Articles by "রূপসী বাংলা"
Showing posts with label রূপসী বাংলা. Show all posts


পলাশ মুখোপাধ্যায়, সিনিয়র জার্নালিস্ট, কলকাতা: 

বইমেলায় উপছে পড়া ভিড়, এদিকে শুনশান রাজ্যের গ্রন্থাগারগুলি। বাঙালি কি বই পড়তে চায় না আর?

সে একটা সময় ছিল, যখন দুপুর হলেই গমগম করতো পাড়ার গ্রন্থাগারগুলি। নানান বয়সের নানান মানুষের ভিড় তখন গ্রন্থাগারে। কেউ কমিক্স পড়ছে, কেউ পড়ছেন খবরের কাগজ, কেউ আবার সাময়িক পত্রিকা, কারও হাতে দেখা যেত গল্প বা উপন্যাসের বই। কিন্তু ধীরে ধীরে ছবিটা বদলেছে। পাড়ার গ্রন্থাগারগুলির এখন করুণ দশা। ক্রমশ কমে এসেছে পাঠক। তরুণ সমাজের হাতে বই এর বদলে উঠে এসেছে মোবাইল। তাই তো লাইব্রেরি এখন ব্রাত্য। বই পড়ার অভ্যাস কিন্তু কমে যাচ্ছে। বইমেলায় যখন উপচে পড়ে ভিড়, তখন মেলা বই মেলে যেখানে সেই গ্রন্থাগার কিন্তু শুনশান থাকে বছরভর। এখন অবশ্য বই পড়া যায় মোবাইলে অনেকে সেখান থেকেও পড়েন। কিন্তু গ্রন্থাগারে যেমন হাতের কাছেই বিভিন্ন বই চটজলদি মেলে, বিস্তৃত পরিসরে বই পড়ার মজা কি ওই ছোট্ট গ্যাজেটে মেলে? একটা সময় পাড়ার মহিলারা প্রচুর বই পড়তেন অবসর সময়ে, এখন সেই জায়গা অনেকটাই দখল করে নিয়েছে টিভির সিরিয়াল। এখন ২৪ ঘন্টা ধরেই নানান অনুষ্ঠান চলে টিভিতে। চালিয়ে রেখেই কাজ সারেন অনেকে। বই পড়তে গেলে সেখানেই মনোনিবেশ করতে হয়। তাই বইয়ের প্রতি ভালবাসা সেখান থেকেই কমেছে। এমন নানান কারণ, ক্রমশ বই পড়ুয়া বাঙালিকে বই বিমুখ করে তুলছে বলে অনেকের ধারণা। 

কিন্তু ঠিক কেন এমন হাল, মানুষ কি সত্যিই বই থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন? বাঙালি এখন পড়তে ভালবাসে না? কথাটা কিছুটা ঠিক হলেও পুরোপুরি কিন্তু নয়। বাঙালির গ্রন্থাগার বিমুখতার পিছনে সরকারের অবদানও কম নয়। চলুন তাহলে একটু তলিয়ে দেখা যাক ব্যাপারটা। 

সমাজ গড়ার কারিগর হিসাবে যেমন স্কুল ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবদান থাকে ঠিক তেমনই একজন পড়ুয়ার ছাত্রাবস্থায় গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা ঠিক ততটাই ৷ কিন্তু সেই সব সরকারি গ্রন্থাগারের অধিকাংশতেই ঝাঁপ খোলার কর্মী নেই এখন। রাজ্যের পালা বদলের পর দীর্ঘ এগারো বছর যাবৎ সেই অর্থে কোনও সরকারি গ্রন্থাগারে স্থায়ী পদের লোক নিয়োগ হয়নি। জেলা থেকে শুরু করে স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও গ্রন্থাগারের শূন্য পদ পূরণ হয়নি। এসএসসি-র মাধ্যমে মাত্র দু'বার নামমাত্র নিয়োগ হয়েছে। মাদ্রাসা লাইব্রেরির ছবিও একই। দ্রুত কর্মী নিয়োগ করে গ্রন্থাগারগুলোর হাল ফেরাতে দাবি জানিয়েছে গ্রন্থাগারিকদের সংগঠন। পশ্চিমবঙ্গ সাধারণ গ্রন্থাগার কর্মী সমিতির রাজ্য সম্পাদক সৌগত সাহার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল রাজ্যের গ্রন্থাগারগুলির বর্তমান হালহকিকত। এক সময় পশ্চিমবঙ্গের গ্রন্থাগার ব্যবস্থা ছিল ভারতের মধ্যে সেরা। গ্রন্থাগার নির্ভর লেখাপড়ায় যথেষ্ট জোর দেওয়া হতো। কিন্তু বছর কুড়ি ধরে ক্রমেই নিম্নমুখী হয়েছে সাধারণের গ্রন্থাগার ব্যবস্থা। নতুন করে নিয়োগ হয়নি বললেই চলে। ৫৫২০ মোট পদ রাজ্যে তার মধ্যে ২০২২ পর্যন্ত ৪১৭৭ পদ শূন্য। তারপর আরও খালি হয়েছে। আর নিয়োগ হয়েছে ৭৩২ জন। তার মধ্যে চার জেলাতে পরীক্ষা হলেও নিয়োগ হয়নি। সম্প্রতি সামান্য কিছু কর্মী নিয়োগ হয়েছে বটে তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য। সরকারের কর্তাব্যক্তিদের মুখে প্রায়শই অজুহাত শোনা যায়, লাইব্রেরিতে পাঠকরা আসে না তাই লাইব্রেরিতে নিয়োগ করা হচ্ছে না। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে লাইব্রেরি খুললে পাঠকরা আসেন। লাইব্রেরি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বা অনিয়মিত খোলা হলে পাঠকরা আসবেন না এটাই স্বাভাবিক।

পশ্চিমবঙ্গে ২৩টি জেলা মিলিয়ে সরকারি গ্রন্থাগার রয়েছে ১৩টি, ২৪৬৭টি সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত সাধারণ গ্রন্থাগার রয়েছে। ১৩টি সরকারি গ্রন্থাগারের অনুমোদিত ১৬৪টি পদের মধ্যে ৮০টি শূন্যপদ। ২৪৬৭টি সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত সাধারণ গ্রন্থাগারের অনুমোদিত ৫৫২০টি পদের মধ্যে ৪২০০টি শূন্যপদ। সরকারি সূত্রে বিভিন্ন জেলাগুলিতে কর্মীর অভাবে ৩৯২টি বন্ধ গ্রন্থাগারের কথা বলা হলেও যেভাবে প্রতিদিন কর্মীদের অবসরের সঙ্গে সঙ্গে শূন্যপদ তৈরি হচ্ছে তাতে প্রায় ৮৫ শতাংশ শূন্যপদ। বাস্তবে ১৩০০ গ্রন্থাগার বন্ধ। 

