Articles by "বিকিকিনির লক্ষ্মীঝাঁপি"
Showing posts with label বিকিকিনির লক্ষ্মীঝাঁপি. Show all posts

সুকন্যা পাল, ম্যানেজিং এডিটর, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

'ধারা ১২৮এ (Section 128A) হলো গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST) আইন এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এটি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ক্ষমতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি সম্পর্কিত।

ধারা ১২৮এ অনুযায়ী, উপভোক্তা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যদি কোনো গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST) বা সম্পর্কিত বিধি লঙ্ঘন করে, তবে তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা যেতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা সংস্থা সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স সম্পর্কিত সমস্ত আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে এবং কোনও ধরনের দুর্নীতি বা অপরাধ হতে পারবে না।' এমন কথাই বললেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে ডাইরেক্টোরেট অফ কমার্শিয়াল ট্যাক্সের অ্যাডিশনাল কমিশনার অফ রেভিনিউ এন্ড পাবলিক রিলেশনস অফিসার জয়জিৎ বণিক।ভারত চেম্বার অফ কমার্সের কলকাতা দফতরে আয়োজিত এক সেমিনারে জয়জিৎবাবু বক্তব্য রাখছিলেন। গত ২১ জানুয়ারিতে আয়োজিত ওই আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল 'জিএসটি অ্যামনেস্টি স্কিম আন্ডার সেকশন ১২৮এ'।

ওই আলোচনা সভায় তিনি বলেন, "এই ধারায় মূলত অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। এটি সাধারণত ট্যাক্স বা সার্ভিস ট্যাক্স লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত হয়।''

জয়জিৎবাবু আরও জানান, জিএসটি আওতায় ধারা ১২৮ উপভোক্তা স্কিম সম্পর্কিত একটি বিধান যা মূলত ফ্রড, দুর্নীতি বা অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এটি সরকারকে পরবর্তীতে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে একজন উপভোক্তার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার দেয়, যদি কোনো ক্ষতি বা দুর্নীতির শিকার হন তারা।

এই ধারায় মূলত পণ্যের সঠিক মূল্য এবং ট্যাক্সের বিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে উপভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে এবং অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রতিরোধ করা যায়।

ধারা ১২৮এ এর মূল উদ্দেশ্য হলো যদি কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জিএসটি আইন বা তার বিধি লঙ্ঘন করে, তবে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদন গ্রহণ করতে পারে এবং অভিযোগটি নির্দিষ্ট তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া, যা নিশ্চিত করে যে আইন ঠিকভাবে পালন হচ্ছে এবং কোনও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।কী ধরনের বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে: কোনও অবৈধ ট্যাক্স ক্রেডিট গ্রহণ যেমন, ভুয়া ইনভয়েসের মাধ্যমে ট্যাক্স ক্রেডিট নেওয়া।অব্যাহত বা অসম্পূর্ণ ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া।অথবা গুজব, মিথ্যা তথ্য বা প্রতারণার মাধ্যমে পণ্যের বা সেবার উপর জিএসটি প্রদান না করা

প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা সংস্থা কর্তৃক কার্যক্রম হলো যথাক্রমে অভিযোগের তদন্ত: অভিযোগ পাওয়ার পর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা তদন্ত করতে পারেন, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় অভিযোগটি সঠিক কিনা। শাস্তি বা জরিমানা: যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা বা শাস্তি আরোপ করা হতে পারে। বিচারিক ব্যবস্থা: কিছু ক্ষেত্রে, এটি বিচারিক ব্যবস্থা নিতে বা আদালতে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এটি প্রয়োগের প্রক্রিয়াগুলো বলতে

১. অভিযোগ পাওয়া: যদি কোনও পক্ষ জিএসটি লঙ্ঘন বা অপরাধ ঘটায়, তা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করা হতে পারে।

২. তদন্ত শুরু: অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে।

৩. সাজা বা জরিমানা: যদি তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তি আরোপ করা হয়।

(www.theoffnews.com GST)


সুকন্যা পাল, ম্যানেজিং এডিটর, দ্য অফনিউজ, কলকাতা:

সময়ের সঙ্গে সবকিছুই তো বদলায়। প্রত্যাশিত নিয়মে। অতএব ভারতের কোম্পানি আইন বা খোমাকা যুগের সঙ্গে নিত্যনতুন প্রয়োজন মাফিক তাল মিলিয়ে পাল্টাবে না কেন? সেটারও পট পরিবর্তন ঘটেছে নানা আঙ্গিকে। কিন্তু কি কি পাল্টে গেল কোম্পানি আইনের প্রেক্ষাপটে? তারই সুলুক সন্ধানে এক মনোজ্ঞ আলোচনার আয়োজন করেছিল মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি। মঙ্গলবার এই বণিকসভা অনুষ্ঠিত হয় কলকাতা স্থিত নিজস্ব দফতরে।

আলোচনার মুখ্য বিষয়বস্তু ছিল, 'ভারতের পরিবর্তিত কোম্পানি আইন।' সেই আলোচনায় মুখ্য বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি সাবিত্রী পারেখ। আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, '১৯৫৬ সালে ভারতে প্রথম কোম্পানি আইন লাগু হয়। দেশের মধ্যে কোম্পানিগুলো কিভাবে কোন বিধি ও নিয়মাবলী মেনে চলবে তারই বিস্তারিত উল্লেখ ছিল তাতে। ক্রমেই মানুষের জীবনধারা পাল্টাতে থাকে। দেশীয় কোম্পানিগুলোতেও নিজস্ব পৃথক চাহিদার সৃষ্টি হয়। ফলস্বরূপ দেশ আবার তা সংস্কারের উপর জোর দেয়। প্রত্যাশিত ভাবেই ২০১৩ সালে এই কোম্পানি আইনে বেশকিছু রদবদল ঘটানো হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ফের এটিকে সংশোধন করা হয়।'

বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, 'পূর্বের আইন অনুসারে অডিটে স্বচ্ছতার পাশাপাশি শেয়ার হোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার, কোম্পানির নিবন্ধীকরণের উপর আইন যথেষ্ট পর্যায়ে কার্যকর থাকতো। বর্তমানে সংশোধিত আইনে পূর্বের উল্লেখিত এসবের পাশাপাশি কোম্পানি ব্যবস্থাপনার উপরে যথেষ্ট জোর দেওয়া হয়েছে।' তাঁর আরও মন্তব্য, ২০১৩ সালে কোম্পানি আইন কিছুটা পাল্টানোর ফলে, বর্তমানে কোম্পানির একক শেয়ার হোল্ডারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আগের নিয়মে প্রাইভেট কোম্পানিতে নূন্যতম দুইজন ও পাবলিক কোম্পানিতে কমপক্ষে সাতজন শেয়ার হোল্ডার থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। সেখানে ব্যাপক শিথিলতা আনা হয়েছে নয়া আইনের আওতায়। কোম্পানি নিবন্ধনীকরণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ফর্ম পূরণের সুযোগ রয়েছে যা অতি সরলীকরণের এক অন্যতম মাধ্যম। পাবলিক কোম্পানিতে অডিট কমিটি গঠনের বাধ্যতামূলক সংস্থান রয়েছে। যাতে স্বচ্ছতা আরও বেশি মাত্রায় বজায় রাখা যায়। আর্থিক প্রতিবেদনে কঠোর মানদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এমনকি কোম্পানি আইন লঙ্ঘনকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আরও কঠিন ধারা বলবৎ করা হয়েছে নতুন আইনের মধ্য দিয়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

(www.theoffnews.com Indian Company Act)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

প্রথম দৃশ্য (যদি এমনটা হতো): ইডেন উদ্যান থেকে বলছি অজয় বসু। আপাতত সারা খেলাটা কেমন যেন খুবই প্রথাগত। নতুনত্ব কোথায়? একেবারে অন্তিমলগ্ন চলছে ভারত পাকিস্তানের টেস্ট ম্যাচ। খেলার শেষে একদম শেষ ওভারের শেষ বল। বল করতে আসছেন ইমরান খান। হাইকোর্ট প্রান্ত থেকে দৌড় শুরু করেছেন। অপর দিকে ব্যাট হাতে তৈরি কপিল দেব। একি? একি ঘটলো। সপাটে ব্যাট ঘুরিয়েছেন। ওভার বাউন্ডারি। বল যে স্টেডিয়ামের বাইরে।

দ্বিতীয় দৃশ্য (এমনটা যে ঘটলো): সংসদের ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বলছি নির্মলা সীতারমন। আপাতত পূর্ণাঙ্গ বাজেট পরিবেশনের মধ্যে চমক কোথায়? সবই যেন বিগত বাজেটগুলোর কপিবুক। বিরোধীরা তো মোছে তা দিতে শুরু করেছেন, বাজেট পর্ব শেষ হলেই মোদীর মুন্ডুপাত করবে, এই বাসনায়। এপর্যন্ত তো সবই চলছিল একদম একঘেয়েমির ঘরাণায়। কিন্তু একি? বাজেট শেষ হতে মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি। আরে একি ঘোষণা করলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী? দেশবাসীকে চমকে দিয়ে বারো লক্ষ টাকা (আসলে বারো লক্ষ পঁচাত্তর হাজার টাকা) পর্যন্ত বার্ষিক আয়ের উপর সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট রেটের নতুন কাঠামোতে আয়কর মুক্তের প্রস্তাব রেখে বসলেন। এতো সেই শেষ বলে ছক্কা হাঁকানো কান্ড। বিরোধীরা দেখলো মাথার উপর দিয়ে সমালোচনার সমস্ত অস্ত্র সংসদ ভবণ ছাড়িয়ে আপাতত আছড়ে পরলো পার্শ্ববর্তী যমুনার জলে।

উপরোক্ত দুটি দৃশ্য কেমন যেন একই নাটকীয়তায় ভরপুর। একদম শেষ প্রান্তে এসে চুড়ান্ত ক্লাইমেক্সের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী থ্রিল। গতকাল ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ মোদী সরকারের তরফে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন। ইতিমধ্যেই সারা দেশ জুড়ে মধ্যবিত্তের মধ্যে একটা আচমকা খুশির জোয়ার দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা নিজস্ব রাজনৈতিক অস্তিত্বের তাগিদে সমালোচনা করতে হবে বলেই তাই ক্রিটিসিজিমের ট্রিগার টিপছেন বটে। কিন্তু সেই কার্তুজ বুমেরাং হয়ে যাচ্ছে ক্রমেই তাও তাঁরা বুঝতে পারছেন। কারণ সমগ্র দেশের বড় বড় অর্থনীতিবিদরাও ঘুণাক্ষরে অনুমান করতে পারেননি যে মধ্যবিত্তরা এতো বৃহৎ পরিসরে কর ছাড় পেতে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বাজেট নির্ভর মাস্টার স্ট্রোকে কার্যত এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন। খুশ আমআদমি সঙ্গে বিরোধীরা কার্যত দিশেহারা।

