Articles by "অপু দুর্গার কতকথা"
Showing posts with label অপু দুর্গার কতকথা. Show all posts

দেবর্ষি মজুমদার, সিনিয়র জার্নালিস্ট, বীরভূম:

ভোটে জয়ী প্রধান মন্ত্রী সুস্মিত গড়াই। শনিবারই ঠিক করা হলো পাঁচ ক‍্যাবিনেট মন্ত্রী। নির্বাচনে নিকটতম দুজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে অনেকটাই পিছনে ফেলে জয় লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী পদ প্রার্থী সুস্মিত গড়াই। প্রধানমন্ত্রী শীঘ্রই ক‍্যাবিনেট গঠন করেন। শিক্ষা মন্ত্রী, খাদ‍্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রী, পরিবেশ মন্ত্রী এবং ক্রীড়া মন্ত্রীরা শপথ বাক‍্য পাঠ করে তাঁদের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন। প্রার্থীদের মধ‍্যে খাদ্য মন্ত্রী কিতাবুল সেখ, স্বাস্থ্য মন্ত্রী জিনাতুন খাতুন,  পরিবেশ মন্ত্রী আরশি চক্রবর্তী এবং ক্রীড়া মন্ত্রী অঙ্কিত বীরবংশী। 

এতক্ষণ যা পড়লেন মনে হতে পারে দেশের সাধারণ লোকসভা নির্বাচন তো দেরী আছে। তাহলে এতক্ষণ কী পড়লাম! 

শনিবার বোলপুরে জাতীয় ভোটার দিবসে শিশু সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হলো বোলপুর বই মেলার মাঠ ডাকবাংলো ময়দানে বোলপুর নিবিড় চক্রের মুলুক নিম্নবুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ছায়া নির্বাচনের মাধ্যমে। এক কথায় নির্বাচন ছিল প্রধানমন্ত্রীর। সাধারণ নির্বাচনের আদলে ছিল এই ভোট গ্রহণ। প্রার্থীদের নামের ব্যালট ছাপানো হয়। ক্লাসের ভাল পড়ুয়াদের মনোনীত প্রার্থী করা হয়। স্কুলের এটেণ্ডেস খাতায় হলো ভোটার তালিকা।  নির্বাচনে সকল পড়ুয়ারা এদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। পড়ুয়াদের লম্বা লাইন। বইমেলার মাঠে বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সংসদের স্টলে প্রবেশ করতেই হাতে ব্যালট পেপার ধরিয়ে দেন পোলিং অফিসার। আঙুলে কালি নিয়ে নির্দ্বিধায় ভোট দিলেন পড়ুয়ারা। ভোটদানের কক্ষটিও ছিল সুরক্ষিত জায়গায়। মোতায়েন করা হয়েছিল কেন্দ্র বাহিনী অর্থাৎ বিদ্যালয়ের এক ছাত্র। ব‍্যালট পেপারে প্রার্থীদের নামের তালিকা সহ পছন্দের সীলমোহর - কোনও কিছুর ত্রুটি ছিল না। সামনে রাখা ব্যালট বক্সে নির্বিঘ্নে  ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন মুলুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে পড়ুয়ারা। তারা বড়োদের দেখালো কিভাবে শান্তিপূর্ণ অবাধ নির্বাচন করতে হয়। মূলতঃ দেশ গড়ার কাজে কিভাবে ভাবী নির্বাচক মণ্ডলী অংশগ্রহণ করতে পারে, এদিন তার হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়ার কাজ হয় বীরভূমের ২৪০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নির্বাচনে দুটি রাজনৈতিক দল-- বই ও কলম গঠন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আয়োজন করা হয়। নিজ দলের ইস্তাহার ঘোষণা, প্রচার পর্ব চলে। তারপর শুরু হয় ভোটদান পর্ব। প্রিসাইডিং অফিসার, ফার্স্ট, সেকেণ্ড পোলিং অফিসার, গার্ড, ব্যালট পেপার কিছুই বাদ যায়নি। বই দলের ২৩ জন এবং কলম দলের ১২ জন প্রার্থী জয়ী হন। উপস্থিত ছিলেন বীরভুম প্রাথমিক সংসদ চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক, বোলপুর শ্রীনিকেতন ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক  সত্যজিৎ বিশ্বাস এবং স্থানীয় স্কুল পরিদর্শক প্রণয় গঙ্গোপাধ্যায়।

(www.theoffnews.com school shadow parliament election)


মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিচার রাইটার ও লেকচারার, আহমেদাবাদ:

আমার কাজের মেয়েটি আজ ঘর মুছতে মুছতে বলল "আজ ছেলেটাকে নিয়ে মা গাঁয়ে গেছে।" এখান থেকে বেশ খানিক দূরে মেহেসানাতে ওর আদি বাড়ি। ছোট তিন বছরের দুষ্টু ছেলে নিয়ে ওর কাজ করা ভারী মুশকিল হয়, তাই ওর মা সামাল দেন। তাঁর ও তো বয়স হয়েছে,নাকানি চোবানি খেয়ে প্রায়ই অনুযোগ করে বড় দুষ্টু তোর ছেলে। সারাদিনের খাটুনির পরে, বাড়ি ফিরে ছেলের নামে নালিশ শুনে একটি কাজই করে, সেটা হল পিঠে ঘা কতক বসিয়ে দেওয়া। দিদিমা তখন নাতিকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করলেও মেয়েটি শোনে না। 

আজ ছেলেকে নিয়ে দু'দিনের জন্য দিদিমা চলে যাওয়ায় একদিকে নিশ্চিন্তে কাজ করছে কিন্তু বোধহয় ছেলের জন্য মনটা কেমন যেন করছিল।

হঠাৎ বলে বসে, "কি করি বলো তো ভাবী, এত মার খায় তবু কথা শোনে না, স্কুলে পাঠালে কি হবে কে জানে, মারপিট করবে, টিচাররা নালিশ করবে।ভাবলেই মাথা খারাপ লাগছে।"

আস্তে আস্তে বলি, "ওর ভয়টাই তো ভেঙে গেছে মার খেতে খেতে, ওকে এখন শত মারলেও ফল পাবি না। ভালোবেসে, গল্প করে বোঝাতে হবে, ধৈর্য্য হারালে চলবে না। পারলে কিছু কাদা মাটি দিয়ে বানাতে দে, আঁকতে দে, শান্ত থাকবে।"

বলতে বলতেই নিজের ছানার কথা মনে এলো, খুব ডানপিটে না হলেও একেবারে ভীষণ শান্ত শিষ্ট ছেলেও তিনি ছিলেন না। তবে যুক্তি দিয়ে বোঝালে খানিক থমকে যেত, সবচেয়ে জ্বালিয়েছে স্কুলে যাবে না বলে। অবশ্য এ ব্যাপারে তিনি নরানাং মাতুলঃ ক্রম।

তার মাতুল খাতায় বইতে টিফিনের চিড়ে মাখা  লাগিয়ে বলত, "দিদি, বাড়ী চল।" একই স্কুলে পড়ি দুই ভাই বোন, তাই শান্ত দিদিকে ডেকে পাঠানো হতো আড়াই বছরের ছোট ভাইকে সামলাতে। অনেক বুঝিয়ে টিফিনে শান্ত  করা গেলেও একদিন তো মামা এসেছে দেখতে পেয়ে কেঁদে কেটে স্কুল ছেড়ে চলে গেল, বছরটা নষ্ট হল। দিদান তাকে চক্ দিয়ে মাটিতে আঁকতে বসিয়ে দিত, অসম্ভব ভালো আঁকত ছোট থেকেই।

তাই তার ভাগ্নের বেলায় আমি ছেলেকে স্কুলে ঢুকিয়ে বাইরে পায়চারী করতাম, সেও তেমনি কেঁদে, কেটে পটিতে গিয়ে বসে থেকে ক্লাস করবেই না।

ক্লাস টিচার ভদ্রমহিলা নাস্তানাবুদ হয়ে যেতেন, প্রি স্কুল ছিল সেটা।

তখন তাকে একদিন একটা কালো জীপ দেখিয়ে বললাম, ওরা বেবি ক্যাচার, স্কুলের সামনে ঘোরে, ক্রাইং বেবীদের তুলে নিয়ে চলে যায় আর তাদের সপাং কনভেন্টে ভর্তি করে। একটা ছোট অন্ধকার মাটির পোড়ো স্কুল দেখিয়ে বলেছিলাম ওখানে ওই অন্ধকার কালো বেঞ্চে বসতে হবে, ওরা আদর করে না, বেত দিয়ে সপাং সপাং করে পেটায়। এমন সুন্দর গল্প লিখেছিলাম থুড়ি বলেছিলাম ছেলে একটু জেদ কমিয়ে স্কুলে যেত তবে বেশিক্ষণ থাকবে না।

অসম্ভব স্বাধীনতা প্রিয়, টিচারও বুঝলেন এক জায়গায় বসবে না, তাই কখনও সে মনিটর তো সরস্বতী পুজোর পুরুত সব ভূমিকায় রাখা হতো তাকে তাই  তিনি ভারী খুশি। সাথে চলত আমার তার এনার্জি কমানোর জন্য সাঁতারে না হলে মাঠে নিয়ে যাওয়া। 

এনার প্রিয় কাজ ছিল খেলনা ভাঙা, সব সময় খেলনা নিয়ে ঠুকে তাকে ভেঙে তার ভিতরটা দেখা চাই। তবে বড় হয়ে সেটা উল্টে গেল, অসম্ভব বিষয় ফিজিক্সটাই ভালো বোঝে। হয়ত আমরা বুঝতাম না কৌতূহলী বাচ্চারা এরকম বিহেভ কেন করে!

সে যাক, সেসময় তাই দামী খেলনা বক্সখাটে ঢুকিয়ে বলতাম "ওসামা বিন লাদেন নিয়ে গেছে, ওদের দেশের বাচ্চাদের খেলনা নেই তো।"

ওমা! ছেলে দোলনা স্কুলের ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে শুনলাম ওদের লাদেন কিভাবে ওর  ভালো খেলনা নিয়ে নেয়, ও আর খুঁজে পায় না, ওদের বাচ্চাদের খেলনা নেই কেন, সেসব গল্প করে এসেছে। হাসতে হাসতে প্রিন্সিপাল বললেন।

কি ভাগ্য তাও ওরা সিলেক্ট করেছিলেন কিন্তু শুনেছিলাম খুব কড়া স্কুল, ডিসিপ্লিনড তাই আর ভর্তি করিনি। জানতাম ছেলে যা, দুদিন পরেই স্কুলে পাঠানো মুশকিল হবে। তবে ছেলে মানুষ করতে গিয়ে একটা জিনিস বুঝেছিলাম, মারাটা শেষ অস্ত্র, ভয় ভেঙে গেলে বেপরোয়া হতে বাধ্য। অনেক বেশি কাজ হয় ইমোশনাল ব্ল্যাক মেইল করলে। মাঝে মাঝে ছেলেকে বলতাম "মাঠের ওপারে আমার আর একটা ছেলে আছে, ভাবছি তার কাছেই চলে যাই।" প্রথম প্রথম শুনেই চোখে জল আসত, কাঁদো কাঁদো হয়ে বেশ কথা শুনত কিন্তু এই মায়েরই ছেলে কিনা!

কয়েক মাস পরেই গম্ভীর হয়ে বলতে শুরু করল, "ওকে ডেকে আনো, আমার বন্ধু চাই, ওর সঙ্গে খেলব।" 

বাধ্য হয়ে অন্য রাস্তা ধরতে হল, তখন ছুটির দিনে বন্ধুদের বাড়িতে এনে সারা দিন রেখে দিত। আমিও খুশি ছেলেও খুশি।

এখনও আমাদের মা বেটায় সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি চলে। একটু আগে মুখ ফসকে বলে ফেলেছি, "শীত পড়েছে কিন্তু জল খাওয়া কম করো না, লিকুইড ডায়েটে রেখো বেশি করে।"

অমনি ছেলে হাসতে হাসতে বলল, "বাবা, তুমি সাক্ষী মা কিন্তু আমায় লিকুইড খেতে বলেছে, ফেস্ট চলছে, চারিদিকে নানান লিকুইডয়ের ফোয়ারা চলছে, তাই মামমামের কথা রাখার চেষ্টা করতে হবে।"

আমার তখন কুন্তীর হাল, চিৎকার করছি জল, ফলের রস, ওআরএস বলতে চেয়েছি। 

তাই আপ্ত বাক্যটা এরকম, ছোট বেলাতে কথা দিয়েই ভয় যদিও বা দেখানো যায়, বড় বেলায় বেফাঁস কিছু বলেছ কি মরেছ!

