Politics
জীবন রায়, প্রাক্তন সিপিএম সাংসদঃ প্রথম পথম ভাবতাম, চলতি গনসংগীত গুলিতে, কথা এবং সুর বিদ্যমান থাকলেও যদি তার দীর্ঘকালিন আবেদনে সারা দিতে পিছিয়ে যেতে থাকে, তার কারন হয়তো বা,  --- কলকাতায় বসে কথা সংগ্রহ এবং একই কারনে সুরে বৈচিত্র খুজে না পাওয়া। এটা তো ঠিক, শ্রম যখন যন্ত্রিক গতি প্রয়োগের স্তর নব্বই দশকেই অতিক্রম করে গেছে, আমরা যারা শ্রমিক আন্দোলন করছিলাম, তারাই যখন যান্ত্রিক গতি কালে মণ এবং মানুষের সংগবদ্ধ সামাজিক কার্য্যকলাপের যে বদল হয়েছে --- সেগুলিকে সৃজনীতে নিয়ে যাওয়ার যোগ্যতাই অর্জন না করে থাকে, তখন উৎপদন যখন নব্বই এর পর থেকে, ক্রমাগত প্রযুক্তির স্থরে উঠে এসে, উৎপাদনের সাথে বন্ঠনের সব সম্পর্কে চূর্ণ-বিচুর্ণ করে দিয়েছে --- জাতীয় অর্থনীতিটাই বিদেশী অনুগ্রহএর কারন করে ফেলেছে, উৎপাদন সম্পর্কে, উৎপাদনের সাথে বন্ঠনের সম্পর্ককে গুড়িয়ে দিয়ে, সাধারনভাবে দাতা - গ্রহীতার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত  --- অন্যপ্রান্তে প্রযুক্তি শ্রমিকদের কার্য্যতঃ উৎপাদনে সৃজনহীনতার কারনে হৃদয়চ্যুত বিমর্ষতায় বদলে দিয়েছে। , শুধু ট্রেড ইউনিয়ন সম্পর্ককেই, দাতা-গ্রহীতার সম্পর্কে নয়, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক, রাজনৈ্তিক সম্পর্ক তো বটেই, ট্রেড ইউনিয়ন কিংবা শিল্প-সম্পর্কেেও এক ধরনের 'বোধহীনতয় যেমণভাবে ঠেলছে ---- তেমনভাবে মানবিকতা যে শৃংখলিত হচ্ছে, সেটা আপনাপনি কোলকাতায় যারা গানের কথা কিংবা সুর দিয়ে থাকেন - তাদের কাছে বোঝা সম্ভব ছিল না।।  ---- এসবের কুৎসিত প্রতিচ্ছবি ব্যবহারিক সাংস্কৃতিতে যায়গা করে নিচ্ছে, দান ও দয়া সর্বস্য বন্ঠনের অন্ধ সুরংগ পথে। এই সংস্কৃতি একেবারে অবিকৃ্ত সৃজণহীনতার দাসত্বের সংস্কৃতি বই অন্য কিছু নয়। এ পথেই রাজ্যে শ্রম শক্তির সিংহভাগ যোগানদারি শ্রমিকে বদলে গেছে । এই যোগানে বিদেশের রপ্তানী বাজারে লাফে লাফে বাড়ছে। কিছুদিন পূর্বপর্য্যন্তও, পন্যরপ্তানীই বানিজ্য ঘাটতির সিংহভাগ মিটাতো। এখন সেটা যেভাবে কমেছে, তা জীবন্ত শ্রম রপ্তানী করে মিটছে । সেখানে মহিলা শ্রমের পরিমান যেমনভাবে বাড়ছে, রপ্তাণী করা মহিলা শ্রম - ভারতে নারীত্বের সংকটে নতুন উপাদান যুক্ত করেছে।  ---- জমির উপর বিদেশী দখলদারী, খুচরো ব্যবসার উপরে একচেটে বানিজ্যিক দখলদারী,ইত্যাদির এককালিন ক্ষতিপুরন হিসেবে টাকাবন্ঠনের কর্মসূচী, যেভাবে সব দিক থেকে কৃ্ষির সর্বনাস হচ্ছে, ভুমিহীনেরা এবং প্রান্তিক চাষী ক্ষেত মজুর হয়ে যাচ্ছে, দোকান কর্মচারীরা নিখাত দাস বা ভিক্ষুকে বদলে যাচ্ছে। এই যে ভেতরে ভেতর একটা ভূমীকম্প চলতে থাকলেও প্রকৃত রুপটি, তার কার্য্যকারন সম্পর্কনীয়ে উন্মোচিত হতে পারছে না। একেই সাধারনভাবে ----- শিক্ষা এবং সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায়, সংকটের একটা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন প্রতিবিম্ব হিসেবেই, সামাজিক সম্পর্কগুলিকে আরো কুৎসিত করে দিচ্ছে। প্রথম প্রথম মনে