দেবর্ষি মজুমদার, লেখক, বীরভূম:
বাঙালির পায়ে সর্ষে আছে বলা হয়। সে তো ভ্রমণপিপাসু বাঙালির কথা। কিন্তু উপাচার্য বিশ্বভারতীতে কোনো আন্দোলনের আঁচ পেলেই কেটে পড়েন। আর দূর থেকে উপাচার্যর অফিস চালান। আর তাকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। কেউ বলেন, বিজেপির গা ঘেঁষে চলার দায় থেকে তিনি আজ বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মী। তাই দিল্লি কর্তা ভজতে যাচ্ছেন।
২০২১ সালে ২ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফর ছিল। আর সেটা পেরলেই গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তাঁকে ঘেরাও করা হবে এমনটাই ঘোষণা করেন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু তার আগেই ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা তাঁকে ঘেরাও করেন। এবারও অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ২ মার্চ পুরসভার ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর উপাচার্য ঘেরাও হবেন। যদি আগেই আবার ঘেরাও হন, সেটা ভেবেই ২৫ ফেব্রুয়ারিতে তিনি পলায়ন করেন। আগেও যে তিনি পলায়ন করেননি তা নয়। ২০১৯ সালের জুন জুলাই মাসে কর্মীদের সপ্তম পে কমিশনের দাবিতে আন্দোলনের সময় পালিয়েছিলেন। প্রায় কুড়ি দিন বিশ্বভারতী মুখো হননি। আন্দোলনের আঁচ স্তিমিত হলে ফিরে আসেন। তারপর ৮৭ জন কর্মীকে শোকজ করেন উপাচার্য। তাঁদের দিয়ে মুচলেকা লেখান। তারপর কমিশন বসিয়ে বিদ্যুৎ সরকার, বারিদ বরণ ঘোষাল এবং তন্ময় হাজরাকে সাসপেন্ড করেন। ২০২০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরে অর্ক দাসের ট্রান্সফার নিয়ে আন্দোলনের সময় উপাচার্যর পেটোয়া লোক আন্দোলন ভাঙতে চেষ্টা করে। একইভাবে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে পেটোয়া গুণ্ডাদের "ওষুধ লাগিয়ে" দেওয়ার মতো নিদান দেন। সেটাও কর্মী আন্দোলন ভাঙতে বলে, এক অধ্যাপক জানান।
প্রবীণ আশ্রমিক সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সমস্যার সমাধান না করে, উপাচার্য বার বার পালিয়ে বেড়ান। সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছেন, পড়ুয়াদের দাবি ন্যাহ্য। রেসিডেন্সিয়াল বিশ্ববিদ্যালয় হলো বিশ্বভারতী। সেখানে হোস্টেল খুলবে না, অফলাইন পরীক্ষা হবে। তা কি করে হয়? উনি প্রতিষ্ঠানের একজন দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান। দায়িত্ব এড়িয়ে দূর থেকে নির্দেশ দিচ্ছেন। বলছেন, শিক্ষক কর্মীরা অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সামনে দাঁড়াক। তাঁর উচিৎ আশ্রমে এসে হোস্টেল খুলে দেওয়া। এতদিন তিনি এগুলো খুলে দিতে পারতেন। অনেক গেস্ট হাউস আছে। সেগুলো ব্যবহার করতে পারতেন। দূর থেকে এভাবে সমাধান হয়নি। যদি মনে করে থাকেন, দূর থেকে এভাবে দমন করবেন, কোনো সমাধান করবেন না, এরকমই চলতে থাকবে।(www.theoffnews.com - vice chancellor Visva Bharati University)


Post A Comment:
0 comments so far,add yours