প্ল্যাসিড প্রেমের কবিতা লিখেছে। ও যে প্রেম করে দেখে তো বোঝাই যায় না। তবে ভালো লিখেছে, তাতে সন্দেহ নেই। বলে, সবার সামনে পত্রিকায় প্রকাশিত আমার কবিতাটি আবৃত্তি করে সবাইকে শোনালেন। আমার নিজের কাছে তখন এমন প্রেমের কবিতা শুনে লজ্জা লাগছিল বেশ। তবে সেদিন আমার কবিতা প্রকাশিত হবার কারণে যেভাবে ওরা আমাকে চা খাইয়ে সেলিব্রেট করেছিল তাতে আমার কাছে খুব ভালোই লাগছিল বলা যায়। সেদিনের সব কথা মনে না রাখলে কি হবে, সেদিনের অনুভূতি আমার স্মৃতির পাতায় এখনও রয়েছে স্পষ্ট ভাবে। এরপর আনন্দ ভাই আমাকে প্রতি সপ্তাহেই কবিতা লিখে দিতে বলে বলতেন, তোমাকে আমি সাংবাদিকতা শেখাবো। পরে যদিও তিনি আমাকে আর সাংবাদিকতা শেখানোর মত কোনও উদ্যোগ নেননি, তবে আমি সাংবাদিক হয়েছি।

তবে এখানে বলে রাখছি, পত্রিকার পাতায় প্রথম প্রকাশিত আমার কবিতাটির নাম ছিল ”চম্পার উদ্দেশ্যে”। প্রকাশিত হয়েছিল সাপ্তাহিক আবির্ভাব নামের একটি পত্রিকায়, যা প্রকাশিত হতো পুরাতন ঢাকার ইসলামপুর থেকে। এরপর থেকেই আমি নিয়মিত বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা, সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন এবং বিভিন্ন স্মরণিকায় কবিতা লিখে পাঠাতাম স্বনামে এবং ছদ্মনামে, যা ছাপাও হতো সব।

(www.theoffnews.com Bangladesh poem)


শামা আরজু, লেখক, বাংলাদেশ:

প্রাক প্রাথমিক শ্রেণীতে পড়ে তুষার। স্কেবিসের কারণে হাতে পুঁজ হয়ে গেছে। রোগটা ছোঁয়াচে তাই ওর মাকে বললাম ওকে নিয়ে যান বাড়িতে। সুস্থ হলে পাঠাবেন। মা গজগজ করে উঠলো। স্কুলে না আসলেও যন্ত্রণা, আসলেও যন্ত্রণা। আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। আপনি কি বলছেন এসব! আপনি কি চান আপনার বাচ্চার কারণে বাকি সবগুলো বাচ্চার এই অসুখটা হোক! মা কেঁদে উঠলেন কান্না। জানালেন, না আনলে আপনারা ফোন করেন। আমি এই বাড়িতে (স্বামীর বাড়িতে) তো থাকতে পারি না। বেশিরভাগ সময় বাবার বাড়িতেই থাকি। আমার তো কোনও খরচ দেয় না ওদের বাবা। বাচ্চাদেরও কোনও খরচ দেয় না। তাই বাবার বাড়িতে পড়ে থাকি।

আপনার মুখে কিসের দাগ?

আমাকে টর্চ লাইট দিয়ে মেরেছিল সেই দাগ। 

আপনার গায়ে হাত তোলে!

মারতে মারতে অজ্ঞান করে ফেলে।

আপনি এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারকে জানাননি?

তাদের জানিয়ে কোন লাভ হয়নি। জেলও খেটেছে তবু তার পরিবর্তন নাই। কিছু বললেই মারে।

আমি অনুতপ্ত হয়ে বললাম কিছু মনে করবেন না। আমি তো এসব জানতাম না। সমস্যা নেই আপনি আপনার সুবিধামতো বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে আসবেন। তবে এখন না, সুস্থ হলে।

বাবার বাড়িতে থাকলে আসতে যেতে সিএনজি ভাড়া লাগে তো। সেই টাকাটাই আমাকে কে দেয়! 

এর উত্তর আমার কাছে নেই। আমি এরকম অনেক গল্প জানি। আমি এরকম অনেকের গল্প জানি। আমার গল্পও যে এরকমই।

(www.theoffnews.com Bangladesh women tortured)


সুবীর পাল, দ্য অফনিউজ, কলকাতা: 

এই প্রতিবেদনের ছবিটি ফারজানা আঁখি'র। বাংলাদেশের বাসিন্দা। ফেসবুক সূত্রে আলাপ। সেই আলাপের সূত্রে আমাদের বন্ধুত্ব। বেশ কয়েক বছরের। অত্যন্ত উদার। ভীষণ সামাজিক। তীব্র মানবিক। অনন্য স্বনির্ভরতা। স্পষ্ট বক্তা। পথশিশুদের মসিহা। দরিদ্র বৃদ্ধ বৃদ্ধার অকৃত্রিম সাথী। মেলামেশায় সাবলীল তবে সীমানাটা জানেন। অসম্ভব দায়িত্বশীলা তবু নীরব সংযমী। অত্যন্ত আধুনিকচেতা যদিও অসৌজন্যতায় নৈব নৈব চঃ।

নিজের জীবনটাকে একা টেনে এনেছেন। না মুখে কোনও আক্ষেপের বক্রোক্তি নেই। একফোঁটাও। পারিবারিক ও সামাজিক যুদ্ধটা তাঁর কাছে সহজ ছিল না মোটেই। তবু নিয়ত সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছিলেন মাথা তুলে বাঁচার তাগিদে। আজ তিনি দৃষ্টান্তের প্রতিষ্ঠিত। স্রেফ আপন মুন্সিয়ানায়।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুদের প্রতি উৎপীড়ন আজ বিশ্ব নিন্দিত। বছর খানেক আগের কথা। বাংলাদেশের প্রবাসী আইনজীবী ও মার্কিন মুলুকের বাসিন্দা প্রিয়া সাহা। তদানীন্তন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মুখোমুখি প্রিয়া সাহা সরাসরি সাক্ষাৎ করে অভিযোগ করেছিলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর সংখ্যাগুরুদের নিপীড়নের কাহিনী। প্রিয়াদেবীর মুখে আমিও একাধিকবার শুনেছি ওই অত্যাচারের ধিকৃত বিবরণ। সেই ধর্মীয় মৌলবাদী অত্যাচার সম্প্রতি আরও বেশিমাত্রায় ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে।