হোত, কোলকাতায় বসে লেখার জন্যেই বুঝি সংগিত কিংবা সাহিত্য আর কালান্তরের যাত্রী হতে পারছে না। রবীন্দ্রত্তোর সাহিত্যের প্রধান ধারাগুলি ---- একপ্রান্তে রবীদ্রনাথ যে দীর্ঘঅতীতের ধারাবাহিকতা ধরে রেনেশা এবং উত্তরকালের সাহিত্যের সংশ্লেষিত রুপটিকে পেয়ে গিয়েছিলেন,কাব্য এবং সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায়  ----- গ্রাম ভারতের সামাজিক সম্পর্কগুলির চালচিত্রের সাথে বিশ্বের বৈপ্লবিক রুপান্তরগুলির শিক্ষাকে যুক্ত করে কাব্য এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে নিয়েছে। অন্য ধারা, যাকে সরাসরি বৈপ্লবিক ধারা হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে --- যে ধারাটিকে সুকান্তের ধারা বলে বিবেচনা করা যাবে, সেই ধারাটিই ক্রমে আই পি টি এ নাম নিয়ে বাংলা থেকে মুম্বাই এর সংগীত শুধু নয়, ছায়াছবির উপঢ়ে প্রাধান্য করেছে বহু দিন। সেই শ্রোতেই, আমরা হেমন্ত, ভুপেন, সলিল, নির্মলেন্দু এবং রবীন্দ্র সংগীতে সুচিত্রা, দেবব্রত বিশ্বাস বা কনিকা , সলিল চৌধুরী নির্মলেন্দুকে দেখা যাবে কাব্যের সেই গণ রুপটিকে এগিয়ে দিতে।
আগে মনে হোত, কোলকাতায় বসে, কথা এবং সুর নির্মান করার জন্যেই বোধ হয়, শ্রমের চতুর্থ এবং পঞ্চম ধাপে উঠে আসাটা এবং তার সাথে স্বয়ং সম্পুর্নতা বা সেক্যুলারিজমের অন্তসম্পর্কগুলি বুঝতে না পারার জন্যেই বুঝি, কাব্যের গণরুপটি ক্রমে স্ংকুচিত হয়েছে।  ------- পরে নিশ্চিত হয়েছি, শ্রমের আন্তর্জাতীক রুপটি স্পষ্ট না থাকা, কাব্যকে সমসাময়িক করতে, ভারতীয় অতীতকে, -------- রবীন্দ্রনাথ যে ণতুন মুল্যায়ন করলেন তা ভারতীয় রেনেশাকে পরবর্তী দরজায় পৌছে দিয়েছিলো। ----কিন্তু আমরা যাদের ঘারে, স্তালিনের সেই পরামর্শ, রেনেশা যেখানে পরিত্যক্ত সেখান থেকেই বুর্জোয়া পতাকাকে ঘারে তুলে নিতে হবে, সেই অতি-গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শট আমরা মাথায় তুলি নাই। প্রথমতঃ  আমরা বুঝি নাই দেশের অতীতকে আধুনিক বিশ্বপরিস্থিতির সাথে সামণয্যস্য রেখে সমসাময়িক করার নামই আন্তর্যাতীকতা। তাই রবীন্দ্রনাথ অতীতের মুল্যায়নের যে বিন্দুতে শেষ করলেন, সেই পূনমুল্যায়নকে এগিয়ে দেওয়ার কোন চেষ্টা হয় নাই। দ্বিতীয়তঃ  আমরা বুঝতে চাই নাই, ইতিহাসের অন্যান্য ধারার মতো সাহিত্য কিংবা সংস্কৃতিও যেহেতু ফলিত বিজ্ঞানের অধিন, সেজন্য ইতিহাসের উন্মোচনের সাথে সাথে সেই বিজ্ঞান উন্মোচিত হয়। যদি স্মরনে রাখতাম, আমেরিকা কিংবা দক্ষিন আফ্রিকায়, বর্নবিদ্বেষ কমেছে , শ্রমিক শ্রেনীর আবির্ভাব এবং বিকাশের সাথে সাথে, ভারতে অনেক সমস্যা কমে যেত। চতুর্থতঃ একই সুত্রে বলতে হয়, উল্লেখিত মুল্যায়নের পাশাপাশি, ভারতের আধুনিক ইতিহাসের কোন শ্রেনীগত মূল্যায়ন এবং তার ভিত্তিতে পূর্বে উল্লেখিত শ্রম এবং সামাজিক সম্পর্কগুলির মুল্যায়ণকে আত্মস্ত করার কোন চেষ্টা না হওয়াতেই, কাব্য ক্রমে সংকীর্ন জলশ্রোতে ঢুকে গেছে।


Share To:

THE OFFNEWS

Post A Comment:

0 comments so far,add yours