(www.theoffnews.com childhood caring)


দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম:

পুজোতেও দাদা বাড়ি আসতে পারেনি। ভাইফোঁটাতে পারলো না। ছোট্ট আরাধ‍্যার মনটা তাই ভার হয়েছিল সকাল থেকেই। 

আর তখনই মুশকিল আসান। দাদার ফোন এলো ব‍্যাঙ্গালুরু থেকে। দাদারও মনটা কেমন করছিল। বছরের এই একটা দিন দাদা ও বোন কাছাকাছি না থাকতে পারলে মনটা হুহু করে কেঁদে ওঠে।

প্রযুক্তির কল‍্যাণে ভাই ও বোনের মধ‍্যে পথের দূরত্ব কমলো। মোবাইলে ভিডিও কলেই হলো ফোঁটা। অনামিকায় চন্দনের ফোঁটা নিয়ে বোন বললো,  "ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা। যমের দুয়ারে পড়লো কাঁটা। " 

আয়োজনের কোনও ত্রুটি ছিল না। পুষ্প পাত্রে ছিল ফুল, রেকাবিতে ছিল ধান ও দূর্বা। ডিসে ছিলো সাজানো মিস্টি। মাঙ্গলিক উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি কোনটাই বাদ পড়েনি। এমন শুভদিনে নলহাটি ডাকবাংলো পাড়ায় বাড়িতে ছিল চরম ব‍্যস্ততা। পেশায় পরিবহন ব‍্যবসায়ী বাবা সুজিত কুমার দত্ত জানান, ছেলে শঙ্খ শুভ্রের কলেজে পুজোয় ছুটি থাকে না। দশেরাতে শুধু ছুটি থাকে। ভাই ফোঁটায় ছুটি থাকে না। ছেলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ে। সামনে থার্ড সেমিস্টারের পরীক্ষা। সকাল থেকে মন খারাপ করা মেয়েটি ভিডিও কলে দাদাকে ফোঁটা দিতে পেরে খুবই খুশি। 

ফোনে সিএমআর আইটি কলেজের সফটঅয়‍্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শঙ্খশুভ্র দত্ত জানান, কোনও চিন্তা করিস না। ভিডিও কলেই হবে বোনের ভাই ফোঁটা। আর তখনই খুশিতে ফেটে পড়ে কেজি টু'র সাত বছরের ছাত্রী আরাধ‍্যা দত্ত।

মা কাকলী দত্ত জানান, দুধের সাধ ঘোলে মেটার মতো হলেও, বাচ্চা মেয়ে তো। মনটা খারাপ থাকতো এটুকু না হলে। দাদা ভিডিও কল করেছিল। বোন মোবাইলে দাদার কপালে চন্দনের ফোঁটা দিল। সামনে মিস্টির থালা সাজিয়ে দিল। মোবাইলে প্রণাম করলো বোন। দাদাও আশীর্বাদ করলো। দাদার মিস্টি ও বোনের উপহার পাওনা রইলো। সাক্ষাতে দুইজনের পাওনা মিটবে। তবে বেশ ভালো লাগলো ওদের ভাই বোনের এবং আমাদের।

(www.theoffnews.com digital video calling bhaiphonta)


সোমনাথ রায়, প্রত্নগবেষক, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক, দুর্গাপুর:

তুমি এই মুহূর্তে কোন গিফ্‌ট পেলে সবচেয়ে খুশি হবে? অবশ্যই স্মার্ট ফোন বা ভিডিও গেমস কিংবা ইলেকট্রনিক কোন খেলনা, তাই না? আমি কিন্তু তোমাদের বয়সে সবচেয়ে খুশি হতাম যদি আমাকে কেউ আমাকে একটা স্ট্যাম্প বা ডাকটিকিট দিত। এখনও কেউ দেশী বা বিদেশী স্ট্যাম্প বা কয়েন বা দেশলাই বাক্স দিলে বাঁধনছাড়া আনন্দ পাই। 

শুধু ভারতের নয় বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় শখ ডাকটিকিট/ টিকিট/ পোস্টেজ স্ট্যাম্প/ স্ট্যাম্প জমানো বা সংগ্রহ করা। এইজন্য একে শখের রাজা বলা হয়। দুষ্প্রাপ্য টিকিটের এত দাম হয় যে একে রাজার শখও বলা হয়। এগুলো যারা জমান তাদের বলা হয় ‘ফিলাটেলিস্ট’ আর ডাকটিকিট জমানো বা ডাকটিকিট নিয়ে পড়াশোনাকে বলে ‘ফিলাটেলি’। ফ্রান্সের জর্জেস হার্পিন ১৮৬৪ সালে ফিলাটেলি [philatélie] শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। গ্রীক ভাষায় ‘ফিলো’ মানে ‘কিছুর প্রতি আকর্ষণ’ আর ‘আটেলিয়া’ মানে ‘ট্যাক্স ও শুল্ক থেকে ছাড় পাওয়া’। 

আধুনিক ডাক ব্যবস্থার জনক গ্রেট ব্রিটেনের স্যার রোল্যান্ড হিল হলেও ডাকটিকিটের আদি ধারণা লুকিয়ে আছে ভারতের সিন্ধু-সরস্বতী-ঘগ্গর-হাকরা সভ্যতায় প্রাপ্ত এখনও অপঠিত টেরাকোটা বা চীনামাটির সিলমোহরগুলিতে। অনুমান করা হয় এইগুলি হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো প্রভৃতি শহরগুলিতে উৎপাদিত পণ্যের ‘ট্যাগ’ বা সিলমোহর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মেসোপটেমীয় সভ্যতাতেও এই ধরণের সিলমোহর মিলেছে, হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোর সিলও ওখানে প্রচুর পাওয়া গেছে। 

১৮৪০ সালের ১মে স্যার রোল্যান্ড হিল ইউনাইটেড কিংডাম বা গ্রেট ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডে সর্বপ্রথম ডাকটিকিটের প্রবর্তন করেন। আগে ‘চিঠি’র বিষয়টা খুব ব্যয় সাপেক্ষ ছিল। পত্র প্রাপককে অনেকটা অর্থ দিতে হতো পত্রবাহককে। গরীব লোকেদের পক্ষে চিঠি আদানপ্রদান করা একেবারেই অসম্ভব ছিল। সবচেয়ে মুস্কিলে পড়ত যুদ্ধক্ষেত্রের সৈনিক ও তাদের বাড়ির লোকেরা। কুশল সংবাদ জানাবার জন্য তারা একটা বুদ্ধি করেছিল। খামের ওপর সৈনিকরা একটা সংকেত দিয়ে দিত। বাড়ির লোকেরা ওইটা দেখে বুঝে যেত সে কেমন আছে। তারপর খামটা পিয়নের হাতে ফেরত দিয়ে দিত। সাধারণ মানুষের এই কষ্ট দূর করার জন্য স্যার রোল্যান্ড হিল এক পেনির ডাকটিকিট (যা পেনি ব্ল্যাক নামে বিখ্যাত) চালু করেন যা চিঠির প্রেরক আগে কিনে খামের ওপর লাগিয়ে দেবেন, চিঠি যিনি পাবেন তাঁকে আর কিছু খরচ করতে হবে না।

ভারতের ডাকব্যবস্থা 

ভারতের ডাকব্যবস্থার ইতিহাস কিন্তু অনেক শতাব্দী প্রাচীন। বহু প্রাচীন কাল থেকেই ভারতে পদাতিক ও ঘোড়সওয়ার ডাকহরকরা আর পায়রার মাধ্যমে চিঠি পাঠাবার বন্দোবস্ত ছিল। চতুর্দশ শতাব্দীতেই ভারতে সুগঠিত ডাকব্যবস্থা ছিল। অবিভক্ত ভারতের সর্বত্র পত্রবাহকদের ঘাঁটি তৈরি হয়েছিল। ‘রানার’রা চিঠি আর ছোটখাটো জিনিস নিয়ে এক ঘাঁটি থেকে আর এক ঘাঁটি পৌঁছে দিত। প্রত্যেক রানারের হাতে ঘুঙুর লাগানো একটা লাঠি থাকত। ঘুঙুরের আওয়াজ শুনে পরের ঘাঁটির রানার প্রস্তুত হয়ে যেত। ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুম্বাই, কলকাতা ও চেন্নাই শহরে পোস্ট অফিস স্থাপন করে। তখনও রানাররা চিঠি নিয়ে যেত। এই ব্যবস্থা আরও এক শতাব্দী ধরে চলেছিল। সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় তাঁরা অমর হয়ে আছেন – 

রানার

রানার ছুটেছে তাই ঝুম্‌ঝুম্ ঘণ্টা বাজছে রাতে

রানার চলেছে, খবরের বোঝা হাতে,

রানার চলেছে, রানার!

রাত্রির পথে পথে চলে কোনও নিষেধ জানে না মানার।

দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার—

কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার।

রানার! রানার!

জানা-অজানার

বোঝা আজ তার কাঁধে,

বোঝাই জাহাজ রানার চলেছে চিঠি আর সংবাদে;

রানার চলেছে, বুঝি ভোর হয় হয়,

আরও জোরে, আরও জোরে, এ রানার দুর্বার দুর্জয়।

১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে ভারতের ডাকব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। স্যার রোল্যান্ড হিল প্রস্তাবিত প্রিপেইড ডাকব্যবস্থা চালু করা হয়। কয়েক বছর পর ভারতেই এশিয়ার মধ্যে প্রথম ডাকটিকিট ইস্যু করা হয়। রানারের বদলে ঘোড়ার ডাকের প্রচলন হয়। ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে প্রথমে বেসরকারী আধা-পোস্টাল ‘সিন্দ ডক’ [Scinde Dawk] ডেফিনিটিভ স্ট্যাম্প [সাধারণ ভাবে যে স্ট্যাম্প প্রচুর পরিমাণে ছাপা হয়] চালু করা হয়।

ডাকটিকিট জমাবে কেন?

ডাকটিকিট জমালে একদিকে যেমন মজা আর আনন্দ পাওয়া যায় তেমনি আবার বহু বিষয়ে যেমন ইতিহাস, ভূগোল, ফুলফল, পশুপাখি, মাছ, কীটপতঙ্গ,  সমাজ সংস্কৃতি, মহামানবের জীবনী আর শিল্পকলা সম্বন্ধে বিশাল ধারণা পাওয়া যায়। ডাকটিকিট একটা ছোট্ট ক্যানভাস যেখানে অনেক রকম ছবির সন্ধান মেলে। ডাকটিকিট একটা ছোট্ট জানালা যার মধ্যে দিয়ে অনেক অজানা পৃথিবীর সন্ধান পাওয়া যায়। বাবা-মায়ের জানা উচিত ডাকটিকিট সংগ্রহের শখ ছোটদের ধৈর্য আর মনোযোগ বাড়ায়। বর্তমানে মোবাইল, টিভি-র কার্টুন, ভিডিও গেমসের নেশা ছাড়াতে এই শখ খুব কার্যকরী। এই শখ ছোটদের হাতেকলমে কাজে দক্ষতা বাড়ায় – দেশ বা বিষয় অনুযায়ী ডাকটিকিট আলাদা করা আর টিকিট সম্বন্ধে খুঁটিনাটি বিষয় মনে রাখতে ছোটদের জুড়ি নেই। প্রত্যেকটি ডাকটিকিটের নিজস্ব একটি গল্প আছে – কোন্‌ দেশ এটা বের করেছে? সেই দেশ এখনও আছে? পৃথিবীর ম্যাপে সে দেশটা কোথায়? এইভাবে ডাকটিকিট থেকে কোন দেশের ইতিহাস, ভাষা, মুদ্রা আর ঐতিহাসিক চরিত্র সম্বন্ধে জানতে পারবে। 

এক সময় ডাকটিকিট খুব জরুরি আর সুন্দর ছিল, তাই তার কদরও ছিল বিশাল। বর্তমানে ইমেইল আর ইন্টারনেটের দৌরাত্মে টিকিটের গুরুত্ব অনেক কমে গেছে। তাহলেও এখনও অনেক সুন্দর ডাকটিকিট ইস্যু হয়। এগুলি থেকে ছোটরা বিখ্যাত ছবি আর গ্রাফিক ডিজাইন সম্বন্ধে দারুণ ভাবে জানতে পারবে। 

ছোটরা অনেকে অনলাইনে স্ট্যাম্পের সন্ধান করে কিন্তু সত্যিকারের ডাকটিকিট হাতে নেওয়ার মজাই আলাদা। তোমরা সুন্দর করে এ্যালবাম সাজিয়ে আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবকে দেখাতে পার। ডাকটিকিটের প্রদর্শনী বা ‘ফিলাটেলিক এগজিবিশানে’ অংশগ্রহণ করতে পার আর পুরস্কারও পেতে পার। 

তোমার হাতেও দুষ্প্রাপ্য টিকিট বা ‘রেয়ার স্ট্যাম্প’ চলে আসতে পারে যেমন এসেছিল ১৯৬৭ সালে ইংল্যান্ডের একজন ভাগ্যবান সংগ্রাহকের হাতে যিনি ১০ সেন্টেরও কম পয়সায় [এখনকার টাকার মূল্যে ৬ টাকা ৪০ পয়সা, তখন আরও অনেক কম ছিল] টেলিভিশনের  আবিষ্কারকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য (রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মাথার শিল্যুয়েট ছবি সম্বলিত) ইস্যু করা স্ট্যাম্প কেনেন একজোড়া কিন্তু অনেক পরে লক্ষ্য করেন একটি টিকিটে রাণীর মাথার শিল্যুয়েট ছবিটি নেই। এটা একটা ব্যতিক্রমী ঘটনা। ২০১৪তে নীলামে তিনি ওই টিকিটটি (SG 755b নামে পরিচিত) বিক্রি করেন ২৩,৬০০ পাউন্ডে যা ভারতীয় টাকায় ২১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা।

ডাকটিকিট সংগ্রহের জন্য বিশাল কিছু খরচের প্রয়োজন নেই। দরকার শুধু ছোট্ট কয়েকটা সহজ কথা মনে রাখা।

কোন ডাকটিকিট জমাবে?