বছরখানেক আগে মহিলাদের কপালে টিপ পরা নিয়ে প্রতিবাদে সারা দেশ জুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। সেদিনও এই ফারজানা আঁখি প্রতিবাদী হয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন। চলতি বছরের দুর্গোৎসবে কত যে প্রতিমা চুরমার করা হয়েছে তার ইওত্তা নেই। বাংলাদেশে পুজো বন্ধ করার দাবিতে এবার মৌলবাদের মিছিল হয়েছে নানা রাজপথে। অথচ প্রশাসন থেকেছে অদ্ভুত রকমের নীরব। এমনকি ময়মনসিংহে এক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংবাদিক স্বপন ভদ্রকে মন্দিরের সামনে প্রকাশ্যে নৃশংস ভাবে খুন করে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা গত শনিবার।

এমনই এক ভয়ার্ত পরিবেশে সমাজের ঠিক উল্টো স্রোতে সাঁতার কেটে ফারজানা আঁখি সোজা হাজির হন বাংলাদেশের এক স্থানীয় পুজো মন্ডপে। চলতি শারদীয়া দুর্গোৎসবে অংশ নিতে। সেই ছবি তিনি পোস্ট করেছেন তাঁর প্রোফাইলে। তাঁর অনুমতি নিয়েই আমি এই লেখায় উনার ছবিটি ব্যবহার করেছি। ওই পোস্টে একজন কমেন্ট করেছেন, 'আমি ছবি তুলে পোস্ট করার সাহস পাই না'। উত্তরে তিনি বলেছেন, 'দুই দিনের জীবন সবাইকে নিয়ে বাঁচতে চাই'। আবার কোথাও লিখেছেন, 'অসাম্প্রদায়িক মানবিক বাংলাদেশ চাই'।

ফারজানা আঁখি শুধু মুখের কথায় সম্প্রীতির বার্তা প্রচার করেই ক্ষান্ত হননি। ইউনূসের বাংলাদেশে সটান সদর্পে হাজির হয়েছেন দুর্গাপুজোর মন্ডপে। এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় দাপটের সঙ্গে জানানও দিয়েছেন একইসঙ্গে।

সম্প্রীতি রক্ষায় তাই মানতেই হবে, এই ছবি স্থানীয় মৌলবাদীদের গালে একটা সপাটে থাপ্পড়ের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। ব্র্যাভো ফারজানা আঁখি। সেলাম তুঝে সেলাম।

(www.theoffnews.com secularism Bangladesh)