সরকারি স্কুল, কলেজগুলোর লাইব্রেরিতেও নিয়োগ করছে না সরকার। ফলে কর্মীর অভাবে লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে পড়তে পারেন না বহু পড়ুয়া। কর্মী না থাকা এবং লাইব্রেরি বন্ধ রাখার অজুহাতে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে বই কেনার টাকাও অনেক ক্ষেত্রেই দিচ্ছে না সরকার। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়মিত দরকার হয় লাইব্রেরি। সুতরাং লাইব্রেরিতে পাঠক আসে না সরকারের এই যুক্তি খাটে না। 

রাজ্যের এমনই এক গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক কুতুবউদ্দীন মণ্ডল। উত্তর ২৪ পরগনার দুটি গ্রন্থাগারের দায়িত্ব আছেন তিনি। তার কাছ থেকে যা জানা গেল তা আরও দুশ্চিন্তার। গ্রন্থাগারগুলিতে গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক মিলিয়ে ওই সংখ্যার দ্বিগুণ থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা পঞ্চাশ শতাংশেরও অনেক কম। স্বাভাবিক ভাবেই কর্মীর অভাবে অধিকাংশ গ্রন্থাগারে তালা ঝুলছে। অধিকাংশ গ্রন্থাগারে ‌পঠনপাঠন ও বই নেওয়া-দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ। কিছু গ্রন্থাগারে অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও কমিটির লোক মিলে সপ্তাহে কয়েক দিন কয়েক ঘণ্টার জন্য গ্রন্থাগার খুলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে অবশ্য। কিন্তু সপ্তাহে প্রতি দিন পূর্ণ সময়ের জন্য খুলে না রাখার‌ ফলে গ্রন্থাগারে পাঠক আসা ও বই নেওয়া-দেওয়া কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। অথচ, সরকারের এই নিয়ে কোনও হেলদোল নেই। অধিকাংশ জায়গাতে আবার একেকজন গ্রন্থাগার কর্মীর ওপর একাধিক গ্রন্থাগারের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই গ্রন্থাগারিক পালা করে সেই গ্রন্থাগারগুলি খোলেন। ফলে সপ্তাহে একদিন বা দু’দিন করে খোলা থাকে সেই সব গ্রন্থাগার। পাঠকরা চাইলেও লাইব্রেরিতে যাওয়ার সুযোগ নেই। এর ফলে চালু গ্রন্থাগারগুলিকেও বাস্তবে অচল করে দেওয়া হচ্ছে। একই অভিযোগ পাঠকদেরও, উত্তর ২৪ পরগনার দোগাছিয়ায় এক গ্রন্থাগারে নিয়মিত আসেন পাঠক শ্রীনাথ ঘোষ, মৌমিতা চক্রবর্তী, অঙ্কিতা চক্রবর্তী প্রমুখরা। আজকের এই মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও বই পড়তে ভালবাসেন তারা। কিন্তু গ্রন্থাগার রোজ খোলা না থাকায় বা অনিয়মিত খোলার ফলে তাদেরও ইচ্ছে হলেই আসার উপায় নেই। গ্রন্থাগারিক কুতুবউউদীনের দায়িত্ব দুটি গ্রন্থাগার, তাই তাঁকে একটি বন্ধ রেখেই অন্যটি খুলতে যেতে হয়।

বই কেনা সহ গ্রন্থাগার পরিচালনার বিভিন্ন কাজের জন্য গ্রন্থাগার-পিছু‌ সরকার থেকে সাড়ে উনত্রিশ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। শহর বা গ্রামের গ্রন্থাগারের নিরিখে এই অঙ্কটা কম বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু খুব বেশি তারতম্য নেই। বইয়ের মূল্য বর্তমানে আকাশছোঁয়া হলেও সরকার থেকে বই কেনার অনুদান এক‌ টাকাও বাড়ানো হয়নি। বাড়ানো হয়নি গ্রন্থাগারের রক্ষণাবেক্ষণের খরচও। গ্রন্থাগারে বিভিন্ন মনীষীদের জন্মদিন পালন ও অনুষ্ঠান করার জন্য ১২০০ টাকা করে অনুষ্ঠান পিছু ‌দেওয়া হত। তাতে যেমন এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে সংস্কৃতি চর্চা করা যেত, তেমনই গ্রন্থাগারে বইপ্রেমী‌রা আসার‌ একটা সুযোগ পেতেন। করোনাকালীন অবস্থার পরে তা-ও বন্ধ করে দেওয়া ‌হয়েছে। রাজ্য সরকারের খেলা, মেলা, পুজোয় অনুদান দেওয়ার সময় অর্থের অভাব পড়ে না, মন্দির গড়তে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে পিছপা হয় না। কিন্তু গ্রন্থাগারগুলিতে কর্মী নিয়োগের‌‌ বেলায় এত টালবাহানা কেন? কেন গ্রন্থাগারগুলি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে না রাজ্য সরকার? সরকার কি চায় না বইপ্রেমীরা গ্রন্থাগারে নিয়মিত আসুন, তাঁদের মধ্যে পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠুক? পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও আরও উদ্যোগী হতে হবে, ভিড় করতে হবে গ্রন্থাগারগুলিতে। সরকারকে জানাতে হবে গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তার কথা, মানুষের ইচ্ছা, উৎসাহ, ভালবাসাই সরকারকেও এদিকে মুখ ফেরাতে বাধ্য করবে। না হলে কিন্তু এভাবেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে আমাদের প্রিয় গ্রন্থাগারগুলি।

(www.theoffnews.com library book)


মোনালিসা মুখোপাধ্যায়, ফিচার রাইটার, হিন্দমোটর, হুগলি:

বাংলাদেশে কোনও কালে বা এখন কোনও বিহারী হিন্দুদের তাড়ায়নি,কাশ্মীরে কোনও হিন্দিভাষী লোক হিন্দু-শুন্য কাশ্মীর করার ডাক দেয়নি। মসজিদ থেকে ভেসে এসেছিল হিংস্র  আওয়াজ - 

"রা.লিভ, গা.লিভ ইয়া চা.লিভ।"

হয় ধর্মান্তরিত হও নইলে মরো। তার পরের ইতিহাস অনেকের জানা। যারা জানেন না তারা পড়ে নেবেন। যদি কিছু তার থেকে শিক্ষা নেন। 

বিহারী, গুজরাটী, পঞ্জাবী, মারাঠি এসব করে আর আহম্মকপনা করবেন। এখনও যদি হুঁশ না ফেরে তাহলে নিজের জুতো নিজের গালে মেরে বাস্তবে ফিরুন।

দু'দিন কাশ্মীর গিয়ে গলে পড়েন। আহা কি মৈত্রী তাই না? ছিলাম শ্রীনগর ৬ মাস ওদের আসল রূপ দেখেছি দুই একজন ছাড়া। সে গল্প আরেকদিন হবে।

আপনারা ঠেকুয়া নিয়ে খিল্লি করে জাকারিয়া চলে যান ইফতারি খেতে। রক্তে জল আছে কিনা চেক করুন। আপনার এই ঈদের সিমুই প্রীতি ছটের ঠেকুয়াতে দেখা যায় না কেন? কে হয় একাংশের চাচারা? 

