Articles by "জবচার্ণকের শহর"
Showing posts with label জবচার্ণকের শহর. Show all posts

বেবি চক্রবর্তী, সাংবাদিক ও লেখিকা, কলকাতা:

সৃষ্টির অনন্ত পথে সত্যের সাধনা। অসীম ধৈর্য নিয়ে তাকিয়ে ---- সময়! মরদেহ সমাধি নিয়ে চলেছিল বিবাদ চরমে। তৎকালীন ডেভিড হেয়ারের সমাধি নিয়ে একের পর এক বিবাদের ঝড় উঠেছিল।মৃতদেহ পচে নাকি দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে লালদীঘির জল নাকি বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। মামলাও রুজু হয়েছিল কোর্টে। এত সন্ধিক্ষণের পর জয়ের মুকুট পেল ডেভিড হেয়ার। প্রবল ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হেয়ারের শবযাত্রা। ওদিন কলকাতার রাজপথ ছিল জনসমাগম। বউবাজারের চৌরাস্তা থেকে মাধব দত্তের বাজার পর্যন্ত। হাজার হাজার মানুষ সেই যাত্রায় পা মিলিয়েছেন। কেউ গাড়িতে কেউ পায়ে হেঁটে সঙ্গ দিয়েছিল প্রিয় হেয়ার সাহেবকে।  

সেদিন সমাধি নিয়ে উঠেছিল ঝড়। কোথায় শায়িত হবেন মহারতি হেয়ার...? খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী তিনি ছিলেন না তাই কবরস্থানে তাঁর জায়গা হল না! অবশেষে হিন্দু কলেজের কাছে তাঁরই কেনা জমিতে লালদীঘির ধারে আজও তিনি শায়িত রয়েছেন।

ডেভিড হেয়ার ছিলেন একজন স্কটিশ ঘড়ি ব্যবসায়ী। যিনি কলকাতায় এসে মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি হিন্দু স্কুল, হেয়ার স্কুল এবং প্রেসিডেন্সি কলেজের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। কলকাতায় আসার পর তিনি ডালহৌসি এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে তার বন্ধু গ্রে সাহেবের সাথে একটি বাড়িতে থাকতেন। তিনি ১৮০০ সালে ভারতে এসেছিলেন ঘড়ি তৈরির কাজে অর্থ উপার্জনের জন্য। ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমোহন রায়ের সঙ্গে কলকাতায় তাঁর সাক্ষাৎ হয়। রামমোহন প্রতিষ্ঠিত আত্মীয় সভার সঙ্গে তিনি যুক্ত হন। জনহিতকর কাজ শিক্ষার উন্নতির জন্যে প্রচেষ্টা কর‍তে থাকেন। তাঁর নিজের ঘড়ির ব্যবসার ক্ষতি করেও অর্থ, সময় এবং নিরলস শ্রম দান করতে থাকেন শিক্ষার উন্নতিকল্পে। 'আত্মীয় সভা'য় কলকাতা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এডওয়ার্ড হাইড ইস্টকে তার এই উদ্যোগকে সমর্থন করার জন্য অনুরোধ করেন। এ ব্যাপারে হাইড ইস্ট ও কতিপয় ভদ্রলোকের সক্রিয় সহযোগিতায় ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দের ২০ জানুয়ারি হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই বছরই তিনি ইংরেজি এবং বাংলা পুস্তক মুদ্রণ ও প্রকাশনার জন্য ‘কলিকাতা স্কুল বুক সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। সমাজসেবায় সার্বক্ষণিকভাবে আত্মনিয়োগের জন্য ডেভিড হেয়ার ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে তার ব্যবসার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন তার বন্ধু গ্রে সাহেব-এর ওপর। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তারা দুজন হেয়ার স্ট্রিটের একটি বাড়িতে একসঙ্গে অবস্থান করতেন। ইতোপূর্বে তিনি ব্যবসা করে কলকাতায় বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তি ক্রয় করেছিলেন। ওই সম্পত্তির কিছু অংশ তিনি হিন্দু কলেজকে দান করেন বাকিটা সংস্কৃত কলেজের নিকট নামমাত্র দামে বিক্রি করেন। হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিয়োর সঙ্গে ডেভিড হেয়ারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ হয়। ইয়ং বেঙ্গলের একজন হিতৈষী হিসেবে হেয়ারের তাদের সংগঠন ‘সোসাইটি ফর দ্য প্রোমোশন অব জেনারেল নলেজ ১৮৩৮ সালে সংস্থার পৃষ্ঠপোষক হন। নিষ্ঠুর শ্রম আইনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন। ওই আইনের আওতায় সে সময়ে ভারতীয় শ্রমিকদের দাস হিসেবে ইউরোপের উপনিবেশ গুলোতে পাঠানো হত। ঔপনিবেশিক আমলের উৎপীড়নমূলক, অমানবিক আইনের সংস্কার সাধনের জন্য তিনি জনমত সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন। দেশীয় সংবাদপত্রের ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের জন্যও সংগ্রাম করেন। নতুন স্কুল এবং অন্যান্য জ্ঞানচর্চামূলক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ দানের কারণে হেয়ার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ব্রিটিশ সরকার তাঁকে কলকাতার শেরিফ পদের জন্য মনোনীত করে। ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে মাসিক ১০০০ রুপি বেতনে উক্ত পদে নিয়োগ দিয়ে তাঁর ঋণমুক্তির ব্যবস্থা করেছিল।

হেয়ার ১৭৭৫ সালে স্কটল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন ।তিনি যখন তার ব্যবসায় উন্নতি করছিলেন। তখন স্থানীয় জনগণের শোচনীয় পরিস্থিতি তাঁর মনকে বিক্ষিপ্ত করে তুলেছিল। অন্যান্য বেশিরভাগ লোকের মতো নয় যারা শান্তি ও সমৃদ্ধিতে জীবনযাপনের জন্য সম্পদ অর্জন করে তাঁদের জন্মভূমিতে ফিরে এসেছিলেন। তিনি এই দেশেই থেকে যাওয়া এবং এর উন্নয়নের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। 

এরপর জীবনে তিনি তাঁর ঘড়ির ব্যবসা দেখার মতো সময় দিতে পারছিলেন না। সেই জন্যে ওটা গ্রে নামে তাঁর এক বন্ধুর কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে কিছু অর্থ দিয়ে তাঁর নিজের জন্যে একটা ছোট বাড়ি কিনেছিলেন এবং বাকি অর্থ স্কুলের উন্নয়নের জন্যে খরচ করেছিলন। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলন। ৩১ শে মে রাত্রি একটায় কলেরার জীবাণু মেলে হেয়ারের শরীরে। তিনি কলেরায় আক্রান্ত হন। ভয়ঙ্কর বমি‌ শুরু হয়ে যায়। ডেভিড হেয়ার বুঝতে পেরেছিলেন ধীরে ধীরে মৃত্যু গ্রাস করছে তাঁকে। বন্ধু গ্রে'কে বলেছিলেন কফিনের ব্যবস্থা করতে। পরের দিন সকালে ডেভিড হেয়ারের প্রিয় ছাত্র কলকাতা মেডিকেল কলেজ উত্তীর্ণ ডাক্তার প্রসন্ন কুমার মিত্র তাঁকে আরোগ্য করার জন্যে প্রাণপণ চেষ্টা করেও বিফল হন। সেদিনটা ছিল পয়লা জুন। সন্ধ্যা বেলায় হেয়ারের মৃত্যু হয়। গোটা কলকাতা জুড়ে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। ছোট থেকে বড় প্রায় সবাই ভিড় করতে থাকে ডেভিড সাহেবের বাড়িতে তাঁর অন্তিম মরদেহ দেখার জন্য। ১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে ১ জুন ডেভিড হেয়ার জীবনাবসান হয়। ভুলে গেছি আমরা পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ডেভিড হেয়ারের অবদানের কথা। আজও স্মৃতির ফলকে কলকাতার রাজপথে গোলদীঘির ধারে কফিন বক্সে শায়িত ডেভিড সাহেব...!

(www.theoffnews.com David Hare Kolkata)


প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র, লেখক, কালনা, পূর্ব বর্ধমান:

আরজিকর কান্ড একজনের কাজ নয়। 

একাধিক ব্যক্তি পূর্ব পরিকল্পনা করে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করেছে। অর্থাৎ সংগঠিত অপরাধ চক্রের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না নিশ্চিত বলা যায়। 

অপরাধের প্রথম দিকেই রাজ্য প্রশাসন এই অপরাধকে লোকচক্ষুর অগোচরে রাখার চেষ্টা করেছে। প্রশাসনের এই তৎপরতা সেদিনই প্রমান করেছিল এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে বড় মাথা আছে। 

সেই মাথাকে লুকানোর জন্য সিভিক সঞ্জয় রায়কে হাজির করিয়েছে প্রশাসন। সঞ্জয় অপরাধী এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই, কিন্তু কেবলই সঞ্জয় একা অপরাধী এবিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ সেদিনও করেছি আজও করছি। অনেকেই করছেন।

এখন প্রশ্ন সিবিআই কেন প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করল না?

এর উত্তর দুটি-

প্রথমত: সিবিআই যথেষ্ট প্রমান হাতে পায়নি। কারণ ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা প্রমান লোপাট করেছিল। (এ থেকে প্রমান হয় সংঘটিত পূর্ব পরিকল্পিত অপরাধ ও অপরাধীকে লুকিয়ে রাখার জন্য কোনও বিশেষ ব্যক্তির নির্দেশে একাজ প্রশাসন করেছিল)।

দ্বিতীয়ত: এই তদন্তে সিবিআইয়ের সদিচ্ছার অভাব দেখা গেছে। যা রাষ্ট্রের চাপ বলা যেতে পারে। রাষ্ট্র চায় ধর্ষণ। পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থার প্রধান শর্ত ধর্ষককে রক্ষা করা। আমাদের দেশে এই পুরুষতান্ত্রিকতার ইতিহাস অতি সুপ্রাচীন। আজও আমাদের রাষ্ট্র চায় পুরুষশাসিত এই সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে। তাছাড়া রাষ্ট্রনেতাদের সাথে এরাজ্যের প্রশাসনের গোপন বোঝাপড়া রয়েছে।সেই বোঝাপড়ার স্বার্থ রক্ষা করা রাষ্ট্র নেতাদের উদ্দেশ্য। অর্থাৎ ক্ষমতার অলিন্দে ক্ষীর খাওয়া। তাই তারাও চায় না প্রকৃত সত্য উদঘাটন হোক।)

আদালত সঠিক প্রমাণের অভাবে রায় দিলেন সঞ্জয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। 

এবার দেখুন, আমাদের প্রশাসন এই রায়ের বিরোধিতায় নামল। তারা চাইছে সঞ্জয়ের ফাঁ|সি। 

একদম প্রথম থেকেই তাদের এই চাওয়া। 

কেন? 

তারা জানে একজনকে ফাঁসি দিয়ে দিলেই কেসটা পাকাপাকি ধামাচাপা দেওয়া যাবে। অর্থাৎ প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের বাঁচিয়ে দেওয়া যাবে। 

নয়তো কখনও এই অপরাধীদের নাম সঞ্জয় বলে দিতে পারে। কেস রি-ওপেন হতে পারে। 

সেক্ষেত্রে আরজিকর কাণ্ডে দোষীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলনকারীরা যাদের ইতিমধ্যে দোষী চিহ্নিত করেছেন, তাদের জয় হবে। 

শাসকের ভয়। 

শাসক কখনও চায় না জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের জয় হোক। 

তাই তো সঞ্জয়ের ফাঁসির দাবিতে আবার তারা সোচ্চার হয়েছে। 

অদ্ভুত এক ষড়যন্ত্র। 

এসব জেনেও আমরা অনেকেই এখনও শাসকের পক্ষে। কেউ রাজ্য বা কেউ কেন্দ্রের শাসকের পক্ষে। হ্যাঁ এই সত্য। অদ্ভুত খেলা খেলছে রাষ্ট্র শক্তি। 

এইভাবেই অপরাধ ও অপরাধী যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করছে। 

এ বড় দুঃখের ও যন্ত্রণার। 

(www.theoffnews.con RGKar rape verdict government)


প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র, লেখক, কালনা, পূর্ব বর্ধমান:

গত পাঁচদিন যাবৎ কলকাতায় রয়েছি। 

প্রেম, ঘৃণা, স্বার্থপরতা, আন্তরিকতা, অবহেলা অনেক কিছুই এই শহরে দেখলাম। 

এ শহরে দেখলাম হুজুগে বাঙালিকে। 

আগেও দেখেছি, আবারও দেখলাম। দেখলাম তিলোত্তমার উপর অমানসিক নির্যাতনে যে মানুষরা রাতের কলকাতা দখল করেছিল, সেই মানুষ যিশুর জন্মদিনে উৎসবে মেতে উঠছেন। লাইন দিয়ে চার্চে যাচ্ছেন, হাসছেন, খাচ্ছেন ইত্যাদি। 

দেখলাম সাইন্স সিটি বা নিক্কো পার্কে আড্ডায় বসছেন। 

এই মানুষরা কল্পতরু উৎসবে বাগবাজারে, দক্ষিণেশ্বরে বা বেলুড় মঠে লাইন দেবেন এও নিশ্চিত। 

অদ্ভুত বৈচিত্র। 

অনেকে বলেন, কলকাতার মানুষেরা নাকি হৃদয়হীন। 

আমি সহমত পোষণ করি না। 

আমি বলছি, আজকের সময়ে কোন শহরে বা গ্রামে সব মানুষের হৃদয় আছে? খুঁজলে অসভ্য বর্বর মানুষ সব গ্রাম ও শহরে অতীতেও ছিল আজও খুঁজে পাবো।  

তবে, কলকাতাই বা এর ব্যতিক্রমী হবে কেন?

আমি এই কলকাতায় হৃদয়, প্রেম, সভ্যতা, আন্তরিকতা খুঁজে পেয়েছি, যা আজও বর্তমান। এ শহরের মানুষ আজও অন্যের দুঃখে কাঁদে। 

আবার অসভ্যতা, এড়িয়ে চলা, চোখ বুজে না বোঝার ভান করা এ'ও দেখছি, ঠিক। দুই'ই থাকবে। অতীতে ছিল, আজ আছে, ভবিষ্যতে থাকবে। এটাই তো চিরন্তনী সর্ব প্রান্তিক মাটির চির-নিয়ম। 

বিদুর, ভীষ্ম, কর্ণ, অর্জুন, একালব্য, কুন্তী ও গান্ধারীর যুগেই তো কংস, ধৃতরাষ্ট্র, দুর্যোধন, দুঃশাসন ছিল। 

বুদ্ধদেবের সময়ে এ শহরে উনি বা হেকিম সাহেব তো ছিলেন বা আছেন।

তাহলে?

এ শহরে এবার খুঁজে পেলাম চেনা মানুষের বন্ধুত্বের হাত, কন্ঠ, সাহায্য। দেখলাম বিপদে অচেনা মানুষকে মনুষ্যত্ব বর্জন না করে পাশে দাঁড়াতে। এককথায় এই ইতিবাচক মানুষগুলোই প্রকৃত বন্ধু। এরা বিবেকবান। মনুষ্যত্ববোধ এদের আছে। আমি এঁদের শ্রদ্ধা করি। 

আজও তিলোত্তমা বিচার পায়নি। এখনও ধর্মতলায় ধর্ণা মঞ্চ ভর্তি। তবে কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর আজও পাইনি-

তিলোত্তমার মা কেন বিচার পেলেন না?

কার নির্দেশে ডাক্তাররা আপোষ করলেন?

কে ডাক্তার বন্ধুদের ভয় দেখালেন?

সেই প্রতিবাদী মানুষগুলি কোথায়? হুজুগ?

একটা সিভিক পুলিশকে বাঁচাতে রাজ্য প্রশাসন ও সিবিআই কেন অন্যায়কারীকে লুকিয়ে রাখল!

আমি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজব, উত্তর চাইব। কারণ কি?

কারণ একটাই। আমি বিবেক খুঁজে বেড়াই। 

আমি বিবেক চেনাই। আমি বিবেকবানকে শ্রদ্ধা করি।

(www.theoffnews.com conscience Tilotamma Kolkata)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

কথায় বলে, অতি সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট।

আরে এতো বাংলা প্রবাদ। হঠাৎ এমন প্রবাদ এখানে প্রাসঙ্গিকতা পেল কি করে?

আসলে কলকাতার একাধিক হেরিটেজ বিল্ডিংয়ের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে রসিকতার সঙ্গে এমনই প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন পার্থ রঞ্জন দাস। হাস্যরস যোগ করে তিনি বলেন, ডালহৌসি স্কোয়ারে বহু ঐতিহ্যশালী বিল্ডিং আছে। যেখানে সঙ্কীর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য দমকল প্রয়োজনে সঠিক ভাবে প্রবেশ করতে পারবে না। তবু এসব ক্ষেত্রে দমকল বিভাগের অনুমোদন লাগবে সংস্কারের দরকারে। এর উপর গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো ব্যুরোক্রেসির লাল ফিতের অনর্থক দীর্ঘসূত্রিতা তো রয়েছেই। এক্সট্রা পাওনা হিসেবে আদালতে মামলা তো থাকবেই। সেখানে রাজ্য হেরিটেজ কমিশন কিভাবে সঠিক সময়ে ওই সব স্থাপত্যের প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজে উদ্যোগ নিতে পারবে? তাঁর সংযোজন, আমরা বাইরে থেকে অনায়াসেই রাজ্য হেরিটেজ কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ঠুঁটো জগন্নাথ বলতেই পারি, কিন্তু ভিতরে অবস্থানগত পর্দার আড়ালে থাকা অজস্র সংশ্লিষ্ট জায়গা থেকে কি পরিমান বাধা রাজ্য হেরিটেজ কমিশনকে সামলাতে হয় তা সাধারণ মানুষের অনেকটাই অজানা।

চলতি বছরের তারিখটা ছিল ২২ অক্টোবর। বিকেল বেলায় বসেছিল একটা জমাটি আলোচনাচক্র। কলকাতার ভারত চেম্বার অফ কমার্স ভবণে। উক্ত বণিকসভা ও তার লেডিস ফোরামের যৌথ উদ্যোগে। আলোচনার বিষয়বস্তু বস্তু ছিল, 'কলকাতার স্থাপত্য এবং তার ঐতিহ্য ও স্থায়িত্ব।'

উদ্যোক্তাদের তরফে নাতিদীর্ঘ বক্তব্য পেশ করেন নরেশ পাচিসিয়া ও রেণুকা শাহ।

মূল আলোচনায় অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশনের সদস্য তথা মহানগরের নামজাদা স্থপতি পার্থ রঞ্জন দাস। মনোগ্রাহী স্লাইড শোয়ের মাধ্যমে তিনি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকান ভূখণ্ডের বিভিন্ন ঐতিহ্যময় স্থাপনের অপার কারুকার্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভারতের উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাংশের একাধিক ঐতিহাসিক স্থাপত্যের নান্দনিক দৃষ্টান্তও উপস্থিত অতিথিদের সামনে পরিবেশন করেন। পাশাপাশি কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঐতিহ্যমন্ডিত ভবণের উপরেও আলোকপাত করেন। তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, জোড়াসাঁকো এখন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিশ্বখ্যাত হলেও সেই চিরাচরিত ভবণের সাবেকিয়ানা এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এর সংস্কার কার্য বিতর্ক সৃষ্টি করেছে নানা মহলে। এমনকি কলকাতাতেই অবস্থিত ভারতীয় যাদুঘর ভবণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা পৃথিবীর মধ্যে এই যাদুঘরটি নবমতম প্রাচীন মিউজিয়াম। অথচ এর বহুতল মেরামত করতে গিয়ে যে ইস্পাত ও কাঁচ ব্যবহার করার প্রক্রিয়া চলছে তাতে ভবণের প্রকৃত স্থাপত্যের পরিপন্থী ঘটবেই অনিবার্য ভাবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, এই শহরের উত্তর ও দক্ষিণ যেন স্থাপত্যের দুই মধুময় বৈচিত্র্যের দুই মেরু। উত্তর কলকাতায় রয়েছে বনেদি চিহ্নিত বিল্ডিং ও হোটেল। আর দক্ষিণ কলকাতায় গড়ে উঠেছে আধুনিকতার চোখ ধাঁধানো লেটেস্ট স্থাপত্য। একইসঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, অথচ এই দুয়ের মেল বন্ধন কলকাতায় ক্রমশঃ নষ্ট হতে বসেছে এই শহরের সৃষ্ট দূষণ জনিত কার্বণের নিরন্তর প্রভাবে।