শামা আরজু, লেখক, বাংলাদেশ: সবে মাত্র নতুন এসেছি এখানে। তৃতীয় শ্রেণীর একটি মেয়ে বিদ্যালয়ে আসছে না দীর্ঘদিন। অনুপস্থিতির কারণ জানতে গিয়ে জানলাম, মেয়েটা গত বছর রেপ হয়েছে। বুলিং এর শিকার মেয়েটার বাড়িতে গেলাম। বারবার বুঝিয়ে মেয়েটাকে স্কুলে আনলাম। বলেছিলাম যারা তোমাকে এসব নিয়ে কথা বলে লজ্জা তাদের থাকা উচিত। তুমি কেন লজ্জায় ঘর থেকে বের হবে না! তুমি যদি ঘরে বসে থাকো তবে তো ওরাই জিতে যাবে। আর কি কি বলেছিলাম এখন আর মনে করতে পারছি না। অনেকবার আমাকে ওদের বাড়িতে যেতে হয়েছে। মেয়েটি একসময় বিদ্যালয়ে আসা শুরু করেছে। যদিও তখনও তাকে কথা শুনতে হতো। একসময় সে প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গেল। সেখানে গিয়ে আর তার পড়াশোনাটা সে চালিয়ে যেতে পারল না। ততদিনে তার বয়স কৈশোরে। খুব ইমোশনাল থাকে এই সময় শিশু। তাই মানুষের কথাকে আর কোনভাবেই নিতে পারছিল না। লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেল। ধর্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা ছিল। পুলিশ মধ্যস্থতাকারী হয়ে ধর্ষকের সাথে মেয়েটার বিয়ে দিল। পুলিশ ধর্ষকের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য ওরা একটা ফাঁদ পেতেছিল। মেয়েটি সেই ফাঁদে পা দিতে বাধ্য হলো। ধর্ষকের সঙ্গেই তার বিয়ে হল। ও ধর্ষকের বাড়িতে গেল। সেখানে গিয়ে ধর্ষক এবং তার মায়ের অত্যাচারে সে বাধ্য হল বাবার বাড়িতে ফিরে আসতে। কিছুদিন পর বাবা তাকে তার দ্বিগুণ বয়সি এক মোল্লার সাথে বিয়ে দিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললো। বেশ কয়েকদিন মেয়েটি আমাকে ফোন করেছিল। আমি তার ফোন ধরিনি। কারন এর পরে আর কিছু হলে আমি সেটা নিতেও পারবো না আবার ওর জন্য কোন কিছু করতেও পারবো না। সমাজের প্রতিটি স্তরে পচন ধরেছে। রমিজ আমার স্কুলে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ফার্স্ট হয়ে এসেছে। ওর বাবা একসময় রিক্সা চালাত। এখন কিছু করে না। কাজের মধ্যে কাজ হলো ওর মাকে মারধর করা। স্কুলে আসার সময় রমিজকে স্কুলে আসতে দিত না। সে চাইতো রমিজ কাজ করুক। রমিজকে সাথে করে নিয়ে গিয়ে হাইস্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলাম। বিনা বেতনে পড়ানোর ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলাম। কিন্তু রমিজের পড়াটা আর হলোই না। রমিজের কোন প্রাইভেট টিচার ছিল না। কিছুদিন আগে তার বাবা মারা গেল। ছয় মাস পর গেল মা। তার মাকে আমি যোদ্ধা বলি। কারণ এই মহিলা গ্রামে লজ্জায় চাইতে পারত না। শহরে গিয়ে মানুষের বাসায় কাজ করতো, এমনকি ভিক্ষাও করতো। চারটা সন্তান। বিয়ের বয়সী দুটি মেয়ে আছে। পাড়া পড়শী বলে মেয়েগুলির নাকি চরিত্র ভালো না। এজন্য এখানে এসে থাকতেও পারে না। ওরা নাকি আসামেও (ভারত) গিয়ে থাকে। জন্ম নিবন্ধনের জন্য আমার কাছে এসেছে। কিন্তু আমি তো দিতে পারিনি। কারণ ওরা আমার স্কুলে পড়েনি। ওদের কোন কিছুই আমার কাছে নাই। এরা কি বাংলাদেশের নাগরিক না! শুনেছি রমিজ এখন রিক্সা চালায়। আজগর পড়তো আমার স্কুলে। রমিজের মত সেও প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বরাবরই ফার্স্ট হত। পঞ্চম শ্রেণীর পর আজগরের পড়া আর চলেনি। ওকে স্বর্ণকারের দোকানে কাজ শেখানোর জন্য দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওর মাকে বলেছিলাম ওর পড়ার খরচ আমি চালাবো। ওকে পড়তে দিন। আমার সৌভাগ্য আজগরের মা আমাকে গালিগালাজ করেনি। কারণ পেটের তাগিদের কাছে সবকিছুই হার মানে। ফাতেমার বাবা নাকি নেশা খায়। কাজকর্ম কিছুই করে না। মা আশেপাশের বাড়ি ফরমায়েশ খেটে যা পায় তাতেও ভাগ বসায় ফাতেমার বাপ। প্রাইমারি শেষ করেই ইতি টানতে হলো শিক্ষাজীবনের।করোনার বিভীষিকার সময় রাত বারোটায় নজীব উল্যা মেম্বার ফাতেমার মায়ের মাথার কাছে দুই কেজি চাল রেখে ফাতেমাকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। সবাই কেবল সফলতা দেখে। কি করে দেখে জানি না। আমি সফলতা দেখি না। সফলতা আমার কাছে মিরাক্কেলের মত। অথচ মিরাক্কল নিয়েই মিডিয়া হুমড়ি খায়। সাধারণত যেটা হয় সেটা হল ব্যর্থতা। আমি তো কেবলই ব্যর্থতা দেখি। সাধারণ বিষয় নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না, সাধারণ বিষয়গুলি অতি সাধারণভাবেই সবাই নেয়। কিন্তু আমি নিতে পারি না। আমি সাধারণের ব্যর্থতা নিতে পারি না। প্রচন্ড রাগ হয় সিস্টেমের ওপর। আমার তখন চে কে মনে পড়ে। আমার তখন চের মতো একটা বন্দুক খুব জরুরি মনে হয়। একহাতে থাকবে বন্দুক অন্য হাতে আমার ক্ষত-বিক্ষত বুকটা চেপে ধরব আর দমাদম কয়টা গুলি করবো।আমার বিপ্লবী হবার স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে গেল। (www.theoffnews.com - Bangladesh revolution)
দি ব্যুরো (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ, কলকাতা: রাজধানীর কাকরাইলস্থ হোটেল রাজমনি ঈসা খাঁ ব্যাংকুইট হলে ৯ মার্চ শনিবার বাংলাদেশ কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফেডারেশন ও টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ (ট্রাব) এর উদ্যোগে ‘স্বাধীনতা সম্মাননা-২০২৪’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান ও মনোজ্ঞ সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম.এ মান্নান (এমপি) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০ জন গুনী ব্যক্তিকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। শাস্ত্রীয় যন্ত্র সঙ্গীতে আর্ন্তজাতিক ভাবে বিশেষ অবদানের জন্য এবছর বিশেষ সম্মাননা পান ভারতের সন্তুর শিল্পী পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তী। এবছর তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাদেমী থেকে নাটকের আবহ, সুর ও সঙ্গীত ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমী-২০২৪ সম্মাননা পেয়েছেন। ১৯৯৩ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে নরওয়ে থেকে আর্ন্তজাতিক পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে ইউএনও এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আর্ন্তজাতিক পুরস্কার লাভ করেন মাত্র ১০ বছর বয়সে। ১৯৯১ সালে তিনি ভারতের প্রেসিডেন্ট স্কলারশীপ লাভ করেন। পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তী মূলত ধ্রুপদী শততন্ত্রী বীণা (সন্তুর) শিল্পী। পাশাপাশি তিনি সরোদ, তবলা, পাখোয়াজ, সেতার, এসরাজ, গিটার সহ আরও অনেক যন্ত্রে বিশেষ তালিম নিয়েছেন এবং বর্তমানে এসব যন্ত্রে শিক্ষা প্রদান করছেন। তিনি মাত্র ছয় বছর বয়স থেকে বাবা আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের বাড়িতে অর্থাৎ গুরুগৃহে থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে তালিম নিয়েছেন। এ পর্যন্ত তিনি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। (www.theoffnews.com - santoor Dishari Chakraborty)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

মানুষ সবচেয়ে বেশি মারাত্মক প্রাণী হিসেবে সিংহ, সাপ বা কুমিরের মতো বৃহৎ প্রাণীকে দেখলেও এদের অধিকাংশই মানুষের আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম প্রাণঘাতী হয়ে থাকে। পৃথিবীতে আনুমানিক ১.২ মিলিয়ন প্রজাতির প্রাণীর বসবাস। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণীগুলোর অধিকাংশই খুব ছোট আকারের হয়ে থাকে। ক্ষুরধার দাঁতের পরিবর্তে জীবাণু, বিষ এবং অন্যান্য উপায়ে এদের হাতে মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেশি।

অবাক মনে হলেও এটা সত্যি, যে প্রাণীটি প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি মানুষকে হত্যা করে তা হলো মশা। প্রতিবছর গড়ে ৭ লাখ ২৫ হাজার মানুষকে হত্যা করে এই প্রাণী। আর মানুষের জন্যে দ্বিতীয় বিপজ্জনক প্রাণী হচ্ছে মানুষ নিজেই। 