আজকাল তো বাঙালীও কম গুটখা খায় না।  এমনকি মেয়েরাও। হিন্দি গান ছাড়া আপনার চলে না। অথচ ছটে আপনার অচ্ছুৎ মার্গ স্পষ্ট হয়। আপনি সম্মান না করলে পাবেন না। না পেলেই বলবেন এ খারাপ, ও খারাপ।

গর্গ নামক মহান ব্যক্তিকে অনুরোধ করব রাজা বাজার বা মিটিয়া বুরুজ গিয়ে বলুন বাংলা বলরে। সবাই বিহারী, ইউপি ভাষী বিশেষ সম্প্রদায়ের।  আপনার বাতেলার ভুনা বানিয়ে চুনা লাগিয়ে দেবে।আপনার যত নেত্ত হিন্দু বিহারী নিয়ে। আমি নিজে ওখানে কোনও এক সম্প্রদায়ের দোকানে বাংলা বলে দেখেছিলাম দোকানী বুক ফুলিয়ে বলছে -

"হিন্দী মে বলিয়ে, বাংলা মুঝে মালুম নেহি।" সেখানে কাংলাপক্ষ কোনও ছেড়খানি করে দেখুক। বুঝব মায়ের দুধ খেয়েছে। আসলে মশাই আপনি নিজেই একজন তৃতীয় শ্রেণির নির্লজ্জ জাতি বিদ্বেষী।

কোনও বিহারীকে দেখিনি আমাদের কোনও পুজো বা আচার অনুষ্ঠান নিয়ে খিল্লি করতে। আমি তাদের সাথে মিশি ভক্তি ভরে তারা, প্রসাদ নেয়। অন্য একটি সম্প্রদায়ের মত বলে না, মূর্তি পুজো হারাম বা অন্য ধর্মের উপাসনা সঠিক নয়। সেই হারাম বলা মানুষের পা চাটবেন অথচ আপনার প্রতিবেশী তার মতো রীতি রেওয়াজ মানলে আপনার বুক ফাটে। 

জন্মদিনে পায়েসের বদলে কেক কাটতে বিবেকে লাগে না? জিন্স টপ পরে মনে হয় না এটা বাঙালি কালচার নয়? 

"আত্মঘাতী বাঙালী" নামটা এমনি হয়নি। বাংলাদেশ দেখেও আপনারা শোধরাননি এতটুকু। এখনও অত্যাচার চলছে সেখানে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দৌলতে আপনি আজও পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করতে পারছেন। নাহলে ওই হাল হতো আপনার আমার।

শুধরে যান। আপনার পিরীতের জন্য আমরা এপারে বলি হবো। আপনি আবার হয়ত রাজু থেকে রাজ্জাক হয়ে যাবেন। মেকি-সম্প্রীতি-খোর হিসেবে ।কিন্তু সবাই তা নয়। তারা নয় মরবে না হয় আত্মপক্ষের সদর্থক সমর্থনে তীব্র প্রতিরোধ করবে। নিজেদের ঘরে সিঁদ নিজেরা কাটছেন এক শ্রেণির বাঙালী। আপনার ছেলে মেয়ে ভারতের সব জায়গায় চাকরি করে। সেখান থেকে বাঙালী বলে লাথ মারলে দারুণ হবে কি? আপনি বলতে আমি এখানে সেই নাটুকে বাঙালীকে বলছি যাদের ঈদের সিমুইতে খিচুড়ি ভোগ মিশে বেহাগের সুর তোলে। এক বৃন্তে ফোটে তারা। অথচ শুধু ঠেকুয়ায় অ্যালার্জি হয় তাদের।

আপনার আচার আপনি পালন করুন, সবাই তার মতো করুক। কারোর নিয়ে এতো মস্করা করার কিছু নেই।

শেষে বলি ধার করা হিন্দি কথা। বোঝার হলে বুঝুন না হলে সিরিয়াল দেখুন। 

"অগর বাঁটোগে তো কাটোগে"

সবার সুমতি হোক। বাস্তবে ফিরুক বাঙালী। আর হ্যাঁ আর একটা কথা, মেকি-বিপ্লবী-সম্প্রীতি-খোর হয়ে সমাজে বসবাস করে নগ্ন খিল্লি করা বন্ধ করুন, প্লিজ।

(www.theoffnews.com fake secularism com munalism)


রণজিৎ গুহ, লেখক ও সমাজকর্মী, দুর্গাপুর:

(লেখক একজন গর্বিত প্রাক্তন ইস্পাত কর্মী)

সত্যি বলতে কি বাঙালিয়ানায় সৌজন্য সম্ভাষণ হিসাবে সকাল সন্ধ্যায় কোনও দিনই এইসব সুপ্রভাত শুভসন্ধ্যা ইত্যাদির চল নেই। ইংরেজদের সম্ভাষণের অযথা অনুসরণ এবং অনুবাদ। দেখতে দেখতে গুড মর্নিং শব্দটা অবশ্য বাংলা ভাষায় অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে ফেলেছে প্রায়। সেরকম তো হয়ই।

অন্য দিকে 'নমস্কার' শব্দটা সময়কাল নিরপেক্ষ এবং চমৎকার ভাবে বহুমাত্রিক। আবাহন আপ্যায়ন প্রত্যাখ্যান কিংবা বিদায় সম্ভাষণ সবেতেই চলে। সৌজন্যে ভরপুর। আর অবশ্যই বাঙালিয়ানায় পুরোপুরি সিদ্ধ।

তবে আনুষ্ঠানিকতার বাইরে একান্ত বাঙালি ঢঙে 'কেমন আছো?' 'কি খবর?' ইত্যাদির ডাক খোঁজ সখ্যতা জোরদার করে পরিচিতজনের নৈকট্য বাড়ায়। বিদায় কালে 'আসি' বা 'চলি'  'শুভ রাত্রি' র চেয়ে কিছু কম আন্তরিক নয়।

তাই আমার মনে হয় বাঙালিয়ানা দেখাতে ইংরেজ অনুকরণে শুভ দুপুর শুভ বিকেল জানানোর দরকারই নেই। ধ্রুপদী বাংলা ভাষা বাঙালিয়ানার একটা জরুরি অঙ্গ। বাঙালিয়ানার অন্যান্য লক্ষ্মণ ও শর্তগুলো অবহেলা উপেক্ষা করলে ভাষার ওপর দরদ ও আগ্রহ কিন্তু কমে যেতে পারে। সংস্কৃত ভাষার মতই সাহিত্যের জোরে বাংলাও বিনোদন ও গবেষণার জন্য হয়তো টিকে থাকবে। বাঙালিয়ানা না থাকলে বাংলা ভাষা সজীব নাও থাকতে পারে।