এই মনোজ্ঞ আলোচনায় বক্তব্য পরিবেশন করেন কলকাতার অপর খ্যাতনামা স্থপতি মনিকা খোসলা ভার্গব। তিনিও স্লাইড শোয়ে পার্ক স্ট্রিটের প্রাচীন ও নব্য ঐতিহ্যময় স্থাপত্যের নানান চমকপ্রদ দিক উপস্থাপনা করেন। কিভাবে পুরাতন পার্ক স্ট্রিটের প্রাচীন ভবণগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য ঘটিয়ে একাধিক অপরূপ শৈলীর বিল্ডিং পরবর্তী ক্ষেত্রে যেভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বিগত কয়েক দশকে, তা সত্যি বিস্ময়কর। পুরনো ও নতুন স্থাপত্যের এই যৌথ সংমিশ্রণে এলাকায় গড়ে উঠেছে খ্রীষ্টানদের জন্য উদযাপিত বড়দিন উৎসবের এক অনন্য পীঠস্থান। এই সবের পাশাপাশি পুরাতন কলকাতাকে টেক্কা দিতে বিগত সত্তরের দশকে গড়ে উঠেছে তিলোত্তমা নগরীর উপকন্ঠে নবরূপে সল্টলেক। ধর্মতলা চত্বরে যে সমস্ত বিশ্ববন্দিত হেরিটেজ বিল্ডিং রয়েছে তার সঙ্গে সমানে সমানে পাল্লা দিয়ে সল্টলেকে গড়ে উঠেছে বহুবিধ দৃষ্টিনন্দন নির্মাণ শৈল্পিক কংক্রিট ভবণ। বিশ্বের অত্যাধুনিক পরিকল্পিত শহরগুলির সঙ্গে সল্টলেক তাই অবশ্যই সমতুল্য। যা সামগ্রিক কলকাতার এহেন সংমিশ্রিত স্থাপত্য অবধারিত এক নস্টালজিক ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠিত উপমা বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

(www.theoffnews.com Kolkata architecture heritage sustainability)


সুবীর পাল, এডিটর, দ্য অফনিউজ:

কলকাতার অভয়া কান্ডে চিকিৎসক আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি এখনও করছেন না কেন? এই দাবি যাতে অন্য কেউ তুমুল পর্যায়ে হাইজ্যাক না করতে পারে, তাই আন্দোলনের অভিমুখ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ঘোরানো হচ্ছে না তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্যাডো হিসেবে! কি অদ্ভুত আশ্চর্য এই আন্দোলনের আপাতত নির্যাস, অভয়ার প্রতি কলকাতার পুলিশের ন্যক্কারজনক লুকোচুরি স্ট্যান্ড, আরজি কর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লাগামহীন চক্রান্ত সংযোগ নিয়ে আন্দোলনকারীদের সেই গত কয়েকদিনের উচ্চগ্রাম কোথায় যেন ভ্যানিশ হয়ে গেছে। মহিলাদের রাত দখলেও কেমন কেমন যেন সুপ্ত ভাঁটার পূর্বাভাস। রাজনৈতিক দলগুলোও যেন শামুকের খোলে ঢুকে গেছে এক হতবাকের আকস্মিকতায়। আমরা মাঠে আছি, এটুকু দেখনদারিতেই দায় সারছে সরকার বিরোধী সব দলের নেতারা। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিটাই যেন ফানুসের মতো বাতাসে মিলিয়ে গেছে হঠাৎ এক পরিকল্পিত রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়। অথচ মুখ্যমন্ত্রীর দায়বদ্ধতা নিয়ে সভ্য সমাজে অন্তত এই ইস্যুতে প্রশ্ন ওঠারই কথা ছিল স্বাভাবিক ভাবে। কিন্তু কোথায় কি? ছাত্রদের নবান্ন অভিযান তো এখন ফসিলের স্মরনিকায় স্থান পেয়েছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো পুলিশি নিরাপত্তায় একাংশ আন্দোলনকারীরা শুধু বাসে চেপে যাচ্ছেন আর আসছেন। কখনও কালিঘাট। কখনওবা গঙ্গাপাড়। নিমরাজি হয়ে বেশকিছু দাবিও মেনে নিচ্ছে প্রশাসন। শুধু সময় অতিবাহিত হয়েই চলেছে। আর অভয়ার প্রতি অবিচারের বিচার দাবি ক্রমাগত আবছা থেকে আরও আবছাতর হতে চলেছে আন্দোলনকারীদের সাম্প্রতিক আচরণে। নাতো কোথায় তোলা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি। নাতো কোথায় তোলা হচ্ছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উচ্চস্বর। নাতো কোথায় তোলা হচ্ছে জড়ালো পর্যায়ে পুলিশমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি। এরা বাস্তবে আক্ষরিক অর্থেই আন্দোলনের নামে প্রকৃতই কি সাচ্চা আন্দোলন করছেন? জনমানসে সন্দেহের বাতাবরণ কিন্তু এব্যাপারে স্পষ্ট উঁকি দিচ্ছে ঠারেঠোরে। পরিস্থিতি যা, যদি কেউ আচমকা অভিযোগ করেও বসেন যে, প্রশাসনের ছায়া চর হয়ে আন্দোলনের নামে জাস্ট উল্টো গেম খেলছেন আর আপমর বাঙালিকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন কতিপয় আন্দোলনকারী, তবে আমি অন্তত এই মুহূর্তে হতবাক হবো না। কেন কেন কেন আন্দোলনকারীদের দাবিতে সর্বাগ্রে স্থান পাবে না অভয়ার ইস্যুতে চক্রান্তকারীদের গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গগুলি। কেন পুলিশমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তোলা হবে না, বাবা মার অনুমতি ছাড়া মৃতদেহ চটজলদি জ্বালিয়ে দেবার বিষয়ে পুলিশের অতি তৎপরতা কোন তাগিদে? কেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তোলা হবে না, দ্রুততার সঙ্গে পদত্যাগী সন্দীপ ঘোষকে কিসের স্বার্থে প্রাইজ পোস্টিং দেওয়া হলো? কেন তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে প্রশ্ন তোলা হবে না, শশ্মাণঘাটে কেন সেদিন দলের বিধায়ক কোন রাজকার্য করতে গিয়েছিলেন? অভয়ার বিষয়ে প্রাসঙ্গিক এমন প্রশ্নের তালিকা অনেক অনেক বড়। কিন্তু এসবের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আন্দোলনকারীদের তৎপরতার পরিসর ঠিক ততটাই কিন্তু ছোট। অবাক তো হতেই হয় এমনতর কারবারে।

আন্দোলনকারীরা আসলে কাঁদের অপসারণ চাইছেন আদতে? কে তাঁরা? স্বাস্থ্য দফতর ও পুলিশ প্রশাসনের কিছু আমলা, এই তো? কি করেছেন তাঁরা? তাঁরা কিভাবেই বা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারলো? তাঁদের ঘাড়ে কটা মাথা আছে যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের শীর্ষ স্থানের সবুজ সংকেত ছাড়া এভাবে লিপ্ত হতে পারবেন? আন্দোলনকারীদের চোখে যাঁরা চক্ষুশূল তাঁরা যে আসলে পুতুল নাচের পাপেট মাত্র। কিন্তু প্রকৃত পুতুল নাচের কারিগর প্রসঙ্গে স্পিকটি নট কেন? ঠিক এই পয়েন্টে এতো ঔদার্য আপোষের আড়াআড়ি ভাব যথেষ্ট প্রকট। আন্দোলনকারীরা কি মূর্খ? তাঁরা কি এই শাসককে এহেন শাসন জাগলারি রসায়ন জানেন না? নাকি সব জেনেবুঝে ন্যাকামি করছেন? তবে কেন প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের পদত্যাগ দাবি থেকে বিরত থাকছেন? কিসের উদ্দেশ্যে? উদ্দেশ্য কি এটাই যে আবালবৃদ্ধবনিতা বঙ্গবাসীর সুতীব্র ভাবাবেগ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দিষ্ট সুপ্ত ছকে আড়াল করার একটা সুক্ষ্ম পরিকল্পনা! ভাবুন তো চাকরি প্রার্থীদের অবস্থানটা, ডিএ দাবীরতদের আন্দোলনের কথা। কই তাঁদের দাবি সনদ নিয়ে তো কেউ কলকাতা পুলিশের প্রহরায় বাসে চেপে মুখ্যমন্ত্রীর সকাশে যেতে পারেননি! কই তাঁদের দাবি মেনে কোনও আমলাকে তো কখনও বদলি করা হয়নি! তাঁদের দাবি যে কত কত মাস ছাড়িয়ে কত বছরের সেটাই তো মানুষের ভুলতে বসার জোগাড়। তাঁদের দাবি কি অনায্য ছিল? অথচ সব ইস্যু ধুয়ে মুছে সাফ বর্তমানের এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো এটাই চাইছিলেন অন্তঃকরণে। বিগত তেরো বছরের শাসনকালে আন্দোলনকারীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী এতো দরাজ কখনও হয়েছেন এমনটা দেখেছেন কি? অথচ জামাই আদর করে জুনিয়র ডাক্তারদের বাস ভ্রমণের সুযোগ করে দিলেন তাঁর বাসভবণ পর্যন্ত। আর নানান লোক দেখানো দুপক্ষের জেদাজেদির সার্কাস দেখিয়ে এই আন্দোলনকে অন্ততঃ পুজোর আগে পর্যন্ত ক্ষাণিকটা হলেও জিইয়ে রাখার ফন্দিটাও বেশ কিন্তু জমাটি। অনেকেরই আশঙ্কা, দুই তরফের গোপন শর্ত হলো, আমি তোমাদের কিছু দাবি মেনে তোমার অ্যাডভান্টেজ পাইয়ে দেব প্রচারে ফোকাসে হিরোর বহুরূপীতে। অনেকটা সুমিষ্ট ললিপপ চুষিয়ে দেবার মতো। বিনিময়ে তোমরা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইবে না। অভয়া প্রকৃত প্রসঙ্গে চরম দাবি দাওয়া একদম করবে না। তবে লোক দেখানো একটু হাল্কা আবদার অবশ্যই করবে তিলোত্তমার বিচার চেয়ে। আর বাকি কিছু খুচরো আমলার অপসারণ তোমরা জোড় কদমে চাইবে। ওরা তো এমনিতেই বলির পাঁঠা। আর কাজের সুরক্ষা নিয়ে সুর চড়াতেই পারো। কারণ এসব হলো লংটার্ম কন্টেনিয়াস প্রসেস। কিছুদিন বাদে সবাই এসব ভুলেও যাবে। তাই না? আপনারা বলছেন, আপনাদের আন্দোলন নাকি পুরোপুরি অরাজনৈতিক। খুব ভালো কথা। বিজেপির জনা কয়েক নেতাকে গো ব্যাক বলেছেন। সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু সিপিএম নেতারা আপনাদের কাছে এলে গো ব্যাক বলতে ভুলে গেলেন কেন? উল্টে সঙ্গত দিলেন কেন? এতো স্পষ্ট দ্বিচারিতা। নাকি বিজেপির দফা এক দাবি এক মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ, স্লোগান ভোঁতা করার আসল লক্ষ্যে কৌশলে অভয়ার ছবি সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোপন ছায়া রূপে ছলনার ড্যামি আন্দোলন করছেন। ঠিক যেমনটি রামের পাদুকা সামনে রেখে ভরত রাজ্যপাট পরিচালনা করেছিলেন। মিডিয়ার বুমের সামনে তো লাগাতার ডায়লগ মারছেন, আর যাতে দ্বিতীয় অভয়াকান্ড আগামীতে না হয়, তার জন্য এই আন্দোলন? ছকবাজি বাদ দিয়ে, ডিফ্যাক্টোর ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়ে, প্রকৃত অরাজনৈতিক আন্দোলনের শরিক হয়ে, আগামীদিনের সুবিধাবাদীর রূপকারের ধান্দা ছেড়ে, অভাগিনীর মৃত আত্মাকে সামান্যতম মর্যাদা দিয়ে তাঁর ধর্ষক ও খুনি সহ সব ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির দাবিতে সর্বাগ্রে বিবেকের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হোন চরম সোচ্চারে। আর যে প্রশাসনের সৌজন্যে এই ষড়যন্ত্রকারীরা এতকাল প্রশ্রয় পেয়ে এসেছে সেই প্রশাসনের পদত্যাগ সরাসরি দাবি করুন কোনও ভনিতা না করে। নচেৎ আপনাদের কপালে কলার খোসাটিও যে জুটবে না এটা হলফ করে বলতে পারি। কারণ আপনাদের উল্টো দিকে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক শকুনির মতো তিনি দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তুখোড় বুদ্ধিধর। দড় কষাকষির পাশার চালে তার সঙ্গে খেলতে গিয়ে দেখবেন আবার অচিরেই ভিলেন না বনে যান খামোকা। শুধু একটা আপ্তবাক্য মনে রাখবেন, গোপন আপোষের সঙ্গে রফা করে বা ছলনা করে কখনই নয়, কোনও স্বৈরাচারী শাসককে ঝোঁকানো কোনভাবেই সম্ভব নয়। এরজন্য আন্তরিক ভাবে প্রয়োজন আরও একটা সঙ্ঘবদ্ধ প্রবল দৃষ্টান্তহীন শৃংখলা মুক্ত সুতীব্র গণপ্রতিঘাত। এটাই বৈশ্বিক দস্তুর। অন্যদিকে অভয়ার বাবা মা কিন্তু এখনও আপনাদের দিকেই তাকিয়ে আছেন একবুক আশা নিয়ে, দয়া করে এটুকু অন্তত স্মরণে রাখবেন, এই আশা তো রাখবোই এক সহনাগরিক হিসেবে।

(www.theoffnews.com RGKAR rape agitation)


প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র, লেখক, কালনা, পূর্ব বর্ধমান:

আজ মিনাক্ষীর দিন। হ্যাঁ মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। অত্যন্ত সম্ভাবনাময়, আপাদমস্তক সৎ, নিরবিচ্ছিন্ন বাম আন্দোলন থেকে উঠে আসা, অতি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত সিপিএমের যুব নেত্রী। সেদিন নির্যাতিতার পরিবারের সাথে ও জুনিয়ার ডাক্তারদের সাথে পুলিশ কি রকম দুর্ব্যবহার করেছিল তা মিনাক্ষী দেখেছিল। নির্যাতিতার মৃতদেহ আটকানোর চেষ্টা করেছিল প্রাণপণ। তাই আজ সে সিবিআইয়ের সকাশে। সাক্ষ্যের প্রয়োজনে। সত্য উন্মোচনের প্রত্যাশী রূপে।

মিনাক্ষী নিজেও হুমকির শিকার হয়েছিল। আমরা টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছিলাম, একজন পুলিশ অফিসারের নির্দয়তা। 

মিনাক্ষীর হাত ধরে টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দেবার চেষ্টা করেছিল ওই পুলিশ অফিসার। একজন মহিলাকে সরাতে মহিলা পুলিশ না এনে পুরুষ পুলিশ দিয়ে শক্তির পরীক্ষা করতে চেয়েছিল কলকাতা পুলিশ। 

তবে পারেনি। মিনাক্ষীর সাথে ছিলেন হাজার হাজার মানুষ। 

মিনাক্ষী দেখেছিল তৃণমূলী লুম্পেন বাহিনী কিভাবে পুলিশি সহযোগিতায় আরজি কর মেডিকেলের পঞ্চম তলা ভেঙে তছনছ করেছিল। তাদের মুখের ভাষা ছিল লুম্পেনদের মত। মদ্যপ সেই লুম্পেন বাহিনী নিমেষের মধ্যে ভেঙেছিল, প্রমান লোপাটের চেষ্টা করেছিল। 

আজ ৪২ দিন। নির্যাতিতা বিচার পায়নি। আশা রাখছি, প্রকৃত দোষীরা শাস্তি পাবে। তদন্তে স্বচ্ছতা থাকবে। কলতানকে কলকাতা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সেদিন কলতান দাসগুপ্ত মিনাক্ষীর সাথে ছিল। বাধা দিয়েছিল, তাই কলতানকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশ। 

মুক্ত হবে কলতান। পুলিশ ওকে বেশি দিন ওকে রাখতে পারবে না। সত্য উদঘাটন হবে। দেবীপক্ষের আগে দোষীরা গ্রেপ্তার হবে এই আশা রাখছি। নচেৎ বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের যেটুকু আস্থা রয়েছে তাও নষ্ট হবে। 

শাসকের ভাষা, শাসকের মিথ্যা অপপ্রচার মানুষ বুঝে গেছে তিলোত্তমার মৃত্যুর পর। শাসকের অত্যাচার বুঝেছে। চক্রান্ত বুঝেছে। এরাজ্যে মাটি, বালি, পাথর, জমি, শিক্ষা কেলেঙ্কারির থেকেও বড় কেলেঙ্কারি এই স্বাস্থ্য কেলেঙ্কারি। 

যিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তিনিই পুলিশ মন্ত্রী। তিনিই মুখ্যমন্ত্রী। এই দুর্নীতি একদিনের নয়, দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তিনি জানতেন না এ হতে পারে? হতে পারে না। 

এরাজ্যে একটাই পোষ্ট, বাকি সব ল্যাম্পপোস্ট। সকলেই জানি। যেখানে যা যা ঘটেছে সবই তো তার অনুপ্রেরণায় ঘটছে। ল্যাম্পপোষ্টগন তো তাই বলেন। এখন দায় এড়ালে, চলবে না। তাই দাবি করি পদত্যাগ। 

এই আন্দোলনে বিজেপি নেই। বিজেমূল তত্ত্ব প্রমাণিত হয়েছে। কারণ ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন বিজেপি চায় না। তাই তারা প্রধান বিরোধী দল হয়েও চুপ থাকছে। 

এই সত্যও বাংলার জনগন বুঝছে। আসল লড়াইটা ডাক্তার বন্ধুরা করছে তাদের নিজেদের স্বার্থে। জনগন এই লড়াইয়ে আছে নির্মমতার অবসান চেয়ে। বামপন্থীরা এই লড়াইয়ে মুখ্য ভূমিকায় কারন, তারা চায় সমাজ বদল। চায় দুর্নীতির অবসান। 

ঠিক, এই কারনেই কলতান দাসগুপ্তকে গ্রেপ্তার করেছে প্রশাসন। আর কত নিচে নামবে। যে কলকাতা পুলিশকে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সাথে তুলনা করা হতো সেই সম্মান আজ কলকাতা পুলিশ হারিয়েছে। নিজেরাই নিজেদের ভূলুণ্ঠিত করেছে। 

আশা করব, সেই সম্মান কলকাতা পুলিশ আবার অর্জন করবে। 

(www.theoffnews.com - Minakshi Mukherjee CBI Kolkata)


তপন সান্যাল, কবি, গীতিকার ও গবেষক, কলকাতা:

১২ই সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী চিঠি দিয়ে জানালেন খোলা মনে আলোচনা হবে। সব দাবী নিয়েই আলোচনা হবে কিন্তু সাথে বললেন ১৫ জনের একটি প্রতিনিধি দলকে অনুমতি দেওয়া হবে। শেষে বললেন মুখ্যমন্ত্রী তথা সরকারি উপদেষ্টারা এই আলোচনা সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না।