আমাদের চারপাশে থাকা এই মশা নানা ধরনের রোগ ছড়ায় এটা আমরা প্রায় সবাই জানি। তবে আমরা যেটা কল্পনাও করতে পারি না, কোনও প্রাণী যদি আমাদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হয়, সেটি মশা। খুদে এই উড়ুক্কু প্রাণী বছরজুড়ে সাড়ে সাত লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। আর এই মৃত্যুগুলোর বড় একটি অংশ আসে ম্যালেরিয়ার কারণে। এটির প্রভাব সবচেয়ে বেশি আফ্রিকায়। পৃথিবীর মোট ম্যালেরিয়া সংক্রমণের ৯৫ শতাংশ ও মৃত্যুর ৯৬ শতাংশ আফ্রিকায়। আরও যেসব বড় রোগের বাহক ছোট্ট এই প্রাণী, এর মধ্যে আছে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, জিকা, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস ইত্যাদি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গু। এ বছর ইতিমধ্যে এডিস মশার কারণে সৃষ্টি হওয়া ডেঙ্গু জ্বরে বাংলাদেশে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা ১০০-তে পৌঁছেছে।

(www.theoffnews.com - Bangladesh mosquito)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

বাসা কিংবা বাইরে, সব জায়গাতেই আমরা প্রায় প্লাস্টিকের বোতলে থাকা পানি কিনে পান করে থাকি। আবার অনেকেই ব্যবহৃত এসব খালি বোতলে পানি ভরে পুনরায় ব্যবহার করে এবং ফ্রিজেও রাখেন। কিন্তু প্রায় বেশির ভাগ মানুষই জানি না এই প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করায় ঠিক কতটা ভয়ংকর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি আমরা । প্লাস্টিকের বোতল সহজলভ্য এবং এর ব্যবহার সুবিধাজনক হলেও তা আমাদের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে আমাদের পান করা পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি থাকতে পারে, বিশেষ করে যখন প্লাস্টিকের বোতল থেকে সরাসরি পান করা হয়।

মাইক্রোপ্লাস্টিক ৫ মিলিমিটারেরও কম আকারের ক্ষুদ্র কণা পানির উৎসগুলোকে বিভিন্ন উপায়ে অনুপ্রবেশ করে, যার মধ্যে রয়েছে বড় প্লাস্টিকের ধ্বংসাবশেষ ভেঙে ফেলা, সিন্থেটিক টেক্সটাইল থেকে মাইক্রোফাইবার বের করে দেওয়া এবং প্লাস্টিকের বোতলের খণ্ডিতকরণ। গবেষণায় দেখা গেছে যে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলো বিস্তৃত। এগুলো কেবল আমাদের মহাসাগরই নয়, আমাদের মিঠা পানির উৎস এবং এমনকি আমরা যে বায়ু থেকে শ্বাস নিই তাও দূষিত করে।

আমরা যখন প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানিতে চুমুক দিই, তখন অজান্তেই এই মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং সতেজ তরলটি গ্রহণ করি। গবেষণাগুলোতে বিশ্বজুড়ে বোতলজাত পানির নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা সনাক্ত করেছে, এই ব্যাপক দূষণের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্লাস্টিকের বোতল এবং চর্মরোগ সংক্রান্ত পণ্যের মতো জিনিস থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক আমাদের দেহে প্রবেশ করার ক্ষমতা রাখে। ইনসুলিন প্রতিরোধ, ওজন বৃদ্ধি, প্রজনন স্বাস্থ্য হ্রাস এবং এমনকী ক্যান্সারের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা এই রাসায়নিকগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

যদিও মাইক্রোপ্লাস্টিক খাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে এখনও গবেষণা করা হচ্ছে, তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, এগুলো মানব স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্লাস্টিকের মধ্যে পাওয়া ক্ষতিকারক রাসায়নিক স্থানান্তর করার সম্ভাবনা।

(www.theoffnews.com - Bangladesh water plastic bottle)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

শীত কিংবা গরম সারা বছর অনেকেই ভোগেন হাতের তালু ঘামার মতো এমন সমস্যায়। এটি যেমন অস্বস্তিকর তেমনি তৈরি করে কাজের সমস্যার।

হাতের তালু ঘামে কেন ও এর প্রতিকার সম্পর্কে জানিয়েছেন এএমজেড হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের পুষ্টি, ওবেসিটি, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক ডিজিজ কনসালটেন্ট ডা. মো. জয়নুল আবেদীন দীপু।

হাতের তালু ঘামে কেন

ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশ (সিমপেথেটিক) অতি সংবেদনশীল হয়ে ঘাম-গ্রন্থিকে অতিরিক্ত সক্রিয় করলে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়। তখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হাত ঘামে। বিভিন্ন রোগের কারণেও হাতের তালু অতিরিক্ত ঘামতে পারে। যেমন-

১. থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা (হাইপার-থাইরয়েডিজম) থাকলে

২. ডায়াবেটিস

৩. অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তা

৪. হৃদযন্ত্রের সমস্যা থাকলে

৫. গর্ভাবস্থায়

৬. পারকিনসন ডিজিজ

৭. কিছু ক্যানসার

আবার কোনও রোগ ছাড়া অজানা কারণেও হাত অতিরিক্ত ঘামতে পারে।

হাতের তালু ঘামলে কী করবেন

ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ায় বা ব্যায়াম করলে কারও হাত স্বাভাবিকভাবে ঘামে, এতে কোনও ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু যদি ওপরে উল্লেখ করা অন্য কোনও কারণে বা কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হাতের তালু ঘামে তবে তা অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আর কারও যদি অতিরিক্ত ঘামের পাশাপাশি মাথা ঘোরানো, বুকে ব্যথা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা দ্রুত হৃদস্পন্দন ইত্যাদির লক্ষণ থাকে তাহলে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে যেতে হবে। যদি কারও অতিরিক্ত হাত ঘামার ফলে দৈনন্দিন কাজে বিঘ্ন ঘটে, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন। এক্ষেত্রে একজন মেডিসিন, হরমোন অথবা নিউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