সাধু সাবধান।

(www.theoffnews.com welcome)


পলাশ মুখোপাধ্যায়, সিনিয়র জার্নালিস্ট, কলকাতা:

জাতীয় সড়ক হোক বা পাড়ার সরু গলি সব ক্ষেত্রেই তাদের অবাধ বিচরণ। এর ফলে দেখা দিচ্ছে যানজট, সমস্যা বাড়ছে টোটোর দৌরাত্ম্যের কারণে। বছর পনেরো আগে যখন টোটো আসে এ রাজ্যে, তখন ভাবা হয়েছিল দূষণহীন এবং শব্দহীন যান, হাওয়া বাতাস খেলে, ভ্যান রিকশার চেয়ে তাড়াতাড়ি যায়, এ বেশ ভালই হয়েছে। কিন্তু পনেরো বছর পরে এখন সাধারণ মানুষের ত্রাহি ত্রাহি রব। কোনও জিনিস চাহিদার চেয়ে অতিমাত্রায় হয়ে গেলে যেমন উপকারের চেয়ে অপকারেই বেশি আসে, টোটোর অবস্থাও তাই হয়েছে। এক মাত্র কলকাতার বেশ কিছুটা অংশ ছাড়া এই মুহূর্তে রাজ্যের সর্বত্র দৌড়ে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার টোটো। রাস্তার উপরে, যেখানে সেখানে গজিয়ে উঠেছে বেআইনি টোটো স্ট্যান্ড। 

এ বার থেকে জাতীয় বা রাজ্য সড়কে চালানো যাবে না অটো রিক্সা বা টোটো। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে পরিবহণ দফতরের সচিব সৌমিত্র মোহন এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন। ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় অটো টোটো ছাড়াও ছিল পরিবহণ দফতরের অনুমোদনহীন তিন চাকার যান। অবৈধ অটো রিক্সা বা টোটো চালানোর ফলে জাতীয় বা রাজ্য সড়কে যানজট তৈরি হচ্ছে। তার প্রেক্ষিতেই এই বিজ্ঞপ্তি। এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছর পরেও কি ছবি পাল্টেছে বলে মনে হয়? উল্টে আরও শোচনীয় হয়েছে পরিস্থিতি। সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, এই ধরনের অবৈধ যান জাতীয় তথা রাজ্য সড়কে চলাচলের ফলে প্রতিদিন যানজট বাড়ছে। আর সেই যানজটের ফলেই বাড়ছে দুর্ঘটনা। সেই দুর্ঘটনা এড়াতেই এই নির্দেশনামা জারি করা হয়। রাজ্যের প্রায় প্রত্যেকটি বড় শহরে টোটোর দৌরাত্ম্যে যানজট তীব্র আকার নিয়েছে। বিশেষত, হাওড়া, শিলিগুড়ির মত বড় শহরে টোটোর বাড়বাড়ন্তের ফলে যানবাহনের গতি কমেছে। হাওড়ায় টোটোর দৌরাত্ম্য নিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব এবং নগরপালকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। গোটা বিষয়টি নিয়ে তিনি কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলাও করেছেন। অভিযোগ, শুধু হাওড়া শহরেই ২০ হাজারেরও বেশি লাইসেন্সহীন টোটো চলে। হাওড়া থেকে হাবড়া, এই সমস্যা এখন সর্বত্র। বিভিন্ন শহরের সব কটি বড় রাস্তায় টোটো চলায় পথচারীদেরও সমস্যা হচ্ছে। 

সম্প্রতি প্রবল গরমের সময় ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এসি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারকে। কিন্তু মাঠে নেমে কারণ খুঁজতে গিয়ে অবাক বিদ্যুৎ দফতরের কর্তারা। বিদ্যুৎ পর্ষদ সূত্রে খবর, অধিকাংশ সাবস্টেশনে রাত বাড়লেই বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হচ্ছে। নির্দিষ্ট এলাকায় ট্রান্সফর্মারগুলির যে ‘ক্যাপাসিটি’ বা ক্ষমতা রয়েছে, চাহিদা পেরিয়ে যাচ্ছে সেই সীমা। ফলে বিদ্যুৎ থাকছে না। আবার কোথাও বিকল হয়ে পড়ছে ট্রান্সফর্মারই। শুধু তা-ই নয়, পরিষেবা চালু থাকলেও ভোল্টেজ কম জেলার প্রায় সর্বত্র। ঘটনার কারণ সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে জেলার বিদ্যুৎকর্তারা একাধিক এলাকা পরিদর্শন করে। সেই পরিদর্শক দলটি দেখে এসি নয়, রাত বাড়লে ব্যাটারিচালিত টোটো চার্জে বসানো হচ্ছে। এ জন্য প্রচুর চাপ পড়ছে। লোডশেডিং এর আসল কারণ এটাই। 

রক্তবীজের মত টোটোর এই বাড়ন্তে চিন্তিত প্রশাসনও। টোটোর রমরমা আটকাতে সম্প্রতি রাজ্য সরকার আবার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবার কথা ভাবছে। ভাবা হচ্ছে টোটো চালানোর ক্ষেত্রে জোড় বিজোড় নীতি নেওয়া যায় কিনা। এছাড়াও এক ব্যক্তির নামে একাধিক টোটো কেনার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবা হয়েছে। গ্রামে গঞ্জে টোটো সাধারণ মানুষের যাতায়াতের একটা বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত সংখ্যাবৃদ্ধিকে না রোখা গেলে সেটা উপকারের চেয়ে অপকারই করবে বেশি। মানুষজনও বুঝছেন এখন হাড়ে হাড়ে। সরু গলি পথে চলা এখন বিপদজনক রীতিমত। জাতীয় সড়কে ভারি ভারি যানবাহনের সঙ্গে হালকা টোটোর চলাও দুর্ঘটনার আহ্বায়ক। অধিকাংশ বেআইনি কাজের মত এখানেও শাসক দলের প্রত্যক্ষ সমর্থন মিলছে। তাই টোটো চালকেরাও বেপরোয়া। সব মিলিয়ে এখনই রোধ করা না গেলে কিন্তু আগামী দিনে একটা ভয়াবহ সমস্যা হতে চলেছে এই টোটো।

(www.theoffnews.com Toto jam road problem)


পলাশ মুখোপাধ্যায়, সিনিয়র জার্নালিস্ট, কলকাতা:

সদ্য অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া লোকসভা ভোটের পরেই ফের বাড়তে চলেছে পন্যের দাম। সৌজন্যে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার। জাতীয় সড়কে বহুদিন ধরেই টোল আদায় করে কেন্দ্র। সেই টোল বেশ ভাল রকম মূল্যের। পন্যবাহী গাড়িগুলিকে বিপুল টাকা শুধু টোলই দিতে হয় গন্তব্যে পৌঁছতে। সেই মূল্যই পরোক্ষে চুকাতে হয় খুচরো ক্রেতাদের। কারণ পন্যের মূল্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় টোলের বাড়তি টাকাও। কেন্দ্রীয় সরকার তাই জাতীয় সড়ক ঠিকাঠাক রেখে আরও টোল প্লাজা নির্মানে বিপুল আগ্রহী। কলকাতা থেকে বম্বে রোড ধরে গেলে দেখা যাবে ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ে অন্তত কুড়িটা নতুন টোল প্লাজা নির্মাণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ বিনা পয়সায় রাস্তা ব্যবহার করতে দিতে নারাজ কেন্দ্র। এখন তো শুনছি কেন্দ্র ভাবছে নতুন পদ্ধতি বা প্রযুক্তি আনার, যাতে এক কিলোমিটার পথ গেলেও টোল দিতে হবে আপনাকে। একটা উদাহরণ দিলেই বুঝতে পারা যায় যে শুধু ছোট গাড়িতে যাতায়াত করলেই কত টাকা টোল দিতে হয়। কলকাতা থেকে দুর্গাপুর ১৭৫ কিলোমিটার পথ, এই পথে শুধু গেলে ছোট গাড়িকে টোল দিতে হয় প্রায় তিনশো টাকা। পন্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে সেই টোলের পরিমান বেড়ে যায় দুই থেকে তিন গুন। বুঝতেই পারছেন কেন্দ্রীয় সরকার কেন টোল প্লাজা বাড়ানোতে উৎসাহী। 

এবার রাজ্য সরকারও সেই রাস্তায় হাঁটতে চলেছে। পূর্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার থেকে জাতীয় সড়কের মতো রাজ্য সড়কগুলিতেও টোল ট্যাক্স আদায় করা হবে। রাজ্যের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টোল ট্যাক্স আদায়ের পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। কিছু দিনের মধ্যেই রাজ্য সড়কগুলিতে শুরু হবে টোল আদায়। কোন সড়কে কত টাকা ট্যাক্স ধার্য হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে পূর্ত দফতর। তাদের দাবি এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের ফলে রাজ্যের কোষাগারে যেমন উপার্জন বাড়বে, তেমনই সংস্কারের জন্য নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে না। রাজ্যের অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকার গ্রাম সড়ক যোজনায় বন্ধ রেখেছে বরাদ্দ। এর ফলে মেরামতের জন্য খরচা করতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে। কিন্তু নবান্ন যদি গ্রাম সড়কের জন্য খরচা করে তাহলে রাজ্য সড়ক বা স্টেট হাইওয়ের রক্ষণাবেক্ষণ কোন টাকায় হবে? এই নিয়ে প্রচুর তর্ক-বিতর্কের পর অবশেষে নবান্ন ২৮টি টোল প্লাজা শুরু করতে চলেছে। এই ব্যাপারে আহ্বান করা হয়েছে দরপত্রের।

পূর্ত দপ্তর রাজ্যের যে ২৮টি জায়গার জন্য টোল প্লাজা খুলতে চেয়ে দরপত্র হেঁকেছে সেগুলি হল:

চণ্ডিতলা- শিয়াখালা-চাঁপাডাঙা রোড, সপ্তগ্রাম-ত্রিবেণী-কালনা-কাটোয়া রোড, ডানকুনি-চন্দননগর মগরা রোড, বর্ধমান-আরামবাগ রোড, বিষ্ণুপুর-কোতলপুর-আরামবাগ রোড, বনগাঁ-চাকদা রোড, বড়জোরা-মালিয়ারা-দুর্লভপুর রোড, বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রোড, বাঁকুড়া-শালতোড়া রোড, পুরুলিয়া-রাঁচি রোড, বাঁকুড়া-পুরুলিয়া রোড, মেদিনীপুর-কেশপুর-চন্দ্রকোণা টাউন রোড, কলকাতা-বাসন্তী রোড, বারাসত-বসিরহাট রোড, দমদম-লাউহাটি-হাড়োয়া রোড, ঘোজাডাঙা-সংগ্রামপুর রোড, 

সাঁইথিয়া-সুলতানপুর-কান্দি রোড, আহমেদপুর-কীর্ণাহার-রামজীবনপুর রোড, কৃষ্ণনগর-নবদ্বীপধাম রোড, কাটোয়া-কালনা রোড, চ্যাংড়াবান্ধা-মাথাভাঙা রোড, রায়গঞ্জ-কালিয়াগঞ্জ-বুনিয়াদপুর রোড, পতিরাম-ত্রিমোহিনী- হিলি রোড, মন্তেশ্বর-দাঁইহাট রোড, রামজীবনপুর-কেতুগ্রাম-কাটোয়া রোড, পানাগড়-ইলামবাজার রোড। 

তবে জানা গেছে আপাতত কোনও রকম টোল নেওয়া হবে না প্রাইভেট বা ব্যক্তিগত গাড়ির উপর। টোল নেওয়া হবে না ব্যক্তিগত দুই চাকার গাড়ির উপরেও। তিন চাকার ভাড়ার গাড়ি, লাইট কমার্শিয়াল ভেহিকেল, ট্রাক, মাল্টি অ্যাক্সেল ভেহিকেল, আর্থ মুভার এবং ওভারসাইজ তথা ৭ বা বেশি অ্যাক্সেলের পণ্যবাহী গাড়ি থেকে আদায় করা হবে এই টোল ট্যাক্স। তবে আশঙ্কা থেকেই যায়, কেন্দ্রের দেখানো পথেই হেঁটেই টোল আদায় করতে চলেছে রাজ্য। তাই এখন ব্যক্তিগত গাড়িতে টোল না নিলেও রাজস্ব বাড়াতে পরবর্তীতে তা নেওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তবে রাজ্য সরকারের এই সড়কগুলি দিয়েও কিন্তু প্রচুর পন্যবাহি গাড়ি চলাচল করে। যেমন হুগলীর আরামবাগ এবং পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চাষ হয় আলুর। সেখানে অহল্যাবাই হোলকার রোডে দুটি টোল প্লাজা বসানো হচ্ছে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই আলুর সেই দামেও টোলের বাড়তি টাকা জুড়বেই। অর্থাৎ এই টোল প্লাজাগুলি আশু চালু হলে বাড়তি পন্যমূল্য গুনতে হবে জনগনকে। এমনিতেই কেন্দ্রের অধীনে থাকা জাতীয় সড়কে টোলের পরিমান মাঝেমধ্যেই বেড়ে যায়। ২০২৩ এর এপ্রিলে টোল ট্যাক্স দশ শতাংশ বৃদ্ধি করেছিল কেন্দ্র। শোনা যাচ্ছে সামনে আবার টোল বাড়াতে চলেছে কেন্দ্র। এর সঙ্গে যদি রাজ্যের টোলও যোগ হয় তাহলে আপনার আমার কি হাল হবে বুঝতেই পারছেন নিশ্চয়।