এখনও পর্যন্ত কয়েক কোটি স্ট্যাম্প ইস্যু হয়েছে। সব ধরণের সব স্ট্যাম্প কালেক্ট করা অসম্ভব তাই সে চেষ্টা করাই বৃথা। প্রথমেই তোমাদেরকে পছন্দমত এক একটা বিষয় বেছে নিতে হবে, যেমন – ফল বা ফুল বা জীবজন্তু, গাড়ী বা রেল ইঞ্জিন, জাতীয় পতাকা কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপত্য ইত্যাদি। প্রথমে সব দেশের বিশেষ বিষয়ের স্ট্যাম্প কালেক্ট করলেও পরে আরও স্পেসিফিক হওয়া যায় – কোন বিশেষ দেশের বিশেষ ধরণের ডাকটিকিট।

সবথেকে আগে দেখতে হবে একটা টিকিট ভাল না মন্দ অবস্থায় আছে। ছেঁড়া নোংরা ডাকটিকিট দেখতেই শুধু খারাপ নয় ফিলাটেলির জগতে এর দাম কানাকড়িও নয়। ঝাঁ চকচকে অবস্থার ডাকটিকিট কালেক্ট করার চেষ্টা করতে হবে। টিকিটের অবস্থা অনুযায়ী এগুলিকে সুপার্ব বা চমৎকার, ফাইন বা সুন্দর, গুড বা ভালো আর পুওর বা খারাপ – এই চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। সবথেকে ভাল অবস্থার ডাকটিকিটকে ‘চমৎকার’ বলা যায় যার মানে – কাগজের ঠিক মাঝখানে ছাপা, ঝকঝকে রং আর পিছনে নিখুঁত আঠা দেওয়া। ব্যবহৃত ডাকটিকিটও ‘চমৎকার’ হতে পারে যদি মধ্যিখানে মার্জিন সমান রেখে ছাপা হয়, নতুনের মত দেখতে হয়, ডাকঘরের হালকা ছাপ দেওয়া থাকে আর এতটুকুও যেন ছেঁড়া না থাকে।

‘সুন্দর’ ডাকটিকিট মানে নির্ভুল, মোটামুটি মধ্যিখানে ছাপা, পেছনের দিকে ‘হিঞ্জ’-এর হালকা দাগ। ব্যবহৃত ‘সুন্দর’ ডাকটিকিট খুব ঝকঝকে নয়, ডাকঘরের ধ্যাবড়া কালির ছাপ আর মোটামুটি মধ্যিখানে ছাপা। 

‘ভাল’ ডাকটিকিট একদিকে বেশি হেলে ছাপা কিন্তু দেখতে সুন্দর। ছোটখাট খুঁত থাকতে পারে যেমন আঠার গণ্ডগোল, অসমান মার্জিন, এ্যালবামে চেটানোর মোটা দাগ। এর থেকে খারাপ অবস্থার ডাকটিকিট বাতিল করা উচিত এবং সিরিয়াস কালেক্টররা এগুলো সংগ্রহ করেন না। তবে তোমরা প্রথম দিকে এগুলো জমাতে পার – এগুলোকে ‘জায়গা ভরান ডাকটিকিট’ বলা হয়।

একটি ডাকটিকিটের বাহ্যিক অবস্থা যখন এত গুরুত্বপূর্ণ আর ডাকটিকিট একটি কাগজ মাত্র তখন ডাকটিকিট নাড়াচাড়া খুব সাবধানে করতে হয়। আমাদের হাত খুব ভাল করে ধুলেও তাতে তেল থাকে যেটা ডাকটিকিটের পক্ষে খুব ক্ষতিকর – তাই ফিলাটেলিস্টদের জন্য নির্দিষ্ট চিমটে ব্যবহার করাই শ্রেয়। 

ডাকটিকিট যেহেতু খুব ছোট তাই একটি ডাকটিকিটের সব বৈশিষ্ট খালি চোখে ভাল ধরা পড়ে না – তাই একটি ভাল আতস কাঁচ বা ম্যাগনিফাইং গ্লাস ব্যবহার করার খুব দরকার। দু’টি ডাকটিকিট একই রকম দেখতে কিন্তু এক নয়, খুব সূক্ষ্ম তফাৎ থাকে। সত্যজিতের “কৈলাস চৌধুরীর পাথর” গল্পে ফেলুদার রহস্য সমাধানে স্ট্যাম্প কালেক্টিং যেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল যমজ স্ট্যাম্পের রহস্য সমাধানই সংগ্রাহকদের ফেলুদার মত গোয়েন্দা করে তোলে। এই গোয়েন্দাগিরি মজার আর তোমার জ্ঞান আর দক্ষতার পরীক্ষা।

খাম থেকে ডাকটিকিট তোলা

বাড়িতে আসা চিঠিতে বা পরিচিতদের কাছ থেকে পাওয়া খামে অনেক ডাকটিকিট পাবে যেগুলো কিন্তু ১৫-২০ মিনিট ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে খাম থেকে তুলতে হবে; যদিও কাগজের কোয়ালিটি আর কোন্‌ রকমের আঠা ব্যবহৃত হয়েছে তার ওপর সময় নির্ভর করে। প্লাস্টিকের ট্রে বা কানা উঁচু থালা সবচেয়ে ভাল। 

যখন খাম থেকে ছেড়ে স্ট্যাম্পগুলো জলে ভাসবে তখন সেগুলো নিয়ে কাজ করা যাবে। কিছু কিছু স্ট্যাম্পের গায়ে ডাকঘরের এমন ছাপ থাকে বা বেগুনী রং থাকে যেগুলো আলাদা করে ভেজাতে হয় নাহলে অন্য স্ট্যাম্পের গায়ে রং লেগে যাবে। স্ট্যাম্পকে চিমটে দিয়ে ধরে তুলি দিয়ে ঘষে পিছনের আঠা আস্তে আস্তে পরিস্কার করতে হবে। তারপর শুকনো কাপড় বা ব্লটিং পেপারের মধ্যে রেখে শুকোতে হবে।

প্রয়োজনীয় সামগ্রী 

ভাল সংগ্রাহক হতে গেলে উপযুক্ত চিমটে, ট্রে, আতস কাঁচ, স্ট্যাম্পের ফুটো মাপবার ‘পারফোরেশান গজ’, জলছাপ দেখবার জন্য ‘ওয়াটারমার্ক ডিটেকটার’ [যদিও সাধারণত আলোর সামনে ধরলে স্ট্যাম্পের কাগজে ছাপা হালকা জলছাপ দেখা যায়], স্ট্যাম্পের পত্রিকা, রেফারেন্স বই আর ক্যাটালগ দরকার হবে – এগুলো থেকে স্ট্যাম্প শনাক্ত করা যায় আর ওই স্ট্যাম্প সংক্রান্ত সব তথ্যাদি পাবে। গ্রেট ব্রিটেনের স্ট্যাম্পের জন্য গিবন্স ক্যাটালগ, ইভার্ট অ্যান্ড টেলিয়ার ফ্রান্সের জন্য আর জার্মানীর জন্য মিশেল ক্যাটালগ, ভারতের জন্য গিবন্স ক্যাটালগ, India and States Stamp Catalogue; Phila India Guide Book Catalog 2017-18; Philacent India Catalog 2016-17; Freestampcatalogue (online); India Stamp Details (online)।

পুরোপুরি তথ্য না থাকলেও খুব নিশ্চিত হয়েই বলা যায় ভারতে এক লক্ষেরও বেশি সক্রিয় স্ট্যাম্প কালেক্টার আছেন। রাজেশ মিত্তাল মাত্র দু’ বছর আগে স্ট্যাম্প নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করলেও এর মধ্যেই ফিলাটেলি এতটাই ভালবাসেন যে তিনি তাঁর শরীরে ভারতের প্রথম পোস্টমার্কের ছবির ট্যাটু করিয়েছেন। 

অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ব্রিটিশ উপনিবেশায়নের শিখরে পৌঁছাতে শুরু করে। ১৮৫২তে প্রথম ভারতীয় ডাকটিকিট ইস্যু করা হয়, ‘সিন্দ ডক’, আধ আনার একটি লাল, বৃত্তাকার আধা ডাক, বেসরকারী স্ট্যাম্প। দু’বছর পর ‘সিন্দ ডক’ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই টিকিটগুলোর বর্তমানে দাম হ’ল – ব্যবহৃত হ’লে ৪৭,৬০০ টাকা থেকে ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা আর নতুন হলে ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। 

১৮৫৪ সালে ৪ আনার দু’রং-এর কুইন ভিক্টোরিয়া স্ট্যাম্প মুদ্রিত হয়, পৃথিবীতে দ্বিতীয়, অন্যটি সুইটজারল্যান্ডের ব্যাসেল ডাভ স্ট্যাম্প। এছাড়াও আধ আনা, এক আনা, দু’আনা দামের বিভিন্ন রং-এর কুইন ভিক্টোরিয়া স্ট্যাম্পের সিরিজ বের করা হয়।

স্বাধীন ভারতের ডাকটিকিট

দুশো বছরের ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ অবশেষে স্বাধীনতা পেল। India Postage লেখা তিন রকমের ডাকটিকিট মুদ্রিত হয় – ১। আন্তর্জাতিক ডাকের জন্য ভারতের জাতীয় পতাকার ছবি সম্বলিত ডাকটিকিট; ২। অন্তর্দেশীয় ডাকের জন্য ভারতের জাতীয় প্রতীকের ছবি সম্বলিত ডাকটিকিট; ৩।| এয়ারমেলের জন্য ডগলাস সিডি-৪ এয়ারপ্লেনের ছবি সম্বলিত ডাকটিকিট।

ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার ‘প্রিন্সলি স্টেটস’

১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার আগে ৫৬৫টি প্রিন্সলি স্টেটস বা রাজকীয় রাজ্য ও করদ রাজ্য ছিল। এদের মধ্যে অন্তত ৫০টি রাজ্যের নিজস্ব ডাকটিকিট এবং রেভেনিউ স্ট্যাম্প ছিল। সংগ্রাহকদের কাছে এগুলোর প্রচুর কদর।

ভারতের স্মারক ডাকটিকিট

ভারতের স্মারক ডাকটিকিটের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪৮ সালের মহাত্মা গান্ধী স্মারক ডাকটিকিট; ১৯৪৯ সালে ‘ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন’-এর ৭৫ বছর পূর্তি ডাকটিকিট; ১৯৫০ সালে ভারতের প্রজাতন্ত্র দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের স্মারক ডাকটিকিট ইত্যাদি প্রকাশের মাধ্যমে।

ভারতের ব্যতিক্রমী ডাকটিকিট

ভারতের টিকিট সংগ্রহ শুধুমাত্র পুরনো ডাকটিকিটেই থেমে নেই। বহু ফিলাটেলিস্ট মনে করেন যে আধুনিক ভারতের স্ট্যাম্প সংগ্রহ করা অনেক বেশি মজার আর চ্যালেঞ্জিং কারণ ভারতের মত এত বৈচিত্রময় এত অসংখ্য স্ট্যাম্প আর কোনও দেশে প্রকাশিত হয় না, যেমন ২০০৯ সালে প্রকাশিত ল্যুই ব্রেইল স্ট্যাম্পস যা ব্রেইল পদ্ধতিতে ছাপা হয়েছিল; বিভিন্ন ফুলের ও চন্দনের সুগন্ধি মেশানো স্ট্যাম্প ইত্যাদি।