কোনও রোগের কারণে হাতের তালু ঘামার সমস্যা হলে ডাক্তার উপযুক্ত কারণ চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেবেন। আর নির্দিষ্ট কোনও রোগ ছাড়া অতিরিক্ত হাতের তালুর ঘামের জন্য ডাক্তার মেডিকেটেড লোশন/স্প্রে ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। সাধারণভাবে জীবনাচার পরিবর্তন করে হাতের তালু ঘামার সমস্যা রোধ করা যেতে পারে। যেমন ঢিলেঢালা ও হালকা রংয়ের পোশাক পরে এবং সবসময় রুমাল/ ছোট তোয়ালে ব্যবহার করে হাত শুষ্ক রাখা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও খাবারের বিধি-নিষেধ নেই। তবে তৈলাক্ত খাবার ও ফাস্টফুড পরিহার করলে এই সমস্যায় উপকার পাওয়া যাবে।

(www.theoffnews.com - Bangladesh hand sweat)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ :

প্রেমে পড়েনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে খুব কম। কেউ প্রকাশ করে, কারোরটা আবার থেকে যায় অজানাতেই। পৃথিবীর সৃষ্টি লগ্ন থেকেই নারী ও পুরুষের পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ থেকে আসে আসক্তি। আর সেই আসক্তি থেকেই অল্প অল্প করে প্রেমে পড়া।

কিন্তু মানুষ প্রেমে কেন পড়ে? প্রেমে পড়ার নিয়ামকই বা কি? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই উঁকি দেয়।

মানুষ তার রূপ, চেহারা এবং ব্যক্তিত্ব দেখে একজন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। কিন্তু এর পেছনের কারণ খুব কম সংখ্যক মানুষই জানে।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা বলছে, প্রেম সবই মস্তিষ্কের খেলা। আসুন আমরা কেন প্রেমে পড়ি তা জানার চেষ্টা করি।

অন্যদিকে সাইকোলজিস্টরা বলছেন, ভালোবাসা এমন একটি অনুভূতি যেখানে একজন ব্যক্তি হৃদয় থেকে চিন্তা করে এবং অনুভব করে। এতে একজন ব্যক্তির মনে অনেক আবেগ এবং বিভিন্ন চিন্তার বিকাশ ঘটে, যা সুখ, স্বস্তি ও শান্তি দেয়। এটি আকর্ষণের প্রভাবে ঘটতে পারে বা আকর্ষণ ছাড়াই বিকাশ লাভ করতে পারে।

ভারতের নারায়ণা হাসপাতালের চিকিৎসক রাহুল রাই কাক্কার বলেন, আমরা যদি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি, আমরা যখন বড় হই তখন আমাদের শরীরে টেরেস্টেরন, প্রোজেস্টেরন এবং ইস্ট্রোজেন নামক হরমোন তৈরি হয়। এর ফলে আমাদের শরীরে একটি প্রক্রিয়া ঘটে যার মধ্যে আমরা ভালোবাসা এবং উত্তেজনা অনুভব করি।

সুপরিচিত বিজ্ঞানী হেলেন ফিশার প্রেমকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন- লালসা, আকর্ষণ এবং সংযুক্তি। প্রেমের প্রথম অনুভূতি মস্তিষ্কে তিনটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ঘটে। নোরাড্রেনালাইন, ডোপামিন এবং ফেনাইলথিলামাইন। নোরাড্রেনালিন রাসায়নিক অ্যাড্রেনালিনকে উদ্দীপ্ত করে, যার ফলে হৃৎপিণ্ড দ্রুত স্পন্দিত হয় এবং হাত ঘামতে থাকে। ডোপামিন আপনাকে ভালো বোধ করায়। যখন আমরা আমাদের ক্রাশের কাছাকাছি থাকি, তখন ফেনাইলথাইলামাইন নিঃসৃত হয়, যা আমাদের পেটে প্রেমের প্রজাপতি উড়ছে, অনুভব করায়।

আসলে ভালোবাসা একটি সংযুক্তির অনুভূতি, যা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। এতে একজন মানুষ সবকিছু ভুলে এই সুখ উপভোগ করেন এবং এর ফলে তার শরীরে ডোপামিন, অক্সিটোসিন, সেরোটোনিন এবং এন্ডোরফিনের মতো অনেক ধরনের হরমোন বৃদ্ধি পায়, যা তাকে আনন্দ দেয়। একে আমরা বাস্তবে প্রেম বলে থাকি। উল্লেখ্য , গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রেম আসলে মস্তিষ্কের রাসায়নিক প্রক্রিয়াই।

(www.theoffnews.com - Bangladesh love)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

কর্মীদের কাজে সাহায্য করার জন্য তিনটি রোবট রাখা হয়ে ছিল ইলন মাস্কের প্রখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা টেসলার টেক্সাসের কারখানায়। কিন্তু সাহায্য করা দূরস্থান, একটি রোবট হঠাৎই সেখানকার এক কর্মীকে কৃত্রিম নখ বার করে আঁচড়ে দেয়। ভারতের একটি পত্রিকা জানায়, সম্প্রতি প্রকাশিত ওই সংস্থার একটি রিপোর্টে এমনটাই জানা গিয়েছে।

যদিও রিপোর্টে এও দাবি করা হয়েছে যে, ঘটনাটি তিন বছর আগেকার। তবে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা সম্প্রতি এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, টেক্সাসের ওই কারখানায় সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করতেন আক্রান্ত কর্মী। তাঁর কাজ ছিল নতুন অ্যালুমিনিয়াম পাত কেটে তা নতুন গাড়িতে ব্যবহার করা। ঘটনার দিন দু’টি রোবটকে নিশ্চল করে রাখা হলেও, একটি রোবট আংশিকভাবে কার্যকর ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, আক্রান্ত কর্মীকে কাজে বাধা দিচ্ছিল তৃতীয় রোবটটি। তার পরেও ওই কর্মী কাজ চালিয়ে যাওয়ায় নিজের কৃত্রিম নখ বার করে পিঠে এবং হাতে আঁচড় কেটে দেয় রোবটটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোবটটি আক্রমণ করার পরেই রক্তে ভেসে যায় দুর্ঘটনাস্থলটি। সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্তকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। যদিও মাস্কের সংস্থা এই বিষয়ে প্রকাশ্যে এখনও মুখ খুলতে চায়নি।

