Articles by "আরোগ্য নিকেতন"
Showing posts with label আরোগ্য নিকেতন. Show all posts

সুকন্যা পাল, ম্যানেজিং এডিটর, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

রাজ্য সরকার কি ভাবছে তা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। আপনি চাইলে নিজের উদ্যোগেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে নথিভুক্ত হতে পারেন। এখানে কোনও বাধার সম্মুখীন হতে হবে না আপনাকে। এমন আশার কথাই শোনালেন পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি এন্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি'র প্রাক্তন চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার শ্রীনিবাস ভুসারাপু।

"আয়ুষ্মান ভারত" প্রকল্প, যা সারা দেশে "মোদী স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনা" নামেও পরিচিত। এটি একটি জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো, দেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপনকারী ৫০ কোটিরও বেশি মানুষকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদান করা। এটি ভারতের বৃহত্তম স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প হিসেবে এখনও পর্যন্ত বিবেচিত হয়েছে। এই প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো বলতে, ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বছরে স্বাস্থ্য সেবা, যেটি একটি পরিবারের জন্য প্রযোজ্য হবে। তাছাড়া আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় সকল সরকারি ও সমস্ত প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। সবচেয়ে আকর্ষনীয় বিষয় হলো, এই প্রকল্পটির আওতায় অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল জনগণের জন্য এই স্বাস্থ্য পরিষেবাটি সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ীও। এই প্রকল্পটি আদতে বিশেষভাবে গরীব ও প্রান্তিক জনগণের জন্য ভীষণ উপকারী, অন্তত যাঁরা সাধারণত স্বাস্থ্যসেবা খরচ বহন করতে সক্ষম নন, তাঁদের জন্য এটি খুব উপকারী প্রকল্প।

এদিকে রাজ্য সরকার রাজ্যবাসীর জন্য একটি পৃথক স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প চালু করেছে। যার নাম স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প। একইসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ ঘোষণা, 'পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প সাফল্যের সঙ্গে চালু রয়েছে। এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বীমা যা রাজ্যবাসী স্বেচ্ছায় আপন করে নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের প্রয়োজন নেই এই রাজ্যে।'

মুখ্যমন্ত্রীর এমন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এই বাংলা জুড়ে বিতর্কের আবহ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে রাজ্য সরকার আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। সুতরাং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে এই স্বাস্থ্য বীমা সংক্রান্ত ট্যাগ অফ ওয়ারে পরিস্থিতি এতোটাই জটিল হয়ে উঠছে যে এই রাজ্যের বেশিরভাগই বাসিন্দারা কার্যত দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ধন্দেও পড়েছেন অনেকে এই ভেবে যে কি করবেন তাঁরা এমন জটিল বিতর্কিত পরিবেশে।

এই ধন্দ উপশমেই সদর্থক কথা শোনালেন শ্রীনিবাস ভুসারাপু। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, 'এটি একটি সর্বভারতীয় স্তরের সমস্ত নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প। কেন্দ্রীয় সরকার এর উদ্ভাবক। এটা দেশের মধ্যে সব প্রদেশে অবশ্যই আইনুসারে বলবৎ রয়েছে। আপনি এখানে নথিভুক্ত হতে চাইলে কারও ক্ষমতা নেই এটা আটকাবে। তিনি জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ওয়েবসাইট সাইটে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আপনার আধার কার্ডের নম্বর দিয়ে ওটিপির সাহায্যে আপনি খুব সহজেই এখানে নথিভুক্ত হতে পারবেন কারও সাহায্য ছাড়াই। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, "ইতিমধ্যে সারা দেশের পঞ্চাশ কোটি নাগরিক এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে। এই রাজ্যে এমন নথিভুক্তের সংখ্যা এগারো কোটি। আপনি আর অপেক্ষা করবেন না। আজই নিজের প্রচেষ্টায় এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করুন ছোট্ট একটি নথিভুক্তকরণের মাধ্যমে।"

গত বৃহস্পতিবার ভারত চেম্বার অফ কমার্সের উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানের কলকাতা স্থিত দফতরে। সেখানে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের বিষয়ে মন্তব্য করেন শ্রীনিবাসবাবু। 'পরিবেশ পরিবর্তনে ও ডিজিটাল রূপান্তকরণে শিল্পভিত্তিক সুরক্ষা সম্ভাবনা' শীর্ষক এই আলোচনায় এই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের বিষয়টি উপস্থিত শ্রোতাদের সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে। এছাড়াও এই সভায় অন্যান্য গণমান্যেরা তাঁদের বক্তব্য পেশ করেন।

(www.theoffnews.com Bharat Chamber Of Commerce Ayushman Bharat)


সোমনাথ রায়, প্রত্নগবেষক, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক, দুর্গাপুর: 

অতি সম্প্রতি একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে যে  মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর খাবার এবং জলে মিশে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের ছোট কণার ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

অস্ট্রিয়ার দানিউব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগের গবেষণায় দেখা গেছে যে প্লাস্টিকের বোতল থেকে জল বা পানীয় খেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে রক্তচাপ বাড়তে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিক রক্ত প্রবাহে মিশে যাওয়ার কারণে এই শারীরবৃত্তীয় ঘটনাটি ঘটে। এই কণাগুলি ইতিমধ্যেই হার্টের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং এমনকি ক্যান্সারের মতো অসুখের সঙ্গে যুক্ত। মাইক্রোপ্লাস্টিকস্ জার্নালে গবেষকদের রিপোর্টে দেখা গেছে যে ওই সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা প্লাস্টিকের বোতল ছাড়া অন্য কিছু থেকে তরল পানীয় খেলে রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তাই রক্তচাপ কমানোর জন্য প্লাস্টিকের বোতল থেকে জল বা পানীয় যতদূর সম্ভব কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পোস্ট-এ প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী এই গবেষণার ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ব্লাডপ্রেশারের মধ্যে গভীর সম্পর্ক দেখা গেছে। এই প্রথম একে সরল অনুপাতের ছকে অনুধাবন করা গেছে - প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাও, ব্লাডপ্রেশার কমাও। গবেষক দলটি মনে করে সম্ভবত রক্তে প্লাস্টিকের কণার পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে ব্লাডপ্রেশার কমে যায়। গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে রক্তচাপ কমানোর জন্য  প্লাস্টিকের বোতলের পানীয় আমাদের এড়িয়ে যাওয়া উচিত। আগের সমীক্ষাগুলি থেকে দেখা গেছে যে প্রতি সপ্তাহে বোতলজাত পানীয়ের মাধ্যমে প্রায় ৫ গ্রাম মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলিকে শরীরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার জন্য যে যে পদ্ধতিগুলির কথা ভাবা হয়েছে তার মধ্যে কলের জল ফুটনো এবং ফিল্টার করা সব থেকে কার্যকরী বলে দেখা গেছে। এই পদ্ধতিগুলি মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রায় ৯০ শতাংশ কমাতে পারে। গবেষণায় আমাদের স্বাস্থ্যের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি করতে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আমাদের দেশের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ভারতবর্ষে ব্যবহৃত বেশিরভাগ নুন ও চিনির প্লাস্টিকের প্যাকেট থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। নুন বা চিনি শুধু নয়, ভারতবর্ষে কোয়ালিটি চেকিং ব্যাপারটাকেই গুরুত্ব সহকারে না দেখার ফলে সম্ভবত বেশিরভাগ খাদ্যদ্রব্যই লো-কোয়ালিটি রিসাইকল্ড প্লাস্টিকে বাজারজাত হয়ে আমাদের স্বাস্থ্যের সমূহ বিপদ ডেকে আনছে। কুম্ভকর্ণের কানে কি প্রবেশ করবে বিজ্ঞানীদের এই সাবধান বাণী? “বরণীয় তারা, স্মরণীয় তারা, তবুও বাহির-দ্বারে/ আজি দুর্দিনে ফিরানু তাদের ব্যর্থ নমস্কারে।”

(www.theoffnews.com plastic blood pressure)


দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম: 

রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উদ‍্যোগের যুগলবন্দীতে সর্ব সাধারণের কাছে আরও দ্রুত প‍ৌঁছে যাবে মানবিক পরিষেবা।  

গত শনিবার প্রাইভেট নার্সিংহোমস এন্ড হসপিটালস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশানের যুগ্ম সম্পাদক তাহের শেখ ও উপদেষ্টা এবং অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশানের সভাপতি মোহম্মদ বাকিবুল্লাহ মোল্লা রাজ্যের মুখ্য সচিব ড. মনোজ পন্থ (আই এ এস) এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ও এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। 

বৈঠকের পর তাহের শেখ এক অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এমনটাই জানান।  রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি একযোগে কাজ করা হলে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে।  

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে রাজ্যের সব বেসরকারি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একযোগে কাজ করার যে প্রাথমিক সম্মতি মিলল রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। তাতে পরিষেবার ক্ষেত্র আরও প্রশস্ত হলো সাধারণ মানুষের জন‍্য, বলে তথ‍্যভিজ্ঞ মহলের ধারণা। 

উল্লেখ্য, গত ৭ নভেম্বর কলকাতার বিধাননগরে পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি মঞ্চে প্রাইভেট নার্সিংহোমস এন্ড হসপিটালস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশানের ৫০০ জনেরও বেশি সদস্যদের উপস্থিতিতে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে আগামীদিনে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহমতের ভিত্তিতে এবং তাদের সহযোগিতায়, সমন্বয় স্থাপন করে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার সার্বিক মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়। সেদিন এই নতুন সোসাইটির কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে ১১ জনের এক বিশেষ কমিটি তৈরি করা হয়। আগামী তিন মাসে এই অস্থায়ী কমিটি সোসাইটি গঠনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবার পর নির্বাচন বা মনোনীত করে স্থায়ী কমিটি গঠন করা হবে। এর ফলে স্বভাবতই খুশির হাওয়া গোটা রাজ‍্যে। 

আগামী ২০ নভেম্বর উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে  আরও এক সম্মেলন ডাকা হয়েছে। তার আগেই রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিবের সঙ্গে এই আলোচনা সভা সরকার ও পিপি মডেলের অগ্রগতিতে শীলমোহর বলা যেতে পারে।  

শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সভাপতি তথা এই নবগঠিত এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা মন্ডলী সদস্য মলয় পীট বলেন, “এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। সংগঠন একটা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মূল যে ভাবনা, সেখানে একটা ঘাটতি ছিল বলে ব‍্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি। মূল ভাবনা হলো সরকারের যে প্রকল্পগুলো আছে, তার সঠিকভাবে রূপায়ণ এবং সরকার যে উদ্দেশ্যে প্রকল্পগুলো মানুষের জন‍্য করেছে, সেই পরিষেবা তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। রাজ‍্য সরকারের সহায়তায় এবং আন্তরিক ইচ্ছায় এই সংগঠন সেগুলো দেখবে। সংগঠনের কর্তৃপক্ষ এই কথা জানিয়েছেন। আমি আনন্দিত, উজ্জীবিত কারণ এই সংগঠনের সঙ্গে উনারা আমাকে যুক্ত করেছেন। আমি আশা রাখি, রাজ‍্য সরকারের সাহায্যে এই সংগঠন এখানকার স্বাস্থ্য পরিষেবার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটাতে পারবে। ইতিমধ্যে সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস‍্য রাজ‍্য সরকারের মুখ্য সচিবের সাথে দেখা করেছেন। সেখানে সংগঠনের উদ্দেশ্য বা কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা হয়েছে। এই সংগঠন যাতে ভালো ভাবে কাজ করতে পারে সে ব‍্যাপারে তিনিও সংগঠনকে সাহায্য করতে বা নৈতিক সাহায্যের কথা বলেছেন।  মলয় পীট বলেন, স্বাস্থ্য সাথী সম্পর্কে যে ধারণা এই কেস করা যাবে, এটা করা যাবে না এমন কিছুটা বিকৃতি বা অপপ্রচার অনেকখানি কমে যাবে। সরকার তার নিজস্ব ক্ষমতার মধ‍্য দিয়ে কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে এই প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে। এতদিন সমন্বয়ের অভাব ছিল, বলে ঘাটতি ছিল। বিভিন্ন ব‍্যাখ‍্যা অপব‍্যাখ‍্যা ছিল। কোনও সিস্টেম যদি আমলাতন্ত্রের উপর থাকে। তার মোবিলাইজেশন না হয়, তাহলে অসুবিধা হয়। সেই অসুবিধাটা ছিল, আশা করি দূর হয়ে যাবে।"

(www.theoffnews.com public private project health)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

অবজ্ঞা, অজ্ঞতা, অসাবধনতা, অসচেতনতা। এই চারটি বাংলা শব্দ মর্মার্থের নির্যাস হলো মনুষ্য শরীরের রোগের বাসার জ্বলন্ত উপকরণ। মানব জীবনে ক্রমাগত তার অভিযোজন পাল্টে যাচ্ছে। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। অবাধ্য গতিতে। অভিযোজন বদলের দোসর হিসেবে ক্রমশঃ তাই পাল্টে যাচ্ছে মানুষের অভ্যাস, রুচি, আচরণ, মতামতের মতো জীবন ধারণের খুব পরিচিত সংঞ্জাগুলোও। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের বেঁচে থাকার মধ্যে ঘটেছে আমূল পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস। আজ তো বিশ্ব জুড়ে ফাস্ট ফুডের রমরমা প্রচলন। এক প্রকার যথেচ্ছ হারেই। ফলাফলও তাই একেবারে রেডিমেড মেলে। অধিকাংশ মানুষ আজ অপ্রত্যাশিত পর্যায়ে বিভিন্ন জীবনঘাতী রোগে যে আক্রান্ত বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে। এহেন আশু সংকট নিরসনে কিইবা আর করা যায়? এমনই আশঙ্কা থেকে মুক্তি প্রাপ্তির তত্ত্বতালাশের খোঁজে একটি মনোজ্ঞ আলোচনাচক্রের আয়োজন হয়ে গেল ভারত চেম্বার অফ কমার্স'এর তত্ত্বাবধানে। উদ্যোক্তাদের বণিকসভার নিজস্ব ভবণে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় গত ৮ নভেম্বর। বিকেল বেলার এই অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল "পরিবর্তিত জীবনযাত্রায় রোগের প্রভাব ও  সুস্থতার চাবিকাঠি।"

ঘন্টা দেড়েকের এই আলোচনা চক্রে প্রারম্ভিক ভাষণ দেন আয়োজক সংস্থার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নরেশ পাচিসিয়া। তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের সাবধানবাণী শুনিয়ে বলেন, "আজকাল আমরা প্রায় সকলেই ফাস্ট ফুড খাবার খেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। ফলে নানা ধরনের রোগের মুখোমুখি হচ্ছি আমরা। শরীরের তাই অস্বস্তি মাথা চাড়া দিচ্ছে হামেশাই। সুতরাং এখনই আমাদের সাবধান হবার সময় এসে গেছে। অন্যথায় আমরা নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে নিয়ে আসব অচিরেই।" নরেশবাবুর বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বণিকসভার লেডিস ফোরামের চেয়ারপার্সন রেনুকা শাহ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, আজকাল একটু বয়স বাড়লে আমরা যেন আর স্বাভাবিক ভাবে নড়তে চড়তে পারি না। এর একটাই কারণ। বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ আমাদের শরীরে দ্রুত গতিতে জাঁকিয়ে বসেছে। সুতরাং সময় থাকতে আমাদের সতর্ক হতে হবে। সময়টা এখানে খুব বড় ফ্যাক্টর। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ নিময় করে।'

আলোচনা চক্রের মধ্যমনি হিসেবে রোগমুক্তির বিকল্প বিশেষজ্ঞ রীতেশ বাবরি মন্তব্য করেন, সংক্রমণ ব্যতীত আধিকাংশ সাধারণ রোগ কিন্তু বাইরে থেকে এসে আমাদের শরীরে বাসা বাঁধে না। আমাদের শরীরের অন্তর্গত নানাবিধ অনিয়মের কারণেই আমরা সাধারণ ভাবে রুগ্ন হয়ে পড়ি। তথ্য অনুসারে আমাদের শরীরের রক্তে প্রতি সেকেন্ডে ২ মিলিয়ন নতুন লোহিত কণিকা তৈরি হয়। একই সময়ের মধ্যে ৩.৮ মিলিয়ন নয়া কোষ গঠিত হয়। তবু কি বিচিত্র ব্যাপার, শরীরের অন্তর্নিহিত স্থলে নিজস্ব পর্যায়ে এতো বিপুল পরিমাণ সংশোধনের পরেও আমরা রোগাক্রান্ত হই। এর মূল কারণ হলো শরীরের এই নিত্য সৃষ্টি যজ্ঞের ভারসাম্য আমরা নিজেরাই নষ্ট করি। অবহেলা, অবজ্ঞা, অজ্ঞতা, অসাবধানতার ফলে ভারসাম্যহীনতার জেরে শরীরের নানা প্রান্তে বাধার সৃষ্টি হয়। প্রকৃতির এই সৃষ্টিলীলায় লাগাতার অবরোধের কারণে শরীরে ঘিরে শুরু হয় পাল্টা অভিঘাত পর্ব। আর তখনই মনুষ্য কলেবরকে ছেঁকে ধরে নানাবিধ রোগ।

রীতেশবাবু আরও বলেন, "এর থেকে একটাই মুক্তির উপায়। যা হলো ধারাবাহিক ভাবে নিয়ন্ত্রন ও ভারসাম্যের স্থিতি নষ্ট না করা। পরিমিত পর্যায়ে ব্যালেন্সড আহার, নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের জন্য প্রাণায়াম, প্রয়োজন মাফিক ব্যায়াম, পরিমিত ধ্যানাভ্যাস, নেশামুক্তি ও পর্যাপ্ত নিদ্রা শরীরের নিজস্ব ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।"

পরিশেষে তিনি যোগ করেন, টেনশন ফ্রি হয়ে আনন্দে জীবনযাপন করুন, হাসি খুশিতে থাকুন। দেখবেন রোগ আপনাকে এমনিই আলবিদা জানাচ্ছে।

(www.theoffnews.com lifestyle fastfood diseases)



 সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায়, লেখিকা, শিলিগুড়ি:

চমকে উঠেছিলাম দুঃসংবাদটা শুনে। সন্তানসম মেধাবী ছাত্রী মাত্র কুড়িতে পা রাখা মিমি আত্মহত্যা করেছে গভীর অবসাদে।

ওর ইদানিং মনে হচ্ছিল, পড়াশোনায় যথেষ্ট মনসংযোগ করতে পারছে না। ফলস্বরূপ খারাপ রেজাল্টের আশঙ্কায় সুন্দর পৃথিবীকে গুডবাই বলে অবলীলায় চলে গেল, না ফেরার দেশে। ভাবলো না একমাত্র সন্তানকে ছেড়ে বাবা-মা কেমন করে থাকবে?

আপাত নিরীহ ‘অবসাদ' বিশেষ্যপদীয় শব্দটির  আভিধানিক অর্থ ক্লান্তি, শ্রান্তি, উৎসাহহীনতা, বিষন্নভাব।

‘স্বাস্থ্যের' সংজ্ঞা কেবল শারীরিক-সুস্থতা নয়, মানসিক-সুস্থতা সমান গুরুত্বপূর্ণ। দেহ-মনের মধ্যে সমন্বয় রক্ষাকারী মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে দৈনন্দিন জীবনে। পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ভাবে মানিয়ে চলার অপর নাম মানসি কসুস্থতা। ভারসাম্যে তারতম্য হলেই মানসিক অসুস্থতার লক্ষন প্রকাশ পায়, যার অবশ্য পরিনতি অবসাদ। 

‘অবসাদের’ সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে ‘হু'। সর্বক্ষন মনের অভ্যন্তরে দুঃখের অনুভব, নিত্যকর্মে অনীহার পরিস্থিতি দু’সপ্তাহের অধিক স্থায়ীত্ব  অবসাদের অন্যতম লক্ষ্মণ।

চিকিৎসকগন অবসাদজনিত কারণ নির্ধারিত করেছেন বেশ কয়েকটি লক্ষন অনুযায়ী, যেমন সহজেই ধৈর্য্যচ্যুতি, নেশায় আসক্তি, নিঃশ্বাসে সমস্যা, সামান্য কারনে রেগে যাওয়া, বিরক্তি, অকারনে টেনশন, অনিদ্রা, ব্লাডপ্রেশার ওঠানামা, হটাৎ হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, হজমের গোলমাল, বমিভাব, ইত্যাদি।

মনোবিজ্ঞানীরা দৈহিক, মানসিক ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে মানসিক অবসাদের নেপথ্য কারন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। পারিবারিক অশান্তি, পেশাগত-চাপ, কর্মস্থলে অসাফল্য, কর্মহীনতা, প্রিয়জন বিয়োগ,শারীরিক অসুস্থতা, গুমোট আবহাওয়া ইত্যাদি অবসাদের নেপথ্য কারণ।

