দীপ্তেন্দু চক্রবর্তী, প্রবাসী লেখক, টরোন্টো, কানাডা:

অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন যে কি করে এদেশে আসা যায়? বহুদিন ধরে আমেরিকা, কানাডা, বাইরে থেকে মানুষ নেয় প্রতিবছরে। এদের লোকসংখ্যা নেই, কাজের মানুষ নেই। আগে ব্রিটেন নিতো, জার্মানি নিতো এখন অস্ট্রেলিয়া দরজা খুলে দিয়েছে বহু বছর হলো। কানাডা বছরে ২৫০ থেকে ৩০০ হাজার মানুষ নেয় সারা বিশ্ব থেকে। কাদের নেয়? কম বয়সী ছেলে মেয়েদের যারা নানা কাজে দক্ষ। এদেশে পন্ডিতদের খুব একটা দরকার নেই। ওয়েল্ডার, ইলেক্ট্রিশিয়ান, ইঁট গাথার মিস্ত্রী, ছুতোর, কম্পিউটারের লোক, ইঞ্জিনিয়ার, সেফ, একাউন্ট্যান্ট, এইসব মানুষের দরকার এদেশে।কানাডিয়ান হাই কমিশন, নিউ দিল্লী, শান্তিপথ, চান্যক্যপুরীতে ওদের অফিস। যারা আসতে চান, কম বয়স, কাজের অভিজ্ঞতা আছে, কাজের সার্টিফিকেট আছে তারা দরখাস্ত করতে পারেন। আবার কলকাতায় কয়েকটা এজেন্সি আছে যারা আপনার কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নিয়ে আপনাদের জন্য দরখাস্ত করে থাকেন। কোনো গ্যারান্টি নেই। ভিসা না পেলে টাকা ফেরত দেবে না। কাজেই কম্পিউটারে গিয়ে "পার্মানেন্ট কানাডিয়ান রেসিডেন্স ভিসার" ফর্ম ডাউনলোড করুন। টুরিস্ট ভিসার ফর্ম না কিন্তু। তিনটে ফর্ম বেরিয়ে আসবে। সেগুলোকে খুব যত্ন নিয়ে পূরণ করুন। আপনার কলেজ, ইউনিভার্সিটি সার্টিফিকেট, কাজের সার্টিফিকেট সব দিতে হবে একটা ফি এর সাথে। সময় লাগবে প্রায় এক বছর। মাঝে মাঝে ওদের চিঠি দিয়ে জানতে চাইবেন যে কতদূর হলো? মনে রাখবেন দরখাস্ত করলেই কিন্তু ভিসার গ্যারান্টি নেই। যদি আপনার কোনো আত্মীয় থাকলে আপনাকে সাহায্য করতে চায় তারা যেন চিঠি দিয়ে জানায়। তাতে অনেকটা কাজ হয়। তারপর আপনি ভাষা জানেন কিনা? অনেক দক্ষ শ্রমিক তারা ইংরেজি জানে না। তবুও তারা ভিসা পান তাদের কাজের অভিজ্ঞতার জন্য। আর কত টাকা নিয়ে যাবেন? এইখানে আপনার সম্পত্তির দাম ডলারে কত হবে এবং নিয়ে যাবেন বলে জানাবেন। 
নিয়ে যেতেই হৱে তার কোনো মানে নেই শুধু ওদের জানানো যে আপনার এতো সম্পত্তি আছে যেটা আপনি দরকার হলে নিয়ে যেতে পারেন। মনে রাখবেন মিথ্যায় কাজের সার্টিফিকেট দেবেন না।আপনি যদি মোটর মিস্ত্রি হন বা কুক হন দিল্লিতে আপনাদের ইন্টারভিউ করবে ওই বিষয়ে একজন বিশেযজ্ঞ। কাজেই ফাঁকি দিয়ে ভিসা পাওয়া যাবে না। কোনো রাজনীতি দলের নাম করবেন না। বিশেষ করে কমুনিস্ট পার্টি। কানাডা আমেরিকাতে কমুইনিস্টরা ভিসা পায়না। বলার কোনো দরকার নেই । আমি দেখেছি বহু ছেলেরা নিজের চেষ্টায় চলে এসেছে। তবে দেশ ছেড়ে আসতে কি চান? এখানে আপনার দেশের মতো কোনো অধিকার নেই। মুখ বুজে কাজ করতে হবে, আইন মানতে হবে। এটা পুলিশ দেশ।পকেটে পরিচয় পত্র সব সময় রাখতে হবে। আপনার ঠিকুজি কুষ্টি পুলিশের কাছে লেখা আছে। আইন ভাঙলে কোনো মন্ত্রী আপনাকে বাঁচাতে পারবে না। তারপর খুব ঠান্ডার দেশ। আটমাস ঠান্ডা। বরফ।মাঝে ২ মাইনাস তিরিশ চল্লিশ পারদ নেমে যায়। আপনি ভিসা পেলে আপনার বৌ ছেলে পুলে পাবে। বাবা মা আসতে পারবেন।আঠারোর ওপর ছেলে মেয়েরা ভিসা পাবে না। ওদের আলাদা করে দরখাস্ত করতে হবে। দেশেই থাকুন। কি নেই আমাদের দেশে? শুধু মাফিয়ারা দেশ নিয়ে নিয়েছে। এখানে না এসে চেষ্টা করুন একজন কাউন্সিলর বা MLA MP হতে। আর দেখতে হবে না। সাত পুরুষ বসে খাবেন। (ক্রমশঃ)

(ছবি সৌজন্যেঃ প্রতিবেদক। ছবিতে নীলরোহিতের সঙ্গে বসে আছেন প্রতিবেদক এক অভূতপূর্ব মূহুর্তের সাক্ষী হয়ে।) 

Share To:

THE OFFNEWS

Post A Comment:

0 comments so far,add yours