(www.theoffnews.com - Bangladesh Telsa)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

দেশীয় ফলের মধ্যে কলাই একমাত্র ফল, যেটি সারা বছর পাওয়া যায়। কলা খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। কলার উপকারিতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। কলার মধ্যে রয়েছে চিনি, আঁশ, ভিটামিন বি ৬, পটাশিয়াম। চলুন জানি, কেন বেশি কলা খাওয়া প্রয়োজন।

১. বিশেষজ্ঞরা ব্যায়ামের পরপর কলা খাওয়ার পরামর্শ দেন। কেননা এটি দ্রুত শক্তি যোগায় ।

২. কারও পেশি টানের সমস্যা হলে খেকে পারেন কলা। এটি পেশি ব্যথা বা টানের সমস্যা কমাতে খুব কাজ করে। এর মধ্যে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের জন্য এটি পেশির জন্য ভালো কাজ করে।

৩. শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক করতে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে কলা বেশ উপকারি। এটি পাকস্থলীর এসিড ও আলসার প্রতিরোধ করে।

৪. এটি মাইয়োকারডিয়াল ইনফেকশন ও স্ট্রোক প্রতিরোধে কাজ করে।

৫. ডায়রিয়া রোধে কলা খুব উপকারী। ডায়ারিয়া হলে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। কলা অন্ত্রের সমস্যা রোধ করে ডায়রিয়া কমাতে কাজ করে।

৬. কলার মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম। এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কাজ করে।

৭. এর মধ্যে রয়েছে আঁশ। তাই এটি বাউয়েল মুভমেন্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা কমাতে কাজ করে।

(www.theoffnews.com - Bangladesh banana)

সাজিয়া আক্তার, (রেসিডেন্সিয়াল এডিটর), বাংলাদেশ, দ্য অফনিউজ;

শীতকাল আসলেই ত্বকে দেখা দেয় নানা সমস্যা। আর সেই সমস্যা সমাধানে নিতে হয় ত্বকের একটু বাড়তি যত্ন। কারণ, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ত্বকের রুক্ষতা বহুগুণ বেড়ে যায়। শীতল বাতাস, কম আর্দ্রতা ও কম তাপমাত্রার কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ত্বকের ক্ষতির পরিমাণ বাড়ে। ত্বকের কোষগুলো ভাঙতে থাকে, ত্বকে আসে কালচে ভাব। এ ছাড়া এই সময়ে ত্বকের নমনীয় ভাব কমে আসে, কালো দাগও বেশি ফুটে ওঠে।

তাই ত্বকের কালচে ভাব ও কালো দাগ কমিয়ে ত্বকে সজীবতা ধরে রাখতে ঘরোয়া যত্নই হতে পারে সবচেয়ে সহজ সমাধান। উজ্জল ত্বক পাওয়ার জন্য যেমন সঠিক উপায়ে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, ঠিক তেমনই নজর দিতে হবে ডায়েটেও।

আপনার শরীরের ভেতরে যদি পর্যাপ্ত ভিটামিন ও প্রোটিনের ঘাটতি তৈরি হয়, তাহলে হাজার স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করলেও ত্বকের উজ্জলতা বাড়বে না। তাই সঠিক স্কিন কেয়ার রুটিন ফলো করার পাশাপাশি প্রোটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবারও নিয়মিত খেতে হবে। তাহলেই বাড়বে ত্বকের উজ্জলতা।

ফেসিয়াল ছাড়াই দুই সপ্তাহে বাড়বে ত্বকের উজ্জলতা। জেনে নিন কোন কোন খাবার এই কয়েক দিন আপনার ডায়েটে রাখতে হবে-

একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভিটামিন সি ত্বকের উজ্জলতা বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এই ভিটামিন শুধুই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে না, সেই সঙ্গে ত্বকের ভেতরে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়াতেও সাহায্য করে। তাই ত্বকের টানটান ভাব বজায় থাকে আর উজ্জলতাও হয় দেখার মতো।

কোন কোন খাবারে এই ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হবে জেনে নিন- ব্রকোলি, স্ট্রবেরি, কমলালেবু, বাতাবিলেবু, মোসাম্বি লেবু, জরুরি ভিটামিন ই।

সূর্যালোকের ক্ষতিকারক রশ্মিতে ত্বকের যে খুবই ক্ষতি হয়, সে কথা হবু কনেদের অজানা নয়। তাই সূর্যালোকের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্যে প্রয়োজন একটি সুরক্ষাকবচ। আর এই কাজটিই করে ভিটামিন ই। এই ভিটামিন এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট আর ফটোপ্রোটেক্টিভ গুণও রয়েছে এর মধ্যে, গবেষণাতেও এমন উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে।

কোন খাবারে মিলবে ভিটামিন ই- আমন্ড, সানফ্লাওয়ার অয়েল, কুমড়ো, বেল পেপার, ভিটামিন বি৩ মিস করবেন না।

ত্বক ভালো রাখতে এই ভিটামিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়াসিন নামে পরিচিত এই উপাদানে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ত্বকের অন্দরে ফ্রি-ব়্যাডিকালসের বিরুদ্ধে লড়ে। ত্বকে সহজে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

যে খাবারগুলো পাতে রাখবেন- মাছ, রেড মিট, ব্রাউন রাইস, কলা, বাদাম, প্রয়োজন এসব মিনারেলও।

ত্বকের উজ্বলতা বাড়ানোর জন্যে এই ভিটামিনগুলোর পাশাপাশি কিছু মিনারেলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই দৈনিক ডায়েটে এসব মিনারেল যোগ করতেই হবে আপনাকে।

জিংক- এটি আপনার ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। মুখের দাগছোপ মলিন করে উজ্জলতা বাড়ানোর জন্যে এই মিনারেলগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন। ওটস, মাছ এবং মাংসে এই মিলবে মিনারেলের সন্ধান।

ক্যালশিয়াম- চিজ, টক দই, বিনস, আমন্ড এবং সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাবেন আপনি। ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতে হবু কনেদের এই খাবারগুলো খেতেই হবে।