(www.theoffnews.com toll tax India government West Bengal government)


তপন সান্যাল, কবি, গীতিকার ও গবেষক, পাইকপাড়া, কলকাতা:

১৯১৯ সাল। সারা বাংলা জুড়ে স্বদেশী আন্দোলনের জোয়ার। কলকাতা, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম সবত্রই স্বদেশী ভাবধারায় জেগে উঠছে এক নতুন প্রজন্ম। এখানে সেখানে প্রতিদিন গড়ে উঠছে ছোটখাটো বিপ্লবীদের দল। এমন কয়েকটি বিপ্লবীদের আড্ডায় ঠিক হলো, সবাইকে এক ছাদের তলায় আনতে হবে। তবেই স্বদেশী আন্দোলনে সফলতা আসবে। তার জন্য সেরা উপায় হল দুর্গা পুজো। ঠিক করা হলো, দুর্গা পুজোকে উপলক্ষ করে স্বদেশী চেতনায় উদ্বুদ্ধ যুবকদের একত্র করা হবে। উৎসবও হবে আর দেবী বন্দনার সঙ্গে সঙ্গে দেশ মাতৃকার বন্দনায় তরুণ প্রজন্মকে জাগরিত করার আয়োজন চলবে।

এর মধ্যেই ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস বারোয়ারি দুর্গোৎসবকে বেছে নিলেন। ১৯২৭ সালে বার্মার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে কলকাতায় ফিরে এসে নেতাজী বিভিন্ন সামাজিক এবং সেবামূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন। সে সুবাদে পরবর্তীকালে তিনি বেশ কিছু বারোয়ারি দুর্গা পুজোর সঙ্গে যুক্ত হন। দক্ষিণ কলকাতার আদি লেক পল্লীর পুজো, মধ্য কোলকাতার ৪৭ পল্লীর পুজো, উত্তর কলকাতার বাগবাজার, কুমারটুলি, সিমলা ব্যায়াম সমিতি- এই বারোয়ারি পুজোগুলোর সঙ্গে নেতাজী বিভিন্ন সময়ে যুক্ত ছিলেন। ১৯২৬ সালে উত্তর কলকাতার মানিকতলায় কংগ্রেস নেতাদের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত হয় সার্বজনীন দুর্গোৎসব।

তিনি পুজোগুলোয় উপস্থিত হয়ে সেখানকার অধিবাসীদের মধ্যে একতা আর জাতীয় চেতনা গড়ে তুলতে চেষ্টা করতেন। দুর্গা পুজোকে উপলক্ষ করে এই অঞ্চলের মানুষের মনে স্বদেশী ভাবধারা জাগিয়ে তোলাই ছিল এই পুজোর উদ্যোক্তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। এসব পুজো প্রাঙ্গণে পুজোর ক'দিন স্বদেশী গান-বাজনার ব্যবস্থা হতো। স্বাধীনতা সংগ্রামী চারুচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও এসব সার্বজনীন দুর্গা পুজোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। ফলে পূজা মণ্ডপগুলো হয়ে উঠলো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মিলনস্থল। নেতাজী পুজো প্রাঙ্গণে উপস্থিত হলে তাকে দেখার জন্য মানুষের ঢল নামতো।

সিমলা ব্যায়াম সমিতির উদ্যোগে পরিচালিত বারোয়ারি পুজোয় সুভাষ চন্দ্র বোস ও শরৎচন্দ্র বোস প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। ঋষি অরবিন্দ ও বাঘা যতীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুগান্তর দলের নেতা বিপ্লবী অতীন্দ্রনাথ বসু সিমলা ব্যায়াম সমিতির প্রতিষ্ঠা করেন। এই সমিতি ছিল লাঠি খেলা, তলোয়ার চালনা, কুস্তি খেলা প্রভৃতি শেখার প্রধান আখড়া। দেশমাতৃকার আরাধনার উদ্দেশ্য নিয়ে অতীন্দ্রনাথ ১৯২৬ সালে সিমলা ব্যায়াম সমিতির উদ্যোগে দুর্গোৎসব শুরু করেন। সারা বছরের শরীর চর্চা আর সাহসিকতার পরীক্ষার দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হতো মহাষ্টমীর দিনটিকে। এই দিনটি তারা বীরাষ্টমী দিবস হিসেবে পালন করতেন। 

এই বীরাষ্টমী অনুষ্ঠানে দেবী দুর্গার সামনে লাঠি খেলা, ছুরি খেলা, কুস্তি, মুষ্টিযুদ্ধ আর তরবারি খেলার মাধ্যমে সাহস আর শক্তি দেখানোর পরীক্ষা হতো। সুভাষ চন্দ্র বোসের সঙ্গে এই বারোয়ারি পুজো কমিটির গভীর সম্পর্ক ছিল। তিনি বেশ কয়েক বছর এই বীরাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধন করেছিলেন। ১৯২৮ সালের সিমলা ব্যায়াম সমিতির তৃতীয় বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, সে বছর খুব জাঁকজমকভাবে বীরাষ্টমী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। উৎসবে উপস্থিত ছিলেন শরৎচন্দ্র বোস, সুভাষচন্দ্র বোস, ভুপেন্দ্রনাথ দত্ত, উপেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়, কিরণ মুখোপাধ্যায়, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের মতো প্রখ্যাত ব্যক্তিরা।

১৯৩০ সালে নেতাজী কলকাতা পুরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। ওই বছরেই সিমলা ব্যায়াম সমিতি সভাষচন্দ্র বসুকে প্রথম কোনো সার্বজনীন পুজো কমিটির সভাপতি নিযুক্ত করে। নেতাজীর উদ্যোগে ও স্বদেশী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে সিমলা ব্যায়াম সমিতির পুজোতে প্রতিমাকে তখন দেশীয় খাদি বস্ত্র পরানোর চল শুরু হয়। দেবীর পরনের অলঙ্কার সবই মাটির। অস্ত্র দেশীয় লোহা, তামার। বীরাষ্টমী উৎসব ছাড়াও মণ্ডপে পুতুল খেলা, যাত্রা পালা ও কবিয়াল গানের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হতো।

এছাড়াও পুজো প্রাঙ্গনগুলোতে বিভিন্ন বাণী লেখা পোস্টার শোভা পেত। সে সময়ের ইংরেজি পত্রিকা ‘অ্যাডভান্স’ এ সিমলা ব্যায়াম সমিতির পুজোকে ‘স্বদেশী ঠাকুর’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। ব্রিটিশ সরকার ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার সাহস করতো না। কিন্তু সিমলা ব্যায়াম সমিতির পুজোয় বিপ্লবীদের অংশগ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় ১৯৩২ সালে ইংরেজ সরকার এই পুজোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরপর তিন বছর এ পুজো নিষিদ্ধ ছিল। ১৯৩৯ সালে আবার নতুন করে এই পুজো শুরু হয়। এবার এ পুজোয় অগ্রণী ভূমিকা নেন স্বামী বিবেকানন্দের ভাই মহেন্দ্র দত্ত। 

