গৌতম দাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার, রাজ্য আবগারি দফতর ও লেখক, কলকাতা:

স্মৃতির পাতায় বিবর্ণ হয়ে যাওয়া উজ্জ্বল তৈলচিত্র, বর্ণনা করার লোভ সামলাতে পারলাম না!  জুন মাসে মাথার উপরে যখন গনগনে সূর্য প্রচন্ড উত্তাপ ছড়িয়ে দিচ্ছিল, আর রণক্ষেত্রে ইংরেজ বাহিনীর আধুনিক অস্ত্র আর গোলা বর্ষণে ভারতীয় যোদ্ধারা লড়াইয়ে ক্রমাগত পিছুহাটছিল, ক্রমশ হারাচ্ছিল তাদের সমস্ত মনোবল!  আর এসব কিছুর মাঝেই তখন প্রবল বিক্রমে যুদ্ধ করছিলেন কেবল একজন, তার দুইহাতে উদ্যত শানিত  তলোয়ারে সূর্যের সেই তীব্র আলো ঠিকরে পড়ছিল, ঝলসে উঠেছিল তাঁর তরবারি বিদ্যুতের গতিতে, একের পর এক প্রতিপক্ষ সেনাকে একাই ঘায়েল করে চলেছেন তিনি, সেই অশ্বারোহী যোদ্ধার পরনে কিন্তু চিরাচরিত বর্মখচিত যুদ্ধের পোশাক ছিল না, ছিল পুরুষদের অত্যন্ত সাধারণ সাদা পাজামা ও বড়ো ঘেরের জামা, সেই পরাক্রমী যোদ্ধা শুধু যে নিজেই যুদ্ধ করছিলেন তাই নয়, রণহুঙ্কারে মনোবল হারানো সৈন্যদলকে সমানে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তার সেই দ্বীপ্ত ভঙ্গিমার উত্তাপ যেন মধ্য গগনের সূর্যের দীপ্তিকেও হার মানিয়ে দিচ্ছিল !  কিন্তু অশ্বারোহী সেই যোদ্ধার পিঠে কী যেন একটা বাঁধা আছে!  সেটা যেন আবার নড়েচড়ে উঠছিল মাঝে মাঝেই !  সেই যোদ্ধার পিঠের সাথে শক্ত করে বাঁধা ছিল ছোট্ট এক শিশু! বড়ো অদ্ভুত অচেনা এক চিত্ররূপ !  কল্পনা করতেও সাহস লাগে!  যুদ্ধের সেই ময়দানে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পরাক্রমশালী বৃটিশদের বিরুদ্ধে এই অবস্থাতেই কিন্তু নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন পুরুষের পোশাক পরে মমতাময়ী অথচ বীরাঙ্গনা এক 'মা' , এক অবিস্মরণীয় ভারতীয় নারি!  না এটা কোনো কাল্পনিক চলচ্চিত্রের দৃশ্যের চিত্রকল্প নয়!  একেবারে ইতিহাসের পাতা থেকে নেওয়া সত্য কাহিনীর এক চিত্ররূপ, এক বীরাঙ্গনার অসমসাহসী যুদ্ধের বর্ণনা!  সেই যোদ্ধা আর কেউ নন, তিনি ছিলেন 'ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাঈ'।
এই লক্ষ্মীবাঈ হয়ে ওঠার আগে তার নাম ছিল 'মণিকর্ণিকা' যদিও তার জন্মতারিখ নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে !  একদল ঐতিহাসিকদের মতে তার জন্ম 1835 এর 19 নভেম্বরে, এবং এই জন্ম তারিখ ই গোয়ালিয়রে তার স্মৃতিসৌধে লেখা আছে।  আবার অনেকের মতে তিনি জন্মেছিলেন 1827 থেকে 1828 এর মধ্যে, যুক্তি হিসেবে তাদের বক্তব্য যে 1832 এ লক্ষ্মীবাঈ এর পরিবার বিথুরে চলে যায়। যতদূর জানা যায় 1842 এ তার বিয়ে হয় যায় মে মাসে। মণিকর্ণিকার বাবা যদিও এত ছোট বয়সে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পক্ষে ছিলেন না!  এই বিয়ের সময় তার বয়স ঠিক কতো ছিল এই বিষয়েই প্রথম বিতর্কের সূত্রপাত, সাত বছরের শিশু কন্যার বিয়ে! সেটা নিয়েই জন্মতারিখ বিতর্কের জন্ম হয়!  তাছাড়াও মনে করা হয়, লক্ষ্মীবাঈ বড়ো হয়ে উঠে ছিলেন তাঁতিয়া টোপি, নানা সাহেব এবং রাও সাহেবের সাথে খেলাধুলা করে, সুতরাং তাদের বয়সের সাথে লক্ষ্মীবাঈ এর বয়সের সামঞ্জস্য তুলনা করতে গেলে ইতিহাসবিদ দের মতে মণিকর্ণিকাকে জন্মাতে হয় মোটামুটি 1827 বা 1828 সালের মধ্যে !  