আর এই বাজেটের নয়া নার্ভটা ততক্ষণে বুঝে গেছে ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স। শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার হোটেল হিন্দুস্থান ইন্টারন্যাশনালে আয়োজিত হয়েছিল এই বাজেট সংক্রান্ত আলোচনা সভা। উল্লেখ্য এটাই, উপস্থিত সব বক্তারাই এই ইস্যুটাকে অতি গুরুত্ব সহকারে তাঁদের বক্তব্যের মধ্যে তুলে ধরেন। সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেন, এমন কর ছাড় বেতনভুক্ত কর্মীদের অতিরিক্ত ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। ফলে খোলা বাজারে টাকার সূচক এতে তেজি হতে বাধ্য। এমনকি উদার অর্থনীতির পথও এতে অনেকাংশে মসৃণ হলো। এছাড়া এক কোটি নাগরিককে এবার থেকে আর আয়কর দিতে হবে না এই বাজেটের ফলে। এই আলোচনায় বক্তব্য রাখেন অর্থনীতির অধ্যাপিকা সাহানা রায়চৌধুরী, ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের আয়কর বিশারদ পল্লভ গুপ্ত সহ ধ্রুব অ্যাডভাইসরসের তরফে আদিত্য হান্স, বৈভব জাজু, বসন্ত গোধ্যান, বিশাল জৈন প্রমূখ।

মধ্যবিত্তের আয়করে বৈপ্লবিক ছাড়ের পাশাপাশি অনগ্রসর জাতি ও অনগ্রসর উপজাতির মহিলারা নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুই কোটি টাকা টাকা পর্যন্ত বিনা সুদে ঋণ পেতে পারেন। এতে উপকৃত হবেন দেড় লক্ষ মহিলা। এই ইস্যুতেও বক্তারা আলোকপাত করেন। তাঁদের বক্তব্য, দেশে অনগ্রসর শ্রেণির মহিলারা এর ফলে নয়া উদ্যোগ গঠনে উৎসাহিত হবেন।

আলোচকরা আরও বলেন, 'এই বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে উৎসাহিত করার একটা প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে। এমএসএমই নথিভুক্ত শিল্পের ক্ষেত্রে রপ্তানিতেও বিশেষ ছাড় অবশ্যই ভারতের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে এআই প্রসঙ্গে বাজেটের কিছুটা সমালোচনা করেন আদিত্য হান্স। তিনি বলেন, 'এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়ে বাজেটে যে বরাদ্দ করা হয়েছে তা নগন্য।' অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাজেটের মাধ্যমে পাঁচশো কোটি টাকা ব্যয় করে এআই সেন্টার ফর এক্সিলেন্স গড়ে তোলা হবে। এখানেই আদিত্যবাবুর মন্তব্য, 'উচিৎ ছিল এই খাতে নূন্যতম পাঁচ হাজার কোটি টাকার সংস্থান রাখা। দিনে দিনে এই দেশে এআইয়ের চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে। এই ক্ষেত্রে কর্ম সংস্থানের ব্যাপক সুযোগ ঘটছে। তাই কেন্দ্রীয় সরকার এবিষয়ে আরও মনোযোগী হলে দেশের পক্ষে খুবই মঙ্গলকর হবে।' এছাড়াও বাণিজ্যিক ও কর্পোরেট ট্যাক্সের হার অপরিবর্তিত না রেখে কিছুটা হলেও বাড়তি ছাড় দিলে বণিকমহলও কিছুটা স্বস্তি বোধ করতেন বলে তিনি মনে করেন।

তবে বক্তারাও এও একবাক্যে মেনে নিয়েছেন সারা বিশ্বে যেখানে অর্থনৈতিক অস্থিরতা চলছে সেখানে ভারতের বুনিয়াদ বর্তমানে যথেষ্ট উৎসাহব্যঞ্জক। ভারতের মুদ্রাস্ফীতি ক্রমশঃ নিম্নগামী। আর দেশের জিডিপি গ্রোথ হলো উর্ধ্বমুখী। এখন আমাদের দেশে জিডিপি হার ৬.৩ শতাংশ। তা অচিরেই বৃদ্ধি পেয়ে ৬.৭ শতাংশ হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এই বাজেটকে ঘিরে। যা বিশ্ব অর্থনীতির পরিসরে ভারতের অবস্থান অনান্য অনেক দেশের কাছে ঈর্ষণীয় বলে তাঁরা অভিমত প্রকাশ করেন।

(www.theoffnews.com Indian Union Budget 2025-26)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

একেই বলে, নিজের বলবৎ করা আইন নিজেই অমান্য করে।

হ্যাঁ শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। অনেকটা বাঘের ঘরে ঘোগের বাসার মতো অবস্থা যাকে বলে। এ'প্রসঙ্গে জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচনার আতস কাঁচের নিচে অবশ্যই টেনে আনা যায় সিজিএসটি বা 'সেন্ট্রাল গুডস এন্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স'কে।

দেশের আইন অনুসারে ২৬৯ এসটি ধারা অনুযায়ী একদিনে ভারতীয় মুদ্রায় নগদে দুই লক্ষ টাকার বেশি লেনদেন করা যায় না। অন্যথায় সেটা সম্পূর্ণ বেআইনি লেনদেন হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে। অনন্ত কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয় সুপারিশেই এমনতর আইন দেশব্যাপী লাগু করা হয়েছে। অথচ জিএসটি (গুডস এন্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স)'র রেভিনিউ আদায়ের একটি অতি বিশেষ ক্ষেত্রে এই নিয়মকে মানেই না কেন্দ্রীয় অর্থ দফতরের সরাসরি নিয়ন্ত্রিত সিজিএসটি। প্রয়োজন পড়লে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে ২৬৯ এসটি ধারা উপেক্ষা করে একদিনে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করা হয়।