১৯২৯ সালে বাগবাজারের এই পুজোয় এক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ১৯৩০ সালে কলকাতা পুরসভার ওল্ডারম্যান দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সভাপতি হন। তারই উদ্যোগে এই পুজো এক নতুন রূপ পায়। দেশাত্মবোধচ্ছতিনি এই পুজোর নামকরণ করেন, ‘বাগবাজার সার্বজনীণ দুর্গোৎসব ও প্রদর্শনী’। প্রকৃতপক্ষে ওই বছর থেকেই এই পুজোর গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের শুরু। 

এই দুর্গাপুজোর যে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হতো, তা স্বদেশী শিল্প মেলায় রূপান্তরিত হয়। দুর্গাচরণের উদ্য‌োগেই পুজোর সঙ্গে যুক্ত হয় দেশীয় শিল্প সম্পর্কিত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রদর্শনী। গ্রামীণ শিল্পের সঙ্গে কলকাতার মানুষদের পরিচয় করিয়ে দিতেই মূলত তাঁর এই পদক্ষেপ। সে বছরই সুভাষচন্দ্র এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত হন। সুভাষ চন্দ্র ১৯৩৮-১৯৩৯ সাল পর্যন্ত এই দুর্গোৎসব কমিটির সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ১৯৩০ এবং ১৯৩৯ সালে তিনি বাগবাজারের সার্বজনীন দুর্গোৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।

সুভাষ চন্দ্র বোসের নেতৃত্বে বাংলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপগুলোতে স্বদেশী আন্দোলনের ভাবনা তীব্র হতে থাকে। সেই সময় অনুশীলন সমিতির লাঠি খেলা, শরীর চর্চা ইত্যাদি প্রদর্শন করার জায়গা ছিল বাগবাজার সার্বজনীন পূজা প্রাঙ্গণ। এই অনুষ্ঠানটি হতো বীরাষ্টমী উৎসবের দিনে। ১৯৩৬ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইঝি সরলা দেবীর পরিচালনায় বাগবাজারে সর্বপ্রথম বীরাষ্টমী উৎসব শুরু হয়। এই পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “কাপুরুষতা, ভীরুতা সব মায়ের চরণে অর্পণ করে দেশমাতৃকার পুজোর জন্য তৈরি হতে হবে। সে পূজার জন্য প্রয়োজন শুধু ত্যাগ।”

উল্লেখ্য, আজও মহাষ্টমীর দিনে এখানে বীরাষ্টমী উৎসব পালিত হয়। জাতীয়বাদী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই পুজোর সূচনা বলে এই দুর্গা পুজোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল স্বদেশ ভাবনার এক নব জাগরণ। সুভাষ চন্দ্র ছাড়াও আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, নলিনীরঞ্জন সরকার এবং আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পরাধীন ভারতবর্ষ তখন স্বাধীনতা আন্দোলনে উত্তাল। বিরাট জনসমাগম দেখলেই ইংরেজরা ভয় পেতে শুরু করে। এভাবেই বারোয়ারি পুজোর মাধ্যমেও বহু মানুষকে একত্র করার পরিকল্পনা তখন পরাধীন দেশের বিভিন্ন অংশে শুরু হয়ে যায়। খানিকটা এভাবেই উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৩২ সালে হরিমোহন পালের সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক দ্বারিকানাথ দাসের নেতৃত্বে কুমোরটুলি অঞ্চলের কিছু যুবক কুমারটুলি সার্বজনীন দুর্গোৎসবের শুভ সূচনা করেন।

দুর্গা পুজোর মহাষ্টমীর দিনে অনুশীলন সমিতির উদ্যোগে লাঠি খেলা, শরীর চর্চাসহ বিভিন্ন অস্ত্র খেলার আয়োজন করা হয়।  

১৯৩৮ সালে সুভাষ চন্দ্র বোস এই সার্বজনীন পুজো কমিটিরও সভাপতি নির্বাচিত হন। তবে সে বছরই দুর্গা পুজোর পঞ্চমীর দিন পূজামণ্ডপটি ভস্মীভূত হয়। ফলে সে বছর পুজোটি নিরানন্দভাবে সম্পন্ন হয়। তখন নেতাজীর অনুরোধে ভাস্করশিল্পী গোপেশ্বর পাল এই পুজোতে নতুনত্ব নিয়ে আসেন।

এভাবে দুর্গােপুজোর মাধ্যমে সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে স্বদেশী চেতনার এক নব জাগরণ। বিভিন্ন জায়গায় সার্বজনীন পুজোর মাধ্যমে ঘটতে থাকে ব্রিটিশ বিরোধী চেতনার এক নব উন্মেষ। সে উদ্যোগের মধ্যমণি হিসেবে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের নাম জড়িয়ে থাকলেও তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও অনেক সাহসী বিপ্লবী যোদ্ধার নামও। বাঙালির ঐতিহ্য, সাহসিকতা, আত্মসম্মানবোধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের এক পর্ব এর মধ্যে দিয়ে সূচিত হয়।

This article is in Bengali language. This is a brief history about Durga Puja, the journey from a Zamindari status symbol to a nationalism project. The ostentatious celebration of Durga Puja helped the zamindars in asserting their influence in an era of drastic political and social change in Bengal.

রাজ্যের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র মুকুটমণিপুর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে অম্বিকানগর। ভগ্ন রাজবাড়িতে লুকিয়ে রয়েছে অগ্নিযুগের ইতিহাসও। পুরোনো স্মৃতি সম্বল করে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভাঙাচোরা দালান, রাসমঞ্চ। কান পাতলে শোনা যায় বাংলার বিপ্লবীদের পদধ্বনি। সেই গল্পও শোনালেন গৌরীশঙ্কর ও বিশ্বজিৎ। অম্বিকানগর রাজ পরিবারেই জন্মে ছিলেন বীরযোদ্ধা রাজা রাইচরণ ধবলদেব। তিনি ছিলেন ষষ্ঠতম রাজা। পরবর্তী যে রাজপ্রাসাদের ঐশ্বর্য ছেড়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন বিপ্লবের দুর্গম পথ। ব্রিটিশ শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার শপথ নিয়ে বিপ্লবীদের দলে নাম লিখিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই জঙ্গলমহলে গড়ে উঠেছিল বিপ্লবী বাহিনী। নিয়মিত যাতায়াত ছিল প্রফুল্ল চাকী, বারীন ঘোষ, ভূপেশ দত্ত, নরেন গোঁসাইদের। এই রাজবাড়িই ছিল তাঁদের মন্ত্রণাকক্ষ। গৌরীশঙ্কর বলেন, 'অম্বিকানগর থেকেই গভীর রাতে ঘোড়ার পিঠে চড়ে বিপ্লবীরা যেতেন দুর্গম ছেন্দাপাথরে গোপন ডেরায়। সেখানে গুহার মধ্যে ছিল বোমা, বন্দুক-সহ নানান অস্ত্র তৈরির গুপ্ত কারখানা।