অর্থাৎ নো live streaming। অন্যদিকে জুনিয়র ডাক্তাররা বললেন ইমেলের মাধ্যমে আমরা ৩০-৩২ জন যাবো। আমরা আমাদের দাবী থেকে এক চুলও সরে আসবো না। মুখ্যমন্ত্রী রাজি হলেন, মিটিংয়ের সময় ঠিক হল সাড়ে পাঁচটা। এ এক ঐতিহাসিক দিন। রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য। ডাক্তাররা বেরিয়ে পড়লেন সদলবলে, গাড়ি ছুটছে নবান্নের দিকে। ওই দিকে স্বাস্থ্য ভবনের ধর্নাতে ক্রমাগত স্লোগান চলছে গানের মাধ্যমে, ছড়ার মাধ্যমে।মুখ্যমন্ত্রী সন্ধে পোনে ছটা নাগাদ নবান্নের সভাঘরে এলেন। ডাক্তার বাবুরা পৌঁছালেন প্রায় সাড়ে ছয়টা নাগাদ। আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশের বড় কর্তারা ডাক্তারদের মুখোমুখি হয়ে বললেন নিয়ম ও নির্দেশ অনুযায়ী  ১৫ জনকে অনুমতি দেওয়া হবে, ৩০ জন নয়।ডাক্তাররা বললেন গেলে ৩০ জনই যাবে। অনেক আলোচনার পর প্রায় ৩২ জনকে অনুমতি দেওয়া হলো। তারপর শাসক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বললেন সব মানা হবে, আলোচনা হবে আবার স্বচ্ছতার জন্য ভিডিও রেকর্ডিং হবে কিন্তু নো live streaming।

ডাক্তাররা বললেন নবান্নের নীচে দাঁড়িয়ে লম্বা বৈঠকের পর, live streaming must।এতে লুকাবার কিছু নেই তাছাড়া সাধারণ মানুষও সরাসরি দেখতে ও জানতে চায়। শাসকও বললেন  না সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না। কেন এই কথা?সরকারের যুক্তি হলো এই পাঁচ দফা দাবীর মধ্যে অপরাধ ও অপরাধীর তদন্ত আর উচ্চতর পুলিশ অফিসারদের শাস্তি নিয়ে কথা বলা যাবে না কারণ এই বিষয়গুলি বিচারাধীন অবস্থায় আছে অর্থাৎ সাবজুডিস ম্যাটার। এইগুলি সরাসরি লোক সমক্ষে আলোচনা করলে সুপ্রিমকোর্টের আইনের বিরুদ্ধে যাবে। কিন্তু এই মন্তব্য আইনের ধারা ও তথ্য সমর্থিত নয়। কারণ সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, হাথরস ও উন্নাওর ঘটনা তো বিচারাধীন বিষয় ছিল তবে সেই সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা কেন সরাসরি সম্প্রচার  হয়েছিল? ২০১৯ সালে এই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন লাইভ স্ট্রিমিংয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই, মানুষের জানার অধিকার আছে। তবে এই প্রশ্নে আজ কেন নয়। আসলে যে সাবজুডিস বিষয় শাসকের পক্ষে যাবে সেইটা সম্প্রচার হবে আর বিষয় যদি শাসকের বিরুদ্ধে যায় তাহলে সম্প্রচার হবে না। এতো দ্বিচারিতা বললেন বিশেষজ্ঞরা।আসলে তদন্ত সম্পর্কিত আর ওই হত্যাকান্ড নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করলে হাসপাতালের উচ্চপদস্থ অফিসার ও পুলিশের বড় কর্তারা জড়িয়ে পড়বে। আর ওই হত্যা কাণ্ডের সাথে যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্নীতিও যুক্ত তাও আড়াল করা যাবে না।৩০ জন ডাক্তারের প্রশ্ন বানে বিদ্ধ হয়ে তিনি উত্তর দিতে অসমর্থ হবেন, শাসক কুলের মুখোশ খুলে যাবে। এর পর বৈঠক গেল ভেস্তে শুধু এক রাশ হতাশা ও অসন্তোষ নিয়ে  ডাক্তাররা ফিরে গেলেন আবার ধর্ণা মঞ্চে। চলে যাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী প্রেস কে বিবৃতি দিলেন- এঁরা বিচার চায় না এঁরা চায় চেয়ার। জনতা ও কোর্টকে উদ্দেশ্য করে বললেন আমাকে ক্ষমা করুন, আমি পারিনি, চিকিৎসার অভাবে প্রায় ২৩ জন মানুষ মারা গেছেন আর ৭ লক্ষ মানুষ পরিষেবা পায়নি। এতে তো মানুষেরই ক্ষতি হচ্ছে, আসলে এঁদের রাজনৈতিক অভিসন্ধি আছে। তবু আমি এঁদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেব না। ক্ষমা করে দিলাম, দরজা খোলা রাখলাম, উনারা চাইলে আবার আলোচনায় বসব। শেষে বললেন আমি মানুষের জন্য পদত্যাগ করতেও রাজি। আমার কাছে জনগণের স্বার্থই মূল কথা।

সত্যি কি মুখ্যমন্ত্রী আবেগের বশে মনের কথা বললেন? না, সমস্ত আলোচনা ও বর্ণনা থেকে

এটা পরিষ্কার হয় যে একটা সুচিন্তিত ক্ষমতার প্রশ্নে একটি পূর্বপরিকল্পিত সাজানো নাটকের স্ক্রিপ পড়ে শোনালেন। এই প্রেস বিবৃতিকে তিনি ডাক্তার আন্দোলনের বিরুদ্ধে কোর্টের কাছে ক্ষমতার স্বার্থে তথ্য হিসেবে তুলে ধরবেন যাতে রায় শাসকের পক্ষেই যায়। শুধু তাই নয় উনি ডাক্তার সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে যুদ্ধ বাঁধে তাই মৃত  রুগীর ক্ষোভের সলতেতে আগুন ধরবার চেষ্টা করলেন। উত্তরে ডাক্তার সমাজ বললেন কোন ক্ষমতা দখল নয়, আমরা রাজনৈতিক দলের মত মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইনি, কারণ ক্ষমতায় আসা আমাদের দাবী নয়। আমরা সমস্ত সংসদীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিমন্ত্রণ করিনি উল্টে বলেছি আমাদের অবস্থানকে ব্যবহার করে রাজনীতি করবেন না। এই অবস্থান সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কি করে মুখ্যমন্ত্রী বললেন আমাদের রাজনৈতিক অভিসন্ধি আছে।

ডাক্তার সমাজ বুঝে ফেলেছিলেন এই প্রশাসনিক দুর্নীতির সাথে বড় চক্র জড়িত আবার ওই দুর্নীতির সাথে ওই ধর্ষিত তরুণী চিকিৎসকের হত্যাকান্ড জড়িত। তাই দুর্নীতিমুক্ত হাসপাতাল তথা প্রশাসনের হাত থেকে মুক্ত করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলেন। কেন তদন্তে এত গড়িমসি, এত হোঁচট, কেন তথ্যপ্রমাণ লোপাট, এই সব প্রশ্নের সমাধানের প্রশ্নে বৈঠক চেয়েছিলেন খোলা মনে যেটা বাংলার জনগণ বুঝে ফেললেন সেইটা সরকার তথা শাসককুল বুঝতে পারলেন না বা বুঝতে চাইলেন না। কারণ শাসক সবসময়ই ক্ষমতা লোভী ও কর্তৃত্বের পূজারী। তাই এই পূজায় জনগণ কোন ফুল দেবে না। বরং ক্ষমতার পূজারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা না করেই নীরবে শান্তিপূর্ন ভাবে যুদ্ধ করলেন  অরাজনৈতিক ভাবে যাতে এই গণআন্দোলন মজবুত থাকে, সমাজ যাতে দুর্নীতি মুক্ত হয়।দেশের কল্যাণের প্রশ্নে এই মুহূর্তে  বাংলার নাগরিক সমাজ আজ এসময়ে প্রথম একত্রিত।

এ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। আমরা এখন ত্রিমুখী অবস্থানে আছি একদিকে বৃহত্তর নাগরিক সমাজ উল্টোদিকে শাসক গোষ্ঠী

আবার অন্য দিকে বিচার ব্যবস্থা।

এই ত্রিমুখী অবস্থানের ওপর শুধু আমাদের নয় সারা পৃথিবীর নজর আছে। এর গতি প্রকৃতি কোথায় গিয়ে শেষ হয় তা জানা নেই। এও হতে পারে হয়তো এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ মানুষকে বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার সময় দিচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের দুইটি গান খুব প্রাসঙ্গিক একটি আগুনের পরশমণি ছোয়াও প্রাণে, দুই, অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো। আগুনের পরশমণি কি মানুদের প্রাণে জেগে উঠছে? যদি সত্যি জেগে উঠে তাহলে বুঝতে হবে এইটাই অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাওয়ার প্রকৃত সময়।রাত দখল দিয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়তো আগামীতে তাঁর ভোর আসবে। আলো সব সময়ে অন্ধকার থেকে উৎসারিত হয়। এটাই ইতিহাস আমাদের শেখায়।

তবে এটাও ঠিক পরবর্তী পর্যায়ে, লাইভ স্ট্রিমিং ছাড়াই বৈঠকে বসতে রাজি হন জুনিয়র ডাক্তারেরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবণে। বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যথারীতি ১৬ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত। দাবির মান্যতা আংশিক দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাঁদের দাবিগুলোর বিষয়ের ভিত্তিতে যে মাইনুটস লিপিবদ্ধ হয়েছে উভয়পক্ষের সম্মতিতে তা সুপ্রিম কোর্ট রেকর্ডভুক্ত করেছে পরের দিন। কিছু দাবি বাস্তবায়ন করলেও বহু দাবি অধরাই থেকে গেছে এখনও। তাই কালক্ষেপন না করে জুনিয়র ডাক্তারেরা তাঁদের আন্দোলন জারি রেখে ফের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসার তোড়জোড় শুরু করেছেন।

এমতাবস্থায় আরজিকর হাসপাতালের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সমস্ত মানুষের বিবেক ও মনোজগত কম্পিত হলেও আংশিক দাবি কার্যকর করা ছাড়া আক্ষরিক ভাবে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলে বা তার নেতৃত্বের মনোজগতে একটুও অপরাধবোধ বা গ্লানি নজরে আসছে না। এতে সাধারণ ভাবে আজকের সব রাজনৈতিক দলের মানসিক জগতের, নৈতিক ও মানবিক বোধের এক চুড়ান্ত অধঃপতনই প্রতিফলিত হয়।

তবে এটা খুবই মনে হচ্ছে যে মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতির চাপে যদিওবা ডাক্তারদের কিছু দাবি এখনকার মতো মেনে নিয়েছেন, কিন্তু ভিতরে ভিতরে তিনি ডাক্তারদের সমস্ত রকম সংগঠন ভেঙ্গে ফেলতে খুবই উঠে পড়ে লাগবেন ডিভাইড এন্ড রুল কৌশলে। যদি ২০২৬ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ফের ক্ষমতায় আসেন তবেই এইসব প্রত্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা প্রবল।

এই প্রেক্ষাপটে মনে হয় মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান বানানোর জন্য উদ্যোগী শিল্পপতিদের উৎসাহিত করবেন ও ধীরে ধীরে সরকারি হাসপাতালগুলোকে মুখ থুবড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার দিকে নিয়ে যাবেন। যাই হোক তবে এই প্রসঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক নাটক খুব প্রাসঙ্গিক।

শেখর চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ও পরিচালিত আশির দশকের একটি নাটক ছিল বের্টোল্ট ব্রেখটের 'আর্তুরো উই'। নাটকটির সংক্ষিপ্তসার কি অদ্ভুতভাবে আমাদের এখনকার সময়ের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে!

*The Resistible Rise of Arturo Ui*  - জার্মান নাট্যকার বের্টোল্ট ব্রেখট রচিত বিশ্ববিখ্যাত নাটক। গুণ্ডা দলের প্রধান উই ছিল প্রবল নিষ্ঠুর ও আত্মপর মানুষ। সে ছিল সবজি বাজারের মাস্তান, তোলাবাজ, নিয়ন্ত্রক। উই এক হাতে বস্তিতে আগুন লাগায়, অন্য হাতে আগুন নেভায় আর ত্রাণসামগ্রী তুলে দিয়ে মহৎ মানুষ হতে চায়। সে তার বিশ্বস্ত বন্ধু রোমাকেও হত্যা করে সন্দেহের বশে। সে বিরোধীপক্ষের নেতাকে হত্যা করে। উই বিরোধীবিহীন অবস্থা সৃষ্টি করে, গুণ্ডা আর নিজস্ব পুলিশ দিয়ে। নির্বাচন করায় ও সাত লক্ষ ভোটে জয়লাভ করে। ব্রেখটের নায়ক উই মধ্যরাতে হাসপাতালে দশজন গুণ্ডা পাঠিয়ে একজন ডাক্তারকে গণধর্ষণ করার পর হত্যা করে, অমানুষিক নির্যাতনে। কারণ, ওই মহিলা ডাক্তার জেনে ফেলেছিলেন হাসপাতালের সরকারি হর্তাকর্তার ব্যাপক দুর্নীতি। মেয়েটি প্রতিবাদ করেছিল। 

একজনকে গ্রেফতার করা হলে, আর্তুরো উই বলে, ওই বন্দিকে ফাঁসি দেওয়া হোক - ও বিচার পাওয়ার যোগ্যই নয়! অর্থাৎ, উই জানে, একজন দোষী বেঁচে থাকা মানেই সত্য বেরিয়ে পড়া। যখন নিহত ডাক্তারের পক্ষে জনগণ আন্দোলন শুরু করে তখন গুণ্ডা ও পোষা পুলিশ দিয়ে বিক্ষোভকারী মহিলাদের চুল টেনে, লাঠি দিয়ে মেরে, আন্দোলন রুখে দেওয়ার চেষ্টা করে। যখন আন্দোলন আগুনের

মত সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়ে তখন গুণ্ডা বাহিনীর সর্দার আর্তুরো উই তিনটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে :

১) হত্যার প্রমাণ লোপাটের জন্য সংস্কারের নামে ঘরে ভাঙাভাঙি শুরু করে। 

২) ৫০ জন গুণ্ডা পাঠিয়ে একদিকে হাসপাতালে ভাঙচুর ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা এবং অন্যদিকে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করার সব দোষ বিরোধীপক্ষের ঘাড়ে চালায়। এক হাতে সে আগুন লাগায়, আর অন্য হাতে তা নেভায়। হাহাকার করে। বলে : ওরা কত সম্পত্তির ক্ষতি করেছে! ওরা শত্রু!

৩) আন্দোলনরত কিছু ডাক্তারকে শাস্তি দেয় ও হাসপাতালের দোষী শীর্ষকর্তাকে পুরস্কার দেয়। 

ব্রেখটের এই নাটক হিটলার-জার্মানির স্বৈরতন্ত্রের দিনলিপি... আর্তুরো উই চিরকাল অপরাধ করে এবং নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। এবং বলে, আমাকে স্পর্শ করার ক্ষমতা কারোর নেই! 

সমগ্র পৃথিবীর মানুষ এক সঙ্গে বলে: উই ওয়ান্ট জাস্টিস। কিন্তু গুণ্ডা বাহিনীর ডন আর্তুরো উই বলে: আমি আন্দোলনের মধ্য দিয়েই উঠে এসেছি, কিছু মানুষ আন্দোলন করলেও আমি আন্দোলিত হচ্ছি না। 

আরও যা ভয়ংকর, আর্তুরো উই রাজপথে মিছিল করেন ও বলেন - উই ওয়ান্ট জাস্টিস! 

সেই আবার মানুষের কণ্ঠরোধের বৃহত্তর চক্রান্ত করে। এবং বলে, আমার কথাই শেষ কথা। চিৎকার করে লাভ নেই। মাত্র একজন ডাক্তার মরেছে তো কি হয়েছে? আমি এর পরিবর্তে ১০০ জন ডাক্তার তৈরি করার ক্ষমতা রাখি। সামান্য একটি আত্মহত্যা নিয়ে বিরোধী পক্ষ অসামান্য হৈচৈ শুরু করে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনও দেশে যা ঘটেনি তা যদি ঘটেও থাকে তা নিয়ে এত মাতামাতির কি আছে? আর্তুরো উই, যার থেকে বড় শয়তান এখনও কেউ গড়তে পারেনি - যা পেরেছেন ব্রেটোল্ট ব্রেখট, কারণ তাঁর আন্দোলন ছিল হিটলারের বিরুদ্ধে!

কি অদ্ভুত সমাপতন ১৯৩০ দশকের জার্মানি আর ২০২৪ এর পশ্চিম বাংলায়।

এখন দেখা যাক এই নাগরিক আন্দোলন এত সজীব কেন?

প্রধান কারণ বাংলার নারীরা এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন। যিনি ধর্ষিত ও খুন হয়েছেন তিনি একজন নারী।

তাছাড়া নাগরিকদের মধ্যে বহুদিন ধরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ছিল শুধু নারীর হত্যা কান্ড ছাড়াও দুর্নীতি একটা  প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে ফলশ্রুতি হিসেবে এই ক্ষোভ দাবানলে পরিণত হয় একটি নারীর ধর্ষণ ও হত্যাকে কেন্দ্র করে। এই রাত দখল আন্দোলনের প্রথম ডাক দেন রিমঝিম সিংহা নামে এক লড়াকু মহিলা তথা ছাত্রী। ইনি সমাজতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেন আর নারীবাদী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের সৈনিক। ইনি যে প্রথম দাবিগুলো রাখেন সেইটা নিম্নে দেওয়া হল। রিমঝিম সিংহা বলছেন তাঁর ঘোষণায়, মানুষ যখনই নিজেদের দাবী করে, তখনই তাদের ঝেড়ে ফেলে দেওয়া হয়। বিজেপি/তৃনমূল/সিপিএম/কংগ্রেস হলো রাজনৈতিক দল। আমরা আমাদের বিকল্প রাজনীতির কথা বলছি, মেয়েদের দাবীও একটি রাজনীতি, সেটা বুঝতে শিখুন। যেমন কৃষকরাও বলেছিলেন। 

আমরা দাবী করছি, সুপ্রিমকোর্ট হোক, সিবিআই হোক, মুখ্যমন্ত্রী হোক, আমাদের দ্রুত বিচার চাই:

১। রাতে কর্মরত মহিলাদের জন্য সুরক্ষিত বিশ্রাম কক্ষ/শৌচালয়

২। রাতে সুরক্ষিত গণপরিবহণ ব্যবস্থা শুরু করতে হবে

৩। স্কুল পাঠ্যে লিঙ্গ সাম্যের বিষয় নিয়ে কোর্স চালু করতে হবে

৪। আইসিসি/এলসিসি (কমপ্লেন্ট কমিটি) গুলোকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বানাতে হবে

৫। ভিক্টিম ব্লেমিংকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়নের দাবি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। যেমন লিঙ্গে সাম্যতা। বাকি সব দাবি সরকারের সদিচ্ছা থাকলে পূরণ করা সম্ভব। বাংলার নারীবাদীরা ও তাঁর সাথে গোটা পৃথিবীর নারীবাদী গোষ্ঠীগুলি এই অভয়ার ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডে

বিচার চেয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচুরকে চিঠি দিয়ে সঠিক বিচারের আবেদন জানান। যদি এই বিচারের রায় একপেশে হয়  তাহলে নারীবাদীরা সারা পৃথিবী জুড়ে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলবেন। পৃথিবীর প্রায় ২২টি দেশে এই প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। নীচে আমি একটি আবেদন পত্র তুলে দিলাম। আরজিকর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নাগরিক পিটিশন যৌন সহিংসতা এবং পুলিশি দমন-পীড়ন মোকাবেলায় কার্যকর আইনি নির্দেশনা চেয়েছে।