ইন্ডিয়ান ফিলাটেলিক ব্যুরো

সব ধরণের সংগ্রাহকদের সাহায্য করার জন্য ভারতের বড় বড় শহরে ফিলাটেলিক ব্যুরো রয়েছে। এগুলো থেকে তুমি ফিলাটেলিক স্ট্যাম্পস, মিনিয়েচার শীটস, ফার্স্ট ডে কভার, স্ট্যাম্প ব্রোশর, স্ট্যাম্প হ্যান্ডবুক ইত্যাদি সংগ্রহ করতে পারবে। কলকাতার ঠিকানাঃ জিপিও, বিবাদী বাগ, কলকাতা, ফোন: 033 2210 5022 – এখানে ফিলাটেলিক একাউন্ট চালু করলেই ঘরে বসে প্রতি মাসে প্রকাশিত স্ট্যাম্প ইত্যাদি হাতে পেয়ে যাবে।

ব্যবহার করা স্ট্যাম্পের জন্য তোমাকে ‘ফিলাটেলিক কংগ্রেস অভ ইন্ডিয়া’-র সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে যারা তোমাকে ভাল ভাল ডিলারেরই শুধু সন্ধান দেবে না, তোমাকে সব রকম প্রয়োজনীয় উপদেশ দেবে।

ব্যস, আর চিন্তা কী? ‘জয় ডাকটিকিট’ বলে আজই শুরু করে দাও তোমার অনুসন্ধান, সংগ্রহ আর এ্যালবাম আর এনজয় কর স্ট্যাম্প জমানোর অপার আনন্দ।

(সৌজন্যে – ছোটদের রূপকথা)

(www.theoffnews.com sramp collection)


সোমনাথ রায়, প্রত্নগবেষক, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক, দুর্গাপুর:

পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় শখ ‘কয়েন জমানো’। 

তুমি এই মুহূর্তে কোন গিফ্‌ট পেলে সবচেয়ে খুশি হবে? অবশ্যই স্মার্ট ফোন বা ভিডিও গেমস কিংবা ইলেকট্রনিক কোন খেলনা, তাই না? আমি কিন্তু সবচেয়ে খুশি হতাম যদি আমাকে কেউ আমাকে একটা স্ট্যাম্প বা ডাকটিকিট দিত। এখনও কেউ দেশী বা বিদেশী স্ট্যাম্প বা কয়েন বা দেশলাই বাক্স দিলে বাঁধনছাড়া আনন্দ পাই। 

শুধু ভারতের নয় বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় শখ পয়সা বা কয়েনঔ জমানো। অবশ্য এখানে কয়েন বলতে মুদ্রা, কারেন্সি নোট এবং বিনিময়ের যে কোন বস্তুকে বোঝান হয়। এগুলো যারা জমান সাধারণত তাদের কয়েন কালেকটার বা মুদ্রা বিশেষজ্ঞ বলা হলেও তাঁদের একটা ভারী নাম আছে – সেটা হল ন্যুমিসম্যাটিস্ট আর কয়েন জমানো বা কয়েন নিয়ে পড়াশুনাকে পোশাকী ভাষায় বলা হয় ‘ন্যুমিসম্যাটিক্‌স’। আসলে গ্রীক ‘নমিজেইন’ (যার মানে ‘এখন ব্যবহৃত’) থেকে ‘নমিসমা’ বা ‘নমিসম্যাট’ (‘এখনকার মুদ্রা’) কথাটা এসেছে, সেখান থেকে ল্যাটিন ভাষায় ‘ন্যুমিসম্যাটিস’ ঘুরে ফ্রেঞ্চ ‘ন্যুমিসম্যাটিকস্‌’ থেকে ১৭৯২ সালে ইংরিজীতে কথাটি আসে।

এখন প্রশ্ন হলো, কয়েন জমাবে কেন?

পৃথিবীতে যত জিনিষ জমানো হয় কয়েন জমানো তার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয়। স্ট্যাম্প বা ডাকটিকিট–ও অনেকে সংগ্রহ করে কিন্তু মুদ্রা অনেক বেশি টেঁকসই কারণ মুদ্রা ধাতু দিয়ে তৈরি।  মুদ্রা যত পুরনো হয় তত সেটি দুর্লভ হয় আর তত তার দাম বাড়ে।

সবথেকে পুরনো সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য সবচেয়ে ভারী সবার থেকে বড় আর ছোট মুদ্রা এশিয়া মাইনরের গ্রীক শহর এফিসুস-এ (বর্তমানে তুরস্কে) এখনও পর্যন্ত সব থেকে প্রাচীন মুদ্রা পাওয়া গেছে। পাঞ্চ-চিহ্নিত মুদ্রাগুলি ভারতের প্রথম দিকের মুদ্রা যা খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ থেকে ২য় শতাব্দীর মধ্যে তৈরি হয়েছিল – মগধ রাজত্ব (৪৩০-৩২০ খ্রি.পূ.), মৌর্য রাজত্ব (৩২২-১৮৫ খ্রি.পূ.)। আগ্নেয়গিরির লাভার টুকরোও মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হত। ৭ম শতাব্দীতে চীন দেশে প্রথম কারেন্সি নোট ছাপা হয়। পৃথিবীর সবথেকে ভারী মুদ্রার ওজন ১৫০ কেজি। ১৩৬৮ সালে সবথেকে বড় ব্যাঙ্ক নোট ছাপা হয় যেটির মাপ ছিল ২৩x৩৩ সেমি আর রোমানিয়ায় ১৯১৭ সালে সবথেকে ছোট – ২.২x৩.৮ সেমি – ব্যাঙ্ক নোট ছাপা হয়।

মুদ্রা সংগ্রহের শুরু:

Charity begins at home অনুসারে বাড়ি থেকেই শুরু করতে পারো। প্রত্যেকের বাড়িতেই নিজের দেশের পুরনো কিছু পয়সা পাবে। পুরনো [এখন অচল] ২, ৫, ১০ বা ২০ পয়সা যদি পাও তাহলেই কেল্লা ফতে – পুরনো ২ পয়সার বাজারমূল্য এখন (২০১৮) ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা। এখনকার ১ টাকা, ২ টাকা বা ৫ টাকাই ধর – কত রকমফের! প্রত্যেকটা পয়সা যদি খুঁটিয়ে দেখো, দেখবে কতরকমের তফাৎ চোখে পড়ছে। এগুলো জানার জন্য বই পাওয়া যায়। কয়েন সাধারণত প্রদর্শনীতে বা নীলামে বিক্রি হয় কিন্তু ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই কয়েন বেচাকেনা করা যায়। যেই তুমি কয়েন বিক্রি করে নিজে রোজগার করবে, ব্যাস তখন তুমি নিজেই কয়েন কিনে তোমার কালেকশান বাড়াতে পারবে।

কয়েন জমানো কিন্তু আখেরে দারুণ লাভজনক। তাই এখন আমি তোমাদেরকে বলব কি ভাবে এই শখ শুরু করা যায়, কয়েনের যত্ন কিভাবে নিতে হয় আর এই শখকে কাজে লাগান যায়। নানা রকমের কয়েন আর কালেক্টারদের সম্বন্ধেও জানতে পারবে।

 মুদ্রাসংগ্রহের হাল হকিকত

ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা সবাই কিছু না কিছু অর্থ সঞ্চয় করি। আমরা ছোটবেলায় অনেকেই ‘পিগিব্যাংকে’ রোজ একটা করে কয়েন ফেলেছি। বড়রা টাকাপয়সাকে সব থেকে গুরুত্ব দিলেও ছোটদের কাছে এটা একটা শুধুমাত্র চক্‌চকে ধাতুর চাকতি। তাই ছোটরা ভবিষ্যতে অভাব অনটনের কথা ভেবে পয়সা জমায় না, ঝনঝন আওয়াজ করা অনেকগুলো দামী চক্‌চকে জিনিস জমানোর আনন্দে জমায়। কিন্তু তুমি যখন বড় হবে তখনও কি এই শখটা চালিয়ে যাবে? ঘটনা হলো সারা পৃথিবীতে এই রকম মানুষ অনেক আছেন যাঁরা অবসর সময়ে এই শখটা সানন্দে চালিয়ে যান আবার অনেকে এটাকেই সম্মানজনক পেশা হিসেবে নিয়েছেন। খুব কম খরচে এই শখ শুরু করা যায়। তাই ফাঁকা সময়ে তুমি কয়েন নিয়ে স্টাডি করতে পার আর এটা থেকে রোজগারও করতে পারো।

কয়েন জমানো শুরু করবে কি ভাবে?

কয়েন জমানো শুরু করার আগে তোমাকে কালেক্টারের ‘চোখ’ তৈরি করতে হবে। যত রকমের কয়েন হাতে পাবে সেগুলোকে ভাল করে দেখো। সব কয়েন জমানোর দরকার নেই। সাধারণ কয়েন থেকে দুষ্প্রাপ্য এবং দামী কয়েন আলাদা করবার মত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। 

বাড়ির সব কয়েন ভাল করে দেখলে দেখবে যে কয়েকটি অন্যদের থেকে একেবারেই আলাদা। এগুলির ডিজাইন অন্য রকম, কোন বিশেষ ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এই কয়েনগুলি খুব কম পরিমাণে টাঁকশালে তৈরি হয়। 

বাড়িতে বা পাড়ায় বড়দের পুরনো দিনের কয়েনের জন্য বলে দেখ। অনেকের কাছে এখনও কিছু কয়েন আছে যা এখন আর চলে না। যত পুরনো কয়েন, তার দাম কিন্তু তত বেশি।

তোমার পরিচিতদের মধ্যে কেউ বিদেশ থেকে ফিরছেন? তোমার জন্য যদি বিদেশি কয়েন নিয়ে আসেন তার থেকে ভাল গিফট আর কী হতে পারে?

কিছু টাকা থাকলে হবি শপ বা ইন্টারনেট থেকে কয়েন কিনে তোমার সংগ্রহ বাড়াতে পারো। 

এই শখ তোমার ভাল লেগে গেলে দেখবে যে তুমি সম্ভাব্য সব জায়গায় – হোটেল, দোকান ইত্যাদির ক্যাশ কাউন্টারে - কয়েন খুঁজে বেড়াচ্ছ আর কে বলতে পারে যে তুমি দুষ্প্রাপ্য কয়েন আবিষ্কার করবে না? সত্যিই যদি তাই হয় তাহলে সঠিক দাম দিয়ে তুমি ওই মুদ্রাটি সংগ্রহ করতে পার। এইভাবেই মাটি না খুঁড়েও তুমি অনেক দামী কয়েন পেয়ে যেতে পার।

কত ধরণের কয়েন কালেক্টর হয়

কয়েন জমানো শুরু করার পর তোমাকে ঠিক করতে হবে কি ধরণের কালেক্টর তুমি হতে চাও। কত রকমের কালেক্টর হয় তার একটা আভাস দেওয়া যাক –

১। ক্যাজুয়াল কয়েন কালেক্টর: যারা নতুন চক্‌চকে কয়েন পেয়ে আলাদা করে রাখে, খরচা করতে চায় না তারা ক্যাজুয়াল বা নন-সিরিয়াস কয়েন কালেক্টর।

২। নভিস কয়েন কালেক্টর: ক্যাজুয়াল কয়েন কালেক্টর থেকে নভিস কয়েন কালেক্টর হবে যখন শুধুমাত্র নতুন কয়েন জমিয়ে আর তোমার মন ভরবে না। তুমি যতরকমে সম্ভব কয়েন সংগ্রহ করতে শুরু করবে। প্রতিটি নতুন সংগ্রহ তোমার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

৩। জেনেরালিস্টস্‌ কয়েন কালেক্টর: যদি তুমি সব আমলের বা সব দেশের কয়েন জমাতে থাকো তাহলে তুমি জেনেরালিস্টস্‌ বা সাধারণ কয়েন কালেক্টর।

৪। স্পেশালিস্ট কয়েন কালেক্টর: যদি তুমি দেখ যে তোমার সংগ্রহে মুঘল যুগের কয়েন বেশি বা তুমি শুধু ভারতের মুদ্রা সংগ্রহ করতে আগ্রহী তাহলে তুমি স্পেশালিস্ট কালেক্টর হতে চলেছ। স্পেশালিস্ট কালেক্টররা শুধু এক ধরণেরই মুদ্রা সংগ্রহ করে। টাঁকশালে মুদ্রা তৈরি করার সময় কিছু মুদ্রায় ভুল থেকে যায়। অনেক স্পেশালিস্ট কালেক্টর শুধুমাত্র সেইগুলি সংগ্রহ করেন। 

৫। কমপ্লিটিস্ট কয়েন কালেক্টর: স্পেশালিস্ট কালেক্টরের পরের ধাপ হলো বিশেষ ধরণের মুদ্রার প্রতিটি কালেক্ট করা। ওই ধরণের যা যা মুদ্রা তৈরি হয়েছে তার প্রতিটি তোমাকে সংগ্রহ করতে হবে। সেটা যদি করতে পারো তাহলে তুমি কালেক্টরদের সব থেকে উঁচু ধাপে পৌঁছে যাবে যেখানে তোমার সঙ্গী হবে হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র।