বিষয়টা এরকম, জিএসটি সংক্রান্ত রেভিনিউ সঠিক মাত্রায় আদায়ের জন্য সদা জাগ্রত সারা দেশের সিজিএসটি'র সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা। যাতে কেউ বা কোনও সংস্থা জিএসটি ফাঁকি না দিতে পারে তার জন্য নানা সময়ে বিভিন্ন জায়গায় সিজিএসটি আধিকারিকেরা নিয়মিত অভিযানও চালিয়ে থাকেন। এমনকি ক্ষমাযোগ্য রকমারি আকর্ষণীয় নিয়মানুযায়ী স্কীমও লাগু করা হয়েছে রেভিনিউ আদায়পর্ব সম্পূর্ন পর্যায়ে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে। তবু এতো কিছু প্রচেষ্টার পড়েও জিএসটি ফাঁকি দেবার প্রবণতা সারা দেশেও এখনও উল্লেখযোগ্য হারে বিদ্যমান থেকে গেছে।

এ'বিষয়ে কলকাতা জোনের চিফ কমিশনার (সিজিএসটি) শ্রাবণ কুমার বলেন, "জিএসটি ফাঁকি রুখতে আমাদের হামেশাই বিভিন্ন গোপন সোর্সের উপর নির্ভর করতে হয়। আমরা শেষ তিন মাসের মধ্যে আটশো কোটি টাকার ফাঁকি দেওয়া জিএসটির রেভিনিউ আদায় করেছি। এই কান্ডে এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।" সোর্সদের কি কোনও উপহার দেওয়া হয়? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, না আমরা কখনই প্রকাশ্যে কোনও সফল সোর্সকে প্রকাশ্যে উপহার প্রদান করি না। এ'ব্যাপারে সোর্সের ব্যক্তি সুরক্ষার কথা পর্যালোচনা করে পুরো বিষয়ে চুড়ান্ত গোপনীয়তা আমরা মেনে চলি। বিনিময়ে আমরা সোর্সকে নগদ টাকা হাতে হাতে প্রদান করি পুরস্কার হিসেবে। সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক লেনদেন ও ডিজিটাল পেমেন্ট আমরা এড়িয়ে চলি। সোর্সের সুরক্ষার স্বার্থে। এমনও উদাহরণ আছে একদিনে একত্রে নগদে আমরা কোটি টাকার উপরে পুরস্কৃত করেছি কোনও কোনও সোর্সকে। মোট আদায়কৃত রেভেনিউয়ের দশ শতাংশ থেকে কুড়ি শতাংশ অর্থ আমরা নগদে পুরস্কার হিসেবে ধার্য করি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একইসঙ্গে তিনি এও বলেন, "কেউ গোপনে অভিযোগ করলেই আমরা নগদ পুরস্কার দিই না। অভিযোগটা যথার্থ ও প্রমাণ সাপেক্ষ কিনা সেটা যাচাই করতে হয়। আবার এমনও দেখা গেছে কেউ জিএসটি রেভিনিউ প্রদান করার আগে নগদে কমিশন পুরস্কার প্রাপ্তির লোভে ড্যামি সোর্স দাঁড় করিয়ে দেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে। সেক্ষেত্রে আমরা ড্যামি সোর্স পুরোপুরি এড়িয়ে চলি। তাছাড়া কোনও প্রতিষ্ঠানকে আমরা সোর্স হিসেবে নগদ পুরস্কার দিই না। সোর্স আমাদের কাছে পুরোটাই ব্যক্তি কেন্দ্রিক হয়।"

প্রায় একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেল কলকাতা নর্থের অ্যাডিশনাল কমিশনার (সিজিএসটি) প্রকাশ বোরগোহেনের কন্ঠে। তাঁর বক্তব্য, "যথার্থ সোর্সকে আমরা নূন্যতম দশ শতাংশ নগদ অর্থ পুরস্কার দিয়ে থাকি। সর্বোচ্চ কুড়ি শতাংশ দেওয়া হয়। নালিশের মান, প্রামাণ্য নথি ও রেভিনিউ আদায়ের আর্থিক সংখ্যার ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদানের শতাংশের পরিমাণ নির্ভর করে। আবার আগের থেকে চলমান কোনও তদন্তের উপর পুরস্কার কাউকে দেওয়া হয় না। জিএসটি ফাঁকি সংক্রান্ত সম্পূর্ণ নতুন অভিযোগকেই স্রেফ পুরস্কারের আওতায় আনা হয়।" গোপনীয়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কোনও সোর্স আমাদের দফতরের আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট আধিকারিকই সোর্স সম্পর্কে সংযোগ রক্ষা করেন। এখানে অন্য কোনও আধিকারিকের ভূমিকা একদম থাকে না। সোর্সের নাম ও ঠিকানা রেকর্ড করারও রীতি নেই দফতরে। দু'টি বিশেষ ফর্মে নালিশের বিস্তারিত নথিভুক্ত করা থাকে। আর সোর্সের একমাত্র ফিঙ্গার প্রিন্ট ওই ফর্মে নেওয়া হয়। একটি ফর্ম গচ্ছিত রাখা হয় সোর্সের সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী আধিকারিকের কাছে। অন্যটা পাঠিয়ে দেওয়া হয় নয়াদিল্লির সদর দফতরের সিজিএসটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েটের কাছে। আসলে সোর্সের পরিচয় সম্পর্কে আমরা সর্বোচ্চ স্তরে গোপনীয়তা বজায় রাখি।"

গত বৃহস্পতিবার একটি আলোচনা চক্রে এহেন গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ আলোচিত হয়। মারচেন্টস চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি'র কলকাতা স্থিত নিজস্ব ভবণে '২০২৪ সালে জিএসটির ক্ষমাযোগ্য আইন' শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(www.theoffnews.com GST CGST Chember Of Commerce)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

কথায় আছে, ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার।

কেন, কেন, কেন? আচমকা এমন প্রসঙ্গ কেন আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠলো?