(www.theoffnews.com - Bangladesh skin winter)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

পৃথিবীতে বৈচিত্রময় অনেক কিছুই আছে, যা দেখে বা শুনে অবাক হতে হয়। তেমনই এক বিস্ময় জাগানিয়া ঘটনা হলো, পাথরের হেঁটে বেড়ানো। এই পাথর এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ায়, আবার পাথর থেকে পাথরের জন্মও হয়।

শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমন পাথরের সন্ধান রয়েছে। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ডেথ ভ্যালি উপত্যকার জনমানবহীন প্লেয়া অংশের এক জায়গায় রহস্যময় পাথরগুলো স্থান পরিবর্তন করে চলে হামেশাই।  

ধারণা করা হয়, পাথরগুলো প্রতি দুই-তিন বছর পরপর অগ্রসর হয়। বছরের পর বছর এটিকে রহস্য হিসেবে ধরা হতো। তবে কয়েক বছর আগে এই রহস্যের সমাধান করেছেন গবেষকেরা।

গবেষকেরা জানান, প্রবল বাতাস এবং নিচে জমে থাকা বরফের কারণেই এই পাথর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে। এমনকি কখনও কখনও শত পাউন্ড ওজনের পাথরও সরে যায়।

(www.theoffnews. com Bangladesh rock mobile)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

চীনের একটি শপিংমলের সিঁড়ির নিচে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে টানা ছয় মাস থেকেছেন এক ব্যক্তি। শুধু থেকেছেন বললে ভুল বলা হবে, সেখানে তাঁবু বানান এবং সেই তাঁবুর ভেতরে ছিল একটি কম্পিউটার ও চেয়ার। রীতিমতো বানিয়ে ফেলেছিলেন একটা আস্ত আস্তানা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। ধরা পড়েছেন পুলিশের কাছে।

প্রতিদিন মোবাইল ও কম্পিউটার চার্জ দিতেন ওই ব্যক্তি। এরপরও তাকে শনাক্ত করা যায়নি। তবে কয়েক মাস আগে এক নিরাপত্তাকর্মী তাকে ধরে ফেলেন। পরে তিনি বলেন, নিরিবিলি পড়াশোনা করার জন্য এখানে আশ্রয় নিয়েছেন।

এই কথা বলার পর ওই নিরাপত্তাকর্মী তাকে সেখানে থাকতে দেন। তবে গত ৩০ অক্টোবর এই তথ্য জেনে যায় শপিংমল কর্তৃপক্ষ। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ঠিক কি কারণে ওই সিঁড়ির নিচে ছিলেন, তা জানাননি ওই ব্যক্তি। তবে চীনে এভাবে সিঁড়ির নিচে সংসার করা স্বাভাবিক ঘটনা। আর দক্ষিণ কোরিয়ায় তো বাড়ির সিঁড়ির নিচে থাকা একটি প্রথাই হয়ে গেছে।

(www.theoffnews.com - Bangladesh China shopping mall)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

উপার্জনের একটি নির্দিষ্ট অংশ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করা ভীষণ জরুরি। তাই আমরা কম-বেশি সবাই সংসারের খরচ কমাতে চাই। তবে জিনিসপত্রের মূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে দেখা যাচ্ছে অথচ কিছুই জমানো সম্ভব হচ্ছে না। কিছুতেই রাশ টেনে ধরা যাচ্ছে না সংসারের খরচের। আবার সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সম্ভব হয় না। তাই যারা দীর্ঘদিন ধরে সংসারের খরচ কমাতে চাচ্ছেন তাদের জন্য থাকছে কিছু টিপস।

১. অফিসে যাওয়ার জন্য হেঁটেই বাসস্ট্যান্ডে যান। রিকশা ভাড়া বাঁচান। সকালের হাঁটা হয়ে যাবে। তবে কিছুটা সময় হাতে নিয়ে বের হতে হবে। আবার অফিস থেকে ফেরার পথে বাস থেকে নেমে রিকশায় না চড়ে হেঁটেই বাড়ি ফিরুন। প্রতিদিনের সামান্য টাকা মাস শেষে বড়ই ভরসার হবে।

২. মাসের শুরুতেই বাজেট বানান। সেই বাজেট থেকে ফের কাটছাঁট করুন। তার পরেও কেনার সময়ে দরদাম করে কিনলে দেখবেন কিছুটা অর্থ বাঁচবে।

৩. অযথা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনবেন না। কেনাকাটা করার সময় প্রয়োজনের কথা ভেবেই কিনুন। যেখানে একটু কমদামে কেনাকাটা করা যাবে সময় নিয়ে সেখান থেকে কেনাকাটা করুন।

৪. মাসের খরচের বাজেট করুন এই মাসের ৫ তারিখ থেকে পরবর্তী মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত। এভাবে সময় বাড়িয়ে বাজেট করলে ঝামেলা ও খরচ দুটোই কম হবে।

৫. যে জিনিস পরেও কাজে লাগবে, তা একসঙ্গে বেশি করে কিনুন। মূল্য ছাড়ের সময় একসঙ্গে বেশি করে কেনাকাটা করে রেখে দিতে পারেন। কোথায় কি কিনলে ছাড় মিলছে খোঁজ রাখুন। কুপন পেলে রেখে দিন। পরবর্তী সময়ে তা দিয়েই কেনাকাটা করুন।

৬. অনলাইন কেনাকাটায় অনেক ধরনের ছাড় থাকে। সে সবের খোঁজখবর রাখুন। অনলাইন কেনাকাটায় খরচ কম পড়ে।

৭. দামি দামি রেস্তোরাঁয় খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিন। বিশেষ অফার চলছে কিংবা ছাড় পাওয়া যাবে এমন রেস্তোরাঁর খোঁজখবর রাখুন। পরিবার নিয়ে খেতে হলে সে সব জায়গায় যান।

৮. অতি প্রয়োজন না হলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা বাদ দিন। সুদের হার অনেক বেশি। মাসের শুরুতে বাজেট করে সেই টাকার মধ্যে কেনাকাটার চেষ্টা করুন।