কয়েনের মাধ্যমে তুমি কোন দেশের পুরাতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব, ভূগোল, ইতিহাস, স্মরণীয় ঘটনা, মনীষী, খাদ্যাভ্যাস প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারবে।

কী কী ধরণের মুদ্রা সংগ্রহযোগ্য

তুমি যখন মুদ্রা সংগ্রহে সত্যিকারের আগ্রহী হবে তখন তোমাকে ঠিক করতে হবে তুমি ঠিক কী ধরণের মুদ্রা সংগ্রহ করার ওপরে জোর দেবে। যে যে ধরণের মুদ্রা সংগ্রহ করতে পারো তার একটা ছোট্ট তালিকা এখানে দেওয়া হ’ল – 

ক) বছরভিত্তিক মুদ্রা সংগ্রহ: কিছু নামজাদা সংগ্রাহক বিশেষ কোন ঐতিহাসিক সময়ের মুদ্রা সংগ্রহ করেন – সে আধুনিক বা প্রাচীন যুগ যাই হোক না কেন। প্রাচীন মুদ্রা সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য। তুমি দুই বছরের পুরনো সব ধরণের মুদ্রা সংগ্রহ করতে পার যেটা অনেক বেশি সোজা। সময়ের সাথে সাথে এই সব মুদ্রার দাম বাড়তে থাকবে আর তোমার মুদ্রা সংগ্রহও দামী হয়ে উঠবে।

 রাজা অনন্তমাণিক্যের অর্ধনারীশ্বর মুদ্রা

খ) দেশভিত্তিক মুদ্রা সংগ্রহ: দেশভিত্তিক মুদ্রা সংগ্রহের দুটি প্রধান ভাগ আছে – নিজের দেশের বা অন্য দেশের মুদ্রা সংগ্রহ করা।

গ) আকৃতিভিত্তিক মুদ্রা সংগ্রহ: কিছু সংগ্রাহক বিশেষ আকারের মুদ্রার জন্য পাগল। কেউ হয়ত অবৃত্তাকার মুদ্রা সংগ্রহ করেন, কেউ বা ফুটো পয়সা জমান। এই ধরণের মুদ্রা সংগ্রহে প্রচুর ধৈর্য দরকার।

আসামের রূদ্র সিংহ-র  অষ্টভুজা মুদ্রা

ঘ) মিন্ট মার্ক কালেকশন: সাধারণত মুদ্রাতে মিন্ট বা টাঁকশালের চিহ্ন দেওয়া থাকে যাতে কোন সমস্যা হলে সেই টাঁকশালকে চিহ্নিত করা যায়। কিছু সংগ্রাহক শুধু টাঁকশাল চিহ্ন সম্বলিত মুদ্রা সংগ্রহ করেন।

ঙ) চিহ্ন বা ছবিওয়ালা মুদ্রা সংগ্রহ: কিছু সংগ্রাহক বিশেষ ধরণের চিহ্নওয়ালা মুদ্রা, যেমন জাতীয় পতাকা বা অশোক স্তম্ভের চিহ্ন দেওয়া কয়েন জমান। কিছু সংগ্রাহক আবার ফুল, ফল, জীবজন্তু প্রভৃতির ছবি দেওয়া পয়সা জমান।

কয়েনের যত্ন

কয়েন শুধু জমালেই হবে না, তার থেকেও কঠিন কাজ কয়েনগুলিকে সযত্নে সুরক্ষার সঙ্গে রাখা। বেশীর ভাগ কয়েন যে ধাতুতে গড়া সেগুলো খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। দায়ী – বাতাসের আর্দ্রতা, আশেপাশের গরম, বায়ু দূষণ, অ্যাসিড বা ক্লোরিন মেশানো জল দিয়ে কয়েন পরিষ্কার অথবা কয়েনকে ভুল ভাবে নাড়াচাড়া করা। এইসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার উপায়ঃ

অ) কয়েন এ্যালবাম সংগ্রহ করা: বাঘ পোষার আগে যেমন বাঘের খাঁচা জোগাড় করতে হবে তেমনি কয়েন জমানোর আগে কয়েনের হোল্ডার বা এ্যালবাম জোগাড় করতে হবে। কারণ একটা জারে বা কৌটোতে রাখলে ঘষাঘষি করে সব থেকে বেশি কয়েন নষ্ট হয়। সব রকম দামের ও মানের ক্যাটালগ বা এ্যালবাম পাওয়া যায়। সেগুলি সংগ্রহ করতে হবে।

আ) বেসমেন্টে, রান্নাঘরে, ওয়াশ রুমে কয়েন রাখা যাবে না। শোবার ঘরে বা লিভিং রুমে রাখা ভালো কারণ সেখানে তাপমাত্রা, ধুলো, জল চুঁইয়ে পড়া, এই সব সমস্যা কম।

ই) কাঠের কোন বাক্সে বা ক্যাবিনেটে কয়েন রাখা একেবারেই যাবে না কারণ এগুলোতে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় যেগুলো কয়েনকে নষ্ট করে দেবে।

সংগৃহীত মুদ্রার পরিষ্কারের পদ্ধতি

যে ধাতুগুলিতে মুদ্রা তৈরি হয় সেগুলির উপযুক্ত রাসায়নিক ব্যবহার না করে পরিষ্কার করলে মুদ্রা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিভিন্ন ধাতুর তৈরি মুদ্রার পরিষ্কার পদ্ধতিঃ

১) তামা ও ব্রোঞ্জের মুদ্রা: এগুলি তেঁতুল বা লেবু জলের হালকা মিশ্রণে চুবিয়ে নিয়ে টুথব্রাশ দিয়ে আলতো ঘষে পরিষ্কার করা হয়। অন্য পদ্ধতি হলো যে কোন ভোজ্য তেলে চুবিয়ে হালকা ঘষে পরিষ্কার করা। তারপর শুকনো করার জন্য নরম কাপড় দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে মুছতে হবে।

২) অন্যান্য ধাতুর মুদ্রা: এগুলিকে হালকা গরম সাবান জলে ধোয়া যায়। একটি করে মুদ্রা ঈষদুষ্ণ জলে ডুবিয়ে পরিষ্কার আঙুলে ঘষতে হবে। তারপর আগের মতই নরম কাপড় দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে মুছতে হবে। না হলে ভিজে মুদ্রা বাতাসের সংস্পর্শে এলে মুদ্রা নষ্ট হয়ে যাবে।

৩) রৌপ্য মুদ্রা:  রুপোর মুদ্রাও একই ভাবে সাবান জল দিয়ে টুথব্রাশ দিয়ে হালকা ঘষে পরিষ্কার করে নরম কাপড় দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে মুছতে হবে।

মুদ্রা সংগ্রহের শখ থেকে অর্থোপার্জন

মুদ্রা সংগ্রহের শখ থেকে সহজেই তুমি রোজগার করতে পার। ইন্টারনেটের সাহায্যে কয়েন ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তোমার মূল্যবান সংগ্রহ বিক্রি করতে পারো। অযথা অন্য শখের পিছনে সময় নষ্ট না করে ঘরে বসেই তুমি ইন্টারনেট, স্পীড পোস্ট আর ক্যুরিয়ারের মাধ্যমে কয়েন সংগ্রহ আর বিক্রি দুটোই করতে পার।

রোম সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট অগাস্টাস (৬৩ খ্রিস্টপূর্ব – ১৪ খ্রিস্টাব্দ) যে শখ শুরু করেছিলেন সময়ের সাথে সাথে সেটাতো লুপ্ত হয়ইনি, বরং দিন দিন এই শখ বেড়েই চলেছে। তুমিও তার শরিক হয়ে নতুন একটা জগৎ আবিষ্কারে মেতে ওঠো।

(সৌজন্যে – ক্ষীরের পুতুল। সম্পাদক – মুনমুন দাশগুপ্ত)

(www.theoffnews.com coin collection)


সুকন্যা পাল, ম্যানেজিং এডিটর, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

আর পাঁচটা শিশু মেলার থেকে এই মেলা  একেবারেই আলাদা। অন্য শিশু মেলায়, বড়দের হাত ধরে শিশুরা মেলায় যায়। কিন্তু এখানে শিশুরাই বিক্রেতা। তারাই তাদের হাতে তৈরি নানান খাবার বা অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করছে। বড়রা সেখানে শুধুই ক্রেতা বা দর্শক। ১৪ নভেম্বর, শিশুদিবস উপলক্ষে, অবেক্ষণ নাট্য সংস্থা এবং অবেক্ষণ পত্রিকার উদ্যোগে সম্প্রতি একটু অন্য রকমের এই শিশু মেলা অনুষ্ঠিত হল উত্তর চব্বিশ পরগনার গোবরডাঙ্গায়। শিশু মেলা উপলক্ষে স্থানীয় বাবুপাড়া সম্মিলনী ক্লাবের মাঠ ছিল জমজমাট। কচি হাতের তৈরি ফুচকা, ঝালমুড়ি, ঘুগনি, আলু কাবলির মত সনাতনী খাবার যেমন ছিল, তেমনই ছিল চিজ বার্গার, কাপ কেক এর মত বিলিতি খাবার দাবার। বাদ ছিল না ইডলি, দই বড়া, চা বা কফিও। মাত্র ১০ টাকায় এক প্লেট চিকেন পকোড়া, চিলি চিকেন বা পাটিসাপটা। ২০ টাকায় এক প্লেট পোলাও অথবা চিংড়ির বিরিয়ানি, ভাবা যায়? তাই তো দিয়ে কুল করতে পারছিল না ক্ষুদে বিক্রেতারা। এখানেই শেষ নয়, নানা ধরনের হাতের কাজ নিয়েও মেলায় বসেছিল কচিকাঁচারা। অসাধারণ সেই শিল্পকর্মও প্রশংসা কুড়িয়েছে সকলের। সেগুলির বিক্রিও মন্দ হয়নি। 

মেলা চত্বরে আয়োজন করা হয়েছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। ছোটরা সেখানে নানা রকম সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকা মাতিয়ে রেখেছিল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিচালনায় ছিলেন সৌমী মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণেই বসেছিলেন দন্ত চিকিৎসক ডাঃ শুভজয় রক্ষিত, তিনি বিনা মূল্যে এদিন মেলায় আগত শিশুদের দাঁত পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

অবেক্ষণের সম্পাদক পলাশ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যান্ত্রিক জীবন থেকে সামান্য দূরে সরিয়ে ছোটদের নির্মল আনন্দ দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ। পাশাপাশি এই মেলা শিশুদের স্বনির্ভরতা এবং সামাজিক চেতনার পাঠও দেবে। মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা বিজয় মুখোপাধ্যায়, রাজিত কর্মকার বা বিশ্বনাথ দাস, সৌমী মুখোপাধ্যায়  সকলের গলাতেই একই সুর, ছোটদের মুখের নির্মল হাসিই এই উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব প্রমাণ করে দিয়েছে। ছোটদের উৎসাহ দিতে হাজির ছিলেন বড়রাও। কাঁচা হাতে তৈরি চা অথবা কচি হাতে তৈরি ঝালমুড়ি, ঘুগনি, বড়রা কিন্তু ছাড়েননি কোনটাই। সকলেই জানিয়েছেন এমন মেলার ক্রেতা হিসেবে যথেষ্ট খুশি তারা। মেলা শেষ হলেও আসছে বছর আবার হবে এই অঙ্গিকার নিয়েই মাঠ ছাড়েন সকলে।

(www.theoffnews.com - Abeskhon Children fair)


সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

নেপালের অধিবাসী প্রকৃতি মাল্লা নামের এই মেয়েটি পড়াশোনা করে অষ্টম শ্রেণীতে। অল্প বয়সে তার এত সুন্দর হাতের লেখা নিখুঁতের একেবারে কাছাকাছি থাকায় পরিচিতি গোটা বিশ্ব জুড়ে। এই মতটি বিশেষজ্ঞদের যারা ফন্ট সম্বন্ধে অবগত। কয়েকমাস আগে নেপালের এক ব্যক্তি প্রকৃতি মাল্লার হাতের লেখার একটি ছবি তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেন।  

আর এরপরই তা ভাইরাল হতে সময় নেয়নি। এত অল্প বয়সে এত সুন্দর হাতের লেখার জন্য মেয়েটিকে নেপালি সশস্ত্র বাহিনী থেকে তাকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রকৃতি মাল্লা সৈনিক আওয়াসিয়া মহাবিদ্যার ছাত্রী। তার হাতের লেখা পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর হাতের লেখার স্থান অধিকার করে আছে। যদিও এই ভাইরাল হওয়া ঘটনাটি অনেকদিনের পুরোনো কিন্তু তা মানুষের মনে অনেকটাই জায়গা করে নিয়েছে। ছোট্ট মেয়েটি শুধুমাত্র তার হাতের লেখার কারণে আজ গোটা বিশ্বে পরিচিত।