আরজি কর ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে CJI-এর কাছে একটি খোলা চিঠি

প্রতি

ভারতের প্রধান বিচারপতি 

বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়

সুপ্রিম কোর্ট, ভারত

বিষয়: আরজি কর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নাগরিক পিটিশন যৌন সহিংসতা এবং পুলিশি দমন-পীড়নের জন্য কার্যকর আইনি নির্দেশনা চেয়ে

প্রিয় স্যার,

আমরা, নারীবাদী, ছাত্র, গণসংগঠন এবং সারাদেশের স্বতন্ত্র নাগরিক হিসাবে, 

পশ্চিমবঙ্গে রিক্লেইম দ্য নাইট, রিক্লেইম দ্য রাইটস (RTNRTR) আন্দোলনের সাথে আরজি কর ধর্ষণ ও হত্যার 'সুওমোটো' জানার পরেও হতাশ। সুপ্রিম কোর্ট (এসসি) দ্বারা, মামলাটি স্থগিত রয়েছে। আমরা উল্লেখ করতে চাই যে এসসি সাধারণ প্রতিবাদী মানুষের অভিযোগ, ক্ষোভ এবং ক্ষোভের সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

এক মাস পেরিয়ে গেছে কিন্তু সিবিআই এখনও সেই ভয়ঙ্কর ধর্ষণ ও খুনের কোনও আবিষ্কার প্রকাশ করতে পারেনি। শেষ শুনানিতে এসসি পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভাঙ্গনের জন্য দোষী (কপিল সিব্বল দ্বারা সমর্থিত) হিসাবে শুধুমাত্র প্রতিবাদী ডাক্তারদের দিকে তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল। যদিও নাগরিক এবং পুরো চিকিৎসক সম্প্রদায়, প্রবীণ ডাক্তার সহ প্রতিবাদী ডাক্তারদের সমর্থনে, যাদের স্বার্থ একটি উন্নততর সহজলভ্য জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ছাড়া আর কিছুই নয়, দুর্নীতির কোলাহল এবং হুমকি সংস্কৃতি থেকে মুক্ত, প্রশ্ন উঠেছে কেন মাননীয় CJI হেরে যাচ্ছেন? আরজি কর ধর্ষণ ও হত্যার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের দিকে ফোকাস করুন। আমরা চাই SC বিলম্বিত তদন্ত এবং অপরাধীদের কথিত সুরক্ষা, তারপরে নাগরিক বিক্ষোভের উপর হামলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করুক।

আমরা ক্ষুব্ধ যে রাজনীতিবিদ, ধর্মীয় সংগঠন এবং ঘৃণার রাজনীতির প্রবক্তাদের দায়মুক্তির সাথে হিংসাত্মক বক্তৃতা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও বিচার বিভাগ এই সহিংসতা কমাতে ব্যর্থ হয়, ন্যায়বিচারের দাবিতে সমাজকর্মীরা জামিন অস্বীকার করে এবং বিনা বিচারে কয়েক দিন কারাগারে আটক থাকে। সহিংসতার সংস্কৃতি এতটাই বিস্তৃত এবং গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে একজন মহিলা প্রকাশ্য দিবালোকে উজ্জানের একটি প্রকাশ্য রাস্তায় যৌন নিপীড়নের শিকার হন, কেউ তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে না। 

দায়মুক্তির এই সংস্কৃতি আমাদের জন্য উদ্বেগজনক। *womxn, queer এবং trans* মানুষ যারা সর্বদা যৌন সহিংসতা মুক্ত সমাজের জন্য সংগ্রাম করেছে।

যতক্ষণ না বিচার বিভাগ তার ঘুম থেকে জেগে ওঠে, যৌন সহিংসতা এবং ঘৃণার রাজনীতি রাজত্ব করতে থাকবে এবং সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশগুলিকে টার্গেট করবে।

মাননীয় SC প্রথম দিনেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে কোনো বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমরা বিনীতভাবে জিজ্ঞাসা করছি যে যদি পুলিশ এবং রাজনৈতিক দলের স্থানীয় গুন্ডাদের দ্বারা প্রতিবাদকারীদের হুমকি দেওয়া হয় এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে মাননীয় SC কি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। আমরা আপনাকে আশ্বস্ত করছি যে এই ধরনের নেক্সাস আপনার এখতিয়ারের অধীনে এবং অন্যান্য বহু রাজ্যেও তা সক্রিয়। আমরা অবিলম্বে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে আমাদের বন্ধু, কমরেড সহ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীরা পুলিশ এবং স্থানীয় গুন্ডাদের দ্বারা নির্মম দমন-পীড়নের সম্মুখীন হচ্ছে। এটা পরিহাসের বিষয় যে *womxn, queer এবং trans* লোকেদের দ্বারা যৌন সহিংসতা এবং শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটেছে যারা ১৪ই আগস্ট, ২০২৪ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে স্বাধীনভাবে প্রতিবাদ করছে। বাংলার বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন রিপোর্ট আসছে – যেখানে স্থানীয় গুন্ডারা টিএমসি এবং বিজেপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের আক্রমণ করে এবং বিক্ষোভের স্থানগুলিকে ব্যাহত করে।

পুলিশ অতিরিক্ত অ্যাকশন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা, বিক্ষোভকারীদের উপর অবৈধ গ্রেপ্তার এবং মিথ্যা মামলাও দায়ের করা উত্তর ২৪ পরগণার বারাসাতে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা। ভিন্নমতের অধিকার গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 

আমরা আশা করি যে সিজেআই জানেন, আরজি কর হাসপাতালেও প্রশিক্ষণার্থী ডাক্তারের নৃশংস ধর্ষণ এবং হত্যা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে এবং জনসাধারণের মধ্যে যৌন সহিংসতা এবং লিঙ্গ বৈষম্যের বিভিন্ন ঘটনার সাথে যুক্ত যা সারাদেশে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরনের অপরাধের পেছনে ক্ষমতাসীন দল ও তাদের রাজনৈতিক যোগসাজশ রয়েছে। কর্তৃত্ববাদ, ধর্মীয় মৌলবাদ, ক্রমবর্ধমান জাতিগত অত্যাচার, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব, সিন্ডিকেট র‌্যাকেট লিঙ্গ-যৌন সহিংসতাকে চালিত করার রাজনৈতিক অবকাঠামো হয়ে উঠেছে। এমনকি এই সমস্ত উত্তাল নাগরিক বিক্ষোভের মধ্যেও, রাজনৈতিক দলগুলি নির্লজ্জভাবে কিভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল বা ধরে রাখতে হবে তা নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।

মণিপুরের মতো, বাংলায়ও, গতও মাসে বিজেপি দলের কর্মীরা নন্দীগ্রামে একজন মহিলাকে নগ্ন করে প্যারেড করিয়েছিল যখন বিজেপি লিঙ্গ অধিকারের ক্রুসেডার হিসাবে কাজ করছে, অনুপ্রবেশ করছে এবং প্রতিটি নাগরিকের প্রতিবাদকে সহযোগিতা করছে। উন্নাও এবং কাঠুয়ার ধর্ষকদের জন্য জাতীয় পতাকা উল্লাস ও উত্তোলনের জন্য দায়ী একটি দল; জোরপূর্বক দাহ করা, প্রমাণ ধ্বংস করা এবং হাতরাসে প্রভাবশালী বর্ণের অপরাধীদের রক্ষা করা; বিলকিস বানো ধর্ষকদের পুষ্পস্তবক অর্পণ; এবং ব্রিজভূষণ শরণকে রক্ষা করা এবং ভিনেশ ফোগাট এবং সাক্ষী মল্লিক এবং সমস্ত প্রতিবাদী কুস্তিগীরদের কণ্ঠকে দমন করা এখন নারীবাদী আন্দোলন এবং জনগণের প্রতিবাদ হাইজ্যাক করার মরিয়া চেষ্টা করছে। আমরা ক্ষমতাসীন জাতীয় দলের নির্বাচনী রাজনীতির অন্তর্নিহিত পিতৃতান্ত্রিক চক্রান্ত, জাতপাত ও সাম্প্রদায়িক নৃশংসতা প্রকাশ করতে বদ্ধপরিকর। 

আমরা অপরাজিতা বিলের বিরোধিতা করি যা নাগরিকদের সাথে কোনো পরামর্শ ছাড়াই টিএমসি তৈরি করেছে। নারীবাদীও হিসেবে, আমরা মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী কারণ এটি জনগণের ক্ষোভকে দমন করার জন্য একটি জনপ্রিয় ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচারের জন্য womxn এর যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে না। আমরা ক্ষমতাসীন দলের গাজর এবং লাঠি নীতির নিন্দা করছি, 'রাত্রির সাথী' অ্যাপস, মহিলাদের কাজের সময় ১২ ঘন্টা সীমিত করা, সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে নিরাপদ অঞ্চল চিহ্নিত করার মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে নাগরিকদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছি। সমাজে স্বাধীনভাবে বাঁচতে এবং শ্বাস নিতে, আমরা স্বাধীনতা এবং মর্যাদা চাই, সুরক্ষার নামে আমাদের নিয়ন্ত্রণ / নজরদারি করে এমন ব্যবস্থা নয়।

এমনকি ১৩ বছর পরেও, কর্মক্ষেত্রে পকসো আইনের প্রয়োগ খুবই খারাপ। ভার্মা কমিটির পরে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির নিয়ম এবং পদ্ধতিগুলি জেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান এবং এলসিসিগুলির মধ্যে আইসিসি স্থাপনের দিকে পরিচালিত করেনি। সরকারের কোন তথ্য নেই। আইসিসি এবং এলসিসি সম্পর্কে ওয়েবসাইট। কোনো কোনো জায়গায় স্থাপন করা হলেও সেগুলো হয় অকার্যকর নয়তো প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে। এটা আতঙ্কজনক যে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক শ্রেণি, মুসলমান, নিপীড়িত বর্ণের নারী, কুইয়ার এবং ট্রান্স মানুষের উপর লিঙ্গ-যৌন সহিংসতার প্রতিদিনের ঘটনা অবিরত রয়েছে। আইন ও নীতি প্রণয়নে নারীবাদী সংগঠন, সমষ্টি এবং প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্তি এবং সম্পৃক্ততা কাজের সকল ক্ষেত্রে পকসো আইনকে কার্যকর করার জন্য অনেক বেশি প্রয়োজন।

আমরা প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা মান - বিশ্রামাগার, টয়লেট, হোস্টেল, পরিবহন, স্যানিটেশন ইত্যাদি পর্যালোচনা করতে এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চিকিৎসা পেশাজীবীদের দুর্বলতা মোকাবেলার জন্য আরজি করে এসসি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স (NTF) সম্পর্কে আমাদের উদ্বেগ উত্থাপন করি।

ক) প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত অভাব শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেই উদ্বেগের বিষয় নয়, অন্যান্য সকল শিক্ষা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।       

খ) নিযুক্ত কমিটির অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা থাকতে হবে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুর্নীতির র‍্যাকেট এবং পদ্ধতিগত ব্যর্থতাগুলি সনাক্ত এবং সমাধান করার জন্য। এই প্রস্তাবিত কমিটির হাই-প্রোফাইল গঠন নিশ্চিত করে না যে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক, অবকাঠামোগত এবং নৈতিক ত্রুটিগুলি কঠোরতা এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতার সাথে তদন্ত করতে হবে।   

c) আরজি করে সিআইএসএফ মোতায়েনে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ভয়, ভীতি ও নজরদারি বাড়ায় এবং দ্রুত তদন্তে সাহায্য করে না।      

 ঐতিহাসিকভাবে প্রত্যক্ষ করা হয়েছে, ধর্ষণ ও হত্যা শাসক শাসনের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক অস্ত্র। এই মামলার অপরাধীরা সক্রিয়ভাবে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, প্রমাণ নষ্ট করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কলেজ প্রশাসন, রাজ্য প্রশাসন থেকে শুরু করে ধর্ষক ও খুনিদের শৃঙ্খল যারা দোষী বলে গণ্য হয়েছে তারাও শাসক দলের পূর্ণ সুরক্ষা পাচ্ছে। যদিও সিবিআই তদন্ত এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র সন্দীপ ঘোষ এবং তার কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেফতার করতে পেরেছে, এটি চলমান নাগরিক বিক্ষোভের চাপে প্রথমে সন্দীপ ঘোষকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হিসেবে আমরা আপনাদের সামনে নিম্নোক্ত দাবিগুলো পেশ করছি:

১) ৯ আগস্ট ধর্ষক ও খুনি ও সহযোগীদের চিহ্নিতকরণ, গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। যতদিন ধর্ষকরা অবাধ বিচরণ করবে এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে অপরাধীদের র‌্যাকেট অব্যাহত থাকবে ততদিন চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা নিরাপদ নয়।      

২) প্রমাণ ধ্বংসের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা।       

৩) ধর্ষণ, প্রশিক্ষণার্থী ডাক্তার হত্যা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটি, স্বাস্থ্যে দুর্নীতির র‌্যাকেট সম্পর্কিত একটি কার্যকর ও অবহিত তথ্য অনুসন্ধানের জন্য সুপ্রিম কোর্টকে অবশ্যই NTF-এর গঠন পরিবর্তন করতে হবে এবং আঞ্চলিক ভ্রাতৃত্বের ডাক্তার, ছাত্র, কর্মী এবং আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেক্টর এনটিএফকে প্রতিবাদী ডাক্তার, ছাত্র ও নারী, নারীবাদী সংগঠন, প্ল্যাটফর্মের সাথে পরামর্শ করতে হবে যারা এই ইস্যুতে কাজ করছে এবং এই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার।       

৪) মামলাটি বাংলার দায়রা আদালতে স্থানান্তরিত হলে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো সহ একটি বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালত প্রতিষ্ঠার নির্দেশ।       

৫) ভ্রান্ত পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় দলীয় কর্মী এবং যারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর শারীরিক হামলা চালায় এবং বাংলার বিভিন্ন অংশে নাগরিক সমাবেশে বাধা দেয় তাদের শাস্তির জন্য কঠোর নির্দেশ জারি করুন।       

৫) কাজের সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষার জন্য লিঙ্গ নিরীক্ষা করার জন্য শুধুমাত্র চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে নয়, দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, এলাকাতে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করুন। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর্যালোচনা কমিটিতে ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মী, নারীবাদী, বিচিত্র আন্দোলন এবং সংগঠনের আইনজীবী থাকতে পারে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের কাজে আলাদাভাবে এই ধরনের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।      

৭) পকসো আইনের বিধান অনুযায়ী ICCs, LCCs ইনস্টিটিউট করতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক প্রধানদের (DM/ কালেক্টর) শাস্তিমূলক একটি নির্দেশ জারি করুন।      


৮) পকসো আইনে বিচ্ছিন্ন এবং ট্রান্স ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করুন এবং পকসো আইনে বিচ্ছিন্ন এবং ট্রান্স ব্যক্তিদের উপর শারীরিক, যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে বৈষম্যহীন এবং সমান ব্যবস্থা গ্রহণ করুন ।      

৯) সদ্য পাস করা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) সংশোধন করুন যেখানে যৌন নিপীড়নের এফআইআর নিবন্ধন করতে সময় লাগে এবং কেউ সরকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারে না।    

রাত পুনরুদ্ধার করুন, অধিকার পুনরুদ্ধার করুন, 

যতদিন না সঠিক বিচারের রায় আসছে ততদিন আন্দোলন চলবে। আমার লেখাটিও চলবে তাঁর সাথে সাথে। এই গণজাগরণ দীর্ঘজীবী হোক। যেন আমরা মাঝ সমুদ্রের শান্ততা ও স্নিগ্ধতায় পৌঁছাই।

আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে।

আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে।

এ জীবন পুণ্য করো,

এ জীবন পুণ্য করো,

এ জীবন পুণ্য করো,

এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে।

আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে।

আমার এই দেহখানি তুলে ধরো

তোমার ওই দেবালয়ের প্রদীপ করো

নিশিদিন আলোক-শিখা জ্বলুক গানে। (ক্রমশঃ)

(www.theoffnews.com RGKar hospital rape Kolkata junior doctors agitation)



 


 প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র, লেখক, কালনা, পূর্ব বর্ধমান:

ওরা তো চাটুকার নয়। লেজ নাড়িয়ে যা বলবে তাই মেনে নেবে। ওরা শিক্ষিত ছেলেমেয়ে। ওরা বোঝে মিথ্যা, প্রলোভন, চাতুরী। বন্ধুর হত্যার তদন্ত চেয়ে ওদের আন্দোলনের শুরু। চোখের সামনে দেখেছে পুলিশের সহায়তায় মেডিকেল কলেজের পাঁচ তলা ভেঙে তছনছ করে দিতে। প্রমান লোপাটের চেষ্টা দেখেছে স্বচক্ষে। ওরা দেখেছে, প্রিয় বন্ধুর মা-বাবাকে হেনস্থা করতেও। 

আইন বহির্ভুত নিয়মে সন্ধ্যার ঘন অন্ধকারে বন্ধুর পোষ্টমর্টেম থেকে শুরু করে বিধায়ক ও কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে দ্রুততার সাথে বডি পুড়িয়ে দিতে দেখেছে। 

ওরা এরপরই ক্ষোভে দুঃখে বারুদে পরিণত হয়েছে। যে বারুদ জলে ভিজলেও নিষ্ক্রিয় হয় না। সব দলের নেতা নেত্রীকে 'গো ব্যাক' স্লোগান দিয়ে খেদিয়ে দিলেও ওরা পারেনি মীনাক্ষী, কলতানদের ধর্ণা স্থান থেকে খেদিয়ে দিতে। কারন কি? 