ধীরে বস্ ধীরে। সবুরে মেওয়া ফলে বুঝলেন।

তা যাক, আসলে কি হয়েছে খোলাসা করে একটু বলুন না প্লিজ।

ঠিকই আছে, তবে শুনুন। বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না। তবে যা বলতে যাচ্ছি তা জানলে, অবিশ্বাসটাই জন্মাবে তাৎক্ষণিক পর্যায়ে, উল্টে অবধারিতভাবে পরামর্শ দেবেন, 'যা বলছেন তা আরও একবার নিশ্চিত হয়ে বলুন।'

আসলে ভারতের আয়কর দফতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো টিডিএস বা ট্যাক্স ডিডাক্টেড অ্যাট সোর্স। আর এখানেই একটি চমকে যাওয়ার মতো তথ্য উঠে এসেছে। এই টিডিএস সংক্রান্ত দফতরের নিজস্ব রেকর্ডে ভারতীয় নাগরিকদের প্যান কার্ড সংক্রান্ত কোনও তথ্যই আক্ষরিক অর্থে নথিভুক্ত নেই। এই দফতর নিজের থেকে টিডিএস প্রদানকারী কোনও উপভোক্তার প্যান কার্ডের কোনও অর্থনৈতিক লেনদেন আদতে নিজস্ব উপায়ে ট্র্যাকিং করতে পারে না। এরকম পরিস্থিতিতে টিডিএস সংক্রান্ত দফতরকে পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় ভারতীয় আয়কর ভবণের উপর। নিজস্ব হেফাজতে প্যান কার্ড সংক্রান্ত কোনও নথি সরাসরি না থাকার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যাবতীয় আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে খোঁজ নিতে বহু সময়েরও অপচয় ঘটে।

এই অবাক করা সমস্যার কথা প্রকারান্তে মেনে নিলেন কলকাতায় অবস্থিত ইনকাম ট্যাক্স (টিডিএস) কমিশনার রঘুবীর মদনাপ্পা। তিনি বলেন, "এটাই সত্যি যে টিডিএস দফতরে সরাসরি ভারতীয় নাগরিকদের প্যান কার্ডের কোনরকমের কোনও তথ্য নথিভুক্ত করা নেই। কারও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে ট্র্যাকিং করার থাকলে তা আমরা সরাসরি করতে পারি না। এ'বিষয়ে কিছু জানার থাকলে আমাদেরকে আয়কর ভবণের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হতে হয়। আমাদের প্রয়োজনটা তাদের জানানোর পর পরবর্তী ক্ষেত্রে তারা আমাদের তা জানায়, দুই তরফের লিখিত আদান প্রদানের মাধ্যমে। যা আক্ষরিক অর্থে ডিজিটাল যুগের প্রকৃত পরিপন্থী।" এ'প্রসঙ্গে তাঁর আরও বক্তব্য, "কেন্দ্রীয় আর্থিক মন্ত্রণালয় থেকে প্যান কার্ডের বিষয়বস্তু নিয়ে সরাসরি আয়কর দফতরের বাইরে এখনও পর্যন্ত বিকেন্দ্রীকরণ ঘটানো হয়নি। সুতরাং আমাদেরও অনেক ক্ষেত্রে হাত পা বাঁধা থাকে। ইচ্ছে থাকলেও বহু ক্ষেত্রে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে তাই বিলম্ব হয়। আমরাও যাতে প্যান কার্ডের যাবতীয় তথ্য নিজেদের অফিসের হেফাজতে রেখে প্রয়োজন মাফিক ট্র্যাকিং করতে পারি তার উদ্দেশ্যে আমাদের উপর মহলে দরবার করেছি। এটুকুই বলতে পারি আমরা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের সবুজ সংকেত প্রাপ্তির আশায় এখন প্রহর গুনছি।"

উল্লেখ্য, কর্মীদের বেতন, ব্যাঙ্কের সুদ, পেশাদার সেবা, ভাড়া সহ বিভিন্ন পন্য ও সেবার উপর সাধারণতঃ টিডিএস লাগু করা হয়। এটি একটি আয়কর সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। একে ভারতে প্রচলিত কর কর্তন পদ্ধতিও বলা যায়। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয় দ্বারা এটি প্রতিনিয়ত সংশোধিত হতে থাকে নানান নিত্যনতুন পরিস্থিতি মোকাবেলায়। টিডিএস কেটে নেওয়ার হার কিভাবে নির্ধারিত হবে তা বিভিন্ন আয়ের রকমারি উৎসের মাত্রার নির্ভর করে। যেমন বেতনের ক্ষেত্রে আয় ও শর্তের উপর নির্ভর করে ১০% থেকে ৩০% অব্দি কেটে নেওয়া হয়। সাধারণ পর্যায়ে ব্যাঙ্কের সুদ ১০% কাটা হয় টিডিএস'এর জন্য। নির্দিষ্ট সীমার উপর ভাড়ার উপর ৫% থেকে ২০% কর্তন করাই সর্বশেষ দস্তুর। আমাদের দেশে আয়কর থেকে যা আয় রাজস্ব কোষাগারে সংগ্রহ করা হয় তার একটা অন্যতম বড় অংশ আসে টিডিএস পদ্ধতির হাত ধরে। 