৯. সেভিংস অ্যাকাউন্টে সামান্য হলেও নিয়মিত টাকা রাখুন। এটা অটোমেটিক ট্রান্সফার হলে ভালো হয়। প্রতি মাসের শুরুতেই নির্দিষ্ট অর্থ মিউচুয়াল ফান্ড বা অন্য কোথাও বিনিয়োগ করুন।

১০. যেদিন নিমন্ত্রণ থাকবে সেদিন বাড়িতে রান্নাবান্নার ঝামেলা কম করুন। আর গিফট কখনও বাজেটের বাইরে গিয়ে কিনবেন না।

(www.theoffnews.com - Bangladesh monthly expenses savings)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

প্রতিটি মানুষের জীবনে একটাই চাওয়া ‘সুখ’। আর সেই সুখ আসলে কিসে, তা বেশিরভাগ মানুষই আবিষ্কার করতে পারে না। অন্যের চোখে যা সুখ, তার পেছনেই ছোটে বেশিরভাগ মানুষ। কিন্তু এমনও হতে পারে যে, তা আসলে তার গন্তব্য হওয়া উচিত নয়। সবার সুখ একই জিনিসে থাকে না। আবার অন্যকে দেখানোর চেয়েও সুখটা নিজে অনুভব করতে পারা জরুরি। যারা সুখী মানুষ, তাদের কিছু অভ্যাস থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন অভ্যাসগুলো মানুষকে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যে রাখে-

১. নিজেকে জাগিয়ে তোলা

নিজেকে ভালো রাখার অভ্যাস সবচেয়ে জরুরি। সুখী মানুষেরা নিজেকে উজ্জীবিত রাখার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। নিজেকে উজ্জীবিত করার অনেক উপায় আছে এবং সেজন্য শিখতে হবে কোনটি আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করে। কেউ হয়তো স্পা কিংবা ম্যাসেজ উপভোগ করে। কেউ আবার একা সময় উপভোগ করতে পছন্দ করে। নিজের মতো করে সাপ্তাহিক ছুটি কাটানো, ক্যাম্পিং, হাইকিং এবং জার্নালিং ইত্যাদি অভ্যাস নিজেকে উজ্জীবিত করার জন্য ভালো উপায় হতে পারে।

২. কৃতজ্ঞতার চর্চা 

সবার আগে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। তাছাড়া প্রতি রাতে কৃতজ্ঞতা জার্নাল লিখে রাখার অভ্যাস শুরু করুন। এতে আপনার সাফল্য এবং সুখ আকাশচুম্বী হবে। আপনার প্রতিটি দিনে ঘটে যাওয়া তিনটি জিনিস লিখে রাখুন, যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। দিনটি সুখী অনুভব করার জন্য এটি কেবল একটি দুর্দান্ত উপায়ই নয়, এর মাধ্যমে ইতিবাচকতা এবং কৃতজ্ঞতার চোখে আপনার জীবন এবং দৈনন্দিন পরিস্থিতি দেখতেও শুরু করবেন। চারপাশের সবকিছু লক্ষ্য করে দেখবেন যে, আপনি ভাগ্যবান এবং সবকিছু আপনার কল্পনার চেয়েও ভালো হচ্ছে।

৩. সঠিক সময়ে কাজ শেষ করুন

সফল ব্যক্তিরা জানেন যে তাদের ক্যারিয়ার বা ব্যবসার চেয়েও জীবনে আরও অনেক মূল্যাবান কিছু রয়েছে। ল্যাপটপ কখন বন্ধ করতে হবে তা জানুন এবং বন্ধু, পরিবার, ভ্রমণ বা অন্যান্য আগ্রহের সঙ্গে সংযোগ করুন। জীবন উপভোগ করুন এবং আপনাকে খুশি করে এমন বিষয়গুলো বেছে নিন।

৪. হাসুন

কমেডি অভিনেতা স্টিভ হার্ভে তার সাফল্যের পেছনে হাসিকে মূল কারণ হিসাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হাসি আনন্দকে ডেকে আনে এবং নেতিবাচকতাকে মুক্তি দেয়। এর রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতাও। মায়ো ক্লিনিকের মতে, হাসি মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়। এটি স্বাস্থ্যকর অক্সিজেন গ্রহণের প্ররোচনা দেয়, এন্ডোরফিন মুক্ত করে এবং উত্তেজনা প্রশমিত করে।

৫. বাইরে যান

প্রতিদিন সতেজ বাতাস এবং রোদের জন্য কিছু সময় রাখুন। প্রকৃতির মধ্যে দিনের কিছুটা সময় কাটানোর অনেকগুলো উপকারিতা রয়েছে। এই অভ্যাসের মাধ্যমে আপনি দৈনন্দিন উদ্বেগ, চাপ এবং ভয় থেকে দূরে থাকতে পারবেন। পাশাপাশি জীবনকে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে পারবেন।

৬. নিয়মিত ব্যায়াম করুন

ব্যায়াম হলো সুখে থাকার আরেকটি অভ্যাস। হাসির মতো ব্যায়ামও এন্ডোরফিন মুক্ত করে আমাদের মেজাজ উন্নত করে। ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে, উদ্বেগ বা বিষণ্নতার অনুভূতি এড়াতে এবং আত্মসম্মান বাড়াতে কাজ করে। দিনে মাত্র ২০ মিনিট হাঁটা উপকারী হতে পারে। সহকর্মীদের সঙ্গে হাঁটা, উইকএন্ড হাইক ম্যাপিং বা জিমে যাওয়ার অভ্যাস করুন।

৭. সুখী জীবন কল্পনা করুন

সুখী ব্যক্তিরা ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখে কারণ এটি তাদের খুশি করে। প্রত্যাশা এবং কল্পনা সুখের জন্য দুর্দান্ত হাতিয়ার। আপনি যখন ছুটির পরিকল্পনা করেন তখন কি খুশি হন না? এটি আসলে ছুটিতে থাকার মতই আরামদায়ক। একটি সুখী ভবিষ্যত কল্পনা করতে ভুলবেন না। আপনি আপনার জীবনে যা অনুভব করতে চান তার স্বপ্ন দেখে আনন্দ অনুভব করতে শিখুন।

(www.theoffnews.com - Happiness Bangladesh)