বর্তমান বিশ্বে অতিমারীর মতো ভয়াবহ আকার নিয়েছে মানসিক অবসাদ রোগটি। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে বিশ্বের প্রায় ২৮০ মিলিয়ন মানুষ মানসিক অবসাদে আক্রান্ত। শতকরা ৩.৫% লোক এই রোগের শিকার। এরমধ্যে ৫% প্রাপ্তবয়ষ্ক এবং ৫.৭% ষাটোর্ধ। অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রতিবছর ১০ নভেম্বর দিনটিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে পালন করে।

ভারতে প্রায় ১২০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫ কোটি মানুষ মানসিক রোগাক্রান্ত। প্রতি দশজনের মধ্যে একজন মানসিক অবসাদের শিকার। চিকিৎসকের অপ্রতুলতা সমস্যা সমাধানের অন্তরায়। বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসার জন্য যেখানে প্রয়োজন অন্তত ৫৪,৭৫০ জন চিকিৎসক সেখানে আছেন মাত্র সাত হাজার জন চিকিৎসক। 

 দুঃখজনক হল অন্যান্য শারীরিক রোগের ক্ষেত্রে রোগী ও তার আত্মীয়-সজ্জন ওয়াকিবহাল এবং  সহানুভূতিশীল থাকেন অথচ অবসাদও অন্যান্য অসুখের মতোই একটি অসুখ এবং সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসায় এর নিরাময় সম্ভব এ তথ্য অজানা থেকে যায়, অনেকসময় করুণ বিয়োগান্ত পরিনতি নেমে আসে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানসিক-অবসাদ আক্রান্ত রোগী নিজেই রোগ সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকেন। সামান্য কারণে হয়তো চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। যার প্রতিফলন প্রতিদিনই নজরে আসে সংবাদ মাধ্যমে। 

মানসিক অবসাদের কারনে বিশ্বে প্রায় ৮ লাখের বেশি মানুষ প্রতিবছর আত্মহত্যা করেন। প্রতি ৪০ সেকেন্ডে পৃথিবীতে কোথাও না কোথাও একজন মানুষ স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিচ্ছেন।

ভারতের চিত্র যথেষ্ট ভয়প্রদ। ন্যাশানাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো-র রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে গড়ে প্রতিদিন ৩৮১ জন আত্মঘাতী হন। ২০১৬ তে ভারতে আত্মঘাতী হন ২,৩০,৩১৪ জন। ২০১৭ সালে আত্মহত্যা করেন ২৯,৮৮৭ জন, ২০১৮ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪,৫১৬ এবং ২০১৯ সালে এসে সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৯,১২৩। সংখ্যা প্রতিবছর বেড়ে যাচ্ছে চার হাজারের ওপর। এরমধ্যে অধিকাংশের বয়স সীমা ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। এই সংখ্যার একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী। ২০১৫ সালের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর ৮৯৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। প্রতিদিন প্রায় ২৮ জন এবং ঘন্টায় প্রায় একজন। অভিভাবকদের  অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ, পরীক্ষার ফল মনোমত না হওয়া ইত্যাদি কারণে শিক্ষার্থীরা এহেন চরমপথ বেছে নেন অনেক সময়। পরিবারের সহমর্মিতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম স্বাভাবিক জীবনে। গবেষণায় জানা গেছে, আত্মহত্যার নেপথ্যে ৩২.৪% ক্ষেত্রে পরিবার দায়ী। গার্হস্থ্য হিংসার পরিনতিতে আত্মহত্যার সংখ্যাও কম নয়। এক্ষেত্রে মহিলারাই সংখ্যাগুরু। মনে রাখতে হবে এসব পরিসংখ্যান কেবল নথিবদ্ধ ঘটনাক্রমের। 

আত্মহত্যায় ভারতীয় অঙ্গরাজ্যের মধ্যে মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ু প্রথম ও দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে। তৃতীয়স্থানে আছে পশ্চিমবঙ্গ। পুরুষদের আত্মহত্যার হার মহিলাদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। দেশের প্রায় ২৬%মানুষ অল্পবিস্তর মানসিক অবসাদে ভোগেন। ১১% মানুষ মাঝারি অবসাদগ্রস্থ। ৬%মানসিক অবসাদগ্রস্থ মানুষের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। 

সহজেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। মানসিক অবসাদগ্রস্থ রোগী। প্রয়োজন কেবল পরিবারের সহমর্মিতা এবং সঠিক চিকিৎসা। সাইকোমেট্রিক টেস্টের মাধ্যমে অবসাদের মাত্রা নির্ধারণ করে ওষুধ নাকি কাউন্সিলিং করা হবে স্থির করা হয়। এভাবেই 

অবসাদগ্রস্থ রোগী ফিরতে পারেন স্বাভাবিক জীবনে। মানসিক রোগ গুরুত্ব পায় না অথচ সময়মত চিকিৎসা না পেলে মানসিক অবসাদ কেড়ে নিতে পারে অমূল্য প্রাণ। পারিবারিক ও সামাজিক  সচেতনতা ও সহানুভূতি  প্রয়োজনীয়তা কাম্য।

(www.theoffnews.com suicide mental diseases)



প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র, লেখক, কালনা, পূর্ব বর্ধমান: পরপর দুটো রাত অতিক্রান্ত। আবার সকাল গড়িয়ে ফের একটা দুপুর উপস্থিত। গত তিন দিন যাবৎ ওরা দাবিপূরণের আশায় বসে রয়েছে। শপথ নিয়েছে অনির্দিষ্টকাল বসে থাকার। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই ডাকছে মিটিংয়ে বসো। চিঠি পাঠিয়েছে একাধিকবার। নিজে আসেনি। দম্ভ এমনি। লোভ মানুষকে নীচেয় নামায়। লোভ দুর্নীতির জন্ম দেয়। দুর্নীতি অশুভ শক্তিকে সঙ্ঘবদ্ধ করে। দম্ভ এই জায়গা থেকে জন্ম নেয়। ক্ষমতার দম্ভ সব থেকে ভয়ঙ্কর দম্ভ। দম্ভ ধরাকে সরা জ্ঞান করে। যা হচ্ছে হোক আমি আমার জায়গায় অটল থাকব। দম্ভ শাসককে নিষ্ঠুর করে। ঠিক অত্যাচারী কংসের মত। অত্যাচারী হিটলারের মত। শাসককে নিষ্ঠুর হতে সাহায্য করে পুঁজিপতিদের নিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা। শাসন ব্যবস্থার মাথায় যিনি তিনিই নির্দেশ দেন নিষ্ঠুর হতে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির অসংখ্য বার দেখেছি। তবুও ওরা প্রতিজ্ঞায় অবিচল। ওদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে। ওদের প্রিয় সহকর্মীর চলে যাওয়া ওদের শিখিয়েছে লড়াই না করলে অধিকার অর্জন করা যায় না। তিলোত্তমা শিখিয়েছে সঙ্ঘবদ্ধ লড়াই না করলে আমার মত এক একজনকে ওরা টুঁটি চেপে ধরবে। তারপর শেষ পরিণাম হবে আমারই মত। এদেশের আইন ব্যবস্থা নিরপেক্ষ নয়। অনেককে বলতে শুনি আইন সকলের জন্য সমান। আইনের চোখে রাজা, উজির, কৃষক, শ্রমিক, নারী সকলে সমান। এদেশের আইন নাকি নারীদের পক্ষে। নারীকে রক্ষা করে। এ কথা চরম মিথ্যা। আইন ধনীর পক্ষে। আইন আজও পুরুষের স্বার্থ রক্ষা করে। সারা দেশের নিরিখে ধর্ষণের শাস্তি পায় মাত্র ২%। ৯৮% ধর্ষক মুক্তি পেয়ে যায়। প্রমান লোপাট, শাসকের অঙ্গুলিহেলনে ধর্ষক সাজাপ্রাপ্ত হয় না। তিলোত্তমার খুনি ও ধর্ষকদের শাস্তি চাই। শুধু তিলোত্তমা কেন, মণিপুরে অসংখ্য নারীর যারা সম্ভ্রম নষ্ট করেছে তাদেরও চরম শাস্তি চাই। চাই ধর্ষণের বিরুদ্ধে কড়া আইন। আইনের রক্ষকরা বা সরকার এ আইন প্রণয়ন করতে চায় না। তাই গনআন্দোলনকে জোরদার করতে হবে। ধারাবাহিক আন্দোলন। আন্দোলন না হলে এ আইন প্রণয়ন হবে না। আইন প্রণয়নে বাধ্য করতে হবে। এই কারনেই রাজনীতির রঙ না দেখে গণআন্দোলনে সামিল হতে হবে এদেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে। উৎসব পালনের ফাঁকেও যেন একথা মনে থাকে। উৎসব যে কেউ পালন করতে পারে। কেউ বাধা দেবে না। উৎসব না পালন করার স্বাধীনতাও আমার মত মানুষদের থাকবে। উৎসবের দিনগুলিতে প্রতিমুহূর্তে যেন আমাদের স্মরণে থাকে তিলোত্তমা জীবিত থাকলে এবছর উৎসব পালন করতেন। কিন্তু ওকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে পরপারে, ওর ক্ষেত্রে উৎশব। নতুন জামা পড়লে সেই জামায় লিখবেন তিলোত্তমার বিচার চাই। ধর্ষকের শাস্তি চাই। কালো ব্যাচ পরে পূজা প্যান্ডেলের সামনে দিয়ে যাবেন। অন্যান্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আপনিই করুন। উৎসবের দিনে আপনার প্রতিবাদ, আপনার অভ্যাসে পরিণত করুন। প্রতিবাদ অভ্যাসে পরিণত না হলে প্রতিবাদী হওয়া যায় না। প্রতিবাদী হয় তারাই যাদের বিবেক, মনুষ্যত্ববোধ রয়েছে। প্রতিবাদী হয় তারাই যাদের শিরদাঁড়া সোজ। দেখুন, এত বড় রাজ্যে মাত্র কয়েকটা ক্লাব উৎসবের জন্য সরকারি ভিক্ষা ত্যাগ করার কথা ঘোষণা করেছে। বাকিরা? হাত পেতে ভিক্ষা নেওয়ার জন্য বসে রয়েছে চাতকের মত। আমি ওই ত্যাগ করা ক্লাবের পক্ষে। ভিক্ষা নেওয়া ক্লাবের পক্ষে নয়। মনে করি ওই টাকায় রক্তের দাগ লেগে রয়েছে। ওই টাকা মুখ বুজে অন্যায়-অবিচারকে সমর্থন করার জন্য দেওয়া হয়/হবে। (www.theoffnews.com R G Kar Hospital junior doctors)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

মানুষ সবচেয়ে বেশি মারাত্মক প্রাণী হিসেবে সিংহ, সাপ বা কুমিরের মতো বৃহৎ প্রাণীকে দেখলেও এদের অধিকাংশই মানুষের আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম প্রাণঘাতী হয়ে থাকে। পৃথিবীতে আনুমানিক ১.২ মিলিয়ন প্রজাতির প্রাণীর বসবাস। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণীগুলোর অধিকাংশই খুব ছোট আকারের হয়ে থাকে। ক্ষুরধার দাঁতের পরিবর্তে জীবাণু, বিষ এবং অন্যান্য উপায়ে এদের হাতে মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেশি।