তার হাতের লেখা দেখে যে কেউ বলবে সেটি কম্পিউটারের ফন্ট। মাঝেমধ্যে প্রকৃতি মাল্লার হাতের লেখা এমএস ওয়ার্ডের চেয়েও আরও বেশি সুন্দর হয়। অনেকে তার সুন্দর হাতের লেখাকে কম্পিউটারের ফন্ট ভেবে ভুল করতে পারে। তার লেখার মধ্যে যে ফাঁকা জায়গাগুলি থাকে তা একদম সমান। এই কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তার হাতের লেখা নিখুঁতের প্রায় কাছাকাছি। বাচ্চা মেয়েটির হাতের লেখা সবাইকে অনুপ্রেরণা জোগায়।

(www.theoffnews.com - handwriting Prakriti Malla)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

সম্প্রতি ক্রিসমাস উপলক্ষে আইকিউ টেস্ট (একজন ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা ও যুক্তিশক্তির পরীক্ষা) তথা 'মেনসা' টেস্টে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পদার্থবিজ্ঞানী আইনস্টাইনকে হারিয়েছে ব্রিটিশ কিশোর বার্নাবি সুইনবার্ন।

বার্নাবি এখন হাই আইকিউ সোসাইটির সদস্য। অনূর্ধ্ব-১৭ বিভাগে বার্নাবি সুইনবার্নের বর্ষসেরা স্কোর ১৬২। ধারণা করা হয় আইনস্টাইনের আইকিউ লেভেল ছিল ১৬০, বার্নবি ২ পয়েন্টে এগিয়ে যা অনেক সম্মানের।

বার্নাবির মা জিসেলিন জানান, বার্নাবি গণিত এবং রসায়ন পড়তে পছন্দ করে। সে ব্যবসায় আগ্রহী। বার্নাবির স্বপ্ন, সে একজন 'প্রোগ্রামার' হতে চায়। আমরা জানতাম সে স্মার্ট এবং যথেষ্ট স্মার্ট, কিন্তু সে তার বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা করতে পরীক্ষায় বসে।

(www.theoffnews.com - Barnaby Swinburn IQ Enstein)

দি ব্যুরো, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

কলকাতার নিউটাউনের নারায়ণ ই-টেকনো স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী প্রজ্যা বিশ্বাস বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রবন্ধ লেখার নানান প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েই চলেছে। সম্প্রতি সে আবার প্রথম স্থান অধিকার করেছে আইআইএসএফ'২১ প্রতিযোগিতায়।

প্রজ্যা দুর্গাপুরের পানাগড় এলাকার বাসিন্দা। গত ১০ থেকে ১৩ ডিসেম্বর গোয়ার পানাজিতে অনুষ্ঠিত হয় ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশানাল সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল। সেই ফেস্টিভ্যালের সায়েন্স ফিকশন রাইটিং প্রতিযোগিতায় চলতি বছরের জন্য প্রথম পুরস্কার লাভ করে প্রজ্যা।

উল্লেখ্য, এর  আগে প্রজ্যা প্রবন্ধ রচনা এবং মডেল তৈরির প্রতিযোগিতার জন্য ইসরো থেকে দুইবার পুরস্কৃত হয়েছিল। এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন বিজ্ঞান কেন্দ্র, নীতি আয়োগ এবং ভারত সরকারের বিভিন্ন বিভাগ থেকে সে পুরস্কৃত হয়েছিল বিজ্ঞান বিষয়ক নানাবিধ উদ্ভাবনীর জন্য। প্রজ্যা জানিয়েছে, একেবারে ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের বিষয়ে আমার প্রবল ঝোঁক। আমি স্বপ্ন দেখি, বড় হয়ে সমাজে বিজ্ঞান ভিত্তিক মানব সেবা যেন করতে পারি। 

(www.theoffnews.com - science competition)

দেবস্মিতা ধর, ফিচার রাইটার, কলকাতা:

“ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে”- প্রবাদটি বহু কথিত, এবং বহুলভাবে প্রচলিত বাংলা সাহিত্যে। বাস্তবিক ঘুমন্ত শিশুর ফুলের মতো মুখের দিকে তাকিয়ে কল্পনা করতে ভালো লাগে, সুদূর অনাগত ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল চিত্র। আজকের শিশু আগামী প্রজন্মের জনক- এক নতুন সূর্যোদয়ের স্বপ্ন তার মধ্যে রয়েছে। শিশুর মধ্যেই সুপ্ত থাকে ভবিষ্যৎ সমাজ, দেশের সার্থক কাণ্ডারির সুন্দর প্রতিচ্ছবি।

প্রদীপের ঠিক নীচেই অবস্থান করে অন্ধকার।

ব্যতিক্রম এই ক্ষেত্রেও হয়নি। 

ফুলের কুঁড়ির প্রতি দৃষ্টি রাখলে যেমন আগামী দিনের শতদল, নানাবর্ণের, সুগন্ধযুক্ত প্রস্ফূটিত ফুলের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে, পাশাপাশি সেই নিষ্পাপ কুঁড়িটিকে নিয়ে পণ্যের বাজারে সওদা করা হচ্ছে, বলা ভালো নিজেদের নোংরা স্বার্থপূরণের জন্য টাকার জুতোর নীচে পিষে মারা হচ্ছে – এই পাশবিক দৃশ্য কল্পনাতে আনতেও অন্তরাত্মা প্রকৃত অর্থেই কেঁপে ওঠে, প্রশ্ন জাগে এও কি সম্ভব মানুষের ক্ষেত্রে? 

অনাহত উত্তর ইতিবাচক হয়ে আমাদের মনুষ্যত্ত্বকে নাড়া দিয়ে যায়।

হ্যাঁ। সম্ভব। বাস্তব যে সম্ভব-অসম্ভবের ধার ধারে না, তা আর একবার প্রমাণিত হয়ে যায়।

আর সম্ভব মানুষের পক্ষেই।

মানুষের পক্ষে নাকি কিছুই অসম্ভব নয়। কিন্তু এত নিষ্ঠুর অসাধ্যসাধন যে মনুষ্যত্ত্বেরই লজ্জা।

কিন্তু মানুষ তাও করে দেখিয়েছিলো। 

এই একবিংশ শতাব্দীরই কোনও এক ২২শে নভেম্বর বাদুড়িয়ার সোহান নার্সিংহোম-এ তদন্ত করে তিনটি পরিচয়বিহীন শিশুর উদ্ধার করা হয়। কিন্তু গল্পের এখানেই শেষ হয় না। বরং বিস্তৃত নাটকের পটভূমিকা রচিত হয়। ‘কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’- বেরোনোর মতই তিন সদ্যোজাতের উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে একটি গোটা শিশুপাচার চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ যার সঙ্গে উঠে আসে সমাজের তথাকথিত স্ব স্ব ক্ষেত্রে ‘প্রতিষ্ঠিত’ ব্যক্তিবর্গের নাম। তাদের কেউ প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক, কেউ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার- এছাড়াও জানতে পারা গেছে তাদের সঙ্গে জড়িত এমন অনেক ব্যক্তিবর্গের নাম যারা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে সমাজের নীচু তলার মানুষ। 

বাদুড়িয়ার সোহান নার্সিংহোম থেকে সন্দেহের তীর ঘুরে যায় দক্ষিণ শহরতলির ঠাকুরপুকুরে ‘পূর্বাশা’- নামে মানসিক প্রতিবন্ধীদের একটি হোমে। সেখানকার দোতলার একটি ঘর থেকে দশটি শিশুকন্যা উদ্ধার হয় এবং অফিসাররা জানান, উদ্ধার হওয়ার সময় অধিকাংশ শিশুই এই ঠাণ্ডায় মাটিতে শোওয়ানো ছিল এবং কয়েকটি কাপড়ের দোলনায় রাখা ছিল। তার কয়েক ঘন্টার মধ্যে হাবড়ার মছলন্দপুরের ‘সুজিত মেমোরিয়াল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’-এর পিছনের মাঠ খুঁড়ে দুই শিশুর দেহাবশেষ ও শিশুর ভ্রূণ পাওয়া যায়। সন্ধান মেলে বসিরহাটের আরও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নাম, মহাত্মা গান্ধী রোডের শ্রীকৃষ্ণ নার্সিংহোমের নাম এবং বেহালার সাউথ ভিউ নার্সিংহোমের নাম উঠে আসে। পলি দত্ত ওরফে উৎপলা ব্যাপারী, সত্যজিৎ রায়, রিনা বন্দ্যোপাধ্যায়, মাসুদা বিবি-দের সাথে প্রবীণ চিকিৎসক সন্তোষকুমার সামন্ত-র মতো মানুষের চেহারায় অমানুষদের নাম সামনে আসে। শিশুদের নিয়ে লাভজনক ব্যবসার মূল কাণ্ডারি এরা বলে অভিযোগ।

কিন্তু পুলিশ, প্রশাসন, সর্বোপরি সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে কাজটা সহজ ছিল না। এই ব্যবসা চলত ধুরন্ধর পথে, কূট বুদ্ধিকে আশ্রয় করে। 

প্রশ্ন ওঠে, শিশুপাচারের সাথে কন্যাভ্রূণ এল কি করে ?

জানা গেছে, বেআইনিভাবে গর্ভপাতের মতো নীচ কাজও হত পূর্বলিখিত নার্সিংহোমগুলিতে  শিশুপাচারের মতো নীচ কাজের সাথে সাথে। পাচারের ধকল সহ্য করতে না পেরে (অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা, বিভিন্ন জায়গায় টানাপোড়েনের জন্য, উপযুক্ত পুষ্টির অভাবে) মৃত্যু মুখে পতিত হত হতভাগ্য শিশুরা। তাদের পুঁতে ফেলা হত মাঠের মধ্যে। 

কিন্তু শিশু সংগ্রহ করা হত কীভাবে? আর সম্পূর্ণ আইনি উপায় তাদের দত্তকই বা দেওয়া হত কীভাবে?

শিশুপাচার চক্রে বিভিন্ন নার্সিংহোম ও হাসপাতাল জড়িত ছিল, এ তথ্য আমরা আগেই পেয়েছি। সেইসব হাসপাতালে দরিদ্র প্রসূতিদের সন্তানকে মৃত বলে আড়ালে সরিয়ে ফেলা হত। পরে তার জায়গায় অন্য কোন মহিলাকে (প্রসূতি নয়) টাকা দিয়ে ভর্তি করানো হত। ওই মহিলাকে ‘সুস্থ’ বলে কাগজপত্র তৈরি হত। একই সাথে নার্সিংহোমের চিকিৎসকরা নিঃসন্তান দম্পত্তিদের সন্তান দত্তকের প্রস্তাব দিতেন এবং ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করানো হত। তিনি আদালতে গিয়ে আইন মোতাবেক জনৈক দম্পত্তিকে শিশু দত্তক দিতেন। গোটা প্রক্রিয়াটির ওপর সরকারী শিলমোহর পড়ে যেত এবং এই সওদার জন্য ক্রেতাকে দিতে হত ৬-৭ লক্ষ টাকা। সরকারি অনুমোদিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অধীনে থাকা হোমে, প্রথমে শিশুদের চুরি করে আনা ও তারপর দত্তক দেওয়া হত।

উদ্বার হওয়া শিশুদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে দেখা গেছে, বয়সের তুলনায় তাদের বৃদ্ধি বেশী। মুরগির ছানাদের মত কৃত্রিম উপায় ওষুধ, ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে শিশুদের শরীরের বৃদ্ধি ঘটানো হত এবং তার জন্য সময় লাগত ৭-৮ মাস। যদিও অপুষ্টির স্বীকার তারা। 

গোটা বিষয়টি জনসমক্ষে আসার পর মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য, নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন, সরকারী উচ্চমহল, সংবাদমাধ্যম। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এটা মানবসভ্যতার ইতিহাসে বা বলা ভালো ভারতবর্ষ বা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ঘটা প্রথম ঘটনা নয়, নয় কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনাও। নারী পাচার, শিশুপাচার আগেও ঘটেছে। এই ঘটনাগুলি আমাদের ভাবতে বাধ্য করায়, আমাদের রোজকার নিশ্চিন্ত নিয়মের ছকে বাঁধা জগতের নীচে রয়েছে অন্য এক জগৎ। আলো আর অন্ধকারের মতোই পাশাপাশি সহাবস্থান করে তারা। মানবিক মূল্যবোধ যেখানে প্রবেশের ছাড়পত্র পায় না। সেখানে রাজত্ব করে আদিম জিঘাংসা, লালসা। মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন বিস্ফোরণের মত সেখানকার ঘটনা আমাদের সামনে আসে। চায়ের কাপের নিশ্চিন্ত চুমুক কিছুক্ষণের জন্য থেমে যায়। নড়েচড়ে বসি আমরা, ছি ছি-কার করি। তারপর ‘ব্যস্ত’ জীবনের তাগিদে আবার ভুলে যাই। একবারের জন্যেও কি নিজেদের ঘরের দিকে তাকিয়ে আমরা ভাবি, এই ঘটনা আমাদের সঙ্গেও ঘটতে পারে? শুধু নিজেদের পরিবারটুকু না, এই বৃহত্তর সমাজের প্রতি সামান্য দায়বদ্ধতাটুকুও কি এইসব ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর হতে বলে না? শেখায় না আত্ম-সচেতন হতে? মনুষ্যত্বের এই অবমাননা কি গোটা মনুষ্য সমাজের মূল্যবোধের ভিত্তির দিকেই প্রশ্ন তোলে না? 