বিথুর যাওয়ার সময়েই তার বয়স ছিল চার বছর!  যাইহোক লক্ষ্মীবাঈ এর বাবার নাম ছিল মরোপান্ত তামবে এবং মায়ের নাম ভগিরথীবাঈ। এরা ছিল মহারাষ্ট্রীয় ব্রাহ্মন আবার পেশায় রাজপুরোহিত।  মরোপান্ত তামবে তার সেই কন্যার নাম রেখেছিলেন মনিকার্নিকা, অবশ্য আদর করে তাকে ডাকতেন মানু।
ছোটবেলায়ে এই মানু খুব মিশুকে এবং সুন্দর দেখতে ছিল বলে আত্বীয়স্বজনেরা আবার তাকে 'চামেলি' বলেও ডাকতেন, এই মণিকর্ণিকার সমস্ত রকম শিক্ষাদীক্ষা অবশ্য ঘরেই হয়েছিল। মাত্র চার বছর বয়েসে শিশুকন্যা লক্ষ্মীবাঈ বা মণিকর্ণিকার মা মারা যায়, তাই সেভাবে বলতে গেলে বাবার কাছেই মানুষ হন লক্ষ্মীবাঈ।  বাবা মরোপান্ত তামবে সেসময় বিথুরেরর পেশোয়া দরবারে চাকরি করতেন। বিথুর জায়গাাটা আজকের উত্তর প্রদেশের কানপুর শহরের কাছে,  বিথুর এর তৎকালীন শাসক ছিলেন রাজা বাজী রাও পেশওয়া। ছোটবেলায় লক্ষ্মীবাঈ অর্থাৎ ছোট্ট মানু ছিল রাজার চোখের মনি। রাজা বাজী রাও পেশওয়া আবার মানুকে তার চঞ্চল আর ডানপিটে স্বভাবের জন্য ‘ছাবেলি’ বলে ডাকতেন। জন্মের পর পরই মণিকর্ণিকা তার মাকে হারিয়েছিলেন,  তারপর বিথুরের পেশোয়ার দরবারে সবার সঙ্গে মিলেমিশে খেলাধুলা করেই ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ছোট্ট বেলা থেকেই তার সমবয়সী অন্যান্য মেয়েদের তুলনায় মণিকর্ণিকা ছিলেন একদম আলাদা, স্বাধীনচেতা ও দৃঢ় স্বভাবের,  লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি মারাঠা মার্শাল আর্ট, অশ্বারোহণ, তলোয়ার চালানো এবং তীরন্দাজির শিক্ষাও  নিয়েছিলেন একইভাবে।
লক্ষ্মীবাঈ এর ছোট বেলায় প্রেমও এসেছিল তার জীবনে! শোনা যায় নানা সাহেবের সাথে নাকি তার একটা প্রেমের সম্পর্ক তৈরী হয়েছিল! বিথুরে লোকেদের মুখে মুখে আজও মণিকর্ণিকা আর নানা সাহেবের প্রেমের কাহিনীর কথা ঘোরা ফেরা করে!  শোনা যায় রাজা বাজিরাও এই সম্পর্ক মানতে নারাজ ছিলেন বলেই সেই সম্পর্ক আর শেষপর্যন্ত পরিণতি পায়নি! যদিও এসবের যথেষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায় না। পরবর্তীকালে এই ডানপিটে  ছাবেলিই হয়ে উঠেছিল অসম সাহসী এক নারীযোদ্ধা।  এরপর লক্ষ্মীবাঈ এর বাবা মরোপান্ত তামবে ঝাঁসির মহারাজার দরবারে যোগ দেন, মণিকর্ণিকার বয়স তখন তের বছর,  ঝাঁসির রাজদরবারেও মরোপান্ত তামবের যথেষ্ট প্রভাব ছিল, কাজেই লক্ষীবাঈ ও যথেষ্ট স্বাধীনতা ভোগ করত সেখানে, কেবল অন্দরমহলে আটকে ছিলেন না তিনি, অশ্বারোহন সহ তীরধনুক শিক্ষা করতেন নিয়মিত। এমনকি ঘনিষ্ট সহচরীদের নিয়ে খেলাচ্ছলে গড়ে তুলেছিলেন এক সৈন্যদল। তখন কে জানত যে এই অভিজ্ঞতা একদিন তার বাস্তব জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনে লাগবে!  এই মণিকর্ণিকা অর্থাৎ লক্ষ্মীবাঈ এর বিয়ে হয়ে যায় 1842 তে ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাও নেওয়ালকার এর সাথে। তারপর ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাও এর সাথে  বিয়ের পর তিন ঝাঁসিতে তার শশুর বাড়ীতে চলে যান।  