অবাক মনে হলেও এটা সত্যি, যে প্রাণীটি প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি মানুষকে হত্যা করে তা হলো মশা। প্রতিবছর গড়ে ৭ লাখ ২৫ হাজার মানুষকে হত্যা করে এই প্রাণী। আর মানুষের জন্যে দ্বিতীয় বিপজ্জনক প্রাণী হচ্ছে মানুষ নিজেই। 

আমাদের চারপাশে থাকা এই মশা নানা ধরনের রোগ ছড়ায় এটা আমরা প্রায় সবাই জানি। তবে আমরা যেটা কল্পনাও করতে পারি না, কোনও প্রাণী যদি আমাদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হয়, সেটি মশা। খুদে এই উড়ুক্কু প্রাণী বছরজুড়ে সাড়ে সাত লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। আর এই মৃত্যুগুলোর বড় একটি অংশ আসে ম্যালেরিয়ার কারণে। এটির প্রভাব সবচেয়ে বেশি আফ্রিকায়। পৃথিবীর মোট ম্যালেরিয়া সংক্রমণের ৯৫ শতাংশ ও মৃত্যুর ৯৬ শতাংশ আফ্রিকায়। আরও যেসব বড় রোগের বাহক ছোট্ট এই প্রাণী, এর মধ্যে আছে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, জিকা, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস ইত্যাদি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গু। এ বছর ইতিমধ্যে এডিস মশার কারণে সৃষ্টি হওয়া ডেঙ্গু জ্বরে বাংলাদেশে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা ১০০-তে পৌঁছেছে।

(www.theoffnews.com - Bangladesh mosquito)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

বাসা কিংবা বাইরে, সব জায়গাতেই আমরা প্রায় প্লাস্টিকের বোতলে থাকা পানি কিনে পান করে থাকি। আবার অনেকেই ব্যবহৃত এসব খালি বোতলে পানি ভরে পুনরায় ব্যবহার করে এবং ফ্রিজেও রাখেন। কিন্তু প্রায় বেশির ভাগ মানুষই জানি না এই প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করায় ঠিক কতটা ভয়ংকর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি আমরা । প্লাস্টিকের বোতল সহজলভ্য এবং এর ব্যবহার সুবিধাজনক হলেও তা আমাদের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে আমাদের পান করা পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি থাকতে পারে, বিশেষ করে যখন প্লাস্টিকের বোতল থেকে সরাসরি পান করা হয়।

মাইক্রোপ্লাস্টিক ৫ মিলিমিটারেরও কম আকারের ক্ষুদ্র কণা পানির উৎসগুলোকে বিভিন্ন উপায়ে অনুপ্রবেশ করে, যার মধ্যে রয়েছে বড় প্লাস্টিকের ধ্বংসাবশেষ ভেঙে ফেলা, সিন্থেটিক টেক্সটাইল থেকে মাইক্রোফাইবার বের করে দেওয়া এবং প্লাস্টিকের বোতলের খণ্ডিতকরণ। গবেষণায় দেখা গেছে যে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলো বিস্তৃত। এগুলো কেবল আমাদের মহাসাগরই নয়, আমাদের মিঠা পানির উৎস এবং এমনকি আমরা যে বায়ু থেকে শ্বাস নিই তাও দূষিত করে।

আমরা যখন প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানিতে চুমুক দিই, তখন অজান্তেই এই মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং সতেজ তরলটি গ্রহণ করি। গবেষণাগুলোতে বিশ্বজুড়ে বোতলজাত পানির নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা সনাক্ত করেছে, এই ব্যাপক দূষণের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্লাস্টিকের বোতল এবং চর্মরোগ সংক্রান্ত পণ্যের মতো জিনিস থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক আমাদের দেহে প্রবেশ করার ক্ষমতা রাখে। ইনসুলিন প্রতিরোধ, ওজন বৃদ্ধি, প্রজনন স্বাস্থ্য হ্রাস এবং এমনকী ক্যান্সারের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা এই রাসায়নিকগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

যদিও মাইক্রোপ্লাস্টিক খাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে এখনও গবেষণা করা হচ্ছে, তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, এগুলো মানব স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্লাস্টিকের মধ্যে পাওয়া ক্ষতিকারক রাসায়নিক স্থানান্তর করার সম্ভাবনা।

(www.theoffnews.com - Bangladesh water plastic bottle)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

শীত কিংবা গরম সারা বছর অনেকেই ভোগেন হাতের তালু ঘামার মতো এমন সমস্যায়। এটি যেমন অস্বস্তিকর তেমনি তৈরি করে কাজের সমস্যার।

হাতের তালু ঘামে কেন ও এর প্রতিকার সম্পর্কে জানিয়েছেন এএমজেড হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের পুষ্টি, ওবেসিটি, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক ডিজিজ কনসালটেন্ট ডা. মো. জয়নুল আবেদীন দীপু।

হাতের তালু ঘামে কেন

ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশ (সিমপেথেটিক) অতি সংবেদনশীল হয়ে ঘাম-গ্রন্থিকে অতিরিক্ত সক্রিয় করলে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়। তখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হাত ঘামে। বিভিন্ন রোগের কারণেও হাতের তালু অতিরিক্ত ঘামতে পারে। যেমন-

১. থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা (হাইপার-থাইরয়েডিজম) থাকলে

২. ডায়াবেটিস

৩. অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তা

৪. হৃদযন্ত্রের সমস্যা থাকলে

৫. গর্ভাবস্থায়

৬. পারকিনসন ডিজিজ

৭. কিছু ক্যানসার

আবার কোনও রোগ ছাড়া অজানা কারণেও হাত অতিরিক্ত ঘামতে পারে।

হাতের তালু ঘামলে কী করবেন

ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ায় বা ব্যায়াম করলে কারও হাত স্বাভাবিকভাবে ঘামে, এতে কোনও ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু যদি ওপরে উল্লেখ করা অন্য কোনও কারণে বা কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হাতের তালু ঘামে তবে তা অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আর কারও যদি অতিরিক্ত ঘামের পাশাপাশি মাথা ঘোরানো, বুকে ব্যথা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা দ্রুত হৃদস্পন্দন ইত্যাদির লক্ষণ থাকে তাহলে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে যেতে হবে। যদি কারও অতিরিক্ত হাত ঘামার ফলে দৈনন্দিন কাজে বিঘ্ন ঘটে, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন। এক্ষেত্রে একজন মেডিসিন, হরমোন অথবা নিউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

কোনও রোগের কারণে হাতের তালু ঘামার সমস্যা হলে ডাক্তার উপযুক্ত কারণ চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেবেন। আর নির্দিষ্ট কোনও রোগ ছাড়া অতিরিক্ত হাতের তালুর ঘামের জন্য ডাক্তার মেডিকেটেড লোশন/স্প্রে ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। সাধারণভাবে জীবনাচার পরিবর্তন করে হাতের তালু ঘামার সমস্যা রোধ করা যেতে পারে। যেমন ঢিলেঢালা ও হালকা রংয়ের পোশাক পরে এবং সবসময় রুমাল/ ছোট তোয়ালে ব্যবহার করে হাত শুষ্ক রাখা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও খাবারের বিধি-নিষেধ নেই। তবে তৈলাক্ত খাবার ও ফাস্টফুড পরিহার করলে এই সমস্যায় উপকার পাওয়া যাবে।

(www.theoffnews.com - Bangladesh hand sweat)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

দেশীয় ফলের মধ্যে কলাই একমাত্র ফল, যেটি সারা বছর পাওয়া যায়। কলা খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। কলার উপকারিতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। কলার মধ্যে রয়েছে চিনি, আঁশ, ভিটামিন বি ৬, পটাশিয়াম। চলুন জানি, কেন বেশি কলা খাওয়া প্রয়োজন।

১. বিশেষজ্ঞরা ব্যায়ামের পরপর কলা খাওয়ার পরামর্শ দেন। কেননা এটি দ্রুত শক্তি যোগায় ।

২. কারও পেশি টানের সমস্যা হলে খেকে পারেন কলা। এটি পেশি ব্যথা বা টানের সমস্যা কমাতে খুব কাজ করে। এর মধ্যে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের জন্য এটি পেশির জন্য ভালো কাজ করে।

৩. শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক করতে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে কলা বেশ উপকারি। এটি পাকস্থলীর এসিড ও আলসার প্রতিরোধ করে।

৪. এটি মাইয়োকারডিয়াল ইনফেকশন ও স্ট্রোক প্রতিরোধে কাজ করে।

৫. ডায়রিয়া রোধে কলা খুব উপকারী। ডায়ারিয়া হলে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। কলা অন্ত্রের সমস্যা রোধ করে ডায়রিয়া কমাতে কাজ করে।

৬. কলার মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম। এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কাজ করে।

৭. এর মধ্যে রয়েছে আঁশ। তাই এটি বাউয়েল মুভমেন্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা কমাতে কাজ করে।

(www.theoffnews.com - Bangladesh banana)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

খাবার যত মজা করেই রান্না করুন না কেন, লবণ পরিমাণ মতো না হলে সেই খাবার পানসে আর বিস্বাদ লাগে। লবণের প্রয়োজনীয়তা কেবল খাবারের স্বাদ বাড়াতেই নয়, আমাদের শরীর সুস্থ রাখতেও এর ভূমিকা আছে। তবে যদি বেশি উপকার পাওয়ার আশায় বেশি লবণ খান তখন হিতে বিপরীত হবে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত লবণ তরল ধারণ করতে পারে। এটি হাড় থেকে ক্যালসিয়াম বের করে দিতে পারে, কিডনি নষ্ট করতে পারে এবং হার্টের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই লবণ খাওয়ার পরিমাণ পরিমিত হতে হবে। নয়তো সামান্য লবণের কারণে আপনাকে ভুগতে হতে পারে মারাত্মক সব অসুখে।

১. রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে

যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তারা লবণ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলবেন। কারণ অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ফলে দেখা দিতে পারে উচ্চ রক্তচাপ। সেইসঙ্গে এই অভ্যাস ডেকে আনতে পারে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনির সমস্যার ঝুঁকি। যাদের উচ্চ রক্তচাপ নেই তারাও অতিরিক্ত লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

২. কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা সৃষ্টি করে

অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ফলে তা হার্ট এবং রক্তনালীগুলোকে চাপ দিতে পারে। এথেরোস্ক্লেরোসিস, হার্ট অ্যাটাক এবং অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার এই অভ্যাস। তাই এসব সমস্যা থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