ওরা জানে সেদিন রাতে মীনাক্ষী গাড়িটা না আটকালে পোষ্টমর্টেম টুকুও হতো না। ওরা শাসকের রাগের কারণ জানে। ওরা শিক্ষিত, বুদ্ধিমান। 

লক্ষ লক্ষ সাধারণ বঙ্গবাসীকেও ওরা ধর্ণা মঞ্চ থেকে তাড়িয়ে দেয়নি। কারন, ওরা বুঝেছে ওদের আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সমর্থন রয়েছে। রাত দখলের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ পথে না নামলে ওরা এই আন্দোলনের রসদ পেত না। তাই ওরা সাধারণ মানুষের কথা ভাবছে। আন্দোলনের প্রতিটি মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পালস বুঝে পা ফেলছে। সম্মান জানাচ্ছে আমনাগরিকদের।

ওরা বিপ্লবী। সমাজের সাধারণ ছন্দকে ওরা বদলে দিয়েছে এই কয়েকদিনে। যা স্বাধীনতার পর নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। সারা ভারতেও নজির।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘুম ভাঙল নয়, বরং মুখ্যমন্ত্রী চাতুরী করেই ওদের ধর্ণা মঞ্চে এসেছেন তাও ওরা বুঝেছে। বুঝেছে বলেই ওরাও মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ডাকা মিটিংয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কমন মিনিমাম সম্মান জানানো উচিত। ওরা শিক্ষিত। ওরা এটুকু বুঝেই গিয়েছিল গতকালকের সভায়। সম্মান জানাতে। আপনি ধর্ণা মঞ্চে গেছেন, আমরাও এলাম আপনার বাড়ি। আমরা বিচার চাই। তথ্য লোপাট করেছে প্রশাসন। বিচার চাই বান্ধবীর  উপর নির্মম অত্যাচার ও খুনের।

ওরা জানতো এই সভাও হবে না। কারন উনি বলেছেন সভায় পনেরো জন উপস্থিত থাকতে পারবেন। ওরা উপস্থিত হলেন পঁয়ত্রিশ জন। দাবিতে অনড়। অর্থাৎ স্ট্রিমিং যদি নাও করতে দেন তবে দুপক্ষের ভিডিও রেকর্ডিং করতে হবে। কারন ওঁরা বুঝে ফেলেছিল, নিরাপত্তার অছিলা দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে লাইভ স্ট্রিমিং প্রশাসন করতে দেবে না। ওদের হাতে, ভিডিও রেকর্ডিং তাই থাকা উচিত।

ওরা ঘন্টার পর ঘন্টা জলে ভিজে দাঁড়িয়ে রইলেন দরজার সামনে। তবুও দুপক্ষের ভিডিও রেকর্ডিংয়ে প্রশাসন রাজি হলো না। রাজি হলে যে ভিডিওটি এডিট করে কিছু অংশ বাদ দেওয়া যাবে না। রাজি হলে যে ছাত্রদের হাতেও তথ্য থাকবে। কথার ওলট পালট করা যাবে না। 

এরপর বলা হলো যারা মিটিংয়ে আসতে চাও তারা এসো। ডিভাইড এন্ড রুল। অর্থাৎ আন্দোলনকারীদের মধ্যে দ্বিমত সৃষ্টি করার প্রয়াস। তাও বুঝে গেল জুনিয়ার ডাক্তাররা। 

জোর হাত করে দাঁড়ালো, বলল আমরা আলোচনা চাই। সকলেই উপস্থিত থাকব আলোচনা হোক। বসতে না দিলে দাঁড়িয়ে থাকব। ওদের ঐক্য ভাঙতে ব্যর্থ হলো সরকার। 

একটা প্রবচন আছে, বিপ্লবী হওয়ার প্রথম শর্ত শিক্ষিত হতে হবে। শিক্ষিত না হলে বিপ্লবী হওয়া যায় না। সে কথারই প্রমান দিল জুনিয়ার ডাক্তাররা। এরই মধ্যে মিটিং বানচাল। কারন দেখানো হলো দু'ঘন্টা তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছি। আর মিটিং নয়। চা খাও। তোমাদের জামা এনেছি। ভিজে জামা খুলে নতুন জামা পর। 

হাস্যকর।

মিটিং না হবার আসল কারন তো অন্য। নিশ্চয় ততক্ষনে খবর পৌঁছে গেছে সিবিআই ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসিকে গ্রেপ্তার করেছে। টেনে হিঁচড়ে নিজেদের কাস্টডিতে নিয়েছে।

(www.theoffnews.com - Kolkata junior doctors agitation rape)