আয়কর ভবণের একটি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৩-২৪ আর্থিক বর্ষে প্রায় ১০ কোটি ভারতীয় এই টিডিএস পদ্ধতির আওতায় নথিভুক্ত হয়ে রয়েছেন। যার মধ্যে আনুমানিক ৫ কোটি কর্মচারী তাঁদের বেতন থেকে টিডিএস কাটিয়েছেন। ৩ কোটির উপর ব্যবসায়ী ও পেশাদারও এই কর্তনের ছত্রছায়ায় এসেছেন। বিগত আর্থিক বছরে শুধুমাত্র টিডিএস খাতে ৭ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলেও ভারতীয় আয়কর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

যেখানে টিডিএস নিয়ে সারা বছর জুড়ে সমগ্র ভারতে এমন রাজসূয় যজ্ঞ চলমান এজেন্ডা, সেখানে সংশ্লিষ্ট দফতর সম্পর্কে পিছিয়ে চলার অচলায়তন নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও তুঙ্গস্পর্শী। অনেকেরই অভিযোগ, টিডিএস কেটে নেবার পরও বহু করদাতাকেই আয়কর রিটার্ন ফাইল জমা দিতে হয়। নির্দিষ্ট ফর্মের ভিত্তিতে। টিডিএস কর্তনের পরিমানের সঙ্গে সঠিক আয়কর দেওয়ার পরিসংখ্যান মিলিয়ে দেখার উদ্দেশ্যে। অথচ ওই নির্দিষ্ট ফর্ম অনেকটাই একমুখী ও পুরানো ধাঁচের। স্রেফ হ্যাঁ বা না উল্লেখের অবস্থান রয়েছে। উপভোক্তার তরফে কোনও সংশ্লিষ্ট মন্তব্য ওই ফরম্যাটে উল্লেখ করার সংস্থান নেই। এই অভিযোগও যে যথার্থ তাও স্বীকার করেছেন রঘুবীর মদনাপ্পা। তিনি এ'বিষয়ে বলেন, "একদম যথার্থ অভিযোগ। বহু করদাতাকেই এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় হামেশা। বিভিন্ন তথ্য হ্যাঁ বা না'এর উপর দিতে বাধ্য হোন তাঁরা সুনির্দিষ্ট ফর্মের জন্য। তাঁরা যেমন মন্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন বহু পরিস্থিতিতে, তেমন আমরাও তথ্য পূর্ণ ফর্ম ঘেঁটে অনেক সময় আরও বেশি মন্তব্য জানার তাগিদ বুঝতে পারি তার থেকে। সেক্ষেত্রে আমরা আবার ওই করদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধ্য হই লিখিত নানা স্তর পেড়িয়ে। এই জ্বলন্ত সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে।"

টিডিএস নিয়ে তাই একাংশ করদাতারা প্রকাশ্য ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন, "করদাতাদের টিডিএস সংক্রান্ত কোনও বিচ্যুতি ঘটলে তো আইনানুসারে শাস্তির বিধান তো সুস্পষ্ট। অথচ সংশ্লিষ্ট দফতরের নিয়ম তো ব্রিটিশ বিধির পুরাতনী অস্তিত্বকেও হার মানায়। আসলে টিডিএস'এর অবস্থা হলো, বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো, অবস্থা।"

গত মঙ্গলবার কলকাতার মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি'র নিজস্ব ভবণে আয়োজিত হয়েছিল একটি আলোচনা চক্র। 'টিডিএস এবং সংশ্লিষ্ট প্রসঙ্গ' শীর্ষক এই আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন রঘুবীর মদনাপ্পা। এই আলোচনা সভায় তিনি ছিলেন প্রধান বক্তা।

(www.theoffnews.com Merchant Chamber Of Commerce & Industry TDS Seminar)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

অগুনতি নগদ অর্থ ঘরে গচ্ছিত রাখতে পারলেও স্বর্ণালঙ্কারের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। সোনার গয়না মজুত করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আপনাকে মানতেই হবে। তবে গৃহে রূপোর গহনা ও হিরে মজুতের বিষয়েও নির্দিষ্ট কোনও নির্দেশনামা এখনও পর্যন্ত জারি হয়নি। অনন্ত দেশের আইন মোতাবেক তো এটাই বর্তমান দস্তুর।

সাম্প্রতিক কালে আমাদের রাজ্যে সহ সারা দেশের বিভিন্ন প্রদেশে হামেশাই আয়কর দফতর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টর (ইডি) হানা দেয় নানাবিধ ব্যক্তিবর্গের বাড়িতে। এমনকি হানাদারেরা অধিকাংশ আবাস থেকে বাজেয়াপ্ত করে থাকেন বিশাল অঙ্কের বেআইনি নগদ অর্থ ও লুকিয়ে রাখা অবৈধ স্বর্ণালঙ্কার। আর এই ছাপা মারার প্রচেষ্টা যত বেশি তরান্বিত হয়েছে তত বেশি করে উৎসুক ছাপোষা নাগরিকদের মনে এখন একটাই জিজ্ঞাসা, কত পরিমাণ সর্বাধিক নগদ অর্থ ও সোনার গয়না তাঁরা নিজেদের ঘরে জমা রাখতে পারবেন আইন সম্মত ভাবে?