৩. কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট করে

অতিরিক্ত লবণ খেলে তা কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারণ লবণ বেশি খেলে তা কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। কিডনি ভালো না থাকলে তার প্রভাব পড়বে পুরো শরীরেই। তাই সময় থাকতে সতর্ক হোন।

৪. তরল ধরে রাখে

লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে, যে কারণে শরীরে ফোলাভাব সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত লবণ খেলে তা হাত, পা এবং গোড়ালিতে প্রচুর ফ্লুইড জমার কারণ হতে পারে। এর ফলে শরীরের এই অংশগুলো ফুলে যায়। এ ধরনের সমস্যা থেকে দূরে থাকার জন্য লবণ খাওয়ার পরিমাণ পরিমিত করতে হবে।

৫. অস্টিয়োপোরোসিস সৃষ্টি করতে পারে

হাড় থেকে ক্যালসিয়াম বের করে দিতে পারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস। এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাড় দুর্বল করে দিতে পারে এবং বাড়াতে পারে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি। তাই হাড় ভালো রাখতে লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। প্রথমদিকে মুখে ততটা স্বাদ না লাগলেও ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন।

(www.theoffnews.com - Bangladesh salt)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

প্রতিনিয়ত কাজের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন বা শারীরিক অসুস্থতা, নানা কারণেই আমাদের বাড়তে পারে মানসিক চাপ। তবে দীর্ঘ সময় মানসিক চাপে থাকলে তা যেমন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তেমন শারীরিক স্বাস্থ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন মানসিক চাপে ভুগতে থাকলে তা ত্বক ও চুলের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। 

ত্বকের লাবণ্য কমে যাওয়া, ত্বকে বয়সের ছাপ দ্রুত পড়ে যাওয়া, চুল পড়া এই সবই হতে পারে মানসিক চাপ থেকে। অবসাদ, মন খারাপ, ক্লান্তি থেকে হতে পারে গা-হাত-পায়ে ব্যাথা, মাইগ্রেনের সমস্যা এবং ত্বক ও চুলের সমস্যা।

নর্দার্ন ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ত্বক ও যৌনরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার তাসনীম খানের কাছ থেকে চলুন জেনে নিই মানসিক চাপের প্রভাবে আমাদের ত্বক এবং চুলে কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে –

ত্বকের ওপর মানসিক চাপের প্রভাব

১. অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শরীর ট্রেস হরমোন নিসঃরণ করে। যার ফলে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ত্বকে তেল উৎপাদন বেড়ে যায়। যারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ভুগছেন তাদের হরমোনাল ইমব্যালেন্সের কারণে ব্রন হতে পারে৷

২. স্ট্রেসের কারণে শরীরে কোলাজেন হরমোনের (যে হরমোন ত্বক টানটান রাখতে সহায়তা করে) ব্রেক ডাউন হয়। ফলে ত্বক কুঁচকে যাওয়া বা বলিরেখা পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩. অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শরীরে কর্টিসল নামক হরমোন বেড়ে যায়। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে ত্বকে চুলকানিসহ অন্যান্য চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

৪. মানসিক চাপের ফলে বেশিরভাগ মানুষের ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। রাতে ভালো ঘুম না হলে চোখের নিচে কালি পড়ে এবং ত্বকের স্বাভাবিক লাবণ্য কমে যায়।

৫. অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে ত্বক মলিন ও নিষ্প্রাণ হয়ে যেতে পারে। যার কারণে বয়সের আগেই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ার একটা প্রবণতা তৈরি হয়৷

৬. মানসিক চাপের কারণে অনেকেই খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েন। পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। ফলে ত্বকে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।

চুলের ওপর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব

● দীর্ঘকাল প্রচণ্ড মানসিক চাপে ভুগতে থাকলে ২-৩ মাস পর থেকে খেয়াল করবেন, আপনার অতিরিক্ত চুল পড়ছে, চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে বা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত স্ট্রেস চুল পড়ার অন্যতম কারণ। এটা শারীরিক বা মানসিক যেকোনো ধরনের স্ট্রেসের কারণেই হতে পারে। যেমন গর্ভাবস্থায়, কোনো পরীক্ষার আগে সেটা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন থাকলে, পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তিত থাকলেও প্রচুর চুল পড়তে পারে।  

● মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকলে বেশিরভাগ সময় মানুষ নিজের ব্যাপারে উদাসীন থাকেন। নিজের বা নিজের শরীরের যত্ন নিতে ভুলে যান। হয়তো চুলের যত্ন নেন না ঠিকমতো অনেকদিন ধরে। ফলে চুল পড়তে পারে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে৷

আরও

ওসিডি বা শুচিবাই রোগের চিকিৎসা কি

● এ ছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে শরীরে অতিমাত্রায় হরমোন নিসঃরিত হয়। ফলে অল্প বয়সে চুল পেকে যায়।

কিভাবে কমাবেন মানসিক চাপ?

বহুদিন ধরে মানসিক চাপে ভুগতে থাকার ফলে ত্বক ও চুলের যে ক্ষতি হয়, তার একমাত্র সমাধান মানসিক চাপমুক্ত থাকা। নিজের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া। কারণ মন ও শরীর একে অপরের পরিপূরক। তাই শরীরকে ঠিক রাখতে হলে অবশ্যই আপনার মনের যত্ন নিতে হবে।

চাপমুক্ত থাকার জন্য ব্যায়াম করতে পারেন। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

মানসিক চাপ যদি নিজে কোনোভাবেই কমাতে না পারেন তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

(www.theoffnews.com - Bangladesh mental tensions skin hair)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

অনেকেই আছে যারা রোদ-বৃষ্টি হোক আর না হোক অল্পতেই ঘেমে যান। ঘেমে প্রায় ভিজে যাওয়ার মতো হয়। ঘাম হওয়া স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত ঘাম মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। আর স্বাভাবিক ভাবেই ঘাম অস্বস্তি বোধ করেন সবাই। অল্পতেই ঘেমে যাওয়া এবং ঘাম থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানো ভয়ংকর কোনো রোগের লক্ষণ নয় তো—এ প্রশ্ন অনেকের। ঘামের অসহনীয় দুর্গন্ধ নানা রোগের সংকেত বহন করে থাকে। 

শারীরিক অসুস্থতার কারণেই অতিরিক্ত ঘাম ও দুর্গন্ধ হয়ে থাকে। দুর্গন্ধ মূলত কিছু রোগের পূর্ব লক্ষণ। যেমন ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, লিভার ও কিডনিজনিত সমস্যা। অতিরিক্ত ঘাম থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানো মূলত এক ধরনের অসুখ। এর নাম ক্রোম-হাইড্রোসিস। এটি বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। 

ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন: শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা ফাংগাল ইনফেকশন থাকতে পারে। Cornyebacterium’, ‘Staphylococcus Hominis’, ‘Cutivacterium Avidum’, ‘Acinebacter Schindleri’, ‘Staphylococcus Epidermidis’ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থাকতে পারে। এ জন্য অতিরিক্ত ঘামলে এবং ঘাম থেকে দুর্গন্ধ বের হলে সতর্ক হতে হবে।

শরীরে উৎপন্ন যাবতীয় বর্জ্য পদার্থ সমূহ শরীর থেকে মূলত লিভার ও কিডনির মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। লিভার ও কিডনি কোনো কারণে রোগে আক্রান্ত থাকলে এসব বর্জ্য পদার্থগুলো বের হতে বাধাগ্রস্ত হয়। তখন তা শরীরের ভেতরেই জমতে থাকে। এ কারণে ঘামলে দুর্গন্ধ হয়। এক্ষেত্রে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের দুর্গন্ধ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ তাদের সংক্রমণের তীব্রতাও বেশি থাকে।

এছাড়াও কিছু বিষয় রয়েছে। স্পেশালাইজড কিছু স্ক্রিন কনডিশনের কারণেও ঘাম থেকে দুর্গন্ধ হয়। বাহুমূল যাদের অন্যদের তুলনায় অতিরিক্ত কালো, তাদের এই সমস্যা হয়ে থাকে। অনেকের পায়ের নিচের চামড়ায় ছোট ছোট ছিদ্র দেখা যায়। এ কারণে অতিরিক্ত ঘাম থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। আবার কিছু বিরল রোগ রয়েছে, যার উৎপত্তি শৈশবে হয়। যেমন Trimethylaminuria’-তেও এমনটা হয়ে থাকে।

এদিকে অতিরিক্ত ঘামের কারণে অনেকের সাদা রঙের জামার রঙের পরিবর্তন হয়। সাদা পোশাক কখনো হলুদ বা বাদামি কিংবা কালো হয়ে যায়। এটা মূলত ঘাম সংক্রান্ত কারণেই হয়। এর নাম ক্রোম-হাইড্রোসিস। শরীরে এক ধরনের ক্ষরণ তৈরি হয়। যাকে ‘Lipofuscin Granules’ বলা হয়। আর এই রোগের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসার প্রয়োজন।

(www.theoffnews.com - sweat)


সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

দৈনন্দিন জীবনের ধারাবাহিক অনিয়ম কানুন মেনে চলার ওপর মানুষের সুস্থতা অনেকটা নির্ভর করে। শরীরের প্রতি অযত্ন থেকেই জন্ম নেয় রোগবালাই। তাই সুস্থ থাকতে কয়েকটি নিয়মে জীবনকে বাঁধা জরুরি। ব্যস্ততম জীবনে সব নিয়ম সব সময় মানা সম্ভব হয় না। তবে একেবারে সাধারণ কিছু অভ্যাসে নিজেকে অভ্যস্ত না করালে বিপদ হতে পারে। যে অভ্যাসগুলো মারাত্মক কিছু রোগ ডেকে আনতে পারে?