তপন সান্যাল, কবি, গীতিকার ও গবেষক, কলকাতা: ডাক্তারদের আন্দোলন সাথে নারীবাদী আন্দোলন কত দিন চলবে? এর পরিণতি কি? আমরা এখনো কেউ জানি না। এই দুই আন্দোলনের দুইটি মৌলিক মিল আছে।একটি হল চিকিৎসক নারী আর দুই হলো দুটি আন্দোলনই অরাজনৈতিক অর্থাৎ পার্টি রাজনীতি তথা সংসদীয় রাজনীতির বাইরে আছে। ঐতিহাসিক ভাবে শাসকের অবস্থান ও চরিত্র কেমন এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের মন্তব্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। রবীন্দ্রনাথ রক্তকরবী নাটকের মধ্যে দিয়ে যে ঐতিহাসিক সত্যতার কথা বলেছেন চরিত্র নন্দিনীর মুখ দিয়ে তা এখানে উল্লেখযোগ্য। রাজা ও নন্দিনীর কথোপকথন। 'রক্তকরবী’ নাটকের স্থানটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের নাম ‘যক্ষপুরী’। স্থান নামের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ কৌশলে বুঝিয়ে দিয়েছেন, সেই সমাজ আসলে এক যক্ষ-সমাজ। লোভ, লালসার মরীচিকার পিছনে অবিরাম ছুটে চলাই যক্ষপুরীর ধর্ম। সোনার হরিণের পিছনে ছুটতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছে মনুষ্যত্ব। খনি থেকে তাল তাল সোনা তুলে আনার সেই জীবনে নেই কোনও সোনার ঝিলিক। আছে শুধুই অন্ধকার, কেন না সে যে ‘মরা ধনের সাধনা’। সে এক সামাজিক অসুস্থতার লক্ষণ। সেই বদ্ধ জগতে এক ঝলক দমকা হাওয়ার মতো নন্দিনীর প্রবেশ। সেই তো নন্দিনী, যে জীবনকে নন্দিত করে। যক্ষপুরীর লোহার জালের আড়ালে যে অসুস্থ মানসিকতার রাজা বাস করে, নন্দিনী সেই দরজাটা ভেঙে দুমড়ে মুচড়ে রাজাকে বের করে আনতে চায়। প্রাসাদের বন্ধ দরজা তো আসলে বদ্ধ মনেরই প্রকাশ। রাজা লোভী, ফ্যাসিস্ত। সে বসে শুধু তাল তাল সোনা সাজায়। অন্ধকারের মধ্যে, লোভের মধ্যে, ধনতন্ত্রের স্পৃহার মধ্যে, ক্ষমতার মধ্যে চিরকাল বেঁচে থাকার সাধনা করে মকররাজা। নন্দিনী বলে, ‘মাগো, তোমার হাতে ওটা কী’? রাজা বলে, ‘একটা মরা ব্যাঙ?’ নন্দিনী বলে, ‘কী করবে ওটা দিয়ে?’ রাজা বলে, ‘এই ব্যাঙ একদিন একটা পাথরের কোটরের মধ্যে ঢুকেছিল। তারই আড়ালে তিন হাজার বছর ছিল টিঁকে। এইভাবে কী করে টিঁকে থাকতে হয় তারই রহস্য ওর কাছ থেকে শিখছিলুম; কী করে বেঁচে থাকতে হয় ও তা জানে না।’ ফ্যাসিস্তদের এইটাই একমাত্র ইচ্ছা, শুধু ‘টিঁকে থাকা’। তারা জানেও না, কিভাবে তারা নিজেদের তৈরি সিস্টেমের ভিতরে বন্দি হয়ে থাকে। এই অসুস্থ বাসনার ছবি আজও বারবার ধরা পড়ে আমাদের চারপাশে এবং বুঝিয়ে দেয় ‘রক্তকরবী’ কেন আজও প্রাসঙ্গিক। ধরে নিন আজকের শাসকরা হল যক্ষ রাজার বিবর্তিত রূপ অন্যদিকে প্রজারা হল নাগরিক তথা ডাক্তার এবং নারী সমাজ। এইবার আসি ডাক্তার আন্দোলনের কথায়। জুনিয়র ডাক্তাররা প্রেস রিলিজ করে কি বললেন সেইটি দেখা যাক। জুনিয়র ডক্টরস ফোরাম প্রেস রিলিজ ০৯.০৯.২৪ মূল টেক্সটটা ইংরেজিতে লেখা- নীচে অনুবাদটা রইলো। আজকের সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পর, আমরা গভীরভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। আমরা লক্ষ্য করেছি যে অভয়াকে ভয়ঙ্কর ধর্ষণ ও হত্যার তদন্তে কোন অগ্রগতি হয়নি, যা সিবিআইয়ের দায়িত্ব ছিল। হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা পুলিশ থেকে সিবিআই পর্যন্ত তদন্ত হস্তান্তর করা হয়েছে, তবুও ন্যায়বিচার অনেক দূরে। তদুপরি, আমরা রাজ্য সরকার এবং তার আইনজীবী কপিল সিব্বলকে যে কোনও উপায়ে আমাদের আন্দোলনকে থামাতে এবং অপদস্থ করার জন্য একটি লজ্জাজনক ভূমিকা পালন করতে দেখেছি। তাঁদের দাবি, জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্মঘটের কারণে মানুষ মারা যাচ্ছে এবং রোগী সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা সবাইকে স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিতে চাই যে রাজ্যের প্রতিটি মেডিকেল কলেজে রোগীর পরিষেবা চালু আছে, সিনিয়র ডাক্তাররা অক্লান্ত পরিচর্যা দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা জনসাধারণকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে রাজ্যে ২৪৫টি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ২৬টি মেডিকেল কলেজ। জুনিয়র চিকিৎসকের সংখ্যা সাড়ে সাত হাজারেরও কম। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯৩,০০০ নিবন্ধিত ডাক্তার রয়েছে। মাত্র কয়েকটি মেডিকেল কলেজে জুনিয়র চিকিৎসক ধর্মঘটে থাকায় পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কিভাবে ভেঙে পড়ছে বলা যায়? এই যুক্তি তথ্য সমর্থিত নয়। এটি ইঙ্গিত দেয় যে সরকার মিথ্যা প্রচার করছে এবং সুপ্রিম কোর্টকে বিভ্রান্ত করছে। আমরা বিশ্বাস করি এটি আমাদের আন্দোলনকে কলঙ্কিত করার এবং এর জন্য ব্যাপক জনসমর্থনকে বিভ্রান্ত করার জন্য একটি ঘৃণ্য সরকারী প্রচেষ্টা। সুপ্রিম কোর্টকে বিভ্রান্ত করার এই জঘন্য প্রচেষ্টার জন্য আমরা কপিল সিব্বল এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সহ স্বাস্থ্য বিভাগের নিন্দা জানাই। আমরা সরকার এবং সুপ্রিম কোর্ট উভয়কেই মনে করিয়ে দিতে চাই যে জুনিয়র ডাক্তাররা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ নয়, তাঁরা শুধুমাত্র প্রশিক্ষণার্থী। যদি আমরা সরকারের পরিসংখ্যানকে সত্য বলে মেনে নিই, তবে শুধুমাত্র জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘটের কারণে যদি স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তবে এটি আসলে সরকারী হাসপাতালে সিনিয়র ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্য সেবা পরিকাঠামোর তীব্র ঘাটতিকে তুলে ধরে। এর দায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী এড়াতে পারেন না। আমরা আরও দেখেছি যে কপিল সিব্বল এবং রাজ্য সরকার ২৭শে আগস্ট একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালীন যে সহিংস কার্যকলাপের জন্য দায়ী তা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। আমরা তাঁদের স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, আমরা ২৬শে আগস্ট বলেছিলাম যে ওই রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই, কোনো সহিংস বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না। তবে সরকার ও তাদের ২৩জন আইনজীবী যেভাবে সুপ্রিম কোর্টে মিথ্যাচার করেছে, আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। সরকার বা শাসক যদি সত্যি জনগণের হয়ে থাকে তাহলে কেন এই গণ দাবী ও আন্দোলনের বিরোধিতা করে কোর্টে ভুল তথ্য দিয়ে এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনার ৩০ দিন পেরিয়ে গেলেও আন্দোলনের মূল দাবি নিয়ে কোনো আন্তরিক পদক্ষেপ নেয়নি রাজ্য সরকার। তারা সিবিআই তদন্তের উপর সমস্ত দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। পুলিশের গাফিলতি বা স্বাস্থ্য দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সন্দীপ ঘোষ, বিরূপাক্ষ বিশ্বাস বা অভিক দে-এর সাসপেনশন নিছক আড়াল ভিত্তিক পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। বাস্তবে, সিবিআই গ্রেপ্তারের পরে সন্দীপ ঘোষকে নামমাত্র শো-কজ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। অভিক দে এবং বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে বরখাস্তের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এই ধরনের দুর্বল স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ করা হবে এবং আদালতে খারিজ করিয়েন নেওয়া হবে ঘুরপথে, এটি জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্য একটি মুখোশ ছাড়া আর কিছুই বলে মনে হচ্ছে না। আমরা দাবি করি যে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং স্বাস্থ্য বিভাগ যথাযথ ন্যায্যতার সাথে অভিক দে এবং বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে বরখাস্ত করুক। আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই আমরা নিরাপত্তার দাবি তুলেছি। আমরা কর্তব্যরত ডাক্তারদের জন্য আলাদা বিশ্রাম কক্ষ এবং বাথরুম, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী, সিসিটিভি এবং মহিলাদের জন্য মহিলা নিরাপত্তা কর্মী, ডাক্তারদের বিশ্রাম কক্ষ এবং ওয়ার্ড ও ওটি কক্ষের বাইরে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য অনুরোধ করেছি। যাইহোক, আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই যে শুধুমাত্র পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো এবং ডাক্তারদের কক্ষ আলাদা করা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না। ডাক্তার ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালে যথাযথ রোগী সেবা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতি সর্বস্তরে বিদ্যমান। উন্নত অবকাঠামো বা কর্মীদের নিয়োগ ছাড়াই বিধ্বংসী অবস্থায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং পেরিফেরাল মেডিক্যাল কলেজে অসংখ্য শূন্যপদ রয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শুধুমাত্র ডাক্তারদের উপর চলে না; এতে জিডিএ, টেকনিশিয়ান, নার্স এবং ডাক্তার জড়িত, যাদের সবাই অবিচ্ছেদ্য, দীর্ঘমেয়াদী। পাঁচ দফা দাবি দাবি সহ তিন স্বাস্থ্য কর্তার ইস্তফা দাবী- সরকারকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হলো। দাবি মেনে নিলে কর্ম বিরতি বন্ধ। না হলে ঘেরাও তীব্রতর হবে গণ আন্দোলনের রূপে। কর্ম বিরতিও চলবে। জুনিয়র ডাক্তাররা আরও বলেছেন, রাষ্ট্রীয় অত্যাচার নেমে এলে সিনিয়র ডাক্তাররা কর্ম বিরতিতে যাবেন, এমন কি প্রয়োজন হলে গণইস্তফা দেবেন। সরকার কি করে এই দুর্নীতি যুক্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে বাঁচতে পারবে। এই প্রশ্নের উত্তর শাসকের কাছে নেই। জুনিয়র ডাক্তার ফোরাম দাবি করেছে, আমরা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি থেকে জানতে পারলাম, সিপি নাকি তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে এসেছিলেন। তিনি নিজে দায় স্বীকার করেছেন তদন্তের গাফিলতির। তারপরেও কেন তার পদত্যাগ জমা নেওয়া হয়নি? পুলিশের কাজ কি শুধুই পুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা? এঁদের ভরসাতেই কি মেয়েরা কাজ করতে যাবেন? অবিলম্বে তাঁকে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। অভয়ার পরিজনকে টাকা দিতে চাওয়া ডিসি নর্থকে তদন্তের আওতায় আনা হোক, মিথ্যে কথা বলে অভীক দে'কে আড়াল করতে চেয়েছেন ডিসি সেন্‌ট্রাল। তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হোক । আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা জানি, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কোনো সঠিক রেফারেল সিস্টেম অনুসৃত হয় না। কোনো মধ্যকার রেফারাল ব্যবস্থা নেই, বেড দখল সহ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ডিজিট করার কোনো উদ্যোগ নেই, রোগীদের সমস্যা চালু করার জন্য কোনো ফেসিলিটি আদৌ কাজ না করা। সাধারন মানুষ ছেড়ে দিলে, তারা মেডিকাল রোগীদের রেফার করেন, তাদের কাছে কোনো তথ্য না থাকা অবস্থায় রেফার করা হচ্ছে, তিনি আদৌ চিকিৎসা পাবেন কি না। জুনিয়র ডাক্তার বন্ধুরা বলছেন চার দিকে সুপার স্পেশালিটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হচ্ছে, খোলা হচ্ছে অগুন্তি মেড সংযুক্ত করা। ব্যবহৃত এই জায়গাতে চিকিৎসার অবস্থা তথৈবচ। যথেষ্ট সংখ্যায় ডক্টর নেই, স্থায়ী নার্স নেই, স্বাস্থ্যবিধিও উধাও। অনেক ক্ষমতাবান নতুন মেডিকেল সদস্য ফাঁকা সংখ্যায় নামমাত্র, মানসিক রোগ পরীক্ষা অন্যান্য সহ পরিকাঠামোর অবস্থা তথৈবচ৷ আমরা মনে করি শুধু গালভরা নাম ও বড় বড় ভবন গঠনের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা যায় না, তার জন্য প্রয়োজন হয় সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য বিধি, প্রয়োজন হলে শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিতে হবে। অত্যন্ত দুঃখজনক যে আমরা তার কোনো ছবি দেখতে পাচ্ছি না। সত্যি তো এই সব দাবী পূরণ না হলে আর কতদিন মধ্যযুগীয় বর্বর প্রথায় মানুষ থাকবে। পূর্ব ইউরোপে ও পশ্চিমে এই সব সমস্যাই নেই। বহু আগে সমাধান করা হয়েছে। কেন এই দেশে হয়নি, এই প্রশ্ন তো উঠবেই। কেন হুমকি সংস্কৃতি বা থ্রেট কালচার বন্ধ হবে না যা সব মেডিক্যাল কলেজে চলছে। শুধু স্বাস্থ্য নয় সমাজের সর্বক্ষেত্রে শাসকের হুমকি। শাসক ও নাগরিক সমাজ সংঘর্ষের মুখোমুখি। দাবি গুলোকে আর একবার ঝালিয়ে নেওয়া যাক। ১০ই সেপ্টেম্বর জুনিয়র ডাক্তারদের স্বাস্থ্য ভবনের সামনে ধর্না দিয়ে যে আন্দোলন চলছে তাতে মোট ছয় দফা দাবি রয়েছে। প্রথম, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সমস্ত দোষীদের, অপরাধের উদ্দেশ্য সামনে আনা এবং দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি। দ্বিতীয়, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচার। তৃতীয়, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে 'ব্যর্থ প্রমাণিত' কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের ইস্তফা। চতুর্থ, রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। পঞ্চম, রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভয় মুক্ত পরিবেশ গড়া এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুনিশ্চিত করা। ষষ্ঠ, রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিকর্তা (ডি এইচ এস) এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা (ডি এম ই)র ইস্তফা। এই দাবি গুলোকে পূরণ করা খুব কি কঠিন। সরকার চাইলেই সমাধান করতে পারে। শুধু কর্তৃত্বের লালসার জন্যই এই দাবি গুলোকে গুরুত্ব দিল না। শুধু অর্থের লালসা নয়, দাবি মেনে নিলে পার্টির একচেটিয়া একাধিপত্য থাকবে না। কোটি কোটি টাকা খরচা করে কোর্টকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য কেন দিল, যাতে কোর্টের রায় শাসকের অনুকূলে যায়। এখন কোর্ট শেষ পর্যন্ত যদি শাসকের বিরুদ্ধে রায় দেয় রাষ্ট্র যন্ত্রের বিরুদ্ধে আঘাত হওয়া সত্বেও তাহলে এটা হবে গবেষণার বিষয়। বিচারক ও একজন মানুষ, আইন ছাড়াও সেও বিবেকের জালে বন্দি, শুধু এই সব কারণেই মানুষ অপেক্ষায় আছে।আমাদের সংবিধানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও নাগরিকের অধিকারের সপক্ষে যথেষ্ঠ মানুষের জন্য অনুকূল ধারা আছে। সৎ ভাবে আইন প্রয়োগ করলে বিচার নাগরিকদের সপক্ষে যাবে। তাই সবাই অপেক্ষায়। সংবিধান পরিমার্জন করে আইনও বদলানো যায়। কোন আইন বা সংবিধান চরম নয়। যাই হোক সামনে পুজো তাই সরকার বলছেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী উৎসবে ফিরুন। উত্তরে নাগরিক কি বলছেন। না উৎসবে ফিরছি না, প্রতিবাদ চলবে। দুর্গাপুজো বনাম শাসক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস প্রধান নেতা বলছেন মোহন ভগবৎ বলছেন যে সরকার অপরাধীদের আড়াল করেননি। উনি ঠিক কাজ করছেন। আমাদের সমর্থন করতে হবে। আর এখানকার রাজ্য বিজেপি ঠিক তাঁর উল্টো কথা বলছেন। এনারা যদি জানেন কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি রাজ্যের শাসককে সমর্থন করা, তাহলে এখানে উল্টো অবস্থান কেন? কেন এই মিথ্যে প্রতিবাদ করছেন, চোখে ধুলো দেওয়া? নিজেদের অবস্থানকে লুকানো তো এক বিপদজনক দ্বিচারিতা। আসলে মোহন ভগবৎ বুঝতে পেরেছেন, এই আন্দোলন যদি চলতে থাকে একদিন আমাদের বিরুদ্ধেও ঘটবে। তাই সমর্থন। আর তাছাড়া এই আন্দোলনের জন্য যদি সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নামিয়ে আনে। সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে বিজেপি তার সুফল পাবে। অর্থাৎ শাসকের রাষ্ট্র যন্ত্রকে সহযোগিতা করতে হবে যা সরকারের দমনে নিপীড়নের সহায়ক শক্তি হবে।অর্থাৎ শাসকের চরিত্র সব জায়গায় এক, ভিন্ন ভিন্ন রূপ, আসলে গণ আন্দোলনের গলা টিপে মেরে ফেলা। এই ধরণের আন্দোলন প্রবনতা সব সময়ে সরকার তথা রাষ্ট্র যন্ত্রের বিরুদ্ধে যায়, তাই বলছেন সমর্থন করতে হবে এই সরকারকে। এই কারণেই অনেকেই ক্ষোভে বলছেন এই সরকার আসলে বিজেমূল। আবার সংবিধান সাংবিধানিক ভাবে আইন ও ন্যায়ের ধারা রাষ্ট্র যন্ত্রের শরিক এবং দমন নিপীড়নেরও শরিক। অনেকেই ভাবছেন আইন আদালত ও কোর্ট তথা বিচার ব্যবস্থা একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান, মোটেই তা নয়। শেষ বিচারে শাসকের শোষণ ভিত্তিক কাঠামোর নৈতিক ভিত্তি হল সংবিধান, এটা ভুলে গেলে চলবে না। মানুষের বাক স্বাধীনতা ও আন্দোলন করার অধিকার সংবিধানে স্বীকৃত। কিন্তু এই অধিকারেরও একটা সীমা আছে যা রাষ্ট্র যন্ত্রকে ভাঙার অনুমতি দেয় না।সংবিধানের শেষ উদ্দ্যেশ্য এটাই। তাই যুগে যুগে বিপ্লব আসে রাষ্ট্র যন্ত্রের মূল কাঠামোকে যাতে বদলে ফেলা যায়। এই ইতিহাসটাই আমাদের শেখায়। মানুষকে উৎসব মুখী করে তোলা যাতে প্রতিবাদের ঢেউ একটা সীমিত সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। উৎসবে ফিরে এসো মানে প্রতিবাদ বন্ধ কর। কিন্তু দুর্গা পূজার উৎসব তো নারী শক্তির উদযাপন। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির লড়াই। তাহলে কেন এই সরকার নারী নির্যাতন ও নারীর মুক্তির প্রতিবাদের বিরুদ্ধে এই পুজোকে ব্যবহার করলেন? বললেন উৎসবে ফিরে এসো।যেটা খুবই লজ্জাজনক ও ধিক্কার যোগ্য পদক্ষেপ। কাকে রাখা হবে আর কাকে ছাড়া হবে এটা কি জুনিয়র ডাক্তাররা ঠিক করবে? আমরা সময় নিচ্ছি, ঠিক সময়ে ব্যবস্থা নেব বললেন মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে শাসকের ইগো অন্যদিকে ডাক্তার সহ আমজনতার দাবি। মুখ্যমন্ত্রীর কথা থেকে এটা পরিষ্কার জনগণ কর্তৃক সরকার পরিচালিত হতে পারে না। সরকারের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত, লোক গণতন্ত্রের কোনো প্রশ্ন নেই, পার্টি তথা সরকারের নির্দেশই শেষ কথা। সব শাসকের চরিত্র এক, রূপ ভিন্ন, ভিন্ন এটা আজ বুঝে নেওয়ার সময় এসে গেছে। এই তরুণী চিকিৎসক নিজের জীবন দিয়ে এই সত্যকে সামনে আনলেন। লক্ষ লক্ষ মানুষকে এক ছাতার তলায় এনে মুক্তির পথকে জনসমক্ষে আলোর সামনে নিয়ে এলেন। দেশবাসী তাই এই অভয়ার কাছে চির ঋণী ও কৃতজ্ঞ থাকবে। জাঁকজমক পূর্ণ পুজো নয়, প্রতিবাদের আগুনে এই পুজোতে মেতে উঠুন তাহলেই মা দুর্গার সঠিক শক্তির উদযাপন হবে,না হলে এই দুর্গা শক্তির উদযাপন শুধু কলঙ্কিত হবে তাই নয়, মা দুর্গার অসুর নিধন শক্তি পূজার বিরুদ্ধে যাবে। উপরিউক্ত আলোচনা ও বর্ণনা থেকে এটা বলা যেতেই পারে, এই মূল্যায়ন সঠিক পথকে নির্দেশ করছে এবং এটা সচেতন নাগরিকদেরও বক্তব্য। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচুর পোস্টার দেখা যাচ্ছে, না উৎসবে ফিরছি না। এটাই অধিকাংশ নাগরিকদের মনন। অনেকেই বলছেন প্রতিবাদ একটা উৎসবে পরিণত হচ্ছে। গণ আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী করতে গেলে প্রতিবাদটাই উৎসবে পরিণত হয়ে যায়। এই আন্দোলন একটা কালচারে বা অভিনব সংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে, সেটাই তো নবতম উৎসব। এটা অনেকটা স্টিরিও টাইপ আন্দোলনের থেকে বেশি উৎসব উৎসব মনে হয়। এতে প্রচুর উদ্ভাবনী শক্তির স্ফূরণ ও প্রকাশ নজর কারে। ক্রোধের থেকে এক ধরনের স্বাধীনতা প্রকাশের প্রবণতা বেশি চোখে পড়ে। এটাই নতুনত্ব যেটা পার্টি রাজনীতির বোধের বাইরে থাকে। এই মুহূর্তে নাগরিকরা জিতবে যুদ্ধে? বিচারের রায় সব মানুষের পক্ষে যাবে না শাসক কুল জিতবে?এটা এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাংলার নাগরিক ও চিকিৎসক সমাজ যে ধাক্কা দিতে সমর্থ হল। এই নেতৃত্বের রাজনৈতিক ভাবধারায় একটা সুস্পষ্ট সাহস, পরিপক্কতা, অভিনবত্ব ও সংযম লক্ষ্যণীয়। লাল বাজার অভিযান, বিনীত গোয়েলের ইস্তফা দাবি ও তাকে একটা কঙ্কালের মেরুদন্ড উপহার দান এক সাহসী উল্লেখ যোগ্য পদক্ষেপ। ছয় দফা দাবি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবন অভিযান আরেক বড় সাহসী পদক্ষেপ। পরিণত বুদ্ধির ফলে এরা এখনই মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ বা সরকার বদলের কোনো রকম দাবি তোলেননি। একই সঙ্গে দীর্ঘ শান্তি পূর্ণ অবস্থানের ভিত্তিতে শাসক রাজনৈতিক দলের ও রাষ্ট্র প্রশাসনের ঘুম কেড়ে নেওয়ার স্পর্ধা দেখাচ্ছেন।এটাই আজকের আন্দোলনের মৌলিকতা ও অভিনৰত্ব। তাই আগামীর ইতিহাসে আজকের এই আন্দোলন অরাজনৈতিক রূপে এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।