এই প্রশ্নের উত্তরে কলকাতার বিশিষ্ট আইনজীবী রমেশ কুমার পাটোদিয়া দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, "একজন ভারতীয় নাগরিক তাঁর নিজস্ব ঘরে যে কোনও বড় অঙ্কের নগদ অর্থ মজুত করে অবশ্যই রাখতে পারেন। তবে নিজের দায়িত্বে তা তাঁকে রাখতে হবে। এটা তো তাঁর নাগরিকত্বের অধিকার। তবে এখানে একটা শর্ত মানতেই হবে। তা হলো আয়ের সঙ্গে ঘরে গচ্ছিত অর্থের সঙ্গতি থাকা অত্যন্ত আবশ্যক। অন্যথায় গৃহে থাকা উক্ত অর্থ বাজেয়াপ্ত হওয়াটাই ভারতীয় আইন।" রমেশবাবু আরও উল্লেখ করেন, আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নগদ অর্থ যেমন যত খুশি গৃহে জমা রাখা সম্ভব, তেমনই সোনার গয়নার ক্ষেত্রে যত মন চাইবে সেই পরিমাণে আবাসে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। ভারত সরকারের এখানে একটা পরিমাণ বেঁধে দিয়েছেন। তা লঙ্ঘন করলে অতিরিক্ত পরিমাণ সোনার গহনা বাজেয়াপ্ত করতে পারে আয়কর দফতর। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য এ'প্রসঙ্গে, একজন বিবাহিত ভারতীয় মহিলা সর্বাধিক পাঁচশো গ্রাম ওজনের সোনার গয়না নিজের ঘরে সঞ্চয় করে রাখতেই পারেন। অবিবাহিত নারী আড়াইশো গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণালঙ্কার ঘরে নিজের হেফাজতে অনায়াসেই রাখতে পারবেন। জনপ্রতি পুরুষ নিজের ব্যবহারের জন্য একশো পঁচিশ গ্রাম পর্যন্ত সোনার অলঙ্কার বাড়িতে রাখতে সক্ষম। এই পরিমাণের বেশি ঘরে রাখতে গেলে আয়কর দফতরকে আগাম নির্দিষ্ট কারণ দর্শাতে হবে নিজের থেকে। অন্যদিকে রূপোর ভূষণ ও হিরে ঘরে সর্বাধিক কত পরিমাণ মজুত করা যাবে বিনা বাধায় তা নিয়ে দেশের আইনে আক্ষরিক ভাবে কোনও নিষেধাজ্ঞা এযাবৎ জারি হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কলকাতার অপর নামজাদা আইনজীবী এস এম সুরানা বাণিজ্যে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে দেন, ব্যবসায়িক ঠিকানা যেন কোনও ভাবেই নিজের আবাসস্থল না হয়। এতে জটিলতা বাড়বে বইকি কিন্তু তা কমবে না। অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক সংকোচনের কথা ভেবে বা যাতায়াতের সহজলভ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে পেশাগত দফতর নিজস্ব বাড়ির ঠিকানাতেই স্থাপন করেন। এটা একটা মস্তবড় ভুল পদক্ষেপ। তিনি বলেন, "ব্যবসার লেনদেন জাত অসঙ্গতি কোনও ভাবে ধরা পড়লে এবং ব্যবসার দফতর বাসস্থান ব্যতিরেকে অন্যত্র থাকলে আয়কর ভবণ থেকে সরাসরি অভিযান চালানো হতে পারে সংশ্লিষ্ট অফিসে। সেক্ষেত্রে ব্যবসায়ীর ঘরে হানা দেবার সুযোগ কম থাকে। কিন্তু অফিস বাড়ির ঠিকানায় দেখানো থাকলে আয়কর দফতর অফিস ও বাড়ি একযোগে সরাসরি ঢুকে তদন্ত শুরু করতে পারে।"

'আর্থিক বিষয়ক ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থা কর্তৃক হানাদারী ও বাজেয়াপ্তকরণ এবং তার আইনি সীমাবদ্ধতা' প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে রমেশবাবু আরও জানান, ব্রিটেন ও আমেরিকার থেকে আমাদের দেশে এই সংক্রান্ত আইন অনেক বেশিমাত্রায় সরলীকরণ করা হয়েছে। ইউরোপের ওই দুই দেশের আইনানুসারে, একশো বছরের পুরনো কোনও অবৈধ আর্থিক লেনদেন নিয়েও যে কোনও অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে আইনের আতস কাঁচের তলায় টেনে আনতে সক্ষম তদন্তকারী সংস্থা। সেক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া ভারতে মোটামুটি ভাবে বিগত ছয় বছরের হিসেবের খতিয়ান খতিয়ে দেখার দৃষ্টান্তই বেশি মাত্রায় প্রতিষ্ঠিত। তিনি জানান, সকল ব্যবসায়ীকে সঠিক নিয়ম মেনে আইটি রিটার্ন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া উচিৎ। সেই পরিস্থিতিতে এধরণের ঝামেলা সহজেই এড়ানো সম্ভব। আজকাল ডিজিটাল যুগ। প্যান কার্ড ও আধার নম্বর সকল লেনদেনের সঙ্গে প্রায় সংপৃক্ত। ফলে আয়কর ফাঁকি দেওয়া প্রকৃতই দূরূহ। এছাড়াও আয়কর দফতরের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও অনুসন্ধান বিভাগ এখন অত্যন্ত আধুনিক। সুতরাং ওঁদের চোখ এড়ানোর প্রয়াস আর জেগে দিবাস্বপ্ন দেখা সমার্থক ব্যপার। এছাড়া কারোর দ্বারা লুকানো নিয়ম বহির্ভূত অর্থের অধিকার হলো একমাত্র দেশেরই। আর দেশের অর্থ কারও অন্যায় ভাবে ব্যবহার করার এক্তিয়ার নেই এই ভারতে বলে রমেশবাবু মনে করেন।