এরপরও সভ্য বলি নিজেদের। কিন্তু কবি শ্রীজাতের ভাষায় মাঝে মাঝে বলতে ইচ্ছা করে

“উঁচু একটা টিলা খুঁজে দাঁড়াও আবার,

নীচে শেষ দেখতে পাবে এই সভ্যতার।”

(www.theoffnews.com - child)

(www.theoffnews.com - world tiniest prematured baby 'Saybie') 

ইরানী বিশ্বাস, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, নাট্যকার ও পরিচালক, বাংলাদেশ:

অনলাইন শিক্ষার ধারণাটি অতি প্রাচীন না হলেও অতি সাম্প্রতিকও নয়। ২০০০ সালের প্রথম দশক থেকেই যুক্তরাজ্যের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় গতানুগতিক শিক্ষার পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অভূতপূর্ব সম্প্রসারণে পৃথিবী আজ আক্ষরিক অর্থেই হাতের মুঠোয় বন্দী। তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার আলোয় বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে জাতিকে তৈরি করতে করোনা কালে চালু হয়েছে অনলাইন শিক্ষাদান। সারা পৃথিবী এখন আকস্মিক মহামারির কবলে। যার কারণে বন্ধ রয়েছে বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে আক্রান্ত দেশগুলিতে চালু করেছে অনলাইন ক্লাস পদ্ধতি। 

অবশ্য জাতিসংঘের শিশু তহবিল, ইউনিসেফ বলেছে বিশ্বে স্কুলে পড়ছে এমন ছেলেমেয়েদের এক তৃতীয়াংশই অনলাইন শিক্ষায় অংশগ্রহণে অপারগ। সংস্থাটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় দেড়শো কোটি শিশু প্রত্যক্ষ শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৪৬ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীও কাছে নেই টেলিভিশন, রেডিও, বৈদ্যুতিক কিংবা ইন্টারনেট সুবিধা। ইউনিসেফের প্রকাশ করা ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, করোনার কারণে দীর্ঘস্থায়ী লকডাউন প্রভাব ফেলেছে প্রায় দেড় বিলিয়ন শিক্ষার্থীর উপর। সামর্থ্য অনুযায়ী যারা পারছে তারা এই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারলেও শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে চলে গেছে অনেক শিক্ষার্থী। সাহারা মরুভুমির দক্ষিনের আফ্রিকা অঞ্চলে ৪৯ শতাংশ শিশুই অনলাইন শিক্ষা পদ্ধতি থেকে বঞ্চিত। এই সংখ্যা পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় ৪৮ শতাংশ, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে ৪০ শতাংশ। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল মিলিয়ে ২০ কোটি শিক্ষার্থী শ্রেনী কক্ষের বাইরে থেকে কোনো রকম শিক্ষা গ্রহণে সমর্থ নয়।

দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধের কারণে দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েরা ও গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী শিশুরা মূলত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী দরিদ্রতর পরিবারগুলো থেকে আসা শতকরা ৭২ শতাংশের বেশি স্কুলগামী শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষার জগতে প্রবেশ করতে পারছে না। এছাড়া উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর দরিদ্র পরিবারগুলোর ৮৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে শিক্ষা গ্রহন করতে অক্ষম। যার পরিমান বিশ্বব্যাপী স্কুলগামী শিক্ষার্থীও এক তৃতীয়াংশ।

বয়স ভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, প্রাক-প্রাথমিক বয়সের প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষা গ্রহন করছে না। যাদের সংখ্যা প্রায় ১২০ মিলিয়ন। ছোট বাচ্চাদের জন্য অনলাইন ক্লাস সত্যি খুব চ্যালেঞ্জের বিষয়। এছাড়াও রয়েছে  নানা সীমাবদ্ধতা। যেমন অনলাইন ক্লাস সম্পর্কে অজ্ঞতা, প্রোগ্রামের অভাব, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ডিভাইসের অভাব, ক্লাস করার চেয়ে গেমস বা চ্যাটিং করতে বেশি আগ্রহী, মোবাইলের ছোট মনিটরে মনোযোগ কম।

প্রযুক্তির আশীর্বাদে বাংলাদেশেও প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে অনলাইন ক্লাশের মাধ্যমে। বাংলাদেশে জাতীয় সম্প্রচার বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের মাধ্যমে এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বিনামুল্যে শিক্ষাগ্রহণ করতো। কখনো বা তাদের শিক্ষাগ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য বিনামুল্যে পাঠ্যবই এবং টিফিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। করোনার কারণে অনেক অভিভাবক কাজ হারিয়েছে। তাদের পেটের খাবার যোগাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। সেখানে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের কথা চিন্তা করা কতোটা যুক্তিযুক্ত! এরপর আসি জাতীয় সম্প্রচারে প্রচারিত শিক্ষা পদ্ধতি। বাংলাদেশের সব এলাকা থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশন দেখা যায় না। যদিওবা দেখা যায়, সেখানে অবশ্যই সকলের ঘরে ঘরে টেলিভিশন থাকতে হবে।

ঢাকা শহরে রয়েছে অনেক ছিন্নমুল বা পথশিশু শিক্ষা কার্যক্রম। রাস্তায় বা বস্তিতে বেড়ে ওঠা শিশুদের অনেক এনজিও এবং সেচ্ছাসেবীরা স্কুল পরিচালনা করে। মাথার উপর যাদের ছাদ নেই এ সব শিশুদের কাছে অনলাইন শিক্ষা বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

ফলে দীর্ঘদিন শিক্ষাহীনতা তাদের মধ্যে হাতাশার জন্ম দিচ্ছে। ফলে দিন দিন বেড়েই চলেছে শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ। এরই ধারাবাহিকতায় অধিকাংশ দরিদ্রশ্রেনীর পরিবার তাদের শিশুদের পুরোপুরি কাজে নিয়োজিত করে দিচ্ছেন। মাধ্যমিক পড়া মেয়ে শিক্ষার্থীদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। ছেলে শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে কাজে যোগদান করানো হচ্ছে। ফলে অনেক শিশু ঝরে পড়ছে। আবার অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা বাদ দিয়ে পরিবারের হাল ধরতে চাকরিতে যোগদান করছে। ফলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা হারিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া ‘শিক্ষা না জীবন’ এই প্রশ্নটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে সবার সামনে আসছে। ইতিহাসের পাতা হাতড়ালে আমরা দেখতে পাই, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও সময় দীর্ঘদিনের জন্য বহুদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থবির ছিলো। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও দীর্ঘদিন দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এখানে জীবনটাই মুখ্য ছিলো, শিক্ষা নয়। বর্তমান সময়ে দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত পরিষেবার অবস্থা মোটেই স্বাস্থ্যবান্ধব নয়। আবাসিক হল সমুহের সিট বন্টন ব্যবস্থা, হলের ডাইনিং-ক্যান্টিনের পরিস্থিতি মোটেই করোনা মোকাবেলায় বর্ণিত স্বাস্থ্যবিধি সমতুল্য নয়। হল সমুহে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখাটা অসম্ভব প্রায়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আমরা জীবনটাকেই বহুলাংশে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছি। বিপণি বিতানে, গণপরিবহনে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোথাও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পারিনি। যার ফলে প্রতিনিয়ত করোনা সংক্রমন বেড়েই চলছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলছে। এমনই এক সংকটময় পরিস্থিতিকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত মোটেই যুক্তিযুক্ত নয় বলে অনেক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

(www.theoffnews.com - online class corona Bangladesh)

প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র, লেখক, কালনা, পূূর্ব বর্ধমান:

প্রায় কেজি ৩ ওজনের একটি জল ঢোরা সাপ ওদের সন্ধ্যার সুখ নষ্ট করল। যদিও এই সাপের বিষ নেই, নেই ফনা। তবুও তো সাপ বলে কথা। আর সাপ শুনলেই বিশ্ববাসীর একটা আতঙ্ক লেগেই থাকে চোখে মুখে। 

গতকাল সন্ধ্যায়, আমি তখন একটু কাজে ব্যস্ত। হঠাৎই মোবাইলের রিং বেজে উঠল। মোবাইল পকেট থেকে বের করে দেখি কন্যার নাম ভেসে উঠেছে মোবাইলের স্ক্রিনে। যতই কাজ থাকুক, কন্যার ডাকে সাড়া দিতেই হলো, বলল বাপি দরজা দিয়ে একটা সাপ ঢুকেছে ঘরের মধ্যে। কি সাপ আমি জিজ্ঞাসা করায় বলল হয়ত ঢোরা সাপ হবে। আমাদের খুব ভয় করছে । 

সত্যিই তো সাপ দেখলে আতঙ্ক কার না হয়। এই সময় আমি একটি ছেলেকে বাড়িতে পাঠিয়েছিলাম। সে ঘর থেকে সাপটিকে বের করে ফিরে এসে বলল বিরাট একটা সাপ। খুব ভয় লাগছিল, তবে মনে হলো চলে গেলো। 

আমি তাঁকে বললাম ভাই এখন আর ভয় করছে না তো? একটু জল খা আর চোখে মুখে একটু জল দে। নয়ত তোকে দেখে যা মনে হচ্ছে এখনই যেন হার্ট ফেল করবি। 

এরপর আবার ফোন (এবার গিন্নির) বেশ ঝাঁঝিয়েই। 

- কোথায় আছো? তাড়াতাড়ি এসো। সাপটা আমার দিকে তাকিয়ে বসে আছে। 

আমি মনে মনে হাসলাম এই ভেবে যে সাপ কি বসতে পারে? কি জানি?

ভাবলাম যদি তোমায়  ঠিক ঠাক জানে তাহলে আর যাই হোক তোমার দিকে তাকাবে না, বরং ভয়ে পালাবে। 

যাই হোক বাড়ি ফিরে দেখি ঢোরা মহারাজ একটি বড় ব্যাঙ খেয়ে চুপচাপ দরজার পাশে রাখা একটি টবের পাশে গুটিয়ে শুয়ে আছে। এদিকে রাস্তায় লোকে লোকারণ্য (তাদের কেউ আবার এক পাও এগুচ্ছেন না)। এদিকে আমার বয়স্ক পিতা মহোদয় একটি বাঁশ নিয়ে চেষ্টা করছেন সাপটিকে সরাতে। আমায় দেখে তিনিও বললেন- "সাপটা কি মেরে ফেলব বাবা?"