হ্যাঁ কারখানা। তবে বিপ্লবীদের এই সব কর্মকাণ্ডের নিয়মিত খোঁজ রাখত ব্রিটিশ গুপ্তচররা। একবার পুরীর পান্ডার ছদ্মবেশে এক গুপ্তচর আশ্রয় নিয়েছিল অম্বিকানগর রাজবাড়ির সিংহদ্বারের কুঠুরিতে। পরে চার্লস টেগার্ট বিশাল বাহিনী নিয়ে রাজবাড়িতে হানা দেয়। আলিপুর বোমা মামলায় গ্রেপ্তার হন রাজা রাইচরণ ধবলদেব ও তাঁর তিন সঙ্গী। যদিও পরবর্তীতে রাজসাক্ষী নরেন গোঁসাই খুন হওয়ায় প্রমাণের অভাবে মুক্তি পেয়ে যান রাজা রাইচরণ সহ বহু বিপ্লবী। মুক্তি পেয়ে সেবার দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন সঙ্গীদের নিয়ে অম্বিকানগরে ফেরেন রাইচরণ। তার কয়েক বছর পরেই ১৯২৬ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। রাইচরণের সময়কালে পুজোর ক'দিন অম্বিকানগরে আত্মগোপন করে থাকতেন বহু বিপ্লবী।'

আর এখন দুর্গাপুজো হল ভোটের রাজনীতির অঙ্গ এবং কর্পোরেটদের মুনাফার উৎস যার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। তখন দুর্গাপুজো ছিল দেশপ্রেমিকদের সাধনার মন্ত্র, এখন কি চলছে তা তো মানুষ স্বচক্ষেই দেখছে।

(www.theoffnews.com - Puja Bengali freedom fighters)

মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায়, লেখিকা, খড়্গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর:

চৈত্র শেষের হাওয়া গায়ে মেখে বাবা ভোলানাথ জাত পাতের বিভেদ ভুলিয়ে গাজনের নৃত‍্য গীতে মেতে ওঠেন। চড়কের আগুন ভাঙা, বাণফোঁড়া ইত‍্যাদি নানান লোকাচারের দ্বারা ভোলেনাথকে তুষ্ট ক‍রার অসীম প্রচেষ্টা চলে অথচ তিনি কেবল ভক্তিতেই তুষ্ট। আসলে আত্মপীড়নের মাধ‍্যমে  গাজন সন্ন‍্যাসীরা নিজেদের বৈরাগ‍্যের পরীক্ষা নেন। এদিকে তার আগে বাংলার মায়েরা নীল ষষ্ঠীর বাতি জ্বেলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ঊণকোটি চৌষট্টি কাজের মধ্যে দিয়ে সংসারের মঙ্গল কামনায়। এভাবেই দুই বাংলায় মন্দিরের ঘন্টার সাথেই মিশে যায় পবিত্র রমজান মাসের প্রার্থনার ধ্বনি। একটি বছর শেষ হয়ে এইভাবে। নতুন দিনের শুরু হয় নতুন বছরের শুভ সূচনার মধ্যে দিয়ে। চৈত্র সংক্রান্তি আর পহেলা বৈশাখ বা পয়লা বৈশাখ আপামর বাঙালির জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সংক্রান্তির পুজো শেষে বৈশাখ মাসের প্রথম দিনটিতে বাঙালি নতুন পোশাকে সাজে। গ্ৰামবাংলার মানুষজন এই দিন  পান্তাভাত, নানাকরম মিষ্টি, নোনতা খাবার ও মরশুমী ফলে রসনা তৃপ্তি করে। এছাড়াও পয়লা বৈশাখের আরও একটি বৈশিষ্ট্য হল 'হালখাতা' যা আমাদের কাছে বেশ উদ্দীপনার বিষয় ছিল ছোটবেলায়। দোকানে দোকানে ওই দিন ব্যবসায়ীরা তাদের সারাবছরের দেনা পাওনার হিসেব করে নতুন খাতা খোলেন। যারা ঋণ নিয়েছিলেন তারা তাদের পরিবারের ছোটদের নিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরে দেনা শোধ করে মিষ্টি মুখ করে বাড়ি ফেরেন। সাথে থাকে নতুন বাংলা ক্যালেন্ডার। আজকাল যদিও ইংরেজি ক্যালেন্ডারের দাপটে বাংলা ক্যালেন্ডারের একটু কোণঠাসা অবস্থা তবুও পয়লা বৈশাখের দিন বাঙালির বাংলা ক্যালেন্ডার চাই-ই চাই। আর চাই নতুন পাঁজি বা পঞ্জিকা।

তাই পয়লা বৈশাখ নববর্ষের শুরুর এক আনন্দ উৎসবের দিন। কিন্তু সেই আনন্দ বর্তমানে রাজনৈতিক গুন্ডারাজের দৌলতে আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। সোনার বাংলায় যেখানে চাষীর ঘরের লক্ষী মেয়ে বৌরা সরল হাসি নিয়ে সমাজের শ্রীবৃদ্ধিতে রত ছিল আজ সেখানে শুধুই ভয়। যে কোন মুহুর্তে ধর্ষিত হয়ে যাওয়ার ভয়। আজ বাংলা রক্তাক্ত। আট থেকে আশি সব মেয়েরাই এখন ভোগ‍্যপন‍্য। দলের দন্ডমুন্ডের কর্তা কর্তৃদের অঙ্গুলিহেলনে ধর্ষক ছাড়া পেয়ে আঁচলের আশ্রয় নেয় আর ধর্ষিতার পরিবার হয় একঘরে।

প্রতিবাদ করলে তাকে দমন করার চেষ্টা চলে। এ কোন  বাংলা? এ কোন নববর্ষ? নারীদের দমনপীড়ন লাঞ্ছনার মধ্যে দিয়ে কি করে আসবে 'শুভ নববর্ষ'? 

প্রশ্নগুলো বড় ভাবায়। বাংলা নববর্ষের সূচনায় আজ দেশের তথা বাংলার মেয়েরা অসুরক্ষিত ঘরে ও বাইরে। বড় অন্ধকার চারিদিকে। একটা প্রদীপে সে অন্ধকার ঘুচবে না। চাই দেশের সব মহিলাদের ঐক‍্যবদ্ধ ভাবে এক হাতে অস্ত্র অপর হাতে জ্বলন্ত মশাল নিয়ে প্রতিবাদ। অত‍্যাচারীর রক্তে ধুয়ে যাক পুরনো গ্লাণি।  

ঘুচে যাক সব কালো। আলোয় ভরুক আমাদের দেশ, আমাদের বাংলা। সেই সুদিনের আশায় সবইকে জানাই শুভ নববর্ষ। শুভমস্তু।

(www.theoffnews.com - Suva nababarsha)