অন্যদিকে আর্থিক নিয়মের কথা স্মরণ করিয়ে এস এম সুরানা মন্তব্য করেন, "যদি কোনও ভাবে হিসাব বহির্ভূত অর্থ আকস্মিক পর্যায়ে কারও হস্তগত হয়, সেক্ষেত্রে আয়কর দফতর বা ইডি'র হাত থেকে বাঁচার অন্তরায়ও রয়েছে। সেক্ষেত্রে মোট নিয়ম বহির্ভূত গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ আয়কর দফতরকে জানাতে হবে। আর সামগ্রিক অর্থের ২৫% নিজের হেফাজতে রেখে বাকি ৭৫% আয়কর দফতরে জমা দেওয়াটা বাধ্যতামূলক।"

গত শুক্রবার কলকাতার ভারত চেম্বার অফ কমার্স ও প্রতিষ্ঠানের লেডিস ফোরামের যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয় উক্ত বণিকসভার ভবণে। সেখানেই বক্তব্য রাখেন উপরিউক্ত দুই আইনজীবী সহ উদ্যোক্তাদের তরফে এন জি খৈতান, রেনুকা শাহ, সুজাতা শেঠ প্রমূখ।

(www.theoffnews.com Bharat Chamber Of Commerce Kolkata)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

ক্রিপ্টো কারেন্সি নিয়ে ভারতের শেয়ার বাজারের কোনও ছুঁৎমার্গ নেই। ভারত সরকার অনুমতি দিলে ক্রিপ্টো কারেন্সির লেনদেন দেশীয় শেয়ার বাজারে তা অবশ্যই স্বাগত। এমনটাই মত পোষণ করলেন বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই লিমিটেড) ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাম চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সুন্দরমন রামমুর্তি। তিনি বলেন, "এখনও পর্যন্ত ভারতের শেয়ার বাজারের লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে দেশের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সবুজ সঙ্কেত দেয়নি। তাই আমরাও এই বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেওয়ার জায়গায় নেই। যেদিন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুমোদন মিলবে সেদিনই দেশের শেয়ার বাজারে ক্রিপ্টো কারেন্সি চালু করা হবে। সবটাই নির্ভর করছে ভারত সরকার এ'বিষয়ে কি, কখন ও কিভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপর।"

ইতিমধ্যেই ক্রিপ্টো কারেন্সির মূল্যমান নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বৈধতা দিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় ক্রিপ্টো কারেন্সির কেনা ও বেচার উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। ফলে ভারতে ক্রিপ্টো কারেন্সি ক্রয় ও বিক্রয় অনায়াসেই আগ্রহী যে কেউ করতে পারবেন। তবে ব্যবহৃত জীবনের দেশীয় উন্মুক্ত বাজারে দৈনন্দিন লেনদেনের ক্ষেত্রে তা এখনও ব্যবহার যোগ্য নয়। উল্লেখ্য, দেশীয় বাজারে লেনদেনের মাধ্যমে এখনও ভারতীয় ভৌত মুদ্রাই (ভারতীয় রুপি) একমাত্র গ্রহণযোগ্য। সেক্ষেত্রে ক্রিপ্টো কারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রা ভারতে লেনদেনের সূচকের স্বীকৃতি এখনও অর্জন করতে পারেনি।

গত সোমবার বিকেলে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি'র উদ্যোগে। উদ্যোক্তাদের নিজস্ব ভবণে আয়োজিত এই আলোচনায় অংশ নেন বিএসই লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাম চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সুন্দরমন রামমুর্তি। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল 'ভারতীয় ইক্যুইটি বাজারে আসন্ন স্বর্ণযুগ।' সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, "১৯৯১ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাওয়ের ও তদানীন্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের যৌথ যুগলবন্দীতে ভারতে রচিত হয়েছিল অর্থনৈতিক আঙ্গিকে এক নতুন অধ্যায়। জওহরলাল নেহরুর প্রচলিত মিশ্র অর্থনীতির পথ পরিহার করে সেদিন ভারত হাঁটতে শুরু করেছিল উদার অর্থনীতির নয়া স্বনির্ভরতার সরণিতে। আর ১৯৯২ সালে একটা স্ক্যামের মাধ্যমে দেশের জনগণের কাছে প্রথমবারের মতো ভারতের শেয়ার বাজার সম্পর্কে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছিল আকাশ ছোঁয়া। স্ক্যামে অভিযুক্ত হর্ষদ মেহেতার সৌজন্যে। এরপর নানা উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে দেশের শেয়ার বাজার কিন্তু ক্রমেই লোভনীয় তেজি ষাঁড়ে রূপান্তরিত হয়েছে বলে তাঁর অভিমত। সুন্দরমন রামমুর্তি আরও বলেন, "আজ বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের শেয়ার বাজার অত্যন্ত বলিষ্ঠ স্তম্ভের ভূমিকা পালন করছে। তাই দেশীয় শেয়ার বাজারের অদূর ভবিষ্যৎ কিন্তু অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। আগে শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরা সীমাবদ্ধ ছিলেন স্রেফ হাতে গোনা কয়েকটি মহানগরীতে। আজ দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও শেয়ার বেচাকেনায় উৎসাহ দেখান স্থানীয় অধিবাসীরা। ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দৈনন্দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিজিটাল লেনদেনে সহজলভ্যতা এসেছে। বিএসই, সেবি, এনএসসি'র মতো নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগকারীদের বিনামূল্যে বিনিয়োগের পরামর্শ ও সতর্কতা প্রদান করে চলেছে নিরলস ভাবে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে।"

বিএসই'র উক্ত পদস্থ আধিকারিক ছাড়াও ওই সভায় মনোজ্ঞ বক্তব্য পেশ করেন আয়োজক সংস্থার দুই কর্মকর্তা মুনীশ ঝাঝারিয়া ও মমতা বিমানি।

(www.theoffnews.com Merchants' Chamber Of Commerce & Industry BSE Limited)