প্রথা অনুযায়ী সেখানেই মণিকর্ণিকার নতুন নামকরণ করা হয় লক্ষ্মীবাঈ।  এই ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাও এর আরও একজন স্ত্রী ছিলেন, যিনি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান।  যতদূর জানা যায়, গঙ্গাধর আর  লক্ষ্মীবাঈয়ের দাম্পত্য রসায়নকে যেভাবে অনেক উপন্যাসে যতটা মধুর বা গভীর প্রেমের রঙে রাঙিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হোক না কেন, বাস্তবে দুজনের সম্পর্ক হয়তো শুধুমাত্র  রাজা-রানীর সম্পর্কের বাইরে আর কিছুই ছিল না! যতদূর জানা যায় তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে লক্ষ্মীবাঈ এর স্বামী গঙ্গাধরের একমাত্র চাহিদা ছিল একটি পুত্র সন্তান, যে ভবিষ্যতে হতে পারবে তার বংশের উত্তরাধিকারী, রক্ষা করতে পারবে রাজ্য। একটু দেরিতে হলেও 1851এ অবশেষে লক্ষ্মীবাঈয়ের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়, মা হলেন লক্ষ্মীবাঈ, এবং ইচ্ছা পূরণ হয় ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাও এর। আদর করে সেই সন্তানের  নাম রাখা হয় দামোদর রাও।  কিন্তু অদৃষ্টের পরিহাসে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেই শিশু সন্তান মাত্র তিন মাস বয়সেই মারা যায়।  রাজা গঙ্গাধর রাও অসম্ভব ভালোবাসতেন তার বহু কাঙ্ক্ষিত পুত্রসন্তানকে , তাই শিশুপুত্রের এই আকস্মিক মৃত্যুতে রাজা ভয়ানক শোকগ্রস্থ হয়ে পড়েন এবং ভয়ানক অসুস্থ হয়ে পড়েন।   এদিকে গঙ্গাধরেরও বয়স বাড়তে থাকে, অসুস্থতাও বাড়তে থাকে তাই সমস্যা আরও বাড়তে থাকে।  উপায়ান্তর না দেখে গঙ্গাধর ও লক্ষ্মীবাঈ তাদের এক আত্মীয়ের সন্তানকে দত্তক হিসেবে গ্রহণ করেন, আনন্দ রাও নামে একটি শিশুকে তারা দত্তক নেন, পরে অবশ্য শিশুটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল দামোদর রাও অর্থাৎ তাদের অকালে মৃত পুত্রের নামেই তার নামকরণ করা হয়!  এখানে অবশ্যই উল্লেখ করা যেতে পারে যে রাজা গঙ্গাধর রাও এর সেই বৃদ্ধ বয়সে আবার বিয়ে করা, পুত্র সন্তান কামনা করা, পুত্রের মৃত্যুর পর শিশু সন্তান দত্তক নেওয়া এবং তার নামকরণও মৃত পুত্রের নামেই রাখার পেছনে যথেষ্ট কারণ ছিল,  এবং তা অবশ্যই ছিল তৎকালিন বৃটিশ সরকারের তৈরী একটি স্বৈরাচারী আইন বা নীতি 'ডকট্রিন অভ ল্যাপস'।  সেই আলোচনায় পরে আসছি।  এই ঘটনার অনতিবিলম্বে 1853 তে  রাজা গঙ্গাধর আকস্মিক ভাবে মারা যান। এরপরই ঘটনাক্রম বদলাতে থাকে, একের পর এক বিপদ ঘনিয়ে আসে ঝাঁসির বুকে, শুরু হয়ে যায় লক্ষ্মীবাঈ এর জীবন যুদ্ধ!  তদানীন্তন লর্ড ডালহৌসির নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৈরী  ‘ডক্ট্রিন অভ ল্যাপস’ আইন অনুযায়ী ঝাঁসির রাজার দত্তক ও নাবালক ছেলে দামোদর রাওকে ঝাঁসি রাজ্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে অস্বীকার করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। 1854  খ্রিস্টাব্দে লক্ষীবাঈকে 60,000 রুপি পেনশন দেওয়ার ঘোষণা করা হয় এবং তাঁকে ঝাঁসির দূর্গ ত্যাগ করতে বলা হয়।