আমি বললাম কেন মারবে? ও তো কোন ক্ষতি করেনি। তাছাড়া এদের তো বিষ নেই।

যাই হোক এই সময় কন্যাও বলল- "আহা মারবে কেন দাদু? মেরে কি লাভ? ওরও তো প্রাণ আছে।"

আমার তো বেশ ভালো লাগলো কন্যার কথা শুনে। আমি মনে শক্তি পেলাম। ভাবলাম আর যাই হোক কিছু ভালো শিক্ষাও আমার কন্যা অর্জন করেছে এই মানব সমাজের অবক্ষয়ের সময়কালে। এটাই আমার বড় প্রাপ্তি। এখন ওর বয়স মাত্র ১২ বছর। ভাবলাম এই দয়া, মায়া, সহানুভূতিটা সারাজীবন থাকলেই ও প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠবে। পিতৃহৃদয় যে সেটাই চায়। 

যাই হোক এরপর অনেক কষ্টে লাঠি দিয়ে সাপটিকে পাশের ড্রেনে আমি সরাতে সক্ষম হলাম। 

সকলের আতঙ্ক কাটলো। চোখে মুখে প্রশান্তির ছাপ 

আমিও যুদ্ধ জয়ের আনন্দ পেলাম। মেয়ের অনুপ্রেরণায়। 

(www.theoffnews.com father daughter wife snake children)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি রাজ্যের এক শিশু জন্ম নিয়েই ইতিহাস রচনা করেছে। দীর্ঘ ২৮ বছর কন্যা শিশুটিকে ভ্রূণ অবস্থাতেই জমাট রাখা হয়েছিল। ১৯৯২ সালের অক্টোবর মাসে থেকে। তারপর ২৯ বছর বয়সী এক মার্কিন তরুণী টিনা গিভসনের গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয় এ বছরেই।

সবশেষ গেলো ২৬ অক্টোবর তার গর্ভেই পূর্ণতা লাভ করে জন্ম নেয় শিশুটি। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে মলি গিভসন।

জানা গেছে, এতো পুরোনো ভ্রূণ প্রথমবার সফলভাবে মাতৃদেহে বেড়ে উঠে জন্মলাভ করলো। অবাক করা ব্যাপার হলো শিশুটির জন্মদাত্রী টিনা জন্মেছিলেন মলিকে ভ্রূণ অবস্থায় সংরক্ষণ রাখায় মাত্র ১৮ মাস আগে।   

এটি সহজে ভুলে থাকার মতো বিষয় নয়। কিন্তু, আমাদের কাছে মলি হলো ছোট বিস্ময়কর সোনামণিটি। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এভাবেই বলছিলেন টিনা।

এর আগে ২৪ বছর বয়সী এক ভ্রূণ থেকে ২০১৭ সালে এমা ওয়ারেন গিভসন নামের এক শিশুর জন্ম হয়। এমা আসলে মলির বড় বোন। অর্থাৎ, একই মা জন্ম দিয়েছেন সবচেয়ে বয়সী দুই শিশুকে! যা পৃথিবীর আর কোথাও ঘটেছে কিনা জানা যায়নি।

বাস্তবের প্রয়োজনীয়তা গিভসন পরিবারকে এভাবে শিশু জন্মদানে বাধ্য করে। কারণ হলো স্বামী-স্ত্রী'র একক পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই অনুর্বরতার কারণে সন্তান জন্মদানে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। ঠিক এমন সময়ে দুটি জমাট ভ্রূণের কথা জানতে পারেন তারা।

আরও একটি বিষয় হলো বাস্তবেও ভ্রূণ দুটি ছিল দুই বোন। মলি ও এমার প্রকৃত পিতামাতাই ওদের দান করেন নিঃসন্তান দম্পত্তিদের জন্য। গোপনীয়তার শর্ত থাকায় প্রকৃত মাতা-পিতার নাম গোপন রাখা হয়েছে।

(www.theoffnews.com - oldest new born baby world Bangladesh) 


মোনালিসা মুখোপাধ্যায়, ফিচার রাইটার, হুগলি:

মনের আকাশ কালো হলেও নামে স্মৃতির বৃষ্টি।  ফিরে যাই ছোটবেলায়। 

মাঝে মাঝেই আমার ছোটবেলা আমায় ডাকাডাকি করে।

"ওপারেতে বিষ্টি এল,

   ঝাপসা গাছপালা।

এপারেতে মেঘের মাথায়

   একশো মানিক জ্বালা।

বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে

    ছেলেবেলার গান—

বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,

  নদেয় এল বান"

জলছপছপ  পায়ে কেডস মোজা ভিজিয়ে স্কুলে আসা।

ছাতা না খুলে ইচ্ছে করে ভেজা। দু বিনুনি দুলিয়ে খোলা

আকাশের নীচে খুব করে ভিজে গোলগোল চোখে মেঘলা দিনের আনন্দ লুটেপুটে নেওয়া। 

স্কুলে সেদিন খুব কম জন আসত। তাই দিদিরা তিন সেকশন এক করে ক্লাস করে দিতেন। সেকশন আলাদা হয়ে যেতে যে বন্ধুরা আলাদা হয়ে যেত, তারা মিলেমিশে এক হতাম এই দিনে। ভিজে সবাইকে দিদিরা অনেক গল্প বলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটু অংক করিয়ে নিয়ে ভুতের গল্পের আবদার মেটাতেন।

তারপর হয়ে যেত রেনি ডে।

রিকশা করে নিতে আসত গোপাল কাকা। তাকে বলতাম আমি আজ বন্ধুদের সাথে যাব। তারপর অনেক রাস্তা হেঁটে অনেক ঘুরপথে বাড়ি যেতাম আমরা। আসেপাশের স্কুলের ছেলেমেয়েরাও ছুটি পেয়ে আমাদেরই মত মজাতে বাড়ি ফিরছে। সবার পা জলে ভিজে সাদা। ভিজে চুল ভিজে শাড়ি জামা সেটাই ছিল মজা। এত কনশাস কেউ ছিলাম না।

জল জমা মানেই পা ডুবিয়ে মজা। জল ছিটিয়ে পাশ দিয়ে ছুটে যেত লরি বাস।. ওই ছিটকে আসা জল গায়ে লাগলেই হইহট্টগোল করে হাসির ফোয়ারা। তখন তো জমা জলে লন্ডন না ভেনিস বলে রাজনীতির মানসিক দূষণ এসে ছোঁয়নি আমাদের ওই মন গুলোকে আর আশেপাশের মানুষগুলোকে। তারাও ডেকে বলত বাড়ি যা সব। কেউ বলত দাঁড়া তোদের বাড়িতে বলছি। ধুর কে শোনে কার কথা।

আমরা তখন  অন্য  সুরে সাধা 

"আমরা চঞ্চল আমরা অদ্ভুত" পাগলামি আর ভালোলাগা একসাথে নিয়ে পথ হাঁটতে থাকি। 

হাঁটতে হাঁটতে আজ অনেক দূর চলে এসেছি সেই মেয়েবেলা থেকে। এখন ছাতা নিয়ে জল ডিঙিয়ে সাবধানে পা ফেলি।

কখনো মন সাথ দেয় না মনে হয় -

"ছই ছাপা ছই, ছাপ্পা কে ছই" করে পা ডুবিয়ে জল ছিটিয়ে ফিরিয়ে আনি আমার ওই দিনগুলো। আজ কিছুটা সাধ মিটিয়েছি জল ছপ ছপ করে।

আর খুব মনে করেছি সেই সঙ্গী সাথীদের। মন জুড়ে আজ মনে করার বৃষ্টি। আমি ভিজে চলেছি। আর ভালোলাগার নৌকা ভাসিয়ে দিচ্ছি জলে...


 সজল বোস, সমাজকর্মী, দুর্গাপুর:

পৃথিবীর মধ্যে প্রতিনিয়ত যেসব ঘটনা ঘটে চলেছে সেই সংক্রান্ত আমাদের জ্ঞানের গন্ডি কতদূর তা হয়তো আমরা জানিনা, তবে প্রতিদিনই নতুন করে জানছি আর শিখছি সমস্ত আশ্চর্যের ঘটনা। এমন প্রচুর ঘটনা আছে যা সকলের কাছেই অমীমাংসিত। পৃথিবীর ধর্মই হচ্ছে রহস্য সৃষ্টি করা। পৃথিবীর বুকে প্রতিনিয়ত যেসব অজানা ঘটনা ঘটে চলেছে তার হদিশ কখনো পায়, আবার কখনো না, কখনো তা সমাধান হয় কখনো থেকে যায় অসমাপ্ত। তবু সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার থেকে অনেক রহস্যময় বা অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হতে পারি। এরকম এক ঘটনা কথা তুলে ধরতে চলেছি আপনাদের সামনে।

একটু পিছনে ফিরে যাওয়া যাক। সালটা ২০০৯,  তখন একটি খবর প্রকাশ পায় যে একটি তেরো বছরের ছেলে এক সন্তানের বাবা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছিল ব্রিটেনের ইস্ট সাসেক্স শহরের একটি অঞ্চলে। ওখানে শহরবাসী ও যারা এই ঘটনাটি শুনেছিলেন সকলেই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এই বয়সে ক্লাস এইট বা নাইনের ছাত্র, সদ্য বাল্য থেকে কিশোরে প্রবেশ করেছে, এই সময় খেলা পড়াশুনা বা টিভির পর্দায় কার্টুন দেখা কিংবা বাবা মায়ের সাথে চকলেট বা আইসক্রিম এর ঝোঁক ধরার বয়স। হয়তো নিদেনপক্ষে বড় জোড় বাই সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা অথবা নিজের মতো করে রঙ তুলির আঁচড়ে ছবি আঁকা। কিন্তু বাবা হওয়া সেটা যেন সত্যিই অবাক করার মতো। 

 ২০০৯ সালের পর প্রায় ১১ বছর কেটে গেছে। সম্প্রতি আবার এই পুরনো ঘটনাটি মিডিয়া পাড়ার চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অল্প বয়সী ছেলেটি কি করে বাবা হলো সেই গল্পই ঘুরে ফিরে আসছে।

রীতিমতো এক কন্যা সন্তানের বাবা এই ১৩ বছরের বাচ্চা ছেলেটি। এই ১৩ বছর বয়সের ছেলে তথা বাবার নাম এলফি। পাশ্চাত্য এক ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা প্রথম এই খবরটি প্রকাশ্যে আনেন। *Dad at 13* শিরোনামে এই খবরটি ছাপা হয়েছিল। আর বড় দিনের হট কেকের মতো মানুষের উৎসাহ ছিলো এই বিষয়ে।  অনেকের কাছে এটি অবিশ্বাস্য ঠেকলেও এটাই সত্য।

যে ছবিটি পুনরায় ভাইরাল হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে সেখানে সে একটি শিশুকে কোলে নিয়ে বসে রয়েছে। সূত্রে খবর এলফির বয়স যখন ১২ তখন সে ১৫ বছর বয়সী এক মেয়ের প্রেমে পড়ে। প্রেম পর্ব শুরুর এক বছর পরে এই কন্যা সন্তানের বাবা হয় তিনি। তখনো এবং এখনও এই ছবির জন্য তিনি সকলের চর্চার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছেন।

৪ফুট ৪ইঞ্চির স্কুলবয় তার পিতা বলে জানা গেছে তার ১৫ বছর বয়সী বান্ধবী চ্যান্টেল স্টেডম্যান মাইসির জন্ম দেওয়ার পরে।

সাথীরা তাকে পিঠে চড় মারছিল কিন্তু নেতিবাচক দিকটি ছিল আলফির মা নিকোলা যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে খারাপ অভিভাবক হিসাবে লম্পট হয়ে উঠল।

এখন, তিনি কীভাবে হঠাৎ করে তার পুত্রটি দেশের সংবাদপত্রগুলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা "মুখ" হয়ে উঠলেন সে সম্পর্কে সরাসরি রেকর্ড গড়তে চান।

ডিএনএ পরীক্ষার পরেও প্রমাণিত হয়েছিল যে অ্যালফি বাবা নন, পরিবারের পক্ষে সাধারণ জীবনের মতো কিছু ফিরে পেতে কিছুটা সময় নিয়েছিল। 

৪৫ বছরের নিকোলা তার বিখ্যাত ছেলের কথা বলেছিলেন, তিনি স্মরণ করেছিলেন “আমাদের জীবন উল্টে পাল্টে গিয়েছিল। বিশ্ব আশ্চর্য হয়েছিল যে কেন আমি জানতে পারি না যে আমার ছোট ছেলেটি যৌন মিলন করছিল এবং আরও খারাপ ছিল, সে কীভাবে একটি মেয়েকে গর্ভবতী করতে পারে?

আর ছেলে অ্যালফি বলেছেন: “এত অল্প বয়সে সেক্স করা আমার জীবনকে নষ্ট করে দেয়।'' 

"এটি আমার মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল এবং এটি আমাকে সত্যিই প্রভাবিত করেছিল।

তখন যখন আমি ভেবেছিলাম বাচ্চাটি আমার, তখন আমার সেই সুখ ফিরে পেয়েছিলাম 

আমার বাচ্চা হওয়াতে  আমার জীবনে কী ঘটবে তা জানার সময় আমি যে ভয় পেয়েছিলাম।

“এই বাচ্চাগুলি বাচ্চা হওয়া নিয়ে উত্তেজিত হতে পারে তবে তারা কী বুঝতে পারে না

এটি আপনার জীবনকে পুরোপুরি পরিবর্তন করে দেয়। 

আলফি চ্যান্টেলের সাথে দেখা হয়েছিল ২০০৮ সালে প্রাচ্যের রাস্তায় খেলার সময়

লোয়ার ডিকারের ইস্ট সাসেক্স শহরাঞ্চল, যেখানে তারা দুজনেই থাকত।

তাঁর মা নিকোলা বলেছেন: “ওরা খুব কাছে ছিল। তবে আলফির মনে হয়নি

মেয়েদের প্রতি অনেক আগ্রহ তাই আমি তাদের একে অপরের বাড়িতে ঘুমোতে দিতে।

তবে যাই হোক আজ এটা ভাবতেই হবে, শরীরবৃত্তীয় রসায়ন আর প্রকৃতির দেওয়া অনুভূতির ফলে শৈশব বয়সের এই ভুল যে ভবিষ্যৎ জীবনে অনেক বড় ক্ষতি করে দেয় তা আমরা সর্বদা টের পাচ্ছি, তাই সাধু সাবধান, চোখে চোখে রাখুন, আর সতর্ক থাকুন যাতে সময়ের আগে শৈশব যেন যৌবনের পালতোলা নৌকা বাইতে না পারে। আসুন সুস্থ্য ও স্বাভাবিক সমাজ গঠনে একাত্ম হই।