এই শাসক নয় বদলে যাবে কিম্বা মুছে যাবে। আর লড়াকু নাগরিকরা হারলেও শিক্ষা নেবে বা জিতলেও শিক্ষা পাবে এবং লড়াইয়ের পথ আরও গভীরে যাবে, এটাই ইতিহাস শেখায়। আগুনের ব্যবহার থেকে মানুষ যে এই পর্যন্ত এসেছে তা হারতে হারতেই শিখেছে। হাজার হাজার বছর ধরে শাসকরা শিখেছে কি করে টিকতে হয় পুঁজির নিয়মে কিন্তু কি করে বাঁচতে বা বাঁচাতে হয় তা শিখতে পারেনি। তাই ক্রমাগত শাসকের বদল, শোষণের রূপের বদল হয়েছে। ওই কারণেই রক্ত করবী নাটক আজও গুরুত্বপূর্ণ ও প্রণিধানযোগ্য। মানুষ সেই দিনই সম্পুর্ন মুক্তি পাবে যখন চেতন ও অবচেতন মনে থাকা সমস্ত শৃংখল ভেঙে বেরিয়ে আসবে। এ এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনন্তকাল ধরে চলছে। মুক্তি ও নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া যা ঘটতেই থাকবে। হৃদয়বৃত্তির সাথে ক্ষমতার লড়াইয়ে পৃথিবী শেষ পর্যন্ত কার দখলে টিকে থাকবে। এটাই প্রশ্ন, আত্ম জ্ঞানী কবিরা বলেন আগে তো নিজেরা মুক্ত হও প্রত্যেকে তবে তো সমাজ মুক্ত হবে। রবীন্দ্রনাথ এইখানে বলছেন বিশ্বজয় বা অস্ত্র যুদ্ধে জেতা কঠিন, তার অনেক বেশি কঠিন নিজের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হওয়া।মাওসেতুং একবার চিৎকার বলে উঠেছিলেন, পৃথিবী আমাদের, পৃথিবী তোমাদের, অবশেষে পৃথিবী আমাদের। উনি সাম্যতার স্বপ্নে বিভোর হয়ে এই কথা উল্লেখ করেছিলেন। নারী আন্দোলন ও ভাবনার দাবি আমি পরবর্তী পর্যায় আলোচনা করবো। এই মুহূর্তে ডাক্তারদের আন্দোলনের কথা গুরুত্বপূর্ণ। এই ডাক্তার আন্দোলনকে টিকিয়ে রাখার জন্য বিনা পয়সায় খাবার দিয়ে যাচ্ছেন কারা? ছোট ছোট চায়ের দোকান, কেউ কেউ চাঁদা তুলে খাবার সরবরাহ করছেন, ছোট ছোট খাবারের দোকান ও বহু মধ্যবিত্ত বাড়ি থেকে মায়েরা খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। বাড়িতে বসে খাবার বানাচ্ছেন আর সেই খাবারই ডাক্তার তথা নাগরিকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। খাবার উপচে পড়ছে ,চিকিৎসকরা নাগরিকের প্রনাম জানাচ্ছেন, এটাই তো ভালবাসার ছবি, কলকাতার ছবি, একি ভোলা যায়? এই মায়েদের মনের কি ধরণের যন্ত্রনা, আবেগ ও উদারতা আছে তার কোনো ইতিহাস হয়তো লেখা হবে না কিন্তু এই ছবিটাই মানুষের মনে থেকে যাবে। আজকে ডাক্তার, পুরুষ নারী হিন্দু মুসলিম কিছুই আলাদা করা যাবে না। প্রচুর মুসলিম নাগরিক এই আন্দোলনে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সব রঙ একাকার। এ এক নজির বিহীন ছবি কলকাতার বুকে। দেবুর চায়ের দোকান। যে দেবু নিজেই ভালো করে সংসার চালাতে পারে না, সেও বিনা পয়সায় সবাইকে চা বিতরণ করছেন। ভাব যায়? এটাই আমাদের বাংলা, এটাই কলকাতা। কারো তিনশো টাকা লাভ হয় চা বিক্রি হয় রোজ কিন্তু এইখানে পাঁচশো টাকা খরচা করে বিনামূল্যে চা বিতরণ করছেন, ভোর হলেই স্বাস্থ্য ভবনের পাশে থাকা কাকিমা মাসিমারা জল খাবার দিয়ে দিচ্ছেন। বরানগরের রঞ্জনদা মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন। এইটাই হলো গণ জাগরণের ছবি।কলকাতা আগে কখনো দেখেনি। এই আন্দোলনের সমাপ্তি তিনটি উপায় ঘটতে পারে। অর্থাৎ তিনটি সম্ভাবনা আছে। কি কি দেখা যাক। এক) রাষ্ট্রীয় পুলিশ ও পার্টির গুন্ডাবাহিনী দিয়ে আন্দোলনকে পিষে মেরা ফেলা। যদি এইটি ঘটে সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী ভুল করবেন। কারণ মানুষের ঘৃণা থেকেই যাবে ফলে ২০২৬ সালের নির্বাচনে মানুষ ভোট যুদ্ধে এই সরকারকে পরাজিত করবে।দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বিজেপি ক্ষমতায় আসার সুযোগ পাবে। ২) যদি সিনিয়র ডাক্তাররা গণ ইস্তফা দেন এবং নারীবাদীদের সক্রিয় সমর্থন থাকে এবং নাগরিকরাও যদি সক্রিয় সমর্থনে থাকেন, তাহলে সরকার ব্যাপক আন্দোলনের ফলে নমনীয় হয়ে বিজেপিকে রুখে দেওয়ার জন্য একটা সমঝোতায় আসবে ডাক্তারদের সাথে। যদি এইটি ঘটে তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যাবে। কিন্তু বৃহত্তর চাপের কাছের নতিস্বীকার করবে শুধু ক্ষণ কালের জন্য। ৩)সম্ভাবনা হলো মেডিক্যাল সিস্টেমের বেসরকারিকরণ। এইটি করতে গেলে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে জিতে আসার পর হাতে সময় থাকবে। এই সময়টা ধরে চলবে স্বাস্থ্যে বেসরকারিকরণের প্রয়াস প্রয়োগ। এখনই শোনা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে মিটিং করার আগ্রহ দেখিয়েছেন।ঘন ঘন প্রতিবাদ বা আন্দোলনকে শেষ করে দেওয়ার জন্য এটাই হল দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। এই পদ্ধতিতে পশ্চিমে অনেক বড় আন্দোলন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। দ্বিতীয় সম্ভাবনা যদি ঘটে তৃতীয় সম্ভাবনা স্বাভাবিক ভাবে প্রয়োজন হয়ে পড়বে। কারণ শাসকের ক্রোধ ও কর্তৃত্বের লোভ থেকেই যাবে সেই কারণেই এই বিকল্প রাস্তায় হাঁটতে পারে যাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আন্দোলনহীন হয়ে থাকে। এখন দেখা যাক সামনে কি ঘটতে চলেছে।এমনিতেই আর ১০ বছর পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে হেল্থ কেয়ার সিস্টেম চালানো হবে। আন্দোলন অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে। এতো তো গেল ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের কথা। বর্তমানে দেখা যাক এই আন্দোলনের গতিময়তা কত তীব্র হয়, কত জীবন্ত হয়। সারা ভারত নয় ,সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে কলকাতার দিকে। এই মানবিক গণআন্দোলনের জন্মস্থান হলো কলকাতা। এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্নীতি মুক্ত করতে ডাক্তাররা অনড়। অন্য দিকে শাসকও তার নিজের জায়গায় অনড়। এখন দেখা যাক বাংলার নাগরিক সমাজ ও কলকাতা কি উত্তর দেয়। সর্বশেষ আন্দোলনের উদ্যোগে, পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আজ ১৪ই সেপ্টেম্বর আবার জুনিয়র ডাক্তাররা রাত দখল করার আবেদন রাখলেন নাগরিকদের কাছে সারা বাংলা জুড়ে। Reclaim the Night, Reclaim the Rights আহ্বানে। আমি ধন্য ও গর্বিত এইখানে আমার জন্ম বলে। তাই এইখানে জীবনানন্দ দাশের কবিতা আজও আমার কাছে প্রাসঙ্গিক। আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়ি তীরে – এই বাংলায় মানুষ শঙ্কামুক্ত নয় – সতর্ক বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে, সতর্ক ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে কুয়াশার বুকে ভেসে স্বাধীনতা আসিব কাঁঠাল ছায়ায়। সতর্কতা বা হাঁস হবো – ছাত্রীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়, দিনের উত্তর কলমীর গন্ধ ভরা জলে ভেসে ভেসে। আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালবেসে, জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়। চতুর্থ পর্বে থাকছে ১২ই সেপ্টেম্বরে সরকার-জুনিয়র ডাক্তার বৈঠক, ফলাফল দুই পক্ষের বক্তব্য ও কি সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। (ক্রমশঃ) (www.theoffnews.com agitation Kolkata junior doctors rape)
মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিচার রাইটার ও লেকচারার, আহমেদাবাদ: পুজোতে চোখে কাজল লাগাতে গেলে মনে হবে "মেয়েটার চোখ থেকে রক্ত বেরিয়েছিল!" ভ্রুটা আঁকতে গিয়ে ধেবড়ে যাবে, হাড় ভেঙেছে যে ওখানে! "পেলভিক হাড় কি?" প্রশ্ন করবে যখন বিজ্ঞান প্রিয় সেভেনের মেয়েটা তখন উত্তর দিতে গিয়ে থমকে মনে হবে তিলোত্তমার পেলভিক বোন ভাঙ্গা ছিল! নির্ভয়ার সময় যখন শুনেছিলাম সবচেয়ে ছোট সদস্যটি যৌনাঙ্গে রড ঢুকিয়েছিল, সারা শরীর কেঁপে উঠেছিল, কামদুনিতে পা টা ছিঁড়ে নিয়েছিল, হায়দরাবাদে মেয়েটাকে লিফট দিয়েছিল তারপর তার বাইক সহ তাকে পুড়িয়ে দিয়েছিল ক্ষেতে।এছাড়াও হরিয়ানা কি রাজস্থানে শুনি দিন দুপুরে বাপ মায়ের চোখের সামনে মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে যায়, বিহার, ইউপিতে দলিত মেয়েরা তো ভোগের জন্যই। সত্যিই এমন রেপ টেপ তো আকছার ঘটছে। অথচ বাঙালিরাইবা হঠাৎ কেন যে ক্ষেপে উঠে এমন দৃষ্টান্তহীন অদ্ভুত রকমের প্রতিবাদ করছে কে জানে? আসলে চারদিকে বাঙালিদের সুনাম খারাপ হয়েছে কিছুকাল ধরে ওই সব নারদা, সারদা নিয়ে। তায় আবার রাজ্যে তো কোনওই চাকরি বা কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতে কিছু বিচ্ছিন্ন বাঙালি লাইম লাইটে আসতে এই রাত দখলের নাটক শুরু করেছে, শাসকের অভিযোগ এমনই। অনেক আগেই এসব আটকানো যেত, আর দু চারটে লাশ পড়ত, সরকারের অনেক দয়া তাই এখনো বদলা শুরু হয়নি! শুধু ফোঁস পর্ব চলছে এখন। মানছি না হয় পঙ্গু, বৃদ্ধ, অন্ধ থেকে শুরু করে রিকশাওয়ালা, যৌনকর্মী, ঘটি, বাঙাল, মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল এক হয়ে প্রতিবাদ করেছে, তার মানেই দেশের আইন কানুন বদলাবে নাকি? এভিডেন্স নেই, সরকার কি নিজের বিরুদ্ধে নিজে মামলা করবে নাকি? একটা আধ পাগলা সঞ্জয় ধরা হয়েছিল ধনঞ্জয়ের মত ফাঁসিতে লটকে দিয়ে দুর্গাপুজোর ধুমধাম শুরু করবে কোথায়, তা নয় -- কেমন যেন প্রতিবাদের নেশা লেগেছে! বলি পাচ্ছিসটা কি তোরা মিছিলে গিয়ে, না তো ডিম ভাত না কোনো ভাতা, তবে রাত জেগে হেঁটে কি উদ্ধার করছিস বাপ! সেই তো সুড়সুড় করে ফিরতেই হবে, ১৩ বছরে কম জায়গায় জাল ছড়ানো? একটু বেখেয়াল থাকায় আর হঠাৎ আসা হুজুগে হাতটা ফস্কে ছিল তাই বলে ভুলে যাস না বাপ লাটাই কিন্তু আমার হাতেই! কিন্তু কে জানে কেন এবার মেয়েগুলো ক্ষেপে গেছে। ওই শান্ত শাড়ি, সালোয়ার, বোরখায় সর্বাঙ্গ ঢাকা শান্ত মেয়েগুলো যেমন হাতে খুন্তি, দা, কাটারি বঁটি নিয়ে এগিয়ে আসছে তেমনি ওই বগল কাটা জামা পরা, উড়ু খোলা, সিগারেট ফোঁকা মেয়েগুলোও ক্ষেপে গেছে! বলছে আমাদের শরীর, আমাদের ইচ্ছে! ধর্ষনের দর্শনটা বদলাতেই হবে।অনুমতি নিয়ে শরীর ছোঁবে তো সে স্বামী, প্রেমিক, ধর্ষকামী যেই হও না কেনো! রেপ এর গায়ে লাল টেপের বাঁধন আসুক এবার! আর কবে! আর কবে! আর কবে হবে। মেয়েগুলো ফুলনদেবীর মত ক্ষেপে গেছে, পারলে ওরা দোষীদের দেখলে নির্বিচারে গুলি চালাবে সামনে দাঁড় করিয়ে। ওদের কারুর বোন, কারুর দিদি, কারুর কন্যা শহীদ হয়েছে! আজ ওরা সবাই দশ মহা বিদ্যার রূপ ধারণ করেছে, দেখুন কেউ ধুমাবতী তো কেউ বগলা, কেউ বা ছিন্নমস্তা! পুজো ওরা নিয়েই ছাড়বে, হয় ভক্তি করুন নয়ত ভয় করতে শুরু করুন। আর ওই যে ছেলেগুলো যারা অনেক রাত জেগে অনেক পড়াশুনো করে ডাক্তার হবে ভেবেছিল ওরা আজ রাজা রামমোহন রায় হয়ে গেছে! সতীদাহ যদি বন্ধ করা যায় তবে ধর্ষণ, জুলুমগিরি, অন্যায়ও চাইলে বন্ধ করাই যায়। আইন মানুষের জন্য তৈরি হয় যুগে যুগে! ওরা কেউ আজ বিবেকানন্দ তো কেউ রবীন্দ্রনাথ, কেউ বা ঈশ্বরচন্দ্র। বয়সে বড় হয়েও ওদের আভূমি প্রণাম করতে ইচ্ছে হয়! সত্যিই তো ওরা ভাবী ডাক্তার, ঈশ্বরের মত পূজ্য সাধারণ মানুষের কাছে, সবচেয়ে নোবেল প্রফেশন ওদের। উৎসব তো তাই আমাদের আজ ওদের ঘিরেই! ওরা ঠিক করেছে কেরিয়ার, চাকরি, সুনাম নষ্ট হবার ভয়ে আর ভয় পাবে না। ওরা সত্যের পথে আছে। জানে, তাই মেরুদণ্ড নোয়াবে না ঠিক করে দিনের পর দিন জল বিস্কুট খেয়ে রোদে বৃষ্টিতে বসে আছে। প্রবাসে অবাঙ্গলীরা "কলকাতা কাঙ্গাল কা " বলা হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছে, শাজাহানের পরে শুধু আর জি করের খবরটুকু জানলে হয়ত মুচকি হেসে বলত "পশ্চিম বঙ্গাল লেড়কি লগকে লিয়ে বহুত আনসেফ ভাই!" কিন্তু এই রাত দখল, প্রতিবাদ আবার প্রমাণ করল আজও বাঙ্গালী জাত হিসেবে মরে যায়নি। শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা, দেশের ক্রিম স্টুডেন্টরা লড়ছে, তাদের হাতে হাত মিলিয়ে আছে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। আজ যেন সারা ভারত শুনছে কচি কচি গলায় পশ্চিমবঙ্গের ছেলে মেয়ে গুলো বলছে "তোর ভয় নেই মা, আমরা প্রতিবাদ করতে জানি!" (www.theoffnews.com rape West Bengal agitation)
প্রাণকৃষ্ণ মিশ্র, লেখক, কালনা, পূর্ব বর্ধমান: তিলোত্তমার বিচার চেয়ে জুনিয়ার ডাক্তারদের আন্দোলনের ৩৫ দিন পূর্ন হলো। জুনিয়ার ডাক্তাররা স্বাস্থ্যভবনের সামনে ধর্ণায় বসে আছেন। ডাক্তারদের অবস্থান দেখে কখনো মনে হয়নি ওনারা আন্দোলন ভুল পথে চালাচ্ছেন। ওনাদের দাবি অনৈতিক। কখনো মনে হয়নি আন্দোলন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দেখেছি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব নাক গলাতে এলেই জুনিয়ার ডাক্তাররা ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছেন। জোর হাত করে তারা আবেদন করেছেন, বিচারের জন্য আন্দোলন যে কেউ করতে পারেন, করুন। তবে আমাদের আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করতে ক্যাম্পাসে আপনাদের উপস্থিতির কোন প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন নেই ধর্ণা মঞ্চে। অথচ বারবার দেখছি স্বার্থান্বেষী এক শ্রেণীর মানুষেরা জুনিয়ার ডাক্তারদের এই আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছেন। এদের উপস্থিতি মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরা ডাক্তারদের আক্রমনের পাশাপাশি আন্দোলনকারী সাধারণ জনগণকেও আক্রমন করতে ছাড়ছেন না। হুমকি, মারধর চলছে। হুমকি হাসপাতালেই। এটাই ডাক্তাররা থ্রেট কালচার বলছেন। সম্প্রতি অর্থাৎ গত ১০ই সেপ্টেম্বর জুনিয়ার ডাক্তাররা স্বাস্থ্যভবন অভিযান করেছিলেন। ফলপ্রসূ হয়নি সেই অভিযান। ডাক্তাররা পথেই বসে পড়লেন। অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করলেন। তাদের দাবিপূরণে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন। চাইলেন প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা। যে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। উপস্থিত থাকবেন আন্দোলনকারী ৩০ জন জুনিয়ার ডাক্তার। গত পরশু তখনও ভালো করে ভোরের আলো ফোটেনি। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন কলকাতা মহানগরী। রাত তিনটে বেজে ৪৯ মিনিট। জুনিয়ার ডাক্তাররা বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে অবস্থানস্থল থেকেই একটি মেল করলেন। চিঠিতে লিখলেন- 'রেসপেক্টেড ম্যাম, ডেপুটি হেলথ মিনিস্টারের প্রেস মিট দেখে জানতে পারলাম আপনি আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী। স্বাস্থ্যসচিবের কাছ থেকে যে মেল ১০ তারিখ সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে পেয়েছিলাম তাতে তেমন কিছু উল্লেখ ছিল না। সেই প্রসঙ্গে আমাদের মূল দাবি আমরা উল্লেখ করছি। ' ১) জাস্টিস ফর অভয়া- এটা রাজ্য সরকারে ব্যাপার নয়, তবে আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিবিআই, সুপ্রিম কোর্ট তদন্তকে যেন এগিয়ে নিয়ে যায় ও দেরি না করে দোষীদের যেন শাস্তি দেয়। ২) ডিএমই, ডিএইচএস ও স্বাস্থ্যসচিবকে অপসারণ করতে হবে। কারণ সেমিনার রুমের পাশের রুম ভাঙার ক্ষেত্রে তাঁদেরই সই ছিল। আমরা মনে করি গোটা স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতে দুর্নীতিতে তাঁরাও জড়িত। ৩) বিনীত গোয়েলকে অপসারণ( রিমুভাল) করতে হবে। তিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনার। ডিসি নর্থ ও ডিসি নর্থের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের পদক্ষেপ নিতে হবে। ৪) সমস্ত হাসপাতাল ও সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপযুক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। সমস্ত জুনিয়র ডাক্তার, স্বাস্থ্য কর্মী বিশেষত মহিলা হেলথ কেয়ার ওয়ার্কার্সদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ৫) সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় থ্রেট কালচারের অবসান ঘটাতে হবে। মেডিক্যাল পড়ুয়া, জুনিয়র ডাক্তার ও ডাক্তারদের গণতান্ত্রিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। ডাক্তাররা বললেন, এই মিটিং এর লাইভ স্ট্রিমিং করতে হবে। কারন, এই আন্দোলন এখন শুধু ডাক্তারদের আন্দোলন নয়, আন্দোলন জনগণের আন্দোলন। কোটি কোটি জনতা চায় তিলোত্তমার খুনের বিচার। তারা চায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দুর্নীতির অবসান। গোটা রাজ্য এই মিটিংয়ের অপেক্ষায় রইল। মুখ্যমন্ত্রী মিটিংয়ে বসতে যদিও বা রাজি হলেন লাইভ টেলিকাস্ট করতে রাজি হলেন না। জানতাম এমনটাই হবে। ক্ষমতার দম্ভ মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে। তাই হলো। মুখ্যমন্ত্রী লাইভ টেলিকাস্ট করতে রাজি হলেন না। কেন রাজি হলেন না? অন্যান্য প্রশাসনিক মিটিংয়ে তো উনিই লাইভ স্ট্রিমিং করান। জেলার প্রশাসনিক মিটিং সময় লাইভ স্ট্রিমিং হয়। ওনার নির্দেশেই হয়। মিডিয়া ঘন্টার পর ঘন্টা দেখায়। তাহলে 'জাস্টিস ফর তিলোত্তমা'-র বিচারের দাবিতে জুনিয়ার ডাক্তারদের সাথে আলোচনায় লাইভ টেলিকাস্ট করলে কি ক্ষতি এটাই বাংলার মানুষের প্রশ্ন। তাহলে কি কিছু কথা লুকানোর ভয় এখনো তাড়া করছে মুখমন্ত্রীকে? আইনের কোন ধারায় লাইভ স্ট্রিমিং করা নিষেধ রয়েছে? লাইভ স্ট্রিমিং হলে সত্যকে উনি মিথ্যা বলে চাপা দিতে পারবেন না, এই ভয়েই কি? (www.theoffnews.com junior doctors agitation Kolkata)
মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিচার রাইটার ও লেকচারার, আহমেদাবাদ: ধর্মাবতার, চোখ বাঁধা রেখে আপনি অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র হলেন বলেই আজ কিন্তু কুরুক্ষেত্রের শঙ্খ বেজে উঠল! পারতেন কিন্তু সব কথাগুলির সাথে একমুঠো সমবেদনা মিশিয়ে দিতে, কত লক্ষ বুড়োবুড়ি থেকে কচিকাঁচা অপেক্ষা করেছিল আপনার মুখ থেকে একটু সমবেদনা শুনবে বলে। কিন্তু যাবার বেলায় একরাশ মানুষের অভিশাপ কুড়িয়ে কেরিয়ারটা শেষ করছেন! জানি আইনের অনেক কুট কচালি, ধর্ষক ধরা বা তার শাস্তি দেওয়া আপনার কাজ নয়! তবু কোথায় যেন একটু হলেও ওই ছোট্ট মোমবাতির শিখার মত মানুষ আশার আলোটুকু জ্বেলে রেখেছিল। আপনার কাছ থেকে বিবেকবান মনুষত্ব আশা করেছিল, এমন কদর্য পক্ষপাতিত্ব আশা করেনি। ভুলে যাবেন না সব বিচারের রায় কিন্তু আপনার একার দেওয়ার ক্ষমতা নেই, সবার অলক্ষ্যে কোথাও আজও বিচার চলে! সেই মার যখন নেমে আসবে সেদিন আপনারা নিশ্চয়ই বুঝবেন শোক কাকে বলে, হারানো কি জিনিষ! কথাগুলো নিষ্ফলের ক্রন্দন লাগছে তো! ঠিক এমনই লক্ষ লক্ষ কুরু সেনা নিয়েও ক্ষমতার মদে গর্বিত দুর্যোধন হেরে যাবেন ভাবেনি। তিলোত্তমা একা ধর্ষিত হননি, বাংলা তথা আপামর ভারত, না, না সারা বিশ্বের মহিলারা এক সাথে ধর্ষিতা হয়েছি, আমাদেরও শরীর জুড়ে আঁচড়ানো, কামড়ানোর দাগ! চোখ দিয়ে আমাদেরও প্রতিনিয়ত জল নয় রক্ত ঝরছে ধর্মাবতার। শুধু কাল --মহাকালের পদধ্বনি শুনছি আর দিন গুনছি দুঃশাসনের রক্তে ভিজিয়ে খোলা চুল বাঁধবার। উৎসব এমন ভাবে উদযাপিত হবে যে তার ঢেউ আপনি বা আপনার সাগরেদরা সামলাতে পারবেন না। আপনি ভেবে দেখুন --- চাইলে এখনও কিন্তু এ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের এড়াতে পারেন! আর হয়ত সময় পাবেন না ভুল শোধরানোর! কথাগুলো লিখছি আর ভাবছি মামলার নিষ্পত্তি হয়ত আশু হবে না, আবার সবাইকে পেটের ধান্ধায় কাজে ফিরতেই হবে! ঠিক এমন আন্দোলন তো কতই হয়েছে ,আগেও দেখেছেন বৃদ্ধ, বৃদ্ধা যাঁরা । তাঁদের কাছে এ তো নতুন নয়! তবু তাঁরা কেন হাঁটলেন মিছিলে, অসমর্থ শরীর নিয়ে! আসলে যাঁরা সব হারিয়েছেন এক কালে, অথবা যাঁদের আর হারাবার কিছু বাকি নেই তাঁদের তো হাঁটতে কোনো অসুবিধে নেই, তাই কি তাঁরা হাঁটছেন? না, ঠিক তা বোধহয় নয়, সাথে আছে বিবেকের তাড়না! চলে তো যাবই তবু যাবার আগে শিশুর কাছে মনে মনে অঙ্গীকার করছেন আবর্জনা পরিষ্কার করার। আজকের মধ্য বয়সীরা যাঁরা হাঁটছেন তাঁরা ভাবছেন ভবিষ্যতে নাতি নাতনিরা যখন প্রশ্ন করবে "দাদু, (দিদা) ২০২৪ সালে এমন নারকীয় ঘটনায় সবাই প্রতিবাদ করেছিল, তুমিও হেঁটেছিলে কি? কোনো লাভ হয়েছিল?" ঠিক যেমন তাঁর দাদুকে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন "হিটলারের নাৎসী বাহিনী এমন অত্যাচার করেছিল তবু সব দেশ একসাথে হয়ে কেন প্রতিবাদ করেনি?" তবে সেসময় হিটলারও যেমন ভাবেননি তাঁর চেয়েও শক্তিশালী কেউ আসবে তাকে সরাতে, নির্মূল করতে তাদের বাহিনীকে সাময়িক জিতে যে আকাশচুম্বী অহং বোধ গড়ে ওঠে, কিভাবে যেন কেউ না কেউ এসে তার শেষের ঘণ্টাখানি বাজিয়ে যায়। তাই হেরে যাবে জেনেও একটা সুন্দর ঝকঝকে সকালের আশায় রাত দখল চালিয়ে যাবে কিছু মানুষ, নীরবে মোমবাতি নিয়ে হাঁটবে কিছু মানুষ, হয়ত আসতে আসতে ভিড় কমে যাবে, তবুও কেউ না কেউ থাকবেই। ক্লান্ত মানুষটির হাত থেকে আধ পোড়া মোমবাতি নিয়ে নতুন উৎসাহে এগিয়ে যাবে কম বয়সী কোনো তরুণ! (www.theoffnews.com R G Kar Hospital rape case Kolkata)