গর্ভনর জেনারেল লর্ড ডালহৌসি 1848 তে 12 জানুয়ারি ভারতের গর্ভনর জেনারেল নিযুক্ত হন এবং এরপর 1856 পর্যন্ত আট বছর ভারত শাসন করেন। এ সময়কালেই তিনি কুখ্যাত এবং সাম্রাজ্য-গ্রাসি  ডকট্রিন অভ ল্যাপস নীতি প্রণয়ন করেন এবং এই নীতি অনুযায়ী কোনো রাজ্যের প্রকৃত উত্তরাধিকারী না থাকলে সেই রাজ্যটি ব্রিটিশদের অধীন হয়ে পড়বে।  অপমানিত লক্ষীবাঈ সেই পেনশন ভাতা প্রত্যাখ্যান করেন, এবং  ব্রিটিশ আইনবিদের সঙ্গে পরামর্শ করার সিদ্ধান্ত নেন, পরে লন্ডনের আদালতে শুনানীর জন্য মামলা ও দায়ের করেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি, ব্রিটিশ আলাদত ভারতবর্ষের নেটিভদের আবেদন শুনতেই চায় নি !  তারা রানীর আপিল সোজাসুজি খারিজ করে দেন, এবং রানীকে ঝাঁসি দূর্গ পরিত্যাগ করতে আদেশ দেওয়া হয়।  কিন্তু এরপরও দমিয়ে রাখা যায়নি লক্ষীবাঈকে, ঝাঁসিকে মুক্ত রাখতে দৃঢ় শপথ নিয়েছিলেন লক্ষীবাঈ।  এই 'ডকট্রিন অভ ল্যাপস' হলো ডালহৌসির করা বিরাট কূটনৈতিক পদক্ষেপ গুলোর মধ্যে অন্যতম যা অবশ্যই ভারতবর্ষের ইতিহাসেও এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে রেখেছে,  আরও মনে রাখতে হবে যে 1857 এর সিপাহী বিপ্লবের পটভূমিকা তৈরীর পেছনে এই ‘ডকট্রিন অভ ল্যাপস’ নীতির কিন্তু অন্যতম এবং অনস্বীকার্য এক ভূমিকা ছিল!  বিভিন্ন ছোট ছোট রাজ্যের সন্ত্রস্ত রাজাদের একজোট হয়ে এই সিপাহী বিদ্রোহকে সমর্থন ও সেনাবাহিনী দিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে আসার পেছনে এটাই ছিল তাদের স্বাভাবিক ও মূল উদ্দেশ্য!  যাইহোক এই ঘোরতর অন্যায় আইনকে দৃঢ় চরিত্রের মহিলা লক্ষ্মীবাঈ কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি, তাই হয়তো আকস্মিক ভাবেই 1857 এর সিপাহী বিদ্রোহের  দাবানল ছুঁয়ে গিয়েছিল ঝাঁসিকেও।  এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা উচিত হবে যে, ভারতবর্ষে মুসলিম শাসন এবং ব্রিটিশ শাসনের মধ্যে একটা মৌলিক পার্থক্য রয়েছে, তা হলো মুসলিমরা বহিরাগত হলেও পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে ভারতবর্ষের মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল, ভারত ক্রমশ তাদের নিজস্ব বাসভূমি হয়ে উঠেছিল, একসময় হিন্দুস্তান ই হয়ে উঠেছিল তাদের মাতৃভূমি কিন্তু অত্যাচারি বিটিশদের মনোভাব ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অত্যন্ত সংকীর্ণ, তারা ভারতবর্ষকে শুধুই তাদের উপনিবেশ ই ভেবেছে এবং ভারতবর্ষের জনগনকে মনে করেছিল তাদের ভৃত্য বা ক্রীতদাস !  সেই জন্যই অবশেষে ব্রিটিশদের কায়েমী স্বার্থবাদী প্রভূত্বের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ভারতবর্ষের সমস্ত শ্রেণীর মানুষেরা, 1857 তে যার নেতৃত্বে ছিলেন এই ঝাঁসির রানী লক্ষীবাঈ মতো এক হার না মানা দৃঢ় মানসিক শক্তির অধিকারী নারী।  যাইহোক এর মধ্যেই একটি ঘটনা ঘটে, ঝাঁসির বিদ্রোহীরা ষাট জনের মতো ইংরেজ সেনা এবং কর্মচারীদের হত্যা করে ফেলেছিল।  