১. পানি কম খাওয়া

কাজের চাপে পানি খাওয়ার কথা মনেই থাকে না অনেকেরই। কিছুক্ষণ অন্তর পানি খাওয়া জরুরি। এতে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয় না। কিন্তু নিয়ম মেনে পানি খাচ্ছেন এমন মানুষের সংখ্যা কম। সুস্থ থাকতে পানি খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। পানির অভাবে কঠিন রোগ হওয়ারও ঝুঁকি থেকে যায়। নিজেকে সুস্থ রাখতে তাই বেশি করে পানি খাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

২. কম ঘুমানো

নিজেকে সুস্থ রাখার আরও একটি ধাপ হলো বেশি করে ঘুমানো। দৌড়ঝাঁপের জীবনে ঘুমই সবচেয়ে কম হয়। কাজের চাপ তো আছেই, সেই সঙ্গে মানসিক অস্থিরতাও ঘুম কম হওয়ার কারণ। দীর্ঘ দিন ধরে ঘুমের ঘাটতি অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা থেকে রক্তচাপের মাত্রা ঠিক রাখা, সবই সম্ভব যদি ঘুম ঠিকঠাক হয়।

৩. রাত করে খাবার খাওয়া

সুস্থ থাকতে চিকিৎসকেরা রাত আটটার মধ্যে খেয়ে নিতে বলেন। এতে হজমও ভালো হয়। গ্যাস-অম্বলের কোনো ভয় থাকে না। তাড়াতাড়ি খেয়ে নিতে পারলে তার চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু সবার পক্ষে তা সম্ভব হয় না। অনেকেরই বাড়ি ফিরতে অনেকটা দেরি হয়ে যায়। রাতের খাবার খেতেও আরও বিলম্ব হয়। রাত করে খাওয়ার অভ্যাসে তাই ভেতরে ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়ে শরীর।

৪. শরীরচর্চা না করা

নিয়মিত ব্যায়াম, যোগাসনের উপকারিতা বহু। সারা দিনে অন্তত যদি ১০ মিনিট শরীরচর্চা করেন, তা হলেও সুফল পাওয়া যায়। কিন্তু অনেকেরই শরীরচর্চার সঙ্গে একেবারে কোনো সম্পর্ক নেই। জিমে যাওয়া তো দূরের বিষয়, হাঁটাচলাও করেন না অনেকে। শরীরচর্চা না করার ফলে শরীরে বাসা বাঁধে নানা রোগবালাই।

৫. বাইরের খাবার খাওয়া

আট থেকে আশি, বাইরের খাবারের প্রতি ঝোঁক কমবেশি সবারই আছে। প্রতিনিয়ত এ ধরনের খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে জমা হচ্ছে ফ্যাট। বাড়ছে ওজন। স্থূলতার হাত ধরেই জন্ম নিচ্ছে কোলেস্টেরল, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো নানা রোগ।

(www.theoffnews.com - Bangladesh habits health)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

শরীর সুস্থ রাখতে পানির কোনো বিকল্প নেই। পানি কেবল তৃষ্ণাই মেটায় না, শরীরে পানির ভারসাম্যও ঠিক রাখে। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী কতটা পানি কোন কোন কাজে ব্যবহৃত হবে তার মাত্রাও ঠিক হয়। চিকিৎসকদের মতে, দাঁড়িয়ে পানি পান করার চেয়ে বসে পানি পান করা অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। শরীরের পেশি, হাড়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবস্থান, সবকিছুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পান করতে হবে পানি। রক্তচাপ, স্নায়বিক ক্রিয়াকলাপ, কিডনির কার্যকারিতা ইত্যাদি নানা দিক খতিয়ে দেখে, বসে পানি পানেরই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
দাঁড়িয়ে পানি পানের ক্ষতিকর দিক:
স্নায়বিক উত্তেজনার দিক খতিয়ে দেখলে বসে পানি পান করাই ভালো। চিকিৎসকদের মতে, দাঁড়িয়ে পানি পান করলে স্নায়ু উত্তেজিত হয় ও বাড়ে রক্তচাপ।
বেশিরভাগ সময়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায়। শরীরের ভিতরের ছাঁকনিগুলি কুঁচকে যায় ও নেফ্রনগুলো শরীর থেকে টক্সিন সরানোর সুযোগ পায় কম। তাই শরীরকে পরিশ্রুত করার কাজ বাধা পায়।
দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে ধাক্কা দেয়। পাচকরসের ক্ষরণ কমে হজমের সমস্যা দেখা যায়।
এভাবে পানি খেলে তা হৃদযন্ত্রের উপরেও অতিরিক্ত চাপ ফেলে। বুকের পেশির উপর এই চাপের ফলে বিষম খাওয়া থেকে শুরু করে শ্বাসরোধ পর্যন্ত হতে পারে।
করণীয়:
দাঁড়িয়ে পানি খাওয়ার খারাপ দিককে অনেকে সেভাবে পাত্তা দেন না। কিন্তু এটি সার্বিক ক্ষতিই করে। রাস্তাঘাটে সব সময় বসে পানি খাওয়ার উপায় থাকে না। তাই সময় কেবল তেষ্টা মেটার মতোই পানি পান করুন। পরে বসে পানি পান করার সুযোগ এলে ভালোভাবে পান করুন।
পানি পানের নিয়ম:
শরীর অনুযায়ী পানির প্রয়োজন বাড়ে-কমে। নিজের শরীরে কতটুকু পানি প্রয়োজন তা জেনে নিন চিকিৎসকের কাছ থেকে। এক জায়গায় বসে ছোট ছোট চুমুকে ধীরেসুস্থে পানি খান। পানি পান করার সময় কথা বলার চেষ্টা বা হাঁপাতে হাঁপাতে পানি পান করলে তা যেকোনো সময় শ্বাসনালীতে গিয়ে বড় বিপদ ঘটাতে পারে। তাই এড়িয়ে চলুন সেসব।
(www.theoffnews.com - Bangladesh water drinking stand)


সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

আমরা অনেকেই দুধ ও কলা খেতে খুবই পছন্দ করি। আর দুধ-কলা দুটিই অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান। দুধ-কলা একসঙ্গে একটি সুস্বাদু পানীয়র বিকল্প। ওজন বৃদ্ধি এবং শরীর গঠনের জন্য পুষ্টিবিদরাও দুধ এবং কলা খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই খাদ্য উপাদান একসঙ্গে খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে! 

দুধের উপকারিতা আলাদা। এটি প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ যেমন রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি ১২-এ ভরপুর। প্রতি ১০০ গ্রাম দুধে ৪২ ক্যালোরি রয়েছে। দুধে ভিটামিন সি এবং ফাইবারের মত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন নেই। এ ছাড়া এতে খুব কম কার্বোহাইড্রেট থাকে। মানুষ তাদের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে দুধের ওপর নির্ভর করে।

কলা ভিটামিন বি-৬, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাসিয়াম এবং বায়োটিনের ভালো উৎস। এই মিষ্টি ফলের প্রতি ১০০ গ্রাম ৮৯ ক্যালোরি রয়েছে। তাই এটি আমাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরা অনুভব করায়। কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ, কলাকে প্রায়শই অনুশীলনের আগে এবং পরে একটি দুর্দান্ত খাবার হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

দুধ-কলা একসঙ্গে খেলে যা হয়-

দুধ এবং কলার সংমিশ্রণ আপনার কাছে উপাদেয় হলেও তা স্বাস্থ্যকর নয়। এই দুটি জিনিসই একে অপরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে (যেমন দুধে ফাইবার থাকে না, যা কলায় থাকে)। এই দুটি জিনিসের একই পুষ্টি নেই। তবে এই দুটি জিনিস এক সঙ্গে খেলে নানা স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বলা হয়েছে, খাবার এবং তরল একসঙ্গে মেশানোর পদ্ধতিটি মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। আয়ুর্বেদিক তত্ত্ব অনুযায়ী, কলা এবং দুধ একসঙ্গে শরীরের ভিতরে বিষাক্ত উপাদান সৃষ্টি করতে পারে, যা অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এর পাশাপাশি, আয়ুর্বেদে বলা হয়েছে যে কলা এবং দুধ একসঙ্গে শরীর ভার করে দিতে পারে এবং মস্তিষ্কের কাজের প্রক্রিয়াও ধীর করে দিতে পারে।

কলা এবং দুধ খাওয়ার সর্বোত্তম উপায় অবশ্যই ব্যক্তি বিশেষে পরিবর্তিত হয়। আপনি যদি এটিকে প্রি-ওয়ার্কআউট বা ওয়ার্কআউট-পরবর্তী স্ন্যাক হিসেবে খেতে চান, তাহলে দুধ খাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট পর একটি কলা খেতে পারেন। দুধের সঙ্গে খাওয়া না গেলেও দইয়ের সঙ্গে কলা খেতেই পারেন।

তবে শরীরে যদি আগে থেকেই কোন স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকে বা যদি কোন অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কোন ওষুধ খেতে হয়, তাহলে কখন কী খাবেন আর কী খাবেন না, তা জানার জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

(www.theoffnews.com - Bangladesh milk banana)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

শীতে আসলে দেখা যায় অনেকের প্রস্রাবের চাপ বাড়ে। ঘন ঘন প্রস্রাব এই সময় বিরক্তির কারণও হয়ে দাঁড়ায়। আবার অনেকে পড়েন যান দুশ্চিন্তায়।চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন ডায়াবেটিস হলো কিনা জানতে। কিছু নিয়ম মানলে কমানো যায় প্রস্রাবের চাপ।

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ও সার্জন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, শীতকালে এই সমস্যা অনেকেরই হয়। গরমে আমরা অনেক বেশি পরিমাণ পানি পান করলেও সেগুলো ঘাম ও প্রস্রাব সহ নানা পথে বের হয়ে যায়। শীতকালে ঘাম হয় না। ফলে শরীর থেকে পানি বের হওয়ার একমাত্র উপায় মূত্রত্যাগ। তাই শীতকালে বারবার প্রস্রাবের বেগ পায়।

এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ঘন ঘন প্রস্রাব হলেই ডায়াবেটিস ভাবার কিছু নেই। গরমে যেখানে ৩-৪ লিটার পানি পান করা প্রয়োজন, শীতে একটু কমিয়ে ২.৫ লিটার পানি পান করা যেতে পারে। এতে প্রস্রাবের চাপ কমবে। আমরা পানি ছাড়াও শীতকালে শরীর গরম রাখা কিংবা ঠান্ডার জন্য মধু মিক্সড লেবু পানি পান করি। বারবার চা কফি পান করি। এসব কারণেও প্রস্রাবের বেগ হয়। এ ধরনের পানীয় কম পান করলে আরাম পাওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, কোনভাবেই প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না। এতে নানান ধরনের ক্ষতি হতে পারে। প্রস্রাব আটকে রাখলে ব্যথা হওয়া সহ কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শীতে কি ধরনের খাবার প্রস্রাবের চাপ বাড়ায় এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিদ জাহানারা আক্তার সুমি বলেন, অতিরিক্ত লিকুইড খাবার অতিরিক্ত প্রস্রাবের জন্য দায়ী। এর সঙ্গে আরও অনেকগুলো কারণ জড়িত। খাবারের পুষ্টি উৎপাদানের তারতম্য বা ভিন্নতার উপরও অনেক সময় প্রস্রাবের পরিমাণ নির্ভর করে।

যেমন খাবারের মধ্যে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে এর মধ্যে কিছু উপাদান প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য কাজ করে। উচ্চ ডায়েটারি সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার, ক্যাফেইনেটেড পানীয় যেমন কফি, কার্বনেটেড পানীয় যেমন কোক, স্প্রাইট  বা এলকোহল সমৃদ্ধ পানীয় প্রস্রাব বাড়ায়।

(www.theoffnews.com - Bangladesh winter urine)

রূদ্রাণী মিশ্র, লেখিকা ও কবি, কলকাতা:

১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ট্রমা দিবস (International Trauma Day).  আপনি বলতেই পারেন, ক‍্যালেন্ডারে তো কিছু না কিছু দিবস তো লেগেই আছে। এতে আর বলার কী আছে? না, বস্ এই দিনটি নিয়ে সত‍্যি সত‍্যি অনেক কিছু বলার আছে। ভাববার আছে। এই বিষয়টি নিয়ে আমরা যদি এখন থেকে চিন্তা ভাবনা না করি, তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম সুস্থ সমাজ গড়ার কথা ভাবতে পারবে না। একটি সুস্থ সমাজ মানে কিন্তু কেকের ক্রীম স্তরটি নয়। আর তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায়, যে একটি সমাজের পরিভাষা তাতে কতজন দিকপাল রয়েছেন। যেমনটা জাপান করছে। তাতেও কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য অবহেলিত রয়ে যাচ্ছে। তাই জাপান আত্মহত্যার তালিকায় প্রথম স্থান লাভ করেছে। আপনি কি এরকম একটা সমাজ চাইছেন? 