তপন সান্যাল, কবি, গীতিকার ও গবেষক, কলকাতা: প্রথম পর্বটিতে তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও কিছু ঐতিহাসিক প্রশ্ন আছে। এই পর্বে একটি চিঠি তুলে দেওয়া হলো। সাথে কিছু প্রশ্ন ও সম্ভাবনার কথা উপস্থাপিত করা হলো। বিশ্লেষনের সাথে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে। এই মহা মিছিলে বাম পার্টির বাইরে বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তি ও পার্টির অভ্যন্তরের কর্মীরাও হেঁটেছেন পতাকার আড়ালে। নিচুতলার প্রচুর তৃণমূল কর্মীরাও হেঁটেছেন পতাকা না নিয়ে। এখনো সব দলে নিচুতলায় প্রচুর সৎ কর্মী আছে যারা মাননীয়ার প্রতি আস্থা রেখেছিলেন। সেই আস্থা ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে ঘটনার প্রবাহক্রমে। তাই তাঁরাও বিকল্প খুঁজছেন। রিকশা চালকদের অভাবনীয় মিছিল, কলকাতার প্রায় সমস্ত বাড়ির কাজের মেয়েদের মিছিল,শহরতলী সহ সমাজের সমস্ত স্তরের আট থেকে আশি নারী সমাজের মিছিল, যৌন কর্মীদের মিছিল, তৃতীয় লিঙ্গের মিছিল, সব মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব পদযাত্রা। শুধু নতুন সকাল দেখার অপেক্ষায়। প্রচুর শিল্পী, কলা কুশলী পদক ফিরিয়ে প্রতিবাদে নামছেন। তাছাড়া এই বঙ্গে ও বাম গণতান্ত্রিক শক্তির আন্দোলনের একটা একটা দীর্ঘমেয়াদী ইতিহাস ও ঐতিহ্য আছে। তাই আন্দোলন অতিরিক্ত মাত্রা পেয়েছে। খুব ইন্টারেস্টিং হলো এর মধ্যে সংসদ জহর সরকারের চিঠি। তৃণমূলের অন্তরস্থল থেকেই আসছে প্রতিবাদ। জহর সরকারের চিঠিতে সব প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু এই জহর সরকার কে? ইনি আমলা, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সচিব, প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও। বাম জমানায় এবং তৃণমূল জমানায় বাংলায় কাজ করেছেন যেমন, তেমনই মনমোহন সিংহের আমলেও সচিব ছিলেন। প্রাক্তন আইএএস জহর সরকার তিন বছর আগে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল তাঁকে সাংসদ হিসেবে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল। কিন্তু আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে এবার সেই পদ ছাড়লেন জহর। শুধু তাই নয়, বীতশ্রদ্ধ হয়ে রাজনীতি থেকেও সরে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন। (Jawhar Sircar) আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। ঘরে-বাইরে প্রশ্নের মুখে পড়ছে তৃণমূল। সেই আবহেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা এবং রাজনীতি ছাড়ার কথা জানালেন জহর। দুই পাতার চিঠিতে আর জি করের ঘটনার যেমন নিন্দা করেছেন জহর, তেমনই যাঁর হাত ধরে রাজনীতিতে আসা, সেই মমতার ভূমিকাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। আগের সেই মমতাকে তিনি দেখতে পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন জহর। মমতাকে চিঠিতে ঠিক যা লিখেছেন পড়ুন; 'রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের সমস্যাগুলি সংসদে তুলে ধরার সুযোগ দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞ আপনার কাছে। আপনাকে জানাচ্ছি যে, সংসদীয় পদ এবং রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি'। 'আপনার জন্যই দেশের রাজনৈতিক ক্রিয়াকর্মকে একেবারে উচ্চস্তর থেকে বোঝার সুযোগ হয়েছে গত তিন বছরে। কিছু পাওয়ার জন্য বা দলে পদ পাওয়ার জন্য রাজনীতিতে আসিনি আমি। রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা থাকলে ৬৯/৭০ বছর বয়সে কেউ রাজনীতিতে আসে না। দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় যোগদান ছাড়া সাংসদ হওয়ার লক্ষ্য ছিল একটিই, বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ববাদী, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধিতায় লড়াই চালিয়ে যাওয়া। কর্তৃত্ববাদী, বিভাজনকারী, বৈষম্যকামী এবং যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সেই কাজ যে কিছুটা করতে পেরেছি, সংসদ টিভি এবং ইউটিউবে তার প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু যোগদানের একবছর পর, ২০২২ সালে টিভির পর্দায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার প্রমাণ দেখে স্তম্ভিত হয়ে যাই। প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়েছিলাম যে, সরকার এবং দলকে দুর্নীতি সামলাতে হবে। তাতে দলের সিনিয়র নেতারা হেনস্থা করেছিলেন আমাকে। সেই সময় পদত্যাগ করিনি, কারণ আশা ছিল, আপনি কাটমানি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচার করবেন, যা একবছর আগে শুরু করেছিলেন। প্রত্যেকে জানেন, কোনও দলই দুর্নীতিমুক্ত নয়। শুভাকাঙ্খীরা আমাকে বোঝান, সাংসদ পদে থেকে যেতে, যাতে গণতন্ত্র এবং নাগরিক স্বাধীনতা বিরোধী কেন্দ্রের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া যায়। সংসদে আমি আমার কাজ করেছি। কিন্তু দুর্নীতি এবং দলের ক্ষমতাশালীদের প্রতি রাজ্য সরকারের যে উদাসীন আচরণ, তাতে মোহভঙ্গ হয়েছে আমার। আপনি জানেন, আমিই একমাত্র অফিসার, যাকে পূর্বতন সরকার সল্টলেক বা অন্য কোথাও কোনও জমি দেয়নি। কারণ আমি তাদেরও সমালোচনা করেছিলাম। কলকাতার মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি। গণ পরিবহণে দমবন্ধ অবস্থায় যাতায়াত করেছি, বাসের পাদানিতে ঝুলে গিয়েছি। তাই ৪১ বছর আইএএস থাকার পর মধ্যবিত্ত, ছোট ফ্ল্যাটে অস্বস্তি ছাড়াই বাঁচতে পারি, যা বস্তির ঠিক পাশেই। ন'বছর পুরনো সাধারণ গাড়ি চালাই। কিন্তু অবাক হয়ে যাই, পঞ্চায়েত এবং পুরসভার নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের বিপুল সম্পত্তির মালিক হতে দেখে, দামি গাড়ি চড়তে দেখে। শুধু আমিই আহত হই না, বাংলার মানুষজনও আহত। এটাও সত্য যে, অন্য দল এবং অন্য রাজ্যের নেতারাও প্রচুর সম্পত্তি করেছেন। কিন্তু বাংলা এই বেহিসেবি দুর্নীতি এবং কর্তৃত্বপূর্ণ আচরণ মেনে নিতে পারছে না। আমি জানি, বর্তমানের কেন্দ্রীয় সরকার ধনকুবেরদের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে, যাদের তারা নিজেরাই আরও সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে। একটি দিনও কাটে না, যখন আমি তাদের নোংরা, পুঁজিবাদী নীতির সমালোচনা করি না। কিন্তু কিছু জিনিস একেবারেই মেনে নিতে পারি না আমি, যেমন, দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসার (বা চিকিৎসক), যাঁরা সেরা পদ পেয়ে যান, ভাল পোস্টিং পেয়ে যান। বিশ্বাস করুন, বর্তমানে মানুষের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ দানা বেধেছে, তা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের প্রশ্রয় দেওয়ার জন্যই। এত বছরে সরকারের বিরুদ্ধে এত অনাস্থা, এত ক্ষোভ দেখিনি আমি, সে সরকার ঠিক হোক বা ভুল। আর জি করের মর্মান্তিক ঘটনার পর একমাস ধৈর্য ধরেছিলাম। আশা ছিল, প্রতিবাদী জুনিয়র চিকিৎসকদের নিয়ে বিষয়টিতে আপনি সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন, সেই পুরনো দিনের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো। এখনও পর্যন্ত তা হয়নি। এখনও পর্যন্ত সরকার যে পদক্ষেপ করেছে, তা অতি সামান্য এবং অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্তদের ঘুঘুর বাসা যদি আগে ভেঙে দেওয়া হতো, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হতো, এই লজ্জাজনক ঘটনার পরই যদি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে পরিস্থিতি হয়ত স্বাভাবিক হয়ে যেত। আমার মনে হয়, মূলস্রোতের যে আন্দোলন হচ্ছে, তা অরাজনৈতিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত। একে প্রতিহত করা সঠিক নয়, রাজনৈতিক বলে দাগিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। অবশ্যই বিরোধী দলগুলি ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে। কিন্তু যুবসমাজ এবং সাধারণ মানুষ, যাঁরা রাস্তায় রোজ হাজির হচ্ছেন, তাঁরা রাজনীতি করছেন না। বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখতে হবে, অভয়ার জন্য এই আন্দোলন রাজ্য সরকার, দলের বিরুদ্ধে। অবিলম্বে ভুল শুধরে নিতে হবে, নইলে রাজ্য দখল করবে সাম্প্রদায়িক শক্তি। এসব লিখে বলতে হল, কারণ কয়েক মাস আপনার সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলার সুযোগ হয়নি। আবারও আপনাকে ধন্যবাদ জানাই তিন বছর রাজ্যের সমস্যা সংসদে তুলে ধরার সুযোগ দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি আর সাংসদ থাকতে চাই না। দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা এবং কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে আমার লড়াই কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির বিরুদ্ধেও। এর সঙ্গে আপস করতে পারব না আমি। শীঘ্রই দিল্লি যাব, রাজ্যসভার চেয়ারপার্সনের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেব। রাজনীতি থেকে সরে আসব পুরোপুরি। দয়া করে কিছু করুন রাজ্যকে বাঁচাতে। শুভ কামনা রইল'। (সূত্র আনন্দবাজার আর্কাইভ।) এইতো গত ৮ সেপ্টেম্বর সারা পৃথিবী জুড়ে মিছিল। বলা যেতে পারে এই আন্দোলনের এপি সেন্টার হলো যাদবপুর। গান কবিতা ও পথ নাটিকায় কলকাতা থেকে জেলা একযোগে মুখরিত। এই মিছিলে চিকিৎসক, পড়ুয়া ও বঙ্গের নারীরা হাটতে শুরু করেছেন। একটিই প্রশ্নে, আরজিকর কান্ড সাথে পাহাড় প্রমান দুর্নীতি। একটাই আওয়াজ, ন্যায় বিচার চাই। শুধুমাত্র এটাই কাঙ্খিত ও প্রত্যাশিত দাবি। এখন বিচার্য বিষয় হল পার্টি রাজনীতি ছাড়া যদি বিকল্প মঞ্চ গড়ে উঠে সফল ভাবে এটাও গণ আন্দোলনের ইতিহাসেই ক্ষেত্রে একটা গবেষণার বিষয়। নেতৃত্ব সারা রাজ্য জুড়ে কিভাবে সংঘটিত হয় সেটাও দেখার বিষয়। হাজার হাজার মানুষের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না যখনই, তখনই মানুষের প্রতিবাদ গণবিস্ফোরণে পরিণত হয়। এধরণের ইতিহাসটাই আমাদের শেখায় এমনতর অপ্রত্যাশিত সুদৃঢ় জন আন্দোলনের। তখনই তো আমজনতার দুয়ারের স্লোগান 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস' আর নয়, বদলে যায় তা 'উই ডিমান্ড জাস্টিস' গণ পরিভাষায়। জয় গুরু। বিকল্প মঞ্চ গড়ে উঠুক। মানুষের জয় হোক। গণআন্দোলন দীর্ঘজীবী হোক এটাই এপারের বঙ্গ মানুষদের কাঙ্খিত পদচারণা। আর একটি সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের সৎ নিচুতলার কর্মীরা তৃণমূলের নেতৃত্বকে বদলে দিতে পারে। গবেষক কল্যাণ গুহ সঠিক ভাবে বলছেন এই সম্ভাবনার কথা 'front ranking tmc leaders can be hijacked by the grass root lower range of TMC workers।ife it happens then it will be a matter of research but if it fails the regimented hindu fascist communal power will hijack the West Bengal leadership...its a fight against state power in different forms. যেটা চিঠিতে জহর সরকার উল্লেখ না করেও বোঝাতে চেয়েছেন। 'উই শ্যাল ওভার কাম', এটাই এখন মানুষের ভরসা। কিন্তু ভরসা যতটা না নিজের ওপর তাঁর থেকে বেশি ভরসা সুপ্রীম কোর্টের ওপর। রাত দখলের প্রতিবাদে নাগরিকরা বলছেন বিচার যত দেরি হবে আন্দোলন তত তীব্র হবে। এ এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। নজিরবিহীন ছবি। দেখা যাক এই প্রতিবাদের ধারা নদী পেরিয়ে মহাসাগরে পৌঁছায় কিনা অর্থাৎ ভারতবর্ষের সমস্ত রাজ্য ঘুরে ক্ষমতার কেন্দ্রে আঘাত করতে পারে কিনা? যদি সফল হয় তাহলে সমস্ত সমাজ বিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। যে রাজনৈতিক মানুষেরা এর থেকে শিক্ষা নেবে তাঁরাই টিকে যাবে আর যাঁরা শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হবে তাঁরা মুছে যাবে। এই আন্দোলন তখন আন্তর্জাতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হয়ে দাঁড়াবে। এই আন্দোলনের বর্ষামুখ হলো রাজ্যের শাসক শ্রেণি। নারীবাদীরা যে বিচার চেয়েছেন বা ছিনিয়ে নেওয়ার কথা বলছেন তা কি রাজ্য সরকার দিতে বাধ্য থাকবে? তা দেখার বিষয়। নারীবাদীরা কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন তা কি সংবিধানের আইন বা ধারা দেখিয়ে দমন করতে পারবেন? কারণ এই বঙ্গের আর্থ প্রশাসনিক কাঠামো সাংবিধানিক ভাবে ভারতের কেন্দ্রীয় কাঠামোর সাথে যুক্ত। তাই কাঠামোর বিরুদ্ধে লড়াই মানে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই। এই কঠিন লড়াই কি নারীবাদীরা শেষ পর্যন্ত লড়তে পারবেন রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্মম আঘাত সত্বেও। এটাই দেখার বিষয়। নারীবাদীদের লড়াইয়ের সাফল্য নির্ভর করবে তাঁদের নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতার ওপর। রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে যোগ দিতে অনুরোধ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী। আরও বলছেন পুজোর উৎসবে ফিরে আসতে। রাজ্যের উকিল কপিল সিব্বল আংশিক তথ্য দিয়ে বিচারককে বললেন এই আন্দোলনের ফলে সরকারি কাজ স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে, ডাক্তাররাও কাজে আসছেন না হুজুর আপনার অনুরোধ সত্বেও। বিশাল চিৎকার ও আওয়াজের মধ্যে দিয়ে সমস্ত রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলশ্রুতি হিসাবে হাসপাতালে বহু রুগীর মৃত্যু ঘটছে। অন্যদিকে ডাক্তারদের পক্ষের উকিল বললেন, এই তথ্য সম্পূর্ণ সত্য নয় কারণ তথ্য বলছে জুনিয়র ডাক্তাররা আন্দোলনে থাকলেও তাঁর একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ আবার টেলি মেডিসিনের মাধ্যমে এবং কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে রুগীদের প্রত্যক্ষ পরিষেবা দিচ্ছেন। সুতরাং এই তথ্য দিয়ে সরকার পক্ষের উকিল যে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তা শুধু বিভ্রান্তি কর নয় মানবতা বিরোধীও বটে। যাই হোক এর উত্তরে বঙ্গের নাগরিক ও নারী সমাজ ক্ষুব্ধ এবং ব্যথীত হয়েছেন। অনেকেই নাগরিক ও নারী সমাজের আন্দোলনকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম বলে অভিহিত করেছেন, কারণ এই আন্দোলনে প্রায় প্রত্যেক জায়গায় জাতীয় পতাকার ছবি দেখা গেছে। তাহলে মানুষ কি তাঁর মূল শিকড়ে ফিরতে চাইছেন? যে এটাই তাঁদের আসল পরিচয়? এটাই প্রশ্ন। তবে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এর উত্তর সামনে আসবে, উত্তর আসবে নাগরিক তথা নারীবাদীদের সাফল্য বা অসাফল্যের মূল কারণ ও চাবি কাঠি কি আসলে? এখন প্রশ্ন হলো এই আন্দোলনের কাঠামো পরিবর্তনের মূল দাবিগুলো কি ছিল? এঁদের মূল আহ্বায়ক কারা? এই প্রশ্ন গুলি আলোচিত হবে এই নিবন্ধের তৃতীয় পর্বে। এই পর্ব শেষ করছি স্বামী শুদ্ধানন্দ এর বক্তব্য দিয়ে। উনি শ্রীরামকৃষ্ণ মিশনের প্রেসিডেন্ট। He gave a remarkable statement on R G Kar Hospital scenario. 'It's a fight between dharma and adharma, fighting between evil and non evil Forces'. নিচে অনুবাদটি রাখলাম। এখন, আমি এই বিষয়টি এখানে উত্থাপন করছি কারণ সম্প্রতি এই রাজ্যে যা ঘটেছে তা নিয়ে এতগুলি ফোন কল এবং হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ খুব বেদনাদায়ক গোটা দেশ কেঁপে উঠেছে এবং আমি বলতে পেরে খুশি যে পুরো দেখুন যে পুরো দেশ কেঁপে উঠেছে যা দেখায়। মানুষের এখনও খুব সংবেদনশীল বিবেক আছে আমরা তা হারাইনি তাহলে এই পরিস্থিতিতে আমরা কি করব? বসে বসে কাঁদার অবস্থা এই নয়। আমাদের শক্তিশালী হতে হবে। সবাইকে শক্ত হতে হবে। এটি ধর্ম এবং অধর্মের মধ্যে লড়াই। আমাদের মনে রাখা উচিত এই মানুষদের তারা শুধুই বোঝা। এরা মানুষ নয়, জীব। এই প্রাণীগুলোকে শাস্ত্র বলে তারা সবাই এই গ্রহের বোঝা। তারা এই গ্রহের বোঝা মানে আপনি বোঝা দিয়ে কি করবেন? তুমি শুধু ফেলে দাও। তারা সমাপ্ত হওয়ার যোগ্য। এই ধরনের জীবন্ত প্রাণীর একমাত্র ভাগ্য এটি। তারা মানুষ নয়। যখন আমাদের মন্দের সাথে লড়াই করতে হবে, সেখানে নীতি এবং অনীতির প্রশ্নই আসে না। এই দুষ্টকারীরা, এই প্রাণীগুলি মানুষের আকারে চলাফেরা করে, তাদের নির্মূল করতে হবে। এটাই হল দর্শন, সবচেয়ে ব্যবহারিক দর্শন। এটা অধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আমাদের উচিত ধর্মের অবস্থান নেওয়া এবং প্রতিটি রূপে অধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। অহিংসা এবং এই সমস্ত কিছুর কথা নেই। এমন অবস্থায় অহিংস নেই। আসুন আমরা এই বিষয়টিকে খুব পরিষ্কার করি। অহিংসা শর্তহীন নয়। অহিংসা শর্তসাপেক্ষ। এটি পরিস্থিতি এবং পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। প্রতিটি পরিস্থিতিতে অহিংসার অনুশীলন করা যায় না। অধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ hingsa পুরোপুরি ন্যায়সঙ্গত। কৃষ্ণ অর্জুনকে এটাই শিখিয়েছিলেন। অহিংসা এবং এই ধরনের সব ফালতু কথা বলবেন না। আপনি একদল দুষ্ট লোকের মুখোমুখি হচ্ছেন, তাঁদের মোকাবিলা দুষ্ট লোকদের করতে হবে তাদের নিজস্ব উপায়ে করতে হবে। Link। https://youtu.be/thz0UB7__nk?feature=shared অর্থাৎ এই আন্দোলন যদি হিংস্রতার রূপ নেয় কোনো সময়ে, সেই লড়াইও ন্যায়সঙ্গত হবে। আমি যখন লেখাটি লিখছি গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে। কারণ আমি এই আন্দোলনের হৃদয়ের সাথে যুক্ত বলে বোধ করছি। চলতি মাসের ৯ তারিখে এক অদ্ভুত প্রতিবাদ দেখা গেল। অর্থাৎ আন্দোলনকারীরা কপিল সিব্বল এর জবাবে প্রতিবাদী আন্দোলনের ধরণ বদলে দিলেন। সেইদিন দেখা গেল কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় পুরো মৌন অবস্থান, প্রতিবাদীদের মুখে কোনো কথা নেই। শুধু জাতীয় পতাকা লক্ষ করে মানববন্ধন তৈরি করা ও রাস্তার ধারে বহু জায়গায় বহু মানুষের মৌনতা লক্ষণীয়। প্রতিবাদের ভাষা মৌনতা, আবার আধ্যাত্মিকতার ভিত্তি হলো মৌনতা। মিলে মিশে একাকার, শুধু স্লোগানে নয় মানবতার প্রকাশ এক ভিন্ন উচ্চ মাত্রা পেল। এ এক ঐতিহাসিক অর্থপূর্ণ বদল। কেন? এ এক গভীর প্রশ্ন। ওই মিছিলের পোস্টারে লেখা আছে ৯৯৯ - এর মানে কি? প্রথম ৯ টি হলো ৯ই আগস্টের রাত, তারপর ৯ মানে ৯ মিনিট মৌনতা আর শেষ ৯ হলো আর নয় আর নয়। এই ঘটনা ভাবা যায়? কল্পনা করা কি সম্ভব এই প্রকাশের অতল কোথায়? এই ৯ মিনিট কলকাতার নাগরিকেরা পালন করলেন বিভিন্ন জায়গায়। যানবাহনের চালকরা গাড়ি স্তব্ধ করে দিয়ে এই মৌন প্রতিবাদের শরিক হলেন। যা অবিস্মরণীয় ও নজির বিহীন। তাই সংবিধান ব্যবহার করে সরকারের বিরোধিতা যত বাড়ছে ও বাড়বে আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদ ও বদলে যাচ্ছে ও বদলে যাবে। পুজো কমিটিগুলি দুই ভাবে বিভক্ত হতে চলেছে। প্রচুর পুজো কমিটি অনুদান ফেরাচ্ছেন। বঙ্গের ১৩৫টি পুজো কমিটিকে অনুদান দিয়েছেন এই শাসক। তার মধ্যে প্রায় ৩৫টি পুজো কমিটি অনুদান ফেরত দিয়েছেন। সংখ্যাটি হয়তো আরও বাড়বে।পুজো কমিটির ব্যবস্থাপনায় থাকা নারীরা বলছেন, এই শোকস্তব্ধ আবহে কি করে বরণ করবো উৎসবকে? জাকজমক পূর্নভাবে মাকে? মা তো আনন্দ দেওয়ার জন্য আসেন। মায়ের চোখে যদি জল থাকে, আর্তনাদ থাকে, হাহাকার থাকে, কি করে আনন্দ অনুষ্ঠান করে এই বরণ হবে? এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড মায়ের সপক্ষে নয়। এই আন্দোলন ও প্রতিবাদ তো জীবন্ত দুর্গাদের পদচারনা। পুজো হবে কিন্তু জাঁকজমক না করে।ভাবা যায়? কতটা বুকের যন্ত্রনা থাকলে এই বক্তব্য রাখা যায়? এ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ যা আগে কখনো এই বাংলায় ঘটেনি। এও এক স্বমহিমায় নারীদের অনুভবের ইতিহাস যা তাঁদের প্রকাশ ভঙ্গিতে প্রতিফলিত হয়েছে। অবশ্যই ঐতিহাসিক স্তরে গবেষণার বিষয় এবং যা সরকার তথা শাসক শ্রেণি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। সময় বদলে যাচ্ছে ইতিহাস ও বদলে যাবে, আগামীতে চোখের জল দিয়ে লেখা হবে অন্য ইতিহাস। এই ইতিহাসের সাক্ষী থাকবে বাংলার নাগরিক ও নারী সমাজ, শেষ বিচারে ইতিহাসের চালিকাশক্তি হবে বাংলার মা বোনেরা ও দিগন্ত বিস্তৃত নাগরিক মনন। Salute to the citizens of Bengal. মনে হচ্ছে সবাই যেন এক অন্য অকাল বোধনের অপেক্ষায়। (ক্রমশঃ) (www.theoffnews.com agitation Kolkata we want justice)