যদিও ক্ষমতাহীন রানী লক্ষ্মীবাঈ সেই সময় তার প্রাসাদে অন্তরিন ছিলেন,  এবং যতদূর জানা যায়, এই হত্যার সাথে কোনোভাবেই তিনি জড়িত ছিলেন না, তবুও ইংরেজ সরকার নড়েচড়ে বসে, প্রভুত্ব এবং প্রতাপ বজায় রাখতে সেই সিপাহী বিদ্রোহকে শক্ত হাতে দমনের সাথে সাথে ঝাঁসির বিদ্রোহীদের ও  কঠোর সাজা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, রানী লক্ষ্মীবাঈ কিন্তু সিপাহী বিপ্লবের শুরুতেই ঝাসিঁ ছেড়ে গোয়ালিয়রে পালিয়ে চলে যেতে পারতেন, ইংরেজদের সাথে আপোস করে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতেন কিন্তু এর ফল হতো মারাত্মক, ঝাঁসীর বাসিন্দাদেরকে নিজের মুক্তিপণ হিসেবে ইংরেজদের কাছে বলি দিতে হত, তাই তিনি সেই সহজ পথ ছেড়ে, নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে, হাতের মুঠোয় জীবন নিয়ে শেষপর্যন্ত কঠিন লড়াইয়ের পথই বেছে নিয়েছিলেন।  রাজার মৃত্যুর পর সেই পরিস্থিতিতে একমাত্র লক্ষ্মীবাঈয়ের ই অধিকার ছিল ঝাঁসি শাসন করার, কিন্তু তিনি জানতেন এই অসম্ভব যুদ্ধে পরাক্রমশালী ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তিনি কিছুতেই পেরে উঠবেন না, তিনি অবশ্যই পারতেন তার বিশাল এবং কঠিন দায়িত্বে অবহেলা করতে কিন্তু তার ফলে তার উপর আরোপিত মিথ্যে যে অভিযোগ ছিল, যে তিনি সিপাহী বিদ্রোহের মাধ্যমে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের করছেন, পালিয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ প্রমাণ করা সহজ হতো না এবং তিনি প্রাণেও হয়তো বেঁচে যেতে পারতেন!  কিন্তু কাপুরুষের মতো নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার মতো আপোষ তিনি ইংরেজদের সাথে কোনো ভাবেই করতে চাননি।  তেজস্বী রানী লক্ষীবাঈ নিজের শেষদিন পর্যন্ত লড়াই করে দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।  এরপরই জেনারেল হিউজ রস তার বিশাল সৈন্য-সামন্ত নিয়ে ঝাঁসি আক্রমণ করে,  যদিও ইংরেজদের এই যুদ্ধ রানীর বিরুদ্ধে ছিল কি না কিম্বা রানী এই যুদ্ধ অংশগ্রহণ না করে রাজপ্রাসাদে বসে থাকলে তার সাথে ইংরেজদের বিরোধ আদৌ বাঁধতো কিনা বা তার প্রাণসংশয় হতো কিনা, এইসব প্রশ্নগুলোর উত্তর কিন্তু আজ সঠিকভাবে দেওয়া মুশকিল।  সে যাইহোক রানী কিন্তু রাজপ্রাসাদে চুপচাপ বসে থাকেননি, তিনি উল্টে ঘোষণা করলেন "আমি আমার ঝাঁসি কাউকে দেব না" .....  এই প্রেক্ষাপটেই  আরও একটি উল্খেযোগ্য ঘটনা হলো, স্বামীর মৃত্যুর পরেও রানী লক্ষ্মীবাঈ সেই যুগে বেঁচে গিয়েছিলেন কিন্তু এই ইংরেজদেরই  আরও একটি নীতির জন্য অর্থাৎ 'সতীদাহ প্রথা' বিলোপ নীতির কারণেই !  এবং মজার বিষয় শেষপর্যন্ত কিন্তু সেই ইংরেজদের বিরুদ্ধেই অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হয় তাকে!!!  যদিও সেই সময়ে সতীদাহ প্রথার মতো নৃশংস প্রথা বিলোপের আইন যতোই সঠিক হোক না কেন, ভারতীয় সমাজ কিন্তু তা সহজে মেনে নেয়নি!  হয়তো ঈশ্বরই লক্ষ্মীবাঈকে চিতায় ওঠার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়ে ছিলেন!  বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য! যদিও তার স্বামী গঙ্গাধরও কিন্তু চেয়েছিলেন তার মৃত্যুর পর যেন লক্ষ্মীবাঈ দামোদরের অভিভাবক হয়ে ঝাঁসি রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব নেন।  স্বামীর মৃত্যুতে প্রথা ভেঙ্গে, নিজের মাথা না কামিয়ে ফেলে রাণী লক্ষ্মীবাঈ প্রতীজ্ঞা করেছিলেন, যতদিন না তিনি ইংরেজদের সমস্ত অবিচারের প্রতিশোধ নেবেন, ততদিন তিনি তার চুল যেমন আছে তেমনই রেখে দেবেন !   এরপর 1858 এর জানুয়ারি মাসের কোনো একটা সময়ে লক্ষ্মীবাঈ তার উপদেষ্টাদের সাথে আলাপ আলোচনা এবং মত বিনিময়ের শেষে ঠিক করলেন ঝাঁসিকে রক্ষা করতে তিনি অত্যাচারি ইংরেজদের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধ করবেন।   ব্রিটিশরা এরপর  ঝাঁসি অবরোধ করে রাখে, দুই সপ্তাহ ধরে চলে এক অসম্ভব যুদ্ধ, শক্তিশালী ব্রিটিশরা ঝাঁসি দূর্গে ভয়াবহ গোলা বর্ষন করতে থাকে, সে সময়ে অর্থাৎ ঝাঁসির দূর্গ অবরোধকালে সেখানকার নারীরা সৈন্যদের জন্য খাদ্য ও অস্ত্রবহন করতো, স্বয়ং রানী নিজে সামনে থেকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তত্ত্বাবধান করতেন, কিন্তু ক্রমশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সৈন্যরা দুর্গ দখল করার পথে এগিয়ে যেতে থাকলেও রাণী তবু হার না মেনে প্রবল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন। যতদিন না পর্যন্ত ঝাসিঁ দুর্গের পতন হয়,  এবং  মার্চ মাস পর্যন্ত তিনি ক্রমাগত কোম্পানির সেনাদের সাথে যুদ্ধ করেই গেছেন, শেষপর্যন্ত আধুনিক অস্ত্রে বলীয়ান সুশৃঙ্খল সৈন্য নিয়ে ব্রিটিশরা ঝাঁসির দূর্গ দখল করে নেয়। পরাজিত  হওয়ার আগের মুহূর্তে তার অনুসারীরা যখন দুর্গ ছেড়ে একে একে পালাচ্ছিলেন, তখনও তিনি কাঁধে সন্তানকে বেঁধে যুদ্ধ করে গেছিলেন!  তার এই সাহসের নিদর্শনকেই বিভিন্ন শিল্পীরা বন্দী করেছেন তাদের ভাস্কর্যে ও চিত্রকলায়, যা আমরা এখন বিভিন্ন যায়গায় দেখতে পাই।  শেষপর্যন্ত অবশ্য পরাজিত রানী ছেলেকে নিয়ে দূর্গ থেকে পালাতে বাধ্য হন, যে দত্তক ছেলেটিকে ঝাঁসির সিংহাসনে বসানোর জন্য তিনি জীবন বাজী রেখেছিলেন, পুরুষের ছদ্মবেশে রাতের অন্ধকারে সেই দত্তক পুত্রকে নিয়েই দেওয়াল টপকে পালিয়ে যেতে হয় তাকে।  ব্রিটিশরা ঝাঁসি জয় করে এবং তার বাবা মরোপান্ত তামবে কে ফাঁসি দেওয়া হয় !  এবং ঝাসিঁ রাজ্যটিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।  এরপরই রাণী লক্ষ্মীবাঈ যোগ দেন বিপ্লবীদের সাথে।  এই বিপ্লব এর বিষয়ে জানতে এখানে একটু ইতিহাসে ফিরে যেতে চাই,  প্রথম 1757 তে বাংলা বিহার উড়িষ্যার পতন হয়, পরবর্তিতে দক্ষ্যিনে টিপু সুলতানের পতন এবং আরো অন্যান্য জায়গায় একের পর এক রাজার পতনের পর ভারতবর্ষে মোগলরা একদম ক্ষমতাহীন ও কোনঠাসা হয়ে পড়ে, কাগুজে সরকার হিসেবে কোনো রকমে টিকে থাকে!  চারদিকে ব্রিটিশদের অত্যাচার ও ক্রমশ বাড়তে থাকে, অন্যায় ভাবে লুঠতরাজ চলতে থাকে,  এরপর 1793 তে চিরস্হায়ী বন্দোবস্ত চালু হয় এবং ভারতবর্ষ হয়ে যায় কার্যত পুরোপুরি এক পরাধীন রাষ্ট্র।   