যাক, অনেক অন‍্য কথা হলো। এবার একটু দেখা যাক। ট্রমা কী? কেন হয়? কোথা থেকে জন্মায় ইত্যাদি। এখানে একটা কথা বলা জরুরি। বাঙলায়  ভয় বলে ইংরেজীর Fear আর Trauma কে এক পংক্তিতে আনা যাবে না। ভয় মানে হল, কিছু ভেবে নেওয়া। যাকে ইংরেজীতে বলা হয় Fight or Flight. কিন্তু ট্রমা হল মনে বসে যাওয়া এক বিভীষিকাময় স্মৃতি। আচ্ছা দুটির পার্থক্য বোঝাতে উদাহরণ দিয়ে বলতে চেষ্টা করছি। ধরা যাক আমার সাপের ভয় আছে। মানে হল, সাপ আমার সঙ্গে কি কি করতে পারে, আমি ভেবে নিলাম। এবার ধরা যাক আমি অ্যামাজনে ঘুরতে গেছি, অ্যানাকোন্ডা সাপের কবল থেকে কোনও ক্রমে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। সেটা আমার কাছে ট্রমা বা বিভীষিকাময় স্মৃতি হয়ে উঠবে।

ট্রমার সংজ্ঞা গুগল থেকে পাওয়া যায়। Trauma is an emotional response to a terrible event like an accident rape or natural disaster. তাহলে বলা যেতে পারে যে বিভীষিকাময় স্মৃতি। তাহলে এটাও দেখতে হবে যে ট্রমা কত ধরনের হয়। ১) acute trauma (শুধুমাত্র একটি ঘটনার জন্য…) 

২) chronic trauma (গার্হস্থ্য হিংসা। এজন্যই আমি বলি ডিভোর্স খারাপ শব্দ নয়)

৩) complex trauma (যা বারবার ঘটায় সৃষ্টি হয়)

এছাড়া কিছু ধরনের ট্রমার কারণ আছে। যেমন

১) বুলিং

২) কমিউনিটি ভায়োলেন্স

৩) ডিজাস্টার

৪) ছোট বয়সের কোনও ট্রমা

৫) খুব কাছের সঙ্গীর হিংসাত্মক ব‍্যবহার

৬) মেডিকেল ট্রমা

৭) ফিজিক্যাল এ্যাবিউজ

৮) যুদ্ধ

৯) প্রাকৃতিক ধ্বংস লীলা

১০) কিডন‍্যাপ

১১) টেররিস্ট কাজ

এই যে এত ধরনের ট্রমা আছে। জানেন এদের থেকে কি কি শারীরিক অসুস্থতা হতে পারে। হ‍্যাঁ আশ্চর্য হলেও ঠিক পড়েছেন। ট্রমা থেকে অনেক অসুস্থতাও তৈরি হতে পারে। যেমন,

১) বুকে ব‍্যথা

২) শুকনো ঠোঁট

৩) বমি বমি ভাব

৪) বুক ধড়ফড় করা

৫) ঘেমে যাওয়া

৭) কাঁপতে থাকা

৮) পেটের সমস্যা। (এটি কিন্তু আমার স্বচক্ষে দেখা একটি অভিজ্ঞতা আছে। আমরা তখন বেহালা থাকতাম। পাশের বাড়ির বাচ্ছাটি সবসময় পেটের অসুখে ভুগতো। তাদের বাড়িতে বাচ্ছাটিকে সবসময় রীতিমতো নানা রকম মানসিক চাপের মধ্যে রাখা হতো।)

৯)সবসময় ক্লান্ত

১০) মাথা ব‍্যথা

এতো গেল ট্রমার ভূমিকা। ট্রমার শিকার ৫০ শতাংশ লোকজন নিজে নিজেই ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। কান্না অনেক সময় ট্রমা কম করতে সাহায্য করে। তবে আমি এমন মাকেও দেখেছি, যিনি বাচ্চা কাঁদলে মারতেন। কি নৃশংস, না? যারা ট্রমা থেকে নিজে নিজেই বেরিয়ে আসতে পারেন না, সেক্ষেত্রে তাদের চিকিৎসার মাধ্যমে বের করে আনতে হয়। নয়তো তা আরও গভীরে গিয়ে PTSD (post traumatic stress disorder)তে পরিণত হয়। যা ট্রমার আরও ভয়ঙ্কর জটিল ধাপ।

এতো গেল নানা রকম ট্রমার গল্প। এবার খুব সাধারণ চিত্র, যা আমাদের অনেকের চোখের সামনে ঘটে থাকে। যা একপ্রকার ট্রমার চিত্র। তা নিয়ে দুটো কথা বলছি। যেমন অনেক মায়েরা মনে করেন যে বাচ্চাদের কথা শোনানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে, বেত্রাঘাত। বাচ্চাটি কথা শুনছে না যখন, তখন তাকে মেরে বা জুজুর ভয় দেখিয়ে তাকে দিয়ে কাজটা হাসিল করা যেতেই পারে। কারণ তার হিতার্থে এই মারপিট বা ভয় দেখানো। এটা একটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। আপনার থেকে খাওয়া মার বাচ্চাটির ট্রমা হতে পারে। আপনার দেখানো জুজুর ভয় বাচ্চাটির প্রাণহানির কারণ ঘটতে পারে (এরকম ঘটনা ঘটেছে)। এখানে আরেকটি কথা না বলে থাকতে পারছি না। সেদিন আমার এক বন্ধু থেকে শুনলাম, কোনও এক বিশাল নামকরা মনোবিদ নাকি বলেছেন, আপনার ছেলে যখন কথা শুনছে না, তাকে আড়ং ধোলাই দিয়ে কথা শোনান। আপনারা চিন্তা করতে পারছেন, কতটা অশিক্ষিত হলে একজন মনোবিদ হয়ে একথা বলতে পারেন? (আমি মনে করি না, আপনার শংসাপত্র আপনার শিক্ষার মাপকাঠি)। যে শিশু আপনাকে আশ্রয় করে বড় হচ্ছে। যার সবকিছু আপনাকে জুড়ে, তার কাছে চেঙ্গিস খাঁ হয়ে আপনি কৃতিত্ব লাভ করতে চাইছেন? কি ভয়ঙ্কর চিত্র! শিশুটি তো তার জীবনে চলার শুরুতেই নিজেকে একাকী মনে করবে। হ‍্যাঁ জানি, আপনি তর্ক করবেন, প্রমাণ দেবেন। সে আপনাকে কতটা ভালবাসে। একটু চিন্তা করুন তো। সে যদি আরেকটি আশ্রয় পেত, যেখানে তাকে নির্যাতন সহ‍্য করতে হয় না। তাহলেও কি আপনাকে ততটাই ভালবাসত? জানেন তো, আমরা মা বাবা হয়ে কি মনে করি। আমি যখন শিশুটির মা, বাবা, আমি তার সঙ্গে যা ব‍্যবহার করছি। সব ঠিক। না। একদম ভুল ভাবছেন, আপনি। আপনার খারাপ ব‍্যবহার শিশুটিকে যদি ট্রমাটাইজ করে। তাহলে আপনি যা করছেন, পুরোটাই ভুল। আজ যে শান্ত শিষ্ট ভদ্র মানুষ আছেন। তিনি যদি এই ট্রমার অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ হন। তাহলে তিনি পুরো বদলে যেতে পারেন। আচ্ছা বলছি, ট্রমার জন্য চরিত্রে কি কি বদল আসতে পারে। 

১) denial 2) anger 3) fear 4) sadness 5) shame 6) confusion 7) anxiety 8) depression 9) numbness 10) guilt 11) hopelessness 12) irritability 13) difficulty concentration  

এগুলো হলো ট্রমা আক্রান্ত ব‍্যক্তির আবেগের বহিঃপ্রকাশ। 

আপনি যদি কখনও কাউকে ট্রমা আক্রান্ত মানুষ খুঁজে পান। তাহলে পারলে তাকে একটু মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিন। আর কাউকে ট্রমাটাইজ করার আগে, একটু ভাবুন, এটা কি একজন মানুষের কাজ? আমার তো কমপক্ষে চেষ্টা করতে পারি, একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার। তাই না?

(www.theoffnews.com - trauma)

সুজাতা দাস, লেখিকা ও সমাজকর্মী, কলকাতা:

থ্যাঙ্কস আঙ্কেল-

ওয়েলকাম বেটা-

আপনে থ্যাঙ্কস কিউ বোলা?

আপ হামে ব্লাড যো দিয়া-

ম্যয় তো কভি ব্লাড ডোনেট নাহি কেয়া বেটা!

আগলে বার কর দেনা ঔর কিসিকো মিল জায়েগা--

এটা একটা অ্যাড্ আমরা প্রত্যেকেই এই অ্যাডটা কম বেশি সকলেই দেখেছি-

আপনিও দেখেছেন-

কিন্তু রক্ত দিয়েছেন কখনও?

