কাজী নূর, কবি, সাহিত্যিক ও ফিচার রাইটার, বাংলাদেশ:

দেশের শীর্ষ ঔষধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস্ লিমিটেডের তৈরী শিশুদের জন্য প্যারাসিটামল গ্রুপের সিরাপ নাপা খেয়ে নয়, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে পরিকল্পিতভাবে আশুগঞ্জের মোহাম্মদ ইয়াসিন খান (৭) ও মোহাম্মদ মুরসালিন খান (৪) নামে নিজের দুই শিশু সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছেন মা লিমা বেগম।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় নিহত দুই শিশুর বাবা মোহাম্মদ ইসমাঈল হোসেন খান ওরফে সুজন বাদী হয়ে লিমা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক সফিউল্লার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার ভোর নাগাদ আশুগঞ্জের দুর্গাপুর এলাকায় স্বামীর বাড়ি থেকে ঘাতক লিমা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, নিহত দুই শিশুর মা আশুগঞ্জে একটি ধানের চাতালে কাজ করেন। তার স্বামী ইসমাঈল ইটভাটার শ্রমিক। চাতালে কাজ করার সুবাদে আরেক সহকর্মী সফিউল্লার সাথে লিমার পরিচয় ঘটে। এরপর ঘটে পরিচয় থেকে প্রণয়। এক পর্যায়ে দুজন বিয়ে করার সিদ্ধান্তে উপনীত হন। কিন্তু প্রেমিক সফিউল্লা শর্ত দিয়ে বসেন দুই শিশুকে পৃথিবী থেকে চিরতরে সরিয়ে দিলে তিনি বিয়েতে বসতে রাজি। বিয়ে করার জন্য পথের কাঁটা সরাতে শিশু দুটিকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা মাফিক মা লিমা বেগম মিষ্টির সাথে বিষ মাখিয়ে শিশু দুটিকে খাওয়ান। বাচ্চা দুটি মারা যাওয়ার পর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নাপা সিরাপের বিষক্রিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে গল্প সাজিয়ে প্রচার করতে থাকেন পরকীয়ায় আসক্ত নারী লিমা বেগম।

মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন আরও জানান, প্রথম থেকেই লিমার আচরণে পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। পরকীয়া প্রেমিক সফিউল্লাহর সঙ্গে লিমা বেগমের মুঠোফোনে কথোপকথন এবং পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দুই শিশু হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন লিমা বেগম। এ ঘটনায় ঘাতক লিমার প্রেমিক সফিউল্লাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের ইসমাঈল হোসেনের দুই ছেলে ইয়াছিন ও মোরসালিনের মৃত্যু হয়। তাদের মা লিমা বেগমের অভিযোগ ছিল, দুই ছেলের জ্বর থাকায় ঘটনার দিন বিকালে নিকটবর্তী বাজারের ফার্মেসি থেকে নাপা সিরাপ নিয়ে আসেন। সিরাপ খাওয়ানোর পর তারা বমি করতে শুরু করে। অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় তাদের। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে রাতে বাড়ি ফেরার পথে মৃত্যু হয় শিশু ইয়াসিনের। এক ঘন্টার ব্যবধানে আরেক শিশু মুরসালিনও মারা যায় সেই একই রাতে।

এ ঘটনায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উৎপাদিত নাপা সিরাপ (প্যারাসিটামল ১২০মিগ্রা./৫ মি.লি.) ব্যাচ নং- ৩২১১৩১২১, বাজার থেকে সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। তবে নাপা সিরাপ পরীক্ষা করে তাতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর কিছু পায়নি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

(www.theoffnews.com - Bangladesh Napa Syrup murder children mother)

Share To:

THE OFFNEWS

Post A Comment:

0 comments so far,add yours