এরপর হঠাৎ 1803 সালে মুসলিম ধর্মীয় নেতা শাহ আব্দুল আজীজ ভারতকে দারুল হরব ফতোয়া দেন অর্থ্যাৎ, 'ভারত শত্রু আক্রন্ত দেশ' ! এখানে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জিহাদ ফরজ!  তার এই ফতোয়া পরাধীন ভারতবর্ষের মুসলিম সমাজে কিন্তু ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল, অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই ভারতবর্ষের স্বাধিনতা আন্দোলনের জন্যও এই জিহাদ ক্রমশ সংগঠিত হতে থাকে।  1825 এ সৈয়দ আহমাদ বেরলভী এবং ইসমাঈল শহিদ স্বাধীনতার জন্য প্রথম ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, 1840 তে এসে এই মুক্তি আন্দোলনের দায়িত্ব এসে পড়ে হাজী এমদাদুল্লাহ এর হাতে, তখনই সর্বপ্রথম পরিকল্পনা করা হয় হিন্দু-মুসলিমকে  যৌথ ভাবে একসাথে যুদ্ধ করতে হবে অত্যাচারি  ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে,  কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে পারেনি বিভিন্ন কারণে !!!   তারপর ই 1857 এর সেই মহাবিপ্লব শুরু হয়ে যায়, যদিও একে অনেকে সিপাহী বিপ্লব বলে, কিন্তু আসলে এই বিপ্লব ছিল সর্বস্তরের মিলিত এক বিপ্লব।  এই মহা বিপ্লবে যোগ দিয়েছিলেন একে একে নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণী সহ অনেকেই যারা কোনো ভাবেই সিপাহী ছিল না!   1857 এ 10 ই মে, মিরাটে এই সিপাহী বিপ্লবের আগুনের স্ফুলিঙ্গ সর্ব প্রথম জ্বলে উঠেছিল, আবার মনে করিয়ে দিতে চাই এই সিপাহী বিপ্লবের অন্যতম কারণ ছিল কিন্তু ডালহৌসির কুখ্যাত ‘ডকট্রিন অভ ল্যাপস’ যা নিয়ে আগেই আলোচনা করেছি, আরও একটি উল্খেযোগ্য বিষয় হলো যে এই আইনের ফলে স্থানীয় রাজাদের রাজ্য ও সম্পদ ইংরেজদের বাজেয়াপ্ত করার ফলে ছোট ছোট রাজার অধীনে থাকা ভারতীয় সিপাহীরা কিন্তু ক্রমশ তাদের চাকরি হারাচ্ছিল, ফলে চাকরিচ্যূত সিপাহীদের মধ্যেও বাড়ছিল হতাশা এবং তৈরী হচ্ছিল চুড়ান্ত ক্ষোভ,  সেই সময়েই আবার একটি চাঞ্চল্যকর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল, যে ব্রিটিশ সৈন্যদের ব্যবহৃত এনফিল্ড রাইফেলের নতুন বুলেট শূকর এর চর্বি দিয়ে মোড়ানো!!!  তৎকালিন  ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীতে কিন্তু প্রচুর সংখ্যক ভারতীয় অর্থাৎ নেটিভ ছিল, এবং মুসলিম সৈন্যদের কাছে এই শূকর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তাই অবশ্যম্ভাবী ভাবে চুড়ান্ত বিক্ষোভ তৈরী হয়েছিল, যতদূর জানা যায়  এরপর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ সেই নতুন বুলেট নিষিদ্ধ করে এবং সৈন্যবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার নতুন করে উদ্যেগও গ্রহন করে,  যদিও ততক্ষণে সিপাহীরা বহু সংখ্যক ব্রিটিশ সৈন্য এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কর্মচারীদের হত্যা করে ফেলেছিল।  এই সময়কালে সিপাহী বিপ্লবের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে ঝাঁসি,  রানী লক্ষীবাঈ এই বিক্ষুব্দ সৈনিকদের ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংহত করতে থাকেন,  অন্যান্য স্থানীয় রাজাদের সাহায্যও কামনা করেন।  