হ্যা আপনাকেই বলছি; দিন রক্ত কিছু অসহায় শিশুর জীবনের জন্য- যদি আপনি সুস্থ হন তাহলে অবশ্যই দান করুন এই বাচ্চা গুলোর জন্য।

হ্যা-একদম ঠিক ধরেছেন আমি থ্যালাসেমিয়া সম্বন্ধে কিছু বলবো। যদিও এই ব্যপারে কিছু বলার মতো আমি নিজেও জানি না। তবুও-বিবাহ দিতে তৈরি পিতামাতাকে বলছি আপনাদের সন্তানকে বিবাহ দেবার পূর্বে একবার রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিন। যাতে নতুন কোনও শিশু জন্মের পরে এই রোগে আক্রান্ত না হয়। আপনাদের ভবিষ্যত বংশধর যাতে সুস্থ ভাবে এই পৃথিবীতে আসেন তার জন্য জরুরি (হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস) নামক রক্ত পরীক্ষা। অবশ্যই করিয়ে নিন-যেন আপনাকেও একই কষ্ট ভোগ করতে না হয়।

আসলে কিছু কুসংস্কার ও অপসংস্কৃতির ভয়ে অথবা বিয়ে হবে না, এর পরিপেক্ষিতে সকলে এই রক্ত পরীক্ষাতে পিছিয়ে যান। এটা শুধু গ্রামের অশিক্ষিত পরিবার গুলোতে নয় শহরের অনেক শিক্ষিত পরিবারেও এগুলো দেখা যায়। শুধু বিশদে না জানার কারণে এই অনর্থ ঘটিয়ে ফেলেন আর ঠাকুরকে দোষারোপ করে চলেন প্রতিনিয়ত। আর প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ তো এতটাই কুসংস্কারাচ্ছন্ন যে এই অসুখের উপসর্গ গুলো ঘটতে থাকা কালিনও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাবার কথা ভাবেন না; অজ্ঞতার কারনে ঝাড়ফুঁক- তাবিজ কবচ- মন্দির মসজিদ করে বেরান। শেষের সময় যখন এই রোগের উপসর্গ বৃদ্ধির ফলে বাচ্চার অবস্থা শেষের পর্যায়ে পৌছায় তখন সেই অজ্ঞতার কারনেই স্ত্রী আর সন্তানকে ফেলে পালিয়ে যান। ছোঁয়াচে ভয়ে এঁদের থেকে দুরে সরে যান পরিজনেরা- শুধু অজ্ঞতার কারনেই যখন এই সময় নিজের জনেদেরই বেশি পাশে থাকা দরকার।

এবার আসি কী কী উপসর্গ দেখা দেয়- প্রচন্ড ঠান্ডা লেগে যাওয়া আর সারতে না চাওয়া, অতিরিক্ত আয়রণ, হাড় প্লীহা বড় হওয়া, ত্বক হলদে হওয়া, দুর্বলতা, সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট- মুখের হাড়ের বিকৃতি, হৃদপিন্ডে সমস্যা- গাঢ় রঙের প্রস্রাব ও পেট বেড়িয়ে যাওয়া। এগুলোর কোনও একটা উপসর্গ দেখা গেলে অবশ্যই নিকট স্বাস্থ্য কেন্দ্র গিয়ে ডাক্তারবাবুর পরামর্শ মতো চলুন। থ্যালাসেমিয়ার প্রধানত দুই ধরন- আলফা ও বেটা; বেটার তীব্রতা আলফার থেকে অনেক বেশি- তাই সময়ে চিকিৎসা শুরু না হলে শিশুর মৃত্যু অবধারিত।

সারা বিশ্বে এক লক্ষেরও বেশি শিশু প্রতিদিন জন্ম নেয় এই অসুখ নিয়ে এবং প্রতিটি শিশু বছরে বারো বার রক্ত নেয়- একজন সুস্থ রক্ত দাতা বছরে চারবার রক্ত দিতে পারেন মাত্র; মাথাপিছু গড়ে একটি থ্যালাসেমিয়া রুগির জন্য চারজন দাতার প্রয়োজন পরে। শুধু মাত্র ঠিক সময়ে রক্ত না পাওয়ার কারনে কত শিশু মারা যায়- পরিসংখ্যানে চমকে উঠতে হয়। আবার বারবার রক্ত নেবার ফলে রক্তে লোহার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া একটা পার্শপ্রতিক্রিয়া হয়; সেই লোহার মুক্তির জন্য আবার আয়রণ চিলেশন থেরাপী অবশ্যই করতে হবে, না হলে এখানেও মৃত্যু অবধারিত। থ্যালাসেমিয়ার একমাত্র চিকিৎসা হলো অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন-আর সব থেকে সহজ উপায় হলো কোনও বাচ্চাকে থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মাতে না দেওয়া।

এই থ্যালাসেমিয়া মুক্ত সমাজ গড়তে হলে সবার আগে যেটা আপনাকে করতে হবে - ছেলে মেয়ে বিয়ে দেবার আগে সেই ছেলে মেয়ের অবশ্যই- হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস নামক রক্ত পরীক্ষা করান। তাতে একজন সুস্থ বংশধর আপনার উঠোনে খেলা করতে দেখবেন। শুধু ওই পরিবারের আর্থিক অবস্থা দেখবেন না। শুধু দেখুন আপনার সুস্থ বংশধর। এক জন যদি বাহক হন তবে সেই পরিবারে একটি মানে ২৫% জন্ম নেবেই সন্তান বাহক শিশু জন্ম নেবে শতকরা ৫০% আর ২৫% সুস্থ বাচ্চা হবার সম্ভবনা থাকবে। তাই বিবেচনা আগে করুন যাতে আপনি পরে নিশ্চিন্তে দিন কাটাতে পারেন।

আমার একটাই নিবেদন অবশ্যই সবকিছু জানার পরই সম্পর্ক তৈরি করুন। আসুন আজ সকলে মিলে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিই হাতে হাত মিলিয়ে। আর আপনি যদি সত্যিই সুস্থ হন অবশ্যই আপনার অমূল্য রক্ত দান করে একটা শিশুকে অন্তত কিছুদিন এই সুন্দর পৃথিবীতে বাঁচার সুযোগ করে দিন প্লিজ...

(www.theoffnews.com - thalassemia)

সাজিয়া আক্তার, রেসিডেন্সিয়াল এডিটর (বাংলাদেশ), দ্য অফনিউজ:

এটি একটি মারাত্মক ও অনিরাময়যোগ্য রোগ বলে চিকিৎসকরা মনে করেন। এই রোগে আক্রান্ত হলে যকৃতে ট্রান্সপ্লান বা প্রতিস্থাপন ছাড়া পুরোপুরি আরোগ্য হয় না। লিভারের নানারকম রোগের মধ্যে লিভার সিরোসিসকে চূড়ান্ত পর্যায়ের একটি রোগ বলে গণ্য করা হয়। এই কারণে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের প্রতি গুরুত্ব দেন চিকিৎসকরা।

লিভার সিরোসিস কি?

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এনএইচএস এর তথ্য অনুযায়ী, যখন লিভারের রোগের নানা পর্যায়ের পর কোষগুলো এমনভাবে আক্রান্ত হয় যে লিভার আর কাজ করতে পারে না সেই পর্যায়কে লিভার সিরোসিস বলে বর্ণনা করা হয়। যখন এই রোগে আক্রান্ত হয় তখন লিভার বা যকৃত তার স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না। যেমন...

১. বিপাক ক্রিয়া

২. রক্ত জমাট বাঁধার উপকরণ তৈরি

৩. ওষুধ বা রাসায়নিকের শোষণ

৪. খাদ্যে পুষ্টি উপাদানের ব্যবস্থাপনা

৫. লিভার সিরোসিস হলে লিভারে সূক্ষ্ম সুতার জালের মতো ফাইব্রোসিসের বিস্তার ঘটে

৬. যকৃতে ছোট ছোট দানা বাঁধে ও সেটির বিস্তার ঘটে

৭. ফাইব্রোসিস ছড়িয়ে পড়লে লিভার সংকুচিত হয়ে পড়ে।

লিভার সিরোসিস কেন হয়?

ন্যাশনাল লিভারের ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী বি.বি.সি বাংলাকে বলেছেন, বি.সি এবং ডি ভাইরাসের আক্রমণে লিভারে প্রদাহের তৈরি হয়। লিভারে প্রদাহের তৈরি করে বলেই একে বলা হয় হেপাটাইটিস, ফলে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন ধরে বি ও সি ভাইরাসের আক্রমণে লিভার বা যকৃতের কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে যায়, কার্যক্রম আস্তে আস্তে ব্যাহত হয়। একেই লিভার সিরোসিস বলা হয়ে থাকে।

লিভার সিরোসিস হওয়ার একটি বড় কারণ ফ্যাটি লিভার বা যকৃতি চর্বি জমে যাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে লিভারে যদি চর্বি জমে গেলে লিভারের কার্যকারিতা কমে যায়।

বাংলাদেশের অন্তত ২০ শতাংশ মানুষ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বলে সরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে।

ফ্যাটি লিভারের কারণ

চর্বি তৈরির প্রধান কারণ অ্যালকোহল। এটি ছাড়াও অনেক কারণে চর্বি হয়ে থাকে। অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপে ভুগলেও ফ্যাটি লিভার অনেক বেশি হয়। এর বাইরে বিভিন্ন ওষুধ সেবন অথবা অন্যান্য রোগের কারণে ফ্যাটি লিভার হয়ে থাকে। স্বাভাবিক ওজন কিংবা কম ওজনের মানুষেরও হতে পারে, সেটিকে লিন ফ্যাটি লিভার বলা হয়।

ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ

ফ্যাটি লিভার অনেকটা নীরব ঘাতক। স্বাভাবিক বা ফ্যাটের সময় কোনো মানুষই সেভাবে বুঝতে পারেন না। আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে গিয়ে ধরা পড়ে। শুরুর দিকে লিভারের চারপাশে কিছু চর্বি জমা হয়, অন্য কোনো লক্ষণ থাকে না। এরপর ধীরে ধীরে সেখানে প্রদাহ শুরু হয়। এ সময় লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুরুতে শরীরে শক্তি কমে যায় এবং দুর্বল অনুভব করে। ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। এর বাইরে জন্ডিস হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন অংশ, চোখ, মুখ, হাত হলুদ হতে পারে।

লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা

চিকিৎসকরা যকৃতের রোগে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিকারের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেন। বর্তমানে বিশ্বে লিভার সিরোসিসের অনেক আধুনিক চিকিৎসা উদ্ভাবিত হয়েছে। বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি-র ক্ষেত্রে শিশুদের জন্মের পরপরই টিকা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্করাও এই টিকা নিতে পারেন।

হেপাটাইটিস সি- থেকে বাঁচতে এক রেজরে একাধিক ব্যক্তির শেভ না করা, রক্ত পরিসঞ্চালন ব্যবস্থা পরীক্ষা করে নেয়া, অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক পরিহার - ইত্যাদির মাধ্যমে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।দুষিত পানি, অতিরিক্ত মদ্যপান, খোলা ফলমূলের মতো যেসব কারণে যকৃতের রোগ হয়, সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

(www.theoffnews.com - Bangladesh liver cirrhosis)