রানী লক্ষীবাঈ তখন সৈন্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে ও  প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তুলতে থাকেন।  যে সৈন্যবাহিনীতে নারীরাও সেচ্ছায় যোগ দিয়েছিলেন, ধীরে ধীরে ভারতবর্ষের অভিজ্ঞ সেনাধ্যক্ষরাও রানীর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিল, এইভাবেই 1858 খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষজুড়ে ব্রিটিশবিরোধী সিপাহী বিপ্লব আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যার নেতৃত্বে লক্ষ্মীবাঈ ছিলেন,  যার ফলে ব্রিটিশদের রাতের ঘুম ছুটে যায়!!!    রাণী লক্ষীবাঈ এই সময়ে কালপি নামক একটি স্থানে নতুন করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে শিবির স্থাপন করেন, অন্যান্য বিদ্রোহীর সঙ্গেও ধীরে ধীরে তাঁর যোগাযোগ তৈরী হয়ে যায়, এর মধ্যে অন্যতম ছিলেন তাতিয়া তোপি।  গোয়ালিয়র ও কালপিতে আবার তার সাথে যুদ্ধ শুরু হয় ইংরেজ সেনাবাহিনীর।  যাই হোক শেষপর্যন্ত ব্রিটিশরা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলছিল, তখন আর যুদ্ধ করে জেতা কোনো ভাবেই সম্ভব ছিলো না, এই দেশপ্রেমিক বিদ্রোহীদের পক্ষে, কারণ ব্রিটিশরা ছিল উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধাস্ত্রের অধিকারী এবং বিজ্ঞানকে তারা সফল ভাবে ব্যবহার করেছিল বিভিন্ন মারণাস্ত্র তৈরির করে এই সিপাই বিদ্রোহেকে নির্মম ভাবে দমন করতে !  এরপর ভারতবর্ষের মানচিত্রে গোয়ালিয়রের নাম কে উজ্জ্বল করে 17 জুন লক্ষীবাঈ গোয়ালিয়র যুদ্ধে লড়াই করে নিহত হন।  সেই স্মরণীয় যুদ্ধে ইংরেজদের আধুনিক অস্ত্রের আঘাতেই তিনি নিহত হন, কথিত আছে রানীকে গোয়ালিয়রের একটি তেঁতুল গাছের নিচে সমাহিত করা হয়,  আবার এরকম গল্পও প্রচলিত আছে যে যুদ্ধে ভীষণরকম আহত রানী অনুমান করেছিলেন যে ইংরেজ সেনারা নিশ্চিত ভাবে তার মৃতদেহের অসম্মান করবে! তাই তিনি এক সন্ন্যাসীকে অনুরোধ করেছিলেন, মৃত্যুর পর যেন তার দেহ গোপনে পুড়িয়ে ফেলা হয়!   ইতিহাস আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রেখেছে এই অতুলনীয় বীরাঙ্গনা নারীকে,  যিনি স্বাধীন ভারত প্রতিষ্ঠার প্রথম পর্বে রেখেছিলেন তার অসামান্য অবদান, হয়ে উঠেছিলেন স্বাধীনতাকামী ভারতবর্ষের মানুষের প্রেরণার উৎস।
পরবর্তীকালে ইতিহাসের পাতায় ঝাঁসির রাণী লক্ষীবাঈ এর সাধারণ পোশাকের ছবি যা দেখে মনে হতে পারে এই ছবি এক অত্যন্ত কোমলমতি কোন নারীর ছবি কিন্তু তিনি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে সাধারণ নারীরাও যে প্রয়োজনে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে কতো কঠোর হয়ে উঠতে পারে, ঝাঁসির রাণী লক্ষীবাঈ তার জ্বলন্ত উদাহরণ, পৃথিবীর প্রতিটি নারীর মধ্যেই কিন্তু লুকিয়ে আছে এক একজন  ঝাঁসির রানীর মতো লড়ুক প্রতিবাদী নারীস্বত্তা, অনেক সময়েই তারা মানুষের চোখের আড়ালেই থাকে যায় !


                                        

Share To:

THE OFFNEWS

Post A Comment:

1 comments so far,Add yours